আ.লীগ নেতার ‘সরকারি জমি দখল’, তদন্ত শুরু

আ.লীগ নেতার ‘সরকারি জমি দখল’, তদন্ত শুরু

পাবনার নগরবাড়ীতে সরকারি জমি দখল করে বাজার নির্মাণের অভিযোগ তদন্তে যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত দল। ছবি: নিউজবাংলা

তদন্তকালে এমপি বাজার গড়ে তোলার সপক্ষে কমিটির কাছে কোনো বৈধ দলিলপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি খন্দকার আজিজুল হক ও দোকানমালিকরা। যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে বাজারের জায়গা ভরাট করার অভিযোগও স্বীকার করেন সাবেক সাংসদ আরজু।

পাবনার বেড়ার নগরবাড়ীতে সরকারি জমি দখল করে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সাংসদ খন্দকার আজিজুল হক আরজুর বিরুদ্ধে প্লট বিক্রি করে বাজার গড়ে তোলার অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে নেমেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত দল।

সোমবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে তদন্ত দল এমপি বাজার নামে প্রতিষ্ঠিত বাজারটি পরিদর্শনে যায়।

তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও স্থানীয়দের বক্তব্য নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগে জানা যায়, নগরবাড়ীতে যমুনা নদীর পাড়ে সড়ক ও জনপথ এবং খাস খতিয়ানের প্রায় ৮ একর জমি দখল করে এমপি বাজার নামে অবৈধ বাজার গড়ে ২৬৪টি প্লট বিক্রি করেন পাবনার সাবেক সাংসদ খন্দকার আজিজুল হক আরজু।

তদন্ত কমিটির সদস্য পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আফরোজা আক্তার, সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ আকন্দ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাবনা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাহিন রেজা ও জেলা নদী রক্ষা কমিটির সদস্য এস এম মাহবুবুল আলম বাজার পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন।

আ.লীগ নেতার ‘সরকারি জমি দখল’, তদন্ত শুরু

তদন্তকালে এমপি বাজার গড়ে তোলার সপক্ষে কমিটির কাছে কোনো বৈধ দলিলপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি খন্দকার আজিজুল হক ও দোকানমালিকরা। যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে বাজারের জায়গা ভরাট করার অভিযোগও স্বীকার করেন সাবেক সাংসদ আরজু।

মানবিক বিবেচনায় বাজার উচ্ছেদ না করতে তদন্ত কমিটির কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তদন্ত দলের আসার খবরে বাজারের বিভিন্ন দোকানের সাইনবোর্ড থেকে এমপি বাজার লেখা মুছে দেন সাবেক সাংসদের লোকজন। দুপুরে তদন্ত দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জমির নথি ও মানচিত্র পর্যলোচনা করে। পরে এমপি বাজার ঘুরে দেখে অবৈধ দখলের বিষয়ে নিশ্চিত হয়।

সওজের পাবনা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ আকন্দ জানান, ১৯৫৩ সালে নগরবাড়ী ঘাটে জমি অধিগ্রহণ করে সওজ। একসময় তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। চর জেগে ওঠার পর জায়গাটি অবৈধ দখলে চলে যায়। কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও এখান থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা যায়নি।

তিনি জানান, বর্তমানে নগরবাড়ীতে আন্তর্জাতিক নৌবন্দরের নির্মাণকাজ চলছে। সরকারের প্রয়োজনেই অবৈধ দখলে থাকা জমি পুনরুদ্ধার প্রয়োজন।

তদন্ত কমিটির প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আজিজুল হক আরজু বলেন, ‘আমি ব্যক্তিস্বার্থে কোনো দুর্নীতি করিনি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বাজারটি গড়তে সহায়তা করেছি। বাজারটি অবৈধ হলেও জনস্বার্থে তা উচ্ছেদ না করে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।’

তদন্তাধীন বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আব্দুল মান্নান। শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমরা সব নথি ও ম্যাপের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য শুনেছি। প্রতিবেদনে তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, যমুনাপাড়ের সওজ ও খাস খতিয়ানের প্রায় ৮ একর জমি দখল করেন সাবেক সাংসদ খন্দকার আজিজুল হক আরজু। সেখানে এমপি বাজার নামে অবৈধ বাজার গড়ে ২৬৪টি প্লট বিক্রি করেন তিনি।

এ নিয়ে নিউজবাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

স্থানীয়ভাবে এমপি বাজার নামে পরিচিত এ মার্কেট ২০১৮-১৯ সালে নির্মাণ করা হলেও সম্প্রতি নতুন করে মাটি ভরাট করে বাড়ানো হয়েছে মার্কেটের পরিধি। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে নতুন প্লট।

স্থানীয়রা জানান, বেড়ার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের নগরবাড়ী একসময় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ছিল। যমুনা নদী গতিপথ পরিবর্তনের কারণে নগরবাড়ী ফেরিঘাট নদীর পাশ্ববর্তী কাজীরহাটে সরিয়ে নিলে স্থানটির গুরুত্ব কমে যায়।

আ.লীগ নেতার ‘সরকারি জমি দখল’, তদন্ত শুরু

ওই ফেরিঘাটের পাশেই ছিল নলখোলা মথুরাপুর হাট। তবে প্রায় ৩০ বছর আগে তা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। কয়েক বছর আগে ওই স্থানে ফের চর জাগে।

তারা আরও জানান, ২০১৮ সালে পাবনা-২-এর তৎকালীন সংসদ সদস্য আজিজুল হক স্থানটি ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেন। উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদকে না জানিয়ে অনুমোদন ছাড়াই যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে স্থানটি ভরাট করা হয়। পরে নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে ২৬৪টি প্লট করে বিক্রি করেন তিনি। প্লট বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা পরে ওই জমিতে আরসিসি পিলার করে মার্কেট নির্মাণ করেন।

দোকানমালিকরা জানান, ৩২ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ২০ ফুট প্রস্থের প্রতিটি প্লট পেতে তাদের কাছ থেকে সাবেক এমপির প্রতিনিধিরা নিয়েছেন দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। টাকা নেয়ার রসিদ দিলেও, জমির জন্য দেয়া হয়নি কোনো কাগজ বা চুক্তিপত্র।

সম্প্রতি এমপি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন করে ফের নদী থেকে বালু তুলে ভরাটের কাজ চলছে। এসব জমিতে নতুন প্লট বরাদ্দ দেয়ার কাজও প্রায় শেষ। প্লট বরাদ্দের দায়িত্বে রয়েছেন সম্প্রতি আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া একসময়ের প্রভাবশালী জামায়াত নেতা ইমান আলী মোল্লা।

মার্কেট নির্মাণের বৈধতার বিষয়ে জানতে চাইলে অনুমোদন না থাকার কথা স্বীকার করেছেন সাবেক সাংসদ খন্দকার আজিজুল হক আরজু। তবে নদী দখল করে মার্কেট নির্মাণ করা হয়নি বলে দাবি তার।

তিনি বলেন, ‘শতাব্দী প্রাচীন মথুরাপুর হাটের জমি নতুন করে জেগে উঠলে খাস জমিতে বর্তমান বাজার স্থাপন করা হয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দল মনোনয়ন না দেয়ায় সংসদ সদস্য হতে পারিনি। এ কারণে জমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি।

‘লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া প্লটমালিকদের কাছ থেকে জমির উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পরিচালনা কমিটি ৯৭ হাজার ১০০ টাকা করে নিয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত লাভের কোনো বিষয় নেই।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নালায় পড়ে মৃত্যু: সেবা সংস্থাগুলোকে আইনি নোটিশ

নালায় পড়ে মৃত্যু: সেবা সংস্থাগুলোকে আইনি নোটিশ

ফাইল ছবি

ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বুধবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নালা বা ড্রেন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সেটার দায় সিডিএ এড়াতে পারে না। সিটি করপোরেশন ও সিডিএ দুর্ঘটনারোধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা জানাতে হবে।’

চট্টগ্রামে মুরাদপুরে সবজি বিক্রেতা সালেহ আহমেদ ও আগ্রাবাদে শিক্ষার্থী সেহেরিন মাহবুব সাদিয়ার মৃত্যু হয়েছে দাবি করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) প্রধান নির্বাহীসহ ১৩ জনকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে। এতে সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) পক্ষে মঙ্গলবার ব্যারিস্টার আবদুল হালিম ও আইনজীবী ইশরাত হাসান এই নোটিশ পাঠান।

সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকাই চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে নগরবাসীর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

যাদেরকে নোটিশ দেয়া হয় তারা হলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, সিডিএ চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের ডেপুটি ডাইরেক্টর ও অ্যাসিসটেন্ট ডাইরেক্টর, সিডিএ সচিব, সিডিএয়ের প্রধান প্রকৌশলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এবং ডবলমুরিং থানার ওসি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বুধবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নালা বা ড্রেন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সেটার দায় সিডিএ এড়াতে পারে না। সিটি করপোরেশন ও সিডিএ দুর্ঘটনারোধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা জানাতে হবে।

‘দুর্ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কী না, হলে তার অগ্রগতি প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে জানাতে হবে ডবলমুরিং থানার ওসি ও সিএমপি কমিশনারকে।’

নোটিশে বলা হয়, সালেহ আহমেদ ও সাদিয়ার মৃত্যু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই হয়েছে। নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ে দিতে ব্যর্থ হলে বা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দিলে সুপ্রীম কোর্টের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে এক কোটি টাকা করে চাওয়া হবে।

ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ নিবে তার রিপোর্ট প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুরে নালায় পড়ে নিঁখোজ হন সালেহ আহমেদ। গতকাল পর্যন্ত তার খোঁজ মিলেনি। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে আগ্রাবাদে নালায় পড়ে মারা যান সাদিয়া। এ দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী কে সে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। যদিও চসিক ও সিডিএ কেউ দায় স্বীকার করেনি। বরং একে অপরকে দোষারোপ করে দুই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা।

সালেহ আহমেদ ও সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম ও আইনজীবী ইশরাত হাসানের দেয়া নোটিশেও দায় এড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

চসিক বলছে, দুদিকে ফুটপাত করলেও খালের মুখটি অরক্ষিত রেখেছে সিডিএ। তাই এর দায় সিডিএয়ের। আবার সিডিএ বলছে, খালের মালিকানা চসিকের। তাই খালের মুখে সুরক্ষা নিশ্চিতের দায়িত্বও তাদের।

নালা ও খালে পড়ে একের পর এক মৃত্যুতে নগরবাসী ক্ষুব্ধ উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, দায় এড়ানোর প্রবণতা প্রমাণ করে যে, সেবা সংস্থার মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে নগরবাসীর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

শেয়ার করুন

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০

নোয়াখালীর একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াখালীর এসপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদেরকে চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনায় একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এছাড়া পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলাম বুধবার বেলা ৩টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিভিন্নস্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের মো. ইলিয়াস, একলাশপুর ইউনিয়নের মিজানুর রহমান, গনিপুরের নুরনবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নোয়াখালীর এসপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদেরকে চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল।

ঢাকার সাভারে মধ্যরাতে বৃদ্ধ বাবাকে ঠান্ডা মাথায় ছেলে খুন করেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। যদিও হত্যার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এসব জানায় র‍্যাব-৪।

এতে বলা হয়, আশুলিয়ার জিরানী কোণাপাড়ায় মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ছেলে আফাজ উদ্দিনের বটির আঘাতে নিজ বাড়িতে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি খুন হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানায় আফাজ মানসিক ভারসাম্যহীন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আফাজকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ। মামলাটির ছায়া তদন্তে নামে র‍্যাব।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের মিসকিন শাহ রহমত উল্লাহ মাজার থেকে তাকে বুধবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা বটি, লুঙ্গি ও একটি বিছানার চাদর উদ্ধার করা হয়।

তবে র‍্যাবের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নিহত নূর মোহাম্মদের পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিউজবাংলাকে নূর মোহাম্মদের মেয়ে হোসনে আরা বলেন, ‘ জন্ম থেকেই আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ। বাবা ওর দেখভাল করতো, তার সঙ্গেই রাতে ঘুমাতো।’

আফাজের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘ আমার স্বামীর মানসিক সমস্যার কারণে আড়াই বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে আলাদা ঘরে থাকি। মাঝেমধ্যে আমার শ্বশুর ওর সঙ্গে ঘুমাতো।’

স্বপন মিয়া নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আফাজ একেক সময় একেক রকম আচরণ করতো। কখনও ভালো আবার কখনও খারাপ।’

র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফাজ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ড তা এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।’

শেয়ার করুন

ফেসবুক লাইভে থানায় ঢুকে আত্মহত্যার চেষ্টা সেই ছাত্রলীগ নেতার

ফেসবুক লাইভে থানায় ঢুকে আত্মহত্যার চেষ্টা সেই ছাত্রলীগ নেতার

ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক রাসেল ইকবাল। ছবি: নিউজবাংলা

রাসেল বলেন, ‘আজকে আমি বেঁচে থাকার কোনো কারণ দেখতেছি না। এই যে এইগুলো (হাতে ছোট একটি বোতল দেখিয়ে) আজকে থানার সামনে এগুলো খাব। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে পুলিশ প্রশাসন যারা আমার বাবাকে ধরে আনছে তারা...। আমার জীবনে আমার বাবাকে কখনও দেখি নাই কোনো মানুষের সঙ্গে অন্যায় করতে, খারাপ ব্যবহার করতে।’

বাঁশখালীতে সংঘর্ষে দুইজন নিহতের ঘটনায় আটক এক ব্যক্তিকে নির্দোষ দাবি করে থানায় ঢুকে ‘বিষ খেয়েছেন’ তার ছেলে।

এর আগে ফেসবুকে লাইভে এসে ওই যুবক অভিযোগ করেন, থানার ওসি, এসআই এবং স্থানীয় শুক্কুর নামের একজন তাকে ও তার বাবাকে সংঘর্ষের ঘটনায় ফাঁসিয়েছেন।

বাঁশখালী থানায় বুধবার বিকেল ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

ওই যুবক হলেন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক রাসেল ইকবাল। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

থানায় যাওয়ার আগে অটোরিকশায় বসে ফেসবুক লাইভে এসে রাসেল বলেন, '...আমার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নে, মুনছুরিয়া বাজার। এর আগেও তিনবার আমাকে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আমার বাবা নিরপরাধ একজন মানুষ। আমিও কোনো অপরাধ করিনি।

‘আমাদের এলাকায় আজকে দুইটা মারামারি হইছে, সেখানে একজন মানুষ নাকি মারা গেছে। ওই ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো প্রমাণ ছাড়া কালা শুক্কুর ডাকাত, পাগলা শাহ আলমের ছেলে মাহি ইসলাম আমাকে বিভিন্নভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করে মামলায়। আজকে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে আসছে এসআই হাবিব।’

শুক্কুরের পরামর্শে তার বাবাকে আটক করা হয়েছে দাবি করে রাসেল বলেন, ‘এসআই হাবিব সাহেবের উচিত ছিল ঘটনাস্থলে গিয়ে সব তথ্য প্রমাণ নেয়া, কে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল আর কে ছিল না। ওসি কামাল সাহেবের সঙ্গে কালা শুক্কুরের খুব ভালো সম্পর্ক। কালা শুক্কুর বলছে, সে জন্য আমার বাবাকে ধরে নিয়ে আসছে। এখন আমাকেও নাকি পুলিশ খুঁজতেছে। এখন আমি ছাত্রলীগের একজন কর্মী হয়ে আমার যদি এই অবস্থা হয়, আমার পরিবারের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ভালো থাকবে বলেন?’

শুক্কুর নামের ওই ব্যক্তি এর আগে তাকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘...আমার বন্ধুর সঙ্গে একটা মেয়ের সম্পর্ক ছিল, ওরা পালিয়ে বিয়ে করছে। ওই মামলায় কালা শুক্কুর আমাকে ফাঁসাই দিছে। তারপর আমার বন্ধু একজনের কাছে টাকা পাবে, আমি যখন রাজনীতি করি আমাকে ডাকছে, ওই ছেলেটাকেও ডাকছে। কথা বলতেছি, আমি নাকি তাকে অপহরণ করছি। ওসি সালাউদ্দিন হিরা ছিলেন, তারপর এসআই রফিক ছিলেন, পরিদর্শক শরীফ ছিলেন, ওনারা গিয়ে বাড়িতে আমার বাবাকে মারতেছে। আমার বাবার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিছে।’

এরপর তিনি থানায় গিয়ে আত্মহত্যা করবেন বলে জানান লাইভে।

রাসেল বলেন, ‘আজকে আমি বেঁচে থাকার কোনো কারণ দেখতেছি না। এই যে এইগুলো (হাতে ছোট একটি বোতল দেখিয়ে) আজকে থানার সামনে এগুলো খাব। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে পুলিশ প্রশাসন যারা আমার বাবাকে ধরে আনছে তারা...। আমার জীবনে আমার বাবাকে কখনও দেখি নাই কোনো মানুষের সঙ্গে অন্যায় করতে, খারাপ ব্যবহার করতে।’

এরপর লাইভেই তাকে থানায় ঢুকতে দেখা যায় ও কিছু লোকজনের হইচই শোনা যায়। এরপরই লাইভ শেষ হয়। এ বিষয়ে জানতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে তাদের তো আসলে আমি চিনি না কে কার বাবা। তা ছাড়া ওদের তো আমি আটক করিনি, আমি শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই ছিলাম। তাহলে তাদের আটক করে আনলাম কখন? আর শুক্কুর নামের যার কথা বলছেন, এই নামের কাউকে তো আমি চিনি না।’

বাঁশখালী পৌরসভার মনছুরিয়া বাজারে পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানো নিয়ে বুধবার দুপুরে দুই পরিবারের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। এই ঘটনায় আহত হন তিনজন।

নিহতরা হলেন ৩৪ বছর বয়সের আব্দুল খালেক ও সোলতান মাহমুদ টিপু। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক ঘটনার পরপরই নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তবে তাদের নাম আপাতত প্রকাশ করা হবে না।

রাসেলের আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়ে পরিদর্শক আজিজুল হক বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখতে গিয়েছি আমরা। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার নাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিকেল ৪টার দিকে বিষপান করা রাসেলকে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।’

জেলা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার রাতে নিউজবাংলাকে জানান, রাসেল শঙ্কামুক্ত।

শেয়ার করুন

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, বৃষ্টির মাঝেই ফানুস উড়িয়ে উদযাপিত হয় প্রবারণা পূর্ণিমা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রবারণা উৎসবকে ঘিরে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহার আলোয় সজ্জিত করা হয়। বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, পিণ্ডদানসহ নানাবিধ দানের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা হয় মন্দিরে মন্দিরে।

সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ছায়ায় গুমোট পরিবেশে ধর্মীয় উৎসবে, সহিংসতার রাশ টেনে ধরেছে প্রাণের উচ্ছ্বাস। প্রকৃতিতে একই রূপ। বুধবার প্রবারণা পূর্ণিমার আকাশ ছিল মেঘাছন্ন। তবুও থেমে থাকেনি বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার। বিহারে বিহারে উড়েছে ফানুস।

প্রবারণার সকাল শুরু হয় বৌদ্ধ মন্দিরে ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, মঙ্গলসূত্র পাঠ, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশিল ও অষ্টাঙ্গ উপসথ শিল গ্রহণের মধ্য দিয়ে। এরপর মহাসংসদান, অতিথি আপ্যায়ন, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, আলোচনা সভা, প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা হয় মন্দিরে মন্দিরে।

বুধবার সারা দেশে একসঙ্গে উদযাপন হয়েছে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদে মিলাদুন্নবী, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজা আর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা।

রাজধানীর বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে বুধবার সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোর উৎসব শুরু হয়। তার আগে সেখানে পালন হয়েছে নানা ধর্মীয় আচার। মধ্য বাড্ডার বৌদ্ধ মন্দিরেও দিনভর ছিল নানা আয়োজন। সন্ধ্যায় আকাশে উড়েছে হরেক রকম ফানুস। যদিও দফায় দফায় বৃষ্টি প্রভাব ফেলেছে আয়োজনে।

প্রবারণার সবচেয়ে বড় আয়োজন ছিল রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে। সেখানে সুখ, শান্তি, মঙ্গলপ্রার্থনা ও পরস্পরকে ক্ষমা প্রদর্শন, পুণ্যার্থীদের ভক্তি-শ্রদ্ধা ও পূজার মধ্য দিয়ে মুখর হয়ে ওঠে বিহার।

রাজবন বিহার ছাড়াও সদর উপজেলার যমচুগ বনাশ্রম ভাবনাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শাখা বনবিহারে উৎসব হয়।

বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, পিণ্ডদানসহ নানা আয়োজন ছিল। প্রবারণা উৎসব ঘিরে পুরো রাজবন বিহার সজ্জিত হয় বর্ণিল আলোয় ।

অন্যদিকে প্রবারণার পরিসমাপ্তির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে পার্বত্য তিন জেলায় শুরু হবে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব।

তবে এ বছর রাজবন বিহারে 'বেইন বুনা' হবে না বলে জানিয়েছে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটি।

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

রাঙ্গামাটির আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী রাখেন বিশেষ বক্তব্য।

পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন ৬ নম্বর বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয়গিরি চাকমা।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী মণিস্বপন দেওয়ানসহ উপস্থিত ছিলেন অনেকে।

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

প্রবারণা অনুষ্ঠান বৌদ্ধদের অন্যতম একটি ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। এটি দিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাবাসের পরিসমাপ্তি, বর্ষাবাস ত্যাগ, প্রায়শ্চিত্তকে বোঝায়। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাস বর্ষাবাস শেষে তাদের অজান্তে ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে একে অন্যের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়।

এ ছাড়া প্রবারণাকে আত্ম-অন্বেষণ ও আত্মসমর্পণের তিথিও বলা যায়। আবার এই দিনে পূর্ণাঙ্গ অভিধর্ম দেশনা সমাপ্ত হওয়ায় এই দিনটি অভিধর্ম নামেও পরিচিত।

শেয়ার করুন

দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: আ স ম আব্দুর রব

দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: আ স ম আব্দুর রব

কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। ছবি: নিউজবাংলা

জেএসডি সভাপতি বলেন, ‘ হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে। রংপুরের পীরগঞ্জে জেলে পাড়ায় বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় এসব সহিংসতা ক্ষমার অযোগ্য। জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।

কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে বুধবার দুপুরে এ আহ্বান জানান জেএসডি সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে, সংখ্যালঘুদের রক্ষায় জাতিসংঘ থেকেও বিবৃতি এসেছে। এমন বাংলাদেশের জন্য তো আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি।’

জেএসডি সভাপতি আরও বলেন, ‘হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে। রংপুরের পীরগঞ্জে জেলে পাড়ায় বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় এসব সহিংসতা ক্ষমার অযোগ্য। জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

কুমিল্লার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় নোয়াখালীর চৌমুহনীর ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ঘুরে দেখেন আ স ম আব্দুর রব।

এ সময় জেএসডির প্রেসিডিয়াম সদস্য তানিয়া রব, নোয়াখালী জেলা জেএসডির আহ্বায়ক মানিক পাটোয়ারীসহ জেলা ও উপজেলা জেএসডির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মোটরসাইকেলে বাসের চাপা, নিহত শ্যালক-দুলাভাই

মোটরসাইকেলে বাসের চাপা, নিহত শ্যালক-দুলাভাই

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। পরিবারের লোকজন এলে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে বাসটি আটক করা যায়নি।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন।

উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের চরভাবলা এলাকায় বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন পাবনা সদর উপজেলার মো. স্বাধীন ও একই উপজেলার মুস্তাক হোসেন। তারা সম্পর্কে শ্যালক-দুলাভাই।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বাধীন ও তার দুলাভাই মুস্তাক দুজনেই ঢাকার একটি কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি শেষে বুধবার বিকেলে পাবনা থেকে তারা ঢাকার উদ্দেশে মোটরসাইকেলে রওনা দেন।

পথে মহাসড়কের চরভাবলায় এসে পৌঁছালে বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। পরিবারের লোকজন এলে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে বাসটি আটক করা যায়নি।

শেয়ার করুন