এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৩ নির্দেশনা

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৩ নির্দেশনা

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা বিষয়ে ১৩ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এসএসসি পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করেছে। সে সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের জন্য দিয়ে ১৩ নির্দেশনা।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর; চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে।

নির্ধারিত দিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করেছে। সে সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের জন্য দিয়ে ১৩ নির্দেশনা।

১৩ দফা নির্দেশনা হলো:

১) কোডিড-১৯ অতিমারির কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে;

২) পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষা হলে পৌঁছাতে হবে।

৩) পরীক্ষার সময় দেড় ঘণ্টা।

৪) পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে থেকে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে তিন দিন আগে সংগ্রহ করবে।

৫) ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯, ২০১৯-২০২০, ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ে এনসিটিবি এর নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ পরীক্ষার্থীর ব্যবহারিক খাতার (নোটবুক) নম্বর দিয়ে তা ২৮ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক খাতা (নোটবুক) নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাবে।

৬। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোন অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

৭) পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল বা রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক খাতা (নোটবুক) তার পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন ও প্রবেশপত্রে লেখা বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।

৮) প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন ও প্রবেশপত্রে লেখা বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। কোন অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষা দিতে পারবে না।

৯) কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা (সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি) নিজ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে না। পরীক্ষার্থী স্থানান্তরের মাধ্যমে আসন বিন্যাস করতে হবে।

১০) পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় সাধারণ সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। প্রোগ্রামিং ক্যান্সলেটর ব্যবহার করা যাবে না।

১১) পরীক্ষা হলে কোনো ব্যক্তি ও পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে এবং ব্যবহার করতে পারবেন না। শুধুমাত্র কেন্দ্র সচিব ফিচার ফোন (স্মার্টফোন ব্যতীত) ব্যবহার করতে পারবেন।

১২) সৃজনশীলবা রচনামূলক (তত্ত্বীয়) ও বহুনির্বাচনি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে।

১৩) পরীক্ষার ফল প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষার জন্য অনলাইনে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা
এইচএসসি শুরু ২ ডিসেম্বর, রুটিন প্রকাশ
এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর
থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে
এসএসসির অষ্টম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঢাবির সুফিয়া কামাল হলের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ঢাবির সুফিয়া কামাল হলের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের সদস্যরা ২০ মিনিটের চেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি সুফিয়া কামাল হলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবদুল হালিম বলেন, ‘৮০৬ নম্বর রুমে গতকাল রাতে এক ছাত্রী ছিলেন। আজ সকালে উনার বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি রুম থেকে দ্রুত বেরিয়ে যান। যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির লাইন চালু রেখে যান। এখান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি সুফিয়া কামাল হলের একটি কক্ষতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের সদস্যরা ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এর আগে ৯টা ১৫ মিনিটে হলটির প্রদীপ্ত ভবনের অষ্টম তলায় ৮০৬ নম্বর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবদুল হালিম বলেন, ‘৮০৬ নম্বর রুমে গতকাল রাতে এক ছাত্রী ছিলেন। আজ সকালে উনার বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি রুম থেকে দ্রুত বেরিয়ে যান। যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির লাইন ভুলে চালু রেখে যান। এখান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

ফায়ার ম্যান সবুর হোসেন বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়নি। একটি তোষক, একটি টেবিল আর কিছু বইপত্র পুড়েছে। রুমে কেউ ছিল না। রুমটা বন্ধই ছিল। আইরন মেশিন থেকে হয়ত আগুনের সুত্রপাত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. গোলাম রাব্বানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হলের একটি রুমে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুত জানানোই তারা দ্রুত চলে আসে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে। তাদের ভাষ্য, কোন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস সেই রুমে অনেকক্ষণ কানেক্ট ছিল। কিন্তু রুমে কেউ ছিল না। তাই সেখান থেকে আগুনের সুত্রপাত।’

গোলাম রাব্বানী আরও বলেন, ‘হলে কিন্তু আগুন লাগেনি। হলের কোন ব্লকেও আগুন লাগেনি। শুধু একটি কক্ষে আগুন লেগেছে। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।’

রাত দশটার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সামাদ। এর আগে হলে প্রবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আবদুর রহীম এবং হল প্রভোস্ট অধ্যাপক শামিম বানু।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, ৮০৬ নম্বর রুমের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কেউ হতাহত হয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার দেওয়ান আজাদ বলেন, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা হল থেকে নিচে নেমে আসেন। খবর পেয়ে আগুন নিভাতে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট সুফিয়া কামাল হলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন:
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা
এইচএসসি শুরু ২ ডিসেম্বর, রুটিন প্রকাশ
এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর
থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে
এসএসসির অষ্টম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

গণরুমে রান্না করলে সিট বাতিল

গণরুমে রান্না করলে সিট বাতিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলে গণরুমের ছাত্রীদের ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: নিউজবাংলা

হল প্রাধ্যক্ষ ফেরদৌসী মহল বলেন, ‘দীর্ঘদিন হল বন্ধ থাকায় ইলেক্ট্রিসিটির লাইনসহ অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। আজ সকালে গণরুমে গিয়ে দেখি সেখানে অনেকগুলো লাইট নষ্ট। ‘তারা যদি রান্না করতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয় তার দায় কে নিবে?’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলে গণরুমের ছাত্রীদের ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে কর্তৃপক্ষ।

ওই হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী মহল এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করেছেন।

এতে বলা হয়, তাপসী রাবেয়া হলের গণরুমে (কলরব) অবস্থানকারী ছাত্রী রান্নার করতে পারবে না। তাদেরকে হল ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক।

আদেশ না মানা হলে তাদের হলের সিট বাতিল করে দেয়া হবে বলেও উল্লেখ আছে আদেশে।

তবে এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণরুমে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, ডাইনিংয়ের খাবার মানসম্মত নয়। কিন্তু এরপরও তাদের তা খেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ ফেরদৌসী মহল বলেন, ‘দীর্ঘদিন হল বন্ধ থাকায় ইলেক্ট্রিসিটির লাইনসহ অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। আজ সকালে গণরুমে গিয়ে দেখি সেখানে অনেকগুলো লাইট নষ্ট। এই পরিস্থিতিতে তারা যদি রান্না করতে যায় তাহলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’

হল ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যবাধকতা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ডাইনিংয়ে তাদের জন্য মানসম্মত খাবার তৈরির দায়িত্ব নেয়া হয়েছে। এটা করা হয়েছে তাদের নিরাপত্তার জন্য।

‘তারা যদি রান্না করতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয় তার দায় কে নিবে? আমরা যখন হলে ছিলাম তখন থেকে সব হলেই গণরুমে রান্নার কোনো নিয়ম ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর যারা ব্লকে থাকে তাদের জন্য রান্না ঘরের ব্যবস্থা আছে, তারা সেখানে রান্না করে খেতে পারছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় উপউপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে এখনও কিছু জানি না। তবে আমি হলটির প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলব। কি কারণে এমনটা করা হয়েছে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা
এইচএসসি শুরু ২ ডিসেম্বর, রুটিন প্রকাশ
এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর
থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে
এসএসসির অষ্টম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

করোনায় ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত

করোনায় ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত

প্রতিবেদনে এশিয়া অঞ্চলে শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষা বাজেট গড়ে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির পরামর্শ দেয়া হয়। ফাইল ছবি

ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর যৌথভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের প্রথম দিকে কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর থেকে স্কুল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর এবং দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়াসহ এশিয়ার প্রায় ৮০ কোটি শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় দেশের ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এবং শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।

মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের প্রথম দিকে কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর থেকে স্কুল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর এবং দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়াসহ এশিয়ার প্রায় ৮০ কোটি শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে।

ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর যৌথভাবে প্রকাশিত এশিয়ায় শিক্ষা খাতের ওপর ‘কোভিড-১৯ এর প্রভাব ও মোকাবিলা কার্যক্রম বিষয়ক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ’ (সিটএন রিপোর্ট) শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর এ বছরের ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

এখন চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে।

অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে অষ্টম, নবম, তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একদিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রমাগত স্কুল বন্ধ থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর, যার মধ্যে রয়েছে পড়াশোনার ক্ষতি; মানসিক দুর্দশা; স্কুলের খাবার ও নিয়মিত টিকা না পাওয়া; কাঠামোগত শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকি এবং শিশুশ্রম ও বাল্য বিয়ে বেড়ে যাওয়া। এই ভয়াবহ পরিণতিগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ইতোমধ্যে অসংখ্য শিশুকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং বাকী গুলো আগামী বছরগুলোতে অনুভূত হতে থাকবে।

প্রতিবেদনে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইউনিসেফের পরিচালক মার্কোলুইজি কোরসি বলেন, ‘শিক্ষা সেবার ব্যাঘাত শিশুদের ওপর, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুদের ওপর যে প্রভাব ফেলেছে তা আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। যখন স্কুল বন্ধ থাকে, তখন শিশুরা শেখার ও বেড়ে ওঠার সবচেয়ে বড় সুযোগটি হারায়।’

করোনার সময়ে বাংলাদেশে তিনজন শিক্ষার্থীর মধ্যে দু’জনের কাছে দূরশিক্ষণ সেবা পৌঁছানো যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বলা হয়, বাংলাদেশে মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ থাকার সময়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীর মধ্যে দু’জনের কাছে দূরশিক্ষণ সেবা পৌঁছানো যায়নি।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মি. শেলডন ইয়েট বলেন, ‘১৮ মাস বন্ধ রাখার পর বাংলাদেশে এখন স্কুলগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে আনতে বিনিয়োগ করার এখনই সময়।’

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) হিসাব তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সংকট কাটিয়ে উঠতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া না হলে এশিয়া অঞ্চলে ১ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে, যা এই অঞ্চলের ২০২০ সালের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫.৪ শতাংশের সমান।

প্রতিবেদনে এশিয়া অঞ্চলে শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষা বাজেট গড়ে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির পরামর্শ দেয়া হয়।

বলা হয়, এশিয়া যদি আগামী নয় বছরে জাতিসংঘের ২০৩০ সালের এজেন্ডার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার শিক্ষা বিষয়ক লক্ষ্য অর্জন করতে চায় তাহলে এ ধরনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষা বাজেট গড়ে ১০ শতাংশ বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন:
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা
এইচএসসি শুরু ২ ডিসেম্বর, রুটিন প্রকাশ
এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর
থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে
এসএসসির অষ্টম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

হামলার প্রতিবাদ পথনাটকে

হামলার প্রতিবাদ পথনাটকে

পথনাটকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলার প্রতিবাদ জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

মণ্ডপগুলোতে পূজা চলাকালীন কীভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে আর কীভাবে মণ্ডপ ভাঙচুর করে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে, সেটির কাল্পনিক একটি চিত্র শৈল্পিক এ প্রতিবাদে মঞ্চস্থ করা হয়েছে।

কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপে ভাঙচুর, তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা এবং সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘দেখতে কি পাও, পুড়ছে বাংলা...’ শীর্ষক এক প্রতিবাদী নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

‘গোল হয়ে আসুন সকলে, ঘন হয়ে আসুন সকলে’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত শৈল্পিক প্রতিবাদে বিভাগের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

মণ্ডপগুলোতে পূজা চলাকালীন কীভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে আর কীভাবে মণ্ডপ ভাঙচুর করে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে, সেটির কাল্পনিক একটি চিত্র শৈল্পিক এ প্রতিবাদে মঞ্চস্থ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারীসহ প্রায় শতাধিক মানুষ এ পরিবেশনা উপভোগ করেছেন।

পরিবেশনার সময়ে বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইসরাফিল সাহিন, ড. সাইদুর রহমান লিপন, মোহাম্মদ আহসান খান এবং নাভেদ রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশানাটির মুখ্য তত্ত্বাবধায়ক তানভির নাহিদ খান বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসবে সারা দেশে ঘটে যাওয়া ঘটনা এই বাংলার হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে হুমকির মুখে ফেলে, অসাম্প্রদায়িক এই রাষ্ট্রকে সংকটাপন্ন করেছে। সমাজের একজন সচেতন মানুষ হিসেবে এই সাম্প্রদায়িক আচরণের প্রতিবাদ করা নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে হয়েছে। দেশকে বাঁচাতে হলে এই হামলা, সহিংসতা, উগ্র এবং ধর্মান্ধ আচরণ প্রশ্রয় না দিয়ে যার যার অবস্থান থেকে প্রতিহত করতে হবে।’

হামলার প্রতিবাদ পথনাটকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পথনাটকে হামলার প্রতিবাদ।

বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহমান মৈশান বলেন, ‘ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ, এথনিক জাতীয়তাবাদ ও বুর্জোয়া শ্রেণিবাদ-এই সবই মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শের পরিপন্থি। এদেশে একজন মুসলমান ঠিক যতটুকু বাঁচার অধিকার রাখে, একজন হিন্দুও ততটুকুই অধিকার রাখে। বহু জাতির ও বহু ধর্মের বাংলাদেশকে বীভৎস সাম্প্রদায়িকতা ও বর্ণবাদ থেকে রক্ষার জন্য সবাই আওয়াজ তুলুন।’

বিভাগের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান লিয়ন বলেন, ‘‘আমাদের দেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। ‘সকল ধর্ম, সকল জাতি সম অধিকার’ মুক্তিযুদ্ধের এই মূল প্রতিপাদ্য নিয়ে আমরা বাস করি। যখন এর ব্যত্যয় ঘটে তখন রচিত হয় অন্যায়। এটা নিজ মাতৃভূমি তথা আপন জনের সঙ্গে অন্যায়।

‘আমাদের বিভাগ সব সময় নাট্য এবং শিল্পের ভাষায় প্রতিবাদ করে। মানুষ হিসেবে, সচেতন নাগরিক হিসেবে এবং সর্বপরি শিল্পী হিসেবে দেশ ও মানবতার স্বার্থে আমাদের বিভাগের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা সব সময়ে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সক্রিয়।’

প্রসঙ্গত থিয়েটার পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ২০১৬ সালে নাসিরনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপরে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, লুট ও তাণ্ডবের বিরুদ্ধে ‘আমি মালাউন বলছি’ শীর্ষক প্রতিবাদী পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন সংগ্রামে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শৈল্পিক প্রতিবাদী নাট্য পরিবেশনা উপস্থাপন করে থাকেন।

আরও পড়ুন:
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা
এইচএসসি শুরু ২ ডিসেম্বর, রুটিন প্রকাশ
এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর
থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে
এসএসসির অষ্টম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

স্বাধীনতাবিরোধীরাই সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে: জবি উপাচার্য

স্বাধীনতাবিরোধীরাই সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে: জবি উপাচার্য

সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে জবি শিক্ষক সমিতি। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘যারা কখনোই এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এসেছে, নানান সময়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তারাই সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে।’

স্বাধীনতাবিরোধীরাই সারা দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মঙ্গলবার জবি শিক্ষক সমিতি (জবিশিস) আয়োজিত সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানবন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যারা কখনোই এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এসেছে, নানান সময়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তারাই সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘দেশে এমন কোনো ঘটনা ঘটলেই এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা হয়। কিন্তু এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। যারা এ দেশকে কখনো চায়নি, তারা নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। দেশে যে ধরনের ঘটনা ঘটছে এসব তাদেরই পরিকল্পনা।

‘দেশে আমরা হাজার বছর ধরে অসাম্প্রদায়িকতার ঐতিহ্য নিয়ে বাস করি। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান যারা আছি, সবাই এক পরিবারের মতো বসবাস করি। এভাবেই আমরা চলে আসছি শত শত বছর ধরে। সরকারও সব সময় চায়, দেশ শান্তিপূর্ণ থাকুক। মানুষ শান্তিতে থাকুক। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এসব ঘটনা প্রতিহত করতে হবে।’

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘দেশের চলমান পরিস্থিতি স্বাধীনতাবিরোধীদের পরিকল্পিত। তারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতনার মাধ্যমে আমাদের প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। জবি সব সময়ই এসব সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান করবে।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শামীমা বেগমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা সারা দেশে চলমান সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদসহ দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

সম্প্রতি দেশজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ভাঙচুর ও তাদের বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন:
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা
এইচএসসি শুরু ২ ডিসেম্বর, রুটিন প্রকাশ
এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর
থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে
এসএসসির অষ্টম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরল শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরল শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘ দেড় বছর পর আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজুল ইসলাম শিহাব বলেন, ‘করোনার শুরুতে যখন ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তখন বেশ শঙ্কায় ছিলাম আর ক্লাসে ফিরতে পারব কিনা। তবে দীর্ঘ ১৯ মাস পর সব সংশয় দূর করে আমরা আবারও ক্লাসে ফিরতে পেরেছি। খুব ভালো লাগছে।’

দীর্ঘ দেড় বছর পর মঙ্গলবার থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে সশরীরে পাঠদান। তবে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা চলমান থাকায় সব বিভাগ একযোগে পাঠদান শুরু করতে পারেনি।

করোনার জন্য নিউ নর্মাল ‘অনলাইন ক্লাসে’ নিজেদের মানিয়ে নেয়ার পর আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা।

সকাল ৮টা ও ৯টার শাটল ট্রেনে করে আসা শুরু করে শিক্ষার্থীরা। তাদের পদচারণায় মুখরিত হতে শুরু করে ক্যাম্পাস।

এর আগে সোমবার এক ডোজ করোনার টিকা নেয়ার শর্তে আবাসিক ও অনুমতিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেয়া হয়।

এতদিন পর শাটল, হল ও সশরীরে পাঠদানে ফিরে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রায়হান উদ্দীন রাজু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথম বর্ষে কয়েকমাস ক্লাস করার পরই ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর সশরীরে ক্লাসে ফিরতে পারিনি। দীর্ঘ দেড় বছর অনলাইন ক্লাসের প্রাণহীনতা থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের নিয়ে শিক্ষকদের সামনে বসে ক্লাস করে ভালো লাগছে।’

বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজুল ইসলাম শিহাব বলেন, ‘করোনার শুরুতে যখন ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তখন বেশ শঙ্কায় ছিলাম আর ক্লাসে ফিরতে পারব কিনা। তবে দীর্ঘ ১৯ মাস পর সব সংশয় দূর করে আমরা আবারও ক্লাসে ফিরতে পেরেছি। খুব ভালো লাগছে।’

একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শেখ সাদী বলেন, ‘সশরীরে ক্লাসে নিতে আমরা এতদিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। অবশেষে আমরা সেই সময়টায় পৌঁছেছি। দীর্ঘ ১৯ মাস পর ক্লাসে ফিরতে পেরেছি। শিক্ষার্থীরাও প্রাণবন্ত ছিল।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানা যায় বাংলা, ফাইন্যান্স, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, বন ও পরিবেশবিদ্যাসহ বেশকিছু বিভাগে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে আজ। তবে চলতি মাসের বাকি দিনগুলো পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, ভর্তি পরীক্ষার কারণে বন্ধ থাকায় পুরোদমে ক্লাস শুরু হবে আগামী মাসে।

আরও পড়ুন:
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা
এইচএসসি শুরু ২ ডিসেম্বর, রুটিন প্রকাশ
এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর
থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে
এসএসসির অষ্টম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার মূল্যায়ন যেভাবে

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার মূল্যায়ন যেভাবে

কারিগরি বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা পরীক্ষা ৫০ নম্বরের নিতে প্রজ্ঞাপন জারি। ছবি: সংগৃহীত

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা পরীক্ষা এবার ৫০ শতাংশ নম্বরের নেয়া হবে। সব বিষয়ে ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা ২ ঘণ্টা এবং ২ ঘণ্টার পরীক্ষা ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে শেষ করতে হবে। পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরকে দ্বিগুণ করে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা পর্যায়ের পরীক্ষাসমূহের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে সোমবার রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা পরীক্ষা ৫০ শতাংশ নম্বরের নেয়া হবে। সব বিষয়ে ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা ২ ঘণ্টা এবং ২ ঘণ্টার পরীক্ষা ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে শেষ করতে হবে।

আরও বলা হয়, প্রতিটি বিষয়ে পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরকে দ্বিগুণ করে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার রূপরেখাও ঘোষণা করে সরকার। এতে বলা হয়, শুধু গ্রুপভিত্তিক (বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্যসহ অন্যান্য গ্রুপ) ৩টি নৈর্বাচনিক বিষয়ে সময় ও নম্বর কমিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেয়া হবে। এ ছাড়া এবার আবশ্যিক ও চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হবে না। শুধু সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে আবশ্যিক বিষয় এবং চতুর্থ বিষয়ের নম্বর ফলাফলে যোগ করা হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

শুধু চলতি ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন করে ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
যে রুটিনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা
এইচএসসি শুরু ২ ডিসেম্বর, রুটিন প্রকাশ
এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর
থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে
এসএসসির অষ্টম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন