প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানসূচক ডিগ্রি দেয়া মৌলিক কাজ: ঢাবি ভিসি

প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানসূচক ডিগ্রি দেয়া মৌলিক কাজ: ঢাবি ভিসি

“তিনি অসাধারণ বিচক্ষণতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ ও জাতির সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য ইতোমধ্যেই ‘জুয়েল ইন দ্য ক্রাউন অফ দ্য ডে’ সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও লাভ করেছেন। এসব অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিস্বরুপ তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম মৌলিক কাজ।’’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডিগ্রি দিয়ে তার ‘মানবতাবাদী, কল্যাণকর এবং উন্নয়নমূলক কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া’ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক কাজ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

সম্মানসূচক ডিগ্রি দেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও আশাবাদী তিনি।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে এ কথা বলেন উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল প্রাঙ্গনে একটি স্বর্ণচাঁপা গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনকে তাৎপর্যপূর্ণ করে রাখতে এবং উনার দীর্ঘায়ু কামনায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয়ভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী রোকেয়া হলের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন, তাই এ কর্মসূচির জন্য আমরা রোকেয়া হল প্রাঙ্গণকেই বেছে নিয়েছি। আরও বৃহৎ আকারে আমরা কর্মসূচি পালন করতাম, কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এর মধ্যে আমরা সীমাবদ্ধ রেখেছি।’

সাবেক ছাত্রী শেখ হাসিনার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিরলস ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কল্যাণকর ও মানবিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

“তিনি অসাধারণ বিচক্ষণতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ ও জাতির সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য ইতোমধ্যেই ‘জুয়েল ইন দ্য ক্রাউন অফ দ্য ডে’ সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও লাভ করেছেন। এসব অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিস্বরুপ তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম মৌলিক কাজ।’’

শেখ হাসিনা মাধ্যমিক বা মেট্রিক পাস করেন ঢাকার আজিমপুর গার্লস স্কুল থেকে। এরপর ভর্তি হন সে সময়ের ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজে (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়)। স্নাতক পাস করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপচার্য (প্রশাসন) ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ উপচার্য (শিক্ষা) ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ড. জিনাত হুদা বক্তব্য রাখেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. রহমত উল্লাহ, রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মিহির লাল সাহা, প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী এবং রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষকরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

ভারত থেকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসছে মাদকদ্রব্য। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভারতের নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর মহাপরিচালক পর্যায়ে সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সভা হয় বুধবার। সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত থেকে আসছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, ইনজেকশন ও হেরোইন।

প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে পাঁচ ধরনের মাদক। কোন মাদক কোন পথে আসছে, তা চিহ্নিত করার পর কারবারিরা পথ পরিবর্তন করছে। একেক ধরনের কারবারি একেক সীমান্ত ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভারতের নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর মহাপরিচালক পর্যায়ে সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সভায় বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

সভায় উপস্থিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তারা জানান, বুধবারের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত থেকে আসছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, ইনজেকশন ও হেরোইন।

কী আলোচনা হয়েছে সভায়

সভায় উভয় পক্ষই সমুদ্রপথকে ব্যবহার করে মাদক চোরাচালান এবং মাদক কারবারিদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন পথ সম্পর্কিত তথ্য বিনিময়, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক নীতিমালা ও বিধি-বিধান নিয়ে তথ্য বিনিময়, ফলপ্রসূ অপারেশনের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময়, মাদকবিষয়ক প্রাসঙ্গিক অপরাপর সম্যক তথ্য বিনিময় এবং যথাসময়ে তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

সভায় মাদক চেরাচালান বন্ধে ভারতের উদ্যোগ বা কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মন্ডল।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের ষষ্ঠ সভায় ভারতের সীমান্তে থাকা ফেনসিডিল কারখানার তালিকা দিয়েছিল বাংলাদেশ। তালিকা অনুযায়ী যেসব কারখানা পাওয়া গেছে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে তারা।

কোন সীমান্ত দিয়ে আসে কোন মাদক

সভায় উপস্থিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন,

দেশে সবচেয়ে বেশি আসছে ফেনসিডিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের তিন দিকের সীমান্ত দিয়েই বাংলাদেশে ফেনসিডিল ঢুকছে।

তিনি জানান, ভারতের সীমান্ত এলাকায় কারখানা স্থাপন করে এ সিরাপ তৈরি করা হচ্ছে। ফেনসিডিল নামটি বেশি পরিচিত হওয়ায় নতুন নতুন নামে এটি তৈরি করে বাংলাদেশে ঢোকানো হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, অন্তত পাঁচটি নামে ফেনসিডিল দেশে আসছে। বোতলজাত অবস্থায় আসার পাশাপাশি বড় ড্রাম ও পলিথিনে করেও সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল আসে।

আগের চেয়ে ফেনসিডিলের ব্যবহার কমলেও সম্প্রতি এটি বেড়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

কোরেক্স, এসকাফ, এমকে ডিল (কোডিন ফসফেট), কোডোকফ নামে ফেনসিডিল জাতীয় এ মাদক আসে ভারত থেকে বাংলাদেশে।

সভায় আলোচনার বরাত দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গাঁজা পাচারের জন্য চোরাকারবারিরা নতুন নতুন পথ তৈরি করছে। বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে গাঁজা বেশি পাচার হয়ে দেশে প্রবেশ করছে।

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

তারা জানান, বাংলাদেশের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে হেরোইন পাচার বেড়েছে। উদ্ধার হওয়া হেরোইন চালান তা-ই নির্দেশ করে।

সভায় বাংলাদেশ জানায়, ইয়াবা পাচারে ভারতের রুটও ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ভারত হয়ে বাংলাদেশে ঢোকানো হয়। ভারতের ত্রিপুরা, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ব্যবহার হচ্ছে এ ক্ষেত্রে।

ভারতকে এ বিষয়ে আরও তৎপর হয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।

ভারত থেকে বিভিন্ন ইনজেকশন প্রবেশ করছে জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে।

দুই দেশের কারবারিরা মাদক কেনাবেচার জন্য ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহার করছে বলে সভায় আলোচনা হয়। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের জন্য হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সভায় বলা হয়, দেশে কোনো মাদক উৎপাদন না হলেও বাংলাদেশ এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। সমস্যা সমাধানে ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলেও সঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে না মিয়ানমারের। ভয়াবহ মাদক ইয়াবা আসছে মিয়ানমার থেকেই। নতুন করে যুক্ত হয়েছে আইস।

এ নিয়ে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে ভারত-বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চায় বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ভারত।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রধানের ভাষ্য

সভার সার্বিক বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে মাদক পাচারের নতুন নতুন রুট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের কিছু তথ্য দিয়েছি। তারাও কিছু তথ্য দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সীমান্ত থাকায় উভয় দেশ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব বহন করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য দুই দেশই ভূমিকা রাখবে।’

মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করে মাদক সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হতে হবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ মিলে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে। ভারতও এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার মাদক বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। নিলে এই হারে মাদক আসত না।’

মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারতের উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন

স্কুলশিক্ষার্থীদের ১ নভেম্বর থেকে টিকার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্কুলশিক্ষার্থীদের ১ নভেম্বর থেকে টিকার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনা প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাতে টিকার যথেষ্ট মজুত আছে। এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের তালিকা আমাদের দিয়েছে। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি, ১ নভেম্বর থেকেই টিকা কর্মসূচি শুরু করা যাবে। আমরা প্রতিদিন ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দিতে পারব বলে আশা করছি।’

স্কুলশিক্ষার্থীদের মাঝে ১ নভেম্বর থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু করার আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে টিকার যথেষ্ট মজুত আছে। এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের তালিকা আমাদের দিয়েছেন। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

‘আশা করি, ১ নভেম্বর থেকেই টিকা কর্মসূচি শুরু করা যাবে। আমরা প্রতিদিন ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দিতে পারব বলে আশা করছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল রাতেই সিনোফার্মের ৫৫ লাখ টিকা আমাদের কাছে এসেছে। এ নিয়ে আমাদের হাতে প্রায় ২ কোটিরও বেশি টিকার ডোজ রয়েছে। আজকে থেকে নিয়ে আগামীকাল পরশুর মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ টিকা আমরা দিয়ে দেব। সেই কর্মসূচি শুরু হয়ে গেছে।

‘ঢাকায় ১২টি কেন্দ্র আমরা স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ঠিক করেছি। সব ঠিক আছে। অন্য টিকা কার্যক্রমও একই সঙ্গে চলমান থাকবে।’

এর আগে বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গবেষণা দিবসে বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দিতে রেজিস্ট্রেশন চলছে। আশা করছি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা কার্যক্রম শুরু হবে।’

পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষার্থীকে গণটিকা দেয়া শুরুর কথা ছিল ৩০ অক্টোবর।

স্কুলশিক্ষার্থীদের মাঝে এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জে ১০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়।

বড় পরিসরে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

অ্যাপ ছাড়া রাইডশেয়ারে আইনি ব্যবস্থা

অ্যাপ ছাড়া রাইডশেয়ারে আইনি ব্যবস্থা

অ্যাপ ছাড়া রাইডশেয়ারিংয়ে ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বলে যাত্রী ও চালকদের সতর্ক করে দিয়েছে বিআরটিএ। ফাইল ছবি

নীতিমালা লঙ্ঘন করে চুক্তিভিত্তিক মোটরযান পরিচালনাসহ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোটরযান মালিক, চালক এবং যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে বিআরটিএ।

রাইডশেয়ারিংয়ে অ্যাপ ব্যবহার না করে চুক্তিভিত্তিক সেবা নিলে যাত্রী ও চালকসহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোটরযান মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

এতে বলা হয়, অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিং সেবায় ‘রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা, ২০১৭’ করেছে সরকার।

নীতিমালা অনুযায়ী, বিআরটিএ থেকে রাইডশেয়ারিং এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নিয়ে রাইডশেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে সেবা প্রদান ও গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট ভাড়া আদায়ের শর্ত রয়েছে।

সম্প্রতি কিছুসংখ্যক মোটরযান চালক নীতিমালা অমান্য করে চুক্তিভিত্তিক রাইডশেয়ারিং সেবা দিচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানতে পেরেছে বিআরটিএ। এটি রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা, ২০১৭-এর পরিপন্থি।

অ্যাপ ছাড়া চুক্তিতে রাইডশেয়ারিং সেবা না নিতে যাত্রীদের অনুরোধ করেছে বিআরটিএ।

নীতিমালা লঙ্ঘন করে চুক্তিভিত্তিক মোটরযান পরিচালনাসহ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোটরযানের মালিক, চালক এবং যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে বিআরটিএ।

অভিযোগ জানাতে একজন সহকারী পরিচালককেও দায়িত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা বলেছে, এ সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ সংস্থাটির রাইড শেয়ারিং শাখার সহকারী পরিচালককে (ইঞ্জিনিয়ারিং) জানাতে। একই সঙ্গে ০১৭১৪৫৫৬৫৭০ এবং ৫৫০৪০৭৪৫ নম্বরে ফোন করা যাবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

পাশাপাশি [email protected] ঠিকানায় ই-মেইলেও অভিযোগ জানানো যাবে।

শেয়ার করুন

ট্রেনে ট্রাকের ধাক্কা, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর সচল রেললাইন

ট্রেনে ট্রাকের ধাক্কা, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর সচল রেললাইন

পাবনা-রাজশাহী রেলরুটে সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরই বিকল্প ইঞ্জিন লাগিয়ে ট্রেনটি চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।’

পাবনায় ট্রেনে চলন্ত ট্রাকের ধাক্কায় পাবনা-রাজশাহী রেলরুটে সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

জেলার মহেন্দ্রপুর রেলক্রসিং মোড়ে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঘটনাস্থল থেকে ছেড়ে যায়।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আনোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢালারচরের উদ্দেশে ছেড়ে যায় আন্তনগর ঢালারচর এক্সপ্রেস। ট্রেনটি পাবনা স্টেশন পার হয়ে মহেন্দ্রপুর রেলক্রসিং মোড়ে পৌঁছালে একটি ট্রাক ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয়।

খবর পেয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রেন ও ট্রাকের সংঘর্ষ হওয়ায় রাস্তার দুই পাশে যানজট তৈরি হলেও ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার পর এখন আর যানজট নেই। দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ট্রাকটি ঘটনাস্থলে রয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরই বিকল্প ইঞ্জিন লাগিয়ে ট্রেনটি চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।’

শেয়ার করুন

মাকে পিটিয়ে হত্যা করায় মৃত্যুদণ্ড

মাকে পিটিয়ে হত্যা করায় মৃত্যুদণ্ড

মাকে হত্যা করায় আসামি জিয়াউল হককে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৮ সালের ১৩ জুন জিয়াউল হক তার ছোট ভাই জুবায়ের খন্দকারের কাছে কিছু টাকা চায়। টাকা না দেয়ায় জুবায়েরকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মারতে তেড়ে আসেন জিয়াউল। এ সময় তাদের মা জহুরা বেগম ছোট ছেলেকে বাঁচাতে গেলে জিয়াউল তার মাথায় ব্যাট দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন।

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে জিয়াউল হককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফারুক আহমেদ প্রিন্স বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জিয়াউল হক সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের ছেলে।

২০১৮ সালের ১৩ জুন জিয়াউল হক তার ছোট ভাই জুবায়ের খন্দকারের কাছে কিছু টাকা চায়। টাকা না দেয়ায় জুবায়েরকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মারতে তেড়ে আসেন জিয়াউল।

এ সময় তাদের মা জহুরা বেগম ছোট ছেলেকে বাঁচাতে গেলে জিয়াউল তার মাথায় ব্যাট দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। আশপাশের লোকজন আহত জহুরাকে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পরদিন জহুরার স্বামী নুরুল ইসলাম জিয়াউল হককে একমাত্র আসামি করে থানায় মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

শেয়ার করুন

ই-কমার্স: এসক্রো পদ্ধতিতে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা নেই!

ই-কমার্স: এসক্রো পদ্ধতিতে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা নেই!

ই-কমার্স ব্যবসায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতে লেনদেনে চালু করা হয়েছে এসক্রো পদ্ধতি। প্রতীকী ছবি

জুলাই মাসের পর লেনদেন করা ২১৪ কোটি টাকা গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে আটকা আছে, কিন্তু সেই টাকা ফেরত দেবার বিষয়ে কোনো উপায় বের করা হয়নি। ফলে অর্থ দাবি করে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে গ্রাহক, উপায় বের করতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক, মন্ত্রণালয়।

ই-কমার্স ব্যবসায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জুলাই মাস থেকে চালু হয়েছে এসক্রো পদ্ধতি। অর্থাৎ পণ্য নিতে হলে গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানে টাকা যাবে। গ্রাহক নিশ্চিত করলেই ছাড় হবে অর্থ, কিন্তু গ্রাহক যদি পণ্য না পেয়ে অর্থ ফেরত চায়, তার কোনো উপায় নেই।

ইভ্যালি, কিউকম, ই-অরেঞ্জসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অর্থ দিয়ে এখন বেকায়দায় পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক। জুলাই মাসের পর লেনদেন করা ২১৪ কোটি টাকা গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে আটকা আছে। কিন্তু সেই টাকা ফেরত দেবার বিষয়ে কোনো উপায় বের করা হয়নি। ফলে অর্থ দাবি করে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন গ্রাহক, উপায় বের করতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক, মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শত শত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে, তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা পরিপালন করতে বাধ্য। কিন্তু অন্য অনুমোদনহীন যেসব পেমেন্ট গেটওয়ে রয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।’

গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নেই

ই-কমার্সে পেমেন্টের ক্ষেত্রে ক্রেতার অর্থের সুরক্ষা দিতে চালু হয়েছে গেটওয়ে পদ্ধতি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, গেটওয়েতে আটকে গেছে শত শত কোটি টাকা। অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনাসহ অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে দু-একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ই-পেমেন্ট গেটওয়ে বা ই-ওয়ালেট সেবা দিতে এখন পর্যন্ত ৯টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর বা ই-পেমেন্ট গেটওয়ে সেবার জন্য লাইসেন্স পেয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। আর চারটি প্রতিষ্ঠানকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার বা ই-ওয়ালেট সেবার জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।

পাঁচ পেমেন্ট সিস্টেমস অপারেটর (পিএসও) হলো: আইটি কনসালট্যান্টস, এসএসএল কমার্জ, সূর্যমুখী লিমিটেড, প্রগতি সিস্টেম ও পর্টোনিক্স লিমিটেড।

অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নথিপত্র জমা দিয়েছে আমার পে, ইজি পে ওয়ে, পে স্পেস, ওয়ালেট মিক্স ও ফস্টার পেমেন্ট গেটওয়ে।

এর বাইরে আরও সেবা দিচ্ছে বিডি স্মার্ট পে, বিটিটি পে, পোর্ট ওয়ালেট, টু চেক আউটসহ আরও কয়েকটি পিএসও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৬ সালে পেমেন্ট গেটওয়েসংক্রান্ত নীতিমালা হলেও দেশে পেমেন্ট গেটওয়ে অপারেট করছে ২০১১ সাল থেকে। কোনো কোনো পেমেন্ট গেটওয়ে তারও পুরোনো।

তবে নীতিমালার পর ওইসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা চালু রাখবে না বন্ধ করে দেবে, সে বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন ওইসব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার নির্দেশনা দিলে প্রতিষ্ঠানগুলো পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করে। লাইসেন্সিংয়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করছে এসব প্রতিষ্ঠান।

ফস্টার পেমেন্টের হেড অফ পিআর মুনতাসির আহমেদ বলেন, ‘২০১৬ সালে লাইসেন্স অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। এটা চলমান প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এনওসি (নো অবজেকশন লেটার) মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

অর্থ ফেরত দেবার উপায় নেই

ই-কমার্স ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষায় ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ জারির পর জুলাই থেকে ভোক্তারা বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ৪৯০ কোটি টাকার পণ্য অর্ডার করেছেন। এর মধ্যে ভোক্তারা পণ্য বুঝে পেয়েছেন ২৮০ কোটি টাকার।

অবশিষ্ট ২১০ কোটি টাকা বিভিন্ন পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গেটওয়েতে আটকে আছে।

গ্রাহকের একটি অর্থও তছরুপ হয়নি বলে দাবি করেছে ফস্টার পেমেন্ট। প্রতিষ্ঠানের হেড অফ পিআর মুনতাসির আহমেদ বলেন, ‘ফস্টার পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেনের একটি টাকাও দেশের বাইরে যায়নি। সব টাকা বিভিন্ন ব্যাংকের চলতি হিসাবে রক্ষিত আছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যাংক ও মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে টাকা দেয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের চুক্তি করা আছে। চুক্তি অনুযায়ী টাকা গ্রাহক পেয়ে যাবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে দেরি হচ্ছে।’

পিএসপি এবং এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা জানান, ১ জুলাই থেকে শুরু করে তারা ভোক্তাদের করা পেমেন্টগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রাস্ট-কাম-সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে (টিসিএসএ) রাখছে এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্যের ডেলিভারি নিশ্চিত করার তথ্যের অপেক্ষায় আছে।

ডেলিভারি নিশ্চিত না হওয়ায় ১ জুলাই থেকে ভোক্তাদের অগ্রিম পেমেন্ট টিসিএসএতে রাখা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারির সময়সীমা পার হলেও পিএসপি বা এমএফএস সেবাদাতারা ভোক্তাদের কোনো ধরনের রিফান্ড দিতে পারে না।

এ ক্ষেত্রে টাকা ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পিএসপি বা অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ে অপারেটরদের কাছে যেতে হবে। এ ধরনের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত পেমেন্ট সেবাদাতারা এই টাকা টিসিএসএতে আটকে রাখতে বাধ্য।

তবে ডেলিভারির ১০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে গ্রাহক যদি পণ্য না পায়, সে ক্ষেত্রে টাকা ফিরিয়ে দেয়ার কোনো নির্দেশনা তাদের দেয়া হয়নি।

পেমেন্ট গেটওয়ে অপারেটর বিকাশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পণ্য ডেলিভারি না হওয়া পর্যন্ত টাকা আমাদের গেটওয়েতে থাকবে। ভোক্তার সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো সংযোগ নেই। অন্য কোনো সিদ্ধান্ত হলে সেটা আমরা বাস্তবায়ন করব।’

এমএফএস অপারেটর নগদও জানিয়েছে, তারা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের নির্দেশ ছাড়া টাকা রিফান্ড করতে পারে না।

ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ-এর হেড অফ পাবলিক কমিউনিকেশন মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম সজল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো নির্দেশনা ছাড়া গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দিতে পারি না। ভোক্তার সঙ্গে আমাদের কোনো সরাসরি সংযোগ নেই। ভোক্তার টাকা ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল। পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা অর্থ ফিরে পেতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে একটি উপায় বের করার চেষ্টা করছে। তাদের নির্দেশমতো আমরা কাজ পরিচালনা করব।’

একাধিক ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুলাইয়ের পরে কেউ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পণ্য কিনলে যে ব্যাংকের কার্ড, সেখানে পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ জানাতে পারেন। তবে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এখনও সরকার এ ধরনের প্রক্রিয়া চালু করেনি।

অর্থ ফেরত দিতে আদালতে রিট

পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফেরত দিতে ২১ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট দায়ের করা করেন ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটির (সিসিএস) পক্ষে ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন।

রিটে ই-কমার্সে পণ্য অর্ডার করে পাননি এমন গ্রাহকদের অর্থ কেন ফেরত দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে প্রতিকার চাওয়া হয়।

একই সঙ্গে ই-কমার্স পেমেন্টের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত নিয়ম (এসক্রো সিস্টেম) সংশোধন করে গ্রাহকের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পাওয়ার স্থায়ী পদ্ধতি কেন চালু করা হবে না, তা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

আগামী সপ্তাহের শুরুতে পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই বাংলাদেশ ব্যাংকে থেকে অনুমোদ নেয়নি। তাদের কর্মকাণ্ড কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে? তিনি বলেন, এ জন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে। লেনদেন করার আগে ভালোভাবে জেনে শুনে নিতে হবে। ছাড় দিলেই লুফে নিলে হবে না।

শেয়ার করুন

‘অপশক্তিকে আর ছোবল মারার সুযোগ দেয়া হবে না’

‘অপশক্তিকে আর ছোবল মারার সুযোগ দেয়া হবে না’

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান কুমিল্লা নানুয়ার দিঘির পাড় এলাকা পরিদর্শন করেন। ছবি: নিউজবাংলা

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শান্তিশৃঙ্খলার সঙ্গে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই সুযোগ পেয়ে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আবার দেশকে ছোবল মেরেছে। এটাই শেষ। তাদের আর ছাড় দেয়া হবে না।’

দেশকে ছোবল মারা স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড় এলাকা পরিদর্শন শেষে বৃহস্পতিবার সকালে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

এই এলাকার অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর কুমিল্লা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শান্তিশৃঙ্খলার সঙ্গে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই সুযোগ পেয়ে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আবার দেশকে ছোবল মেরেছে। এটাই শেষ। তাদের আর ছাড় দেয়া হবে না।’

এই এলাকা পরিদর্শনের পর প্রতিমন্ত্রী নগরীর চকবাজার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা ও সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বাহাউদ্দীন বাহার, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদসহ জেলা এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন