৫ কোটি টাকার সড়কবাতি জ্বলে না

৫ কোটি টাকার সড়কবাতি জ্বলে না

রাজৈর পৌরসভায় প্রায় ৫ কোটি টাকায় বসানো ৫ শতাধিক সৌরবাতির অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়ে আছে কয়েক বছর ধরে। নিউজবাংলা

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে রাজৈর পৌরসভার সড়কে প্রায় ৫১৭টি সৌরবাতি বসায় পল্লী-দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। স্থাপনের পাঁচ থেকে ছয় মাস পর থেকে বাতিগুলো নষ্ট হতে থাকে। বেশ কিছু সড়কের বাতি ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে।

মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভায় ৫ শতাধিক সৌরবাতি বসানো হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে। এগুলোর অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়ে আছে কয়েক বছর ধরে। অনেক বাতির অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সড়ক অন্ধকার থাকায় বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। পৌর মেয়রের দাবি, জনবল সংকেটের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না সড়ক বাতিগুলো।

২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে প্রায় ৫১৭টি সৌরবাতি স্থাপন করে পল্লী-দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। খরচ হয় ৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

স্থাপনের পাঁচ থেকে ছয় মাস পর থেকেই বাতিগুলো নষ্ট হতে থাকে। বেশ কিছু সড়কের বাতি ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে। সৌরবাতি ঠিকমত জ্বলছে কি-না মাঝে মাঝে তা পরীক্ষা করার কথা থাকলেও স্থাপনের পর কোনো খোঁজই রাখেনি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসহ রাজৈর পৌরসভা। ফলে সন্ধ্যা হলে সড়কে আঁধার নেমে আসে।

যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছিল, তা কার্যত ভেস্তে যেতে বসেছে। এতে ক্ষোভের অন্ত নেই পৌরবাসীর।

পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কুন্ডুপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইট-সুরকির রাস্তার পাশে বেশ কয়েকটি সৌরবাতির খুঁটি মাটিতে পড়ে আছে। খুঁটির সঙ্গে বাতি, তার ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য যন্ত্রাংশও পানি-কাদায় লেপ্টে আছে। কিছু খুঁটি দাড়িয়ে থাকলেও সেখানে বাতি অকেজো। কোনোটাতেই আলো জ্বলার ব্যবস্থা নেই।

এলাকাবাসী জানান, সৌরবাতি বসানোর কিছু দিন পর থেকেই আর বাতি জ্বলেনি। পৌরসভাকে বার বার জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

৫ কোটি টাকার সড়কবাতি জ্বলে না

পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে একই চিত্র।

পৌরসভার মজুমদারকান্দি এলাকার বাসিন্দা পলাশ ফরাজী বলেন, ‘কোথাও সৌরবাতির খুঁটি পড়ে আছে, কোথাও খুঁটি চুরি হয়ে গেছে। নির্মাণের পর আর এসব বাতি কখনই জ্বলে নাই। সাবেক মেয়র শামীম নেওয়াজ মুন্সির আমলে কাজটি হয়েছে। এটা কীভাবে হলো আমরা বুঝি না।’

দীঘিরপাড় এলাকার রিপন মিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে সৌরবাতির খুঁটি পড়ে থাকতে দেখছি। কেউ কোনো দিন খোঁজ খবরও নেয় নাই কেন এসব এভাবে পড়ে আছে। এতো দামি জিনিসপত্র পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের মাথা ব্যথা নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, কাগজে-কলমে পৌরসভার মধ্যে ৫১৭টি সৌরবাতি লাগানোর কথা ছিল। কিন্তু তার অর্ধেক বাতিও লাগানো হয়নি। তারপরেও যেসব সৌরবাতি লাগানো হয়েছে, তার অধিকাংশই নিন্মমানের। যে কারণে লাগানোর কিছু দিন পরেই সে সব বাতি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সড়ক অন্ধকারই হয়ে আছে।’

নাঈম হোসেন নামে এক এলাকাবাসী বলেন, ‘অন্ধকারে রাস্তার মোড়গুলো দেখা যায় না, যার ফলে মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে। যদি মোড়ে মোড়ে বাতিগুলো ঠিক মতো থাকত, তাহলে অনেক দুর্ঘটনা কম হত। এ ছাড়া চুরি-ডাকাতিও বেড়ে গেছে। আলো থাকলে এমন হত না।’

রাজৈর পৌরসভার সচিব মো. মাসুদ আলম জানান, ‘২০১৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সব বাতি লাগানো হয়েছিল। তারপরের দুই বছর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মেরামতের দায়িত্ব ছিল। এরপর রাজৈর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব। তবে ৬০ শতাংশ বাতি সচল আছে আর ৪০ শতাংশ বাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হয়ত নষ্ট হয়ে গেছে, যা মেরামতের চেষ্টা চলছে।’

অভিযোগের বিষয়ে রাজৈর পৌরসভার মেয়র নাজমা রশিদ বলেন, ‘বতমানে রাজৈর পৌরসভায় জনবলের অভাব রয়েছে। তবে আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মাধ্যমে বাতিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করেছিলাম। তাতেও তেমন কোনো ফল আসেনি।’

নাজমা রশিদ আরো বলেন, ‘যে কোম্পানি এই বাতিগুলো স্থাপন করেছিল, আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, তাদের টেকনিশিয়ান দিয়ে নষ্ট বাতিগুলো ঠিক করা যায় কি না। তবে আমি নতুনভাবে সড়কবাতি স্থাপন করার জন্য আরো একটি প্রকল্প দিয়েছি। এটা কার্যকর হলে রক্ষণাবেক্ষণে আর সমস্যা থাকবে না।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

বিনাধান-১৭ আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা

বিনাধান-১৭ জাতের ধানের উদ্ভাবক বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, “এ ধান গাছের প্রতিটি শীষে পুষ্ট দানার সংখ্যা ২৫০ থেকে ২৭০টি। প্রচলিত জাতের তুলনায় ইউরিয়া সার ৩০ শতাংশ কম ও জমিতে ৪০ শতাংশ পানি কম লাগে। এ কারণে ‘গ্রিন সুপার রাইস’ হিসেবেও জাতটির নামকরণ হয়েছে।”

উচ্চ ফলনশীল, স্বল্প মেয়াদি, খরাসহিষ্ণু, আলোক সংবেদনশীল ও উন্নত গুণাগুণের বিনাধান-১৭ আবাদে কৃষিখাতে বিপুল সম্ভবনা দেখছেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ জাত আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। এখন সারাদেশে জাতটি ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানান, উদ্ভাবিত এ জাতের ধানগাছ খাটো ও শক্ত বলে হেলে পড়ে না। পূর্ণবয়স্ক গাছের উচ্চতা ৯৬ থেকে ৯৮ সেন্টিমিটার। পাতা গাঢ় সবুজ ও খাড়া। ধান আগাম পেকে যাওয়ায় কাটার পর জমিতে সহজেই আলু, গম বা রবিশস্য চাষ করা যায়।

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

বিনাধান-১৭ উজ্জ্বল বংয়ের। ধান ও চাল লম্বা এবং চিকন, খেতে সুস্বাদু। এ কারণে বাজার মূল্য বেশি ও বিদেশে রপ্তানির উপযোগী। চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৪.৬ শতাংশ এবং হেক্টর প্রতি ৬.৮ টন থেকে সর্বোচ্চ আট টন পর্যন্ত ফলন হয়।

এ ধানের চাল রান্নার পর ভাত ঝরঝরে হয় এবং দীর্ঘক্ষণ রাখলেও নষ্ট হয় না। ধানের এই জাতটি পাতা পোড়া, খোল পঁচা ও কাণ্ড পঁচা ইত্যাদি রোগ তুলনামূলকভাবে বেশি প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়া প্রায় সব ধরনের পোকার আক্রমণ, বিশেষ করে বাদামি গাছ ফড়িং, গলমাছি ও পামরি পোকার আক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা অনেক বেশি।

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

বিজ্ঞানীরা জানান, ধান চাষ বৃদ্ধির কারণে তেল ও ডাল জাতীয় শস্যের জমি কমে যাচ্ছে। বিনাধান-১৭ উচ্চ ফলনশীল এবং এর জীবনকাল তুলনামূলকভাবে অনেক কম বলে শস্য নিবিড়তা বাড়াতে খুবই কার্যকর। আগাম পাকা জাত হিসেবে এটি চাষ করে সঠিক সময়ে তেল ও ডাল ফসল চাষ সম্ভব।

লবণাক্ত এলাকা ছাড়া দেশের সব রোপা আমন অঞ্চল, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা এবং রাজশাহীসহ ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও পার্বত্য অঞ্চলে জাতটির বেশি ফলন পাওয়া যায়।

বিনাধান-১৭ জাতের ধানটি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম। সহযোগী গবেষক হিসেবে ছিলেন উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ও মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামছুন্নাহার বেগম।

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

ড. শামছুন্নাহার বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ জাতের ধানটি উদ্ভাবনে পাঁচ বছর গবেষণা করা হয়েছে। বিনাধান-১৭ এর কৌলিক সারি নম্বর SAGC-7, যা ইরি-বিনার সহযোগিতায় ইরি-ফিলিপাইন থেকে সংগ্রহ করা হয়। সারি C418 (ZHONG413)-এর সঙ্গে SH109/(ZHONG413)2 সংকরায়ন করে পরে খরাসহিষ্ণু (ZHONG413)2-এর সঙ্গে পশ্চাৎ সংকরায়ন ও জিন পিরামিডিংয়ের মাধ্যমে লাইনটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।’

তিনি জানান, এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমন মৌসুমে ফলন পরীক্ষার মাধ্যমে জাত হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। ২০১৫ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্পমেয়াদি জাত হিসেবে সারাদেশে আমন মৌসুমে চাষের জন্য বিনাধান-১৭ নামে অনুমোদন দেয়।

ড. শামছুন্নাহার বলেন, ‘এ জাতে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ কম প্রয়োজন হয়। এছাড়া ৫০ শতাংশ সেচের অর্থ সাশ্রয় হয়। ধানটি চিকন ও ভাত খেতে সুস্বাদু হওয়ায় ভালো দাম পান কৃষক। এছাড়া অ-মৌসুমে ধান কাটায় গোখাদ্য হিসেবে খড়ের সরবরাহ বাড়বে, এতে ভালো দামে খড় বিক্রিও করা যাবে।’

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

জাতটির চাষাবাদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পাঁচ শতাংশ বীজতলায় ১০ কেজি বীজ ফেলতে হবে। জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ (আষাঢ়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শেষ সপ্তাহ) পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করে ২০ থেকে ২৫ দিনের চারা রোপন করলে ভালো ফসল পাওয়া যায়। তবে, জুলাইয়ের শেষ (শ্রাবণের দ্বিতীয়) সপ্তাহ পর্যন্তও বীজতলা করা যায়।

‘এছাড়া জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের শেষ সপ্তাহ (শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে ভাদ্র মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ) পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ দিন বয়সের চারা রোপন করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। বেশি বয়সের চারা লাগালে ফলন কমে যায়, তাই চার সপ্তাহের বেশি বয়সের চারা রোপন করা কোনো অবস্থাতেই উচিত নয়।’

ড. শামছুন্নাহার জানান, বীজতলায় চারা করার পর লাইন করে চারা রোপন করলে ফলন বেশি হয়। এজন্য দুই থেকে তিনটি সুস্থ-সবল চারা একত্রে এক গুছিতে রোপন করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেন্টিমিটার (আট ইঞ্চি) এবং সারিতে গুছির দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার (ছয় ইঞ্চি) থাকা ভালো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক মো. মতিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলায় গত বছর ২৩১ হেক্টর জমিতে বিনাধান-১৭ আবাদ হয়েছে। আগাম ধান হওয়ায় খুশি কৃষক। এ বছর ২৭০ হেক্টর জমিতে এ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। আগামী বছর আরও বেশি চাষ হবে।’

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

বিনাধান-১৭ জাতের ধানের উদ্ভাবক বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ জাতটি সম্পর্কে ইতোমধ্যে কৃষকদের অবগত করা হয়েছে। নওগা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি আবাদ হয়েছে। অল্প খরচে বেশি উৎপাদনসহ চাল বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের।’

তিনি বলেন, “এ ধান গাছের প্রতিটি শীষে পুষ্ট দানার সংখ্যা ২৫০ থেকে ২৭০টি। প্রচলিত জাতের তুলনায় ইউরিয়া সার ৩০ শতাংশ কম ও জমিতে ৪০ শতাংশ পানি কম লাগে। এ কারণে ‘গ্রিন সুপার রাইস’ হিসেবেও জাতটির নামকরণ হয়েছে।”

মহাপরিচালক বলেন, ‘চলতি মাসে বিভিন্ন জাতের ধানে এখনও শীষ বের হয়নি। এগুলো পরিপক্ব হতে আরও দেড় মাস লেগে যাবে। অথচ অন্য জাতের সঙ্গে একই সময়ে লাগানো বিনাধান-১৭ জাতের ধান কাটা শেষ হয়েছে। কিছু জমিতে ধান থাকলেও সেগুলোও সম্পূর্ণ পেকে গেছে। এখন কৃষক ধান কাটতে ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত। আগাম ধান কাটা শেষ হওয়ায় একই জমিতে এরপর আলু, গম বা রবিশস্য চাষ করা যাবে।’

শেয়ার করুন

বাঁশের জমজমাট বাণিজ্যিক চাষ

বাঁশের জমজমাট বাণিজ্যিক চাষ

মাদারীপুরে ১৭৭ হেক্টর জমিতে বাঁশের চাষ হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

একবার জমিতে বাঁশ লাগালে ২০ বছরে আর জমিতে বাঁশ লাগানোর প্রয়োজন পড়ে না। বছর বছর শুধু বাঁশের ঝাড়ে মাটি দেয়া আর আগাছা পরিষ্কার করলেই চলে। ফলে একই জমি থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি করছেন চাষীরা।

মাদারীপুরে পরিত্যক্ত জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে বাঁশ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। বাজারে বাঁশের ব্যাপক চাহিদা থাকায় চাষে ঝুঁকছেন তারা। ফলে প্রতি বছরই বাঁশ চাষে আবাদী জমির পরিমাণ বাড়ছে। আর বাঁশ কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। প্রতিটি বাঁশ দুই থেকে আড়াই শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাদারীপুরের বিভিন্ন হাট ও বাঁশবাগান থেকে বাঁশ কিনে নিচ্ছেন বরিশাল, গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুরসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা। বাঁশ বিক্রি করে চাষীরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, ব্যবসায়ীরাও বেশ লাভের মুখ দেখছেন।

একবার জমিতে বাঁশ লাগালে ২০ বছরে আর জমিতে বাঁশ লাগানোর প্রয়োজন পড়ে না। বছর বছর শুধু বাঁশের ঝাড়ে মাটি দেয়া আর আগাছা পরিষ্কার করলেই চলে। ফলে একই জমি থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি করছেন চাষীরা।

একাধিক চাষির সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বাঁশ চাষের জন্য বিখ্যাত হওয়ায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার একটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ‘বাঁশকান্দি’। এ ইউনিয়নে রয়েছে শত শত বাঁশের ঝাড়। আর এখানকার মানুষ বাঁশ চাষ করে নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাঁশ বিক্রি করে বেশ লাভবানও হচ্ছেন।

বাঁশের জমজমাট বাণিজ্যিক চাষ

বাঁশকান্দি ইউনিয়নের মতোই মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর, কালিকাপুর, দুধখালী, ধুরাইল, রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর, বদরপাশাসহ কম বেশি প্রায় সব ইউনিয়নেই শুরু হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে বাঁশ চাষ। তবে যেসব স্থানে বাঁশ চাষ করা হচ্ছে, সেখানে সাধারণত অন্য কোনো ফসল হয় না। ফলে মূলত পরিত্যক্ত জায়গায় গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিকভাবে বাঁশচাষ।

সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বাঁশচাষিরা জানান, পাঁচ কাঠা জমিতে বাঁশ চাষ করতে উত্তরখালী গ্রামের আক্তার খানের খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এ জমির বাঁশ বিক্রি করে প্রতি বছর লাখ টাকা আয় করেন তিনি।

ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি গ্রামের খোকন হাওলাদার এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বাঁশ চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন। আগামীতে আরো বেশি জমিতে বাঁশ চাষ করতে চান তিনি।

মাদারীপুর জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাঁশে খরচ কম, লাভ বেশি। ফলে জেলার চারটি উপজেলার শ শ চাষি বাণিজ্যিকভাবে বাঁশ চাষে ঝুঁকছেন। এটি চাষে সার বা নিড়ানি দিতে হয় না। হাট-বাজারে বাঁশের ব্যাপক চাহিদা। হাট-বাজারে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ভালো দামে বিক্রি করতে পারছেন চাষিরা।

বাঁশের জমজমাট বাণিজ্যিক চাষ

মাদারীপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বরিশাল, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার বাঁশ ব্যবসায়ীরা উৎরাইল, ফরাজীরহাট, টেকেরহাট ও হবিগঞ্জহাট থেকে বাঁশ কিনছেন।

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, জেলায় ১৭৭ হেক্টর জমিতে বাঁশের চাষ হচ্ছে। এখানে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫০০টি বাঁশ লাগানো হয়েছে। প্রতিটি বাঁশের মূল্য ২০০ টাকা করে ধরা হলে এর মূল্য হবে ৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

তিনি জানান, বাজারে প্রচুর পরিমাণে বাঁশের চাহিদা থাকায় চাষি লাভবান হচ্ছেন। যারা বাঁশের বাগান করেছেন, তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যার ফলে বাঁশের আবাদ আরও বাড়বে।

শেয়ার করুন

এবার কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ‘বাতিল’

এবার কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ‘বাতিল’

চিঠিতে বলা হয়েছে, রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুপল্লিতে সহিংসতার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মো. সৈকত মণ্ডলকে আগেই অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। এবার পুরো কমিটিই বাতিল হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে।

রোববার রংপুর নগর ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত কমিটি বাতিলের একটি চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

চিঠির শেষে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শফিউর রহমান স্বাধীন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে।

তবে কমিটি বাতিলের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ নিয়ে নগর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদককে ফোন করা হলেও তারা ধরেননি। আর কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের সদ্যোবিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার জানিয়েছেন, তিনি এখনও আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি।

সাইদুজ্জামান সিজার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কেন কমিটি বাতিল হয়েছে তা জানি না। এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। ফেসবুকে অনেকে দেখে আমাকে জানিয়েছে।’

পীরগঞ্জের হিন্দুপল্লিতে সহিংসতার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সৈকত মণ্ডল কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের দর্শন বিভাগের কমিটির ১ নম্বর সহসভাপতি ছিলেন।

সৈকত দর্শন বিভাগের যে কমিটিতে ছিলেন, সেটি ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট অনুমোদন দেন কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার ও সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ।

এ-সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পেয়ে নিউজবাংলায় প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

পীরগঞ্জ সহিংসতার পর ১৮ অক্টোবর সৈকতকে অব্যাহতি দেয়ার কথাও জানায় কলেজ ছাত্রলীগ।
কলেজ কমিটির সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সৈকত মণ্ডল দর্শন বিভাগের কমিটিতে ছিলেন। ফেসবুকে কমেন্ট করার কারণে রোববার তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।’

শেয়ার করুন

ইভ টিজিংকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধবিহারে হামলা, আহত ১৫

ইভ টিজিংকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধবিহারে হামলা, আহত ১৫

কক্সবাজারের টেকনাফে আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ঘর। ছবি: নিউজবাংলা

টেকনাফের ইউএনও পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘মূলত ইভ টিজিংকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে সেটা বৌদ্ধবিহারের একটি অংশ। কারা অগ্নিসংযোগ করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণীকে ইভ টিজিং করাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের টেকনাফে একটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১৫ নারী-পুরুষ।

উপজেলার হোয়াইক্যং ইউপির কাটাখালী ১ নম্বর ওয়ার্ডের অরণ্য বৌদ্ধবিহারে রোববার সন্ধ্যায় হামলার ঘটনা ঘটে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের অভিযোগ, হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েল সম্রাটসহ ২০ জন।

তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে আহতদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী বলে জানা গেছে। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এক চিকিৎসক জানান, রাতে কয়েকজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হোয়াইক্যং ১ নম্বর ওয়ার্ড কাটাখালী চাকমা পল্লিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক তরুণীকে ইভ টিজিং করেন ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েলসহ কয়েকজন।

এ নিয়ে নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তোফায়েলের নেতৃত্বে তাদের মারধর করা হয়। বেশ কিছু বাড়িঘরেও আগুন দেয়া হয়।

অরণ্য বৌদ্ধবিহারের কর্মকর্তা অন্তর চাকমা অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পর ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল ও তার ভাই কায়সার সমাধানের জন্য যান। সেখানে কথা-কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে তারা বিহারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

হামলার বিষয়টি স্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল সম্রাট জানান, বিচারে কথা-কাটাকাটি নিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে।

তবে বৌদ্ধবিহারে অগ্নিসংযোগের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে। বাকিটা আমি অবগত নই।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘মূলত ইভ টিজিংকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে সেটা বৌদ্ধবিহারের একটি অংশ। কারা অগ্নিসংযোগ করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তবে তোফায়েল ছাত্রলীগ নেতা নয় বলে দাবি করেছেন টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুন্না।

তিনি বলেন, ‘যে তোফায়েলের কথা বলা হচ্ছে, তাকে আমি চিনি না। সে যে কমিটিতে রয়েছে সেটি অবৈধ। হোয়াইক্যংয়ে গ্রুপিং আছে। তোফায়েলসহ যাদের নাম এসেছে তারা ছাত্রলীগের কেউ নয়।’

শেয়ার করুন

চৌমুহনীতে মণ্ডপে হামলা: জামায়াত নেতাসহ গ্রেপ্তার আরও ৪

চৌমুহনীতে মণ্ডপে হামলা: জামায়াত নেতাসহ গ্রেপ্তার আরও ৪

জামায়াত নেতা হারুন অর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হারুন অর রশীদ, বেগমগঞ্জের কালিকাপুর গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম, আলীপুর গ্রামের আবু তালেব ও হাজীপুর গ্রামের মো. ফরহাদ।

নোয়াখালীর চৌমুহনীতে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে জামায়াত নেতাসহ আরও এর জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হারুন অর রশীদ, বেগমগঞ্জের কালিকাপুর গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম, আলীপুর গ্রামের আবু তালেব ও হাজীপুর গ্রামের মো. ফরহাদ।

রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেনবাগের সেবারহাট থেকে জামায়াত নেতা হারুন অর রশীদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বেগমগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে বিকেলে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলাম জানান, চৌমুহনীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে রোববার বেগমগঞ্জ থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিকেলে তাদেরকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী জানান, জামায়াত নেতা হারুন অর রশীদকে সোমবার সকালে নোয়াখালী মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে নেয়া হবে।

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৩ জনের মধ্যে শনিবার তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এসপি শহীদুল ইসলাম রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে জানান, শনিবার বিকেলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নবনীতা গুহের আদালতে রিপন আহাম্মেদ মাহীর, আরাফাত হোসেন আবির ও ইব্রাহিম খলিল ওরফে রাজিব স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার আবদুর রহিম সুজন জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

এসপি জানান, কুমিল্লার ঘটনার জেরে চৌমুহনী বাজারের পূজামণ্ডপ, মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, আগুন ও হত্যার ঘটনায় ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের একটি মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় এবং পরদিন দুপুরে একই উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় ১১টি পূজামণ্ডপে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। লুটপাট করা হয় মন্দিরের আসবাব, স্বর্ণালংকার, ভাঙচুর করা হয় প্রতিমা।

হামলায় প্রাণ হারান প্রান্ত চন্দ্র দাশ নামে এক যুবক, আতঙ্কে হৃদরোগে যতন সাহা নামে আরেকজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে যতনের পরিবারের অভিযোগ, তিনিও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

নোয়াখালীতে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়েছে সাতটি। এসব মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: ওসির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: ওসির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

চট্টগ্রাম আদালতের মূল ফটক।

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ওই পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা করেন কলেজছাত্রীর বাবা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিন পর জামিন পান ওসি মিজানুর রহমান।

১০ বছর আগে চট্টগ্রামে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় এক পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭–এর বিচারক ফেরদৌস আরা এ আদেশ দেন।

অভিযুক্ত ওই পুলিশ পরিদর্শকের নাম মিজানুর রহমান। ঘটনার সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি কলেজের ছাত্রী তার এক বন্ধুকে নিয়ে ফয়’স লেকে বেড়াতে যান। সেখান থেকে ওসি মিজানুর রহমান ওই ছাত্রীকে জোর করে গাড়িতে তুলে নগরের চকবাজার এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ওই পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা করেন ছাত্রীর বাবা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিন পর জামিন পান ওসি মিজানুর রহমান।

ঘটনার সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত থাকলেও চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে। পরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারি কফিল উদ্দিন বলেন, রোববার মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। আসামি মিজানুর রহমান জামিনে থেকে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার আইনজীবী আরও সময় আবেদন করেন। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে মিজানুর রহমানের জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

শেয়ার করুন

সীতাকুন্ডে শ্মশানের দানবাক্স ভাঙার চেষ্টা 

সীতাকুন্ডে শ্মশানের দানবাক্স ভাঙার চেষ্টা 

সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরার মছজিদ্দা এলাকায় শ্মশানের দানবাক্স।

একটি শ্মশানের দানবাক্সের পাশে কিছু ভাঙা ইট পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই ইট দিয়ে দানবাক্স ভাঙার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শ্মশানের দানবাক্স ভাঙার চেষ্টা করছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় শ্মশানের পাশে বট গাছের নিচে রাখা পূজা দেয়ার ঘট ভেঙে দেয়া হয়।

শনিবার রাতে উপজেলার কুমিরার মছজিদ্দা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে গেছি। একটি শ্মশানের দানবাক্সের পাশে কিছু ভাঙা ইট পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই ইট দিয়ে দানবাক্স ভাঙার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। আর পাশের একটি বটগাছের নিচে রাখা একটি কলস ভাঙা দেখা গেছে। তবু আমরা বিষয়টি সিরিয়াসলি খতিয়ে দেখছি।’

শেয়ার করুন