‘মঙ্গলগ্রহ থেকে কি নির্বাচন কমিশনার আনব’

‘মঙ্গলগ্রহ থেকে কি নির্বাচন কমিশনার আনব’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উফলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আইন করলেই কি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করা যাবে? আমরা কি মঙ্গলগ্রহ থেকে, না হাওয়াই দ্বীপ থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে নিয়ে আসব?’

অল্প সময়ের মধ্যে আইন করে নির্বাচন কমিশন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কাছে প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী জানতে চান, ‘আইন করলেই কি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করা যাবে? আমরা কি মঙ্গলগ্রহ থেকে, না হাওয়াই দ্বীপ থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে নিয়ে আসব?’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

ডা. রাজ্জাক বলেন, ‘আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন ৫২ জনের মতো বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি তারা পেশায় খুবই দক্ষ, বিবৃতি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন করার জন্য আইন করতে হবে। আমি স্বীকার করি, আমাদের সংবিধানে আইনটি রয়েছে।

‘কিন্তু আজ পর্য়ন্ত এই বিএনপি স্বৈরাচাররা, এরশাদ ২৭ বছর ক্ষমতায় ছিল তারা কোনো আইন করেনি। আমরাও করতে পারি নাই। তার জন্য নির্বাচন বসে থাকবে না।’

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাই দাবি করেন ১৯৯১ সালে খুবই সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। ২০০১ সালে অনেক সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। তখন কী কোনো আইন ছিল?

‘আজকে যে বুদ্ধিজীবীরা বিবৃতি দিয়েছেন আপনারা মেধাবী, পেশায় দক্ষ; আমি আপনাদের সম্মান করি। সঙ্গে এটিও বলতে চাই, আপনারা যে নির্বাচন কমিশনের কথা বলছেন, আইন করলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করা যাবে? আমরা কি মানুষ (নিরপেক্ষ) আবিষ্কার করব? আমাদের মাঝ থেকেই করতে হবে।’

তিনি দাবি করেন, ‘যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন, তাকে নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে।

‘এখানে পয়েন্ট হলো, নির্বাচন কমিশনে যখন যাবেন, যে নির্বাচন কমিশনার তিনি শপথ নেবেন, তার একটি কথাই থাকবে জাতিকে তিনি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবেন। যে শপথ করে তার তো দায়িত্ব সেটি পালন করার। নির্বাচনের সময় সব ক্ষমতা থাকে তার হাতে। সরকারের কোনো ক্ষমতা থাকবে না। কাজেই নির্বাচন কমিশন যদি ব্যর্থ হয়, তার দায়িত্ব আমরা কেন নেব?’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমেরিকার ফেডারেল কোর্টে, সুপ্রিম কোর্টে যারা প্রধান বিচারপতি থাকেন, তারা যেদিন শপথ নেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে, সেদিন থেকে তারা নিরপেক্ষ। এটি তাদের নৈতিক দায়িত্ব। কাজেই নিরপেক্ষ যদি কেউ না থাকে, সে দায়িত্ব আমরা নেব না।’

গণতান্ত্রিক দেশে কোথাও তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয় না বলে জানান তিনি।

বলেন, ‘যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সে সরকারের সময়ে নির্বাচন হয়। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।’

আলোচনায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

সভাপতির বক্তব্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের আলোকবর্তিকা। মুকুট ধন্য হয় যে মণিতে শেখ হাসিনা সেই মণি।’

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, শাজাহান খান, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজমসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন: কৃষিমন্ত্রী
ভোটে অনিয়ম: সিইসির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
তিন আসনে বৈধ প্রার্থী ১০ জন
করোনা নয়, এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ভোটে আপত্তি জাপার
নির্বাচন লকডাউনমুক্ত রাখতে ইসির চিঠি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাম্প্রদায়িক হামলা: নিজের কর্মীদের দোষ খুঁজে পাননি নুর

সাম্প্রদায়িক হামলা: নিজের কর্মীদের দোষ খুঁজে পাননি নুর

রোববার যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। ছবি: নিউজবাংলা

নুর বলেন, ‘চট্টগ্রামের ঘটনায় আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা খোঁজ নিয়ে ওই ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাইনি। পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে টাকা দাবি করেছে।’

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলায় নিজের সংগঠনের নেতাকর্মীদের দোষ খুঁজে না পাওয়ার দাবি করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সিটিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে বিচারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের ঘটনায় আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা খোঁজ নিয়ে ওই ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাইনি। পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে টাকা দাবি করেছে।’

রোববার রাজধানীর নয়া পল্টনে যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, ‘১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়ার দিঘী পাড়ের পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননা এবং পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সরকার ও প্রশাসন এড়াতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে জেএমসেন হল পূজামণ্ডপে হামলা চেষ্টার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত না করে ছয় মাস ধরে কারাগারে থাকা তিন বিএনপি কর্মীকে মামলার আসামি করা হয়েছে। ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের আট নেতাকর্মীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। পরে মামলায় জড়িয়ে থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে জবানবন্দি আদায় করেছে পুলিশ।’

নুর বলেন, ‘আমরা এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কেউ জেএমসেন হল পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টায় জড়িত থাকলে সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ওই কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট শিরিন সুলতানা, প্রকৌশলী খোয়াই চিং মংচাক, মো. নিজাম উদ্দীন, ফাতেমা তাসনিম, আরিফুল ইসলাম তায়েফ এবং প্রাপ্ত বড়ুয়া।

আরও পড়ুন:
সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন: কৃষিমন্ত্রী
ভোটে অনিয়ম: সিইসির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
তিন আসনে বৈধ প্রার্থী ১০ জন
করোনা নয়, এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ভোটে আপত্তি জাপার
নির্বাচন লকডাউনমুক্ত রাখতে ইসির চিঠি

শেয়ার করুন

ফখরুলের শব্দ বিস্ফোরণ গোস্‌সা থেকে: কাদের

ফখরুলের শব্দ বিস্ফোরণ গোস্‌সা থেকে: কাদের

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব গোস্‌সা করে ফেলেছেন। তিনি ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু শব্দমালার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। আমি বলব, ধীরে, ফখরুল সাহেব, ধীরে। রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গোস্‌সা থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু শব্দমালার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীতে নিজ বাসভবনে রোববার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব গোস্‌সা করে ফেলেছেন। তিনি ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু শব্দমালার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। আমি বলব, ধীরে, ফখরুল সাহেব, ধীরে। রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’

‘অদৃশ্য শক্তি দেশ চালাচ্ছে’ বিএনপির এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কাদের বলেন, ‘এ শক্তি নাকি বিএনপির ওপর খবরদারি করছে। আসলে শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতি বিএনপির সুবিধাবাদী রাজনীতির ওপর অমানিশার ছায়া ফেলেছে। অগণতান্ত্রিক পন্থায় তাদের ক্ষমতা দখলের দিবাস্বপ্ন ভেস্তে যাচ্ছে। তাই তো বিএনপির দৃষ্টিসীমা এখন কুয়াশাচ্ছন্ন।’

সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো চিত্র বিএনপি দেখতে পায় না জানিয়ে কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের মেরুদণ্ড শক্ত। কারণ সরকারের সঙ্গে জনগণ রয়েছে, কোনো দৃশ্যমান বা অদৃশ্য শক্তির কাছে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাথা নত করেন না।’

বিএনপির রাজনীতি অদৃশ্য সুতার টানে চলছে বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার কোনো দলের ওপর খবরদারি করে না; বরং সরকার পরিচালনাকে পবিত্র দায়িত্ব মনে করে। বিএনপি নেতারা মন্তব্য করেছেন, দেশে নাকি আতঙ্ক ও নির্মম রাজনৈতিক পরিস্থিতি চলছে।’

বিএনপির অতীত তুলে ধরে দলটির সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল, হাওয়া ভবন তৈরি করেছিল, জনগণের অর্থ পাচার করে বিদেশে অর্থের পাহাড় গড়েছিল, পাচারকৃত অর্থে বিদেশে আয়েশি জীবনযাপন করেছে এবং করছে, তাদের কী বলব? আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন।’

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতা নীতির কারণে বর্ণচোরা, সুবিধাবাদী রাজনীতিক ও ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আতঙ্কে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

দলীয় পরিচয় যা-ই হোক, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনিয়মকারীর কোনো ছাড় নেই বলে আবারও জানান তিনি।

দেশের মানুষ নির্ভয়ে এবং স্থিতিশীল পরিবেশে নিজ নিজ কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিচ্ছে মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কারণে বর্ণচোরা, সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ এবং জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনকারীরা আতঙ্কে আছে। ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আতঙ্কে রয়েছে; আতঙ্কে আছে আগুন-সন্ত্রাসীরা।’

তিনি বলেন, ‘দলীয় পরিচয় যা-ই হোক, শেখ হাসিনার কাছে অনিয়মকারীর কোনো প্রশ্রয় নেই। সেটা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন।’

আরও পড়ুন:
সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন: কৃষিমন্ত্রী
ভোটে অনিয়ম: সিইসির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
তিন আসনে বৈধ প্রার্থী ১০ জন
করোনা নয়, এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ভোটে আপত্তি জাপার
নির্বাচন লকডাউনমুক্ত রাখতে ইসির চিঠি

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের আরও ২৫৭ প্রার্থী চূড়ান্ত

ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের আরও ২৫৭ প্রার্থী চূড়ান্ত

দশম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে সারা দেশে এক হাজার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১০টি পৌরসভায় ভোট হবে ২৮ নভেম্বর। ২ নভেম্বর এসব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মনোনয়নপত্র দাখিল হবে। বাছাইয়ের তারিখ ঠিক করা হয়েছে ৪ নভেম্বর। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে সময় থাকবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত।

ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২৫৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়তে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ।

শনিবার বিকেলে গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের মুলতবি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

এতে বলা হয়েছে, প্রার্থী চূড়ান্ত করার মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইলের মধুপুর, কালিহাতী, নাগরপুর উপজেলার ২৩টি, কিশোরগঞ্জ সদর, নিকলী ও কুলিয়ারচর উপজেলার ২৩টি, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ১০টি, মুন্সীগঞ্জের সদর ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন পরিষদ।

এ ছাড়া ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ও কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ উপজেলার ১১টি, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সাতটি, নরসিংদীর সদর ও রায়পুরা উপজেলার ২২টি, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আটটি, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ।

প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার মধ্যে আরও রয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন উপজেলার ১৫টি, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ১৬টি, ময়মনসিংহের জামালপুরের মেলান্দহ ও ইসলামপুর পৌরসভার ১৫টি, শেরপুরের নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন পরিষদ।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ত্রিশাল উপজেলার ২৬টি এবং নেত্রকোণার দুর্গাপুর, পূর্বধলা, কলমাকান্দা উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী দিয়েছে দলটি।

দশম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে সারা দেশে এক হাজার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে ও ১০টি পৌরসভায় ভোট হবে ২৮ নভেম্বর।

১৪ অক্টোবর নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশনের ৮৭তম বৈঠকে ভোটের তারিখ ঠিক করা হয়।

২ নভেম্বর এসব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মনোনয়ন দাখিল হবে। বাছাইয়ের তারিখ ঠিক করা হয়েছে ৪ নভেম্বর। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে সময় থাকবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত।

প্রথম ধাপে ৩৬৯টি ইউপিতে ভোট নিচ্ছে ইসি। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮টি ইউপিতে আগামী ১১ নভেম্বর ভোট হবে।

দেশে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে চার হাজার ইউপিতে নির্বাচন হবে। বাকিগুলো মামলা জটিলতার কারণে নির্বাচন আটকে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন: কৃষিমন্ত্রী
ভোটে অনিয়ম: সিইসির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
তিন আসনে বৈধ প্রার্থী ১০ জন
করোনা নয়, এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ভোটে আপত্তি জাপার
নির্বাচন লকডাউনমুক্ত রাখতে ইসির চিঠি

শেয়ার করুন

‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘোলাটের অপচেষ্টা রুখতে হবে’

‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘোলাটের অপচেষ্টা রুখতে হবে’

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ইসলামী ইউনাইটেড পার্টির নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন বলেন, ‘সম্প্রতি কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনা মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কারণ। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায় এতে বিব্রত। মূর্তির পায়ে কোরআন রাখার মতো জঘন্য একটি কাজ কোনো সুস্থ মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়।’

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনা নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলা করার অপচেষ্টা রুখে দেয়াসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়।

এ সময় ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন বলেন, ‘সম্প্রতি কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনা মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কারণ। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায় এতে বিব্রত। মূর্তির পায়ে কোরআন রাখার মতো জঘন্য একটি কাজ কোনো সুস্থ মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ভারসাম্যহীন করার অপচেষ্টা।’

মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা মন্দিরে পবিত্র কোরআন অবমাননা করেছে, হিন্দুদের পূজামণ্ডপে আক্রমণ করেছে ও মূর্তি ভেঙেছে, এদের সবাইকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সব সম্প্রদায়ের ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির অন্য দাবিগুলো হচ্ছে

১. সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে।

২. অনতিবিলম্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ও এর সঙ্গে জড়িত বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী এবং এদের দোসরদের গ্রেপ্তারের আওতায় আনতে হবে।

৩. কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো পক্ষের, যেকোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিতে হবে।

৪. ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত চক্র যে গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের প্রত্যেককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় এনে যথাযোগ্য শাস্তি প্রদান করতে হবে।

৫. বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কোনো সম্প্রদায় অপর সম্প্রদায়ের ধর্ম এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানলে দলমত-নির্বিশেষে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

৬. দেশের জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। তারা যেন দেশের বাইরে থেকে করা ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দেয়।

৭. মসজিদে-মন্দিরে এবং সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে ধর্মীয় গুরুদের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার গুরুত্ব, ফজিলত এবং অপর ধর্মের অনুসারীদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মো. ওমর ফারুক, পার্টির অন্যান্য নেতা কাজী মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, হাফেজ কারী মাওলানা আব্দুল মান্নান এবং মাওলানা মো. তাহেরুল ইসলামসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন: কৃষিমন্ত্রী
ভোটে অনিয়ম: সিইসির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
তিন আসনে বৈধ প্রার্থী ১০ জন
করোনা নয়, এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ভোটে আপত্তি জাপার
নির্বাচন লকডাউনমুক্ত রাখতে ইসির চিঠি

শেয়ার করুন

‘দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত করছে সরকার’

‘দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত করছে সরকার’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মানববন্ধনে বিএনপির মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ। ছবি: নিউজবাংলা

খন্দকার মোশাররফের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগের সমর্থক। তাই তাদেরকে সুযোগ দেয়ার জন্য সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে সরকার উৎসাহিত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার এর লাগাম টেনে না ধরে বরং এই দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির পেছনে যারা জড়িত তাদেরকে উৎসাহিত করছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত চাল, ডাল থেকে শুরু করে খাদ্যদ্রব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি বলেন, বিগত করোনার কারণে এদেশে গরিবের সংখ্যা বেড়েছে। আগে যেখানে শতকরা ২০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল করোনার কারণে আরও ২০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে এসেছে। মধ্যবিত্তরা নিম্ন মধ্যবিত্তে পরিণত হয়েছে। আজকে আয় কমে গেছে, কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে গেছে। এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে আজকে বহু মানুষ অনাহারে থাকে।

খন্দকার মোশাররফের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগের সমর্থক। তাই তাদেরকে সুযোগ দেয়ার জন্য সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে এই সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসে আছে। আপনারা জানেন গত নির্বাচনে ৩০ তারিখের ভোট আগের রাতে ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। তাই এদেশের জনগণের জন্য এই সরকারের কোনো দায় নেই।

বিএনপির নীতি নির্ধারক পর্যায়ের এই নেতার জানান, আওয়ামী লীগ ৭৫-এ বাকশাল করে গণতন্ত্র হত্যা করেছে। এই আওয়ামী লীগ গত তিনটি নির্বাচনের ভোট ডাকাতি করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবে না।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এই সরকারকে হটানোর জন্য বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির নেতৃত্বে জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। আজকে আমাদের শপথ নিতে হবে জনগণের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য সৃষ্টি করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশনায়ক তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের নেতৃত্ব বিএনপিকেই দিতে হবে। তাই বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল ও অঙ্গসংগঠনকে অতি দ্রুত সংঘটিত হয়ে নিজেদের ঐক্যকে দৃঢ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে হটাতে হবে। তখন এদেশের জনগণ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ সকল সমস্যার সমাধান পাবে। তাই এই সরকারের অতি দ্রুত বিদায় প্রয়োজন।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, আজিজুল বারী হেলাল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন: কৃষিমন্ত্রী
ভোটে অনিয়ম: সিইসির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
তিন আসনে বৈধ প্রার্থী ১০ জন
করোনা নয়, এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ভোটে আপত্তি জাপার
নির্বাচন লকডাউনমুক্ত রাখতে ইসির চিঠি

শেয়ার করুন

আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

সিলেটে শাহজালালের মাজার জিয়ারতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এ জন্যই নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার, নির্দলীয় সরকার, তার অধীনে নতুন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব। সে জন্যই আমরা আন্দোলন করছি।’

আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে রোববার সকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।’

সুনামগঞ্জে একটি শোকসভায় অংশ নিতে রোববার সিলেটে যান মির্জা ফখরুল। সুনামগঞ্জ যাওয়ার আগে সিলেটে হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারত করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে তো নির্বাচনের কোনো পরিস্থিতি, পরিবেশ নেই। এখানে অনির্বাচিত সরকার, অবৈধ সরকার, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা নির্বাচন নির্বাচন খেলা করে গত দুটি টার্ম জোর করে ক্ষমতায় আছে। আমরা তখনই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব, যখন নির্বাচনের সত্যিকার পরিবেশ তৈরি হবে।

‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এ জন্যই নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার, নির্দলীয় সরকার, তার অধীনে নতুন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব। সে জন্যই আমরা আন্দোলন করছি।’

দেশে সরকারের মদদে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হচ্ছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এই সরকারের আমলে দেশে কোনো ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয়। সরকারই দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।’

বিমানযোগে সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেটে পৌঁছান মির্জা ফখরুল।

আরও পড়ুন:
সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন: কৃষিমন্ত্রী
ভোটে অনিয়ম: সিইসির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
তিন আসনে বৈধ প্রার্থী ১০ জন
করোনা নয়, এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ভোটে আপত্তি জাপার
নির্বাচন লকডাউনমুক্ত রাখতে ইসির চিঠি

শেয়ার করুন

জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা

জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা

জাতীয় পার্টির আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ৩১ বছর ধরে বিরোধী দলে। পার্টির জন্য এতদিন ধরে যারা কাজ করছেন তারা পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী। তাদের নিয়ে দলের চেয়ারম্যান আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনে আমরা প্রার্থী দেব। আমরা এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চাই।'

জাতীয় সংসদের আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবে ভোটে যেতে চায় না জাতীয় পার্টি। এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

রাজধানীতে শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

দলীয়ভাবে ‘উপজেলা দিবস’ পালন করতে জাতীয় পার্টি রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শনিবার আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ৩১ বছর ধরে বিরোধী দলে। পার্টির জন্য এতদিন ধরে যারা কাজ করছেন তারা পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী। তাদের নিয়ে দলের চেয়ারম্যান আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন।

‘জাতীয় পার্টি এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায়, এ জন্য রূপরেখা তৈরি করতে হবে। আগামী নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে হবে।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই। সবখানে দুর্নীতি, নির্যাতন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লোকেরা জোর করছেন। অনেকে টাকা দিয়ে নৌকা প্রতীক নিচ্ছেন। কারণ তারা জানেন, নৌকা পেলেই বিজয়ী।’

চুন্নু আরও বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ নতুন চাকরিপ্রত্যাশী। কয়েক কোটি বেকার নিয়েও সরকারের মাথাব্যথা নেই। এসব বেকারের জন্য রূপরেখা তৈরি করলে আমাদের আর জোটগতভাবে নির্বাচনে যেতে হবে না। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনে আমরা প্রার্থী দেব। আমরা এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চাই।’

পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘প্রশাসনিক বাধার কারণে উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। তারা মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে পারছে না। যেভাবে উপজেলা পদ্ধতি করা হয়েছিল, এখন আর সেভাবে চলছে না উপজেলা পরিষদ।’

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দলকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের নতুন কর্মী তৈরি করতে হবে।’

জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি বর্তমানে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকলেও বিগত কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে অংশ নেয় তারা। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিপরিষদেও ছিলেন জাতীয় পার্টির কয়েকজন।

আরও পড়ুন:
সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন: কৃষিমন্ত্রী
ভোটে অনিয়ম: সিইসির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
তিন আসনে বৈধ প্রার্থী ১০ জন
করোনা নয়, এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ভোটে আপত্তি জাপার
নির্বাচন লকডাউনমুক্ত রাখতে ইসির চিঠি

শেয়ার করুন