শেখ হাসিনা এক সংগ্রামী উপাখ্যানের নাম: তথ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনা এক সংগ্রামী উপাখ্যানের নাম: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এক সংগ্রামী উপাখ্যানের নাম, এক জীবন্ত কিংবদন্তির নাম। তার নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, অর্থনৈতিক মুক্তি এসেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথে আমরা বহুদূর এগিয়ে গেছি তার নেতৃত্বেই। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র তার কারণেই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র বলে মনে করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে তথ্য অধিদপ্তর সংকলিত ‘আলোকচিত্র অ্যালবাম’-এর মোড়ক উন্মোচনকালে সোমবার তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এক সংগ্রামী উপাখ্যানের নাম, এক জীবন্ত কিংবদন্তির নাম। তার নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, অর্থনৈতিক মুক্তি এসেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথে আমরা বহুদূর এগিয়ে গেছি তার নেতৃত্বেই। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র তার কারণেই।’

প্রধানমন্ত্রী জন্মদিন পালনে আগ্রহী নন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২৮ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুকন্যার জন্মদিন। আমি কিছুদিন তার ব্যক্তিগত সহকারী ছিলাম। আমি দেখেছি, তিনি নিজের ঘরে জন্মদিন পালন করেন না, কেক কাটেন না। কোনো অনুষ্ঠানেও যেতে চান না। তাকে না জানিয়েই আমরা দলের পক্ষ থেকে জন্মদিন পালন করি।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ছোটবেলা থেকে সংগ্রামী। তার ছোটবেলায় বেশির ভাগ সময় বঙ্গবন্ধু জেলে ছিলেন। বাবাকে সব সময় তিনি কাছে পাননি, তার বিয়ের সময়ও বঙ্গবন্ধু জেলে ছিলেন। তার সন্তান হওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু ফাঁসির মঞ্চে। সে জন্য সংগ্রাম করেই তিনি বড় হয়েছেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ৪০ শতাংশ থেকে দারিদ্র্য ২০ শতাংশে নেমেছে। উন্নয়নের ধারায় আকাশ থেকে এখন ঢাকা, চট্টগ্রাম চেনা যায় না। এটা তার জাদুকরী নেতৃত্বের কারণে।

তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনে সংবাদপত্র, বিটিভি ও বেতারে থাকছে বিশেষ আয়োজন। তিনদিনব্যাপী আয়োজনে মোট ১৪টি অনুষ্ঠান হবে।

সচিবালয়ে পিআইডি সম্মেলন কক্ষের এ অনুষ্ঠানে প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহেনুর মিয়া সভাপতিত্ব করেন।

আরও পড়ুন:
ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী
বিশ্বনেতাদের প্রশংসা বিএনপির সহ্য হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২৬ জেলায় বাড়তি সতর্কতা জারি

২৬ জেলায় বাড়তি সতর্কতা জারি

কুমিল্লার ঘটনার পর সড়কে টহল দিতে দেখা যায় বিজিবি সদস্যদের। ছবি: নিউজবাংলা

উত্তরাঞ্চলের একটি জেলার পুলিশ সুপার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সামনে ঈদে মিল্লাদুন্নবী, লক্ষ্মীপূজা, বৌদ্ধদের আরেকটা উৎসব রয়েছে। সেগুলোতে যেন এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।’

দেশের ২৬ জেলার পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। কুমিল্লার ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় যে সহিংসতা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্য নানা ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং ঈদে মিল্লাদুন্নবী, সনাতন ধর্মাবলম্বীদে লক্ষ্মী পূজা ও বৌদ্ধদের প্রবারণা পূর্ণিমাকে সামনে রেখে এই বাড়তি সতর্কতার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের কর্মকর্তারা।

আগামী ১০ দিন এ বাড়তি সতর্কতা থাকবে। এ সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে ধাপে ধাপে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি কমিয়ে আনা হবে। আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে না হলে সতর্কতার মেয়াদ আরও বাড়বে।

থানা এলাকায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সাইবার মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রামে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে কথা বলা হয়েছে। এই কাজে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

যেসব জেলাতে সতর্ক করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রংপুর বিভাগের সাতটি জেলা রয়েছে। এগুলো হলো পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী। রাজশাহী বিভাগের রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা। খুলনা বিভাগের জেলা রয়েছে পাঁচটি। এগুলো হলো: বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাগুরা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ।

যে জেলা থেকে ঝামেলার শুরু, সেই কুমিল্লা ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী ও কক্সবাজার। ঢাকা বিভাগে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের একটি জেলার পুলিশ সুপার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সামনে ঈদে মিল্লাদুন্নবী, লক্ষ্মীপূজা, বৌদ্ধদের আরেকটা উৎসব রয়েছে। সেগুলোতে যেন এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।’

কুমিল্লার ঘটনার পর থেকেই সব ইউনিটকে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে নানা নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে বলে জানান, ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে শুরু থেকেই আমাদের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সভা করার জন্য, নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়, এমন কিছু যেন না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। অনলাইনে মনিটরিং বাড়াতে বলা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রত্যেক থানায় টহল বাড়ানো হয়েছে। বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কথা বলব।

‘এর আগে আমরা বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে বাল্য বিবাহ, নারী নির্যাতন বন্ধে কথা বলতাম। এখন এই বিষয়টা সামনে রাখা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে জেলা প্রশাসন মিলে ধর্মীয় নেতা, ইমামদের ডেকেছিলাম। বলেছি, তারা যেন প্রতি ওয়াক্ত নামজের পরে বা আগে, জুমার নামাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলে।

‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ হচ্ছে ইসলাম। এ বিষয়ে হাদিসগুলো মানুষকে বলার অনুরোধ করা হয়েছে।’

নতুন কোনো নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনার পরপরই আমরা অনেকগুলো নির্দেশনা পেয়েছি। সে অনুযায়ী আমাদের কাজ চলছে। সেজন্য আমাদের থানার পেট্রোল সজাগ আছে, গোয়েন্দারা কাজ করছে।’

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ কেন্দ্রিক অপ্রীতিকর ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭১টি মামলা হয়েছে। আরও কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সারা দেশে ইতোমধ্যে ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় মন্দির ও বাড়িঘর ভাঙচুর এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৭১টি মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।

মঙ্গলবার র‍্যাব সদরদপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আজ পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপে কোনো কিছু ঘটেনি। কিন্তু এবার দেখছি অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। আসলে ঘটানো হয়েছে। কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে কিছু উগ্র মানুষ হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করেছে। সেখানে পুলিশকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হয়েছে। সেখানে চার জন মারা গেছেন। আজ আরেকজন মেডিক্যালে মারা গেছেন।

‘কেন এই হত্যাকাণ্ড, কেন এই মৃত্যু? কার উদ্দেশ্য সফল হওয়ার জন্য এই মৃত্যু? আমরা দেখলাম এক অল্প বয়সী ছেলে ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দিয়েছে। সেটা কেন্দ্র করে সহিংসতা। আমাদের পুলিশবাহিনী তার বাড়ি ঘর রক্ষায় সর্বত চেষ্টা করেছে। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু ইতোমধ্যে তার পাশের গ্রামে অগ্নিসংযোগ লুটপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। এটার আমরা নিন্দা জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী
বিশ্বনেতাদের প্রশংসা বিএনপির সহ্য হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

শোবার ঘরে আগুন: ভাইয়ের পর বোনের মৃত্যু

শোবার ঘরে আগুন: ভাইয়ের পর বোনের মৃত্যু

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত দুই ভাইবোন। ছবি: নিউজবাংলা

শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল ইসলাম জানান, খাদিজা ও আয়েশাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানেই মঙ্গলবার রাতে চার বছর বয়সী আয়েশার মৃত্যু হয়। তার মা এখনও সেখানে চিকিৎসাধীন।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে তিনতলা একটি ভবনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ভাইয়ের পর বোনেরও মৃত্যু হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মারা যায় আয়েশা।

শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শ্রীনগর উপজেলার কুকুটিয়া ইউনিয়নের পূর্ব মুন্সীয়া গ্রামে সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনতলা একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় শোবার ঘরে আগুন লাগে। ধোঁয়া দেখে ও চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ভেঙে খাদিজা আক্তার মিম ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। চিকিৎসক এক বছর বয়সী আয়াতকে মৃত ঘোষণা করেন।

খাদিজা ও আয়েশাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানেই মঙ্গলবার রাতে চার বছর বয়সী আয়েশার মৃত্যু হয়। তার মা এখনও সেখানে চিকিৎসাধীন।

পরিদর্শক কামরুল ইসলাম জানান, মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন:
ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী
বিশ্বনেতাদের প্রশংসা বিএনপির সহ্য হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

গাঁজা-হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ‘কারবারি’ কারাগারে

গাঁজা-হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ‘কারবারি’ কারাগারে

গাঁজা ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার রতন মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

কোতোয়ালি থানাধীন ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব রহমান জানান, রতন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত। নিজে সেবনের পাশাপাশি তিনি গাঁজা ও হেরোইন বিক্রি করেন।

ময়মনসিংহ সদরে মাদকসহ গ্রেপ্তার এক কারবারিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ময়মনসিংহ মূখ্য বিচারিক হাকিমের ১ নম্বর আমলি আদালতে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তোলা হলে বিচারক আব্দুল হাই তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তার নাম রতন মিয়া। ৫০ বছর বয়সী রতনের বাড়ি মালগুদাম রেলওয়ে কলোনি এলাকায়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস।

তিনি জানান, আদালতে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলে, বিচারক আগামী বৃহস্পতিবার শুনানির দিন নির্ধারণ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কোতোয়ালি থানাধীন ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব রহমান জানান, রতন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত। নিজে সেবনের পাশাপাশি তিনি গাঁজা ও হেরোইন বিক্রি করেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১টার দিকে রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে জব্দ হয় ১৪ কেজি গাঁজা ও ২০ গ্রাম হেরোইন। পরে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে, বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:
ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী
বিশ্বনেতাদের প্রশংসা বিএনপির সহ্য হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ভুয়া তথ্য: বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিলের টুইটার বন্ধ

ভুয়া তথ্য: বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিলের টুইটার বন্ধ

নিজেদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মুখপাত্র দাবি করা বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিলের টুইটার অ্যাকাউন্ট চালু করা হয় চলতি বছর জানুয়ারিতে। টুইটার অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি আর কোনো প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ‘বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিল’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ।

ওই টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন ধরনের ভুয়া তথ্য, ছবি ও ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ পায় টুইটার।

নিজেদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মুখপাত্র দাবি করা বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিলের টুইটার অ্যাকাউন্ট চালু করা হয় চলতি বছর জানুয়ারিতে।

টুইটার অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি আর কোনো প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ওই অ্যাকাউন্ট থেকে গত কিছু দিন ধরে ক্রমাগত বিভিন্ন মন্দিরে হামলা চালানোর ছবি ও তথ্য শেয়ার করা হচ্ছিল।

সংগঠনটির টুইটারে চলতি বছরে সব মিলিয়ে ৩৮৬টি টুইট করা হয়েছে।

অ্যাকাউন্টটির ফেরিফায়েড টুইটারে ২৭ হাজার ফলোয়ার ছিল।

বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্য সংঘ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় কাজ করে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

কুমিল্লায় দুর্গাপূজার সময় এক মণ্ডপে কোরআন রাখার অভিযোগে হামলা চালিয়ে মণ্ডপ ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়। এরপর দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনাতে বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিল অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া তথ্য ও ছবি ছড়ানোর অভিযোগ পায় টুইটার।

আরও পড়ুন:
ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী
বিশ্বনেতাদের প্রশংসা বিএনপির সহ্য হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনেও সক্রিয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনেও সক্রিয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

পীরগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, কিছু নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল সন্দেহজনক রাজনৈতিক মাইলেজ অর্জনের জন্য এই ধরনের হামলা চালাচ্ছে। এটা দুঃখজনক যে, ৫০ বছর পরও বাংলাদেশের স্বাধীনতারবিরোধী স্থানীয় উপাদানগুলো এখনও সহিংসতা, বিদ্বেষ ও গোঁড়ামিকে উস্কে দিতে তাদের বিষাক্ত বর্ণনা প্রচার করছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে হামলাসহ অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে সরকার বদ্ধপরিকর। সব ধরনের ‘মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে’ দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে এ নিয়ে নতুন করে জটিলতা বা ভুল-বোঝাবুঝি এড়ানো যেতে পারে বলে সরকার মনে করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে এখনেও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। মানুষ যখন আনন্দের মেজাজে দুর্গাপূজা উদযাপন করছিল, তখন দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মীয় স্থান এবং মূর্তিগুলোয় হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সেসব ঘটনার নিন্দা জানায় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ভেতরে ও বাইরে থেকে প্রতিক্রিয়াগুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখে।

ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে, বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) দেশের ২২টি জেলায় মোতায়েন করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নিজেই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী এবং তদন্তকারী সংস্থার কাছে উপলব্ধ প্রযুক্তিগত উপায় অবলম্বন করা। তিনি সব ধরনের উসকানিতে সংযম বজায় রাখতে এবং ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি সবাইকে যে কোন মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতারা বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা এবং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এসব ঘটনায় ৭১টি মামলা হয়েছে। কুমিল্লায় হামলার পেছনের কথিত মাস্টারমাইন্ডকে এরই মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, কিছু নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল কিছু সন্দেহজনক রাজনৈতিক মাইলেজ অর্জনের জন্য এই ধরনের হামলা চালাচ্ছে। এটা দুঃখজনক যে, ৫০ বছর পরও বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী স্থানীয় উপাদানগুলো এখনও সহিংসতা, বিদ্বেষ ও গোঁড়ামিকে উসকে দিতে তাদের বিষাক্ত বর্ণনা প্রচার করছে।

তারা দেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসবকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক এবং বহুত্ববাদী প্রশংসাপত্রকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রশংসা করে যথাযথ চিত্তে উৎসব শেষ করার জন্য এবং সাধারণ জনগণের একাত্মতা প্রদর্শনকে স্বাগত জানায়।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার পুনর্ব্যক্ত করতে চায় যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভিত্তি। বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন ধর্ম, জাতি এবং ধর্মের মানুষ এই ভূখণ্ডে শান্তি ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সহনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তির প্রতি আমাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার সাংবিধানিক বিধান দ্বারা সুরক্ষিত। যদিও দেশের সর্বোচ্চ আইন তার সব নাগরিককে যে কোন প্রকার বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়, দেশের গণতান্ত্রিক শাসন নাগরিকদের ধর্ম, বিশ্বাস ও জাতিসত্তা নির্বিশেষে তাদের মৌলিক অধিকার ভোগ নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে যে, প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে।

বাংলাদেশ সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে সব ধর্মের প্রধান ধর্মীয় উৎসব সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হয়। সরকার বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীকে তাদের কল্যাণের জন্য বিশেষ ট্রাস্ট ফান্ড স্থাপন করেও সহায়তা করছে। এই বছর দুর্গাপূজায় প্রধানমন্ত্রী হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে তিন কোটি ৩০ লাখ টাকা দিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহনশীলতা, শান্তি ও বহুত্ববাদের মনোভাব সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলঙ্কিত করার এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার আরও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:
ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী
বিশ্বনেতাদের প্রশংসা বিএনপির সহ্য হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলা কালীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি সদস্যের তালিকায় আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম। ছবি: নিউজবাংলা

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলায় তৃতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির এক সদস্য।

এটি বাতিলের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর আবেদন করেছেন তালিকায় থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা।

নেতা-কর্মী জানান, গত ১৭ অক্টোবর উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে সভা হয়।

এতে তৃণমূলের রায়ে ১৪ ভোট পেয়ে আফতারুজ্জামান বাবুল প্রথম হন। ১২ ভোট পেয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু দ্বিতীয় ও ৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন নুর ইসলাম মিয়া।

এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, ‘এর জন্য দায়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব। এটি কোনোভাবে মেনে নেয়ার মতো না।

‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরোক্ষ ইশারায় বিএনপির সক্রিয় সদস্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নে স্থান পেয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আমরা ওই তালিকা থেকে আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম বাদ দেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু বলেন, ‘বাবুল কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ১৪ নম্বর সদস্য। বিষয়টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে। তারা সেদিন বর্ধিত সভায় চুপ থেকে তাকে প্রার্থী বাছাইয়ে অংশ নায়ের সুযোগ করে দিয়েছে।

‘সেদিন হাউসের অনেককে ম্যানেজ করে বিতর্কিত ওই ব্যক্তি তৃণমূলর রায় তার পক্ষ নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর প্রতিবাদে আমি ওই তালিকা থেকে বাবুলর নাম কেটে পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নাম দেয়ার জন্য ১৮ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আফজালুল হক খোকা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বাবুল বিএনপির সদস্য হয়ে থাকলে তার নাম আওয়ামী লীগে কীভাবে এসেছে, সেটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আগের সভাপতি ও সম্পাদক ভালো জানেন।

‘আমরা এর জন্য দায়ী নই। বর্তমানে তার নাম ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে আছে। আর এ কারণেই তিনি দলীয় প্রার্থী হতে চেষ্টা চালিয়েছেন।’

আফতারুজ্জামান বাবুল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি জীবনে কোনো দিন বিএনপি করিনি। বিএনপির তালিকায় কীভাবে নাম গেল, সেটা আমার জানা নেই। ছাত্রলীগের মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ২০১৭ সালে আমি আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটির সদস্য হই। ২০১৮ সালে আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্ত হই।’

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর বলেন, ‘আফতারুজ্জামান বাবুলকে আমি আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবেই চিনি। তিনি ছাত্রলীগ করেছে। ২০০২ সালে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ছিল।’

আরও পড়ুন:
ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী
বিশ্বনেতাদের প্রশংসা বিএনপির সহ্য হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

‘তুলে নিয়ে বিয়ে’, তরুণীর যন্ত্রণায় বাড়িছাড়া গোটা পরিবার

‘তুলে নিয়ে বিয়ে’, তরুণীর যন্ত্রণায় বাড়িছাড়া গোটা পরিবার

নাজমুল বলেন, ‘বর্তমানে আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বাড়িতেও যেতে পারছি না। ইশরাত গত কয়েক দিন ধরে আমার বাড়িতে অবস্থান করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় আমার মা-বাবাও সেখানে থাকতে পারছেন না। সামাজিকভাবে আমি হেয় হচ্ছি। সামনে আমার পরীক্ষা, ঠিকভাবে পড়াশোনাও করতে পারছি না। ক্রমশই আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি।’

পটুয়াখালীতে ‘জোর করে তুলে নিয়ে’ বিয়ে করার ঘটনায় পাত্রী ইশরাত জাহান পাখির বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী নাজমুল আকন। তার অভিযোগ, মেয়েটি এখন তার বাসায় গিয়ে অবস্থান করছেন। এ কারণে তার বাবা-মা বাসায় থাকতে পারছেন না।

স্ত্রীর ‘স্বীকৃতির দাবিতে’ তিন দিন ধরে পাত্রের বাড়িতে অবস্থান করছেন পাখি। কিন্তু নাজমুল এতে কোনোভাবেই রাজি নন। তিনিও বাবা-মায়ের মতোই বাসায় থাকছেন না।

এ ঘটনায় অপহরণ ও জোর করে বিয়ে করার অভিযোগে নাজমুলের করা মামলাটির তদন্ত করছে সদর থানার পুলিশ।

তবে মেয়েটির দাবি, তিনি তুলে নিয়ে বিয়ে করেননি। বিয়ে হয়েছে দুজনের সম্মতিতে। ঝামেলা হয়েছে দেনমোহরের টাকা নিয়ে। এখন নাজমুল উল্টো কথা বলছেন।

নাজমুল পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী। আর ইশরাত জাহান পাখি একই উপজেলার গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

নাজমুল যা বলছেন

এই তরুণ জানান, কয়েক মাস ধরে তাকে মেসেঞ্জারে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন পাখি। কিন্তু রাজি হননি তিনি। একপর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাবও দেয়া হয়। তাতেও রাজি ছিলেন না নাজমুল।

একপর্যায়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সাত থেকে আটজন পুরুষ শহরের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে নাজমুলকে তুলে নিয়ে যান। অজ্ঞাত এক স্থানে নিয়ে জোর করে কাবিননামায় সই রেখে দেন।

নাজমুল বলেন, ‘আমাকে জোর করে মিষ্টি খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। পরে সেখান থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিছুদিন পরে মিষ্টি খাওয়ানো আর সই নেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। একপর্যায়ে আইনের আশ্রায় গ্রহণ করি।’

গত ৩ অক্টোবর পটুয়াখালীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে পাখির বিরুদ্ধে অপহরণ ও জোর করে সই রাখার অভিযোগ এনে মামলা করেন এই তরুণ। মামলায় ইশরাতসহ আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়।

নাজমুল বলেন, ‘বর্তমানে আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বাড়িতেও যেতে পারছি না। ইশরাত গত কয়েক দিন ধরে আমার বাড়িতে অবস্থান করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় আমার মা-বাবাও সেখানে থাকতে পারছেন না।

‘সামাজিকভাবে আমি হেয় হচ্ছি। সামনে আমার পরীক্ষা, ঠিকভাবে পড়াশোনাও করতে পারছি না। ক্রমশই আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি।’

পাখির দাবি অভিযোগ মিথ্যা

নাজমুল যে অভিযোগ করেছেন, তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন পাখি। তার দাবি, নাজমুলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। তার ইচ্ছাতেই বিয়ে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যতটুকু ঝামেলা হয়েছে তা শুধু কাবিননামার টাকা নিয়ে। আমিসহ আমার বড় ভাইদের দাবি ছিল কাবিন ৫ লাখ টাকা হবে। আর নাজমুল চেয়েছে, কাবিন ৫০ হাজার টাকা হবে। এ বিষয়টি নিয়ে সামান্য একটি ঝামেলা হয়েছে, যেটা ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে।’

ইশরাত বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ গত ২৭ তারিখ আমাদের বিয়ে হয়েছে ঢাকাতে বসে। আর ২৭ তারিখ আমি নাকি ওকে (নাজমুল) পটুয়াখালী শহর থেকে অপহরণ করেছি। এক দিনে আমি দুই জায়গায় থাকি কীভাবে?’

নাজমুলের বাসায় থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিন দিন ধরে আমি আমার স্বামীর বাড়ি (পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার গাজীপুর গ্রামে) বাড়িতে অবস্থান করছি। আমিই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

কেন নিরাপত্তাহীনতা- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বিয়ের পর জানতে পারি নাজমুলের সঙ্গে একাধিক মেয়ের সম্পর্ক রয়েছে। সে আমার জীবনটাকে তছনছ করে ফেলেছে।’

নাজমুল অবশ্য পাখির সব বক্তব্য অস্বীকার করে তার আগের অভিযোগেই অটল থাকেন। তিনি আশা করছেন, পুলিশের প্রতিবেদন ও আদালতের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

আইনজীবী যা বলছেন

নাজমুলের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আশা করি পুলিশের তদন্ত রিপোর্টের পর আমরা সঠিক ও ন্যায়বিচার পাব।’

তিনি বলেন, ‘নাজমুল আর ইশরাতের মধ্যে যদি প্রেমের সম্পর্ক থেকেই থাকে, তবে সেটা পারিবারিকভাবে সমাধান করা উচিত ছিল। এভাবে ভিডিও করে সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে তাদের উভয়ের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি বয়ে এনেছে।’

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, মামলা গ্রহণ করে একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত দুই দিন ধরে তিনি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা কবে।

আরও পড়ুন:
ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী
বিশ্বনেতাদের প্রশংসা বিএনপির সহ্য হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন