সেই চালককে বাইক দিচ্ছেন প্রকৌশলী

সেই চালককে বাইক দিচ্ছেন প্রকৌশলী

নিজের বাইকে আগুন ধরিয়ে দেন শওকত আলম সোহেল নামের এক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

প্রকৌশলী নাসির উদ্দীন বলেন, ‘কোনো অভাবগ্রস্তকে ঋণ হিসেবে দেয়ার জন্য আমাদের একটি মোটরসাইকেল কেনা আছে। বাইকটি ওনাকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওনার হয়ে ঋণটা আমি পরিশোধ করব।’

রাজধানীতে নিজের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া পাঠাও চালক শওকত আলম সোহেলকে একটি নতুন মোটরসাইকেল দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামের এক প্রকৌশলী।

সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন নামের ওই প্রকৌশলী।

নাসির উদ্দীন শামসুল হক ফাউন্ডেশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের চেয়ারম্যান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে অভাবগ্রস্তদের বিনা সুদে ঋণ দেয়া হয়। আমরা এরই মধ্যে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বেশ কিছু দরিদ্র মানুষকে রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘সোমবার সকালে রাগে-দুঃখে ওই ব্যক্তির মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে। কোনো অভাবগ্রস্তকে ঋণ হিসেবে দেয়ার জন্য আমাদের একটি মোটরসাইকেল কেনা আছে। তাই বাইকটি ওনাকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওনার হয়ে ঋণটা আমি পরিশোধ করব। উনি মোটরসাইকেলটি বিনা মূল্যে পাবেন।’

বাইকে আগুন

রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় ট্রাফিক সার্জেন্ট মামলা দেয়ার প্রস্তুতিকালে ক্ষোভে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন শওকত আলম সোহেল নামের এক বাইকার।

সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে এ ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায় লোকসান হওয়ার পর তিনি উবারে যাত্রী টেনে সংসার চালাতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মিরাদুল মুনিম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর সেটি ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার করেন। মুহূর্তে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

তিনি লেখেন, ‘মনের কষ্টে নিজের বাইকে আগুন! কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকায় মামলা দেয় পুলিশ। তাই মনের কষ্টে গ্যাসলাইট দিয়ে নিজেই আগুন ধরিয়ে দেয় শওকত আলম সোহেল নামের এই হতভাগা আদম। আগুন নেভাতে অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ!’

ভিডিওতে দেখা যায়, বাইকে আগুন দিয়ে সোহেল উদভ্রান্তের মতো চিৎকার করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী একজন পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তখন সোহেল এসে তাকেই বাধা দেন। বলেন, ‘কেউ যাবেন না, আপনারা কেউ যাবেন না।’

অন্য একজন সোহেলকে বলেন, ‘ভাই মাথা ঠাণ্ডা করেন।’

পুলিশ জানিয়েছে, সার্জেন্ট এই ঘটনার পরে আর মামলা দেননি। আগুন নিভিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাইকচালক ও দায়িত্বে থাকা সার্জেন্টকে থানায় নেয়া হয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে জানা গেছে বাইকার শওকতের বাড়ি কেরানীগঞ্জে। করোনা সংক্রমণ শুরুর আগে তিনি স্যানিটারি সামগ্রীর ব্যবসা করতেন। এতে তার লোকসান হয়।

জীবিকা নির্বাহে শওকত দুই মাস ধরে বাইকে যাত্রী পরিবহন করতেন। তিনি অ্যাপভিত্তিক রাইড সেবা উবার ব্যবহার করতেন।

কয়েক দিন আগে পল্টনে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় একটি মামলা হয় শওকতের নামে। এ মামলার টাকা পরিশোধ করার পর সকালে আবার মামলা দিতে যাচ্ছিলেন বাড্ডা এলাকার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্ট। তখন ক্ষুব্ধ হয়ে বাইকের ট্যাংকি থেকে তেল বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন শওকত।

আরও পড়ুন:
দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন
মামলার প্রতিবাদে নিজের বাইকে আগুন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মন্দিরে হামলাকারীরা কোনো ধর্মের নয়: মেয়র আইভী

মন্দিরে হামলাকারীরা কোনো ধর্মের নয়: মেয়র আইভী

সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘ইসলামে অন্য ধর্মকে আক্রমণ করার অনুমতি নেই। যারা মন্দিরে হামলা চালিয়েছে তারা মুসলিম নন, তারা জঙ্গি। আর জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে যারা হামলা চালিয়েছে তারা কোনো ধর্মের অনুসারী নয় বলে মন্তব্য করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় বঙ্গবন্ধু সড়কে আয়োজিত এক সম্প্রীতি সমাবেশে শনিবার সকাল ১০টার দিকে এ মন্তব্য করেন আইভী।

তিনি বলেন, ‘ইসলামে অন্য ধর্মকে আক্রমণ করার অনুমতি নেই। যারা মন্দিরে হামলা চালিয়েছে তারা মুসলিম নন, তারা জঙ্গি। আর জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই।’

একটি মহল সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ধর্মীয় সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে উল্লেখ করে মেয়র আইভী বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি নষ্ট করতে মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। জড়িতদের সাজা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ আর সংগঠিত হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যারা এই অপরাধে জড়িত তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, সম্প্রীতির শহর নারায়ণগঞ্জে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করবেন না। এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বাস করে। সম্প্রীতির এই আয়োজনে আজ যারা অংশ নেননি তাদের ধিক্কার জানাই।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল কাদির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ও আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিছুর রহমান দীপু।

আরও পড়ুন:
দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন
মামলার প্রতিবাদে নিজের বাইকে আগুন

শেয়ার করুন

ব্যাপক আয়ের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ বিএসআরএম লিমিটেডেরও

ব্যাপক আয়ের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ বিএসআরএম লিমিটেডেরও

এবার কোম্পানিটি যে ব্যাপক আয় করতে যাচ্ছে, সেটি প্রতি প্রান্তিক শেষে প্রকাশিত হিসাবেই স্পষ্ট ছিল। ২০২০ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৪২ পয়সা, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৫২ পয়সা, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৬ টাকা ২৬ পয়সা আয় করে তিন প্রান্তিকে আয় ছিল ১০ টাকা ৯৩ পয়সা। শেষ প্রান্তিকে আয় হয়েছে আরও ৮ টাকা ৩ পয়সা।

বিএসআরএম স্টিলের মতোই একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি বিএসআরএম লিমিটেডও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ব্যাপক আয় করার পর।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ার প্রতি ১৮ টাকা ৯৬ পয়সা আয় করে ৫ টাকা নগদ এবং ১০ শতাংশ বোনাস, অর্থাৎ প্রতি ১০টি শেয়ারে একটি শেয়ার বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

অর্থাৎ এবার লভ্যাংশ দেয়া হচ্ছে ৬০ শতাংশ। এর মধ্যে ১০ শতাংশ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন। আর চূড়ান্ত লভ্যাংশ হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বাকিটা।

শনিবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে এই সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কখনও কোম্পানিটি এত বেশি আয় করতে পারেনি। এবারের মতো এত লভ্যাংশও দেয়া হয়নি কখনও।

তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এবারের আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ লভ্যাংশ এসেছে ২০১৯ সালে ২৫ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি আড়াই টাকা।

ব্যাপক আয়ের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ বিএসআরএম লিমিটেডেরও

এবার কোম্পানিটি যে ব্যাপক আয় করতে যাচ্ছে, সেটি প্রতি প্রান্তিক শেষে প্রকাশিত হিসাবেই স্পষ্ট ছিল। ২০২০ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৪২ পয়সা, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৫২ পয়সা, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৬ টাকা ২৬ পয়সা আয় করে তিন প্রান্তিকে আয় ছিল ১০ টাকা ৯৩ পয়সা।

তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কোনো বছরেই এবারের তিন প্রান্তিকের সমান আয় করতে পারেনি বিএসআরএম লিমিটেড। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা চতুর্থ প্রান্তিকের দিকে তাকিয়ে ছিল। এই প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করল ৮ টাকা ৩ পয়সা।

তালিকাভুক্ত হওয়ার পর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের বদলে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত যে ১৮ মাসের হিসাব করা হয়েছিল, তখনও এত বেশি আয় হয়নি।

ওই দেড় বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৬ টাকা ৮৯ পয়সা। পরের বছর আয় বেড়ে হয় ১২ টাকা ৯৫ পয়সা।

তবে এরপর দুই বছর টানা শেয়ার প্রতি আয় কমে যায়। ২০১৯ সালে আয় কমে দাঁড়ায় ৭ টাকা ৮৮ পয়সা, আর ২০২০ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ৩ টাকা ৯০ পয়সা।

আয়ে উল্লম্ফনের পাশাপাশি কোম্পানির শেয়ারদরও গত এক বছর ধরে টানা বেড়েছে। এই সময়ে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের দর সর্বনিম্ন ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১২৪ টাকা ৪০ পয়সায় উঠে।

গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১১৩ টাকা ১০ পয়সা।

২০১৭ ও ২০১৮ সালে লভ্যাংশ এসেছে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ও ১০ শতাংশ করে বোনাস। এর পরের দুই বছর কেবল নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়।

এর মধ্যে ২০১৯ সালে শেয়ার প্রতি আড়াই টাকা এবং গত বছর দেয়া হয় দেড় টাকা করে।

কোম্পানিটির আয়ের পাশাপাশি সম্পদমূল্যও বেড়েছে। গত ৩০ জুন শেয়ার প্রতি এই সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১২৭ টাকা ৫৬ পয়সা টাকা যা গত বছর জুন শেষে ছিল ৯৯ টাকা ৮৯ পয়সা।

যারা এবারের লভ্যাংশ যারা নিতে চান, তাদেরকে আগামী ১৮ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ সেদিন হবে রেকর্ড ডেট। লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন
মামলার প্রতিবাদে নিজের বাইকে আগুন

শেয়ার করুন

বাস কন্ডাক্টর যখন মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান

বাস কন্ডাক্টর যখন মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান

প্রতারণার অভিযোগে অস্ত্রসহ শাহীরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব বলছে, প্রতারণার অভিযোগ আড়াল করতে অফিসের ঠিকানা বদলান শাহীরুল। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের বদলে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বেনামী মানবাধিকার সংস্থা খুলে নিজেকে চেয়ারম্যান পরিচয় দিতেন। তিনি চাকরি দেয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত রাজধানীর সৌখিন পরিবহনে কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন শাহীরুল ইসলাম সিকদার। ২০০৩ সালে নিরাপত্তা কর্মী সরবরাহের কাজ শুরু করেন তিনি। চাকরি দেয়ার নামে করতেন প্রতারণা।

টাকা চাইতে আসলে পরিচয় দিতেন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। কোমরে ও টেবিলে রাখতেন বিদেশি অস্ত্র। অফিস ও বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে সেগুলো ব্যবহার করতেন প্রতারণার কাজে।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহীরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৪। গ্রেপ্তারের পর শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর শাহীরুলের দুই বাসায় অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান, একটি এয়ারগান, একটি এয়ার রাইফেল, ২৩৭ রাউন্ড গুলি, পাঁচটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি খালি খোসা, ২২টি কার্তুজ, চারটি ছুরি ও তিনটি ডামি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের চাকরির আবেদন ফরম, চুক্তিপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ব্যানার, প্যাড, স্ট্যাম্প, ল্যাপটপ, ডেক্সটপ, গোপন ক্যামেরা, পাসপোর্ট, ভিজিটিং কার্ড, আইডি কার্ড, নেইম প্লেট, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, পাসপোর্ট, মানি রিসিভ বই, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে র‍্যাব।

বাহিনীটি বলছে, রাজধানীতে শাহীরুলের বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট ও জমিসহ দৃশ্যমান প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার কথিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিসেস লিমিটেড, হোমল্যান্ড ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ, মানবাধিকার সংস্থা, শাহীরুল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, হোমল্যান্ড হাউজিং, হোমল্যান্ড বেভারেজ অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মাদারল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড, শাহীরুল ইসলাম বাংলাদেশ আউট সোর্সিং অ্যান্ড পাওয়ার সাপ্লাইয়ার্স অ্যাসোশিয়েশন।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, ‘শাহীরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী আমাদের কাছে অভিযোগ দেন। এদের অভিযোগের পর র‍্যাবের গোয়েন্দারা ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে আমরা জানতে পারি, শাহীরুল নিজেকে একটি কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান এবং ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেড’ নামের ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।’

‘তিনি চাকরি দেয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এসব অভিযোগে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় শাহীরুলের নিজের বাসা ও প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

যেভাবে শাহীরুলের উত্থান

র‍্যাব জানিয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক পাস শাহীরুল কর্মজীবন শুরু করেন গাড়ির ব্যবসা দিয়ে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সৌখিন পরিবহনে কন্ডাক্টারের কাজ করেছেন তিনি। এরপর শুরু করেন প্রতারণার ব্যবসা।

২০০৩ সালে নিরাপত্তা কর্মী সরবরাহ প্রতিষ্ঠান চালু করেন। এরপর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান করেন। অল্প সময়ে বিপুল টাকার লোভে ২০১৪ সালে রামপুরায় ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান খুলে শুরু করেন অর্থ আত্মসাৎ।

বাস কন্ডাক্টর যখন মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান
শাহীরুলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দেশি-বিদেশি অস্ত্র। ছবি: নিউজবাংলা

বাহিনীটি বলছে, এরপর থেকে তিনি অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হতে শুরু করেন। প্রতারণার অভিযোগ আড়াল করতে অফিসের ঠিকানা বদলান শাহীরুল। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের বদলে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বেনামী মানবাধিকার সংস্থা খুলে নিজেকে চেয়ারম্যান পরিচয় দিতেন।

এছাড়া ক্ষমতা দেখানোর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে সেগুলো দেখাতেন। এছাড়া বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি।

প্রতারণার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার ও শিক্ষিত বহু নারী-পুরুষকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ড, ড্রাইভার, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী, বিক্রয় কর্মকর্তা, লাইনম্যান হিসেবে চাকরি দেয়ার নামে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন শাহীরুল।

শাহীরুলের প্রতারনার কৌশল

র‍্যাব জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতে চাকরির চটকদার বিজ্ঞাপন দিতেন শাহীরুল। দেশের শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীরা বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে আবেদন করলে কৌশলে তার পরিচালিত কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিতেন।

এজন্য চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ১৫-২৫ হাজার টাকা জামানত হিসেবে নিতেন শাহীরুল। এছাড়া সরকারি চাকরি দেয়ার কথা বলে পাঁচ-দশ লাখ টাকা নিতেন তিনি।

র‍্যাব জানিয়েছে, নিজেকে শুটিং ক্লাবের সদস্য বলে পরিচয় দিতেন শাহীরুল। চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, ইউনিফরম ও আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবেও টাকা নেয়া হতো। এভাবে নামেমাত্র নিয়োগ দিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

পরে ভুক্তভোগীরা শাহীরুলের অফিস বা বাসায় ঘোরাঘুরি করেও টাকা ফেরত পেত না। টাকা চাইলে অবৈধ অস্ত্র দেখিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখাতেন শাহীরুল। এছাড়া নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবেও পরিচয় দিতেন তিনি।

র‍্যাব বলছে, শাহীরুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অপরাধে ডিএমপির রামপুরা থানায় চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মামলা রয়েছে।

কী পরিমাণ সম্পদ শাহীরুলের রয়েছে এমন প্রশ্নে র‍্যাব কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘২০০৩ সাল থেকে তিনি প্রতারণায় জড়িত। সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় দুটি বাড়ি, দুটি ফ্ল্যাট, দুটি গাড়ি ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় তার নামে ২৪ কাঠা জমির তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার সম্পদ আমরা পেয়েছি। তবে ব্যাংক, ফিক্সড ডিপোজিট, স্বজনদের নামে কী পরিমাণ সম্পদ আছে, সেটি এখনও জানা যায়নি।’

অস্ত্রগুলো শাহীরুল কোথায় থেকে কিনেছেন বা সংগ্রহ করেছেন সেটি জানতে চাইলে র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, ‘উনি বলেছেন, সবগুলোর লাইসেন্স রয়েছে। তবে কোনোটারই লাইসেন্স দেখাতে পারেননি।’

আরও পড়ুন:
দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন
মামলার প্রতিবাদে নিজের বাইকে আগুন

শেয়ার করুন

ভবঘুরে-উন্মাদ ইকবালকে ইন্ধন দিল কারা: প্রশ্ন গয়েশ্বরের

ভবঘুরে-উন্মাদ ইকবালকে ইন্ধন দিল কারা: প্রশ্ন গয়েশ্বরের

কুমিল্লার চকবাজার এলাকায় শনিবার মন্দির পরিদর্শন শেষে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: নিউজবাংলা

গয়েশ্বর বলেন, ‘জামায়াতকে দিনে দেখা যায় না, রাতেও দেখা যায় না, তারা কীভাবে হামলা-ভাঙচুর করতে পারে। হিন্দু-মুসলমানকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। না হয় ইন্ধনদাতাদের কেন গ্রেপ্তার করছে না সরকার?’

ভবঘুরে-উন্মাদ ইকবালকে ইন্ধন দিল কারা, এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘ইকবাল ভবঘুরে-উন্মাদ, রাস্তায় রাস্তায় ঘোরে। কারা তাকে ইন্ধন দিল, সেটা খুঁজে বের করতে হবে।’

শনিবার কুমিল্লা নগরীর চকবাজার এলাকার শ্রীশ্রী চাঁন্দমনি রক্ষাকালী মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি এ বক্তব্য দেন।

গয়েশ্বর বলেন, ‘নানুয়ার দিঘির পাড়ের ঘটনার পর সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লায় কিছু অপরিচিত যুবক বাড়িঘর, মন্দিরে হামলা-লুটপাট করে। অথচ পুলিশ মামলা দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের।

‘জামায়াতকে দিনে দেখা যায় না, রাতেও দেখা যায় না, তারা কীভাবে হামলা-ভাঙচুর করতে পারে। হিন্দু-মুসলমানকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। না হয় ইন্ধনদাতাদের কেন গ্রেপ্তার করছে না সরকার?’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অজয় রায় চৌধুরী, গৌতম রায়, দেবাশীষ চৌধুরী, অমলেন্দু দাস, সৈয়দ জাহাঙ্গীর ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন
মামলার প্রতিবাদে নিজের বাইকে আগুন

শেয়ার করুন

কাজের খোঁজে ঢাকায় এসে খোয়ালেন সব

কাজের খোঁজে ঢাকায় এসে খোয়ালেন সব

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়া তিনজনকে শনিবার ভোররাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ব্রিজের ঢালে ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা তিন কাজপ্রত্যাশী। ধারালো অস্ত্র, স্ক্রু দিয়ে তাদের আঘাত করে দুই ছিনতাইকারী। শেষে তাদের কাছে থাকা তিনটি মোবাইল, তিন হাজারের মতো টাকাও নিয়ে যায় দুই দুর্বৃত্ত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ গুলজার, জিলানী ও মুজিবুর রহমান। কাজের খোঁজে তারা ঢাকায় আসেন শুক্রবার মধ্যরাতে।

রাত তিনটার দিকে গন্তব্যে যেতে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকা থেকে গাড়ি ঠিক করছিলেন, কিন্তু ভাড়া সাধ্যের বাইরে হওয়ায় হেঁটেই রওনা হন। তাতেও দেখা দেয় বিপত্তি।

ব্রিজের ঢালে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা তিন কাজপ্রত্যাশী। ধারালো অস্ত্র, স্ক্রু দিয়ে তাদের আঘাত করে দুই ছিনতাইকারী। শেষে তাদের কাছে থাকা তিনটি মোবাইল, তিন হাজারের মতো টাকাও নিয়ে যায় দুই দুর্বৃত্ত।

কোতোয়ালি থানার পুলিশ ভোররাতে ওই তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সকালে হাসপাতাল ছাড়েন তারা।

কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ বলেন, ‘বাবুবাজার বুড়িগঙ্গা ব্রিজের ঢালে ওরা চিৎকার করছিল। তখন আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি।’

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়।

আরও পড়ুন:
দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন
মামলার প্রতিবাদে নিজের বাইকে আগুন

শেয়ার করুন

শাঁখা ভেঙে সিঁদুর মুছে সাদা শাড়িতে দিলীপের স্ত্রী

শাঁখা ভেঙে সিঁদুর মুছে সাদা শাড়িতে দিলীপের স্ত্রী

কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলায় দিলীপ দাশের মৃত্যুর পর মুছে গেছে তার স্ত্রী রুপা দাশের সিঁথির সিঁদুর, পরেছেন সাদা শাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

দিলীপের মরদেহ শুক্রবার সন্ধ্যায় টিক্কার চর শ্মশানে দাহ করার আগে মুছে দেয়া হয় রুপার মাথার সিঁদুর, ভাঙা হয় হাতের শাঁখা। রঙিন শাড়ির পরিবর্তে তিনি এখন পরছেন বিধবার সাদা কাপড়।

দুদিন আগেই পরনে ছিল রঙিন শাড়ি, মাথায় সিঁদুর আর হাতে শাঁখা। আর এখন সব রঙ মুছে দিয়ে সাদা শাড়িতে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন রুপা দাশ। স্বামীকে চিতার আগুনে পোড়ানোর আগে তার পায়ের বুড়ো আঙুলে মুছে দেয়া হয়েছে রুপার সিঁথির সিঁদুর।

কুমিল্লায় গত ১৩ অক্টোবর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় গুরুতর আহত হন দিলীপ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

দিলীপের মরদেহ শুক্রবার সন্ধ্যায় টিক্কার চর শ্মশানে দাহ করার আগে মুছে দেয়া হয় রুপার মাথার সিঁদুর, ভাঙা হয় হাতের শাঁখা। রঙিন শাড়ির পরিবর্তে তিনি এখন পরছেন বিধবার সাদা কাপড়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সহিংসতার দিন সকালে বাসায় নাস্তা সেরে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর রাজ রাজেশ্বরী কালী মন্দিরে পূজা দিতে গিয়েছিলেন দিলীপ দাশ।

নানুয়ার দিঘীর পাড়ের একটি মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার পর তখন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে নগরীজুড়ে। রাজরাজেশ্বরী কালী মন্দিরেও চলে হামলা।

সংঘাত দেখে বাসায় ফিরতে চেয়েছিলেন দিলীপ। তবে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মন্দিদের গেটের পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় হামলার শিকার হন, লুটিয়ে পড়েন মাটিতে।

রাজ রাজেশ্বরী কালী মন্দিরের পুরোহিত দুলাল চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে জানান, ১৩ অক্টোবর ওই সহিংসতার সময় মন্দির থেকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন দিলীপ। তবে বাইরে প্রচণ্ড গণ্ডগোল শুরু হওয়ায় তিনি মন্দিরের গেটের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে মন্দিরের ভেতরে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে হামলাকারীরা। এ সময় গুরুতর আহত হলে পূজারীরা আহত দিলীপকে গামছা দিয়ে মাথা বেঁধে বসিয়ে রাখেন। পরে তাকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দিলীপের স্ত্রী রুপা দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওইদিন দেড়টায় কুমিল্লা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ফোন পাই। এ সময় আমাদের বাসার সামনে পুলিশ ও হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল। পুলিশ আমাদেরকে বাইরে যেতে নিষেধ করে। এর মধ্যেই আমি এক আত্মীয়কে নিয়ে হাসপাতালে যাই।’

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। আমরা তাকে সেখানে নিলে চিকিৎসক সিটিস্ক্যান করাতে বলেন।

রুপা দাশ অভিযোগ করে বলেন, ‘এ সময় হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকায় সিটিস্ক্যান করাতে আমাদেরকে অন্তত আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ তারিখে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’

শাঁখা ভেঙে সিঁদুর মুছে সাদা শাড়িতে দিলীপের স্ত্রী
পরিবারের কাছে দিলীপ দাশ এখন কেবলি ছবি

দিলীপ দাশ ধোপার কাজ করে সংসার চালাতেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে প্রিয়া রানী দাশ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। আর ছেলে রাহুল দাশ ঢাকায় লেখাপড়া করেন।

দিলীপের মেয়ে প্রিয়া বলেন, ‘বাবার মাথায় যে আঘাত দেখেছি তাতে স্পষ্ট যে হামলাকারীরা আমার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তার মাথার খুলি ভেঙে যায়। রক্তক্ষরণ ও তাৎক্ষণিক সঠিক চিকিৎসার অভাবে আমার বাবা মারা গেছেন।’

প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। দিলীপ দাশের মেয়ে প্রিয়া জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর তেমন কেউ খোঁজখবর নিতে আসেনি।

প্রিয়া নিউজবাংলাকে জানান, তিনি দৃষ্টিপাত নাট্যদলের সদস্য। তার বাবা হামলায় আহত হওয়ার পর ওই নাট্য সংগঠন চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। এছাড়া কেউ এগিয়ে আসেনি।

শাঁখা ভেঙে সিঁদুর মুছে সাদা শাড়িতে দিলীপের স্ত্রী


দিলিপের স্ত্রী জানান, তাদের পরিবারের মূল নির্ভরশীলতা ছিল স্বামীর আয়ের উপর। পাশাপাশি একটি ছোট দোকান ভাড়া দিয়ে মাসে পাঁচ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

রুপা দাশ বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর আমরা বড় সমস্যায় পড়েছি। দোকান ভাড়ার মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় কীভাবে সংসার চলবে, দুই ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাব তা নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি।’

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আরও পড়ুন:
দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন
মামলার প্রতিবাদে নিজের বাইকে আগুন

শেয়ার করুন

তালিকাভুক্তির পর বিএসআরএম স্টিলের সর্বোচ্চ লভ্যাংশ

তালিকাভুক্তির পর বিএসআরএম স্টিলের সর্বোচ্চ লভ্যাংশ

গত বছর শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৯৭ পয়সা আয় করে দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল। সে বছর আয়ে ভাটা পড়লেও চলতি বছর করোনার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ায়। কেবল গত বছর নয়, শেষ পর্যন্ত গত পাঁচ বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ আয় করতে পারে কোম্পানিটি। শেষ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় হয় ৮ টাকা ১০ পয়সা। এর প্রায় অর্ধেক লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হবে।

এক যুগ আগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বিএসআরএম স্টিল মিলস লিমিটেড এবার সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ দেয়া হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ, আর ৩০ শতাংশ দেয়া হলো চূড়ান্ত লভ্যাংশ।

শনিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ এই লভ্যাংশ ঘোষণা করে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা এবার শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা লভ্যাংশ পেতে যাচ্ছেন। এর আগে কোম্পানিটি সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

গত বছর শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৯৭ পয়সা আয় করে দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল। সে বছর আয়ে ভাটা পড়লেও চলতি বছর করোনার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ায়। কেবল গত বছর নয়, শেষ পর্যন্ত গত পাঁচ বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ আয় করতে পারে কোম্পানিটি।

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৮ টাকা ১০ পয়সা আয় করেছে।

এর আগে অর্থবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের বদলে জুলাই থেকে জুন নির্ধারণে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত দেড় বছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৮ টাকা ৬৬ পয়সা আয় করে।

ওই দেড় বছরে বিনিয়োগকারীদের সাড়ে ৩ টাকা করে লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।

২০১৮ সালে এক বছরের হিসাবে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় হয় ৫ টাকা ২৭ পয়সা। ওই বছরে শেয়ারে এক টাকার পাশাপাশি ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়া হয় লভ্যাংশ হিসেবে।

২০১৯ সালে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ৬০ পয়সা আয় করে আড়াই টাকা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করে। পরের বছর কোম্পানিটির আয় কমে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হওয়ার পর লভ্যাংশও কমিয়ে দেয়া হয়।

তবে গত জুলাই থেকে করোনার মধ্যেই কোম্পানিটি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ৯৫ পয়সা এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও ২ টাকা ২৫ পয়সা আয় করার পরই বোঝা যায় বছরটা ভালো যাবে কোম্পানিটির।

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটি ৩ টাকা ৬৮ পয়সা আয় করে চমক দেখায়। আর তৃতীয় প্রান্তিক মিলিয়ে তখন আয় দাঁড়ায় ৬ টাকা ৮৮ পয়সা। শেষ প্রান্তিকে আয় হয়েছে ১ টাকা ২২ পয়সা।

কোম্পানিটির আয়ের পাশাপাশি সম্পদমূল্যও বেড়েছে। গত ৩০ জুন এই সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৩৮ পয়সা, যা গত বছর জুন শেষে ছিল ৫৬ টাকা ৮৪ পয়সা।

আয় ক্রমে বাড়তে থাকায় কোম্পানির শেয়ার দরেও উল্লম্ফন হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সর্বনিম্ন ছিল ৩৭ টাকা। সর্বোচ্চ দাম ছিল ৮২ টাকা ৫০ পয়সা। তবে সাম্প্রতিক দর সংশোধনে দাম কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৯ টাকা ৯০ পয়সা।

যারা এই লভ্যাংশ যারা নিতে চান, তাদের আগামী ১৮ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ সেদিন হবে রেকর্ড ডেট। লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন
মামলার প্রতিবাদে নিজের বাইকে আগুন

শেয়ার করুন