দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘকালীন দেশনায়ক

দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘকালীন দেশনায়ক

২০১৯ সালে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ১৩ জন প্রধানমন্ত্রীর আর কেউ এত দীর্ঘ সময় দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাননি। এমনকি দক্ষিণ এশিয়াতেও আর কোনো রাজনীতিবিদের জীবনে এ সুযোগ আসেনি। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৭ বছর দেশ শাসন করেছেন। হিসেবের খাতা বলছে, প্রায় ১৮ বছর দেশ পরিচালনা করছেন শেখ হাসিনা। 

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যখন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তখন তার বয়স ৪৯ বছর। আর ২০১৯ সালে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেয়ার সময় তিনি ৭২ বছরের এক অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক।

বাংলাদেশের ১৩ জন প্রধানমন্ত্রীর আর কেউ এত দীর্ঘ সময় দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাননি। এমনকি দক্ষিণ এশিয়াতেও আর কোনো রাজনীতিবিদের জীবনে এ সুযোগ আসেনি। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৭ বছর দেশ শাসন করেছেন। হিসেবের খাতা বলছে, প্রায় ১৮ বছর দেশ পরিচালনা করছেন শেখ হাসিনা।

বিশ্লেষকরা বলেন, দীর্ঘ সময় ও টানা নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো, একটি ভিশন বা স্বপ্নের পথে দেশকে পরিচালিত করতে পারা। দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং মানব সম্পদের যে অগ্রগতি হয়েছে, তা সারা বিশ্বে স্বীকৃত।

অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়নচিন্তক কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে যে চেতনায়, সেই চেতনাটা হচ্ছে, সবাইকে নিয়ে দেশটা এগিয়ে যাবে। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত চিন্তা। সেটি শেখ হাসিনা ধারণ করেন। সেটা ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, এই দেশে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র তৈরি করা হবে। কল্যাণ রাষ্ট্র মানে সবাইকে নিয়ে।’

বৈশ্বিক মহামারি করোনার মধ্যেও যে কটা দেশ এগিয়ে আছে, তার একটা বাংলাদেশ বলে জানান তিনি। বলেন, ‘এসডিজির কিছু কিছু লক্ষ্য অর্জনেও আমরা সেরার মধ্যে আছি। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীকে এসডিজি সলিউশন নেটওয়ার্ক অগ্রগতি সম্মাননা দেয়া হয়েছে।’

কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে অর্থনীতির পাশাপাশি সামাজিক অনেক সূচকেও অগ্রগতি এসেছে।

করোনা শুরুর আগে দেশে দরিদ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, প্রত্যাশিত যে জীবন একজন মানুষের, সেটার মান বেড়েছে, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। করোনা শুরু হওয়ার আগের বছর আমরা ৮ দশমিক ২ শতাংশ অর্জন করেছি। দক্ষিণ এশিয়ায় এসব ক্ষেত্রে আমার সবার চেয়ে এগিয়ে আছি।’

২০১৬ থেকে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এর মূল কথাটা হচ্ছে কাউকে বাদ দেয়া যাবে না। তার মানে বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে, দুর্নীতি হবে না, বাস্তবায়ন স্বচ্ছ হবে।’

দুর্নীতি, বৈষম্য কিংবা বাস্তবায়নের গাফিলতি, গ্রামের উন্নয়ন-এই বিষয়গুলো আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে চিহ্নিত করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন তিনি।

বলেন, ‘তার মানে হচ্ছে, এগিয়ে যাচ্ছি। তার সঙ্গে কিছু সমস্যা থাকবে এবং সেই সমস্যা নতুন করে আবার সৃষ্টি হতে পারে, কিন্তু সাধারণত সরকারের লোকজন এসব স্বীকার করে না। এটা তার দূরদর্শী চিন্তার একটা দিক। যে সমস্যাগুলো আছে, যে সমস্যাগুলো আসতে পারে, সেগুলো ২০১৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে চিহ্নিত করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশকে অন্য উচ্চতায়’ দেখতে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার যে জাতিসংঘের স্বীকৃতি, সেটা আমরা পেয়েছি। আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, জিডিপির পরিমাণ বেড়েছে, আকার বেড়েছে। বাংলাদেশের ভেতরে যে উন্নয়ন, মেগাপ্রজেক্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে, বলা যায় বর্তমান যে বাংলাদেশ- এটির রূপকার বা এটি বাস্তবায়ন করা সবই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান।’

দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘকালীন দেশনায়ক

শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ভাবমূর্তি বদলে গেছে বলেও মনে করেন এই অধ্যাপক।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশের যে পরিচয়টা ছিল, বিশেষ করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি অথবা ক্ষুধা দারিদ্র্যপীড়িত একটি রাষ্ট্র মনে করা হতো, সেই ভাবমূর্তি উনি পুরোপুরি মুছে দিতে পেরেছেন।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- এটাকে অনুসরণ করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছেন বলে মনে করেন এ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।

তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে বা স্নায়ুযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বায়নের যে ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, সেখানে একটি দেশকে শক্তিশালী করার জন্য যে ধরনের বিনিয়োগ, যে ধরনের বাণিজ্য, যে ধরনের রেমিট্যান্স অপরচুনিটি তৈরি করা দরকার ছিল, সেগুলো তিনি করেছেন। এবং তার নেতৃত্বেই এসব হয়েছে।’

বহির্বিশ্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি’কেও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘শক্তিশালী রাষ্ট্র বলি বা মধ্য পর্যায়ের শক্তি, সব দেশের সঙ্গে একটা ভারসাম্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা যে দেশগুলো আছে, আমরা যদি পশ্চিমা দেশগুলোর কথা বলি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাজ্য এবং তাদের সঙ্গে ভীষণভাবে ঘনিষ্ঠ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ-এর সহযোগিতা নিয়ে একদিকে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা।

‘অন্যদিকে, ভারত এবং চীনের সহায়তা নেয়া, বাংলাদেশের অনেকগুলো মেগা প্রজেক্টে চীন এবং ভারতের যুক্ততা আছে, সেটাও একটা সুযোগ। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের উন্নয়নের সঙ্গে জাপান যুক্ত আছে। তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপাক্ষিক দাতা রাষ্ট্র। ফলে জাপানের ইনভলবমেন্ট এবং রাশার মতো একটা দেশকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে ইনভলব করা– এগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কার্যকর ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক।’

সরকারের ধারাবাহিকতার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুযোগ পেয়েছেন দেশকে এগিয়ে নেয়ার। আর এ কারণেই বিশ্বসভায় বাংলাদেশকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয় বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে এখন বহির্বিশ্বে কাউন্ট করা হয়, হিসেব করা হয়। বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার, দক্ষিণ এশিয়ার ভেতরে বা উন্নয়নশীল বিশ্বে। শেখ হাসিনা অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন। ভারতের সঙ্গে সমুদ্র জলসীমা বিরোধ তিনি নিষ্পত্তি করেছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে জলসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন, ভারতের সঙ্গে স্থলসীমা বিরোধ, সেটি নিষ্পত্তি হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিকে তিনি শক্তিশালী করেছেন। উনি জলবায়ু কূটনীতিকে শক্তিশালী করেছেন।’

মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বের একটি বড় দিক বলে মনে করেন তিনি।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিনি তাদের শুধু আশ্রয়ই দেননি, তাদের প্রত্যাবাসনে কাজ করছেন। এ নিয়ে সারা বিশ্বে কথা বলছেন, এবারও জাতিসংঘের ভাষণে বিষয়টি তুলে ধরেছেন সংকট মোকাবিলায়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাসনামলের ১৮ বছরে বড় ধরনের কোনো ক্ষোভ, জনরোষ দেখা যায়নি। রাজনৈতিক সভা, সেমিনার, সরকারের সমালোচনা থাকলেও বড় কোনো কর্মসূচি চোখে পড়েনি।

দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘকালীন দেশনায়ক
১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ কখন বিক্ষোভ করে, মানুষ কখন গণরোষে উদ্বুদ্ধ হয়? যখন আপনার চাহিদা পূরণ হবে না, যখন আপনি খেতে পাবেন না, যখন আপনার মাথার ওপর ছাদ থাকবে না, যখন আপনার সন্তানদের লেখাপড়া হবে না, যখন মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে, জীবনযাত্রার মান নিচে নেমে যাচ্ছে, তখনই মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে আনরেস্ট তৈরি করে।’

তিনি বলেন, মানুষের যখন মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়, তখন সে আসলে কোনো প্রকার বিক্ষোভে যায় না।

বঙ্গবন্ধুর অধরা স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই তার কন্যা শেখ হাসিনা হাঁটছেন বলে মন্তব্য এই শিক্ষকের। তিনি বলেন, ‘টানা তিন দফায় ক্ষমতায় আছেন প্রধানমন্ত্রী, আমার মনে হয়েছে বঙ্গবন্ধুর যে পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ক্ষুধাহীন, দারিদ্র্যহীন একটা রাষ্ট্র তৈরি করা, যেখানে সবাই মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে – মূলত এটাই তিনি ধারণ করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবে। আসলে তো তার শরীরে বঙ্গবন্ধুর রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। সেটিকে তিনি ধারণ করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর ‘ভারসাম্যপূর্ণ রাজনীতি’কে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার একটি বিশেষ দিক বলে মনে করেন গোবিন্দ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দুটো দেশ, ভারত ও চীন, আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের যে প্রভাব, এ প্রভাবের মধ্যেও ব্যালেন্সড কন্টেইনমেন্টের মধ্য দিয়ে তিনি উভয়পক্ষকে ডিল করে সামনের দিকে এগুচ্ছেন।’

এ কারণেই শেখ হাসিনা দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে বিশ্বনেতা হয়ে উঠছেন বলেও মন্তব্য তার।

গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, ‘পররাষ্ট্রনীতিতে তার যে দক্ষতা এবং তিনি যেভাবে এ জায়গাটা নিয়ন্ত্রণ করছেন বা সামাল দিচ্ছেন, আমার ধারণা এই কারণেই তিনি বৈশ্বিক পরিসরে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আর্বিভূত হতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি এখন শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, সাউথ এশিয়ার দু-একজনের নাম যদি বলতে হয়, বিশ্বনেতৃত্বের মধ্যে যারা আছেন, শেখ হাসিনার নাম, কিন্তু কোনোভাবে পেছনে আসবে না।’

বিশ্বে দীর্ঘ সময় ধরে অনেকেই ক্ষমতায় থাকলেও মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর যে কর্মপ্রয়াস সেটাই শেখ হাসিনাকে সবার চেয়ে আলাদা করেছে বলে মনে করেন তিনি।

এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র দূরীকরণ, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন – এই যে কতগুলো জায়গা, এই জায়গাগুলো চিন্তাই করা যায় না। আমরা তো লম্বা সময় ধরে অনেককেই ক্ষমতায় দেখেছি, কিন্তু মানুষের উন্নয়ন চিন্তাকে কেন্দ্রে নিয়ে, মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে, যে কথাটা তিনি বারবার বলেন, এটা তিনি শুধু বলেন না, আন্তরিকভাবে ধারণ করেন।’

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
‘মুকুটের মণি’ শেখ হাসিনা
টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রোহিঙ্গা নিয়ে ভাবনায় জাতীয় পার্টি

রোহিঙ্গা নিয়ে ভাবনায় জাতীয় পার্টি

রাজধানীর বনানী কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ছবি: সংগৃহীত

জি এম কাদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চার বছরেও সাফল্য নেই, এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর হতে পারে না। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আমরা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছি। কিন্তু এ অবস্থা তো অনন্তকাল চলতে পারে না। মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করে দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে না পারাটা আমাদের ব্যর্থতা।’

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চার বছরেও অগ্রগতি না পেয়ে চিন্তিত ও হতাশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। আন্তর্জাতিক মহলকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের শুরু চান তিনি।

রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চার বছরেও সাফল্য নেই, এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর হতে পারে না। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আমরা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছি। কিন্তু এ অবস্থা তো অনন্তকাল চলতে পারে না। মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করে দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে না পারাটা আমাদের ব্যর্থতা।

‘রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক হলেও আমরা আন্তর্জাতিক মহলকে সেভাবে সম্পৃক্ত করতে পারিনি। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজে লাগাতে পারিনি। আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শৃংখলা রক্ষা করাও সম্ভব হয়নি।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানবিক আশ্রয়ে থাকলেও রোহিঙ্গারা ইতোমধ্যে মাদক চোরাচালানসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে খুন-খারাবি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। তাই, দ্রুততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলকে সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে হবে।’

বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার জাপা চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন লক্ষ্মীপুর জেলা জাতীয় পার্টি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এ সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, সোলায়মান আলম শেঠসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
‘মুকুটের মণি’ শেখ হাসিনা
টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

শেয়ার করুন

নুরের কর্মীদের কাছে টাকা দাবির অভিযোগে কী বলছে পুলিশ?

নুরের কর্মীদের কাছে টাকা দাবির অভিযোগে কী বলছে পুলিশ?

ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর (বাঁয়ে) এবং জেএমসেন হল পূজামণ্ডপে হামলায় স্বীকারোক্তি দেয়া দলটির চট্টগ্রাম কমিটির সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ মিজান। ছবি: নিউজবাংলা

নুরের অভিযোগ, ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ৯ নেতা-কর্মীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। চোখে কালো কাপড় বেঁধে ক্রসফায়ারেরও হুমকি দিয়েছে। পরে মামলায় জড়িয়ে থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি আদায় করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। এ ছাড়া কারও কাছে টাকাও চায়নি পুলিশ।

চট্টগ্রামে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের গ্রেপ্তার নেতাদের নির্যাতন এবং তাদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা দাবি করেছে পুলিশ, নুরুল হক নুরের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাহিনীটি।

পুলিশ বলছে, ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। এ ছাড়া কারও কাছে টাকাও চায়নি পুলিশ।

রাজধানীর নয়াপল্টনে যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার দলটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এমন অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার জেরে চট্টগ্রামে জেএমসেন হল পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত না করে ছয় মাস ধরে কারাগারে থাকা তিন বিএনপিকর্মীকে মামলার আসামি করা হয়েছে।

‘ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ৯ নেতা-কর্মীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। চোখে কালো কাপড় বেঁধে ক্রসফায়ারেরও হুমকি দিয়েছে। পরে মামলায় জড়িয়ে থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি আদায় করেছে পুলিশ।’

নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে নিউজবাংলা।

তবে তারা কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তাদের আইনজীবীও রাজি হননি কথা বলতে।

নুরের দলের গ্রেপ্তার ৯ জনের মধ্যে আছেন ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মো. নাছির। তিনি নগরের তামাকুমন্ডি লেনে ব্যবসা করেন। সেখানে তার বাবা ও বড় ভাইয়েরও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে।

সোমবার গিয়ে দেখা যায়, নাছিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ।

পরিবারের কাছে পুলিশ টাকা চেয়েছে কি না জানতে চাইলে তার বড় ভাই আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা কথা বলতে পারব না। আমাদের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন।’

নাছিরের সঙ্গে দেখা হয়েছে কি না সে প্রশ্নে বলেন, ‘আদালতে নিয়ে গেলে দূর থেকে দেখেছি। রোববার বিকেলে আমরা কারাগারে গিয়েছিলাম তার সঙ্গে দেখা করতে কিন্তু পারিনি। করোনার কারণে নাকি দেখা করা নিষেধ। তাই এখনও নাছিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’

নাছিরের বাবা ব্যস্ততার কথা জানিয়ে নিউজবাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের বায়েজিদ বোস্তামী থানার আহ্বায়ক মো. রাসেলের বাসায় গেলে তার পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

দলটির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে জবানবন্দি নিয়েছে। তবে টাকা দাবির বিষয়টি আমি শুনিনি।’

ওই ৯ নেতা-কর্মীর মামলা পরিচালনা করছেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মাইনুল হোসেন ভূঁইয়া।

নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু মামলা পরিচালনা করি। এর বাইরে কোনো কিছু বলার সুযোগ আমার নেই।’

টাকা দাবির বিষয়ে জানান, তাকে এই বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি। পরিবারের সদস্যরা এখনও আদালতকে কিছু জানায়নি।

নুরের অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জোর করে কারও কাছ থেকে পুলিশ জবানবন্দি নেয়নি। ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকির অভিযোগ ভিত্তিহীন। পুলিশ কারও কাছে টাকা চায়নি।’

পুলিশ জানায়, দলটির চট্টগ্রাম কমিটির সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ মিজান রোববার চট্টগ্রামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি ১৫ অক্টোবরের হামলার দুদিন আগে এ বিষয়ে পরিকল্পনা করার কথা জানান। পরিকল্পনা অনুযায়ী মণ্ডপে হামলার দিন মুসল্লিদের জড়ো করেন।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
‘মুকুটের মণি’ শেখ হাসিনা
টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

শেয়ার করুন

ভোটের মাঠে আলোচনায় পৌরকর

ভোটের মাঠে আলোচনায় পৌরকর

পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ভোট ২ নভেম্বর। ভোটারদের প্রতিবাদী মনোভাব বুঝে সব প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণায় পৌরকর কমিয়ে আনা বা সহনীয় পর্যায়ে নামানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। দিচ্ছেন আধুনিক শহর গড়ে তোলা এবং সেবার মান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি।

পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর। ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের মধ্যেও আলোচনা কে হবেন মেয়র। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে পৌরকর ও নাগরিক সেবার মান।

বিদায়ী পৌর পরিষদ দুই দফায় বাড়িয়েছিল পৌরকর। কর বাড়ানোর প্রতিবাদে আন্দোলনও হয়েছে। পৌরকর নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে আছে অসন্তোষ।

ভোটারদের প্রতিবাদী মনোভাব বুঝে সব প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণায় পৌরকর কমিয়ে আনা বা সহনীয় পর্যায়ে নামানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। দিচ্ছেন আধুনিক শহর গড়ে তোলা এবং সেবার মান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ভোট ২ নভেম্বর।

পৌরকর নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্রীড়া সংগঠক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। তিনি বলেন, ‘তার পৌরকর চার গুণ বাড়ানো হয়েছিল, পরে আবেদন করে কিছুটা কমিয়েছেন। পৌরকর নিয়ে নিজেই বিব্রত উল্লেখ করে এ প্রার্থী বলেন, অনেকের ওপর বাড়তি পৌরকরের বোঝা চেপে বসে আছে।’

তিনি বলেন, ‘এভাবে কর বাড়ানো অযৌক্তিক। আমি নির্বাচিত হলে পৌরকর বিষয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই সমন্বয় করব। পৌরসভার উন্নয়নে বিভিন্ন সেক্টরের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেব।’

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম জানান, পৌরকর নির্ধারণে যে অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছে, সেখানে ভুলত্রুটি আছে, এ কারণে কারও কারও কর অসহনীয় পর্যায়ে গেছে। নির্বাচিত হতে পারলে তিনি কর নির্ধারণে কাউন্সিলরদের দিয়ে কমিটি করে বিষয়গুলো সমন্বয় করবেন। তিনি জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করে দেবেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটন জানান, বর্তমানে পৌরকর নিয়ে নাগরিকদের অসন্তোষ আছে। তিনি নির্বাচিত হলে পৌরকর সমন্বয়ের উদ্যোগ নেবেন। গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে কর সমন্বয় করা হবে।

তিনি জানান, পৌরসভায় পাঁচটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, যেসব প্রকল্পের সুফল পাবেন পৌরসভার নাগরিকরা।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুখলেসুর রহমান জানান, পৌরকর যেন নাগরিকদের সহনীয় পর্যায়ে থাকে সে বিষয়ে তিনি প্রথমেই উদ্যোগ নেবেন।

তিনি ভোটারদের আধুনিক শহর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, উদাহরণ হিসেবে সামনে আনছেন রাজশাহীর কথা।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি আসলাম কবির জানান, পাঁচ বছর অন্তর ১০ শতাংশ পৌরকর বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, দেখা যায় অনেকেরই পৌরকর অনেক বেশি বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ আছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, আগামীতে যিনি মেয়র হবেন, নাগরিকদের আয়সহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পৌরকর নির্ধারণ করবেন। এখন নির্বাচনি প্রচারণায় পৌরকর নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তা ভুলে যাবেন না তারা।’

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, পৌরকর কমানোর আবেদন নিয়ে অনেকেই পৌরসভায় এসেছেন। মেয়রের কক্ষে দেখা যায়, অনেকেই পৌরকর কমিয়ে আনার বিষয়ে কথা বলছেন।

এ বিষয়ে মেয়র নজরুল ইসলাম জানান, তার আগের মেয়রের সময়কালে পৌরকর নির্ধারণের জরিপ হয়েছিল, সেই পরিষদ নতুন কর কার্যকর করেনি। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর সেই জরিপের ভিত্তিতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নতুন পৌরকর কার্যকর করেন।

৫ বছর পরপর পৌরকর নির্ধারণের নিয়ম, সে অনুয়ায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে নতুন করে পৌরকর নির্ধারণ হয়েছে। ১৭ হাজার হোল্ডিংয়ে ১০ শতাংশ কর বেড়েছে। অনেকেই কর কমানোর আবেদন দিয়েছেন, সেগুলোর শুনানি করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে মুখলেসুর রহমান (নৌকা) আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন সামিউল হক লিটন (মোবাইল ফোন), নজরুল ইসলাম (নারিকেলগাছ) এবং মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল (জগ)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোত্তাওক্কিল রহমান জানান, ইভিএমের মাধ্যমে ৭২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। মোট ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯৭ জন।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
‘মুকুটের মণি’ শেখ হাসিনা
টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

শেয়ার করুন

আ. লীগের ‘দুর্গে’ নেই নৌকা প্রতীক

আ. লীগের ‘দুর্গে’ নেই নৌকা প্রতীক

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ অক্টোবর সদর উপজেলায় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনই এখানে স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে ১৪টি ইউনিয়নে কোনো নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকছে না

তৃতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাদারীপুর সদর উপজেলার যে ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তার একটিতেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকছে না। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের নেতাকর্মীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে অপর একটি পক্ষ বলছে, দলীয় প্রতীক না থাকায় অন্তকোন্দল সৃষ্টির সুযোগ থাকছে না। ভোটরাও স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে উৎসাহ পাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ অক্টোবর সদর উপজেলায় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনই এখানে স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে ১৪টি ইউনিয়নে কোনো নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এজাজুর রহমান আকনের উপস্থিতিতে বর্ধিত সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান।

আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি এবং তাদের আলাদা করে বাছাই করা উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সম্ভব হচ্ছে না বলে আলোচনা হয়। তাই সভায় সবার সম্মতিতে সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উম্মুক্ত রাখার সুপারিশ করা হয়। পরে সভার কার্যবিবরণী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে সদর উপজেলার আরেক অংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ চৌকদার ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা কামালের উপস্থিতিতে ১৯ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমিতে বর্ধিত সভা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা। সেই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু দলীয় সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা শেষে সদর উপজেলায় তৃতীয় দফা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন থাকছে না বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

নৌকা প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না, বিষয়টি জানার পর বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছে। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকাতে উঠান বৈঠকও করতে দেখা গেছে তাদের। এরই মধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র কিনতে শুরু করেছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক না থাকার বিষয়টি দেখছেন ভিন্নভাবে।

আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনীতিতেও একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কেউ ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিতে আবার কেউ কেউ উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে রয়েছেন।

শাজাহান খানপন্থি একাংশের নেতাদের দাবি, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দলীয় মনোনয়ন দিতে গেলে একাধিক যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে বেছে নেয়া দুরূহ হতো। তা ছাড়া পরস্পরের মধ্যে মনোমালিন্য ও দূরত্ব সৃষ্টি হতো। এই মনোমালিন্য আর দূরত্ব রোধে সদরের ১৪টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। দলীয় সমর্থনে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সব প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম বলেন, ‘সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রার্থীতা উন্মুক্ত রেখেছে। এখানে দলীয় একক কোনো সমর্থন দেয়া হয়নি। কারণ প্রার্থীদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একক প্রার্থী দিলে অন্তদ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এখন ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারবে। আমাদের আর কোনো সমস্যা নেই।’

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা জানান, ‘নেত্রীর সিদ্ধান্তই আমরা মেনে চলি। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, সেটাই আমরা পালন করব। তারপরেও জেলা আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের দলীয়ভাবে নিবেদিত কর্মীদের সমর্থন দিব। যাতে ত্যাগীরা জয়ী হতে পারে।’

মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, তৃতীয় ধাপে সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ। যাচাই-বাছাই হবে ৪ নভেম্বর, ১১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ এবং ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। এ উপজেলায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ২ লাখ ২১ হাজার ৭৮৩ জন ভোটার। আমাদের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
‘মুকুটের মণি’ শেখ হাসিনা
টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

শেয়ার করুন

বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সেটি জমা দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কিছু জায়গায় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিতে তাদের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নামও পাঠাতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে ব্রিফিংয়ের সময় এ নির্দেশনা দেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপিলের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সেটি জমা দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কিছু জায়গায় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তৃণমূল থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার পরিষদের মনোনয়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রার্থীর তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা তারপর জেলা হয়ে কেন্দ্রে নামের সুপারিশ আসে। এর আগে নাম তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও লোভের বশবর্তী না হয়ে এবং প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য গোপন না করতে দলীয়ভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মীমাংসিত ইস্যু নিয়ে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের বক্তব্য আত্মঘাতী প্রবণতা ছাড়া আর কিছুই নয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে বিএনপি এখনও পুরোনো ধূসর পথে হাঁটছে। সময় ও স্রোতের মতো নির্বাচনও বসে থাকবে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হবে না। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়, তবে সেটি ব্যালটের মাধ্যমে নয়। ভিন্ন কোনো অগণতান্ত্রিক এবং চোরাগলি পথে।’

বিএনপি আরও একটি ওয়ান-ইলেভেনের স্বপ্নে বিভোর মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ দেশে আর এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে হয় না। দেশের জনগণের ধ্যান- ধারণা বদলে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জনগণ এখন উন্নয়নপ্রিয়, ভবিষ্যৎদর্শী।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা গুজব ও অপপ্রচারকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নিয়েছে, তাদের চেহারা জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। বিএনপি নিজেরাই নিজেদের ফাঁদে আটকা পড়েছে, তাই তো তারা এখন উভয় সংকটে। না পারছে আন্দোলন জমাতে, না পারছে নির্বাচনে যেতে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নয়, প্রকৃত অর্থে বিএনপিই এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন তাই নির্বাচনকে ভয় পায়। তাদের আন্দোলনের কথা শুনলে মানুষ হাসে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ষড়যন্ত্র ও গুজবনির্ভর। তাদের রাজপথে কোনো অস্তিত্ব নেই। তাদের অস্তিত্ব শুধু ফেসবুক আর অনলাইনে। এসব কি বিএনপির দেউলিয়াত্বের লক্ষণ নয়?’

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
‘মুকুটের মণি’ শেখ হাসিনা
টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

শেয়ার করুন

ফরিদপুরের চর-ঝাউকান্দা ইউপি নির্বাচন স্থগিত

ফরিদপুরের চর-ঝাউকান্দা ইউপি নির্বাচন স্থগিত

নির্বাচন স্থগিতের পর সীমানা ও ওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের আগেই নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত।

সীমানা নির্ধারণে জটিলতা থাকায় ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চর-ঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে সীমানা ও ওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের আগেই নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের পর সোমবার বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

সীমানা নির্ধারণে জটিলতার অভিযোগ তুলে চর-ঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন মৃধা রিট করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু, তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার গালিব আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।

আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম বলেন, ‘চর-ঝাউকান্দা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটি ওয়ার্ড গত বন্যায় পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সে কারণে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন বিদ্যমান ওয়ার্ড এবং ভোটার এলাকার সীমানা নির্ধারণ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

‘যার ফলে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার এলাকা পুনর্গঠনের জন্য সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। সে সীমানা নির্ধারণের কাজে কর্মকর্তারা গত ১৮ আগস্ট নতুন করে একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়নি। সে মতে কোনো গেজেটও প্রকাশিত হয়নি।’

নতুন করে ওয়ার্ড পুনর্গঠন ও ভোটার এলাকা নির্ধারণের আগে এ ধরনের নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা আইনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
‘মুকুটের মণি’ শেখ হাসিনা
টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

শেয়ার করুন

জামায়াত নিষিদ্ধ হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন ইনুর

জামায়াত নিষিদ্ধ হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন ইনুর

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাসদ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় ক্ষমতাসীন ১৪ দলের নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

ইনু বলেন, ‘জামায়াত দেশে বারবার সশস্ত্র ও জঙ্গিবাদী আক্রমণ চালিয়েছে। এরপরেও জামায়াতকে কেন এখনও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না? জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

তিনি বলেছেন, ‘জামায়াত দেশে বারবার সশস্ত্র ও জঙ্গিবাদী আক্রমণ চালিয়েছে। এরপরেও জামায়াতকে কেন এখনও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না? জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাসদ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস: রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইনু বলেন, ‘এ লড়াইটা আমাদের কারও একার লড়াই না। এটা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই।’

১৪ দলের আরেক শরিক তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘সরকারের এত শক্তি থাকতে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা যাচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্ন তো আসতেই পারে।’

সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেটের একজন হিন্দু ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে। এটার জন্য তো দেশের স্বাধীনতা আসেনি। আমি প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি সরকারের কাছে, উত্তর তো সরকারের কাছেই।’

নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘শেখ হাসিনাই পারেন আমাদের ৭২-এর সংবিধানে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। নাহলে আর কোনো দিন তা হবে না। একমাত্র আওয়ামী লীগ চাইলেই এটা সম্ভব, না হলে সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সুফি মতবাদের যারা আলেম-ওলামা আছেন, তাদের সরকারের কাছে অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি নেয়ার সময় রাত ৮-৯টা পর্যন্ত লিখে দেয়া হয়। হেফাজতের কাউকে কিংবা জামায়াতের যে আলেমরা আছেন, তাদের তো এ অনুমতি নিতে হয় না। সারা রাত তারা মাহফিল করতে পারেন।’

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, সাম্প্রদায়িক হামলার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দর্শনে আক্রমণ করে জনগণের মধ্যে বিভক্তি নিয়ে আসতে চাইছে।’

৭২-এর সংবিধানের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করে সাম্প্রদায়িক দর্শন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা দরকার বলে মত দেন তিনি।

আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। এ ছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
‘মুকুটের মণি’ শেখ হাসিনা
টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

শেয়ার করুন