এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য: টিআইবি

এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য: টিআইবি

টিআইবির গবেষণায় বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশ করা সহকারী শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়। আর সহকারী গ্রন্থাগারিক নিয়োগে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়।

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য চলছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণায়, নিয়োগে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য সাড়ে তিন লাখ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বুধবার ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় টিআইবি।

এ সময় সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ অন্যান্যরা সংযুক্ত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায় করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) ও কলেজ পরিচালনার দায়িত্বে থাকে গভর্নিং বডির (জিবি) সংশ্লিষ্টরা।

আরও বলা হয়, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্য বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির হস্তক্ষেপে সভাপতি মনোনীত করা হয়। এতে অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সম্পৃক্ত হতে পারে না যা শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

এছাড়া কমিটির সভাপতি/সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে অশিক্ষিত লোক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এতে শিক্ষকদের সঙ্গে কমিটির সদস্যদের কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যা ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশ করা সহকারী শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়। আর সহকারী গ্রন্থাগারিক নিয়োগে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা: ‘বি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা: ‘বি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

ফাইল ছবি

‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ এর উপরে নম্বর পেয়েছেন ১৯ হাজার ৫৩ জন পরীক্ষার্থী। প্রথম স্থান অধিকারী পেয়েছেন ৯৩.৭৫ নম্বর।

দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

ফল ভর্তি বিষয়য় ওয়েবসাইটে (https://gstadmission.ac.bd/) পাওয়া যাচ্ছে।

ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গত ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় ৬৩ হাজার ৫১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ২ জনের ওএমআর বাতিল হয়েছে রোল কিংবা সেট কোড না লেখায়। এ ছাড়া, ৩ পরীক্ষার ওএমআর রিপোর্টিংয়ের জন্য বাতিল হয়েছে। তাই ৬৩ হাজার ৫১৩ জনের ফলাফল আমরা প্রকাশ করছি।’

‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ এর উপরে নম্বর পেয়েছেন ১৯ হাজার ৫৩ জন পরীক্ষার্থী। প্রথম স্থান অধিকারী পেয়েছেন ৯৩.৭৫ নম্বর।

গত রোববার (২৪ অক্টোবর) ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়া, রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন

নর্থ সাউথকে ‘বাঁচানো’র দাবি

নর্থ সাউথকে ‘বাঁচানো’র দাবি

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির ঘটনা তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা কমিশন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কম মূল্যের জমি বেশি দামে কেনা, ডেভেলপারস কোম্পানি থেকে কমিশন নেয়া, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা, এক লাখ টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স, অনলাইনে মিটিং করেও সমপরিমাণ অ্যালাউন্স নেয়া, নিয়ম ভেঙে ফান্ডের কোটি কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধীন ব্যাংকে এফডিআর, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকগুণ শিক্ষার্থী ভর্তি, অতিরিক্ত বিভাগ খোলাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের হাত থেকে বাঁচাতে মানবন্ধন করেছে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা কমিশন নামে একটি সংগঠন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয় এতে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিম উদ্দিন ও এম এ কাসেম ‘সিন্ডিকেটের দুর্নীতির ফিরিস্তি’ তুলে ধরে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কম মূল্যের জমি বেশি দামে কেনা, ডেভেলপারস কোম্পানি থেকে কমিশন নেয়া, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা, এক লাখ টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স, অনলাইনে মিটিং করেও সমপরিমাণ অ্যালাউন্স নেয়া, নিয়ম ভেঙে ফান্ডের কোটি কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধীন ব্যাংকে এফডিআর, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকগুণ শিক্ষার্থী ভর্তি, অতিরিক্ত বিভাগ খোলাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, জঙ্গি মদদের পুরোনো রূপেও ফেরত গেছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাফিস ইমতিয়াজকে আবার ভর্তি করে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে।

এসব ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ট্রাস্টি আজিম উদ্দিন ও এম এ কাসেম সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন তারা।

এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল দপ্তরে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না মেলায় ক্ষোভ জানিয়েছেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আইন ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন জুয়েল, সংগঠনের উপদেষ্টা সুফী সাগর সামস, বাংলাদেশ সংবাদপত্র (গণমাধ্যম) কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান তালুকদার, আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল হোসেন মুরাদ, বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান এম ইব্রাহিম পাটোয়ারি, সাংবাদিক নেতা কালিমুল্লা ইকবালসহ অনেকে।

মানববন্ধন শেষে দুদকে আট দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপিও জমা দেন সংগঠনের নেতারা।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-

# নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ট্রাস্টি আজিম উদ্দিন আহমেদ ও এমএ কাসেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও গ্রেপ্তার করা।

# সব আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও আজিম-কাসেমসহ সিন্ডিকেটের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা।

# প্রধানমন্ত্রীর সই জালিয়াতির মূল আসামি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের দ্রুত বিচার করা।

# আজিম-কাসেম ও তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেয়া।

# ব্লগার রাজিব হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাফিস ইমতিয়াজকে পুনরায় ভর্তি করানোর উপযুক্ত ব্যাখ্যা ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার তদন্ত করা।

# বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিয়ম মেনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করা।

# আজিম-কাসেম সিন্ডিকেটের স্বজনপ্রীতির হাত থেকে রক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

# আজিম-কাসেমকে গ্রেপ্তার করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করা।

শেয়ার করুন

ইউনিক আইডি করতে জন্ম নিবন্ধনের জটিলতা কেন

ইউনিক আইডি করতে জন্ম নিবন্ধনের জটিলতা কেন

প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি করা হচ্ছে স্কুলগুলোয়। এটি করতে গিয়ে অনেক অভিভাবকই ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে জানা গেছে। মূল সমস্যাটি দেখা দিচ্ছে শিশুর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নিয়ে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মা-বাবার জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন পড়ছে।

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইউনিক আইডি’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে। কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ইউনিক আইডি ফরম পূরণে পড়ছেন নানা জটিলতায়। বিশেষ করে শিশুর জন্ম নিবন্ধনের পাশাপাশি মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন: কী হবে এই ‘ইউনিক আইডি’ দিয়ে?

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান এ প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক নাগরিককে একটি আইডি দিয়ে চিহ্নিত করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিশ্বের ১১টি দেশের সঙ্গে সরকার এ বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর নাম দেয়া হয়েছে সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস (সিআরভিএস)।

শামসুল আলম জানান, এর আওতায় দেশের বেসিক স্ট্যাটিসটিকস তৈরি হবে। অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় বর্তমানে কোনো শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করছে। আর যারা ১৮ বছরের ওপরে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) আছে। এই দুই স্তরে আইডেন্টিফিকেশন নম্বর আছে। কিন্তু মাঝখানে বাদ পড়ে যাচ্ছে প্রি-প্রাইমারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এদের আইডেন্টিফিকেশনের আওতায় আনার জন্যই ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে।

১৮ বছর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সব ধরনের সেবা ইউনিক আইডির মাধ্যমে পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সব ধরনের সেবা, যেমন বই নেয়া থেকে শুরু করে ফল প্রকাশ, রেজিস্ট্রেশন, বৃত্তি, উপবৃত্তির অর্থ নেয়া অর্থাৎ যত ধরনের নাগরিক সেবা আছে সবই দেয়া হবে এই আইডির মাধ্যমে। আর যখন শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তখন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে এই ইউনিক আইডিই জাতীয় পরিচয়পত্রে রূপান্তর করবে।

শামসুল আলম আরও বলেন, ‘এই ইউনিক আইডির মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের খুঁজে পাব, তারা কোথায় লেখাপড়া করছে, ঝরে পড়ল কি না, অথবা তারা কোন লেভেলে পড়াশোনা করছে, চাকরি পেল কি না ইত্যাদি।’

ইউনিক আইডি চালু হলে অনেক ক্ষেত্রে সরকারের অপচয়ও বন্ধ হবে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সঠিক পরিসংখ্যান না থাকায় অনেক সময় আমরা চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণ বই ছাপাচ্ছি। এতে অনেক টাকা অপচয় হচ্ছে। যখন ইউনিক আইডি তৈরি হয়ে যাবে, তখন কোনো ডুপ্লিকেট শিক্ষার্থী থাকবে না। কারণ তখন শিক্ষার্থীর সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের হাতে থাকবে।

ফরমে যেসব তথ্য দিতে হয়

স্ট্যাবলিশমেন্ট অফ ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা চার পৃষ্ঠার ফরমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ফরমে শিক্ষার্থীর নাম, জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মস্থান, জেন্ডার, জাতীয়তা, ধর্ম, অধ্যয়নরত শ্রেণি, রোল নম্বর, বৈবাহিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতা (ডিজ-অ্যাবিলিটি), রক্তের গ্রুপ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কি না, মা-বাবার নামসহ বেশ কিছু তথ্যের ঘর রয়েছে।

বৈবাহিক অবস্থার অপশন হিসেবে অবিবাহিত, বিবাহিত, বিধবা, বিপত্নীক ছাড়াও স্বামী-স্ত্রী পৃথক বসবাস, তালাকপ্রাপ্ত, বিবাহবিচ্ছেদের ঘরও রয়েছে ফরমে।

ইউনিক আইডির তথ্য ভুল হলে তা সংশোধনের কোনো সুযোগ আছে কি না- এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থী এবং বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে আমরা বেশির ভাগ তথ্য নেব। সেখানে যদি কোনো ভুল থাকে, তাহলে আমাদের কিছুই করার নেই। সংশোধন করতে হলে আগে জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র ঠিক করতে হবে।

‘জন্ম নিবন্ধনে শিক্ষার্থীর নাম, বাবা-মার নাম মিল থাকার বিষয়টি সবাইকে খেয়াল করার অনুরোধ করছি। এই নির্দেশনা মানলে আর কোনো সমস্যা হবার কথা নয়।’

ইউনিক আইডির ফরমে যেসব তথ্য শিক্ষার্থীরা দিচ্ছেন, তা যেন কোনোভাবে অন্যের হাতে না যায় তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলম। বলেন, ‘শিক্ষার্থীর তথ্য সুরক্ষায় আমরা বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি। কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে, যেন তথ্য বেহাত না হয়। এর বেশি বলা সম্ভব নয়।’

ইউনিক আইডি করতে জন্ম নিবন্ধনের জটিলতা কেন

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইউনিক আইডি’ তৈরি করতে তথ্য সংগ্রহের ফরম। ছবি: নিউজবাংলা

জন্ম নিবন্ধন নিয়ে ভোগান্তি

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত প্রভাতী উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডির কাগজপত্র নিয়ে স্কুলে এসেছেন অভিভাবক রাবেয়া সুলতানা। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে অভিভাবকের ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনও লাগবে। তা না হলে তার ইউনিক আইডির কাগজ জমা নেয়া হবে না।

একই অভিযোগ করলেন রাজধানীর একাধিক বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা। তেমনই একজন স্বপ্না রাণী। তিনি বলেন, ‘বাচ্চার ইউনিক আইডির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন চাওয়া হচ্ছে। আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। তাহলে কেন আবার জন্ম নিবন্ধন লাগবে?’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলম বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে এখন জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তাই আমরা ধরে নিতেই পারি, সব শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন আছে। যারা স্কুলে ভর্তিই হয়নি, তাদের জন্ম নিবন্ধন নাও থাকতে পারে।

‘সমস্যা হলো জন্ম নিবন্ধনের কোনোটা ম্যানুয়াল, কোনোটা ডিজিটাল। যেসব শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন ম্যানুয়াল, তাদের ডিজিটাল অর্থাৎ অনলাইনে এন্ট্রি দেয়া জন্ম নিবন্ধন লাগবে। কারণ ইউনিক আইডি দেয়ার অন্যতম শর্ত হলো শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে মিল থাকতে হবে শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধনের।

‘যদি কোনো শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকে তাহলে সে ইউনিক আইডি পাবে না। কারণ আমরা শিক্ষার্থীদের তথ্যগুলো পাঠাব অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে। তারপর সেখান থেকে যাবে নির্বাচন কমিশনে। এরপর তারা ইউনিক আইডি তৈরি করবে। এটাই সিস্টেম। এ জন্য কোনো শিক্ষার্থীর যদি অনলাইন জন্ম নিবন্ধন না থাকে তাহলে সে ইউনিক আইডি পাবে না।’

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করতে কিছু শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের নানা ভোগান্তিতে পড়ার কথা স্বীকার করেন শামসুল আলম। বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আসলে আমাদের কিছুই করার নেই। জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে এন্ট্রি দেয়ার জন্য অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় অনেক আগেই অফিস আদেশ জারি করেছে।’

শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধনে বাবা-মার জন্ম নিবন্ধন কেন প্রয়োজন হয়- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন আগে করে নিতে হবে। এটা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন-২০১৯ অনুযায়ী করা হচ্ছে। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। যদি কেউ তা না করে তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

যেসব শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন নেই, তাদের করণীয় কী- এমন প্রশ্নে শামসুল আলম বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ইতিমধ্যে করা আছে, তাদের বাবা-মায়ের শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই শিক্ষার্থী ইউনিক আইডি পাবে। আর যেসব শিক্ষার্থীর অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন এখনও করা হয়নি, তাদের জন্ম নিবন্ধন করতেও বাবা-মায়ের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন লাগবে। এটা আইনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে।’

শিক্ষার্থীরা ইউনিক আইডি পাবে কবে?

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী বছরের শুরুতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে ইউনিক আইডি।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক পর্যায়ের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. শামসুল আলম বলেন, ‘আগামী ৩০ নভেম্বর শেষ হবে ইউনিক আইডির ফরম পূরণের কার্যক্রম। এরপর ডাটা এন্ট্রি দেয়া হবে। আশা করছি, আগামী বছরের শুরুতেই পর্যায়ক্রমে ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি তুলে দেয়া সম্ভব হবে। তবে এর আগে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ডিসেম্বরে আমরা কিছু উপজেলায় ইউনিক আইডি বিতরণের পরিকল্পনা করছি।’

জানা গেছে, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রির সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাস থেকে ডাটা এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তৈরি হবে ২ কোটির বেশি ইউনিক আইডি।

প্রাথমিকের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল আলম প্রধান বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে আগামী মাস থেকে সফটওয়্যারে ডাটা এন্ট্রি শুরু হবে। এ জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষপর্যায়ে। এরপর পাইলটিং হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানের ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করা হবে। এরপর সেটি সফল হলে পুরোদমে শুরু হবে কাজ।’

শেয়ার করুন

জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি পুনর্গঠন

জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি পুনর্গঠন

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব খালেদা সরকারের সই করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম নীতিকাঠামো ২০১৭ অনুযায়ী ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি’ পুনর্গঠন করা হলো।

মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও পরিমার্জনের জন্য ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি’ পুনর্গঠন করা হয়েছে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব খালেদা সরকারের সই করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম নীতিকাঠামো ২০১৭ অনুযায়ী ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি’ পুনর্গঠন করা হলো।

কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-১), অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২), বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের একজন প্রতিনিধি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক আন্ত:শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয় সাব কমিটির চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. অমল কৃষ্ণ হালদার, রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লতিফা জামান, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম , আইইআরের অধ্যাপক ড. এম তারিক আহসান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ইকবাল রউফ মামুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আবুল মোমেন, সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের অধ্যক্ষ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের দুই সদস্য।

শেয়ার করুন

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জাপানের ৩৯ কোটি টাকা অনুদান

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জাপানের ৩৯ কোটি টাকা অনুদান

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও জাইকার ঢাকা প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া অনুদানের চুক্তিতে সই করেন। জাপানের পক্ষে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত ইটো নাওকি এক্সচেঞ্জ অব নোটে সই করেন। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৮-২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)। কর্মসূচির আওতায় জাপান সরকারের এ সব অনুদান প্রাথমিকের পাঠ্যক্রম সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন এবং এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যবহার করা হবে। প্রথম দুই বছর জাপান এ প্রকল্পে ৭৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রম সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ৩৯ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে জাপান।

‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)’ শীর্ষক প্রকল্পে তৃতীয় বছরের জন্য ৫০০ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন অনুদান দেবে দেশটি। যা বাংলাদেশে মুদ্রায় প্রায় ৩৯ কোটি টাকা।

এই বিষয়ে সোমবার দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে এক্সচেঞ্জ অব নোট এবং অনুদান চুক্তিতে সই করেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন চুক্তিতে সই করেন। জাপানের পক্ষে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত ইটো নাওকি এক্সচেঞ্জ অব নোটে (দলিলাদি) সই করেন।

অনুদান চুক্তিতে সই করেন জাইকার ঢাকা প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৮-২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)। কর্মসূচির আওতায় জাপান সরকারের এ সব অনুদান প্রাথমিকের পাঠ্যক্রম সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন এবং এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যবহার করা হবে। প্রথম দুই বছর জাপান এ প্রকল্পে ৭৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

এর আগে জাপান সরকার ২০১১-২০১৮ মেয়াদে ‘তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩)’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৪৯০ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১৯৮ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

জাপান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী একক বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশটি প্রায় ১৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে।

শেয়ার করুন

ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

করোনা মহামারিতে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশু শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছে কারখানার কাজে। ফাইল ছবি

আলোচনায় করোনাকালে বাল্যবিয়ের শিকার কন্যাশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে নানাধরণের সুপারিশমালা উঠে এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রণোদনা সুবিধা বাড়ানো, শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট শতকরা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা, সার্বক্ষণিক মনিটরিং, বিয়ের পরেও ছাত্রীর জন্য উপবৃত্তি চালু রাখা ও অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর নির্ধারণ করা।

করোনাকালে ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে খুব দ্রুত সম্মিলিতভাবে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সোমবার নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় করোনাকালে বাল্যবিয়ের শিকার কন্যাশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে নানা ধরনের সুপারিশমালা উঠে এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রণোদনা সুবিধা বাড়ানো, শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট শতকরা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা, সার্বক্ষণিক মনিটরিং, বিয়ের পরেও ছাত্রীর জন্য উপবৃত্তি চালু রাখা, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর নির্ধারণ করা, সোশ্যাল সেফটি নেট প্রোগ্রামে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত এবং সর্বোপরি তথ্য-উপাত্তগত ব্যবধানে নিরসন।

অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফম, বাংলাদেশ এর আহ্বায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ সিপিডি’র ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য স্বাগত বক্তব্যে বলেন, স্কুলের পরিচালনা পর্ষদকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং সেই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সকল সেক্টরের মধ্যে একটা সমন্বয় ঘটাতে হবে।

বিশেষ বক্তা হিসেবে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশিদা কে চৌধুরী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ মাসে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে ভর্তি হয়েছে এবং সরকার জানে যে কতজন শিশু ভর্তি হয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য সরকার আমাদের জানায়নি। এছাড়া কতজন ছাত্রছাত্রী অ্যাসাইমেন্ট গ্রহণ করেছে ও জমা দিয়েছে, সে সম্পর্কিত কোন তথ্যও আমরা পাইনি। এই সমস্যা সমাধানে সঠিক তথ্য উপাত্ত সবচেয়ে প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে করোনা মহামারির সময়ে বাল্যবিয়ের শিকার নীলফামারির মেয়ে আদুরী এবং ঝুঁকিপূণ শিশু শ্রমে নিয়োজিত কিশোর তাইজুল ইসলাম তাদের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানায়।

ওয়েবিনারটি পরিচালনা করেন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, সিপিডি তৌফিকুল ইসলাম খান। ওয়েবিনারে সরকার গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এবং মাঠ পর্যায় থেকে সরাসরি কর্ম অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নাজমা শেখ, মাউশি পরিচালক মো. বেলাল হোসাইন, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচীর সাবেক পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. নান্নু মোল্লা।

শেয়ার করুন

জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন

জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন

সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমি যখন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি তখন করোনার জরুরি অবস্থা চলছিল। সরকার থেকেও টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দেয়া হলো। তারপর সব সহকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে টিকার জন্য কাজ করেছি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসেই শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমে উদ্বোধন করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী এখনও এনআইডি পাননি, তারা এখান থেকেই নিবন্ধন করে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

সোমবার থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এই কার্যক্রম চলবে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি যখন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি তখন করোনার জরুরি অবস্থা চলছিল। সরকার থেকেও টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দেয়া হলো। তারপর সব সহকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে টিকার জন্য কাজ করেছি।’

উপাচার্য বলেন, ‘টিকা দেয়ার জন্য এনআইডির প্রয়োজন। আমাদের অনেক শিক্ষার্থীরই এনআইডি নেই। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরপরই তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে টিকাদান কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। টিকার রেজিস্ট্রেশনে এনআইডির প্রয়োজন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচন করে এনআইডি নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়।

শেয়ার করুন