পৌনে এক কোটি টাকার সেতু ‘অকেজো’

পৌনে এক কোটি টাকার সেতু ‘অকেজো’

সংযোগ সড়ক না থাকায় এভাবেই পার হতে হচ্ছে লংগদু উপজেলার এ সেতুটি। ছবি: নিউজবাংলা

বৈশাখী চাকমা জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় গ্রামে উৎপাদিত কাঁচামাল, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে যেতে ভীষণ কষ্ট হয়। সড়ক না থাকায় অকেজো হয়ে পড়েছে সেতুটি।

নদীতে সেতু আছে। নির্মাণে খরচ হয়েছে পৌনে এক কোটি টাকা। এত টাকা খরচ করে যে সেতু সেটি মানুষের ভোগান্তি কমাতে কাজে আসেনি। বরং তা চলাচলকারীদের দীর্ঘশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

কখনও সাঁতারে কখনও নৌকায় নদী পার হয়ে তারপর মই বেয়ে উঠতে হচ্ছে সেতুতে। ৮ বছর ধরে এমন কসরত করে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে।

‘হতভাগ্য’ এই মানুষগুলো রাঙামাটির লংগদু উপজেলার আটরকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি গ্রামের। তাদের এই কষ্ট যেন অবর্ণনীয়। অথচ এর পেছনে তাদের কোনো হাত নেই। যাদের হাত আছে তারা এখন বলছেন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে।

পৌনে এক কোটি টাকার সেতু ‘অকেজো’

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। আটারকছড়া ইউনিয়নে মিজান মুন্সীর বাড়ির সামনে মাইনী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

সেতুটির সড়ক সংযোগ না থাকায় লংগদু উপজেলার আটরকছড়া ইউনিয়নের ডানে আটরকছড়া ও ইয়ারিংছড়ি গ্রামের ৭০ পরিবারের ৮ হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

আটরকছড়ার খুশি চাকমা নিউজবাংলাকে জানান, মঙ্গলবার করল্যাছড়ি বাজারে করোনা টিকা নিতে গিয়েছিলেন তিনি। অনেক কষ্ট করে যেতে হয়েছে তাকে। সেতুর সংযোগ রাস্তা হলে এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।

ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা বৈশাখী চাকমা জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় গ্রামে উৎপাদিত কাঁচামাল, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে যেতে ভীষণ কষ্ট হয়। সড়ক না থাকায় অকেজো হয়ে পড়েছে সেতুটি।

পৌনে এক কোটি টাকার সেতু ‘অকেজো’

আটরকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জিয়াউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তারা বারবার একই কথা বলছেন। দ্রুত কাজ শেষ হবে বলে আশ্বাস দিলেও সেই কথার দৃশ্যমান কিছু নেই।’

লংগদু উপজেলা চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় না করে জেলা পরিষদ অপরিকল্পিত সেতুটি নির্মাণ করেছে। তারা যদি সবার সঙ্গে সমন্বয় করত তাহলে এমন হতো না।’

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতুটির নির্মাণকাজের সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। যার কারণে সেতুটির বিষয়ে আমার সঠিক ধারণা নেই। তবে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে সেতুটির সংযোগ সড়ক ও অসমাপ্ত কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করতে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
সেতুমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ১ যুগ পরও হয়নি সেতু
স্ল্যাব ধসে সেতু এখন মরণফাঁদ
৪০ লাখ টাকার সেতু, ব্যবহার শুধু সেলফি তোলায়
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’
ধসে পড়া গার্ডার নিজ খরচে পুনর্নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২ মোটরসাইকেলে লরির ধাক্কায় নিহত ২ চালক

২ মোটরসাইকেলে লরির ধাক্কায় নিহত ২ চালক

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় লরির ধাক্কায় এই মোটরসাইকেলচালক নিহত হন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আব্দুর রব বলেন, ‘রাতে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন পদুয়া থেকে আমিরাবাদের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় কক্সবাজারগামী একটি লরি পেছন থেকে মোটরসাইকেল দুটিকে ধাক্কা দেয়।’

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দুটি মোটরসাইকেলে লরির ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুজন।

উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে রাজমহল ক্লাবের সামনে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব।

নিহতরা হলেন উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার সাখাওয়াত হোসেন এবং পদুয়া ইউনিয়নের মো. সাজ্জাদ। আহত দুজনের নাম জানা যায়নি।

ওসি আব্দুর রব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন পদুয়া থেকে আমিরাবাদের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় কক্সবাজারগামী একটি লরি পেছন থেকে মোটরসাইকেল দুটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে সাখাওয়াতের মৃত্যু হয়।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় মা মনি হাসপাতাল ও পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাজ্জাদের মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই লরি রেখে চালক পালিয়ে যান।

আরও পড়ুন:
সেতুমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ১ যুগ পরও হয়নি সেতু
স্ল্যাব ধসে সেতু এখন মরণফাঁদ
৪০ লাখ টাকার সেতু, ব্যবহার শুধু সেলফি তোলায়
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’
ধসে পড়া গার্ডার নিজ খরচে পুনর্নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

এবার কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ‘বাতিল’

এবার কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ‘বাতিল’

চিঠিতে বলা হয়েছে, রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুপল্লিতে সহিংসতার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মো. সৈকত মণ্ডলকে আগেই অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। এবার পুরো কমিটিই বাতিল হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে।

রোববার রংপুর নগর ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত কমিটি বাতিলের একটি চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

চিঠির শেষে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শফিউর রহমান স্বাধীন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে।

তবে কমিটি বাতিলের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ নিয়ে নগর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদককে ফোন করা হলেও তারা ধরেননি। আর কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের সদ্যোবিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার জানিয়েছেন, তিনি এখনও আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি।

সাইদুজ্জামান সিজার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কেন কমিটি বাতিল হয়েছে তা জানি না। এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। ফেসবুকে অনেকে দেখে আমাকে জানিয়েছে।’

পীরগঞ্জের হিন্দুপল্লিতে সহিংসতার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সৈকত মণ্ডল কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের দর্শন বিভাগের কমিটির ১ নম্বর সহসভাপতি ছিলেন।

সৈকত দর্শন বিভাগের যে কমিটিতে ছিলেন, সেটি ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট অনুমোদন দেন কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার ও সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ।

এ-সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পেয়ে নিউজবাংলায় প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

পীরগঞ্জ সহিংসতার পর ১৮ অক্টোবর সৈকতকে অব্যাহতি দেয়ার কথাও জানায় কলেজ ছাত্রলীগ।
কলেজ কমিটির সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সৈকত মণ্ডল দর্শন বিভাগের কমিটিতে ছিলেন। ফেসবুকে কমেন্ট করার কারণে রোববার তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।’

আরও পড়ুন:
সেতুমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ১ যুগ পরও হয়নি সেতু
স্ল্যাব ধসে সেতু এখন মরণফাঁদ
৪০ লাখ টাকার সেতু, ব্যবহার শুধু সেলফি তোলায়
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’
ধসে পড়া গার্ডার নিজ খরচে পুনর্নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

ইভ টিজিংকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধবিহারে হামলা, আহত ১৫

ইভ টিজিংকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধবিহারে হামলা, আহত ১৫

কক্সবাজারের টেকনাফে আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ঘর। ছবি: নিউজবাংলা

টেকনাফের ইউএনও পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘মূলত ইভ টিজিংকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে সেটা বৌদ্ধবিহারের একটি অংশ। কারা অগ্নিসংযোগ করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণীকে ইভ টিজিং করাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের টেকনাফে একটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১৫ নারী-পুরুষ।

উপজেলার হোয়াইক্যং ইউপির কাটাখালী ১ নম্বর ওয়ার্ডের অরণ্য বৌদ্ধবিহারে রোববার সন্ধ্যায় হামলার ঘটনা ঘটে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের অভিযোগ, হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েল সম্রাটসহ ২০ জন।

তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে আহতদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী বলে জানা গেছে। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এক চিকিৎসক জানান, রাতে কয়েকজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হোয়াইক্যং ১ নম্বর ওয়ার্ড কাটাখালী চাকমা পল্লিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক তরুণীকে ইভ টিজিং করেন ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েলসহ কয়েকজন।

এ নিয়ে নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তোফায়েলের নেতৃত্বে তাদের মারধর করা হয়। বেশ কিছু বাড়িঘরেও আগুন দেয়া হয়।

অরণ্য বৌদ্ধবিহারের কর্মকর্তা অন্তর চাকমা অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পর ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল ও তার ভাই কায়সার সমাধানের জন্য যান। সেখানে কথা-কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে তারা বিহারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

হামলার বিষয়টি স্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল সম্রাট জানান, বিচারে কথা-কাটাকাটি নিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে।

তবে বৌদ্ধবিহারে অগ্নিসংযোগের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে। বাকিটা আমি অবগত নই।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘মূলত ইভ টিজিংকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে সেটা বৌদ্ধবিহারের একটি অংশ। কারা অগ্নিসংযোগ করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তবে তোফায়েল ছাত্রলীগ নেতা নয় বলে দাবি করেছেন টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুন্না।

তিনি বলেন, ‘যে তোফায়েলের কথা বলা হচ্ছে, তাকে আমি চিনি না। সে যে কমিটিতে রয়েছে সেটি অবৈধ। হোয়াইক্যংয়ে গ্রুপিং আছে। তোফায়েলসহ যাদের নাম এসেছে তারা ছাত্রলীগের কেউ নয়।’

আরও পড়ুন:
সেতুমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ১ যুগ পরও হয়নি সেতু
স্ল্যাব ধসে সেতু এখন মরণফাঁদ
৪০ লাখ টাকার সেতু, ব্যবহার শুধু সেলফি তোলায়
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’
ধসে পড়া গার্ডার নিজ খরচে পুনর্নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

চৌমুহনীতে মণ্ডপে হামলা: জামায়াত নেতাসহ গ্রেপ্তার আরও ৪

চৌমুহনীতে মণ্ডপে হামলা: জামায়াত নেতাসহ গ্রেপ্তার আরও ৪

জামায়াত নেতা হারুন অর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হারুন অর রশীদ, বেগমগঞ্জের কালিকাপুর গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম, আলীপুর গ্রামের আবু তালেব ও হাজীপুর গ্রামের মো. ফরহাদ।

নোয়াখালীর চৌমুহনীতে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে জামায়াত নেতাসহ আরও এর জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হারুন অর রশীদ, বেগমগঞ্জের কালিকাপুর গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম, আলীপুর গ্রামের আবু তালেব ও হাজীপুর গ্রামের মো. ফরহাদ।

রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেনবাগের সেবারহাট থেকে জামায়াত নেতা হারুন অর রশীদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বেগমগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে বিকেলে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলাম জানান, চৌমুহনীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে রোববার বেগমগঞ্জ থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিকেলে তাদেরকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী জানান, জামায়াত নেতা হারুন অর রশীদকে সোমবার সকালে নোয়াখালী মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে নেয়া হবে।

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৩ জনের মধ্যে শনিবার তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এসপি শহীদুল ইসলাম রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে জানান, শনিবার বিকেলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নবনীতা গুহের আদালতে রিপন আহাম্মেদ মাহীর, আরাফাত হোসেন আবির ও ইব্রাহিম খলিল ওরফে রাজিব স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার আবদুর রহিম সুজন জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

এসপি জানান, কুমিল্লার ঘটনার জেরে চৌমুহনী বাজারের পূজামণ্ডপ, মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, আগুন ও হত্যার ঘটনায় ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের একটি মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় এবং পরদিন দুপুরে একই উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় ১১টি পূজামণ্ডপে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। লুটপাট করা হয় মন্দিরের আসবাব, স্বর্ণালংকার, ভাঙচুর করা হয় প্রতিমা।

হামলায় প্রাণ হারান প্রান্ত চন্দ্র দাশ নামে এক যুবক, আতঙ্কে হৃদরোগে যতন সাহা নামে আরেকজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে যতনের পরিবারের অভিযোগ, তিনিও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

নোয়াখালীতে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়েছে সাতটি। এসব মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সেতুমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ১ যুগ পরও হয়নি সেতু
স্ল্যাব ধসে সেতু এখন মরণফাঁদ
৪০ লাখ টাকার সেতু, ব্যবহার শুধু সেলফি তোলায়
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’
ধসে পড়া গার্ডার নিজ খরচে পুনর্নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: ওসির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: ওসির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

চট্টগ্রাম আদালতের মূল ফটক।

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ওই পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা করেন কলেজছাত্রীর বাবা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিন পর জামিন পান ওসি মিজানুর রহমান।

১০ বছর আগে চট্টগ্রামে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় এক পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭–এর বিচারক ফেরদৌস আরা এ আদেশ দেন।

অভিযুক্ত ওই পুলিশ পরিদর্শকের নাম মিজানুর রহমান। ঘটনার সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি কলেজের ছাত্রী তার এক বন্ধুকে নিয়ে ফয়’স লেকে বেড়াতে যান। সেখান থেকে ওসি মিজানুর রহমান ওই ছাত্রীকে জোর করে গাড়িতে তুলে নগরের চকবাজার এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ওই পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা করেন ছাত্রীর বাবা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিন পর জামিন পান ওসি মিজানুর রহমান।

ঘটনার সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত থাকলেও চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে। পরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দিন বলেন, রোববার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। আসামি মিজানুর রহমান জামিনে থেকে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার আইনজীবী আরও সময় আবেদন করেন। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে মিজানুর রহমানের জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আরও পড়ুন:
সেতুমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ১ যুগ পরও হয়নি সেতু
স্ল্যাব ধসে সেতু এখন মরণফাঁদ
৪০ লাখ টাকার সেতু, ব্যবহার শুধু সেলফি তোলায়
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’
ধসে পড়া গার্ডার নিজ খরচে পুনর্নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

সীতাকুন্ডে শ্মশানের দানবাক্স ভাঙার চেষ্টা 

সীতাকুন্ডে শ্মশানের দানবাক্স ভাঙার চেষ্টা 

সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরার মছজিদ্দা এলাকায় শ্মশানের দানবাক্স।

একটি শ্মশানের দানবাক্সের পাশে কিছু ভাঙা ইট পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই ইট দিয়ে দানবাক্স ভাঙার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শ্মশানের দানবাক্স ভাঙার চেষ্টা করছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় শ্মশানের পাশে বট গাছের নিচে রাখা পূজা দেয়ার ঘট ভেঙে দেয়া হয়।

শনিবার রাতে উপজেলার কুমিরার মছজিদ্দা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে গেছি। একটি শ্মশানের দানবাক্সের পাশে কিছু ভাঙা ইট পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই ইট দিয়ে দানবাক্স ভাঙার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। আর পাশের একটি বটগাছের নিচে রাখা একটি কলস ভাঙা দেখা গেছে। তবু আমরা বিষয়টি সিরিয়াসলি খতিয়ে দেখছি।’

আরও পড়ুন:
সেতুমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ১ যুগ পরও হয়নি সেতু
স্ল্যাব ধসে সেতু এখন মরণফাঁদ
৪০ লাখ টাকার সেতু, ব্যবহার শুধু সেলফি তোলায়
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’
ধসে পড়া গার্ডার নিজ খরচে পুনর্নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ

মিতু হত্যা: ভোলার জামিন নাকচ

মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এহতেশামুল হক ভোলা। ছবি: নিউজবাংলা

ভোলার আইনজীবী জানান, মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি এহতেশামুল হক ভোলার জামিন আবেদন নাকচ করেছে আদালত। আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

চট্টগ্রামে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি এহতেশামুল হক ভোলার জামিন আবেদন নাকচ করেছে আদালত।

রোববার বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়।

ভোলার আইনজীবী কেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আদালত জামিন আবেদন নাকচ করেছে। আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করব।’

শুক্রবার রাতে যশোরের বেনাপোল থেকে ভারতে পালানোর সময় ভোলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম শফি উদ্দীনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ভোলা।

পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে ভোলা সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতারের নির্দেশে সোর্স কামরুল শিকদার ওরফে মুছার নেতৃত্বে তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করা হয় বলে জানান। কামরুল শিকদার প্রথমে রাজি না হলে তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে বাবুল আকতার হত্যা করান বলে জবানবন্দিতে বলেন ভোলা।

আইনজীবী কেএম সাইফুল জানান, এর আগে ভোলা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছিলেন। অসুস্থ থাকার কারণে জামিনের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়। আদালত তার আবেদন নাকচ করেছে।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

শুরুতে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেয়।

বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী মিতুকে হত্যার অভিযোগে বাবুলের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই দিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ড শেষ হওয়ার পর থেকে কারাগারে আছেন বাবুল।

আরও পড়ুন:
সেতুমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ১ যুগ পরও হয়নি সেতু
স্ল্যাব ধসে সেতু এখন মরণফাঁদ
৪০ লাখ টাকার সেতু, ব্যবহার শুধু সেলফি তোলায়
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’
ধসে পড়া গার্ডার নিজ খরচে পুনর্নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন