মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী

মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে। অর্থাৎ বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে খানিকটা বেশি ছিল গড় মূল্যস্ফীতি।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) এই মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

এর অর্থ হলো, ২০২০ সালের অগাস্ট মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২১ সালের আগস্টে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৫৪ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

আগের মাস জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ পয়েন্ট।

আগস্টে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মঙ্গলবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আগের মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করা হলেও এবার মাসের একেবারে শেষে এসে প্রকাশ করা হলো এ তথ্য।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে। অর্থাৎ বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে খানিকটা বেশি ছিল গড় মূল্যস্ফীতি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, আগস্ট মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।

আগের মাস জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।

আগস্ট মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আগস্টে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ২২ শতাংশ। জুলাইয়ে হয়েছিল ৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, আগস্ট মাসে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এই মাসে শহর এলাকায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির হ্রাস-বৃদ্ধি পর্যালোচনায় বিবিএস বলেছে, জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে চাল, সবজিসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে। অন্যদিকে চিনি, ব্রয়লার মুরগি, ডিম, মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে।

আটা, ময়দা, লবণ, নুডলস এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্য পোশাক ও ওষুধের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস।

আরও পড়ুন:
অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী
চালের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে
লকডাউনে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ
করোনায় মুদ্রাপ্রবাহ কমলেও মূল্যস্ফীতি বেশি কেন
মূল্যস্ফীতি শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেশ উন্নয়নশীল হলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে না, বাড়বে

দেশ উন্নয়নশীল হলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে না, বাড়বে

রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মনীতির আওতায় যেসব বিকল্প সহায়তা পাওয়া যাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সেগুলো আমরা নেব, নিতে পারব। কাজেই আমার মনে হয় এখানে কোনো অসুবিধা হবে না।…সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার থেকেও সুবিধা অর্জন করতে পারব আরও অনেক অনেক বেশি।’

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে বাংলাদেশ বাণিজ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না, বরং আরও অনেক বেশি সুবিধা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’-এর উদ্বোধনের সময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান।

অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মনীতির আওতায় যেসব বিকল্প সহায়তা পাওয়া যাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সেগুলো আমরা নেব, নিতে পারব। কাজেই আমার মনে হয় এখানে কোনো অসুবিধা হবে না।

‘অনেকের হয়তো একটু সন্দেহ থাকতে পারে, উন্নয়নশীল দেশ হলে বোধ হয় অনেক সুবিধা বঞ্চিত হব। সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার থেকেও সুবিধা অর্জন করতে পারব আরও অনেক অনেক বেশি।’

সুবিধা অর্জন করার সুযোগটা ‘বড় বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে আমরা আরও সুযোগ পাব রপ্তানি সম্প্রসারণ করতে, দেশের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে।’

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাইরে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও সরকার তৈরি করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অনেক দেশে আমরাও বিনিয়োগ করতে পারি। আমাদের ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করতে পারেন। বেসরকারি খাতও বিনিয়োগ করতে পারবে। আমি ভবিষ্যতে সেই সুযোগটাও সৃষ্টি করব। তার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

নিজের উন্নয়ন দর্শন তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ধারাবাহিকভাবে এই ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারে আছি বলেই প্রকৃতপক্ষে উন্নয়নটা আমরা পরিকল্পিতভাবে করতে পেরেছি। যার জন্য আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মর্যাদাটা পেয়েছে। এটাই আমাদের বড় একটা অর্জন।

‘সেজন্য আমি বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই, কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা আমাদের প্রতি নির্বাচনে সহযোগিতা করেছেন, সমর্থন দিয়েছেন, ভোট দিয়েছেন তাদেরও আমি ধন্যবাদ জানাই।’

মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে ‘কিপ্টামি’ নয়

দেশের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা ও বাজার বাড়াতে মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সেখানে কিন্তু কিপ্টামি চলবে না।’

এ সময় রপ্তানি বাজারে টিকে থাকতে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা তৈরির ওপরও তাগিদ দেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘যখনই আপনারা কোনো পণ্য উৎপাদন করবেন সময়ের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে বা কোন দেশের জন্য করছেন, সেখানকার চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে উন্নতমানের (পণ্য) উৎপাদন করতে হবে। সেখানে কিন্তু কিপ্টামি করলে চলবে না। কাজেই সেটা যদি করতে পারেন, বাজারে টিকে থাকতে পারবেন।’

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার তৈরিতে উদ্যোক্তাদের নজর দেয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যত শিল্প খাত আছে, তাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সেই প্রস্তুতিতে আমি এতটুকু বলতে পারি, আপনাদের সরকারের পক্ষ থেকে যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেই সহযোগিতাটা আপনারা পাবেন। সেটা আপনাদের আমরা দেব, কিন্তু আপনাদের সেই উদ্যোগ থাকতে হবে।

‘ব্যাবসায়িক সম্প্রদায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো তাদের সবাইকে আমি এই অনুরোধটা করব, আপনারা এই চেষ্টাটা করবেন; আমাদের পণ্যের আরও বহুমুখীকরণ করা, রপ্তানি বাস্কেটটা আরও বৃদ্ধি করা এবং কোন ধরনের পণ্য কোন দেশে আমরা রপ্তানি করতে পারি, সে বিষয়টার ওপর আরও গুরুত্ব দেয়া এবং সেভাবে পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা নেয়া।’

আরও পড়ুন:
অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী
চালের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে
লকডাউনে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ
করোনায় মুদ্রাপ্রবাহ কমলেও মূল্যস্ফীতি বেশি কেন
মূল্যস্ফীতি শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি

শেয়ার করুন

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে আর অর্থায়ন নয়: এডিবি

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে আর অর্থায়ন নয়: এডিবি

ছবি: সংগৃহীত

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুতের ভূমিকা মুখ্য। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদননীতি জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। এডিবির নতুন জ্বালানিনীতি আমাদের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোকে (ডিএমসি) নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী মূল্যে ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি পেতে সহায়তা করবে।’

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে নতুন করে অর্থায়ন করবে না এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি।

ফিলিপাইনের ম্যানিলায় সংস্থটির সদর দপ্তরে বুধবার এক বোর্ড সভায় নতুন জ্বালানিনীতি অনুমোদন পায়।

এতে বলা হয়েছে, আর কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন করবে না এডিবি। গুরুত্ব দেয়া হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কার্বন নিঃসরণ কমানোকে। পাশাপাশি বিশ্বের সবার জন্য কম খরচে জ্বালানি নিশ্চিতে কাজ করবে এডিবি।

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে গভীর সংকটের মুখে বিশ্ব। এ কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

‘অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুতের ভূমিকা মুখ্য। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদননীতি জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। এডিবির নতুন জ্বালানিনীতি আমাদের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোকে (ডিএমসি) নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী মূল্যে ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি দিতে সহায়তা করবে।’

এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এডিবি অর্থায়ন করেনি। নতুন নীতিমালার কারণে ভবিষ্যতে অর্থায়ন করার তো প্রশ্নই ওঠে না।’

২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর (ডিএমসি) জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এডিবি। গত ১৩ অক্টোবর এই ঘোষণাটি আসে। তার এক সপ্তাহের মাথায় নতুন জ্বালানিনীতি অনুমোদন পেল।

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ‘এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে জলবায়ুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে হয় জয় নয়তো পরাজয় ঘটবে। জলবায়ু পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় জলবায়ু ইস্যুতে অনেকেই অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে জলবায়ু ইস্যুতে অর্থায়ন ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী
চালের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে
লকডাউনে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ
করোনায় মুদ্রাপ্রবাহ কমলেও মূল্যস্ফীতি বেশি কেন
মূল্যস্ফীতি শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি

শেয়ার করুন

সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া

সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া

ছবি: সংগৃহীত

জুলাইয়ে সেবা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সরকারি পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে। এ উপখাত থেকে এসেছে ১৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। ‘অন্যান্য ব্যবসায় সেবা’থেকে এসেছে ৮ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে আয় হয়েছে ৯ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

পণ্য রপ্তানির মতো সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া লেগেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সেবা রপ্তানি থেকে ৬৩ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময়হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৬৫ পয়সা) টাকার অংকে এই অর্থের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৪১১ কোটি টাকা।

এই রপ্তানি গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ১০ শতাংশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক মাসে সেবা খাত থেকে এত বিদেশি মুদ্রা দেশে আসেনি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পণ্য রপ্তানির তথ্য চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ করলেও সেবা খাতের এক মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে মঙ্গলবার।

ইপিবি অবশ্য বরাবরই সেবা খাতের রপ্তানির তথ্য পরে প্রকাশ করে থাকে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে মোট চার হাজার ৫৩৬ কোটি ৭২ লাখ (৪৫.৩৭ বিলিয়ন) আয় করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয় ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ।

সেবা খাত থেকে আসে ৬৬০ কোটি ৮৯ লাখ (৬.৬ বিলিয়ন) ডলার; বেড়েছিল ২৫ শতাংশের মতো।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সেবা খাত থেকে ৭৫০ কোটি (৭.৫ বিলিয়ন) ডলার বিদেশি মুদ্রা আয়ের লক্ষ্য ধরেছে সরকার।

এরমধ্যে প্রথম মাস জুলাইয়ে আয়ের লক্ষ্য ছিল ৫৭ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। আয় হয়েছে ৬৩ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত বছরের জুলাইয়ে আয় হয়েছিল ৪৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

এ হিসাবেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪০ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পণ্য রপ্তানির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেবা খাতের রপ্তানিতে। পণ্য রপ্তানি বাড়লে সেবা খাতের রপ্তানি বাড়বে-এটাই স্বাভাবিক। কেননা, এক খাত অন্য খাতের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্কিত এবং নির্ভরশীল।’

আগামী দিনগুলোতেও পণ্য রপ্তানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেবা খাতের রপ্তানি বাড়বে বলে আশার কথা শোনান ফারুক হাসান।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই মাসে সেবা খাতের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৬২ কোটি ২৭ লাখ ডলারই এসেছে সরাসরি সেবা খাত থেকে। অর্থাৎ মোট রপ্তানির ৯৮ দশমিক ৫৬ শতাংশই এসেছে সরাসরি সেবা খাত থেকে।

বাকিটা দেশের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কেনা পণ্য ও সেবা এবং মার্চেন্টিংয়ের অধীনে পণ্য বিক্রির আয়।

কোনো অনাবাসীর কাছ থেকে পণ্য কিনে একই পণ্য কোনো অনাবাসীর কাছে বিক্রি করাকে মার্চেন্টিং বলে। এই প্রক্রিয়ায় মোট বিক্রি থেকে মোট ক্রয় বাদ দিয়ে নিট মার্চেন্টিং রপ্তানি আয় হিসাব করা হয়।

দেশের স্থল, সমুদ্র বা বিমান বন্দরে বিদেশি পরিবহনগুলো সেসব পণ্য ও সেবা- যেমন জ্বালানি তেল ও মেরামত সেবা- কিনে থাকে সেগুলোকে সেবা খাতের আওতায় ধরা হয়েছে।

জুলাই মাসে সেবা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সরকারি পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে। এ উপখাত থেকে এসেছে ১৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার।

অন্য উপখাতগুলোর মধ্যে ‘অন্যান্য ব্যবসায় সেবা’থেকে এসেছে ৮ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে আয় হয়েছে ৯ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

বিভিন্ন ধরনের পরিবহন সেবা (সমুদ্র, বিমান, রেল এবং সড়ক) থেকে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় হয়েছে।

আর্থিক সেবা খাত থেকে ৭৮ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং ভ্রমণ সেবা উপখাত থেকে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদেশে বিভিন্ন সেবা বিক্রি করে ৬১৩ কোটি ১৯ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাত থেকে ৬৩৫ কোটি ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এসেছিল ৪৩৪ কোটি ডলার।

সেবা রপ্তানি আয় দেশে আনা আরও সহজ হয়েছে

সেবা রপ্তানি ও ফ্রিল্যান্সারদের আয় দেশে আনা আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সেবা রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের সঙ্গে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। আবার অন্য দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট গেটওয়েতে অনানুষ্ঠানিক হিসাব (নোশনাল অ্যাকাউন্ট) খোলার সুযোগ পাবেন।

গত সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্ম কিংবা বিদেশি পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পাওয়া আয় প্রথমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের ‘নস্ট্রো’হিসাবে জমা হবে। এরপর ব্যাংক সেবা প্রদানকারী গ্রাহকের হিসাবে তা জমা করবে। গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি স্থানীয় ডিজিটাল ওয়ালেটেও অর্থ জমা করা যাবে।

গ্রাহক চাইলে প্রযোজ্য অংশ ইআরকিউ হিসাবে জমা করতে পারবেন। সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কর পরিশোধের বিধান মেনে চলতে হবে। আর সেবা রপ্তানির চার মাসের মধ্যে আয় দেশে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্ম বা পেমেন্ট গেটওয়েতে খোলা হিসাবের অর্থ আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কিছু শর্ত পরিপালন করতে হবে। বিশেষ করে সেবা প্রদানকারীর আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের সঙ্গে পরিচালিত মার্চেন্ট হিসাব পরিচালনা এবং বিদেশস্থ লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে তার নোশনাল হিসাব সম্পর্কে তথ্য নিতে হবে।

সেবা কার্যক্রম বিষয়ে তথ্য সংগ্রহসহ ঘোষণাপত্র নিতে হবে। সেবার বিপরীতে পাওয়া আয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন কিংবা অনানুষ্ঠানিক হিসাবে জমার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তা দেশে আনার বিষয়ে গ্রাহক থেকে অঙ্গীকার নামা নিতে হবে।

ক্ষুদ্র পরিসরে সেবা খাতের আয় প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালে এডি ব্যাংকগুলোকে বিদেশস্থ ওপিজিএসপির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ দেয়। এখন তা আরও সহজ করা হলো।

আরও পড়ুন:
অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী
চালের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে
লকডাউনে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ
করোনায় মুদ্রাপ্রবাহ কমলেও মূল্যস্ফীতি বেশি কেন
মূল্যস্ফীতি শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি

শেয়ার করুন

জাহাজ ভাঙায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

জাহাজ ভাঙায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

শিপ ব্রেকিং প্ল্যাটফর্মের সবশেষ প্রান্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয়েছে ১২০টি। এর মধ্যে ৪১টি বা ৩৪ শতাংশ ভাঙা হয়েছে বাংলাদেশে। আর ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয়েছিল ১৭০টি। যার মধ্যে বাংলাদেশে ভাঙা হয়েছিল ২৪টি।

জাহাজ ভাঙায় বিশ্বের সব দেশকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জাহাজ ভাঙায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম দুই প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-মার্চ ও এপ্রিল-জুন) শীর্ষে ছিল ঢাকা।

জাহাজ ভাঙা নিয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করা বেলজিয়ামভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা- শিপ ব্রেকিং প্ল্যাটফর্মের সবশেষ প্রান্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য মিলেছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয়েছে ১২০টি। যার মধ্যে ৪১টি বা ৩৪ শতাংশ ভাঙা হয়েছে বাংলাদেশে। আর ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে জাহাজ ভাঙা হয়েছিল ১৭০টি। যার মধ্যে বাংলাদেশে ভাঙা হয়েছিল ২৪টি। অর্থাৎ ওই সময় মাত্র ১৪ শতাংশ ভাঙা হয়েছিল বাংলাদেশে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয় ৫৮২টি। এর মধ্যে বাংলাদেশে ভাঙা হয় ১৯৭টি বা প্রায় ৩৪ শতাংশ।

আর ২০২০ সালের প্রথম ৯ মাসে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয় ৩৩৪টি। তার মধ্যে বাংলাদেশের ইয়ার্ডগুলোয় ভাঙা হয়েছিল ৯৮টি বা ২৯ শতাংশ। সেই হিসাবে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙা বেড়েছে ৯৯টি।

শিপ ব্রেকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য মতে, গত বছর প্রথম ৯ মাসে জাহাজ ভাঙায় শীর্ষে ছিল ভারত। তবে চলতি বছর দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে গেছে দেশটি। ওই সময় দেশটিতে জাহাজ ভাঙা হয়েছে ১৫৫টি। এ ছাড়া চলতি বছর প্রথম ৯ মাসে পাকিস্তানে জাহাজ ভাঙা হয়েছে ৮৭টি, তুরস্কে ৬৭টি, চীনে পাঁচটি ও ইউরোপসহ বিশ্বের বাকি দেশে ৭১টি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয় ৬৩০টি। এর মধ্যে ভারতে ভাঙা হয়েছে ২০৩টি, বাংলাদেশে ১৪৪টি, পাকিস্তানে ৯৯টি, তুরস্কে ৯৪টি, চীনে ২০টি ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬০টি।

আর ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয় ৬৭৬টি। এর মধ্যে বাংলাদেশেই ভাঙা হয়েছিল ২৩৬টি। এ ছাড়া ভারতে ২০০টি, তুরস্কে ১০৭টি, পাকিস্তানে ৩৫টি, চীনে ২৯টি ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬৯টি জাহাজ ভাঙা হয়।

গত বছর জাহাজ ভাঙায় পরিমাণের দিক থেকে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। ওই সময় বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙার পরিমাণ ছিল প্রায় এক কোটি ৫৮ লাখ ৬৬ হাজার ৭০৪ টন। এর মধ্যে বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙার পরিমাণ ছিল ৬৯ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭৪ টন। এতে পরিমাণের দিক থেকে টানা ছয় বছর শীর্ষস্থান ধরে রাখে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে রডের চাহিদা বেড়ে গেছে। তাই জাহাজ ভাঙা বাড়ছে।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু তাহের বলেন, ‘পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ীসহ বড় বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামোর নির্মাণ চলছে। পাশাপাশি আবাসন খাতেও মন্দা কাটতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে দেশে রডের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্পেও লোহার ব্যবহার বাড়ছে। এ চাহিদা পূরণে অন্যতম ভূমিকা রাখে জাহাজ ভাঙা শিল্প।’

তিনি বলেন, ‘জাহাজ ভাঙায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানে উঠে আসার কারণ হলো ইস্পাতের কাঁচামাল জোগানে নির্ভরতা। ভারতে ইস্পাত তৈরির মূল কাঁচামাল আকরিক আছে। সেখানে পুরোনো জাহাজ ভাঙার জন্য কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীলতা কম।’

মূলত একটি জাহাজ কয়েক দশক চালানোর পর যখন এটিকে চলাচলের অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়, তখন এ জাহাজটি ভেঙে টুকরা টুকরা করে সব সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি আলাদা করে ফেলা হয়। তারপর এসব মূল্যবান সামগ্রী পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করা হয়।

ওয়াইপিএসএ-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৭০০ সমুদ্রগামী জাহাজ পরিত্যক্ত হয়। এসব জাহাজের অন্যতম বড় ক্রেতা বাংলাদেশ।

শিপ ব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম বলছে, জাহাজ ভাঙা শিল্পে আশির দশকে নেতৃত্বে ছিল তাইওয়ান। নব্বইয়ের দশকে তাইওয়ানের সঙ্গে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া এই খাতে নেতৃত্ব দেয়। এর পরের দুই দশকে ভারত ও চীন ছিল জাহাজ ভাঙায় শীর্ষে। গত এক দশক ধরে এই দুই দেশের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে বাংলাদেশও।

আরও পড়ুন:
অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী
চালের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে
লকডাউনে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ
করোনায় মুদ্রাপ্রবাহ কমলেও মূল্যস্ফীতি বেশি কেন
মূল্যস্ফীতি শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি

শেয়ার করুন

প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হবেন ইলন মাস্ক

প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হবেন ইলন মাস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধনী হওয়ার পরও নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ইলন মাস্ক। ছবি: এএফপি

মরগ্যান স্ট্যানলির গবেষক ও বিশ্লেষক অ্যাডাম জোনাস মঙ্গলবার এক নোটে লিখেন, ‘মহাকাশযান নির্মাণ, উৎক্ষেপণ ও সহায়ক অবকাঠামোর প্রশ্নে সম্ভাবনা আর সম্ভাব্য সময় নিয়ে বর্তমান মানবজাতির যত পূর্বধারণা রয়েছে, তার সবগুলোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে স্পেসএক্স। যে দ্রুততায় স্পেসএক্স এসব অসম্ভবকে সম্ভব করছে, সে গতি ছোঁয়ার সাধ্য কার আছে?’

চলতি বছরের শুরুতেই বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেন ইলন মাস্ক।

সম্পত্তির পরিমাণ অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বাড়তে থাকায় পৃথিবীর প্রথম ট্রিলিয়নিয়ারও হতে পারেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মরগ্যান স্ট্যানলি দিয়েছে এমন আভাস।

মরগ্যান স্ট্যানলির বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মহাকাশযান নির্মাতা ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের কল্যাণে নজিরবিহীন সাফল্য পেতে পারেন মাস্ক।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বিদ্যুৎচালিত গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার অপ্রত্যাশিত ঊর্ধ্বগতি মাস্ককে বিশ্বের শীর্ষ ধনী করেছে।

মরগ্যান স্ট্যানলির হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সের কল্যাণে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মাস্কের মালিকানাধীন সম্পত্তির আর্থিক মূল্যমান ১৩ ডিজিটে পৌঁছাবে।

প্রথমবারের মতো মহাকাশকেন্দ্রিক পর্যটন ও বেসরকারিভাবে মহাকাশ ভ্রমণের সেবা দিয়ে রেকর্ড গড়েছে স্পেসএক্স।

মরগ্যান স্ট্যানলির গবেষক ও বিশ্লেষক অ্যাডাম জোনাস মঙ্গলবার এক নোটে লিখেন, ‘মহাকাশযান নির্মাণ, উৎক্ষেপণ ও সহায়ক অবকাঠামোর প্রশ্নে সম্ভাবনা আর সম্ভাব্য সময় নিয়ে বর্তমান মানবজাতির যত পূর্বধারণা রয়েছে, তার সবগুলোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে স্পেসএক্স।

‘যে দ্রুততায় স্পেসএক্স এসব অসম্ভবকে সম্ভব করছে, সে গতি ছোঁয়ার সাধ্য কার আছে?’

ব্লুমবার্গের বিলিয়নিয়ার সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে মাস্কের সম্পত্তির মূল্য ২৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এই অর্থের প্রায় ১৭ শতাংশ আসে স্পেসএক্স থেকে।

জোনাস লিখেন, এক স্পেসএক্স আসলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সমাহার। এটি মহাকাশে অবকাঠামো নির্মাণ, পৃথিবী প্রদক্ষিণ, মহাবিশ্বের অচেনা অঞ্চলে ভ্রমণসহ অসংখ্য সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এর কল্যাণে তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন খাত।

জোনাসের মতে, স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবসা স্টারলিংক বর্তমানে স্পেসএক্সের সবচেয়ে বড় প্রকল্প।

টেসলা পুঁজিবাজারে আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে যাওয়ায় চলতি বছর মাস্কের ঝুলিতে যোগ হয় ছয় হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তি। আর সম্প্রতি স্পেসএক্সের কিছু শেয়ার বিক্রি করেন তিনি, যার মূল্য ১০ হাজার কোটি ডলার।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তির মাধ্যমে আরও এক হাজার ১০০ কোটি ডলার যুক্ত হয়েছে স্পেসএক্সের ঝুলিতে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েও অগ্রযাত্রায় থেমে যাননি ইলন মাস্ক। চলতি সপ্তাহেই নতুন একটি রেকর্ড গড়েন তিনি।

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য দুই ব্যক্তি বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের সম্পত্তির সমপরিমাণ ঝুলিতে পুরেন মাস্ক একাই।

শীর্ষ ধনীর তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে থাকা মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গেটসের সম্পত্তির মূল্য ১৩ হাজার কোটি ডলার। দশম অবস্থানে থাকা বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের প্রধান নির্বাহী বাফেটের আছে ১০ হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি। দুটির যোগফলকেও ছাড়িয়ে গেছে মাস্কের সম্পত্তি।

২০১৭ সাল থেকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থানটি ধরে রেখেছিলেন সর্ববৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোস। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেজোসকে ছাড়িয়ে শীর্ষ ধনী হন মাস্ক।

বর্তমানে শীর্ষ ধনীর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বেজোসের সম্পত্তির পরিমাণ ১৯ হাজার কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ সম্পত্তির দিক থেকে মাস্কের ধারেকাছেও নেই বেজোস, গেটস বা বাফেট।

আরও পড়ুন:
অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী
চালের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে
লকডাউনে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ
করোনায় মুদ্রাপ্রবাহ কমলেও মূল্যস্ফীতি বেশি কেন
মূল্যস্ফীতি শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি

শেয়ার করুন

অ্যাড বিলিভ বাংলাদেশের বিজনেস প্রধান হোসনে মোবারাক

অ্যাড বিলিভ বাংলাদেশের বিজনেস প্রধান হোসনে মোবারাক

‘অ্যাড বিলিভ বাংলাদেশ’ এর হেড অফ বিজনেস মো. হোসনে মোবারাক অপু

বিজ্ঞাপনদাতা এবং অনলাইন পাবলিশারদের জন্য বাংলাদেশে অ্যাড নেটওয়ার্ক ‘অ্যাড বিলিভ’ যাত্রা শুরু করে আগস্টের শুরুতে। সেই থেকে প্রযুক্তিনির্ভর বিজ্ঞাপন সেবা দিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অ্যাড নেটওয়ার্ক ‘অ্যাড বিলিভ বাংলাদেশ’ এর হেড অফ বিজনেস হিসেবে সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন মো. হোসনে মোবারাক অপু।

অপুর প্রথম আলো ডিজিটালের বিজনেস বিভাগ, বাংলা ট্রিবিউন, রেডিও স্বাধীন, সিক্সটি সেকেন্ডস লিমিটেডসহ বেশ কিছু তথ্য প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিভাগে ডিগ্রি অর্জন করা অপু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এবং বিআইটিএম থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ওপর বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করেন।

বিজ্ঞাপনদাতা এবং অনলাইন পাবলিশারদের জন্য বাংলাদেশে অ্যাড নেটওয়ার্ক ‘অ্যাড বিলিভ’ যাত্রা শুরু করে আগস্টের শুরুতে। সেই থেকে প্রযুক্তিনির্ভর বিজ্ঞাপন সেবা দিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশে অ্যাড নেটওয়ার্কের ধারণা বেশ পুরনো হলেও ‘অ্যাড বিলিভ’ নিয়ে এসেছে নতুন কিছু সেবা। প্রথম দিক থেকেই স্বচ্ছতা আর সত্যিকারের বিজ্ঞাপনের ‘ভিউবিলিটি’ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ‘অ্যাড বিলিভ’।

বিজ্ঞাপনে সৃজনশীলতা ও নিত্য নতুন ছোঁয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতা এবং পাবলিশারদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘অ্যাড বিলিভ’।

আরও পড়ুন:
অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী
চালের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে
লকডাউনে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ
করোনায় মুদ্রাপ্রবাহ কমলেও মূল্যস্ফীতি বেশি কেন
মূল্যস্ফীতি শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি

শেয়ার করুন

সময়মতো পদক্ষেপ নেয়ায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি: অর্থমন্ত্রী

সময়মতো পদক্ষেপ নেয়ায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি: অর্থমন্ত্রী

অধিবেশনে ভিডিও বার্তায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘কোভিড-১৯ দেশের উন্নয়নের পথে বিশাল চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাধারণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার অর্থনীতিতে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পথে অনেক দূর এগিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন ৩ শতাংশের ঘরে, বাংলাদেশে ২০২০ ও ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশ এবং ৫.৫ শতাংশ।’

করোনার আঘাতে বিশ্বের অর্থনীতি সংকুচিত হলেও সঠিক সময়ে সরকার পদক্ষেপ নেয়ায় দেশে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বুধবার জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন (এমপিএফডি) সংক্রান্ত কমিটির তৃতীয় অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন থাইল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী আড়খোম ট্রাম্প পিতিয়া আইসিথ, ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী শ্রী মুলিয়ানি ইন্দ্রবতী, ভুটানের অর্থমন্ত্রী লিওনপো নামগে শেরিং ও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী ওমর আইয়ুব খান।

অধিবেশনে এসকাপের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারির বিশেষ আমন্ত্রণে কীনোট স্পিকার হিসেবে যোগ দেন অর্থমন্ত্রী। ভিডিও বার্তায় মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ দেশের উন্নয়নের পথে বিশাল চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাধারণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার অর্থনীতিতে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পথে অনেক দূর এগিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন ৩ শতাংশের ঘরে, বাংলাদেশে ২০২০ ও ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশ এবং ৫.৫ শতাংশ।’

সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পুনরাবৃত্তি করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় নেতৃত্বের প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য সর্বজনীন এবং সাশ্রয়ী টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনের জন্য গর্ববোধ করে। জাতিসংঘের অন্যান্য বেসামরিক কর্মকাণ্ডেও বাংলাদেশ সরাসরি অবদান রাখতে আগ্রহী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়নেও আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব অনেক।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রমাণভিত্তিক নীতি বিশ্লেষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চাহিদাভিত্তিক আঞ্চলিক সেবার মাধ্যমে ইউএন-এসকাপ বাংলাদেশকে বিরূপ পরিবেশে টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরি করতে এবং আঞ্চলিক সংযোগকে গভীর করতে সহায়তা করবে।

‘একই সঙ্গে স্বার্থসংলিষ্টদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে সমর্থন ও বহু অংশীদারত্ব বিকাশে সহায়তা করবে।’

দুই বছর পরপর এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের মন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা যোগ দেন। অধিবেশনে কোভিডসৃষ্ট বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থনৈতিক নীতি এবং উদ্ভাবনী অর্থায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আর্থিক সম্পদের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।

একই সঙ্গে তাদের অর্থনীতিকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ঘাত সহায়ক এবং টেকসই উন্নয়নে রূপান্তরের কথাও তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন:
অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী
চালের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে
লকডাউনে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ
করোনায় মুদ্রাপ্রবাহ কমলেও মূল্যস্ফীতি বেশি কেন
মূল্যস্ফীতি শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি

শেয়ার করুন