আবার নূরুল হুদার মতো নির্বাচন কমিশনার চায় সরকার: রিজভী

আবার নূরুল হুদার মতো নির্বাচন কমিশনার চায় সরকার: রিজভী

জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন এবং জনআকাঙ্ক্ষা’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি নেতা রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তারা তো আবারও কে এম নূরুল হুদার মতো ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনার বানাবে। তাছাড়া কাউকে নির্বাচন কমিশন বানাবে না। আজকে ডাকাতির নির্বাচন চান প্রধানমন্ত্রী। সে নির্বাচনের বৈধতা দেন তার মন্ত্রী-এমপি আর সাঙ্গপাঙ্গরা। সুতরাং নিরপেক্ষ নির্বাচন কেমনে হবে?’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বহুল আলোচিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আবারও নির্বাচন করতে চায় সরকার। এ জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার মতো ব্যক্তিকে আবারও কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে যেতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বুধবার দুপুরে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন এবং জনআকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি।

আলোচনা সভা আয়োজন করে ‘জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১‘ কেন্দ্রীয় কমিটি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, ‘দেশে স্বচ্ছ নির্বাচন হবে এটাই হচ্ছে জনআকাঙ্ক্ষা। জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দেবে। কারণ, জনগণ দেশের মালিক। এটা তো সরকার ভুলে গেছে।’

আলোচিত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার থাকা কে এম নূরুল হুদা নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের হয়ে নির্বাচন করেছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।

তিনি বলেন, ‘তারা তো আবারও কে এম নূরুল হুদার মতো ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনার বানাবে। তাছাড়া কাউকে নির্বাচন কমিশন বানাবে না। আজকে ডাকাতির নির্বাচন চান প্রধানমন্ত্রী। সে নির্বাচনের বৈধতা দেন তার মন্ত্রী-এমপি আর সাঙ্গপাঙ্গরা। সুতরাং নিরপেক্ষ নির্বাচন কেমনে হবে?’

সম্প্রতি বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ ৫২ জন এক বিবৃতিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন আইন করে নিরপেক্ষ প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিতে বিবৃতি দিয়েছেন।

বিএনপি নেতারাও বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। তারাও আগামী নির্বাচনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করেছে। যদিও আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

এই সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না বলে বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশকে ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের সংকট নিরসনে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করলেও এই সংকট থেকে উত্তরণ করা যাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনকে ‘অতি বাড়াবাড়ি’ বলেছেন। রিজভী বলেন, ‘দেশের পত্রিকা ও টিভিতে শুধু একজনেরই খবর। তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি সম্রাজ্ঞী, রাণী। এভাবে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে প্রধানমন্ত্রী বা কারও এমন প্রচারণা হয় বলে জানা নেই। আজকে তিনি সুলতানা রাজিয়া সেজেছেন। সেভাবেই তার জন্মদিন পালন করলেন। এমনকি সুশীল বলে পরিচিত কিছু পত্রিকার কাভার পৃষ্ঠা জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছেপেছে।’

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলো, সেটা নিয়ে তো কথা বলে না। সেই টাকা দিয়ে মালয়েশিয়া, কানাডায় বেগম পল্লী কেনা হচ্ছে। দুবাইয়ে, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে ও যুক্তরাজ্যে বিলাসবহুল বাংলো কেনা হচ্ছে। কারণ এ দেশে যদি কোনো কিছু ঘটে তাহলে তারা আরব্য রজনীর আলিফ লায়লার মতো সুখে শান্তিতে বিদেশে বসবাস করতে পারবেন। এটাই হচ্ছে তাদের লক্ষ্য।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য নয়; দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে আন্দোলনে নামতে হবে। তবেই জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।’

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ‘এ সরকার ভোট, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হেনেছে। আজকে নব্য বাকশাল কায়েম করে একদলীয় শাসন চালাচ্ছে। আসলে তারা জনগণের সরকার নয়। তাদের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া যায় না। যে যত কথা বলুক, জনগণের দুশমন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ছাড়া দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।’

সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী রাহেলা আক্তার রঞ্জুসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার ফেয়ারওয়েলের সময় এসে গেছে: রিজভী
জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন এরশাদের দোসর
আন্দোলন ডেকে ঘরে নয়, লাল ঘরে থাকে বিএনপি: রিজভী
কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখায় গ্রেপ্তার গাজীর মুক্তি চান রিজভী
রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার, ফেস্টুন-তোরণে ভরে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতাকর্মীদের নামে শুভেচ্ছাবার্তার ফেস্টুন ও তোরণ দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জুড়ে, বিশেষ করে শহরে যে দিকেই তাকানো হোক শুধু ব্যানার-পোস্টার আর ফেস্টুন। সে সঙ্গে জেলার মহাসড়ক থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, তৈরি করা হয়েছে বড় বড় তোরণ।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সে সভাকে ঘিরেই এমন সাজ সাজ অবস্থা।

১৭ বছর পর যুবলীগের কমিটি গঠনের যে গুঞ্জন সেটি এই বর্ধিত সভায় আলোচনা হবে। এজন্য সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে শহর ছেয়ে ফেলেছেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম।
জেলা শহর ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রবেশপথ আশুগঞ্জ থেকে শুরু শহরের কাউতলী, টিএ রোড, কালীবাড়ির মোড়, কুমাড়শীল মোড়, কোর্ট রোড, সাব রেজিস্ট্রার অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি স্কুল কলেজের ভবনে লাগানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন।

একইভাবে সার্কিট হাউজ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও লাগানো হয়েছে ব্যানার ও তোরণ।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতাকর্মীদের নামে শুভেচ্ছাবার্তার ফেস্টুন ও তোরণ দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর এলাকায় তোরণ লাগিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সভাপতি ভিপি হাসান সারোয়ার। তিনি যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী।

শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর পর বর্ধিত সভা হচ্ছে। তা নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। তাছাড়া কমিটি নিয়েও জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন কেন্দ্রীয় নেতারা। নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জ থেকে শুরু করে জেলা শহরের প্রধান সড়ক পর্যন্ত ২৬টি তোরণ বসিয়েছি। তাছাড়া শহরজুড়েই টাঙিয়েছি ব্যানার ফেস্টুন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন বছরের জন্য ২০০৪ সালের ২৮ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটি গঠন হয়েছিল। ১৭ বছর পার হলেও নতুন কমিটি হয়নি। এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ৪ বার হয়েছে। তাতে সাবেক ছাত্রলীগের নেতারাও পদহীন আছেন দীর্ঘদিন।

২০০৪ সালে অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সে কমিটি ঘোষণার প্রায় এক বছর পর ২০০৫ সালের ১৮ জুন কেন্দ্রীয় যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম তিন বছর মেয়াদে এই কমিটির অনুমোদন দেন।

তবে সে কমিটি তিন বছরের জন্য অনুমোদন দেয়া হলেও ১২ বছর পার হয়। পরে জেলা যুবলীগের কমিটির সভাপতি মাহবুবুল আলম খোকন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চলে যান।

এরপর সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহনুর ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।
এদিকে যুবলীগের কমিটির অপেক্ষায় বসে ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা। এবার নতুন কমিটিতে তারা পদ পাবেন বলে প্রত্যাশার কথা জানান।

সেজন্য বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন ১৪ জন প্রার্থী।

নতুন কমিটিতে সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস, সৈয়ত এহতেশামুল বারী তানজিল, হাজী মাহমুদুল হক ভূইয়া,হাসান সারোয়ার, জাহাঙ্গীর আলম, আলী আজম, শাহসুদ আলম , হাবিবুর রহমান পারভেজ, মাসুম বিল্লাহসহ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে বিভিন্ন প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, ‘ নানা কারণের ২০১৪ সালের পর আর সম্মেলন হয়নি। আমরা যেসব কমিটি দিয়েছিলাম সবগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, আখাউড়া ও আশুগঞ্জ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়েছিল তিন মাসের জন্য। তারও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।’

তিনি জানান, জেলায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় কমিটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার ফেয়ারওয়েলের সময় এসে গেছে: রিজভী
জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন এরশাদের দোসর
আন্দোলন ডেকে ঘরে নয়, লাল ঘরে থাকে বিএনপি: রিজভী
কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখায় গ্রেপ্তার গাজীর মুক্তি চান রিজভী
রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরের সেই তাহের বাদ, নৌকা পেলেন মাসুম

লক্ষ্মীপুরের সেই তাহের বাদ, নৌকা পেলেন মাসুম

আবু তাহের (বাঁয়ে), মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হলো এখন মূল কাজ। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আলোচনায় আসা লক্ষ্মীপুরের সেই আবু তাহেরকে এবার পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ পদে দল এবার আস্থা রেখেছে জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়ার ওপর।

শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়।

আগামী ২৮ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ভোট।

দলের নেতা-কর্মীরা জানান, আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। দলীয় মনোনয়নে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় টানা দুবার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় তিনি সারা দেশে আলোচনায় আসেন।

গত ১০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য আবু তাহেরের নাম বাদ দিয়ে ১০ নেতার নাম কেন্দ্রে জমা দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। তাহেরকে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন না দেয়ার অনুরোধ করে দলের সভাপতির কাছে চিঠি দেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

সাবেক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দীন চৌধুরীসহ চার নেতা চিঠিতে সই করেন।

এ বিষয়ে একাধিকবার আবু তাহেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় মনোনয়ন চেয়ে তিনি পাননি। সেটা দলের সিদ্ধান্ত। এর বাইরে কোনাে কথা বলতে রাজি হননি কেউ।

মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া জানান, দল এবার তাকে মূল্যায়ন করেছে। দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন। এ ছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকে সব কর্মসূচি পালন করেছেন। যখন যেভাবে সুযোগ পেয়েছেন এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হলে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন তিনি।

মাসুম জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি প্রয়াত আ ন ম ফজলুল করিমের ভাগনে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হলো এখন মূল কাজ। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার ফেয়ারওয়েলের সময় এসে গেছে: রিজভী
জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন এরশাদের দোসর
আন্দোলন ডেকে ঘরে নয়, লাল ঘরে থাকে বিএনপি: রিজভী
কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখায় গ্রেপ্তার গাজীর মুক্তি চান রিজভী
রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

শনিবার উপজেলা দিবস পালন করবে জাতীয় পার্টি 

শনিবার উপজেলা দিবস পালন করবে জাতীয় পার্টি 

বরিশালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ। ফাইল ছবি

জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম জানান, এরশাদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন চাওয়া হবে তাদের নানা আয়োজনে।

দলীয় প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে যে উপজেলা পরিষদের প্রতিষ্ঠা হয়, সেই দিনটি দিবস হিসেবে পালন করতে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি।

১৯৮৪ সালের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি থাকাকালে এরশাদ উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন।

দিবসটিকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভাসহ সারা দেশে দলীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি।

জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম জানান, এরশাদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন চাওয়া হবে তাদের নানা আয়োজনে।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বেলা সাড়ে ৩টায় ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আলোচনা সভা হবে। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। বক্তব্য রাখবেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ দলের শীর্ষ নেতারা।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার ফেয়ারওয়েলের সময় এসে গেছে: রিজভী
জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন এরশাদের দোসর
আন্দোলন ডেকে ঘরে নয়, লাল ঘরে থাকে বিএনপি: রিজভী
কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখায় গ্রেপ্তার গাজীর মুক্তি চান রিজভী
রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী

পত্নীতলার নজিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন সহ্য করতে না পেরে সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে বিএনপি। কোরআন অবমাননা ও মন্দিরে হামলা তারই অংশ।

আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

নওগাঁর পত্নীতলার নজিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যারা নির্বাচনে অংশ নেয় না, তারাই গণতন্ত্রের হত্যাকারী। এ হত্যার দায়ে গণ-আদালতে তাদের বিচার হওয়া উচিত। নির্বাচনে না এসে প্রমাণ করেছে তারাই গণতন্ত্রের মূল হত্যাকারী।

বিএনপি-জামায়াতকে উদ্দেশ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন সহ্য করতে না পেরে সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে বিএনপি। কোরআন অবমাননা ও মন্দিরে হামলা তারই অংশ। কোনো অপশক্তি দেশ ও জাতির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে দেশের কল্যাণে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সম্মেলনের সময় নেতা হতে সবাই ব্যস্ত হয়ে যান। সম্মেলন শেষ হলে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব করা যাবে না।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, সাংসদ শহিদুজ্জামান সরকার, ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন।

পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক চৌধুরীকে সভাপতি ও আবুল গাফফারকে সাধারণ সম্পাদক করে পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার ফেয়ারওয়েলের সময় এসে গেছে: রিজভী
জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন এরশাদের দোসর
আন্দোলন ডেকে ঘরে নয়, লাল ঘরে থাকে বিএনপি: রিজভী
কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখায় গ্রেপ্তার গাজীর মুক্তি চান রিজভী
রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য আগুন উসকে দেয়ার মতো

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য আগুন উসকে দেয়ার মতো

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার সকালে সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় পার্টির ঢাকা দক্ষিণ শাখা। ছবি: নিউজবাংলা

জি এম কাদের বলেন, ‘আমার এত বয়স হয়েছে, আমি কখনো দুর্গাপূজায় কোনো রকম সমস্যা দেখি নাই। আমাদের দেশে একই সঙ্গে পূজাও হয়, আবার মসজিদে নামাজও হয়। সেখানে আমরা দেখলাম একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র।’

রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বক্তব্য এ সময়ে আগুনে উসকে দেয়ার মতো বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার সকালে জাতীয় পার্টির ঢাকা দক্ষিণ শাখা আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সমাবেশে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘কাকতালীয়ভাবে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী হঠাৎ করে কিছু বেফাঁস কথা বলে ফেললেন। এটা অনেকটা আগুন উসকে দেয়ার মতো। সরকারের উচিত জড়িতদের খুঁজে দেখা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতীকীভাবে সম্প্রীতি সভার আয়োজন করেছি। এই দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।

‘সব উৎসব আমরা একসঙ্গে পালন করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল।’

সম্প্রতি তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করার সমালোচনা করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ভাইরাল হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইসলাম আমাদের রাষ্ট্রীয় ধর্ম না। এটা বিশ্বাস করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সংবিধান লিখে গেছেন, সেই সংবিধানই থাকবে। এটার কোনো পরিবর্তন ওই এরশাদ, জিয়াউর রহমান, ওই সব মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর...এসব স্বৈরাচারের শাসনামল ইতিহাস থেকে মুছে দেয়া হয়েছে আদালতের রায়ে। ওগুলো চলবে না। এই বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। বাহাত্তরের সংবিধানেই আমরা ফিরে যাব।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘আমার এত বয়স হয়েছে, আমি কখনো দুর্গাপূজায় কোনো রকম সমস্যা দেখি নাই। আমাদের দেশে একই সঙ্গে পূজাও হয়, আবার মসজিদে নামাজও হয়। সেখানে আমরা দেখলাম একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র।

‘একটি দেবতার মূর্তির পায়ের নিচে কোরআন শরিফ রাখা হয়েছে। এটা কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী করতে পারে না। তারা তাদের এই উৎসবকে নষ্ট করবে নিজের হাতে, এটা বিশ্বাস করা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো মুসলমান যদি সত্যিকারের মুসলমান হয়, তাহলে সে কোরআন শরিফের অবমাননা করতে পারে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল থেকে নিন্দা জানানো হচ্ছে। আমাদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ছিল। তা নেতিবাচক ভাবমূর্তিতে পরিণত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার ফেয়ারওয়েলের সময় এসে গেছে: রিজভী
জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন এরশাদের দোসর
আন্দোলন ডেকে ঘরে নয়, লাল ঘরে থাকে বিএনপি: রিজভী
কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখায় গ্রেপ্তার গাজীর মুক্তি চান রিজভী
রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

সবকিছু বেরিয়ে এলে ফখরুলের মুখ চুপসে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

সবকিছু বেরিয়ে এলে ফখরুলের মুখ চুপসে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো তারা পাশের দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়েছিল। কোরআন শরিফ যে একজন মুসলমান যুবক রেখেছিল, সেটি তো তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সে ধরা পড়লে বোঝা যাবে কার ইন্ধনে এটি করেছে। এটিই তো ঘটনার সূত্রপাত। যখন সবকিছু বেরিয়ে আসবে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখটা চুপসে যাবে।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখ চুপসে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো তারা পাশের দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়েছিল। কোরআন শরিফ যে একজন মুসলমান যুবক রেখেছিল, সেটি তো তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সে ধরা পড়লে বোঝা যাবে কার ইন্ধনে এটি করেছে। এটিই তো ঘটনার সূত্রপাত। যখন সবকিছু বেরিয়ে আসবে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখটা চুপসে যাবে।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনার জন্য আবারও বিএনপি-জামায়াতকেই দায়ী করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এই হামলা আসলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নয়, এটি বাংলাদেশের চেতনার মূল বেদিমূলের ওপর হামলা। এটি সরকারের ওপরও হামলা। কারণ এটি করে তারা সরকারকে দোষারোপ করতে চেয়েছিল। পাশাপাশি একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমাদের যে ভালো সম্পর্ক, সেটি নষ্ট করতে চেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ যখন স্থিতিশীল, তখন আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, সেটির ওপর কালিমা লেপনের হীন উদ্দেশ্যেই আজকের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের সরকার দৃঢ়ভাবে সেটি দমন করেছে।

‘সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য আমাদের দল অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্য হীন। তারা আরও এ ধরনের গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করবে। আমি নেতা-কর্মীদের অনুরোধ জানাব, আপাতত এই দুষ্কৃতকারীরা নিবৃত্ত হয়েছে মনে হলেও আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, তারা দেশে হানাহানি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিছুটা সফল হয়েছে, আরও চেষ্টা চালাবে। দলের নেতা-কর্মীদের হিন্দু সম্প্রদায় ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পাশে থাকার অনুরোধ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা মনে করি কেউ সংখ্যালঘু নয়। সবার রক্তস্রোতের বিনিময়ে এ দেশ অর্জিত হয়েছে। এ দেশ সবার। ধর্ম যার যার দেশ সবার। সেই চেতনায় আমরা বিশ্বাস করি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জোট থেকে অনেকে পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দল থেকেও অনেকে বের হয়ে গেছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতি অবশ্যই সরকার চায়। যেকোনো সরকারের সেটিই কামনা। এ দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে বিএনপি-জামায়াত।’

তিনি বলেন, ‘ভোট এলে ভারতবিরোধী স্লোগান কারা দেয়? বিএনপি। হিন্দু সম্প্রদায়কে ভোটকেন্দ্রে যেতে বারণ কারা করে? এই বিএনপি-জামায়াতই করে।’

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার ফেয়ারওয়েলের সময় এসে গেছে: রিজভী
জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন এরশাদের দোসর
আন্দোলন ডেকে ঘরে নয়, লাল ঘরে থাকে বিএনপি: রিজভী
কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখায় গ্রেপ্তার গাজীর মুক্তি চান রিজভী
রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

খালেদার ১১ মামলার শুনানি ২২ নভেম্বর

খালেদার ১১ মামলার শুনানি ২২ নভেম্বর

ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নেয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাসহ মোট ১১ মামলার শুনানির তারিখ একসঙ্গে ঠিক করেছে আদালত।

আগামী ২২ নভেম্বর এই ১১ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলাগুলো শুনানির জন্য তারিখ ঠিক ছিল। তবে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার পক্ষে অধিকাংশ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে জানিয়ে সময় আবেদন করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে পরের শুনানির জন্য আগামী ২২ নভেম্বর তারিখ ঠিক করেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা।

যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নেয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করা হয়।

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম নামে এক যাত্রী।

ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক এসআই কে এম নুরুজ্জামান।

একই বছরের ৬ মে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক বশির আহমেদ।

অন্যদিকে ২০১৫ সালে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে আটটি মামলা করা হয়। এই আট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।

২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে মামলাগুলোয় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সব মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে খালেদা জিয়া মামলাগুলোয় আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার ফেয়ারওয়েলের সময় এসে গেছে: রিজভী
জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন এরশাদের দোসর
আন্দোলন ডেকে ঘরে নয়, লাল ঘরে থাকে বিএনপি: রিজভী
কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখায় গ্রেপ্তার গাজীর মুক্তি চান রিজভী
রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ

শেয়ার করুন