শেয়ারে কারসাজি: মুন্নুকে দিতেই হচ্ছে ১৫ কোটি টাকা জরিমানা

শেয়ারে কারসাজি: মুন্নুকে দিতেই হচ্ছে ১৫ কোটি টাকা জরিমানা

২০১৯ সালে কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে মুন্নু সিরামিক ও মুন্নু স্টাফলারের শেয়ার বিক্রির প্রমাণ পেয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসি তদন্ত করে দেখতে পায় মুন্নু সিরামিকের শেয়ার কারসাজি করে ১১ গুণ বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করেছে ফাউন্ডেশন। পরে এই বর্ধিত দামে কোম্পানির ১৩১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনকে করা জরিমানার ১৫ কোটি পরিশোধ করতেই হচ্ছে।

২০১৯ সালে মুন্নু সিরামিক ও মুন্নু স্টাফলারের (বর্তমানে মুন্নু অ্যাগ্রো) শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই জরিমানা করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে ফাউন্ডেশন। কিন্তু বিএসইসি সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু তদন্তের বিষয়ে ছিল সেহেতু এটি ইনফোর্জমেন্ট বিভাগের। সেখান থেকে সবকিছু করা হয়েছে। তাদের জরিমানা করাসহ, জরিমানা মওকুফ না হওয়ার বিষয়টিও সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

মুন্নু সিরামিকের কোম্পানি সচিব নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই। আমি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।’

যে সময় কোম্পানিটিকে বিএসইসি জরিমানা করেছিল, সে সময় তিনি নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘আমাদের মূল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, যেখানে মুন্নুর সিংহভাগ শেয়ার রয়েছে। সাত লাখ শেয়ার পাবলিক মার্কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে যে ২৮ লাখ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল তার পুরোটি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা যা করেছি বিএসইসিকে জানিয়ে করেছি।’

বিএসইসি জরিমানার সিদ্ধান্ত নিলেও সেখানে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে মনে করেন মুন্নুর কোম্পানি সচিব। বলেন, ‘২৮ লাখ শেয়ার ব্লক মার্কেটে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে এখানে কারসাজি বা অন্যায়ের কী হয়েছে তা বোধগম্য নয়।’

যে কারণে জরিমানা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের পক্ষ থেকে শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত থাকলে আগাম ঘোষণা থাকতে হয়। কিন্তু বিএসইসি ঘোষণা ছাড়া শেয়ার বিক্রির প্রমাণ পায়।

এ জন্য কোম্পানির করপোরেট উদ্যোক্তা মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন শেয়ার বিক্রির তথ্য পর্যালোচনা করে মুন্নু সিরামিক, ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

তারই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কমিশনের ৭৬১তম কমিশন সভায় কোম্পানিটিকে ১৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

বিএসইসি তদন্ত করে দেখতে পায় মুন্নু সিরামিকের শেয়ার কারসাজি করে ১১ গুণ বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করেছে ফাউন্ডেশন। পরে এই বর্ধিত দামে কোম্পানির ১৩১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে মুন্নু ওয়েলয়েফার ফাউন্ডেশন।

মোট ৩৫ লাখ শেয়ার বিক্রি করা হয় সে সময় অভিহিত মূল্যে, যার দাম সাড়ে তিন কোটি টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিটির লাভ হয়েছে ১২৮ কোটি টাকার মতো।

দাম বাড়ানোর আগে যদিও প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৪০ টাকার মতো। কিন্তু সেই শেয়ার বিক্রি করা হয় ৪০০ টাকারও বেশি দামে। এই হিসাব করা হলে কোম্পানির লাভ হয়েছে ১০০ কোটি টাকার কিছু বেশি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির তদন্তে বের হয়ে এসেছে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য গোপনে ফাঁস করে, হিসাব বাড়িয়ে দেখিয়ে কারসাজি করে মুন্নুর দুটি কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ানো হয় সে সময়।

ওই বছরে ৪০ টাকার মুন্নু সিরামিকের দাম কারণ ছাড়াই বেড়ে হয় ৪৪১ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১৫৯ টাকা ৯০ পয়সা।

দুই বছরের তদন্ত শেষে ফাউন্ডেশনকে ১০ কোটি টাকা আর মুন্নু সিরামিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সমস্ত পরিচালককে (স্বতন্ত্র পরিচালক বাদে) ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করে বিএসইসি। অর্থাৎ মোট জরিমানা ১৫ কোটি টাকা।

বিএনপি নেত্রী আফরোজা খান রিতা এই কোম্পানিটির মালিক। তিনি বিএনপির সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশীদ খান মুন্নুর মেয়ে।

সে সময় একই কোম্পানির মালিকানাধীন আরেক কোম্পানি মুন্নু স্টাফলার, যা পরিবর্তীতে হয় মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারির দাম ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে সে সময় হয় পাঁচ হাজার ৮০০ টাকায়।

এই কোম্পানিটি পড়ে প্রতি দুটি শেয়ারের বিপরীতে তিনটি বোনাস শেয়ার দেয়। কিন্তু দর ধরে রাখতে পারেনি।

এখন শেয়ারটির দাম ৭৭৫ টাকা ৫০ পয়সা।

যেভাবে শেয়ার বিক্রি

দাম সর্বোচ্চ পরিমাণে বাড়ার পর মুন্নু সিরামিকের বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয় মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

২০১৯ সালের ৪ মার্চ ঘোষণা আসে মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের করপোরেট ডিরেক্টর মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন তাদের কাছে থাকা মুন্নু সিরামিকের এক কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩০টি শেয়ার থেকে সাত লাখ শেয়ার পাবলিক মার্কেটে বাজার দরে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিক্রি করা হবে।

তার ৫ কার্যদিবসে বিক্রি হয়ে যায় ৭ লাখ শেয়ার।

এই সময়ে অর্থাৎ ৪ মার্চ কোম্পানির শেয়ারে সর্বোচ্চ দর ছিল ৪৪১ টাকা। এটাই মুন্নু সিরামিকের গত দুই বছরের সর্বোচ্চ দর। তার এক দিন পর ৫ মার্চ শেয়ার প্রতি দর ছিল ৪৩০ টাকা। ৬ তারিখে দর হয়ে ৪১৭ টাকা। আর ৭ মার্চ দর কমে হয় ৩৮৮ টাকা।

৮ ও ৯ মার্চ সরকারি ছুটি থাকায় লেনদেন হয়ে ১০ মার্চ। সেদিন ৪১০ টাকা ২০ পয়সা।

এ সময় কোম্পানিটির গড় দর ছিল ৪১৭ টাকা। এই হিসাবে সাত লাখ শেয়ার বিক্রি করা হয় ২৯ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকায়।

১১ মার্চ আবারও ঘোষণা করা হয় মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ২৮ লাখ শেয়ার বিক্রি করবে হাতে থাকা এক কোটি ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৩০টি শেয়ারের মধ্যে।

সেদিন সর্বোচ্চ দর ছিল ৩৬৯ টাকা ১০ পয়সা। এভাবে ২৮ লাখ শেয়ারের দাম আসে ১০৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

অর্থাৎ মুন্নু সিরামিকের ৩৫ লাখ শেয়ার বিক্রি করে ১৩১ কোটি টাকার মতো আয় করে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

লেনদেনের হিসাবেও দেখা গেছে, ৪ মার্চ মুন্নু সিরামিকের মোট লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে বেশি ২১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৫৯টি।

আর ৫ মার্চ লেনদেন হয়েছে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৭৯১টি। ছয় মার্চ লেনদেন হয়েছে ৭ লাখ ৯২ হাজার ৬১৭টি।

এই কোম্পানির আহামরি কোনো লভ্যাংশ দেয়ার ইতিহাস নেই। কোম্পানিটি ২০১৭ সালে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০১৮ সালে ৩০ শতাংশ বোনাস আর ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করে।

১০০ কোটি টাকা চোরামি করে ১৫ কোটি টাকা দিলে লস কী?

‘কম’ জরিমানা নিয়ে প্রশ্ন

কারসাজি করে শতাধিক কোটি টাকা মুনাফা করলেও সাত ভাগের এক ভাগ জরিমানা করা নিয়ে প্রশ্ন ‍ছিল আগে থেকেই।

এভাবে শাস্তি দিলে কোনো লাভ হবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিএসইসি থেকে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী যতটুকু করা যায়, ততটুকুই শাস্তি দেয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক দেবপ্রিয় সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ধরনের কারসাজিতে অবশ্যই আরও বেশি জরিমানা করা উচিত। কিন্তু আইনে যেহেতু সর্বোচ্চ এটাই বলা আছে, তাই এর চেয়ে বেশি জরিমানা করলে হয়তো আদালতে গিয়ে আটকে যেতে পারত।’

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ তুলেছেন আরেক প্রশ্ন। তিনি বলেন, ‘যে কোম্পানির কিছুই নেই, বছরে ভালো লভ্যাংশ দিতে পারে না, সেই কোম্পানির শেয়ার কেন ৪০০ টাকায় কিনবে। এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদেরও সচেতন হওয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
মীর আখতারের দর কারসাজি তদন্তে কমিটি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ দেবে পেনিনসুলা

শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ দেবে পেনিনসুলা

করোনার মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি হোটেলের আয় কমে গেলেও পেনিনসুলা ব্যতিক্রম। ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৫ পয়সা আয় করা কোম্পানিটি করোনার বছরে তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ৪৬ পয়সা আয় করে। এরপর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত শেষ প্রান্তিকে আয় কিছুটা কমেছে। এই সমেয় শেয়ার প্রতি ৫ পয়সা লোকসান দিয়েছে কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজারে ভ্রমণ ও অবসর খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি পেনিসসুলা চিটাগং গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার প্রতি ১ টাকা পাবেন।

সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ মাস চারেক আগে সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা এই সিদ্ধান্ত নেয়।

কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত পেনিনসুলার শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪১ টাকা।

করোনার মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি হোটেলের আয় কমে গেলেও পেনিনসুলা ব্যতিক্রম। ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৫ পয়সা আয় করা কোম্পানিটি করোনার বছরে তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ৪৬ পয়সা আয় করে। এরপর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত শেষ প্রান্তিকে আয় কিছুটা কমেছে। এই সমেয় শেয়ার প্রতি ৫ পয়সা লোকসান দিয়েছে কোম্পানিটি।

২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির লভ্যাংশের ইতিহাস খুব একটা ভালো নয়। প্রথম তিন বছর ১০ শতাংশ করে, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি এক টাকা করে লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। এর মধ্যে ২০১৫ সালে সঙ্গে ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ারও দেয়া হয়।

তবে ২০১৮ সালে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা, ২০১৯ সালে ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ বিতরণ করে কোম্পানিটি। গত বছর আয় ব্যাপকভাবে কমে গেলেও রিজার্ভ থেকে শেয়ার প্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

২০১৬ সাল থেকে কখনও শেয়ার প্রতি এক টাকা আয় করতে পারেনি কোম্পানিটি। তবে তাদের শেয়ার প্রতি সম্পদ বেশ ভালো। ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারে সম্পদ ছিল ৩০ টাকা ৮৭ পয়সা।

এই লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৫ নভেম্বর। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। এই লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ১৩ ডিসেম্বর।

কোম্পানিটির শেয়ারদর গত এক বছরে ১৭ টাাক ২০ পয়সা থেকে ৩৫ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা কমেছে। লভ্যাংশ ঘোষণার দিন দাম ছিল ২৭ টাকা ২০ পয়সা।

এর আগে একই খাতের কোম্পানি সি পার্ল গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১ শতাংশ অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ১০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই বছরে শেয়ার প্রতি কোম্পানিটি আয় করেছে ৬১ পয়সা। শাটডাউনের প্রভাবে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ৪৯ পয়সা লোকসান দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
মীর আখতারের দর কারসাজি তদন্তে কমিটি

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজার পড়ছেই, বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভে

পুঁজিবাজার পড়ছেই, বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভে

পতন দিয়েই শুরু হয় সোমবারের লেনদেন। একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সূচক ১৬৪ পয়েন্ট হারিয়ে ফেলে। সে সময় কেবল ১৭টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল, পড়ে যায় প্রায় সাড়ে তিনশ কোম্পানির দর। তবে এরপর শেয়ারগুলো হারিয়ে ফেলা দর কিছুটা ফিরে পেতে শুরু করে। বেলা ২টা নাগাদ হারিয়ে ফেলা সূচক থেকে ৮০ পয়েন্ট ফিরে পায় পুঁজিবাজার। কিন্তু এরপর আবার পড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১২০ পয়েন্ট সূচকের পতনে শেষ হয় লেনদেন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নজরদারি, সতর্কতা, বাজারে তারল্য বাড়ানো উদ্যোগ বা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ- কাজে আসছে না কিছুই। পুঁজিবাজারে টানা দরপতন থামছে না। বরং দুই দিনে প্রায় ২০০ পয়েন্ট সূচকের পতনে বিনিয়োগকারীদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।

১০ কর্মদিবসের মধ্যে ৯ দিনের পতনে সূচক প্রায় ৫০০ পয়েন্ট কমে যাওয়ার পর মতিঝিলে বিক্ষোভে নামে বিনিয়োগকারীরা।

দরপতনে এখন কোম্পানির শেয়ারদর কমছে যাচাইবাছাই ছাড়াই। ভালো কোম্পানি, দুর্বল কোম্পানি, নির্বিশেষে পতন হচ্ছে। দরপতনের শতকরা হার ভাবিয়ে তুলছে বিনিয়োগকারীদের।

গত ১১ থেকে ১৯ অক্টোবর টানা সাত কর্মদিবস দরপতনের পর বিএসইসির কার্যালয়ে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনদের মধ্যে বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে নানা বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজবের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়া হয়।

সে সময় পুঁজিবাজারে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। আরও জানানো হয়, একটি ব্রোকারেজ হাউসের সেল প্রেসারের কারণে বাজারে সেদিন বড় দরপতন হয়েছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, এখন নজরদারি অনেক শক্তিশালী। বাজারে কারসাজি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এই বক্তব্যের পর তিন কর্মদিবসে পুঁজিবাজারের আচরণে স্পষ্ট হয় যে, সেদিনের বৈঠক শেষে যা বলা হয়, পুঁজিবাজারে পতনে আরও কারণ আছে আর তার সমাধান হয়নি।

এই বৈঠক ও বক্তব্যের পর দিন বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থান হলেও সেদিনও বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতনের কারণে উৎকণ্ঠা রয়েই গিয়েছিল। রোববার সপ্তাহের প্রথম দিনের লেনদেনের চিত্র ভয় ছড়ায় বিনিয়োগকারীদের মনে।

৭০ পয়েন্ট সূচকের পতনে ১০ শতাংশের বেশি ২টির, ৯ শতাংশের বেশি ৭টির, ৮ শতাংশের বেশি ৫টির, ৭ শতাংশের বেশি ৯টির, ৬ শতাংশের বেশি ২০টির, ৫ শতাংশের বেশি ২৪টির, ৪ শতাংশের বেশি ২৯টির, ৩ শতাংশের বেশি দর হারায় ৪২টি কোম্পানি।

সোমবারের চিত্রটা একপর্যায়ে ছিল আরও বেশি ভীতি জাগানিয়া। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দর সংশোধন শুরু হওয়ার পর থেকে যেদিন যেদিন সূচক কমেছে, তার প্রায় সব দিন লেনদেনের শুরুটা উত্থান নিয়ে শুরু হয়ে শেষ হয় পতন দিয়ে।

কিন্তু এদিন পতন দিয়েই শুরু হয় লেনদেন। আর একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সূচক ১৬৪ পয়েন্ট হারিয়ে ফেলে। সে সময় কেবল ১৭টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল, পড়ে যায় প্রায় সাড়ে তিনশ কোম্পানির দর।

তবে এরপর শেয়ারগুলো হারিয়ে ফেলা দর কিছুটা ফিরে পেতে শুরু করে। বেলা ২টা নাগাদ হারিয়ে ফেলা সূচক থেকে ৮০ পয়েন্ট ফিরে পায় পুঁজিবাজার, কিন্তু এরপর আবার পড়তে থাকে।

পুঁজিবাজার পড়ছেই, বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভে
সোমবার লেনদেন শুরুই হয় সূচক পতনের মধ্য দিয়ে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে পতনের হার।

শেষ পর্যন্ত ১২০ পয়েন্ট সূচকের পতনে শেষ হয় লেনদেন। আর এর মধ্য দিয়ে দুই দিনেই পড়ল ১৯০ পয়েন্ট। আর গত ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া টানা পতনের পর সূচক পড়ল ৪৮২ পয়েন্ট।

কেবল সূচক পতন দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি বোঝানো যাবে না। স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারগুলো এই সোয়া এক মাসে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

শেষ পর্যন্ত দুটি কোম্পানির শেয়ারদর ৯ শতাংশের বেশি, ৬টির দর ৮ শতাংশের বেশি, ৭টির দর ৭ শতাংশের বেশি, ১৬টির দর ৬ শতাংশের বেশি, ২৭টির দর ৫ শতাংশের বেশি, ৩৬টি কোম্পানির শেয়ারদর কমে ৪ শতাংশের বেশি।

দিন শেষে শেয়ারদর বাড়ে ৪৭টি কোম্পানির। বিপরীতে দর হারায় ৩০৭টি। আর দর ধরে রাখতে পারে ২২টি কোম্পানি। বড় পতনেও লেনদেনে খুব একটা প্রভাব দেখা যায়নি। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১ হাজার ৪৭১ কোটি ৪ লাখ টাকা। সেখান থেকে সামান্য কমে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সূচকের পতন বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলে। ভালো একটি বাজার যে এভাবে পতনের মুখে পড়বে এটা হয়ত অনেক বিনিয়োকারী আন্দাজ করতে পারেনি।’

বাজার আবার ঠিক হয়ে যাবে বলে আশাবাদী তিনি। বলেন, ‘লেনদেন যদিও বলা হচ্ছে কমে যাচ্ছে, তারপরও কিন্ত হাজার কোটি টাকা হাতবদল হয়েছে। এটিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ফলে বিনিয়োগকারীরা ধৈর্য ধরতে পারে, আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি না করে অপেক্ষা করতে পারে।’

এই দরপতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, বেক্সিমকো লিমিটেড, ওয়ালটন, সামিট পাওয়ার, বেক্সিমকো ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, গ্রামীণ ফোন, ইউনাইটেড পাওয়ার ও রবি।

পুঁজিবাজার পড়ছেই, বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভে
সূচক টেনে নামানোয় প্রধান ভূমিকায় ছিল এই ১০টি কোম্পানি

এই ১০টি কোম্পানিই কেবল সূচক ফেলেছে ৬৮ পয়েন্ট।

বিপরীতে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ফরচুন সুজ, ডেল্টা লাইফ, রেনাটা, সোনালী পেপার, বিবিএস ক্যাবলস, ওরিয়ন ফার্মা, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, শেফার্ড ও ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস সূচকে যোগ করেছে ১০.৭৮ পয়েন্ট।

হতাশা থেকে বিক্ষোভে বিনিয়োগকারীরা

সোমবার সূচকের শতক পতনে আতঙ্কে রাস্তায় নেমেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সঙ্গে ছিল বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।

সকালের সূচকের পতনের থাক্কা যখন দেড়শ পয়েন্টের কাছাকাছি তখন মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল ফটকের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ান বিনিয়োগকারীরা।

এ সময় প্রায় অর্ধশতাধিক বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারের এমন পতনকে অস্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের বক্তব্য, পুঁজিবাজার ভালো ছিল। একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে পুঁজিবাজার থেকে মুনাফা উত্তলনের নামে সূচকের পতন ত্বরান্বিত করছে।

বর্তমান কমিশনের আন্তরিকতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা বলেন, বর্তমান কমিশন পুঁজিবাজারের প্রতি আন্তরিক ছিল বলেই ৪ হাজার সূচক ৭ হাজারে উঠেছে। কমিশন নানা উদ্যোগে এখনও লেনদেন হাজার কোটি টাকায় বিদ্যমান আছে। তারপরও একটি মহল পুঁজিবাজারকে খারাপ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কমিশনের উচিত হবে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে শান্তির আওতায় আনা।

এর আগে গত সপ্তাহের মঙ্গলবার যখন পুঁজিবাজারে সূচকের বড় পতন হয়েছিল তখন ডিএসইর স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করে বিএসইসি। যেখানে একটি ব্রোকারেজ হাউজকে চিহিৃত করা হয়, যারা এককভাবে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সূচকের পতনে ভূমিকা রেখেছিল।

বৈঠক শেষে এও জানানো হয়েছিল, পরবর্তী কার্যদিবসে পুঁজিবাজার আবারও গতি পাবে। পেয়েও ছিল। টানা ছয় দিন সূচক পতনের পর বৃহস্পতিবার উত্থানে ফেরে পুঁজিবাজার।

তারপর চলতি সপ্তাহের শুরুতে আবার সেই পতন। রোববার ৭০ পয়েন্ট আর সোমবার ১২০ পয়েন্ট পতনে সূচকে এসে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে।

আন্দোলন সম্পর্কে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ভালো একটি পুঁজিবাজার ছিল। সূচক ও লেনদেনের বৃদ্ধিতে বিনিয়োগকারীরাও এতদিন যে হতাশার মধ্যে ছিল সেখান থেকে বের হয়ে আসছিল। কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে বর্তমান বাজার ইনসাইডার ট্রেডিং হচ্ছে। পুঁজিবাজারে আরও পতন হবে এমন গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগাকারীদের শেয়ার বিক্রিতে উৎসাহী করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কমিশন যেভাবে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তাতে আতঙ্কের কিছু ছিল না। কিন্তু এখন যে অবস্থার মধ্যে আছে সেখান থেকে দ্রুত উত্তরণ হওয়া উচিত। তা না হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিনিয়োগ হারানোর আতঙ্ক আরও প্রকট হবে।

দর পতন ছুঁয়েছে সব খাতে

রোববারের যেন পুরাবৃত্তি হয়েছে সোমবার। সূচকের পতনের হার কম থাকলেও সোমবার আরও বেশি কমেছে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। এমন অবস্থায় রেহায় পায়নি কোনো খাত।

বস্ত্র খাতে ৪৮টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ৪৯টির, বেড়েছে কেবল নয়টির। লেনদেন হয়েছে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে আর্থিক খাতে দর বেড়েছে একটির, কমেছে ২১টির দর। লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৯ কোটি ১১ লাখ টাকা।

বস্ত্র খাতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রির। শেয়ার দর ২৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা ৬০ পয়সা। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দর ২ টাকা ৭০ পয়সা বা ৯.৬৭ শতাংশ বেড়েছে।

এ খাতের দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় স্থানে আছে মালেক স্পিনিং, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৪.৮৬ শতাংশ। মতিন স্পিনিং মিলসের শেয়ার দর বেড়েছে ৪.০৬ শতাংশ।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে ড্রাগন সোয়েটার লিমিটেডের ৮.৯০ শতাংশ।

তুং হায় শেয়ার দর কমেছে ৮.১৯ শতাংশ। এ ছাড়া, এ খাতের তাল্লু স্পিনিংয়ের ৭.৪০, জাহিন স্পিনিংয়ের ৭.২২ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।

আর্থিক খাতে একমাত্র কোম্পানি হিসেবে ন্যাশনাল হাইজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে দশমকি ৪৫ শতাংশ। আগের দিন রোববারও এ খাতের মাত্র একটি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছিল, সেটি ছিল আইডিএলসি।

প্রকৌশল খাতে ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৩৮টি। বেড়েছে ৩টির দর আর দর ধরে রাখতে পেরেছে একটি। লেনদেন হয়েছে ৮৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এই খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে অলিম্পিক এক্সসোসরিজ লিমিটেড ৯.৯১ শতাংশ। শেয়ার দর ১১ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১০ টাকা। এস আলম কোল্ড স্টোরিজ লিমিটেডের শেয়ার দর কমেছে ৭.২৬ শতাংশ। গোল্ডেন সনের শেয়ার দর ১৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৬.৫৮ শতাংশ কমে হয়েছে ১৭ টাকা।

এ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল বিবিএস ক্যাবলের শেয়ারের প্রতি। সোমবার কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৭১ শতাংশ। এ ছাড়া, ইস্টার্ন ক্যাবলের শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ১ টাকা ৫১ পয়সা বা দশমিক ৬৫ শতাংশ।

লেনদেন কমার পাশাপাশি শেয়ার প্রতি দরও কমেছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের। এই খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে কেবল ৭টির, কমেছে ২৩টির দর। লেনদেন হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এ খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ওরিয়ান ফার্মার ১.৮৯ শতাংশ। আগের দিন রোববারও এই কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছিল ৪.৪৩ শতাংশ। লেনদেনে ওরিয়ান ফার্মার শেয়ার দর ১১০ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১২ টাকা ৭০ পয়সা।

তারপরই ছিল বিকনফার্মা, যার শেয়ার প্রতি দর ১ টাকা ৫০ পয়সা বা দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ার দর ২০৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১১ টাকা। ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার দর বেড়েছে দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এই খাতের সবচেয়ে বেশি ৬.৬০ শতাংশ দর হারিয়েছে গ্লোবাল হ্যাভি কেমিক্যাল। এ ছাড়া এম্বিফার্মার শেয়ার দর কমেছে ৫.৬৩ শতাংশ। কেয়া কসমেটিক্সের শেয়ার দর কমেছে ৫.৫৫ শতাংশ।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১টি কোম্পানির দর বৃ্দ্ধির বিপরীতে কমেছে ১০টির দর। লেনদেন হয়েছে ৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ৩৬টির মধ্যে ৩টির দাম বেড়েছে। কমেছে ২৩টি ফান্ডের। এই খাতে হাতবদল হয়েছে কেবল ১৮ কোটি টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আর আগের দিন বৃহস্পতিবার হাতবদল হয়েছিল ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ২০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৯টির, কমেছে ১১টির। এই খাতে লেনদেন হয়েছে ৭৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১২০ দশমিক ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৮৫ দশমিক ২৯ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ২২ দশমিক ১৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬৫ দশমিক ৬০ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৫৩ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
মীর আখতারের দর কারসাজি তদন্তে কমিটি

শেয়ার করুন

শর্তে তালা খোলা হলো ইউনাইটেড এয়ার কার্যালয়ের

শর্তে তালা খোলা হলো ইউনাইটেড এয়ার কার্যালয়ের

ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ। ফাইল ছবি

বেবিচকের হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত ইউনাইটেড এয়ারের কাছে তাদের পাওনা টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৩ টাকা। এ টাকা আদায়ে চলতি বছরের শুরুতে এয়ারলাইনসটির পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো নিলামের উদ্যোগ নেয় বেবিচক। অবশ্য পরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচালনা পর্ষদের অনুরোধে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সংস্থাটি।

পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ পরিদর্শনের পর এবার শর্তসাপেক্ষে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলোতে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ।

এয়ারলাইনসটি বলছে, এখন কার্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছে তারা। ২০১৬ সাল থেকে এগুলো বন্ধ ছিল।

ইউনাইটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এটিএম নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার অফিসগুলো খোলা হয়েছে। এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে। কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারাটা বড় অগ্রগতি।’

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত ৯টি উড়োজাহাজ পরিদর্শন করে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। সে সময় এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ বলেছিল, উড়োজাহাজগুলোর অবস্থা যতটা খারাপ ভাবা হচ্ছিল, তার চেয়েও ভালো অবস্থায় আছে, তবে এগুলো ওড়ার উপযোগী করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ইঞ্জিনিয়ারিং অডিটের পর।

কার্যালয়ে প্রবেশাধিকার মিললেও এয়ারলাইনসটি আবারও পাখা মেলতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। অবশ্য প্রবেশাধিকার পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে কার্যালয়ে থাকা এয়ারলাইনসটির গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং উড়োজাহাজের টেকনিক্যাল লগ বুকগুলো পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে কর্তৃপক্ষ।

শর্তে তালা খোলা হলো ইউনাইটেড এয়ার কার্যালয়ের

এয়ারলাইনসটিকে পুনরায় সচল করা যাবে কি না, তাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এতে সহজ হবে। পাশাপাশি উড়োজাহাজগুলো কী অবস্থায় আছে এবং এগুলো পুনরায় সচল করা যাবে কি না, তা সম্বন্ধেও ধারণা পাওয়া যাবে নথি বিশ্লেষণে।

এটিএম নজরুল বলেন, ‘আমরা একটি টিম করেছি ইঞ্জিনিয়ার এবং পাইলটদের নিয়ে। তারা ফিজিক্যালি উড়োজাহাজগুলো পরিদর্শন করবে। আমাদের যে ডকুমেন্টগুলো এখানে আছে, সেগুলো তারা অডিট করবে। হয়তো এটা ৪০ ভাগ কাজে লাগবে। এটা না হলে বোঝা যাবে না উড়োজাহাজগুলো কী অবস্থায় আছে। লগ বইগুলো স্টাডি করে তারা একটি রিপোর্ট করবে। সেটা হয়ে গেলে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।

‘এটা ডিপেন্ড করছে সিভিল সিভিল এভিয়েশেনের অনুমতির ওপর। তারা আমাদের এই টিমকে বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি দিলে আমরা কাজ শুরু করতে পারব। আমরা আশা করি, এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে অনুমতি পাব।’

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ার ২০১৬ সালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কোম্পানির শেয়ার দর নামতে নামতে দুই টাকার নিচে নেমে আসে। বিএসইসি মূল মার্কেট থেকে কোম্পানিটিকে স্থানান্তর করে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে। সেখানে শেয়ার লেনদেন জটিল ও সময়সাপেক্ষ বলে লেনদেনও হচ্ছে না। এতে ৭২ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ারের মালিকদের টাকা কার্যত শূন্য হয়ে গেছে।

এর প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারের বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় বিএসইসি। পরিচালনা পর্ষদের প্রধান তাসবিরুল আলম চৌধুরীকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয় এভিয়েশন খাতের পরিচিত মুখ কাজী ওয়াহিদুল আলমকে। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আসেন এটিএম নজরুল ইসলাম, যিনি এর আগে ইউনাইটেড এবং জিএমজি এয়ারলাইনসের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত ইউনাইটেড এয়ারের কাছে তাদের পাওনা টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৩ টাকা। এ টাকা আদায়ে চলতি বছরের শুরুতে এয়ারলাইনসটির পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো নিলামের উদ্যোগ নেয় বেবিচক। অবশ্য পরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচালনা পর্ষদের অনুরোধে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সংস্থাটি।

দেনা-পাওনার বিষয়ে ইউনাইটেডের এমডি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সিভিল এভিয়েশনের যে শর্ত ছিল যে দেনা পাওনার বিষয়ে, তারা সেটি সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে যে কী হবে। মিনিস্ট্রি সিভিল এভিয়েশনকে একটি চিঠি দিয়েছে তাদের মতামত চেয়ে।

‘তারা মিনিস্ট্রিতে চিঠি পাঠাবে। সেটা না আসা পর্যন্ত আমাদের প্রোগ্রেস আটকে থাকবে। এটা হলে ফরমালি আমাদের সম্পদে অ্যাকসেস পাব। এখন যেটা পাচ্ছি, তাতে যদি কিছু করতে চাই, সেটা পারছি না।’

আরও পড়ুন:
মীর আখতারের দর কারসাজি তদন্তে কমিটি

শেয়ার করুন

ড্রাগন সোয়েটারের আবার বোনাস লভ্যাংশ

ড্রাগন সোয়েটারের আবার বোনাস লভ্যাংশ

ড্রাগন সোয়েটারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। ছবি: কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে নেয়া

তালিকাভুক্তির বছর ২০১৬ ও তার পরের বছর ১৫ শতাংশ করে, ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালে দেয়া হয় ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার। মাঝে ২০১৮ সালে ২০ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি দেয়া হয় ৫ শতাংশ নগদ। অর্থাৎ সে বছর শেয়ারপ্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ পান বিনিয়োগকারীরা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ড্রাগন সোয়েটার লভ্যাংশ হিসেবে আবার বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ শেয়ারধারীরা প্রতি ১০টি শেয়ারের বিপরীতে একটি পাবেন লভ্যাংশ হিসেবে।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে কেবল এক বছর বোনাসের সঙ্গে কিছু নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়েছিল। বাকি প্রতিবছরই লভ্যাংশ হিসেবে দেয়া হয় বোনাস শেয়ার।

এর মধ্যে তালিকাভুক্তি ও তার পরের বছর ১৫ শতাংশ করে, ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালে দেয়া হয় ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার। মাঝে ২০১৮ সালে ২০ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি দেয়া হয় ৫ শতাংশ নগদ। অর্থাৎ সে বছর শেয়ারপ্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ পান বিনিয়োগকারীরা।

করোনার বছরে কোম্পানিটির আয় আগের বছরের আয়ের প্রায় সমান। তবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কমেছে।

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২২ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা।

গত মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৯২ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৭১ পয়সা।

তবে শেষ প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির আয় গত বছরের চেয়ে কম হয়েছে। এবার এই আয় হয়েছে ৩০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫২ পয়সা।

আগের বছর কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ার কারণে সম্পদমূল্য কমে গেছে। গত বছর শেয়ারপ্রতি সম্পদ ছিল ১৮ টাকা ৯৮ পয়সা। সেটি কমে এবার দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৭২ পয়সা।

কোম্পানিটির লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৪ নভেম্বর। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। এই লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ৫ ডিসেম্বর।

প্রতিবছরই দেখা গেছে লভ্যাংশ ঘোষণার পর ড্রাগনের শেয়ার দর পড়ে যায়, পরে লভ্যাংশ ঘোষণার আগে আগে আবার বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

গত এপ্রিলেও কোম্পানিটির শেয়ার ১০ টাকার নিচে লেনদেন হয়েছে। সেখান থেকে উত্থান হয়ে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ওঠে ২৪ টাকা ৮০ পয়সায়। তবে গত দুই সপ্তাহে কিছুটা সংশোধন হয়ে দাম দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ১০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
মীর আখতারের দর কারসাজি তদন্তে কমিটি

শেয়ার করুন

ডাচ্-বাংলার দারুণ আয়

ডাচ্-বাংলার দারুণ আয়

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ২৫ পয়সা। আগের বছর এই সময়ে আয় ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। আয় বেড়েছে ৭৮ পয়সা বা ১৪.২৫ শতাংশ।  

করোনার বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক ডাচ্-বাংলার অগ্রগতি অব্যাহত আছে। তিন প্রান্তিকের মধ্যে দুই প্রান্তিকেই আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি আয় করতে পেরেছে কোম্পানিটি।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৬৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ৫ পয়সা। আয় বেড়েছে ৬৩ পয়সা বা ৩০.৭৩ শতাংশ।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে এই হিসাব প্রকাশ করা হয়।

এই তিন মাসের হিসাবসহ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ২৫ পয়সা। আগের বছর এই সময়ে আয় ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। আয় বেড়েছে ৭৮ পয়সা বা ১৪.২৫ শতাংশ।

এর আগের প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির আয় কমে গিয়েছিল। ওই তিন মাসে শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ১৪ পয়সা আয় হয়েছিল ব্যাংকটির। আগের বছর এই সময়ে আয় হয়েছিল ২ টাকা ২৩ পয়সা।

তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে হোঁচট খেলেও প্রথম প্রান্তিকে বেশি আয়ের সুবাদে অর্ধবার্ষিকেও আয় বেশি ছিল। ৬ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৩ টাকা ৫৭ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ৩ টাকা ৪২ পয়সা।

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৬৫ পয়সা। ২০২০ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৩৭ পয়সা।

২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা আয় করে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ দেয়া হয় বোনাস, আর শেয়ারপ্রতি দেড় টাকা দেয়া হয় নগদ।

কোম্পানিটি লভ্যাংশ ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এর চেয়ে বেশি লভ্যাংশ ঘোষণায় আইনি বাধা ছিল। পরে অবশ্য লভ্যাংশের সীমা বাড়িয়ে ৩৭.৫ শতাংশ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত এক বছরে পুঁজিবাজারে উত্থানের মধ্যেও ব্যাংক খাতের ঘুমিয়ে থাকার মধ্যেও এই ব্যাংকটির শেয়ার দর বেশ বেড়েছিল।

এই সময়ে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৫৬ টাকা ৯০ পয়সা। ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার যুক্ত হওয়ার পরেও শেয়ার দর পরে বেড়ে ৯৭ টাকা ৭০ পয়সা হয়ে যায়।

তবে গত ২৭ জুন থেকে শেয়ার দর সংশোধনে আছে। সর্বোচ্চ দর থেকে ২০ টাকা কমে প্রান্তিক প্রকাশের দিন শেয়ার দর ছিল ৭৭ টাকা।

কেবল এই ব্যাংকটিই নয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যতগুলো ব্যাংক এখন পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে কেবল লোকসানি আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের লোকসান বেড়েছে। অন্যদিকে আয় বাড়াতে পেরেছে এনসিসি, ওয়ান, ইসলামী, সিটি ও প্রিমিয়ার ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
মীর আখতারের দর কারসাজি তদন্তে কমিটি

শেয়ার করুন

আয় কমে গেল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের

আয় কমে গেল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের

কেবল সবশেষ প্রান্তিকে নয়, কোম্পানিটির আয় কমেছে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসেও। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৮৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ২২ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরের বছরেই আয় কমে গেল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সেরও।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৭৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ৯৬ পয়সা।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হয়।

কেবল সবশেষ প্রান্তিকে নয়, কোম্পানিটির আয় কমেছে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসেও। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৮৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ২২ পয়সা।

তবে গত বছর কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ছিল না। সে সময় ২৪ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটিতে শেয়ার সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪০ লাখ। আইপিওতে ১৬ কোটি টাকা তুলে এক কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ইস্যুর পর শেয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ।

তালিকাভুক্তির বছরে শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ৫৮ পয়সা আয় করে শেয়ারধারীদেরকে এক টাকা করে লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই কোম্পানির আয়ে ভাটা পড়তে থাকে। প্রথম প্রান্তিকে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৬৩ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আরও ৪৬ পয়সা আয় হয়েছিল কোম্পানিটির।

অর্ধবার্ষিকে ক্রিস্টালের শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা।

১০ টাকা অভিহিত মূল্যে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির শেয়ারদর গত জুন থেকে ক্রমাগত কমছে। সে সময় শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৭৪ টাকা ৩০ পয়সা।

প্রান্তিক প্রকাশের দিন শেয়ার মূল্য ছিল ৫৪ টাকা ৮০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
মীর আখতারের দর কারসাজি তদন্তে কমিটি

শেয়ার করুন

আয় কমে গেল ইসলামিক ফাইন্যান্সের

আয় কমে গেল ইসলামিক ফাইন্যান্সের

কেবল সবশেষ প্রান্তিক নয়, গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ৯ মাসেও কোম্পানিটির আয় কমেছে। এই তিন প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৮৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৯ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের আয় কমে গেছে।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২৯ পয়সা।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয়।

কেবল সবশেষ প্রান্তিক নয়, গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ৯ মাসেও কোম্পানিটির আয় কমেছে। এই তিন প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৮৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৯ পয়সা।

আয় কমলেও কোম্পানিটির শেয়ারদরে উল্লম্ফন হয়েছে। এপ্রিলের শেষেও কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৮ টাকার কম। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তা ৩৫ টাকা ৪০ পয়সা হয়ে যায়।

শেয়ারদর দ্বিগুণ হওয়ার পরে অবশ্য ৩০ নভেম্বর থেকে তা পতনমুখী। সেদিন শেয়ারদর ছিল ৩৪ টাকা। এরপর ১৫ কার্যদিবসে শেয়ারদর কমেছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা বা ২২.৬৪ শতাংশ।

২ বছর ধরে শেয়ার প্রতি এক টাকা করে লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানিটির শেয়ারদর এক বছরে ১৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে প্রায় আড়াই গুণ বেড়ে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছিল।

গত বছর শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৫৪ পয়সা আয় করা কোম্পানিটির সম্পদমূল্যও কমেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর শেয়ার প্রতি সম্পদ ছিল ১৪ টাকা ৯৯ পয়সার। সেটি কমে ৩০ সেপ্টেম্বর দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৮৮ পয়সা।

আরও পড়ুন:
মীর আখতারের দর কারসাজি তদন্তে কমিটি

শেয়ার করুন