বাংলাদেশের রূপান্তরের রূপকার

বাংলাদেশের রূপান্তরের রূপকার

প্রায় দেড় যুগ ধরে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এ সময়ে শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ অনেকগুলো পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছে। গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অর্জন পুরো বাংলাদেশের রূপান্তরের রূপকার হিসেবে শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সার্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের সঠিক পথে অগ্রসরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ দেয়।

এর আগে জাতিসংঘ ঘোষিত মিলেনিয়াম গোল (এমডিজি) অর্জনে শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ অনেকগুলো পুরস্কার বা স্বীকৃতি পেয়েছে।

গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা প্রধানমন্ত্রীর এই অর্জনকে দেখছেন ভিন্ন আঙ্গিকে। তারা বলছেন, এই অর্জন পুরো বাংলাদেশের রূপান্তরের রূপকার হিসেবে শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী মানবসম্পদকে গুরুত্ব দিয়েই মূলত বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মানুষের সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়নের উপর সরকারের সফলতা নির্ভর করছে। সামগ্রিকভাবে মানবসম্পদ বিকশিত না হলে কোনো উন্নয়ন প্রক্রিয়া স্থায়িত্ব পায় না।’

তিনি বলেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের যে ধারণা, তা মূলত দেশের প্রতিটি পরিবারের বুনিয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। এই বিষয়গুলো গত একযুগ ধরে পুরো বাংলাদেশকেই পাল্টে দিয়েছে। মানব উন্নয়ন খাতে দেয়া গুরুত্ব পাল্টে দিয়েছে উন্নয়নের অন্যান্য সূচকও। এরই সূফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।’

অন্য দিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক মনে করেন, বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির গুরুত্ব যে অপরিসীম, তা প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছিলেন। যে কারণে শুরুতেই তিনি কৃষিতে অসামান্য সমর্থন দিয়ে গেছেন। ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এতে ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান শতকরা হারের হিসেবে আগের তুলনায় কমলেও, এর গুরুত্ব কমেনি। সকলের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দারিদ্র্য বিমোচনে আজও কৃষি হলো মূল চালিকাশক্তি। পাশাপাশি দেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কৃষিখাত সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে।

‘করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়নি। করোনা পরিস্থিতির মাঝেও বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ভাল অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, সাহস, দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতায়। এ কারণেই তিনি বারবার এ ধরনের পুরস্কার পাচ্ছেন।’

লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় অঙ্গীকার

অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেখ হাসিনা নিজেই বিভিন্ন সময় দাবি করেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রেও এ দেশ অগ্রণী ভূমিকা পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।

‘আমরা অতি-দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে এনেছি। শহর এবং গ্রামীণ উভয় অঞ্চলেই শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ এবং পয়ঃসেবার মতো মৌলিক বিষয়ে অধিকতর সুবিধা নিশ্চিত করেছি। বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও গত সাত বছর ধরে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ওপর ছিল। গত এক দশকে রপ্তানি আয় তিন গুণের বেশি বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৮ গুণের কাছাকাছি।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের মান অনুযায়ী গত বছর বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। আমরা এখন ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা জাতিসংঘের উচ্চাভিলাসী ২০৩০ এজেন্ডা গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশে এমডিজি বাস্তবায়নের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং এমডিজির সাফল্যের ওপর ভর করে এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। এ জন্য দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের প্রয়োজন।

‘আমি মনে করি, ২০৩০ এজেন্ডা হচ্ছে একটি সম্মিলিত পথপরিক্রমা। এর বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সরকারি এবং বেসরকারি, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক – সব উৎস থেকে অধিক পরিমাণে সম্পদের সরবরাহ প্রয়োজন। সুতরাং, শুরু থেকেই বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা বা ওডিএর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এসডিজির ১৭টি উদ্দেশ্য এবং ১৬৯টি লক্ষ্য পূরণই হবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পূর্বশর্ত।’

তিনি বলেন, ‘সরকার প্রথমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম-আয়ের জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল অর্থনীতির দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এ লক্ষ্য অর্জনের পর প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা।’

তামাক ব্যবহারে অনীহা

এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে এক সময় তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য মতে, দেশে তামাকসেবীদের মধ্যে অসুস্থ হওয়াদের মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। দেশকে রোগমুক্ত করতে তামাকের ব্যবহার শূন্যে নামানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার এবং শ্রীলংকায় তামাক গ্রহণকারীর মোট সংখ্যা প্রায় ৩৮৩ মিলিয়ন। এটা বিশ্বের মোট ১.১ বিলিয়ন তামাক গ্রহণকারীর সংখ্যার প্রায় ৩৪.৮% অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এসব দেশে তামাকজনিত আর্থিক এবং স্বাস্থ্যগত ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। শুধু ভারত এবং বাংলাদেশে তামাক গ্রহণজনিত কারণে প্রতি বছর কমপক্ষে ১.১ মিলিয়ন (১১ লাখ) মানুষ মারা যায়।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৩ সালের তামাক জাতীয় পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন এবং ২০১৫ সালের বিধি অনুসরণ করে আগামী মার্চ থেকে তামাকজাত পণ্যের মোড়কে ছবি সংবলিত সতর্কবার্তা সংযোজন করা হচ্ছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মকাণ্ড সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল গঠন করেছে।

২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তামাকের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে চায়।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক স্বতন্ত্র চরিত্র দাঁড় করিয়েছে বলে মনে করেন অ্যাম্বাসেডর ওয়ালিউর রহমান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না – প্রধানমন্ত্রীর এই হুঙ্কার এ অঞ্চলের ভূরাজনীতির চিত্র পরিবর্তন করে দিয়েছে।

‘শেখ হাসিনার দর্শন হলো বর্তমান বিশ্ব একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এ জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই।’

অন্যদিকে মানবিক বিবেচনায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন ‘চ্যানেল ফোর’ এ জন্য তাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ নামে আখ্যায়িত করে।

কেবল নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো নয়, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি করে ইতিহাস রচনা করেন তিনি। এর জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেসকো তাকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।

আবার ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়ন করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ২০১০ সালে টাইম সাময়িকীর অনলাইন জরিপে তিনি বিশ্বের সেরা ১০ ক্ষমতাধর নারীর মধ্যে ষষ্ঠ স্থানের অধিকারী ছিলেন।

২০১৫ সালে বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় শেখ হাসিনার অবস্থান ৫৯তম। ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি ৩০টির বেশি পুরস্কার ও পদক অর্জন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালে ‘মাদার তেরেসা’ পদক প্রদান করে। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা পালনের জন্য শেখ হাসিনাকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ইউনেসকো কর্তৃক তিনি ‘শান্তির বৃক্ষ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনাকে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ-২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

রূপান্তরের কারিগর

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল কারিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সে জন্যই জাতিসংঘের নানা সংগঠন থেকে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। তার সরকারের গত ১২ বছরের উন্নয়ন চিত্রে রয়েছে নানান বৈচিত্র্য এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের সাফল্য।

‘শিক্ষা খাতে জোট সরকারের আমলের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায়নে নারীরা এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে জাতীয় বাজেটের আকার ও জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রিকশাচালক, দিনমজুর, পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম মাসিক বেতন বেড়েছে, সামরিক-বেসামরিক বেতন-ভাতা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, মাথাপিছু আয়, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক সূচকে যেমন উন্নতি হয়েছে, তেমনি সমুদ্র বিজয় ও ব্লু-ইকোনমি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

‘এ ছাড়া রয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরিতে এবং স্যাটেলাইট যুগে বাংলাদেশের প্রবেশের সাফল্য। আরও রয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী মজবুত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ। মূলত স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি খাত, যোগাযোগব্যবস্থা, আলেম-ওলামাদের কর্মসংস্থান ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন, শিল্প খাতে উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং পরিবেশ রক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে উন্নয়নশীল দেশের এসডিজির সূচকগুলো অর্জন ত্বরান্বিত হয়েছে।’

এসডিজিতে বাংলাদেশ

জাতিসংঘ ২০১৫ সালে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) গ্রহণ করে। এটি ১৫ বছর মেয়াদি। এর উদ্দেশ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে ১৭টি অভীষ্ট নির্ধারণ করা হয়। আর ১৬৯টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

জাতিসংঘ এর আগে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) গ্রহণ করেছিল। এরপরই এসডিজি আসে। এসডিজির লক্ষ্যগুলোর মধ্যে দারিদ্র্য দূর করা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুস্বাস্থ্য, উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত ও লিঙ্গবৈষম্য প্রতিরোধ অন্যতম।

বাংলাদেশের রূপান্তরের রূপকার
এসডিজির নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘এসডিজি প্রগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

এসডিজির এবারের সূচকে বাংলাদেশের সার্বিক স্কোর ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছর এ স্কোর ছিল ৬৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০১৫ সালে যখন এসডিজি গৃহীত হয়, তখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। বিশ্বের ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে।

এবারের তালিকায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ফিনল্যান্ড। দেশটির স্কোর ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এর পরের চার দেশ হলো সুইডেন (৮৫.৬ শতাংশ), ডেনমার্ক (৮৪.৯ শতাংশ), জার্মানি (৮২.৫ শতাংশ) ও বেলজিয়াম (৮২.২ শতাংশ)। আর সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের স্কোর ৩৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। এর আগে আছে দক্ষিণ সুদান ও চাদ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ৭০তম স্থানে আছে ভুটান। এরপর আছে মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল। এদের অবস্থান যথাক্রমে ৭৯, ৮৭ ও ৯৬তম।

সামাজিক বিভিন্ন অগ্রগতির সূচকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিবিড় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্রঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে তার ভূমিকা, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের করা মন্তব্য এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেবার মতো সাফল্য আছে বাংলাদেশের। বিশেষত শিক্ষাসুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার ও জন্মহার কমানো, গরিব মানুষের জন্য শৌচাগার ও স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম অন্যতম।

কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা

চলতি জাতিসংঘ অধিবেশনে এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘এই বৈশ্বিক মহামারি থেকে টেকসই উত্তরণের ওপরই এসডিজির সাফল্য নির্ভর করছে। এখন বিশ্বের সব জায়গায় ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি এবং তা অতি জরুরি।’

দ্বিতীয় প্রস্তাবনায় তিনি বলেন, ‘২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে আমাদের সম্পদের যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা অবশ্যই কমাতে হবে।’

তৃতীয় প্রস্তাবনায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘চলমান বৈশ্বিক মহামারির অভিঘাতের কারণে ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বাড়ছে, তার জন্য আমরা উদ্বিগ্ন।’

পরিস্থিতি উত্তরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনীর ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

চতুর্থ প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের বিপর্যয় বা দুর্যোগ মোকাবিলায় জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণকে পূর্ণতা দেবে।’

পঞ্চম ও সবশেষ প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নে অবশ্যই পর্যবেক্ষণ জোরদার করা ও যান্ত্রিক সহায়তার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে।’

এ বিষয়ে জাতিসংঘের সমন্বয় বাড়ানো উচিত জানিয়ে জরুরি পরিস্থিতি ও বিপর্যয় মোকাবিলায় যথাযথ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা।

২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনকে ‘একটি বৈশ্বিক চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার অন্তর্ভুক্তিতে টেকসই বৈশ্বিক উন্নয়নের একটি ব্লুপ্রিন্ট এটি। কোনো দেশ একা এই এজেন্ডা অর্জন করতে পারবে না। এই এজেন্ডা অর্জনে আমাদের বৈশ্বিক সহযোগিতা ও সংহতি বাড়াতে হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে উপহার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনন্দনবার্তা জাপার
ওয়াশিংটনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
সমালোচকদের জন্য করুণা ছাড়া কিছুই নেই: প্রধানমন্ত্রী
জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার, ফেস্টুন-তোরণে ভরে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতা-কর্মীদের নামে শুভেচ্ছাবার্তার ফেস্টুন ও তোরণ দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে, বিশেষ করে শহরে যেদিকেই তাকানো হোক শুধু ব্যানার-পোস্টার আর ফেস্টুন। সে সঙ্গে জেলার মহাসড়ক থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, তৈরি করা হয়েছে বড় বড় তোরণ।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সে সভাকে ঘিরেই এমন সাজ সাজ অবস্থা।

১৭ বছর পর যুবলীগের কমিটি গঠনের যে গুঞ্জন সেটি এই বর্ধিত সভায় আলোচনা হবে। এ জন্য সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে শহর ছেয়ে ফেলেছেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম।
জেলা শহর ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রবেশপথ আশুগঞ্জ থেকে শুরু শহরের কাউতলী, টিএ রোড, কালীবাড়ির মোড়, কুমাড়শীল মোড়, কোর্ট রোড, সাবরেজিস্ট্রার অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজের ভবনে লাগানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন।

একইভাবে সার্কিট হাউস এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও লাগানো হয়েছে ব্যানার ও তোরণ।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতা-কর্মীদের নামে শুভেচ্ছাবার্তার ফেস্টুন ও তোরণ দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর এলাকায় তোরণ লাগিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সভাপতি ভিপি হাসান সারোয়ার। তিনি যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী।

শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর পর বর্ধিত সভা হচ্ছে। তা নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। তা ছাড়া কমিটি নিয়েও জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন কেন্দ্রীয় নেতারা। নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জ থেকে শুরু করে জেলা শহরের প্রধান সড়ক পর্যন্ত ২৬টি তোরণ বসিয়েছি। তা ছাড়া শহরজুড়েই টাঙিয়েছি ব্যানার ফেস্টুন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন বছরের জন্য ২০০৪ সালের ২৮ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটি গঠন হয়েছিল। ১৭ বছর পার হলেও নতুন কমিটি হয়নি। এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ৪ বার হয়েছে। তাতে সাবেক ছাত্রলীগের নেতারাও পদহীন আছেন দীর্ঘদিন।

২০০৪ সালে অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সে কমিটি ঘোষণার প্রায় এক বছর পর ২০০৫ সালের ১৮ জুন কেন্দ্রীয় যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম তিন বছর মেয়াদে এই কমিটির অনুমোদন দেন।

তবে সে কমিটি তিন বছরের জন্য অনুমোদন দেয়া হলেও ১২ বছর পার হয়। পরে জেলা যুবলীগের কমিটির সভাপতি মাহবুবুল আলম খোকন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চলে যান।

এরপর সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাহনুর ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।
এদিকে যুবলীগের কমিটির অপেক্ষায় বসে ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীরা। এবার নতুন কমিটিতে তারা পদ পাবেন বলে প্রত্যাশার কথা জানান।

সে জন্য বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন ১৪ জন প্রার্থী।

নতুন কমিটিতে সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস, সৈয়দ এহতেশামুল বারী তানজিল, হাজি মাহমুদুল হক ভূইয়া,হাসান সারোয়ার, জাহাঙ্গীর আলম, আলী আজম, শাহসুদ আলম, হাবিবুর রহমান পারভেজ, মাসুম বিল্লাহসহ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে বিভিন্ন প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, ‘নানা কারণে ২০১৪ সালের পর আর সম্মেলন হয়নি। আমরা যেসব কমিটি দিয়েছিলাম সবগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, আখাউড়া ও আশুগঞ্জ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়েছিল তিন মাসের জন্য। তারও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।’

তিনি জানান, জেলায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় কমিটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে উপহার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনন্দনবার্তা জাপার
ওয়াশিংটনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
সমালোচকদের জন্য করুণা ছাড়া কিছুই নেই: প্রধানমন্ত্রী
জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই

শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরের সেই তাহের বাদ, নৌকা পেলেন মাসুম

লক্ষ্মীপুরের সেই তাহের বাদ, নৌকা পেলেন মাসুম

আবু তাহের (বাঁয়ে), মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হলো এখন মূল কাজ। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আলোচনায় আসা লক্ষ্মীপুরের সেই আবু তাহেরকে এবার পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ পদে দল এবার আস্থা রেখেছে জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়ার ওপর।

শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়।

আগামী ২৮ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ভোট।

দলের নেতা-কর্মীরা জানান, আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। দলীয় মনোনয়নে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় টানা দুবার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় তিনি সারা দেশে আলোচনায় আসেন।

গত ১০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য আবু তাহেরের নাম বাদ দিয়ে ১০ নেতার নাম কেন্দ্রে জমা দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। তাহেরকে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন না দেয়ার অনুরোধ করে দলের সভাপতির কাছে চিঠি দেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

সাবেক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দীন চৌধুরীসহ চার নেতা চিঠিতে সই করেন।

এ বিষয়ে একাধিকবার আবু তাহেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় মনোনয়ন চেয়ে তিনি পাননি। সেটা দলের সিদ্ধান্ত। এর বাইরে কোনাে কথা বলতে রাজি হননি কেউ।

মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া জানান, দল এবার তাকে মূল্যায়ন করেছে। দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন। এ ছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকে সব কর্মসূচি পালন করেছেন। যখন যেভাবে সুযোগ পেয়েছেন এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হলে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন তিনি।

মাসুম জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি প্রয়াত আ ন ম ফজলুল করিমের ভাগনে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হলো এখন মূল কাজ। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে উপহার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনন্দনবার্তা জাপার
ওয়াশিংটনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
সমালোচকদের জন্য করুণা ছাড়া কিছুই নেই: প্রধানমন্ত্রী
জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই

শেয়ার করুন

শনিবার উপজেলা দিবস পালন করবে জাতীয় পার্টি 

শনিবার উপজেলা দিবস পালন করবে জাতীয় পার্টি 

বরিশালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ। ফাইল ছবি

জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম জানান, এরশাদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন চাওয়া হবে তাদের নানা আয়োজনে।

দলীয় প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে যে উপজেলা পরিষদের প্রতিষ্ঠা হয়, সেই দিনটি দিবস হিসেবে পালন করতে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি।

১৯৮৪ সালের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি থাকাকালে এরশাদ উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন।

দিবসটিকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভাসহ সারা দেশে দলীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি।

জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম জানান, এরশাদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন চাওয়া হবে তাদের নানা আয়োজনে।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বেলা সাড়ে ৩টায় ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আলোচনা সভা হবে। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। বক্তব্য রাখবেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ দলের শীর্ষ নেতারা।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে উপহার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনন্দনবার্তা জাপার
ওয়াশিংটনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
সমালোচকদের জন্য করুণা ছাড়া কিছুই নেই: প্রধানমন্ত্রী
জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই

শেয়ার করুন

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী

পত্নীতলার নজিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন সহ্য করতে না পেরে সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে বিএনপি। কোরআন অবমাননা ও মন্দিরে হামলা তারই অংশ।

আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

নওগাঁর পত্নীতলার নজিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যারা নির্বাচনে অংশ নেয় না, তারাই গণতন্ত্রের হত্যাকারী। এ হত্যার দায়ে গণ-আদালতে তাদের বিচার হওয়া উচিত। নির্বাচনে না এসে প্রমাণ করেছে তারাই গণতন্ত্রের মূল হত্যাকারী।

বিএনপি-জামায়াতকে উদ্দেশ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন সহ্য করতে না পেরে সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে বিএনপি। কোরআন অবমাননা ও মন্দিরে হামলা তারই অংশ। কোনো অপশক্তি দেশ ও জাতির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে দেশের কল্যাণে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সম্মেলনের সময় নেতা হতে সবাই ব্যস্ত হয়ে যান। সম্মেলন শেষ হলে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব করা যাবে না।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, সাংসদ শহিদুজ্জামান সরকার, ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন।

পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক চৌধুরীকে সভাপতি ও আবুল গাফফারকে সাধারণ সম্পাদক করে পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে উপহার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনন্দনবার্তা জাপার
ওয়াশিংটনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
সমালোচকদের জন্য করুণা ছাড়া কিছুই নেই: প্রধানমন্ত্রী
জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই

শেয়ার করুন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য আগুন উসকে দেয়ার মতো

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য আগুন উসকে দেয়ার মতো

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার সকালে সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় পার্টির ঢাকা দক্ষিণ শাখা। ছবি: নিউজবাংলা

জি এম কাদের বলেন, ‘আমার এত বয়স হয়েছে, আমি কখনো দুর্গাপূজায় কোনো রকম সমস্যা দেখি নাই। আমাদের দেশে একই সঙ্গে পূজাও হয়, আবার মসজিদে নামাজও হয়। সেখানে আমরা দেখলাম একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র।’

রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বক্তব্য এ সময়ে আগুনে উসকে দেয়ার মতো বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার সকালে জাতীয় পার্টির ঢাকা দক্ষিণ শাখা আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সমাবেশে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘কাকতালীয়ভাবে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী হঠাৎ করে কিছু বেফাঁস কথা বলে ফেললেন। এটা অনেকটা আগুন উসকে দেয়ার মতো। সরকারের উচিত জড়িতদের খুঁজে দেখা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতীকীভাবে সম্প্রীতি সভার আয়োজন করেছি। এই দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।

‘সব উৎসব আমরা একসঙ্গে পালন করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল।’

সম্প্রতি তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করার সমালোচনা করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ভাইরাল হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইসলাম আমাদের রাষ্ট্রীয় ধর্ম না। এটা বিশ্বাস করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সংবিধান লিখে গেছেন, সেই সংবিধানই থাকবে। এটার কোনো পরিবর্তন ওই এরশাদ, জিয়াউর রহমান, ওই সব মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর...এসব স্বৈরাচারের শাসনামল ইতিহাস থেকে মুছে দেয়া হয়েছে আদালতের রায়ে। ওগুলো চলবে না। এই বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। বাহাত্তরের সংবিধানেই আমরা ফিরে যাব।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘আমার এত বয়স হয়েছে, আমি কখনো দুর্গাপূজায় কোনো রকম সমস্যা দেখি নাই। আমাদের দেশে একই সঙ্গে পূজাও হয়, আবার মসজিদে নামাজও হয়। সেখানে আমরা দেখলাম একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র।

‘একটি দেবতার মূর্তির পায়ের নিচে কোরআন শরিফ রাখা হয়েছে। এটা কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী করতে পারে না। তারা তাদের এই উৎসবকে নষ্ট করবে নিজের হাতে, এটা বিশ্বাস করা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো মুসলমান যদি সত্যিকারের মুসলমান হয়, তাহলে সে কোরআন শরিফের অবমাননা করতে পারে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল থেকে নিন্দা জানানো হচ্ছে। আমাদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ছিল। তা নেতিবাচক ভাবমূর্তিতে পরিণত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে উপহার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনন্দনবার্তা জাপার
ওয়াশিংটনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
সমালোচকদের জন্য করুণা ছাড়া কিছুই নেই: প্রধানমন্ত্রী
জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই

শেয়ার করুন

সবকিছু বেরিয়ে এলে ফখরুলের মুখ চুপসে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

সবকিছু বেরিয়ে এলে ফখরুলের মুখ চুপসে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো তারা পাশের দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়েছিল। কোরআন শরিফ যে একজন মুসলমান যুবক রেখেছিল, সেটি তো তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সে ধরা পড়লে বোঝা যাবে কার ইন্ধনে এটি করেছে। এটিই তো ঘটনার সূত্রপাত। যখন সবকিছু বেরিয়ে আসবে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখটা চুপসে যাবে।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখ চুপসে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো তারা পাশের দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়েছিল। কোরআন শরিফ যে একজন মুসলমান যুবক রেখেছিল, সেটি তো তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সে ধরা পড়লে বোঝা যাবে কার ইন্ধনে এটি করেছে। এটিই তো ঘটনার সূত্রপাত। যখন সবকিছু বেরিয়ে আসবে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখটা চুপসে যাবে।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনার জন্য আবারও বিএনপি-জামায়াতকেই দায়ী করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এই হামলা আসলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নয়, এটি বাংলাদেশের চেতনার মূল বেদিমূলের ওপর হামলা। এটি সরকারের ওপরও হামলা। কারণ এটি করে তারা সরকারকে দোষারোপ করতে চেয়েছিল। পাশাপাশি একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমাদের যে ভালো সম্পর্ক, সেটি নষ্ট করতে চেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ যখন স্থিতিশীল, তখন আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, সেটির ওপর কালিমা লেপনের হীন উদ্দেশ্যেই আজকের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের সরকার দৃঢ়ভাবে সেটি দমন করেছে।

‘সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য আমাদের দল অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্য হীন। তারা আরও এ ধরনের গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করবে। আমি নেতা-কর্মীদের অনুরোধ জানাব, আপাতত এই দুষ্কৃতকারীরা নিবৃত্ত হয়েছে মনে হলেও আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, তারা দেশে হানাহানি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিছুটা সফল হয়েছে, আরও চেষ্টা চালাবে। দলের নেতা-কর্মীদের হিন্দু সম্প্রদায় ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পাশে থাকার অনুরোধ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা মনে করি কেউ সংখ্যালঘু নয়। সবার রক্তস্রোতের বিনিময়ে এ দেশ অর্জিত হয়েছে। এ দেশ সবার। ধর্ম যার যার দেশ সবার। সেই চেতনায় আমরা বিশ্বাস করি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জোট থেকে অনেকে পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দল থেকেও অনেকে বের হয়ে গেছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতি অবশ্যই সরকার চায়। যেকোনো সরকারের সেটিই কামনা। এ দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে বিএনপি-জামায়াত।’

তিনি বলেন, ‘ভোট এলে ভারতবিরোধী স্লোগান কারা দেয়? বিএনপি। হিন্দু সম্প্রদায়কে ভোটকেন্দ্রে যেতে বারণ কারা করে? এই বিএনপি-জামায়াতই করে।’

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে উপহার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনন্দনবার্তা জাপার
ওয়াশিংটনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
সমালোচকদের জন্য করুণা ছাড়া কিছুই নেই: প্রধানমন্ত্রী
জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই

শেয়ার করুন

খালেদার ১১ মামলার শুনানি ২২ নভেম্বর

খালেদার ১১ মামলার শুনানি ২২ নভেম্বর

ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নেয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাসহ মোট ১১ মামলার শুনানির তারিখ একসঙ্গে ঠিক করেছে আদালত।

আগামী ২২ নভেম্বর এই ১১ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলাগুলো শুনানির জন্য তারিখ ঠিক ছিল। তবে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার পক্ষে অধিকাংশ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে জানিয়ে সময় আবেদন করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে পরের শুনানির জন্য আগামী ২২ নভেম্বর তারিখ ঠিক করেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা।

যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নেয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করা হয়।

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম নামে এক যাত্রী।

ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক এসআই কে এম নুরুজ্জামান।

একই বছরের ৬ মে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক বশির আহমেদ।

অন্যদিকে ২০১৫ সালে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে আটটি মামলা করা হয়। এই আট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।

২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে মামলাগুলোয় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সব মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে খালেদা জিয়া মামলাগুলোয় আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে উপহার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনন্দনবার্তা জাপার
ওয়াশিংটনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
সমালোচকদের জন্য করুণা ছাড়া কিছুই নেই: প্রধানমন্ত্রী
জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই

শেয়ার করুন