পিকক বারের গোপন কুঠুরিতে মাদকের স্তূপ

পিকক বারের গোপন কুঠুরিতে মাদকের স্তূপ

পিকক বার থেকে জব্দ করা মাদকদ্রব্য

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, পিকক বারের কুঠুরি থেকে ১ হাজার ৪১৬টি দেশি বিয়ারের ক্যান, ২ হাজার ৪৯৬ বিদেশি বিয়ারের ক্যান, ১১৫টি বিদেশি মদের বোতল ও ১ হাজার ৪২৮টি দেশি মদের বোতল জব্দ করা হয়। এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য কোটি টাকার ওপরে।

অবৈধভাবে বিক্রির জন্য রাজধানীর পিকক বারের গোপন কুঠুরিতে দেশি-বিদেশি মাদক দ্রব্যের স্তুপ খুঁজে পেয়েছে র‌্যাব ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দল। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

শাহবাগে বারটিতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালানোর পর বুধবার নিউজবাংলাকে বিস্তারিত জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি জানান, কুঠুরিতে ১ হাজার ৪১৬টি দেশি বিয়ারের ক্যান, ২ হাজার ৪৯৬ বিদেশি বিয়ারের ক্যান, ১১৫টি বিদেশি মদের বোতল ও ১ হাজার ৪২৮টি দেশি মদের বোতল জব্দ করা হয়। এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য কোটি টাকার ওপরে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বারের সংশ্লিষ্টরা অভিনব কায়দায় অবৈধ মদ ও বিয়ার মজুদ করে রেখেছিল। যেগুলো যাদের পারমিট নেই তাদের কাছে বিক্রি করা হতো। অভিযানের সময় বারের মালিক, ম্যানেজার ও দায়িত্বশীলদের পাওয়া না গেলেও কুঠুরি ও অন্যান্য জায়গায় থাকা অবৈধ মাদক রক্ষণাবেক্ষণে ছিল এমন চারজনকে আটক করা হয়েছে।’

আটক চারজন হলেন মজিবুর রহমান, মো. লিটন, ওলিউর রহমান ও জহিরুল ইসলাম।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‌্যাব জানায়, যাদের মাদকের লাইসেন্স নেই, যারা বাসায় বসে মদ্যপান করে এবং বাসায় বিভিন্ন মিনিবার পরিচালনা করে তাদেরকে বিভিন্ন সময় এখান থেকে মদ-বিয়ার সাপ্লাই দেয়া হতো।

অভিনব কায়দা প্রসঙ্গে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘পিকক বারের নিচতলায় ঢুকতে ডানপাশে কয়েকটা কয়লার বস্তা ফেলে রেখেছিল। যেগুলো আড়ালে একটি ছোট কুটুরি, যা দিয়ে একজনে বেশি প্রবেশ করা যায় না। এর ভেতর শত শত মদের বোতল ও বিয়ার মজুদ করে রেখেছিল। চারতলায় কর্মচারীদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানেও বক্স খাটের পাটাতনের নিচে কৌশলে মদ ও বিয়ার লুকিয়ে রেখেছিল।’

র‌্যাব থেকে বলা হয়েছে, বারের মালিক ও বাড়ির মালিকসহ গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হবে বলে জানান মোজাম্মেল হক। বারের মালিককে আসামি করা হবে। আর বাড়ির মালিকও আসামি হবেন। কারণ তার অনুমতি ছাড়া নিশ্চয়ই তার বাড়ির স্ট্রাকচার পরিবর্তন করা হয়নি।’

অভিযানের সময় র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমন্ডার খন্দকার আল মঈন দাবি করেন, কোটি টাকার অবৈধ মদ ও বিয়ার উদ্ধার হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত বারের অনুমোদন ছিল, কিন্তু তারা চারতলা পর্যন্ত বারের কাজে ব্যবহার করত। আমরা অভিযানে এসে বারের স্বত্বাধিকারী, ম্যানেজারসহ অনেককেই পাইনি। স্টোররুম ও মালামাল তালাবদ্ধ ছিল।

‘চারতলায় দুয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা জানতে পারি, অবৈধ কিছু মাদক রয়েছে। সেখানে গিয়ে আমরা বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদক পেয়েছি। আমরা নিচে এসে সুরঙ্গের মতো একটি পেয়েছি। সেখান থেকেও বিপুর পরিমাণ মাদক পেয়েছি। যেগুলোর কোনো বৈধ কাগজ নেই।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

সচিবালয়ে সাংবাদিকদেরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো যারা তাকে পাঠিয়েছিল তারা তাকে লুকিয়ে রাখতে পারে। আমরা মূল হোতাকে চিহ্নিত করেছি।’

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূল হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বলেছেন, এর ফলে তার অবস্থানও জানা যাচ্ছে না।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মূল হোতার নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘হয়তো যারা তাকে পাঠিয়েছিল তারা তাকে লুকিয়ে রাখতে পারে। আমরা মূল হোতাকে চিহ্নিত করেছি।’

দুর্গাপূজার সময় এবং পরে দেশের কয়েকটি জেলায় যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দেখা গেছে সেগুলোকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কারো মধ্যে কোনো আতংক নেই। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে, নিয়ন্ত্রণে আছে।’

বিস্তারিত আসছে…

শেয়ার করুন

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৫৫ রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়ন

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৫৫ রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়ন

ময়মনসিংহের গফরগাঁও স্টেশনের আধুনিকায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বক্তব্য দেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। ছবি: নিউজবাংলা

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রেলের উন্নয়নে অনেকগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমরা ৫৫টা স্টেশন আধুনিকায়নের কাজ হাতে নিয়েছি। ঢাকা, জয়দেবপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ কয়েকটি স্টেশন উন্নয়নের কাজ আমরা হাতে নিয়েছি।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৫৫টি রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকায়ন হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও স্টেশনের আধুনিকায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

রেলওয়ের উন্নয়নে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রেলের উন্নয়নে অনেকগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমরা ৫৫টা স্টেশন আধুনিকায়নের কাজ হাতে নিয়েছি। ঢাকা, জয়দেবপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ কয়েকটি স্টেশন উন্নয়নের কাজ আমরা হাতে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকে ট্রেন নিয়ে আমরা এসেছি কয়েকটি জায়গার স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য। এই যে রেললাইনগুলো, এর আরও উন্নয়ন দরকার। এই রেললাইনে যেন ১০০ কিলোমিটারের বেশি বেগে রেল চলতে পারে সেই কাজও শুরু হবে।’

সুজন বলেন, ‘আমরা আজ বের হয়ে রেলের কোথায় কী প্রয়োজন, সেটা দেখে যাচ্ছি। শুধু মিটারগেজ নয়, এর পরে আমাদের যে রেলব্যবস্থা, সেখানে মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তর করতেছি। অনেক জায়গা নিয়ে ব্রডগেজ ট্রেন এবং ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে চলবে।’

গফরগাঁও স্টেশনের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘গফরগাঁও স্টেশনে ফুটওভার ব্রিজ ও আরেকটি প্ল্যাটফর্ম করে দেবো। এ ছাড়া রেলের সমান করে প্ল্যাটফর্ম উঁচু হবে, যার ফলে বয়স্ক, নারী ও শিশুদের ট্রেনে উঠতে ঝামেলা না হয়। ভবিষ্যতে আর কোনো সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে না।’

শেয়ার করুন

রঙিন ফানুস উড়াল এবিএসবি

রঙিন ফানুস উড়াল এবিএসবি

প্রবারণা পূর্ণিমায় নন্দনকানন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার এবং ঢাকা ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে ফানুসগুলো উত্তোলন করা হয়।

বাংলাদেশের বৌদ্ধ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ বুড্ডিস্ট স্টুডেন্টস অফ বাংলাদেশের (এবিএসবি) আয়োজনে প্রবারণা পূর্ণিমায় আকাশে উড়েছে চিত্রকর্মে রঙিন ফানুস।

নন্দনকানন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার এবং ঢাকা ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ফানুসগুলো উত্তোলন করা হয়।

এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ফানুস তৈরির কর্মশালায় সকল বয়সের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

এবিএসবির উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হ্যান্ডপেইন্টেড ফানুস অর্থাৎ হাতে আঁকা রঙিন ফানুস উড়ল। প্রতিটি ফানুসে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবনের সকল গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ছবি সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়।

শেয়ার করুন

মুগদা হাসপাতালে আগুন, দগ্ধ ৪

মুগদা হাসপাতালে আগুন, দগ্ধ ৪

রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের সাত ইউনিট। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

মুগদা থানার এসআই প্রাণতোষ বণিক বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে জানান, দগ্ধ চারজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে আগুনে চারজন দগ্ধ হয়েছেন, এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রাণতোষ বণিক বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের ৬ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। হাসপাতালের ৬ তলায় নির্মাণাধীন আইসিইউ ফ্লোরে আগুনটি মূলত ছড়ায়, তবে আইসিইউ নির্মাণাধীন থাকায় এখানে কোনো রোগী ছিল না।

‘আগুনের সময় আইসিইউতে একজন নার্স ও তিনজন স্টাফ ছিলেন। এই চারজন দগ্ধ হয়েছেন, এর মধ্যে নার্সের অবস্থা গুরুতর। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আগুন লাগে। বাহিনীর সাত ইউনিট ১২টা ৫৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া অফিসার মো. রায়হান নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, হাসপাতালের ছয় তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তিন ইউনিট খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে যায়। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় আরও চার ইউনিট।

শেয়ার করুন

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

সদ্য বহিস্কার হওয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেল। ছবি: নিউজবাংলা

স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাসেল মূলত জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তিনি মুজিব আদর্শের সৈনিক নন। তিনি বিভিন্ন অপরাধ থেকে বাঁচতে ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে ঢুকে পড়েন।’

ছাত্রদল থেকে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগে অনুপ্রবেশ করায় আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেলকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ স্বাক্ষরিত অব্যাহতিপত্রে ২০ অক্টোবর রাতে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

রাসেল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

ওই চিঠিতে বলা হয়, রাসেলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

চলতি মাসে সংগঠনটির জেলা সভাপতি ও সম্পাদকের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাসেল মূলত জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তিনি মুজিব আদর্শের সৈনিক নন। তিনি বিভিন্ন অপরাধ থেকে বাঁচতে ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে ঢুকে পড়েন।’

এসব কারণে রাসেলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

রাসেল ২০০১ সালে বামনডাঙ্গা আঞ্চলিক ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০০৩ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

২০১০ সালে স্থানীয় আজেপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

শেয়ার করুন

পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানিকগঞ্জে মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

অধ্যাপক আবুল সিকদার বলেন, ‘কোরআন অবমাননার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব ঘটনায় যারা জড়িত আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

দেশের বিভিন্ন জেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপ ও বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদে মানিকগঞ্জে সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে।

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ও প্রগতিশীল গণসংগঠন জেলা শাখার আয়োজনে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে কমিউনিস্ট পার্টির জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক আবুল সিকদারের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কৃষক সমিতির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম আরজু, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেতোয়ার হোসেন খান, সিপিরির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সংসদের জেলা শাখার সাবেক সভাপতি এম আর লিটনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক আবুল সিকদার বলেন, ‘কোরআন অবমাননার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব ঘটনায় যারা জড়িত আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাধীনতা যুদ্ধে কোনো ধর্মীয় পরিচয় দেখা হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন সেখানে কিন্তু কোনো ধর্ম দেখে না। যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের সকলের রক্ত, যে যে ধর্মের হোক একাকার হয়ে মিশে গেছে। কাজেই এটা সবার মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের, সব শ্রেণি পেশার মানুষের। সকলেই একটা মর্যাদা নিয়ে চলবে, সম্মান নিয়ে চলবে, সেটাই আমাদের স্মরণ রাখতে হবে।’

শারদীয় দুর্গাপূজার সময় ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সব ধর্মের লোকদের সম্প্রীতি নিয়ে বাস করতে হবে।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সরকার প্রধান।

বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনাতেই থাকবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে আমরা অসাম্প্রদায়িক সমাজে বসবাস করি। সেখানে সকল ধর্মের সঙ্গে আমাদের সম্প্রীতি থাকবে। সম্প্রীতি নিয়েই আমাদের চলতে হবে। যুগ যুগ ধরেই কিন্তু সকল ধর্মের মানুষ আমরা একসঙ্গে বসবাস করে আসছি।’

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোনো ধর্মীয় পরিচয় দেখা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন সেখানে কিন্তু কোনো ধর্ম দেখে না। যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের সকলের রক্ত, যে যে ধর্মের হোক একাকার হয়ে মিশে গেছে। কাজেই এটা সবার মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের, সব শ্রেণি পেশার মানুষের। সকলেই একটা মর্যাদা নিয়ে চলবে, সম্মান নিয়ে চলবে, সেটা আমাদের স্মরণ রাখতে হবে।’

কুমিল্লার ঘটনাটি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটে গেছে সেটা খুব দুঃখজনক। কারণ মানবধর্মকে সম্মান করা এটা ইসলামের শিক্ষা। নিজের ধর্ম পালনের অধিকার যেমন সবার আছে, অন্যের ধর্মকেও কেউ হেয় করতে পারে না। এটা ইসলাম শিক্ষা দেয় না। আর নিজের ধর্মকে সম্মান করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের ধর্মকেও সম্মান করতে হয়। আর অন্যের ধর্মকে যদি হেয় করা হয়, তাহলে নিজের ধর্মকে অসম্মান করা হয়।’

কুমিল্লার ঘটনায় অন্য ধর্মকে অসম্মান করতে গিয়ে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের পবিত্র কোরআন শরীফকে অবমাননা করেছে অন্যের ধর্মকে অসম্মান করতে গিয়ে। এটাই হচ্ছে সব থেকে দুঃখজনক। আমি এটাই বলব, যার যার নিজের ধর্মের সম্মান নিজেকে রক্ষা করতে হবে।’

আইন নিজের হাতে তুলে না নিতেও সবাইকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আরেকটি কথা, আইন কেউ হাত তুলে নেবে না। কেউ যদি অপরাধ করে সে যেই হোক অপরাধীদের বিচার হবে। আমাদের সরকার সেই বিচার করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নবী করিম (সা.) বলেছেন, ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবে না। আমাদের সবারই সে কথাটা মেনে চলতে হবে। সে কথাটা স্মরণ করতে হবে। সেই কথাটা জানতে হবে। তাহলেই আমাদের ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাটা পাব। প্রতিটি ধর্মই শান্তির বাণীর কথা বলে। সকলেই শান্তি চায়।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমরা জানি যে, সবসময় এরকম একেকটা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। অথচ বাংলাদেশটা আজকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। এই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে, মুজিববর্ষে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এই মর্যাদা রক্ষা করে আমাদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’

সম্প্রীতি রক্ষায় আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা

দেশের কোথাও যাতে সাম্প্রদায়িক সংঘাত না হয়, সেজন্য সারা দেশের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের এলাকায় এলাকায় নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। প্রত্যেকটা এলাকায় এলাকায় আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং শান্তি সম্মেলন, শান্তি মিছিল, শান্তির সভা করতে হবে।’

সারা দেশে সম্প্রীতির ব্যবস্থা নিতেও দলীয় কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা। বলেন, ‘যাতে কোনো প্রকার সংঘাত দেখা না দেয়। কারণ এই মাটিতে প্রতিটা ধর্মের মানুষ, সে মুসলমান হোক, হিন্দু হোক, খ্রিস্টান হোক, বোদ্ধ হোক সকলেই যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে।

‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে মানুষের সেবা করতে।’

এসময় কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কার্যালয় প্রসঙ্গে দলটির প্রধান বলেন, ‘যেহেতু এটা কুমিল্লা শহরে, এটাকে শুধু মহানগর অফিস বললে হবে না, এটা কুমিল্লা আওয়ামী লীগ অফিসই বলতে হবে।’

শেয়ার করুন