অপকর্মে জড়িতদের আগামীতে আর মনোনয়ন নয়: কাদের

অপকর্মে জড়িতদের আগামীতে আর মনোনয়ন নয়: কাদের

এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

‘যেসব জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন নির্বাচনে বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছেন, যারা অপকর্ম করছেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি,ভুমি দখল, মাদক ব্যবসা- এসবের সঙ্গে যারা জড়িত আছে, আমি পরিষ্কার বলে দিতে চাই, আগামী নির্বাচনে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত কেউ আওয়ামী লীগের টিকিট পাবেন না।’

আওয়ামী লীগের যেসব জনপ্রতিনিধি অপকর্মে জড়িত তারা, আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবেন না বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনায় তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেসব জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন নির্বাচনে বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছেন, যারা অপকর্ম করছেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি,ভুমি দখল, মাদক ব্যবসা- এসবের সঙ্গে যারা জড়িত আছে, আমি পরিষ্কার বলে দিতে চাই, আগামী নির্বাচনে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত কেউ আওয়ামী লীগের টিকিট পাবেন না।’

‘সংশোধন হয়ে যান। কে কী করেন, সবার তালিকা শেখ হাসিনার কাছে আছে। শেখ হাসিনাকে ফাঁকি দিতে পারবেন না।’

আগামী নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আজকে নেত্রীর জন্মদিনে শপথ নিতে বলব। আমরা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে একটি সুশৃঙ্খল, আধুনিক,স্মার্ট দল হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চাই।

‘আগামী নির্বাচনে বিজয়ের জন্য আমি নেতা-কর্মীদের নিজের মধ্যে ছোট ছোট বিভেদ, কলহ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের তিনি বলেন, ‘দল করবেন, দলের নিয়ম মানতে হবে। দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। শৃঙ্খলার ব্যাপারে নেত্রীর অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। নেতারা আছেন, সারা দেশের বিভাগীয় দায়িত্বে। আজকে যত বিভাগ আছে, সব বিভাগে নতুন করে সম্মেলন, মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন করে আমরা নতুন নেতৃত্ব আনব।

‘দল ভারী করার জন্য পকেট কমিটি বানাতে পারবেন না। বসন্তের কোকিলদের নিয়ে দল ভারী করবেন, শেখ হাসিনা এই আওয়ামী লীগ চান না। দুঃসময়ের কর্মী, ত্যাগী কর্মীদের নিয়ে দলকে সাজাতে হবে।’

আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, শাজাহান খান, মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

আরও পড়ুন:
দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ
পদ হারানো নেতাদের কাছে ‘ভুল চিঠি’, আ. লীগের সভা স্থগিত
আ. লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা শনিবার
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু আওয়ামী লীগের
এক বছর পর বসছে আ. লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সুবিধাবঞ্চিতদের উন্নয়নে ব্র্যাক পাচ্ছে ৫ কোটি ডলার

সুবিধাবঞ্চিতদের উন্নয়নে ব্র্যাক পাচ্ছে ৫ কোটি ডলার

কোনও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি ঋণ দেয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। এখন থেকে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে ব্র্যাক ও এফএমও।

ক্ষুদ্র অর্থায়নের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিতদের উন্নয়নে নেদারল্যান্ডের বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ব্যাংক এফএমও থেকে ৫ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা পাচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

কোনও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি ঋণ দেয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। এখন থেকে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে ব্র্যাক ও এফএমও।

মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঋণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে ব্র্যাক।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউয়েন ও ফার্স্ট সেক্রেটারি বাস ব্লাউ, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার তুষার ভৌমিক, ব্র্যাকের কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মৌটুসী কবীর, মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রামের চিফ অপারেটিং অফিসার সাহেদ শামস আজাদ, আরএসএ ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান কে মাহমুদ সাত্তারসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এফএমও-র পক্ষে ভার্চুয়ালি অংশ নেন চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার হুইব-জ্যান ডি রুইজটার, ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন্স বিভাগের পরিচালক মারনিক্স মন্সফোর্ট, সিনিয়র পোর্টফোলিও অ্যানালিস্ট অ্যাডিনা গিলার্দিয়া।

নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউয়েন বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়নে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কাজ করেছে এবং এই যাত্রায় ব্র্যাক দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যেখাতে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে চমৎকার অবদান রেখেছে। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সবচেয়ে দীর্ঘ। এই অংশিদারিত্ব ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করবে। লক্ষাধিক মানুষ দারিদ্রতা থেকে বেরিয়ে আসবে।

আরও পড়ুন:
দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ
পদ হারানো নেতাদের কাছে ‘ভুল চিঠি’, আ. লীগের সভা স্থগিত
আ. লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা শনিবার
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু আওয়ামী লীগের
এক বছর পর বসছে আ. লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ

শেয়ার করুন

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাতিলের দাবি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাতিলের দাবি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের

‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি’ (বায়রা)-এর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সহজ করার চেষ্টা করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমধ্যসাগরে মানুষ ডুবে মারা যাওয়ার যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, সেজন্য মানুষ পুলিশকেই জবাবদিহি করছে। পুলিশের কথাই বলছে যে, পুলিশ কি করছে? কিভাবে এসব মানুষ পুলিশের চোখ আড়াল করে পাচার হল?’

জনশক্তি রপ্তানির ডিমান্ড লেটার পাওয়ার পর কর্মীদের বিদেশে যেতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স উঠিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নামে ২০ দিনের বেশি সময় নষ্ট হয়ে যায়। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ ধরনের পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয়না।

বুধবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে মানব পাচার আইনের হয়রানি থেকে মুক্ত করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি’ (বায়রা)-এর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এই অনুষ্ঠানেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাতিলের দাবি জানান জনশক্তি রপ্তানিকারক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা।

ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সহজ করার চেষ্টা করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমধ্যসাগরে মানুষ ডুবে মারা যাওয়ার যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, সেজন্য মানুষ পুলিশকেই জবাবদিহি করছে। পুলিশের কথাই বলছে যে, পুলিশ কি করছে? কিভাবে এসব মানুষ পুলিশের চোখ আড়াল করে পাচার হল? পুলিশ তখন দায়িত্ববোধ থেকে মামলা করতে বাধ্য হয়। এজন্য ভালো ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৈধভাবে পাঠালে সমস্যা হওয়ার কথা না। অল্প সময়ে যাতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স হয় সেই ব্যবস্থা করছি।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ই-পাসপোর্ট ও বিমানবন্দরে ই-গেট চালু হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক দিনের মধ্যে এসব গেটে ভিসা সঠিক আছে কি না সেটাও চেক করা যাবে। সব কিছু ঠিক থাকলে গেট অটো চালু হয়ে যাবে। এতে পুলিশের ভিসা চেক করার দরকার হবে না। ইমিগ্রেশনে লাইন ধরে দাঁড়াতে হবে না।’

গেস্ট অব অনারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেন, ‘জনশক্তি রপ্তানিতে গার্মেন্টসের রেমিট্যান্স বেশি। গত বছর ২৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। করোনার কারণে গত বছর আগের চেয়ে কম ৭ থেকে ১০ লাখ মানুষ বিদেশে গেছে। মানুষ বিদেশে না গেলে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ত।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বায়রা’র সাবেক সভাপতি ও ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূর আলী বলেন, ‘বিদেশে কর্মী যেতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স উঠিয়ে দেয়া উচিত। পৃথিবীর কোথাও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয় না। পুলিশ কিয়ারেন্স করতে ২০ দিন সময় লেগে যায়। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক কাজ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। এ কারণে ডেসপাস কমে যায়। ব্যবসায়ীরা কাজ করতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে পরিমাণ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বিএমইটিতে সে পরিমান জনশক্তি নাই। জনশক্তি বাড়ানো দরকার।’

তিনি জানান, সৌদিতে এনলিস্টেড থাকার পরও কয়েকশ এজেন্সিকে দূতাবাস কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে না। এজেন্সিগুলো সৌদি আরবে কর্মী পাঠাতে পারছে না।

অনুষ্ঠানে বায়রা’র সাবেক সভাপতি বেনজির আহমদ এমপি’র সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, বিএমইটির মহাপরিচালক শহীদুল আলম, বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাসার, সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন, শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ
পদ হারানো নেতাদের কাছে ‘ভুল চিঠি’, আ. লীগের সভা স্থগিত
আ. লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা শনিবার
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু আওয়ামী লীগের
এক বছর পর বসছে আ. লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ

শেয়ার করুন

সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি

সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সময় লাগবে না। তিনি দেশ ও জনগনের ভাগ্য উন্নয়নে রাজনীতি করেন। আর রাজনীতিকে যারা ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে নেয়, তারা ভয়াবহ। এতে রাজনীতি থাকে না, ব্যবসাও হয় না।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানা খুলে দেয়ায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। কিন্তু সে সিদ্ধান্তের সুফল পাচ্ছে দেশ। রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে তৈরী পোশাক খাত। সরকারের সঠিক সিদ্ধান্তে করোনাতে সচল ছিল অর্থনীতি। যার ফলে শিল্প বাণিজ্যসহ সার্বিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ।

রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার এক সভায় এসব বিষয় তুলে ধরেন আলোচকরা।

আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজন করেছিল ‘করোনাকালীন শিল্প ও বাণিজ্য উন্নয়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা।

সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সময় লাগবে না। তিনি দেশ ও জনগনের ভাগ্য উন্নয়নে রাজনীতি করেন। আর রাজনীতিকে যারা ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে নেয়, তারা ভয়াবহ। এতে রাজনীতি থাকে না, ব্যবসাও হয় না।

‘করোনাকালে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া পদক্ষেপ ও কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে। শুধু বর্তমান নিয়ে নয়, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ায় কাজ করছেন তিনি।’

কাদের বলেন, ‘দেশে উন্নয়নকাজ চলছে, তাতে মানুষের সাময়িক সমস্যা হলেও ফলাফল হবে জনবান্ধব। আগামী বর্ষার আগেই জনদুর্ভোগ শেষ হবে। সীমান্তসহ দেশব্যাপী যোগাযোগ খাতের যুগান্তকারী উন্নয়ন হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দীন আহমদের সভাপত্বিতে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এছাড়াও এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচকরা বলেন, ‘করোনার মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থবির না হয়, সে জন্য ঘোষণা করা হয় প্রণোদনা প্যাকেজ। খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

‘সব শিল্পমালিক, ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিপর্যায়ে নিজ নিজ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সবসময় সহায়তা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘করোনায় শত সমালোচনার পরেও পোশাক শিল্পের পাশে ছিলেন শেখ হাসিনা। যার ফলে এই শিল্প আজ রের্কড গড়তে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপের কারণে এ শিল্পে মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে। কারণ, একবার বাজার হারালে সেটা ফিরে পাওয়া কঠিন ছিল।’

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘করোনায় সব দেশে যখন হিমশিম অবস্থা, তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখতে দূরদর্শী মতামত দিয়েছেন। অল্প সময়ে জনগণের আস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন। ব্যবসা খাতে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হলেও প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে নতুন জীবনীশক্তি তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী, মালিক, শ্রমিক সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে জীবন-জীবিকার চাকা আবার ঘুরতে শুরু করেছে।’

শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘মানুষের জীবন-জীবিকায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়আয় প্রধানমন্ত্রী তিন বছর মেয়াদি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতা বাড়ানো, বাজারে ব্যাপক টাকার সরবরাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষিতে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন গবেষণায় তিনি বিনিয়োগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে আমরা সহজেই মহামারি মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।’

মো. জসিম উদ্দিন বলেন,‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় করোনাতে কোনো কার্যক্রম থেমে থাকেনি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে জুম মিটিং করে সমস্যা সমাধান করা গেছে। আমাদের এগিয়ে যেতে এখন বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। ১০০ অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগ পলিসি করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ
পদ হারানো নেতাদের কাছে ‘ভুল চিঠি’, আ. লীগের সভা স্থগিত
আ. লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা শনিবার
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু আওয়ামী লীগের
এক বছর পর বসছে আ. লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ

শেয়ার করুন

স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান: ২৮ বছর পর ফিরলেন বাড়ি

স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান: ২৮ বছর পর ফিরলেন বাড়ি

সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদে বাচ্চু মণ্ডলকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

বাচ্চু মণ্ডল বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়-বন্ধুদের ফেলে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আমি সনাতন ধর্মের মানুষের সঙ্গে বসবাস করেছি। এ ইউনিয়নে ৯৯ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা আমাকে তাদের ভাই হিসেবে সম্মান ও শ্রদ্ধা করেছে। থাকতে দিয়েছে, ভালো খেতে দিয়েছে, ভালো ব্যবহার করেছে। কখনও অন্য ধর্মের মানুষ হিসেবে আমাকে ঘৃণা করেনি। আমি সুন্দলী ইউনিয়নবাসীর কাছে ঋণী।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বাচ্চু মণ্ডল স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি ছেড়েছিলেন ২৮ বছর আগে।

১৯৯৩ সালে যেদিন বাড়ি ছাড়েন, সেই দিনই বাসে করে আসেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নে। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মিলেমিশে কাটিয়ে দিয়েছেন দীর্ঘ ২৮ বছর।

ইউনিয়নের কেউ বাচ্চু মণ্ডলের ঠিকানা না জানলেও ভালোবাসতেন সবাই। ডাকতেন বাচ্চু ভাই বলে। অবশেষে সন্ধান পেয়ে মান ভাঙিয়ে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন পরিবারের সদস্যরা।

সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিলের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বাচ্চু মণ্ডলকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাচ্চু মণ্ডল জানান, স্ত্রী জাহেদা বেগমের উপর অভিমান করে ৩৬ বছর বয়সে তিনি বাড়ি ছাড়েন। বিভিন্ন যানবাহনে করে ওই দিনই যশোরের মণিহার সিনেমা হলের সামনে পৌঁছান। সেখান থেকে অভয়নগরের নওয়াপাড়া বাজার হয়ে সুন্দলী বাজারে পৌঁছালে রাত হয়ে যায়।

সেই রাতে ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের নগেন্দ্রনাথ রায় তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে খাওয়া-থাকার শর্তে নগেন্দ্রনাথের কৃষিজমি ও বাড়ির কাজ করতে শুরু করেন তিনি। তিন বছর পর একই ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মুকুন্দ মল্লিক তাকে তার বাড়িতে থাকার অনুরোধ করেন। সেখানে দুই বছর থাকার পর একই গ্রামের চারু মল্লিকের বাড়িতে চলে যান।

তিনি আরও জানান, ২০০৬ সালে সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিকাশ মল্লিক ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে একটি ভ্যান উপহার দেন। সেই ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন তিনি।

পরে তাকে ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ওই সময় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ শেখর বিশ্বাস তাকে থাকতে দেন।

২০১০ সালে সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে বসবাসের সুযোগ দেন তৎকালীন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা। সেই থেকে সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদই তার বাড়ি।

বাচ্চু মণ্ডল বলেন, ‘আমার মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। চার ভাইয়ের মধ্যে আমি সেজ। স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়-বন্ধুদের ফেলে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আমি সনাতন ধর্মের মানুষের সঙ্গে বসবাস করেছি।

‘এ ইউনিয়নে ৯৯ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা আমাকে তাদের ভাই হিসেবে সম্মান ও শ্রদ্ধা করেছে। থাকতে দিয়েছে, ভালো খেতে দিয়েছে, ভালো ব্যবহার করেছে। কখনও অন্য ধর্মের মানুষ হিসেবে আমাকে ঘৃণা করেনি। আমি সুন্দলী ইউনিয়নবাসীর কাছে ঋণী।’

বাড়ি ফিরলেও অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নে সপরিবারে বেড়াতে আসবেন বলে জানান বাচ্চু মণ্ডল।

বাচ্চু মণ্ডলের ভাইপো শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চাচা নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা অনেক খুঁজেছি। এক পর্যায়ে চাচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। সম্প্রতি আমাদের এলাকার গ্রাম পুলিশ অসিত বিশ্বাসের মাধ্যমে চাচার সন্ধান মেলে। রাতেই চাচাকে নিয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছি।’

তিনি জানান, স্ত্রী জাহেদা অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থা বাচ্চু মণ্ডল বাড়ি ছাড়েন। বর্তমানে জাহিদুল ইসলাম নামে তার ২৭ বছরের একটি ছেলে আছে।

অন্য ধর্মের হলেও তার চাচার সঙ্গে সুন্দলী ইউনিয়নের মানুষের আচরণ সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল বলেন, ‘বাচ্চু মণ্ডলের পরিবার আছে-এমন কথা তিনি কোনো দিন কাউকে বলেননি। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে তিনি আমাদের ইউনিয়নে আছেন। ২০১০ সাল থেকে পরিষদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে থাকতেন।

‘খুব ভালো মনের মানুষ তিনি। সবাই তাকে বাচ্চু ভাই বলে ডাকত। ২৮ বছর পর মানুষটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা তৃপ্ত।’

আরও পড়ুন:
দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ
পদ হারানো নেতাদের কাছে ‘ভুল চিঠি’, আ. লীগের সভা স্থগিত
আ. লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা শনিবার
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু আওয়ামী লীগের
এক বছর পর বসছে আ. লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ

শেয়ার করুন

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, লাগামহীন দাম বাড়ছে

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, লাগামহীন দাম বাড়ছে

প্রতীকী ছবি

বিশ্ববাজারে গত এক বছরে এলএনজি, গ্যাসোলিন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে প্রায় ১০০ ভাগ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কয়লার দর। কেবল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এরই মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২১ কোটি টাকা।

গত ছয় মাস ধরে অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার। প্রায় প্রতি মাসে আমদানিনির্ভর এই পণ্যের দর বাড়ছে। এই অবস্থায় চাপে পড়েছে জ্বালানি বিভাগ। এমনিতেই বেশি দরে পণ্য এনে কম দামে বিক্রি করে লোকসানে ছিল সরকার। তার ওপর এই অতিরিক্ত লোকসান দুশ্চিন্তায় ফেলেছে সরকারকে। জ্বালানি বিভাগে আলোচনা চলছে, জ্বালানি পণ্যের দর বাড়ানোর।

বিশ্ববাজারে গত এক বছরে লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি), গ্যাসোলিন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে প্রায় ১০০ ভাগ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কয়লার দর।

কেবল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এরই মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২১ কোটি টাকা। করোনা কমায় জ্বালানির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সংকটে তৈরি হয়েছে এই অবস্থা। তবে এখনই দাম সমন্বয়ের পক্ষে নয় পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।

অন্যদিকে, বাড়তি দামের কারণে তেল ও আমদানিকৃত কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভর্তুকির চাপ বাড়ছে পিডিবির ওপর।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে চাঙ্গা হতে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি। যার অন্যতম ইঙ্গিত জ্বালানি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি। উৎপাদন, সমুদ্র পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি, ভূ-রাজনীতিসহ নানা কারণে বাড়তে শুরু করেছে দাম।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দর বাড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হচ্ছে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মজুদ করার মানসিকতাকে। এ ব্যাপারে অভিযোগের আঙ্গুল মূলত চীন ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ছিল ৪৯ ডলার। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি তা বেড়ে হয়ে যায় ৬১ ডলার। চার মাস পর জুনের মাঝামাঝি আরও বেড়ে ৭১ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি হয় ৭৫ ডলার। এরপর ধীরে ধীরে বেড়ে এখন তা ৮০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

বাংলাদেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের ৬৫ শতাংশই ডিজেল, যা সবশেষ বিপিসি কিনেছে পরিশোধিত আকারে প্রতি ব্যারেল সাড়ে ৯৭ ডলারে। সে হিসেবে এক লিটারের পেছনে সব মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকারও বেশি। কিন্তু বিপিসি তা বিক্রি করছে ৬৫ টাকায়। ফলে লোকসান দিতে হচ্ছে লিটারে ১৩ টাকা। সে হিসেবে প্রতিদিন দেশের সাড়ে ১২শ টন ডিজেল বিক্রি করেই বিপিসির লোকসান হচ্ছে ১৯ কোটি টাকা।

তবে আপাতত দর বাড়াতে চায় না বিপিসি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই থেকে ডিসেম্বরের যে ফেইজ, তাতে আমরা ডিজেল সরবরাহকারী বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যে মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম, সেই মূল্যেই এখনও আমরা তা পাচ্ছি। যে কারণে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্তের দিকে আমাদের এখনই যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। তবে বর্তমান বাজারমূল্যকে কতটুকু বিবেচনায় নেয়া হবে, সেটা সরকারের পলিসির ওপর নির্ভর করে।’

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। পিডিবির হিসাবে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো কেবল জুলাই মাসেই ব্যবহার করেছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টনে। ফলে, বাড়তি চাহিদার এই জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে চড়া দামের জালে আটকা পড়ে বিপিসি। অন্য দিকে, মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ডিজেলের চাহিদাও বেড়ে গেছে তিন গুণের মতো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলে বিপিসির লোকসান ৮ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকারও বেশি।

তবে বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, ‘ফার্নেস অয়েলের দর বাড়লেও সুবিধা হচ্ছে, আমরা এর মূল্য সমন্বয় করছি। যে কারণে এ তেল আনতে খরচ পড়লেও সেই অর্থে আমরা চাপে নেই।’

অন্যদিকে পিডিবির চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের যেহেতু সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, সুতরাং জ্বালানি তেলের কোনো প্রভাব বা জ্বালানি তেলের দামের কোনো প্রভাব নিয়ে আমাদের চিন্তা করার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে যদি এটা এমন একটা অবস্থায় চলে যায়, সে ক্ষেত্রে হয়তো সরকার ভাবলেও ভাবতে পারে।’

মাসে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আর মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে বছরে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো লোকসান হতে পারে বলে ধারণা বিপিসির।

অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার

এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে দ্বিগুণের ওপরে। বিশ্বখ্যাত অর্থনৈতিক ওয়েবসা্ইট ‘ট্রেডিং ইকোনমিক্স’ এর হিসাব অনুযায়ী গত (২০ অক্টোবর) শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ক্রুড অয়েলের দর ছিল ব্যারেল প্রতি ৮৩ দশমিক ৭৬ ডলার, যা বৃহস্পতিবার থেকে ১ দশমিক ২৬ ডলার বা ১ দশমিক ৫৩ ভাগ বেশি। সাপ্তাহিক হিসেবে যা ১ দশমিক ৮০ ভাগ, আবার গত মাসের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৭ ভাগ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭২ দশমিক ৬৩ ভাগ বেশি।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে বর্তমানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম। শুক্রবার প্রতি ইউনিট বা প্রতি ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ৫ দশমিক ৩০ ডলার, আগের দিনের চেয়ে যা প্রায় ২০ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৭৭ ভাগ্য বেশি, যদিও আগের সপ্তাহের তুলনায় তা প্রায় ২ ভাগ কম। অন্যদিক সেপ্টেম্বরের তুলনায় তা ৬ দশমিক ৫৭ ভাগ ও গত বছরের একই সময়ের থেকে ১০৯ ভাগ বেশি।

বিশ্বে এখনও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় খনিজ কয়লা। এই কয়লার দর এখন সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বমুখী। গত এক বছরে পণ্যটির দর বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। শুক্রবার প্রতি টন কয়লা বিশ্ব বাজারে বিক্রি হয়েছে ২৩০ ডলারে, যা আগের দিন থেকে দেড় ডলার বা দশমিক ৬৬ ভাগ বেশি, যদিও তা গত সপ্তাহের তুলনায় ৪ দশমিক ১৭ ভাগ কম আবার গত মাসের তুলনায় ২৩ দশমিক ৭২ ভাগ এবং গত বছরের থেকে ১৮৫ দশমিক ৭১ ভাগ বেশি।

তিন কারণে অস্থির বিশ্ববাজার

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক লিড ইকোনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একদিকে জোগানের সংকট, অন্যদিকে চাহিদা বৃদ্ধি – এ দুটো মিলেই এখন স্পট মার্কেটগুলোতে মূল্যের বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ওপেক দেশগুলোর জ্বালানি তেল উৎপাদন হ্রাস, মেক্সিকো উপসাগরে হারিকেনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যঘাত এবং বিশ্বব্যাপী চাহিদা বাড়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে শীতকালে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে তেলের চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে তেলের চাহিদা বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ চীন সরকারের নীতিগত অবস্থান। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে চীন। এই কারণে চীনে তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে তেলের বাজার আরও চড়ছে। বিশ্ববাজারে রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল।

অন্যদিকে বহু বছর পর অস্ট্রেলিয়া চীনে জ্বালানি পণ্য রপ্তানির ওপর থেকে তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে সাধারণ অস্ট্রিলিয়ানদের মধ্যেও জ্বালানি মজুদের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

দেশে কি দর বাড়বে?

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সারা বছরের জন্য দেশের জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। অথচ গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। আর গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়বে।

জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানিতে লোকসান যা হয়েছে, তার সিংহ ভাগই এলএনজি কিনতে গিয়ে। এখন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই লোকসানের পরিমাণ বাড়বে।

বাড়তি দামে এলএনজি কেনায় সরকারের কত টাকা লোকসান হচ্ছে তার হিসাব করছে সরকারের গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো।

তিতাস গ্যাস, কর্ণফুলী ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড এবং সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড কোম্পানি তাদের আর্থিক বিশ্লেষণের কাজ শেষে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেবে মূল্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)।

একই সঙ্গে পাইকারি গ্যাস সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গ্যাসের সঞ্চালন বা হুইলিং সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডও (জিটিসিএল) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেবে।

আরও পড়ুন:
দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ
পদ হারানো নেতাদের কাছে ‘ভুল চিঠি’, আ. লীগের সভা স্থগিত
আ. লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা শনিবার
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু আওয়ামী লীগের
এক বছর পর বসছে আ. লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ

শেয়ার করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংশোধনী প্রয়োজন: ইনু

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংশোধনী প্রয়োজন: ইনু

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা এখন মানবাধিকার রক্ষার মৌলিক কাজ। তবে এর অপপ্রয়োগ হচ্ছে। এই অপপ্রয়োগ রোধে কিছু সংশোধনী আনা দরকার। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস দুই বছর পার হয়েছে। সময় এসেছে কিছু সংশোধনী এনে এটাকে সময়োপযোগী করা, যাতে কোনো সাংবাদিক এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন।’

মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের আইনের অপপ্রয়োগ থেকে রক্ষা করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংশোধনীর প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

সাতক্ষীরা জেলা জাসদের সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে বুধবার সার্কিট হাউজে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

জাসদ সভাপতি ইনু বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংশোধনীর প্রয়োজন রয়েছে, যাতে করে মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীরা আইনের অপপ্রয়োগ থেকে রক্ষা পায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিস্তারের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল জগৎ তৈরি হয়েছে। সেই ডিজিটাল জগৎ সাম্প্রদায়িক শক্তির আক্রমণের মুখে। সাইবার অপরাধীদের আক্রমণের মুখে। নারীর চরিত্র হনন করা হচ্ছে এই মাধ্যমে। সুতরাং সাইবার নিরাপত্তা এখন মানবাধিকার রক্ষার মৌলিক কাজ।

‘তবে এর অপপ্রয়োগ হচ্ছে। এই অপপ্রয়োগ রোধে কিছু সংশোধনী আনা দরকার। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস দুই বছর পার হয়েছে। সময় এসেছে কিছু সংশোধনী এনে এটাকে সময়োপযোগী করা, যাতে কোনো সাংবাদিক এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন।’

দেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সংঘাতের বিষয়েও কথা বলেন এ সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘দেশের ৫০টি জায়গায় সশস্ত্র সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। এই হামলার দায় প্রশাসনের ওপর বর্তায়। দেশে ক্ষণে ক্ষণে কখনও মন্দিরে, কখনও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর আবার কখনও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে।

‘এটা দেশের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। আগামীতে আর কোথাও সাম্প্রদায়িক হামলা হবে না এর গ্যারান্টি দেয়ায় হচ্ছে রাজনৈতিক দল বা সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান জাসদ নেতা।

আরও পড়ুন:
দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ
পদ হারানো নেতাদের কাছে ‘ভুল চিঠি’, আ. লীগের সভা স্থগিত
আ. লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা শনিবার
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু আওয়ামী লীগের
এক বছর পর বসছে আ. লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ

শেয়ার করুন

ইউরোপের বাণিজ্য সুবিধায় সমস্যা হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

ইউরোপের বাণিজ্য সুবিধায় সমস্যা হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

টিপু মুনশি

টিপু মুনশি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সকল বিধি-বিধান মেনেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে এবং সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ তথা এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বুধবার বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ইনভেষ্টমেন্ট সামিট-২০২১ এর ‘ইকোনমিক টাই অফ বাংলাদেশ অ্যান্ড ইউরোপ: নিউ রেগুলেটরি রিজুম’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য দেন।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। বর্তমানে দেশের ৯৭ ভাগ রপ্তানি পণ্যের উপর ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন ‘এভ্রিথিং বাট আর্মস স্কিম’ (ইবিএ)-এর আওতায় জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু উত্তরণের পর বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে। সেক্ষেত্রে ইইউ-এর দেয়া বাণিজ্য সুবিধা বহাল রাখার বিষয়ে জোর সংশয় তৈরি হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ইনভেষ্টমেন্ট সামিট-২০২১ এর ভার্চুয়াল সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘ইইউ থেকে বাণিজ্য সুবিধা পেতে কোনো সমস্যা হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা অব্যাহত রেখেছে সরকার, যাতে বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সকল বিধি-বিধান মেনেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে এবং সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ইইউ সহ দাতাদেশগুলোর চাওয়া অনুযায়ী, বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করে সময়োপযোগী করেছে। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করেছে। কর্মবান্ধব পরিবেশও সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকরা এখন গ্রিন ফ্যাক্টরিতে কাজ করছে। বিশ্বের সেরা ও সর্বোচ্চ গ্রিন ফ্যাক্টরির তালিকায়ও রয়েছে বাংলাদেশের নাম। এতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। এ প্রচেষ্টা প্রতিনিয়ত অব্যাহত রয়েছে। যা বাংলাদেশকে ইইউসহ অন্যান্য দেশ থেকে বাণিজ্য সুবিধা পেতে সহায়তা করবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাাংলাদেশ রপ্তানি বাণিজ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি গ্রাজুয়েশন করে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। এই গ্রাজুয়েশনের পরও তিন বছর অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ডিউটি ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে ইতিমধ্যে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যা বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী বাণিজ্যকে মসৃণ করবে।’

টিপু মুনশি দাবি করেন, অনেক অর্জন হলেও দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে অসত্য তথ্য সরবরাহ ও অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তবে এক্ষেত্রে বেসরকারি ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।’

দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল এবং বাণিজ্যের প্রকৃত চিত্র দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং চেম্বারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। বিষয়ের উপর বক্তব্য রাখেন বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রুবানা হক, গ্রামীণ ফোন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ইয়াসিন আজমান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাছের ইজাজ বিজয়, ইউনিলিভার বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার এবং ইয়ন গ্রুপ অফ ইন্ডাষ্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন ইউডি দৌলা।

আরও পড়ুন:
দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ
পদ হারানো নেতাদের কাছে ‘ভুল চিঠি’, আ. লীগের সভা স্থগিত
আ. লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা শনিবার
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু আওয়ামী লীগের
এক বছর পর বসছে আ. লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ

শেয়ার করুন