পুলিশি হয়রানি বন্ধ চান অ্যাপভিত্তিক চালকরা

পুলিশি হয়রানি বন্ধ চান অ্যাপভিত্তিক চালকরা

পুলিশি হয়রানি বন্ধ ও ছয়দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে অ্যাপভিত্তিক মোটরগাড়ি চালকরা। ছবি: নিউজবাংলা

মানববন্ধনে অ্যাপভিত্তিক চালকরা বলেন, ‘গাড়ি, জ্বালানি ও শ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত টাকা থেকে কোম্পানিগুলো ২৫ শতাংশের বেশি কমিশন নিচ্ছে। এ ছাড়া রাস্তায় বের হলেই আমরা বিভিন্নভাবে পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমাদের নির্দিষ্ট কোনো পার্কিং নেই। কোথাও দাঁড়াতে দেখলেই ট্রাফিক পুলিশ যে পরিমাণ জরিমানা করে আমরা ৭ দিনেও তা আয় করতে পারি না।’

পুলিশি হয়রানি বন্ধ ও সব ধরনের রাইডে কমিশন ১০ শতাংশ নির্ধারণসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন অ্যাপভিত্তিক মোটরগাড়ির চালকরা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মঙ্গলবার তারা মানববন্ধন করেন।

সেখানে বক্তারা বলেন, আধুনিক অ্যাপনির্ভর ‘রাইড শেয়ার’ পরিষেবা দিন দিন ব্যাপক হারে বাণিজ্যিক রূপ ধারণ করছে। রাইড শেয়ারিং পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিল গ্রহণ করলেও চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের কমিশন কেটে নেয়।

তারা অভিযোগ করেন, গাড়ি, জ্বালানি ও শ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত টাকা থেকে কোম্পানিগুলো ২৫ শতাংশের বেশি কমিশন নিচ্ছে। তার ওপর বিনা কারণে কিছু কোম্পানি অ্যাপ বন্ধ করে তাদের কর্মহীন করছে।

তারা আরও বলেন, ‘রাস্তায় বের হলেই আমরা বিভিন্নভাবে পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমাদের নির্দিষ্ট কোনো পার্কিং নেই। কোথাও দাঁড়াতে দেখলেই ট্রাফিক পুলিশ যে পরিমাণ জরিমানা করে আমরা ৭ দিনেও তা আয় করতে পারি না।

‘এদিকে মাস শেষে ধার-দেনা করে গাড়ি মেরামতের কাজ করতে হচ্ছে, আর বছর শেষে তুলতে হচ্ছে লোন। এর মধ্যেই সরকার রাইড-শেয়ারিং এনালিস্টকৃত যানবাহনগুলোর ওপর অগ্রিম ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) চাপিয়ে দিয়েছে।’

তাদের দাবিগুলো হলো-

. অ্যাপভিত্তিক মোটরগাড়ির চালকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কর্ম সময়ের মূল্য দিতে হবে।

. সব ধরনের রাইডে কমিশন ১০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে।

. মিথ্যে অজুহাতে তাদের কর্মহীন করা যাবে না।

. রাইড শেয়ারিংয়ের আওতাভুক্ত যানবাহনের পার্কিং ব্যবস্থা করতে হবে।

. পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

. রাইড শেয়ারকারী যানবাহনকে অগ্রিম ইনকাম ট্যাক্স মুক্ত রাখতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সেগুনবাগিচায় আবাসিক হোটেলে ঢাবি ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ

সেগুনবাগিচায় আবাসিক হোটেলে ঢাবি ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ

রাজধানীর সেগুনবাগিচার আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ সাহা জানান, বুধবার থেকে আদনানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানান তার স্ত্রী। পরে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন।

রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন সেগুনবাগিচায় কর্ণফুলী নামের আবাসিক হোটেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আদনান সাকিব নামের ২৫ বছর বয়সী ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার ভোরের আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

আদনান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তিনি থাকতেন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের বর্ধিত ভবনের ৩০০৫ নম্বর কক্ষে। তার বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সোনাখুলি গ্রামে।

নিহতের স্ত্রীর বরাতে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ সাহা জানান, বুধবার থেকে আদনানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বুধবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় একটি জিডি করা হয়।

ফোন কলের সূত্র ধরে বুধবার রাত ৩টার দিকে সেগুনবাগিচার কর্ণফুলী আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় আদনানকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আদনানের পকেট থেকে উদ্ধার করা এনআইডিতে তার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়।

আদনানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাখা হয়েছে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ আব্দুল্লাহ খান বলেন, শাহবাগ থানা পুলিশ সেগুনবাগিচার একটি হোটেল থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে নিয়ে এলে রাত ৪টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, মৃতদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের লোকজন আসেনি।

শেয়ার করুন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চুরি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চুরি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

এ বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি ও দেখেছি। রোববার মিটিং ডেকেছি। মিটিংয়ে আলোচনা হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. নঈম আকতার সিদ্দিকীর অফিস কক্ষে আলমারির তালা ভেঙে নম্বরপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরির অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার সকালে অফিসে গিয়ে আলমারির তালা ভাঙা দেখতে পান নঈম আকতার।

নিউজবাংলাকে নঈম বলেন, ‘আমার কক্ষে মেরামতের কিছু কাজ থাকায় গতকাল রুমের চাবি বিভাগের এক পিয়নের কাছে দিয়ে গিয়েছিলাম। আজ বিভাগে যাওয়ার পর দেখি, রুমের বাইরের তালাটা ঠিকই আছে। কিন্তু রুম খোলার পর ভেতরে গিয়ে আলমারির তালা ভাঙা। তখন আমি দ্রুত বিভাগীয় প্রধান ও একজন কর্মকর্তাকে ডাকলাম। এরপর দেখি আমার একটি চেক ছিল সেটি নেই। গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজ ছিল তাও নেই। বিগত সেমিস্টারের নম্বরপত্র ছিল তাও সরানো হয়েছে। এসব দেখার পর বিভাগের চেয়ারম্যান দ্রুত অ্যাকাডেমিক মিটিং ডাকেন।’

এ ব্যাপারে নঈম আকতার বলেন, ‘বিভাগে আমার সঙ্গে কারো কোনো সমস্যা নেই। আর পিয়ন ছিল বয়স্ক। এখন উনার সঙ্গে কারো কোনো সমস্যার কারণে কেউ কিছু করলো কি-না সেটা ভেবে দেখতে হবে। আর কোনো শিক্ষার্থীর এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রশ্নই আসে না। বিভাগের পিয়নদের ভেতরে কেউ এ কাজ করতে পারে বলে মনে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি ও দেখেছি। রোববার মিটিং ডেকেছি। মিটিংয়ে আলোচনা হবে।’

আলোচনার পর প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দেয়া হবে কি-না এমন প্রশ্নে অরুণ কুমার বলেন, ‘রেজিস্ট্রারকে এর আগে আমার নিজের ড্রয়ারের তালা ভাঙার বিষয়ে জানানো হলেও সে ঘটনার কিছু হয়নি।’

এর আগেও মো. নঈম আকতার সিদ্দিকীর বিভাগে যোগদানের নথিভুক্ত ফাইলটি চেয়ারম্যানের ড্রয়ার থেকে চুরি হয়ে গিয়েছিল।

শেয়ার করুন

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাতিলের দাবি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাতিলের দাবি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের

‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি’ (বায়রা)-এর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সহজ করার চেষ্টা করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমধ্যসাগরে মানুষ ডুবে মারা যাওয়ার যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, সে জন্য মানুষ পুলিশকেই জবাবদিহি করছে। পুলিশের কথাই বলছে যে, পুলিশ কী করছে? কিভাবে এসব মানুষ পুলিশের চোখ আড়াল করে পাচার হলো?’

জনশক্তি রপ্তানির ডিমান্ড লেটার পাওয়ার পর কর্মীদের বিদেশে যেতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স উঠিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নামে ২০ দিনের বেশি সময় নষ্ট হয়ে যায়। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ ধরনের পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয় না।

বুধবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে মানব পাচার আইনের হয়রানি থেকে মুক্ত করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি’ (বায়রা)-এর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এই অনুষ্ঠানেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাতিলের দাবি জানান জনশক্তি রপ্তানিকারক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা।

ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সহজ করার চেষ্টা করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমধ্যসাগরে মানুষ ডুবে মারা যাওয়ার যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, সে জন্য মানুষ পুলিশকেই জবাবদিহি করছে। পুলিশের কথাই বলছে যে পুলিশ কী করছে? কিভাবে এসব মানুষ পুলিশের চোখ আড়াল করে পাচার হলো? পুলিশ তখন দায়িত্ববোধ থেকে মামলা করতে বাধ্য হয়। এ জন্য ভালো ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৈধভাবে পাঠালে সমস্যা হওয়ার কথা না। অল্প সময়ে যাতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স হয়, সেই ব্যবস্থা করছি।’

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ই-পাসপোর্ট ও বিমানবন্দরে ই-গেট চালু হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক দিনের মধ্যে এসব গেটে ভিসা সঠিক আছে কি না, সেটাও চেক করা যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে গেট অটো চালু হয়ে যাবে। এতে পুলিশের ভিসা চেক করার দরকার হবে না। ইমিগ্রেশনে লাইন ধরে দাঁড়াতে হবে না।’

গেস্ট অব অনারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেন, ‘জনশক্তি রপ্তানিতে গার্মেন্টসের রেমিট্যান্স বেশি। গত বছর ২৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। করোনার কারণে গত বছর আগের চেয়ে কম ৭ থেকে ১০ লাখ মানুষ বিদেশে গেছে। মানুষ বিদেশে না গেলে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ত।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বায়রা’র সাবেক সভাপতি ও ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূর আলী বলেন, ‘বিদেশে কর্মী যেতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স উঠিয়ে দেয়া উচিত। পৃথিবীর কোথাও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয় না। পুলিশ কিয়ারেন্স করতে ২০ দিন সময় লেগে যায়। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক কাজ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। এ কারণে ডেসপাস কমে যায়। ব্যবসায়ীরা কাজ করতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে পরিমাণ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বিএমইটিতে সে পরিমাণ জনশক্তি নাই। জনশক্তি বাড়ানো দরকার।’

তিনি জানান, সৌদিতে এনলিস্টেড থাকার পরও কয়েক শ এজেন্সিকে দূতাবাস কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে না। এজেন্সিগুলো সৌদি আরবে কর্মী পাঠাতে পারছে না।

অনুষ্ঠানে বায়রা’র সাবেক সভাপতি বেনজির আহমদ এমপির সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, বিএমইটির মহাপরিচালক শহীদুল আলম, বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাসার, সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন, শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান প্রমুখ।

শেয়ার করুন

স্বাচিপের সম্প্রীতি সমাবেশে বিএনপিকে দোষারোপ

স্বাচিপের সম্প্রীতি সমাবেশে বিএনপিকে দোষারোপ

শাহবাগের সম্প্রীতি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন হাসাপাতালের অর্ধশতাধিক চিকিৎসক ও আওয়ামী লীগ নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, দেশে আবার অশান্তি সৃষ্টি করলে বিএনপিকে বড় শিক্ষা দেয়া হবে। তারা শান্তি মিছিলের নামে পুলিশকে আক্রমণ করছে। সরকার হটাতে গণঅভ্যুত্থানের নামে তারা পূজামণ্ডপে হামলা করছে। তারা প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক ও অকার্যকর রাষ্ট্র।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য সমাবেশ থেকে দায়ী করা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতকে।

রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বুধবার দুপুরে সম্প্রীতি সমাবেশ করে স্বাচিপ। চিকিৎসক ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এতে অংশ নেন।

সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘দেশে আবার অশান্তি সৃষ্টি করলে বিএনপিকে বড় শিক্ষা দেয়া হবে। তারা শান্তি মিছিলের নামে অশান্তি করছে, পুলিশকে আক্রমণ করছে। সারাদেশে ২০১৩-১৪ সালে পেট্রোল বোমা হামলা ও সন্ত্রাস করে বিএনপি এখন মাশুল দিচ্ছে। জনপ্রতিরোধে বিএনপি-জামায়াত এখন কোনঠাসা হয়ে গেছে।

‘বিএনপি জামায়াত বাংলাদেশের অপশক্তি। সরকার হটাতে গণঅভ্যুত্থানের নামে তারা পূজামণ্ডপে হামলা করে। তারা প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক ও অকার্যকর রাষ্ট্র। তবে এসব সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সারাদেশ ঐক্যবদ্ধ। সে ঐক্যের সামনে অপশক্তি পরাজিত হতে বাধ্য।’

সিরাজগঞ্জ ২ আসনের সাংসদ ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন উন্নতির শিখরে যাচ্ছে, তখন জামায়াত-বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি তাদেরকে দাঁতভাঙা জবাব দেবে। সকল ধর্মের মানুষ মিলে আমরা তাদের প্রতিরোধ করব।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শরফুদ্দিন আহমেদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক এম এ আজিজ, ডা. আব্দুর রউফ সরদার, অধ্যাপক আবু ইউসুফ ফকির, অধ্যাপক খলিলুর রহমান, মাকসুদুল আলম বাচ্চুসহ স্বাচিপ নেতারা।

রাজধানীর বিভিন্ন হাসাপাতালের অর্ধশতাধিক চিকিৎসকের পাশাপাশি সমাবেশে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যাক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মায়ের বকা সইতে পারেননি যুবক

মায়ের বকা সইতে পারেননি যুবক

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওয়াজিবের স্বজনদের আহাজারি।

‘করোনার সময় চাকরি চলে যায় ওয়াজিবের। এখন আবার মালিক কাজের জন্য ডেকেছে। কিন্তু সে কাজ করবে না। এ নিয়ে আমার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে সে ফাঁস লেগেছে।’

রাজধানীর লালবাগে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মো. ওয়াজিব নামে এক যুবক।

বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মা রিতা আক্তার বলেন, ‘করোনার সময় চাকরি চলে যায় ওয়াজিবের। এখন আবার মালিক কাজের জন্য ডেকেছে। কিন্তু সে কাজ করবে না। এ নিয়ে আমার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে সে ফাঁস লেগেছে।’

বড় ভাই সোহাগ বলেন, ‘তিন মাস ধরে সে কোনো কাজ করে না। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে রাগারাগি হয় দুপুরের দিকে। পরে সে রুমের দরজা লাগিয়ে দেয়। অনেক ডাকাডাকি করলেও সে দরজা খোলে না। পরে জোরে ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। এ সময় দেখি, সে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। তাকে তাড়াতাড়ি নামিয়ে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান আমার ভাই মারা গেছে।’

সোহাগ জানান, ৯ মাস আগে বিয়ে করেছিলেন ২৪ বছর বয়সী ওয়াজিব। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বর্তমানে লালবাগ থানার পোস্তার কাজী রিয়াজুদ্দিন রোডের ৬০ নম্বর বাসায় থাকেন পরিবারের সবাই। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর থানার মাঝকান্দা গ্রামে। বাবার নাম আব্দুল মান্নান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল্লাহ খান বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি লালবাগ থানাকে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: বিএনপির ৫০ নেতা-কর্মী কারাগারে

নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: বিএনপির ৫০ নেতা-কর্মী কারাগারে

বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা-কর্মীদের আদালতে হাজির করে ১৫ জনের সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার পুলিশের উপপরিদর্শক মনজুরুল হাসান খান। বাকি ৩৫ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ৫০ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম হাসিবুল হক এই আদেশ দেন।

আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী সাদেকুল ইসলাম ভুইয়া জাদু তথ্যটি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তাদের আদালতে হাজির করে ১৫ জনের সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার পুলিশের উপপরিদর্শক মনজুরুল হাসান খান।

এ ছাড়া বাকি ৩৫ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যুতে আদালত বন্ধ থাকায় রিমান্ড শুনানি মুলতবি রাখার আবেদন করেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হজরত আলী।

শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার তারিখ ঠিক করে সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদন করা আসামিরা হলেন- ছাত্রদল ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, জিহাদুল হক রঞ্জু ও ঝলক মিয়া, সূর্যসেন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু হান্নান তালুকদার, ঢাবি শাখার সাবেক সহসম্পাদক আল ইমরান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মী শাহাদাত হোসেন, বিএনপি কর্মী সজিব, ছাত্রদলের সাবেক নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুবদলের শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের সভাপতি আতিকুর রহমান অপু, যুবদল কর্মী হাসান আলী।

এ ছাড়া ছাত্রদল কর্মী মুতাছিম বিল্লাহ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গাজী সুলতান জুয়েল, সাবেক ছাত্রদল নেতা রেজাউল ইসলাম প্রিন্স, বিএনপি কর্মী শুক্কুর এবং আবুল হোসেন হাওলাদার আশিক।

মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ সমাবেশ থেকে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলায় যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ ৯৭ জনকে আসামি করে মামলা করে পল্টন থানার পুলিশ।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে আমরা রক্ষা করব: শাহজাহান খান

বাংলাদেশকে আমরা রক্ষা করব: শাহজাহান খান

মিছিলে বক্তব্য রাখছেন শাহজাহান খান।

শাহজাহান খান বলেন, ‘তারা উন্মাদনা সৃষ্টি করে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় তারা পুড়িয়ে দিচ্ছে, ভাঙচুর করছে এবং এর পেছনে কারা মদদ দিচ্ছে তা এখন মানু্ষের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান খান বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়ে সাত কোটি মানুষ সেদিন মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। ধর্মের নামে সেদিন এক শ্রেণীর মানুষ রাজাকার, আলবদর, আলশামস সৃষ্টি করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। তারা কিন্তু এখনও বসে নেই। তারা বারবারই হানা দেয়ার চেষ্টা করছে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি মিছিল থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, বাংলাদেশ কোন সাম্প্রদায়িক শক্তির নয়। এই অপশক্তিকে রোধ করার জন্য শ্রমিক, কর্মচারী, পেশাজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে আমরা রক্ষা করব।’

শাহজাহান খান বলেন, ‘তারা উন্মাদনা সৃষ্টি করে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় তারা পুড়িয়ে দিচ্ছে, ভাঙচুর করছে এবং এর পেছনে কারা মদদ দিচ্ছে তা এখন মানু্ষের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। যারা এই সরকারকে উৎখাত করতে চায়, যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়, যারা ধর্মের নামে উন্মাদনা সৃষ্টি করে, যারা এই বাংলাদেশকে একটা অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করতে চায়, তারাই রাষ্ট্রে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা নিজেদের বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে থাকি, আমরা দেশ ও জাতির অতন্দ্র প্রহরী। যখনই বাংলাদেশ কোন সংকটে মুখে পতিত হয়েছে, তখনই বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবীর মধ্য দিয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমরা রুখে দাঁড়িয়েছি। ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে আমরা তা করেছি। ২০১৫ সালে যেভাবে মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেই বিএনপি-জামাতের লাগাতার আন্দোলনকে আমরা অকার্যকর করে দিয়েছি। শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবীরা আমরা বাংলাদেশের যেকোনো সঙ্কটে ভূমিকা রাখতে চাই।’

শেয়ার করুন