বাসায় ফিরলেন বিএনপি নেতা খন্দকার মাহবুব

বাসায় ফিরলেন বিএনপি নেতা খন্দকার মাহবুব

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

গত ১৬ আগস্ট স্যার করোনা পরীক্ষা করান। পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ আসলে ওই দিন সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থা খারাপ হলে তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেয়া হয়। হাসপাতালে টানা ৪২ দিন চিকিৎসা শেষে আজ বাসায় ফেরেন।’

করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে প্রায় দেড় মাস পর বাসায় ফিরলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীব খন্দকার মাহবুব হোসেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় যান।

এখন তিনি সুস্থ আছেন, বাসায় হাঁটা চলা করছেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন তার জুনিয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান দুলাল।

দুলাল বলেন, ‘স্যার এখন করোনা নেগেটিভ, সুস্থ আছেন।

‘গত ১৬ আগস্ট স্যার করোনা পরীক্ষা করান। পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ আসলে ওই দিন সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন।

‘এরপর থেকে তিনি হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থা খারাপ হলে তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেয়া হয়। হাসপাতালে টানা ৪২ দিন চিকিৎসা শেষে আজ বাসায় ফেরেন।’

গত ৬ জুলাই কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দরিদ্র স্বপন কুমার বিশ্বাসের পক্ষে বিনা ফিতে আপিল বিভাগের আইনি লড়াই করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেন সিনিয়র এ আইনজীবী।

খন্দকার মাহবুব হোসেন ১৯৩৮ সালের ২০ মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ল’ পাশ করে ১৯৬৭ সালের ৩১ জানুয়ারি আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর একই বছরের ২০ অক্টোবর তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

১৯৭৩ সালে দালাল আইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এ আইনজীবী।

এরপর একাধিকবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ৫৪ বছরের আইন পেশায় দেশের প্রথম সারির সব রাজনীতিবিদের মামলা পরিচালনা করেছেন এ আইনজীবী।

সর্বশেষ ২০০৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও পড়ুন:
মেয়ের ডাকে সাড়া দিলেন খন্দকার মাহবুব
লাইফ সাপোর্টে খন্দকার মাহবুব
করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে খন্দকার মাহবুব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলা কালীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি সদস্যের তালিকায় আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম। ছবি: নিউজবাংলা

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলায় তৃতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির এক সদস্য।

এটি বাতিলের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর আবেদন করেছেন তালিকায় থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা।

নেতা-কর্মী জানান, গত ১৭ অক্টোবর উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে সভা হয়।

এতে তৃণমূলের রায়ে ১৪ ভোট পেয়ে আফতারুজ্জামান বাবুল প্রথম হন। ১২ ভোট পেয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু দ্বিতীয় ও ৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন নুর ইসলাম মিয়া।

এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, ‘এর জন্য দায়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব। এটি কোনোভাবে মেনে নেয়ার মতো না।

‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরোক্ষ ইশারায় বিএনপির সক্রিয় সদস্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নে স্থান পেয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আমরা ওই তালিকা থেকে আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম বাদ দেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু বলেন, ‘বাবুল কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ১৪ নম্বর সদস্য। বিষয়টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে। তারা সেদিন বর্ধিত সভায় চুপ থেকে তাকে প্রার্থী বাছাইয়ে অংশ নায়ের সুযোগ করে দিয়েছে।

‘সেদিন হাউসের অনেককে ম্যানেজ করে বিতর্কিত ওই ব্যক্তি তৃণমূলর রায় তার পক্ষ নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর প্রতিবাদে আমি ওই তালিকা থেকে বাবুলর নাম কেটে পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নাম দেয়ার জন্য ১৮ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আফজালুল হক খোকা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বাবুল বিএনপির সদস্য হয়ে থাকলে তার নাম আওয়ামী লীগে কীভাবে এসেছে, সেটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আগের সভাপতি ও সম্পাদক ভালো জানেন।

‘আমরা এর জন্য দায়ী নই। বর্তমানে তার নাম ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে আছে। আর এ কারণেই তিনি দলীয় প্রার্থী হতে চেষ্টা চালিয়েছেন।’

আফতারুজ্জামান বাবুল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি জীবনে কোনো দিন বিএনপি করিনি। বিএনপির তালিকায় কীভাবে নাম গেল, সেটা আমার জানা নেই। ছাত্রলীগের মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ২০১৭ সালে আমি আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটির সদস্য হই। ২০১৮ সালে আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্ত হই।’

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর বলেন, ‘আফতারুজ্জামান বাবুলকে আমি আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবেই চিনি। তিনি ছাত্রলীগ করেছে। ২০০২ সালে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ছিল।’

আরও পড়ুন:
মেয়ের ডাকে সাড়া দিলেন খন্দকার মাহবুব
লাইফ সাপোর্টে খন্দকার মাহবুব
করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে খন্দকার মাহবুব

শেয়ার করুন

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির শোভাযাত্রায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অশান্তি ঘটালেন আপনারা, আগুন দিলেন আপনারা, মারলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা এবং নিরীহ মানুষদের হত্যা করে আজকে শান্তি মিছিল বের করছেন। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এই আওয়ামী লীগ এটাই। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে।’

হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী শান্তি মিছিলকে ক্ষমতাসীন দলের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার’ উপায় হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে এবং বিভাজন সৃষ্টি করে তারা এটাকে পুঁজি করে সেটাকে আবার তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চাচ্ছে।

‘অশান্তি ঘটালেন আপনারা, আগুন দিলেন আপনারা, মারলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা এবং নিরীহ মানুষদের হত্যা করে আজকে শান্তি মিছিল বের করছেন। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এই আওয়ামী লীগ এটাই। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

এবারের পূজামণ্ডপে মানুষজনের কম উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘এই সাম্প্রদায়িক সমস্যা-সংকট সরকার তৈরি করেছে। এখানে দাদা (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়) আছেন, দাদার বাড়িতে পূজা হয়েছে, সেই বাড়িতে আমরা গিয়েছিলাম। এর আগের বছর যখন গিয়েছি, তখন দেখেছি কী উৎসব কী আনন্দ! সেখানে কাছাকাছি আরো কয়েকটা পূজামণ্ডপে পূজা হচ্ছে, লোকজন রাস্তায় বোঝাই হয়ে ছিল।

‘এবার গিয়ে দেখলাম দাদার বাড়িতে ওইভাবে লোক নেই। কারণ, মানুষ ভয় পেয়ে গেছে, সেভাবে লোক আসছে না। পূজা সেভাবে হচ্ছে না।

‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরেও আমি দেখেছি অনেক কম মানুষ। বনানীতে পূজামণ্ডপে গেছি। সেখানেও অনেক কম মানুষ। কেন? আমাদের অন্যতম ভাই, আমাদের পাড়া-প্রতিবেশী, আমাদের দেশের স্বাধীন নাগরিক তারা কোনো তাদের ধর্মের উৎসব পালন করতে পারবে না?’

সরকার হটানোর আহ্বান

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এ দেশের মানুষ অনেক বেশি কষ্ট পাবে। আমাদের অর্জনগুলো সব হারিয়ে যাবে। আমরা আরও বেশি নিচের দিকে নামতে থাকব। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সব সচেতন মানুষ যারা আছি তাদের এই দানবীয় সরকারকে সরাতে হবে।’

সরকার পতনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সাদা-কালো, বাম-ডান সবাইকে এক হয়ে এদের সরাতে হবে।

‘এদের সরিয়ে এখানে জনগণের একটা রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে, জনগণের একটা সরকার তৈরি করতে হবে, জনগণের একটা বাসভূমি তৈরি করতে হবে। তাহলেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবকে সবচেয়ে বেশি সম্মান প্রদর্শন করা হবে।’

দেশে গণতন্ত্র নেই অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র তারা নিজের হাতে শেষ করেছে ১৯৭৫ সালে এবং এবার ২০০৮ সাল থেকে শুরু করেছে।

‘বাংলাদেশের আত্মা হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক সমাজ, মুক্ত সমাজ। সেই আত্মাকে তারা ধ্বংস করছে পরিকল্পিতভাবে। তারা কথা বলতে দেয় না, লিখতে দেয় না।’

বিএনপির এই আয়োজন টেলিভিশনে বড়জোর দুই সেকেন্ড/তিন সেকেন্ড বা ১/২ মিনিট দেখানো যাবে, পত্রিকায় এক কলাম সংবাদ হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আমি বলি দোষ তাদের না। তাদের ম্যানজেমেন্ট, মালিক… যারা সবাই কোনো না কোনোভাবে সরকারের সঙ্গে জড়িত আছে। হয় ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনোভাবে অথবা সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। যদি কিছু লিখতে যায় সাংবাদিকের চাকরি চলে যায়, পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, পেশাজীবী নেতা গাজী আব্দুল হক, প্রকৌশলী মিয়া মুহাম্মদ কাইয়ুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও রাখেন।

আরও পড়ুন:
মেয়ের ডাকে সাড়া দিলেন খন্দকার মাহবুব
লাইফ সাপোর্টে খন্দকার মাহবুব
করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে খন্দকার মাহবুব

শেয়ার করুন

পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি: রিজভী

পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি: রিজভী

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মিসভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আপনারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে রাজি নন। ফায়দা লুটতে আপনারা খাল কেটে কুমির আনছেন, একসময় সেই কুমির সবকিছু গ্রাস করবে, এটা টের পাচ্ছেন না। এই কুমির সরকারকে খেয়ে ফেলতে পারে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে, নানাভাবে উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করছেন। যে আগুন নিয়ে খেলছেন, সেই আগুনে সরকার ছারখার হয়ে যাবে।’

পুলিশ সঠিক সময়ে না আসায় কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও রংপুরে সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সাম্প্রদায়িক সংঘাতের জন্য সরকার ও প্রশাসনকে দায়ী করে রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লার জনগণ ঘটনার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে বলেছিল, কিন্তু প্রশাসন সেটা করেনি। পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি বলেই সহিংস ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও রংপুরে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মঙ্গলবার মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল।

মিলাদ শেষে কর্মিসভায় রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা আওয়ামী লীগের সহ্য হয় না। তার প্রমাণ ২০১৮ সালে দিনের বেলা ভোট করতে তারা সাহস পায়নি। রাতের নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা ১০ মাস আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে। যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তিনি তাতে জড়িত ছিলেন না।

‘তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে শেষ করতে সরকার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। তাদের সেই নীলনকশা আমরা কেন বাস্তবায়ন করতে দেব? জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে পারবে না কেউ। সুতরাং আমরা একীভূত হতে পারলে স্বৈরশাসককে সরাতে পারব। শেখ হাসিনার ময়ূর সিংহাসন স্থির রাখা যাবে না, এটা আমাদের উল্টাতে হবে।’

সরকারের সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘আপনারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে রাজি নন। ফায়দা লুটতে আপনারা খাল কেটে কুমির আনছেন, একসময় সেই কুমির সবকিছু গ্রাস করবে, এটা টের পাচ্ছেন না। এই কুমির সরকারকে খেয়ে ফেলতে পারে।

‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে, নানাভাবে উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করছেন। যে আগুন নিয়ে খেলছেন, সেই আগুনে সরকার ছারখার হয়ে যাবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, মহানগর উত্তরের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন:
মেয়ের ডাকে সাড়া দিলেন খন্দকার মাহবুব
লাইফ সাপোর্টে খন্দকার মাহবুব
করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে খন্দকার মাহবুব

শেয়ার করুন

‘বাহাদুরি থামান’ শাজাহানকে শাহাবুদ্দিন

‘বাহাদুরি থামান’ শাজাহানকে শাহাবুদ্দিন

মাদারীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মঙ্গলবার বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা। ছবি: নিউজবাংলা

শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘এখন আর নৌকার বিরোধিতা করবেন না। আপনি নৌকা নিয়েই ৬ বার এমপি হয়েছেন। এখন আবার নৌকাবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন। বাহাদুরি থামান। আর বাহাদুরি করবেন না।’

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানকে বাহাদুরি থামাতে বলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘আপনি (শাজাহান খান) ২০১৮ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করে নিজের ভাইকে বিদ্রোহী প্রার্থী করেছিলেন। তখন তৃণমূল আওয়ামী লীগ শক্তিশালী ছিল না। কিন্তু শক্তিশালী।

‘এখন আর নৌকার বিরোধিতা করবেন না। আপনি নৌকা নিয়েই ৬ বার এমপি হয়েছেন। এখন আবার নৌকাবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন। বাহাদুরি থামান। আর বাহাদুরি করবেন না।’

শাজাহান খানকে উদ্দেশ করে সভাপতি শাহাবুদ্দিন আরও বলেন, ‘এখন নৌকা আপনার পরিবারের লোকজন আর আপনার দালালরা পাবে না। তাই নৌকার বিরোধিতা শুরু করেছেন। সময় আছে, সাবধান হয়ে যান। না হলে আওয়ামী লীগ আপনাকে ছাড়বে না।’

জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তৃতীয় দফা ইউপি নির্বাচন নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ চোকদার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজাদুর রহমান মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ। এ সময় সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি মাদারীপুরে একটি অনুষ্ঠানে শাজাহান খান নির্বাচনে শাহাবুদ্দিনকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ার পক্ষে বক্তব্য দেন। যা নিয়ে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন:
মেয়ের ডাকে সাড়া দিলেন খন্দকার মাহবুব
লাইফ সাপোর্টে খন্দকার মাহবুব
করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে খন্দকার মাহবুব

শেয়ার করুন

প্রশাসনের ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা ছিল কি না, তদন্তের দাবি ইনুর

প্রশাসনের ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা ছিল কি না, তদন্তের দাবি ইনুর

ক্ষমতাসীন ১৪-দলীয় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু l ছবি: নিউজবাংলা

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘৩২ হাজার পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা দেয়া হলো, অথচ ৫০টিতে হামলা হলো। এর দায়দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে।’

রংপুরের পীরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িঘরে হামলার দায় প্রশাসন এড়াতে পারবে না বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন ১৪-দলীয় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু l

তিনি বলেছেন, ‘প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সাম্প্রদায়িক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা আছে কি না, তা সরকারকে তদন্ত করে দেখতে হবে। তা না হলে এই হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।’

এই সাবেক মন্ত্রী বলেন, ‘৩২ হাজার পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা দেয়া হলো, অথচ ৫০টিতে হামলা হলো। এর দায়দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে।’

মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর মাঝিপাড়া গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

জাসদের সভাপতি বলেন, ‘যারা এই ন্যক্কারজনক এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা দেশের ও সমাজের শত্রু। এদের দ্রুত বিচার আইনে তিন মাসের মধ্যে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। দৃশ্যমান শাস্তি হলে প্রতীয়মান হবে যে হামলাকারীরা রেহাই পায় না।’

ইনু বলেন, ‘হিন্দুদের নিরাপত্তা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষা ও অসাম্প্রদায়িকতা বজায় রাখার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বা দর-কষাকষি চলবে না। যেকোনো মূল্যে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

সাম্প্রদায়িক উসকানি ও দেশকে অস্থিতিশীল করার পেছনে বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে হাসানুল হক বলেন, ‘জঙ্গি সন্ত্রাসী জামায়াত-শিবিরের মাথার ওপরে যতদিন পর্যন্ত বিএনপি ছাতা ধরে থাকবে, ততদিন দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলতে থাকবে। তাই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী দলকে বয়কট করতে হবে।’

এসব ঘটনায় নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার আহ্বানও জানান ইনু। বলেন, ‘কারা হামলাকারী, সরকার তা জেনে গেছে। সুতরাং নিরীহ কাউকে ধরবেন না।’

রংপুর জাসদের সাধারণ সম্পাদক কুমারেশ রায়, মহানগর সভাপতি সাহিদুল ইসলাম, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুদ, সদর উপজেলা সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক, পীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মীর মোহাম্মদ মানিক, রংপুর জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি ওসমান গণি শুভ্রও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মেয়ের ডাকে সাড়া দিলেন খন্দকার মাহবুব
লাইফ সাপোর্টে খন্দকার মাহবুব
করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে খন্দকার মাহবুব

শেয়ার করুন

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি ১৪ দলের

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি ১৪ দলের

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকের পর ১৪ দলের পক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। ছবি: নিউজবাংলা

১৪ দলের পক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন বজায় থাকে এবং এ ধরনের ঘটনা যেন আর না হয় তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে সব পূজামণ্ডপ বা বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে সেসব পুনর্বাসনের দাবি ১৪ দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানান জোটের প্রতিনিধিরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ১৪-দলীয় জোটের পক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন বজায় থাকে এবং এ ধরনের ঘটনা যেন আর না হয় তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে সব পূজামণ্ডপ বা বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে সেসব পুনর্বাসনের দাবি ১৪ দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।’

‘পীরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরগুলো নতুনভাবে গড়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন। আমরা বলেছি, সারা দেশে যে ভাঙচুর হয়েছে সেখানেও ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে। এটাই আমরা দাবি করেছি।’

বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা হলো জানতে চাইলে মেনন বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তাতে আমাদের অবজারভেশনগুলো জানিয়েছি। আমরা যেটা বলেছি, আমাদের ১৪ দলের মতামত হচ্ছে এ ঘটনাগুলো একদমই পূর্বপরিকল্পিত। ৫০ বছরের বাংলাদেশে মন্দির ভাঙার ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন সময়ে কিন্তু দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা আমাদের জন্য খুব অস্বস্তিকর ছিল।

‘এখানে আমরা বলেছি, এর পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে জড়িতদের শিগগিরই খুঁজে বের করে জনসম্মুখে হাজির করা হবে। তিনিও একমত যে এগুলো পূর্বপরিকল্পিত।’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রশাসনিক বা গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা চৌমুহনির ঘটনা বলেছি, রংপুরের ঘটনা বলেছি, বিভিন্ন জেলার কথা বলেছি। সেখানে যদি কোনো শৈথিল্য থাকে…. কারণ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বর্ডার গার্ড নিয়োগ করা হল কিন্তু তারপরেই আমরা দেখলাম বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ কেন আনসারও নেই, এমন ঘটনাও দেখেছি আমরা।’

‘এই ধরনের হামলা ফের হয়েছে কারণ রামু থেকে শুরু করে সহিংসতার মামলাগুলোর কোনটির চার্জশিট হয়েছে দুবছর পরে, কোনটির এখনও হয়নি। এখন এই যে বিচার না হওয়ায় এরা সাহস পেয়ে গেছে। এ বিষয়টি আমরা বলেছি।’

এরআগে, দুপুরে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের নেতৃত্বে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসেন ১৪ দলের একটি প্রতিনিধি দল। এতে আরও ছিলেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতারসহ আরও অনেকে।

বুধবার কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়ার অভিযোগ তোলার পর ওই দিন সকাল থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির বিপুলসংখ্যক সদস্য। তবে আলোচিত মণ্ডপের পূজার আয়োজকরা বলছেন, সেখানে পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে নোয়াখালীর চৌমুহনী, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপ, মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এর মধ্যে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের বাটের হাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। হামলাকারীরা অন্তত ২৩টি বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, এসব ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত ৭১টি মামলা হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৫০ জনকে। আরও কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন:
মেয়ের ডাকে সাড়া দিলেন খন্দকার মাহবুব
লাইফ সাপোর্টে খন্দকার মাহবুব
করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে খন্দকার মাহবুব

শেয়ার করুন

ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক কারাগারে

ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক কারাগারে

ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

শুনানিতে আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বলেন, ‘আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী নির্দোষ, নিরাপরাধ। ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন, বরং যে ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে সেই ধারার কোনো অপরাধ সংঘটন করেননি। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে তিনি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।’

রাজধানীর পল্টন থানায় দ্রুত বিচার আইনে করা মামলায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলামের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আব্দুস সাত্তার। তার পক্ষে জামিন শুনানি করেন মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী নির্দোষ, নিরাপরাধ। ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন, বরং যে ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে সেই ধারার কোনো অপরাধ সংঘটন করেননি। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে তিনি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।

‘মামলা সম্পর্কে তিনি জানতেন না। জানার পর তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছেন। তিনি অসুস্থ। ভারতের চেন্নাইয়ের বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সদ্য করোনামুক্ত হয়েছেন তিনি। তার জামিন প্রার্থনা করছি।’

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বিপ্লব সরকার আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী।

২০১৭ সালের ২ এপ্রিল কাজী মহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী তৎকালীন ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে ওই মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, কাজী মহিদুলের পল্টনে স্কাউট মার্কেটে পুরাতন গাড়ি কেনাবেচার দোকার রয়েছে। প্রতি দিনের তিনি ২ এপ্রিল সকালে নিজের মাইক্রোবাসে করে দোকানে যাওয়ার সময় পল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আসামিরাসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও অন্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করেন। সেখান থেকে অহি আহম্মেদ, আল-আমিন, শহিদুল ইসলাম নয়নকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলাটি তদন্ত করে ১০ দিন পর ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পল্টন মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) শামীম আকতার।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, ছাত্রদলের তৎকালীন সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সহসভাপতি সাদিউল কবির নিরব, এজমল হোসেন পাইলট, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও ইকবাল।

মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
মেয়ের ডাকে সাড়া দিলেন খন্দকার মাহবুব
লাইফ সাপোর্টে খন্দকার মাহবুব
করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে খন্দকার মাহবুব

শেয়ার করুন