পরীমনির গাড়ি, মোবাইল, ল্যাপটপ ফেরতের সুপারিশ

পরীমনির গাড়ি, মোবাইল, ল্যাপটপ ফেরতের সুপারিশ

নীল রংয়ের মাসেরাতি গাড়িটি নিয়ে গত বছরের ২৬ জুন ফেসবুকে পোস্ট দেন পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল বলেছেন, ‘যদি পরীমনিকে জব্দ করা আলামত ফেরত দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে মামলার তদন্তে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।’  

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনির ব্যবহৃত গাড়ি, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ জব্দ করা ১৬টি আলামত ফেরত দেয়ার সুপারিশ করে আদালতের নিবন্ধন শাখায় প্রতিবেদন দিয়েছে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল দুটি জব্দ তালিকার মোট ১৬টি আলামত পরীমনিকে ফেরত দেয়ার সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, ‘যদি পরীমনিকে জব্দ করা আলামত ফেরত দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে মামলার তদন্তে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।’

সোমবার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী।

১৫ সেপ্টেম্বর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী পরীমনির ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি গাড়ি, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপসহ অন্যান্য জব্দ জিনিসপত্র ফেরত চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন।

আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে বিআরটিএ থেকে গাড়ির সঠিক মালিকানা যাচাই এবং অন্যান্য জব্দ আলামতের বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন।

পরে তদন্ত কর্মকর্তা জব্দ মালামালের মালিকানা যাচাই করে বনানী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেনের কাছে জমা দিয়েছেন।

মালামাল ফেরতের বিষয়ে মঙ্গলবার মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে শুনানি হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন পরীমনির আইনজীবী নিলাঞ্জনা রিফাত সুরভী।

৪ আগস্ট বিকেলে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করার কথা জানায় বাহিনীটি।

মাদকের মামলায় পরীমনিকে মোট সাত দিন রিমান্ড দেয় আদালত।

৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ পরীমনিকে জামিন দেন। পরদিন তিনি কারামুক্ত হন।

আরও পড়ুন:
রিমান্ড: হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছে বিচারিক আদালত
সেলিম ভাইয়ের কাজ করছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ: পরীমনি
নিজের ভুবনে প্রত্যয়ী পরীমনি
মারতে রাজি, মরতে রাজি না পরীমনি
ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে পরীমনি ‘উচ্ছৃঙ্খল’: সোহেল তাজ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাজারবাগ পিরের সম্পদের উৎসের তদন্ত চলবে

রাজারবাগ পিরের সম্পদের উৎসের তদন্ত চলবে

পির মো. দিল্লুর রহমান থাকেন রাজারবাগের এই দরবার শরিফে। ছবি: নিউজবাংলা

এ বিষয়ে আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চের আদেশের পর আইনজীবী শিশির মনির নিউজবাংলাকে বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তাদের সম্পত্তির উৎস খোঁজার তদন্ত চলবে

রাজারবাগের পির দিল্লুর রহমান ও তার দরবারের সম্পত্তির উৎস খুঁজতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদন মঙ্গলবার খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতি ইমান আলীসহ চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে মামলার একজন বিবাদী মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম এই আপিল করেন।

আদালতে মফিজুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুরাদ রেজা। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও শিশির মনির।

আদেশের পরে আইনজীবী শিশির মনির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তাদের সম্পত্তির উৎস খোঁজার তদন্ত চলবে।

একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে রাজারবাগের পির ও তার মুরিদদের বিরুদ্ধে ৮ ভুক্তভোগী হাইকোর্টে রিট করেন। তাদের আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ দেয়।

রুলে আবেদনকারিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও হয়রানিমূলক ক্রমাগত ফৌজদারি মামলা দায়েরে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল করে আদালত। সেই সঙ্গে এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয়া হয়।

আদেশে রাজারবাগের কথিত পির দিল্লুর রহমান ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব সম্পদ রয়েছে, তা নির্ণয় করে সম্পদের উৎস সম্পর্কে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং পীর ও তার পৃষ্ঠপোষকতায় উলামা আঞ্জুমান বাইয়িন্যাত অথবা ভিন্ন কোনো নামে কোনো জঙ্গি সংগঠন আছে কিনা, সে বিষয়ে ৩০ নভেম্বরের আগে একটি প্রতিবেদন দিতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে নির্দেশ দেয়া হয়।

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল যায় মফিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তার আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেয়।

আরও পড়ুন:
রিমান্ড: হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছে বিচারিক আদালত
সেলিম ভাইয়ের কাজ করছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ: পরীমনি
নিজের ভুবনে প্রত্যয়ী পরীমনি
মারতে রাজি, মরতে রাজি না পরীমনি
ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে পরীমনি ‘উচ্ছৃঙ্খল’: সোহেল তাজ

শেয়ার করুন

পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক চান শেখ হাসিনা

পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক চান শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর বৈঠক। ছবি: ডন

ডনের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠকটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এমন সময় বৈঠকটি হলো, যখন উভয় দেশ প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার পাকিস্তান সফরের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে সরকারের ইচ্ছার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক চাঙ্গা করার ইচ্ছার বিষয়টি জানান বলে ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র বিষয়ক দপ্তরের এক বিবৃতির বরাতে এতে বলা হয়, উভয় পক্ষ দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন।

প্রায় সাত মাসের মধ্যে এটা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ইমরান আহমেদের মধ্যে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ।

ডন লিখেছে, এক দশকের বেশি সময় দুই দেশের সম্পর্ক বরফ কঠিন অবস্থায় জমে থাকার পর আবার তা উষ্ণ করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বৈঠকটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আর এমন সময় বৈঠকটি হলো, যখন উভয় দেশ প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার পাকিস্তান সফরের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে।

ডন লিখেছে, পাকিস্তান সফরের জন্য গত জুলাইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র সম্প্রতি গ্রহণ করেছেন বলে ইসলামাবাদকে প্রত্যুত্তরে জানান শেখ হাসিনা। তবে তার পাকিস্তান সফরের জন্য এখনও কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। ইমরান খানকেও বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাকিস্তান সফর সফল করতে রোড ম্যাপ তৈরি করার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও পুনরুজ্জীবিত করতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ইমরান সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১৩ বছর ধরে বন্ধ থাকা দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ডায়ালগ আবার শুরু করতে চায় পাকিস্তান।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্ত করার জন্য নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয় ইসলামাবাদ থেকে। সবশেষ মৌসুমে উভয় দেশ আম উপহার পাঠিয়েছে।

এক দেশ হয়ে থাকলেও ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে বিশ্বের মানচিত্রে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।

এরপর থেকেই দেশ দুটির মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করলে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছায়।

আরও পড়ুন:
রিমান্ড: হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছে বিচারিক আদালত
সেলিম ভাইয়ের কাজ করছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ: পরীমনি
নিজের ভুবনে প্রত্যয়ী পরীমনি
মারতে রাজি, মরতে রাজি না পরীমনি
ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে পরীমনি ‘উচ্ছৃঙ্খল’: সোহেল তাজ

শেয়ার করুন

আসছে আরও দুই বেসরকারি এয়ারলাইনস

আসছে আরও দুই বেসরকারি এয়ারলাইনস

এয়ার অ্যাসট্রা

দুটি এয়ারলাইনস যাত্রা শুরু করলে দেশে সক্রিয় বেসরকারি এয়ারলাইনসের সংখ্যা দাঁড়াবে চার। এর ফলে এভিয়েশন খাতে অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন বছরের শুরুতেই দেশের আকাশে পাখা মেলতে পারে নতুন দুটি বেসরকারি এয়ারলাইনস। এগুলোর নাম হলো ফ্লাই ঢাকা ও এয়ার অ্যাসট্রা।

এর মধ্যে একটিকে ইতিমধ্যে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আরেকটির এনওসিও খুব শিগগিরই হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে বেবিচক।

এ দুটি এয়ারলাইনস যাত্রা শুরু করলে দেশে সক্রিয় বেসরকারি এয়ারলাইনসের সংখ্যা দাঁড়াবে চার। আর এর ফলে এভিয়েশন খাতে অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন বিভাগের সদস্য চৌধুরী এম জিয়া উল কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুটি এয়ারলাইনস এনওসির জন্য আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ফ্লাই ঢাকার আবেদন যাচাই-বাছাই করে তাদের এনওসি দেয়া হয়েছে। এয়ার অ্যাসট্রার আবদেন আমরা যাচাই-বাছাই করছি। খুব শিগগির হয়তো তাদেরও এনওসি দেয়া হবে।’

এনওসি পাওয়া ফ্লাই ঢাকার মূল মালিকানায় রয়েছেন সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তার সাথে আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিনিয়োগ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটিতে। আর এনওসির অপেক্ষায় থাকা এয়ার অ্যাসট্রার মালিকানায় রয়েছেন এক জাপান প্রবাসী ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এনওসি পাওয়ার পরেই যে এয়ারলাইনস দুটি ফ্লাইট শুরু করতে পারবে, তা নয়। তাদের আরও বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে এনওসি পাওয়ার কারণে উড়োজাহাজ ভাড়ায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করা সহজ হবে।

খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেয়ার কথা জানিয়েছেন ফ্লাই ঢাকার এক কর্মকর্তা।

এয়ার অ্যাসট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এনওসি পাওয়ার পরে চারটি লম্বা প্রক্রিয়া শেষ করতে পারলে এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। সব কিছু যদি ঠিক থাকে, তাহলে হয়তো আগামী বছরের জানুয়ারিতেই আমরা আকাশে পাখা মেলতে পারব।’

বেবিচকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এয়ারলাইনস ফ্লাইট শুরুর পর প্রথম এক বছর আবশ্যিকভাবে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক বছর পর আন্তর্জাতিক গন্তব্যে উড়ালের অনুমতি চাইতে পারে এয়ারলাইনস।

নতুন দুই এয়ারলাইনসের কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়াকে এভিয়েশন খাতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছর দেশের এভিয়েশনের বাজার যেভাবে বাড়ছে, তাতে ক্যাপাসিটি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। দুটি এয়ারলাইনস যুক্ত হওয়ার মানে আরও ফ্লাইট যুক্ত হওয়া, পাশাপাশি ক্যাপাসিটি বেড়ে যাওয়া।

‘এর ফলে অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও ভালো হবে। এখন প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ আকাশপথে ভ্রমণ করেন, এর ফলে এটি হয়তো ২৫ লাখ হবে।’

তবে এ ক্ষেত্রে এয়ারলাইনসগুলোর সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এ টি এম নজরুল বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি সংকট হবে পাইলট ও ইঞ্জিনিয়ারের। পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির একটি সম্ভাবনা আছে। এটিও তাদের মাথায় রাখতে হবে। কয়েক বছর লাভের আশায় না থেকে যাত্রীদের আস্থা অর্জনেই মনোযোগী হওয়া উচিত।’

গত ২৫ বছরে দেশে ১০টি বেসরকারি এয়ারলাইনস যাত্রা শুরু করলেও এখন টিকে আছে মাত্র দুটি। এ সময়ের মধ্যে একে একে পাখা গুটিয়েছে অ্যারো বেঙ্গল, এয়ার পারাবত, রয়্যাল বেঙ্গল, এয়ার বাংলাদেশ, জিএমজি এয়ারলাইনস, বেস্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার ও রিজেন্ট এয়ার।

সবশেষ করোনার মধ্যে গত বছরের মার্চ থেকে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে আরেকটি এয়ারলাইনস রিজেন্ট এয়ার। কয়েক দফা চালুর কথা বললেও আর ফ্লাইটে ফেরেনি এয়ারলাইনসটি। বন্ধ হয়ে যাওয়া এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে জিএমজি, রিজেন্ট ও ইউনাইটেড আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও চালাত।

দেশে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছাড়াও ফ্লাইটে রয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস বাংলা ও নভো এয়ার।

আরও পড়ুন:
রিমান্ড: হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছে বিচারিক আদালত
সেলিম ভাইয়ের কাজ করছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ: পরীমনি
নিজের ভুবনে প্রত্যয়ী পরীমনি
মারতে রাজি, মরতে রাজি না পরীমনি
ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে পরীমনি ‘উচ্ছৃঙ্খল’: সোহেল তাজ

শেয়ার করুন

করোনার টিকা উৎপাদনে ঢাবি ও এএফসি বায়োটেকের সমঝোতা

করোনার টিকা উৎপাদনে ঢাবি ও এএফসি বায়োটেকের সমঝোতা

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ছবি- নিউজবাংলা

কোভিড-১৯ টিকার উন্নয়ন ও উৎপাদন ছাড়াও এই স্মারকের আওতায় জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণাসহ বিভিন্ন ওষুধ তৈরি এবং জীব বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনে যৌথ গবেষণা পরিচালিত হবে।

কোভিড-১৯ টিকার উন্নয়ন ও উৎপাদনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (CARS) এবং এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সোমবার উপাচার্য লাউঞ্জে এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতার আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (CARS) এবং এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেড যৌথভাবে কোভিড-১৯ টিকা (DUBD-vac)-এর উন্নয়ন ও উৎপাদনসহ অন্যান্য টিকা উদ্ভাবনে কাজ করবে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেডের নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) ড. মো. সারওয়ার হোসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য এএফসি এগ্রো বায়োটেক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। অন্তর্ভুক্তিমূলক গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কোভিড-১৯ টিকার উন্নয়ন ও উৎপাদন ছাড়াও এই স্মারকের আওতায় জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণাসহ বিভিন্ন ওষুধ তৈরি এবং জীব বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনে যৌথ গবেষণা পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দুইটি বায়োটেক কোম্পানি জেএনডি বায়োটেক এবং ইমার্জেন্ট বায়োটেক সহযোগিতা প্রদান করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও প্রবাসী বিজ্ঞানীদের ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রে জেএনডি বায়োটেক এবং ইমার্জেন্ট বায়োটেক কোম্পানি দুটি পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
রিমান্ড: হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছে বিচারিক আদালত
সেলিম ভাইয়ের কাজ করছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ: পরীমনি
নিজের ভুবনে প্রত্যয়ী পরীমনি
মারতে রাজি, মরতে রাজি না পরীমনি
ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে পরীমনি ‘উচ্ছৃঙ্খল’: সোহেল তাজ

শেয়ার করুন

১৩ রাজাকারের বিরুদ্ধে ১৬ অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন

১৩ রাজাকারের বিরুদ্ধে ১৬ অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি- সংগৃহীত

১৯৭১ সালে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর ও রাজারহাট থানায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে আটক রয়েছেন ১১ জন, পলাতক দুইজন।

একাত্তরে সংঘটিত গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর ও রাজারহাট থানার ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান সানাউল হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন বরাবর দাখিল করা হবে। এটি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ৮০তম প্রতিবেদন।

তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৯৭১ সালে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর ও রাজারহাট থানায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে আটক রয়েছেন ১১ জন, পলাতক দুইজন।

আটক আসামিরা হলেন- মো. নুরুল ইসলাম ওরফে নুর ইসলাম (৭১), এছাহাক আলী ওরফে এছাহাক কাজী (৭৩), মো. ইসমাইল হোসেন (৭০), মো. ওছমান আলী (৭০), মো. আব্দুর রহমান (৬৫), মো. আব্দুর রহিম ওরফে রহিম মওলানা (৬৫), মো. শেখ মফিজুল হক (৮১), মকবুল হোসেন ওরফে দেওয়ানী মকবুল (৭২), মো. ছাইয়েদুর রহমান মিয়া ওরফে মো. সাইদুর রহমান (৬৪), মো. শাহজাহান আলী (৬৪) ও আব্দুল কাদের (৬৭)।

আসামিদের বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগের ঘটনাস্থল কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানাধীন পাঁচপীর রেলস্টেশন। ১৯৭১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক ১০টার দিকে এই স্টেশনের আর্মি ও রাজাকার ক্যাম্পের ইনচার্জ আ. হামিদ মওলানা ওরফে দাগ্গিল মওলানার (মৃত) নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন সশস্ত্র রাজাকার পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার পিতা ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জব্বার আনছারী ওরফে আনছারী মাস্টার ও নিরীহ পনির উদ্দিন মুন্সিকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে স্টেশন ক্যাম্পে তাদের আটক রেখে রাতভর নির্যাতন করা হয়। পরদিন সন্ধ্যায় দুজনকেই গুলি করে হত্যার পর পাঁচপীর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে মাটিচাপা দেয়া হয়।

অভিযোগ-২: ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ফজরের পর ডাগ্গিল মওলানার নেতৃত্বে রাজাকার নুর ইসলামসহ ১৫/১৬ জন দুর্গাপুর গ্রামে হামলা করে ১০ জনকে আটক করেন। এর মধ্যে মাকরু শেখকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি আর্মি। বাকি সবাইকে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিতে তওবা করিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

অভিযোগ-৩: ১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টায় দাগ্গিল মওলানার নেতৃত্বে মফিজসহ ১৫/১৬ জন সশস্ত্র রাজাকার ৫/৬ জন পাক আর্মি নিয়ে উলিপুর থানার ঢেকিয়ারাম গ্রামে স্বাধীনতার সপক্ষের মানুষদের ওপর হামলা চালান। পরে সেই গ্রামে মুক্তিযোদ্ধার পিতা রজব আলী সরকারকে হাত ও চোখ বেঁধে অপহরণ ও নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ পানিতে ফেলে দেয়া হয়।

অভিযোগ-৪: ১৯৭১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দাগ্গিল মওলানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাজী এছাহাক দলবল সহ ৫/৬ জন পাক আর্মি নিয়ে আওয়ামী লীগ করার কারণে উলিপুর থানার গোড়াই পাঁচপীর গ্রামের নশির উদ্দিনকে আটক করেন। পরে তাকে নিয়ে স্বাধীনতার সপক্ষের এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আ. জলিল সরকারের বাড়িতে গিয়ে জলিলকে না পেয়ে তার ছোট ভাই আব্দুল মজিদকে আটক করেন। গুলি করে হত্যার আগে তাকে দিয়েই কবর খুঁড়িয়েছিল রাজাকার বাহিনী।

অভিযোগ-৫: ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর দাগ্গিল মওলানার নেতৃত্বে ইসমাইলসহ ১৫/১৬ জন সশস্ত্র রাজাকার ও ১০/১২ জন পাক আর্মি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত গোড়াই পাঁচপীর গ্রামে হামলা করে। পরে সেই গ্রামের আকবর আলী সরকার ও আজিজার রহমানকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-৬: ১৯৭১ সালের ৯ অক্টোবর ওসমানসহ ১৫/১৬ জন রাজাকার পাক আর্মি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জহুর উদ্দিন ব্যাপারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে অপহরণের পর নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করে।

অভিযোগ-৭: ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর রাজাকার আব্দুর রহমান পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ফুলজার হোসেনকে আটক করেন এবং ফুলজারের পিতা হুসেন আলী ও মাতা গোজন বেওয়াকে নির্যাতন করেন। এ ছাড়া মোখছেদ আলীসহ ফুলজার হোসেনের দুই ভাইকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেন।

অভিযোগ-৮: ১৯৭১ সালের ১০ কার্তিক মুক্তিযোদ্ধা আ. গফুর ও আমির উদ্দিন বাবা-মাকে দেখতে উলিপুরের লঘরটারি গ্রামে যান। গোপন এই সংবাদ পেয়ে দাগ্গিল মওলানার নেতৃত্বে রাজাকার মো. আব্দুল বারী দলবলসহ ১০/১২ জন পাক আর্মিকে সঙ্গে নিয়ে লঘরটারী গ্রামে হামলা করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা আ. গফুর ও আজির উদ্দিনকে নির্যাতন করে হত্যা করেন এবং তাদের আশ্রয়দাতা পনির উদ্দিনকেও মারপিট করে মারাত্মক আহত করেন।

অভিযোগ-৯: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রমজান মাসে অসুস্থ মাকে দেখতে মুক্তিযোদ্ধা মহব্বত আলী বাড়ি গিয়েছিলেন। তবে রাজাকারদের ভয়ে রাতের বেলা সিদ্ধান্ত মালতি বাড়ি গ্রামে হিন্দুদের পরিত্যক্ত বাড়িতে লুকিয়েছিলেন। গোপন এই সংবাদ পেয়ে দাগ্গিল মওলানার নেতৃত্বে রাজাকার মফিজুল হক ও রহিম মাওলানা দলবলসহ ১০/১২ জন পাক আর্মি নিয়ে সিদ্ধান্ত মালতি বাড়ি গ্রামে হামলা করেন। পরে ওই গ্রামে রাজেন্দ্র চন্দ্র রায়ের বাড়ি থেকে মহব্বত আলীকে নিরস্ত্র অবস্থায় আটক করে পাঁচপীর রেলওয়ে স্টেশন আর্মি ও রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-১০: মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেয়ার কারণে ১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর দুপুরে রাজাকার মকবুল ১০/১২ জন পাক আর্মি নিয়ে মো. মফিজল হক ও তার চাচাতো ভাই নুরুল হোসেনের বাড়িঘর লুটপাট করে পুড়িয়ে দেন।

অভিযোগ-১১: ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা কুড়িগ্রাম জেলার সদর থানায় অর্জুনডারা পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্পে গোলা ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। এই সময়ে পাক আর্মিরা ওসমান মিয়াকে গুলি করে হত্যা করে এবং হিন্দু পাড়ায় আগুন দেয়।

অভিযোগ-১২: ১৯৭১ সালে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরে রাজাকাররা পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে বেশ কয়েটি গ্রামে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় মোছা. হাছিনা বেগমকে ধর্ষণ ছাড়াও বিপুলসংখ্যক মানুষকে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-১৩: ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর রাজাকার নুরুল ইসলাম, কাদের ও ইছাহাক কাজী ১০/১২ জন পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে যমুনা গ্রামে হামলা চালান। পরে সেই গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে ফরহাদ, আছর উদ্দিন ব্যাপারীসহ ২০/২৫ জনকে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-১৪: রাজাকাররা গোড়াই মিয়াজিপাড়া গ্রামে হামলা করে দছির উদ্দিনের বাড়িতে আগুন দেয় এবং নিরীহ তবির উদ্দিনকে হত্যা করে।

অভিযোগ-১৫: ১৯৭১ সালের ২৭ নভেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরে রাজাকার ইছা খলিফা দলবল নিয়ে মফিজ উদ্দিন সরকারকে গুলি করে হত্যা করেন।

অভিযোগ-১৬: দছির উদ্দিন ব্যাপারীকে পাঁচপীর রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেয় রাজাকার বাহিনী।

আরও পড়ুন:
রিমান্ড: হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছে বিচারিক আদালত
সেলিম ভাইয়ের কাজ করছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ: পরীমনি
নিজের ভুবনে প্রত্যয়ী পরীমনি
মারতে রাজি, মরতে রাজি না পরীমনি
ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে পরীমনি ‘উচ্ছৃঙ্খল’: সোহেল তাজ

শেয়ার করুন

ক্ষুধা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া চান প্রধানমন্ত্রী

ক্ষুধা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া চান প্রধানমন্ত্রী

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন ঢাকায় নবনিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী। ছবি: নিউজবাংলা

পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী বলে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী। ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পাকিস্তান সফরের ছবির পেইন্টিং এবং ভিডিও ফুটেজ উপহার দেন প্রধানমন্ত্রীকে।

ক্ষুধা ও নিরক্ষরতার অভিশাপ মুক্ত হতে এবং এ অঞ্চলের জনগণের কল্যাণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে একযোগে কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকায় নবনিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সোমবার সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় পাকিস্তাতি দূত।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী বলে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী।

পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাঠানো একটি বার্তার কপি শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন হাইকমিশনার।

১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পাকিস্তান সফরের ছবির পেইন্টিং এবং ভিডিও ফুটেজও উপহার দেন প্রধানমন্ত্রীকে।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্মৃতির স্মারক হস্তান্তর করার জন্য দেশটির হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পাকিস্তান বাংলায় একটি ক্যালিগ্রাফি বই প্রকাশ করায় প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
রিমান্ড: হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছে বিচারিক আদালত
সেলিম ভাইয়ের কাজ করছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ: পরীমনি
নিজের ভুবনে প্রত্যয়ী পরীমনি
মারতে রাজি, মরতে রাজি না পরীমনি
ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে পরীমনি ‘উচ্ছৃঙ্খল’: সোহেল তাজ

শেয়ার করুন

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্ট

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্ট

একইসঙ্গে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ না দিয়ে টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আবেদনকারীদের গ্যাস সংযোগ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সে বিষয়টিও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

চার সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ), পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কর্ণফুলীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাখরাবাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ওয়াজি উল্লাহ, সঙ্গে ছিলেন আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও আফরোজা সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ‘আবাসিকে গ্যাস সংযোগ আর চালুর সুযোগ না থাকায় ডিমান্ড নোটের প্রেক্ষিতে যারা টাকা জমা দিয়েছিল তাদেরকে ক্রস চেকের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’

সরকারের এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে চট্টগ্রাম গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি গ্রাহক ঐক্যজোটের সভাপতি আলমগীর নূর ও মহাসচিব একেএম অলিউল্লাহ হক ও সাধারণ গ্রাহক মো. নুরুল আলম গত ৪ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট করেন।

রিটকারীদের আইনজীবী ওয়াজি উল্লাহ বলেন, ‘আইনে বলা আছে, ডিমান্ড নোটের (চাহিদাপত্র) প্রেক্ষিতে গ্যাস সংযোগের জন্য টাকা জমা নেয়া হলে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের গ্যাস সংযোগ দিতে সরকার বাধ্য। কিন্তু টাকা জমা নেয়ার পর নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তাদের গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়নি, বরং তাদের টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা আইন সম্মত নয়। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে আমরা আদালতে এসেছি। আদালত শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন।’

আরও পড়ুন:
রিমান্ড: হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছে বিচারিক আদালত
সেলিম ভাইয়ের কাজ করছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ: পরীমনি
নিজের ভুবনে প্রত্যয়ী পরীমনি
মারতে রাজি, মরতে রাজি না পরীমনি
ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে পরীমনি ‘উচ্ছৃঙ্খল’: সোহেল তাজ

শেয়ার করুন