মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন বেরোবির শিক্ষক মুনিরা

মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন বেরোবির শিক্ষক মুনিরা

আগের পোস্টের জন্য ক্ষমা চেয়ে শিক্ষক মুনিরা লেখেন, ‘একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদের মৃত্যু সম্পর্কে ভিন্নভাবে অভিমত ব্যক্ত করা ঠিক নয়। কর্মফল যাই হোক না কেন; মৃত্যু সব সময় বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক। এটি অনুধাবনের পরপরই আমি আমার বক্তব্য থেকে সরে এসেছি। সেই সঙ্গে আমার আগের দেয়া পোস্ট সরিয়ে নিয়েছি। তারপরও যারা আমার পোস্টে আঘাত পেয়েছেন; তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে ‘ব্যঙ্গাত্মক’ স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছিল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক সিরাজুম মুনিরার বিরুদ্ধে।

ওই মামলায় বিবাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় রংপুরে নবগঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল মজিদ মুনিরাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী রুহুল আমীন তালুকদার।

তিনি বলেন, সোমবার মামলার দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে ওই শিক্ষককে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইজার আলী নিউজবাংলাকে জানান, ‘আমরা গত মার্চ মাসে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির মতামত না পাওয়ায় আমরা তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছিলাম।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে তাজহাট থানায় গত বছরের ১৩ জুন মামলাটি করেছিলেন রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামাল। ওই দিন রাতেই তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৪ জুন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় গত বছরের ১৩ জুন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম মারা যান। তার মৃত্যু নিয়ে মুনিরা ফেসবুকে ‘যোগ্য নেতৃত্বে দেশ নাসিম্যা মুক্ত হলো’ লিখে পোস্ট দেন।

মুনিরাকে আক্রমণ করে কমেন্টস করতে থাকেন ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। তার শাস্তিও দাবি করা হয়। একপর্যায়ে পোস্টটি মুছে দেন তিনি। কিন্তু পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে।

ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে এই শিক্ষক আগের পোস্টের জন্য ক্ষমা চেয়ে আরেকটি পোস্ট দেন। এতে তিনি লেখেন, ‘একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদের মৃত্যু সম্পর্কে ভিন্নভাবে অভিমত ব্যক্ত করা ঠিক নয়। কর্মফল যাই হোক না কেন; মৃত্যু সব সময় বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক। এটি অনুধাবনের পরপরই আমি আমার বক্তব্য থেকে সরে এসেছি। সেই সঙ্গে আমার আগের দেয়া পোস্ট সরিয়ে নিয়েছি। তারপরও যারা আমার পোস্টে আঘাত পেয়েছেন; তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’

মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া প্রসঙ্গে কথা বলতে সিরাজুম মুনিরাকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামাল নিউজবাংলাকে জানান, ‘আমি বিষয়টি মুখে মুখে শুনেছি এখনো কাগজপত্র পাইনি। আদালত কী নির্দেশনা দিয়েছেন তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বেরোবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
বেরোবিতে অনলাইনে ভর্তি ও ফরম পূরণ শুরু রোববার
এবার বেরোবিতে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর: গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা
কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, ২ কারখানা মালিকের জরিমানা

ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, ২ কারখানা মালিকের জরিমানা

রংপুরে ভেজাল ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রম্যমাণ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

রংপুর নগরীর ‘দি মৌভাষা ইসলামিয়া ঔষধ ফ্যাক্টরি’ এবং কাউনিয়া উপজেলার ‘বি সান্ত ল্যাবরেটরিজ’ ইউনানী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালায় পুলিশ। মালিকদের জরিমানা করে দুই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রংপুর মহানগরী ও কাউনিয়ার হারাগাছ এলাকায় দুটি ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল ওষুধ জব্দ করেছে পুলিশ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মালিকদের জরিমানা করে ওই দুই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।

সোমবার দুপুরে নগরীর ‘দি মৌভাষা ইসলামিয়া ঔষধ ফ্যাক্টরি’ এবং কাউনিয়া উপজেলার ‘বি সান্ত ল্যাবরেটরিজ’ ইউনানী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়।

রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি এ্যান্ড মিডিয়া) সাজ্জাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের বাহার কাছনা এলাকায় ‘বি সান্ত ল্যাবরেটরিজ' ইউনানী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়। ফ্যাক্টরিতে কেমিস্ট না থাকা, অনুমোদন ছাড়া ওষুধ তৈরিসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ফ্যাক্টরির মালিক রাশেদুল আনাম প্রামানিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

ত্রুটি সংশোধন না করা পর্যন্ত ফ্যাক্টরির সব কার্যক্রম ও উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অন্যদিকে, নগরীর নিউ শালবন এলাকায় ‘দি মৌভাষা ইসলামিয়া ঔষধ ফ্যাক্টরি’তে অভিযান চালানো হয়।

সেখানেও অনুমোদন ছাড়া ওষুধ উৎপাদন, কেমিস্ট না থাকা, ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালের গায়ে মেয়াদ ও ব্যবহার বিধি না থাকা এবং বোতলের গায়ে লাগানো লেভেল ও টোকেন সঠিক না থাকাসহ নানাবিধ অনিয়ম পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ফ্যাক্টরির মালিক এমদাদুল ইসলামকে সাত হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।

সব অনিয়ম দূর না করা পর্যন্ত কারখানার কার্যক্রম ও উৎপাদন বন্ধ রাখার আদেশ দেয়া হয়েছে।

দুই ওষুধ কারখানা থেকে ১৫ লাখ টাকার ভেজাল ওষুধ জব্দ করেছে পুলিশ।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাশপিয়া তাসরিন।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর রংপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।

রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড মিডিয়া) সাজ্জাদ হোসেন জানান, রংপুর মহানগরীতে সব ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নকল ও অননুমোদিত ওষুধ নির্মূলে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন:
বেরোবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
বেরোবিতে অনলাইনে ভর্তি ও ফরম পূরণ শুরু রোববার
এবার বেরোবিতে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর: গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা
কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম না থাকলেও তিন বছরে ১৭২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবাই নিয়োগ পেয়েছেন এডহক ভিত্তিতে। অভিযোগ আছে, সরকারের নির্দেশনার পরোয়া না করে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বেশির ভাগ নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

দেশের চতুর্থ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০১৮ সালে কার্যক্রম শুরু হয় সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের। প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ক্যাম্পাসের জন্য দক্ষিণ সুরমায় ১০০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। ফলে শুরু হয়নি শিক্ষা কার্যক্রমও।

তেমন কোনো কার্যক্রম না থাকলেও তিন বছরে ১৭২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ফেলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবাই নিয়োগ পেয়েছেন এডহক ভিত্তিতে। অভিযোগ আছে, সরকারের নির্দেশনার পরোয়া না করে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বেশির ভাগ নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকের যোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় শ্রেণির এক কর্মকর্তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এডহক ভিত্তিতে এ ধরনের নিয়োগকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মকর্তারা।

ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এডহক ভিত্তিতে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে তিন দফা চিঠিও দেয়া হয়েছে। ফলে এডহক নিয়োগের এখতিয়ার কারও নেই। কেউ যদি দিয়ে থাকেন সেটা সম্পূর্ণ অবৈধ।’

অবশ্য ২০১৮ সালে পাস হওয়া সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনে রয়েছে, ‘উপাচার্য সিন্ডিকেটের পুর্বানুমোদনক্রমে কোনো শূন্য পদে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে অনধিক (৬ মাসের) জন্য কিছু পদে নিয়োগ করিতে পারিবেন। এবং প্রয়োজনে উক্তরূপ নিয়োগের মেয়াদ ৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করিতে পারবেন। ...শর্ত থাকে যে, বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে নিয়োগ নিয়মিত করা না হলে উক্ত মেয়াদ শেষে নিয়োগ বাতিল করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।’

এ আইনে সিন্ডিকেটের পুর্বানুমোদনক্রমে ও সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে নিয়োগের কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০


তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কোনো পুর্বানুমোদন নেয়া হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেট বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে সোমবার দুপুর ২টায়। এ ছাড়া গত তিন বছর ধরে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কাউকেই স্থায়ী করা হয়নি।

এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের কথা স্বীকার করে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এডহক ভিত্তিতে শ’খানেক লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বেশির ভাগই কর্মচারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন। যথাযথ নিয়ম মেনেই তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরীকে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। এর আগে তিনি ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ।

ডা. মোর্শেদ অধ্যক্ষ থাকার সময়ে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন আব্দুস সবুর। দ্বিতীয় শ্রেণির এই কর্মকর্তাকে প্রথম শ্রেণির ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অর্থ) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া একজনের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ১.৬০, যা তৃতীয় শ্রেণির সমমর্যাদার। নিয়োগবিধি অনুসারে, কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্ত কাউকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়া যায় না।

কেবল এই দুজনই নয়, সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অনেকের নিয়োগের ক্ষেত্রেই গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতা শিথিল করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অনেককে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের যোগ্যতার উল্লেখের নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে নিয়োগের পাশাপাশি উপাচার্যের কয়েক স্বজনকেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

স্বজনদের নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুজন স্বজন নিয়োগ পেয়েছেন। তবে তারা যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ পেয়েছেন। বাকিদেরও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।’

শিক্ষার্থী নেই, জনবল অফুরন্ত

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ১০ হাজার। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা আছেন ২৬৪ জন। অন্যদিকে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আছেন ১৪৯ জন।

অথচ সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী না থাকলেও ইতোমধ্যে সেখানে শ’খানেক কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালক পদে এক জন, উপ পরিচালক পদে এক জন, সহকারি পরিচালক পদে ছয় জন, সেকশন অফিসার পদে ৯ জন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেয়েছেন ৫২ জন। এছাড়া কর্মচারী পদেও শ’খানেক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এত জনবল থাকা সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজই এখনও শুরু হয়নি। ভবন নির্মাণের জন্য ডিপিপি পাঠানো করা হলেও তা এখনও অনুমোদন পায়নি। ভবন নির্মাণ ও শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর চেয়ে জনবল নিয়োগেই গত তিন বছর ধরে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে নগরীর চৌহাট্টায় উপাচার্যের কার্যালয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই ছোট্ট কার্যালয়ে এতো বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বসার জায়গাও নেই। প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্রার পদটি শূন্য রয়েছে।

তবে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. নঈমুল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষাকার্যক্রম শুরু না হলেও আমাদের আওতাধীন মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কেই দেখভাল করতে হয়। এজন্য অনেক লোকবলের প্রয়োজন হয়।

‘আট জন ডিনের প্রত্যেকের জন্য পাঁচ জন স্টাফ প্রয়োজন। এসব জরুরি প্রয়োজন মেটাতেই যথাযথ নিয়ম মেনে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

এডহক ভিত্তিতে নিয়োগে সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য। নতুনদের জন্য নয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে উপাচার্য জরুরি প্রয়োজনে নিয়োগ দিতে পারেন।’

রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় আমাদের এখানে অনেক রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তদবির রয়েছে। এগুলো এড়ানো যায় না। তবে এই তদবিরের মধ্যে যাদের যোগ্যতা রয়েছে এবং আমাদের চাহিদা পুরণ করতে পেরেছেন তাদেরকেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

এ পর্যন্ত কতজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৩৫/১৩৬ জনের মতো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কিছুসংখ্যককে গত জানুয়ারিতে স্থায়ী করা হয়। বাকিদের চাকরিও স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া চলছে।’

সিন্ডিকেটের পুর্বানুমোদন ছাড়া কীভাবে চাকরি স্থায়ী করা হলো, এমন প্রশ্ন করতেই তিনি ‘উপাচার্য মহোদয় আমাকে কল দিয়েছেন’ বলে ফোন রেখে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সদস্য সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান।

সিন্ডিকেটের বৈঠকের আগে এত জনবল নিয়োগ পাওয়ার প্রসঙ্গে রোববার তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সোমবার সিন্ডিকেটের বৈঠক আছে। ব্যস্ততার কারণে বৈঠকের আলোচ্যসূচিও এখন পর্যন্ত আমি দেখতে পারিনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিলে ফান্ড বন্ধ

‘স্ট্র্যাটিজিক প্ল্যান ফর হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: ২০১৮-৩০’ বাস্তবায়ন মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে ইউজিসি পর্যায়ে গঠিত কমিটির এক বৈঠক হয় গত জুনে। সেই বৈঠকে পাবলিক বিশ্বদ্যালয়গুলোতে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউজিসির কর্মকর্তারা। এডহক ও মাস্টার রোলে নিয়োগ দেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড বন্ধের বিষয়েও আলোচনা হয় সেখানে।

ওই বৈঠকে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এডহক ও মাস্টার রোলে নিয়োগ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যদি কেউ ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে তবে তার ফান্ড বন্ধ করে দেয়া হবে।’

সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এডহক ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক লোক এডহক ভিত্তিকে নিয়োগ হয় কী করে!’

তিনি বলেন, ‘এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে সবখানেই প্রশ্ন আছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এত লোকবল এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারে না। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন:
বেরোবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
বেরোবিতে অনলাইনে ভর্তি ও ফরম পূরণ শুরু রোববার
এবার বেরোবিতে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর: গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা
কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

শেয়ার করুন

৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর কারাগারে

৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর কারাগারে

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি ক্রয়সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় আইমুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়ায় আত্মগোপন করেন। পরে পাবনার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। সেখানে থাকাকালে চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়েও করেন তিনি। 

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি ক্রয়সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার নয়াগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে ৮ বছর ধরে পলাতক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।

কারাগারে পাঠানো আইমুদ্দিন উপজেলার রুপসীপাড়া (ভেকসি) গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বরাত দিয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে আইমুদ্দিন তার প্রতিবেশী মোজাহার আলীর কাছে ৪২ শতক জমি বিক্রির জন্য চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী মোজাহার ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আইমুদ্দিনকে দেন। তবে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে মোজাহার দেখতে পান দলিলে ৪২ শতকের পরিবর্তে ৩৬ শতক লেখা।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে আইমুদ্দিন তার জমি ছেলে-মেয়ের নামে লিখে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। ওই বছর ১৮ মার্চ তার ছেলে আব্দুল আজিজ আদালতে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করেন।

ওসি আরও জানান, পুলিশের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন মোজাহার। জামিন পেয়ে নিখোঁজ আইমুদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি ক্রয়সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। বিচারক নিখোঁজ আইমুদ্দিনকে ২ বছরের সাজাও দেন।

আইমুদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন জানিয়ে ওসি আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়ায় আত্মগোপন করেন। পরে পাবনার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করেন।

সেখানে থাকাকালে চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়েও করেন তিনি।

সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করে দুপুরে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বেরোবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
বেরোবিতে অনলাইনে ভর্তি ও ফরম পূরণ শুরু রোববার
এবার বেরোবিতে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর: গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা
কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

শেয়ার করুন

নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু

নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার গোডাউন রোড মহাসড়কে যানবাহনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন দেয়াসহ নাশকতার ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফারুক আহাম্মদ আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেন। পুলিশ ২০১৫ সালে আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতা মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

চট্টগ্রামের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আ স ম শহীদুল্লাহ কায়সার সোমবার দুপুরে অভিযোগ গঠন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী আইনজীবী রুবেল পাল নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানি করেছে। শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন। ২৩ জানুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।’

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন চলাকালে ২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার গোডাউন রোড মহাসড়কে যানবাহনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন দেয়াসহ নাশকতার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফারুক আহাম্মদ আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৫ সালে আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তাদের মধ্যে ৪৮ আসামি পলাতক। আসলাম চৌধুরী এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে থাকলেও অন্য মামলায় তিনি কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

আদালত সাত আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করে। এ সময় দুজন আসামি সময়ের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করেছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

তার নামে বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা আছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে তিনটি মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বেরোবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
বেরোবিতে অনলাইনে ভর্তি ও ফরম পূরণ শুরু রোববার
এবার বেরোবিতে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর: গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা
কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

শেয়ার করুন

বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতায় নাটিকা

বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতায় নাটিকা

বায়ুদূষণ রোধে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটে পথসভা ও নাটিকা করেছে মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধন। ছবি: নিউজবাংলা

পথসভার আগে ‘ফিরিয়ে দেও পৃথিবী’ শিরোনামে নাটিকা প্রদর্শন করে মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধনের বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

বায়ুদূষণ রোধে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটে পথসভা ও নাটিকা প্রদর্শন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধন ও প্রাণ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সভা ও নাটিকা প্রদর্শিত হয়।

পথসভার আগে ‘ফিরিয়ে দেও পৃথিবী’ শিরোনামে নাটিকা প্রদর্শন করে বাঁধনের বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

নাটিকার মাধ্যমে তরুণরা মাটি, বায়ু ও পানি দূষণমুক্ত রাখার পাশাপাশি শূন্য কার্বনভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

পরে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন বাঁধনের নির্বাহী পরিচালক এএসএম মঞ্জুরুল হাসান ও সাংবাদিক আরিফুল হকসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
বেরোবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
বেরোবিতে অনলাইনে ভর্তি ও ফরম পূরণ শুরু রোববার
এবার বেরোবিতে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর: গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা
কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

শেয়ার করুন

২ শ পাখি পেল মুক্ত আকাশ

২ শ পাখি পেল মুক্ত আকাশ

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকারীরা উপজেলার গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

পাবনা সুজানগরে শিকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার প্রায় ২ শ দেশীয় প্রজাতির পাখি অবমুক্ত করা হয়েছে।

সুজানগর থানা চত্বর সোমবার দুপুরের পর পাখিগুলো অবমুক্ত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান।

এর আগে চরদুলাই বাজারে অভিযান চালিয়ে পাখিসহ তিন শিকারীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আটক শিকারীরা হলেন গোবিন্দপুর গ্রামের আতোয়ার শেখ, ঘোড়াদহ গ্রামের আলাউদ্দিন, চলদুলাই গ্রামের মোজাহার আলী।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকারীরা উপজেলার গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

পাখি অবমুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মুহা. আ. লতিফসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
বেরোবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
বেরোবিতে অনলাইনে ভর্তি ও ফরম পূরণ শুরু রোববার
এবার বেরোবিতে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর: গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা
কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

শেয়ার করুন

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহবুবা রায়না। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, ১৮ অক্টোবর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য চিঠি পাঠান। তবে তার আবেদনপত্রে নানা ভুলত্রুটি ছিল বলে পুনরায় তাকে আবেদন করতে বলা হয়। পরদিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুনরায় আবেদন করেন রায়না।

কিশোরগঞ্জে পাঁচ বছর ধরে স্কুলে না পড়িয়েও বেতনভাতা তোলা সেই শিক্ষিক মেহবুবা রায়নার অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করেছে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক সোমবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া মেহবুবা রায়না করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

সুব্রত কুমার বণিক নিউজবাংলাকে জানান, স্কুলে না গিয়ে মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে গত ১৭ অক্টোবর রায়নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

তিনি আরও জানান, ১৮ অক্টোবর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি চিঠি দেন। তবে তার আবেদনপত্রে নানা ভুলত্রুটি ছিল বলে পুনরায় তাকে আবেদন করতে বলা হয়। পরদিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুনরায় আবেদন করেন রায়না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার জানান, পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে চাকরি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন রায়না। সরকারি বিধি অনুযায়ী ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বর মাসের মূল বেতনের অর্ধেক টাকা জমা দিয়েছেন তিনি।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর করিমগঞ্জ উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি আমলে নেন।

রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ডাকযোগে মেহবুবা রায়নার চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র হাতে পান তিনি। আবেদনপত্রে তার চাকরিতে যোগদানসহ কোনো তারিখের উল্লেখ ছিল না। চাকরি থেকে কবে তিনি অব্যাহতি নিতে চান সে বিষয়টিও উল্লেখ করেননি তিনি।

এ কর্মকর্তা আরও জানান, অব্যাহতির আবেদনের ক্ষেত্রে হাজির হয়ে সই করে আবেদন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও ওই শিক্ষক ডাকযোগে আবেদন করেছেন।

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

তা ছাড়া অব্যাহতির বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা সহকারী কর্মকর্তাকেও অবগত করেননি তিনি। পরে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি আমলে নিয়ে সোমবার রায়নার অব্যাহতিপত্রে সই করেন রফিকুল ইসলাম তালুকদার।

অব্যাহতি দেয়ার তারিখ ১৮ অক্টোবর ধরে ওই দিন থেকেই পদটি শূন্য ধরা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

এরপরপই ফেসবুকে কিশোরগঞ্জ জেলাভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয় সমালোচনা। এই অনিয়মের জন্য জেলা এবং উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়ী করে মন্তব্য করেন অনেকে।

রায়না ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যে স্নাতক শেষ করে এখন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন। তিনি ২০১৬ সালে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০১৪-২০১৫ সেশনে।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ২০১৬ সালে রায়না স্কুলে যোগ দিয়ে তিন মাস নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন। এরপর স্কুলে যাননি টানা তিন বছর। ২০২০ সালের মার্চে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে ছয় মাস মাঝেমধ্যে আসতেন। করোনা শুরু হলে অন্য শিক্ষকরা স্কুলে এলেও তিনি আসেননি এক দিনের জন্যও।

স্কুলটির একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমরা সারা বছর পরিশ্রম করে যে বেতন পাই, রায়না তার কিছুই না করেও একই বেতন পাচ্ছেন।

‘রায়না সরকারি চাকরি করে কর্মস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার বিষয়টি গোপন করেছেন, আবার অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েও চাকরির ব্যাপারটা গোপন করেছেন। তিনি একসঙ্গে দুটি অপরাধ করেছেন।’

রায়নার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার তথ্য সেখানে উল্লেখ করেছেন। তিনি ময়মনসিংহে বসবাস করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ছবি নিয়মিত আপডেটও করেন।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রায়নার নামও বলতে পারেনি। কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘হেই ম্যাডাম পহেলা কয়েক দিন ইস্কুলে আইছে, পরে আর আইছে না। হের লাইগ্যে হেই ম্যাডামের নামটা মনে নাই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মেহবুবা রায়না বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়। পরে তাকে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়।’

তিনি জানান, রায়না চাকরিতে যোগ দেয়ার পর তিনি বিভিন্ন মেয়াদে শুধু মেডিক্যাল ছুটি কাটিয়েছেন ২১৩ দিন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার পর ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তার কৈফিয়ত তলব করা হয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়।

এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি তদন্ত করেন৷ তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি জানান, রায়না ওয়ার্কশিট বিতরণ ও মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগসংক্রান্ত কোনো কাজেও অংশগ্রহণ করেননি৷ তাকে প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জানালেও তিনি গুরুত্ব দেননি।

পরে রায়নার বেতন বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন মফিজুল ইসলাম। আর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মেহবুবা রায়নাকে শোকজ করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এর জবাব দেন রায়না। কিন্তু জবাব সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় রায়নার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ফাইলটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে রায়নার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। পরে মেসেজ দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তার হোয়াটস অ্যাপ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার বার্তা পাঠানোর পর তিনি নিউজবাংলার প্রতিবেদককে ব্লক করে দেন।

আরও পড়ুন:
বেরোবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
বেরোবিতে অনলাইনে ভর্তি ও ফরম পূরণ শুরু রোববার
এবার বেরোবিতে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধর: গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা
কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

শেয়ার করুন