এইচএসসি শুরু ২ ডিসেম্বর, রুটিন প্রকাশ

এইচএসসি শুরু ২ ডিসেম্বর, রুটিন প্রকাশ

ফাইল ছবি

আর চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর; চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এইচএসসির মতোই এসএসসি পরীক্ষাও হবে শুধুমাত্র নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ২ ডিসেম্বর, চলবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে।

এ ছাড়া, চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এইচএসসি পরীক্ষার রুটিনও হাতে পেয়েছে নিউজবাংলা।

নিউজবাংলাকে সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আন্তশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘২ ডিসেম্বর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে, চলবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। করোনার এ সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়া হবে।’

সাধারণত প্রতিবছর এপ্রিল মাসে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনার এ পাবলিক পরীক্ষা ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে নেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

এ ছাড়া, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর; চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এইচএসসির মতোই এসএসসি অনুষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষা রুটিন প্রকাশ করে। এ পরীক্ষাও শুরু হবে ১৪ নভেম্বর থেকে, চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা

০১. করোনা মহামারির কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

০২. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।

০৩. পরীক্ষার সময় হবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষার দিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র এবং ওএমআর শিট বিতরণ করা হবে। সকাল ১০টায় বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ। সকাল ১০.১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ।

০৪. দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী শিট বিতরণ। দুপুর ২টা বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ।

০৫. পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি: মানবণ্টন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির সব প্রস্তুতি রয়েছে: দীপু মনি
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্নপত্র তৈরি
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহবুবা রায়না। ছবি: সংগৃহীত

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

কিশোরগঞ্জে পাঁচ বছর ধরে স্কুলে না পড়িয়েও বেতন ভাতা তোলা সেই বিতর্কিত শিক্ষিক মেহবুবা রায়নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পরদিনই ওই শিক্ষক চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক রোববার রায়নার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত তার অধীনেই হবে।

তিনি জানান, স্কুলে না গিয়ে মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুব্রত জানান, সোমবার মেহবুবা রায়না উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন।

করিমগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ (সোমবার) দুপুরে ডাকযোগে মেহবুবা রায়নার চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র পেয়েছি। তার আবেদন পত্রে নানা ভুল-ত্রুটি রয়েছে। সেখানে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। চাকরি থেকে কবে তিনি অব্যাহতি নিতে চান সে বিষয়েরও কোনো উল্লেখ নেই।’

এ কর্মকর্তা জানান, অব্যাহতির আবেদনের ক্ষেত্রে তার সামনে সাক্ষর করে আবেদন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রায়না ডাকযোগে আবেদন করেছেন।

তাছাড়া অব্যাহতির বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক সহকারী কর্মকর্তাকেও অবগত করেননি ওই শিক্ষক।

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে রায়নাকে পুনরায় চিঠি পাঠানো হবে।’

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

এরপরপই ফেসবুকে কিশোরগঞ্জ জেলাভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয় সমালোচনা। এই অনিয়মের জন্য জেলা এবং উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়ী করে মন্তব্য করেন অনেকে।

রায়না ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের ওপর স্নাতক শেষ করে এখন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন। তিনি ২০১৬ সালে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০১৪-২০১৫ সেশনে।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ২০১৬ সালে রায়না স্কুলে যোগ দিয়ে তিনমাস নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন। এরপর স্কুলে যাননি টানা তিন বছর। ২০২০ সালের মার্চে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে ছয় মাস মাঝেমধ্যে আসতেন। করোনা শুরু হলে অন্যান্য শিক্ষকরা স্কুলে এলেও তিনি আসেননি এক দিনের জন্যও।

স্কুলটির একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমরা সারা বছর পরিশ্রম করে যে বেতন পাই, রায়না তার কিছুই না করেও একই বেতন পাচ্ছেন।

‘রায়না সরকারি চাকরি করে কর্মস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার বিষয়টি গোপন করেছেন, আবার অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েও চাকরির ব্যাপারটা গোপন করেছেন। তিনি একসঙ্গে দুটি অপরাধ করেছেন।’

রায়নার ফেসবুক প্রোফাইল চেক করে দেখা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার তথ্য সেখানে উল্লেখ করেছেন। তিনি ময়মনসিংহে বসবাস করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ছবি নিয়মিত আপডেটও করেন।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রায়নার নামও বলতে পারেনি। কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘হেই ম্যাডাম পহেলা কয়েকদিন ইস্কুলে আইছে, পরে আর আইছে না। হের লাইগ্যে হেই ম্যাডামের নামটা মনে নাই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মেহবুবা রায়না বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়। পরে তাকে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়।’

তিনি জানান, রায়না চাকরিতে যোগ দেয়ার পর তিনি বিভিন্ন মেয়াদে শুধু মেডিক্যাল ছুটি কাটিয়েছেন ২১৩ দিন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার পর ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তার কৈফিয়ত তলব করা হয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়।

এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি তদন্ত করেন৷ তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি জানান, রায়না ওয়ার্কশিট বিতরণ ও মূল্যায়ন এবং অভিভাকদের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত কোনো কাজেও অংশগ্রহণ করেননি৷ তাকে প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জানালেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি।

পরে রায়নার বেতন বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন মফিজুল ইসলাম। আর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মেহবুবা রায়নাকে শোকজ করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এর জবাব দেন রায়না। কিন্তু জবাব সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় রায়নার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ফাইলটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে রায়নার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে মেসেজ দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তার হোয়াটস অ্যাপ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার বার্তা পাঠানোর পর তিনি নিউজবাংলার প্রতিবেদকে ব্লক করে দেন।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি: মানবণ্টন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির সব প্রস্তুতি রয়েছে: দীপু মনি
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্নপত্র তৈরি
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

এবার প্রাণ ফিরল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে

এবার প্রাণ ফিরল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে

সোমবার সকালে খুলে দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল। ছবি: নিউজবাংলা

শাহজালাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আলী রায়হান বলেন, ‘এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আগের মতো ক্যাম্পাসজীবনে ফিরে যাব ভেবে আনন্দ হচ্ছে। আমাদের ফুল ও চকলেট দিয়ে বরণ করে নেবে, এমনটা ভাবিনি। হলের সংস্কারও হয়েছে অনেক।’

করোনার কারণে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে খুলতে শুরু করেছে স্কুল-কলেজ।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার খুলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো। সোমবার সকালে খুলে দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল।

উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ফুল, মাস্ক, চকলেট দিয়ে বরণ করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

হলে ঢোকার সময় নিজেদের পরিচয়পত্র ও করোনা টিকার অন্তত এক ডোজ গ্রহণের সনদ দেখে শিক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে দেয়া হয়।

এবার প্রাণ ফিরল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার বিভিন্ন হল পরিদর্শন করেন।

প্রীতিলতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সুজানা মালিহা বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলে ফিরে আসার অনুভূতি এক কথায় অসাধারণ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা সবাই খুশি হলে উঠতে পেরে।’

শাহজালাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আলী রায়হান বলেন, ‘এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আগের মতো ক্যাম্পাসজীবনে ফিরে যাব ভেবে আনন্দ হচ্ছে। আমাদের ফুল ও চকলেট দিয়ে বরণ করে নেবে, এমনটা ভাবিনি। হলের সংস্কারও হয়েছে অনেক।’

উপাচার্য শিরীণ আখতার বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে হলে অবস্থান করে।’

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি: মানবণ্টন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির সব প্রস্তুতি রয়েছে: দীপু মনি
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্নপত্র তৈরি
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

৪৩তম বিসিএস: আসন বিন্যাস প্রকাশ

৪৩তম বিসিএস: আসন বিন্যাস প্রকাশ

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহ্‌মদ বলেন, ‘আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আটটি বিভাগীয় শহরের ৩৬৯ কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা নেয়া হবে।’

৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আসন বিন্যাস প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহ্‌মদের সই করা অফিস আদেশে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।

নুর আহ্‌মদ বলেন, ‘আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আটটি বিভাগীয় শহরের ৩৬৯ কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা নেয়া হবে।

পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনা

০১. প্রার্থীদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮ (আট) ডিজিট। রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ডিজিট উত্তরপত্রের প্রযোজ্য ঘরে কালো কালির বল পয়েন্ট কলম দিয়ে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে।

০২. প্রতিটি উত্তরপত্রে সেট নম্বরের নির্ধারিত স্থানে সেট নম্বর এবং সেট নম্বরের জন্য নিচের সংশ্লিষ্ট বৃত্তটি থাকবে। প্রার্থীদের উত্তরপত্রে সেট নম্বর লেখা এবং সেট নম্বরের বৃত্ত ভরাট করার প্রয়োজন হবে না। সকাল ১০টায় প্রশ্ন পত্র প্রাপ্তির পর প্রার্থী তার প্রশ্নপত্রের সেট নম্বর এবং উত্তরপত্রের সেট নম্বর অভিন্ন কি না তা চেক করে নিশ্চিত হবেন। উত্তরপত্রের সেট নম্বর অভিন্ন না হলে সঙ্গে সঙ্গে পরিদর্শককে জানাবে।

০৩. প্রশ্নপত্র দেয়ার পর (সকাল ১০টা) কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। প্রশ্নপত্র নেয়ার পর পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত (দুপুর ১২টা পর্যন্ত) কোনো প্রার্থী পরীক্ষা কক্ষ ত্যাগ করতেও পারবেন না।

০৪. কোনো প্রার্থীর ছবি, স্বাক্ষর, প্রবেশপত্র এবং উত্তরপত্রের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের গড়মিলসহ কোনোরূপ অনিয়ম ধরা পড়লে উক্ত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

০৫. পরীক্ষা কেন্দ্রে বই-পুস্তক, সকল প্রকার ঘড়ি, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, সকল ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যাংক কার্ড/ক্রেডিট কার্ড সদৃশ কোনো ডিভাইস, গহনা ও ব্যাগ আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

০৬. পরীক্ষা হলের গেটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের উপস্থিতিতে প্রবেশপত্র এবং মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে মোবাইল ফোন, ঘড়ি, ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ নিষিদ্ধ সামগ্রী তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রার্থীদের পরীক্ষা হলে প্রবেশ করতে হবে।

০৭. পরীক্ষার সময় প্রার্থীরা কানের ওপর কোনো আবরণ রাখবেন না, কান খোলা রাখতে হবে। কানে কোন ধরনের হিয়ারিং এইড ব্যবহারের প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শপত্রসহ কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

০৮. প্রার্থীদের কেন্দ্র পরিবর্তনের কোনো আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

০৯. প্রার্থীর আবেদনপত্রে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়লে পরীক্ষার আগে বা পরে যেকোনো পর্যায়ে উক্ত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হবে।

১০. ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২০ এর প্রিলিমিনারি টেস্টের ওএমআর উত্তরপত্রের দুটি অংশ থাকবে। প্রথম অংশে প্রার্থীর নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, সেট নম্বর এবং স্বাক্ষরের স্থান থাকবে। দ্বিতীয় অংশে ২০০টি উত্তর প্রদানের জন্য ১-২০০ পর্যন্ত ক্রম অনুযায়ী বৃত্তসমূহ থাকবে।

৪৩তম সাধারণ বিসিএসের জন্য গত বছরের ৩০ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় আবেদন-প্রক্রিয়া। শুরুতে আবেদনের শেষ সময় এ বছরের ৩১ জানুয়ারি করা হলেও পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সুপারিশে সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়।

৪৩তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৮১৪ জনকে নিয়োগ দেবে। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ দেয়া হবে ৩০০ জনকে।

পুলিশের এএসপি পদে নিয়োগ দেয়া হবে ১০০ জনকে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেয়া হবে ২৫ জনকে। শিক্ষায় থাকছে সবচেয়ে বেশি ক্যাডার, ৮৪৩ জন।

এ ছাড়া অডিটে ৩৫ জন, ট্যাক্সে ১৯, কাস্টমসে ১৪, সমবায়ে ২০, ডেন্টাল সার্জন পদে ৭৫ ও অন্যান্য ক্যাডারে নিয়োগ দেয়া হবে ৩৮৩ জনকে।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি: মানবণ্টন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির সব প্রস্তুতি রয়েছে: দীপু মনি
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্নপত্র তৈরি
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

পিইসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন বার্ষিক পরীক্ষায়

পিইসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন বার্ষিক পরীক্ষায়

চলতি বছরের পিইসি-ইইসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘পিইসি পরীক্ষা বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন হয়ে ফিরে এসেছে। প্রস্তাবে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার বিষয়টি উল্লেখ ছিল।’

চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি) পরীক্ষা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন হয়ে এসেছে। তাই চলতি বছরের পিইসি-ইইসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এখন বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাবেও উল্লেখ ছিল।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘পিইসি পরীক্ষা বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন হয়ে ফিরে এসেছে। প্রস্তাবে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার বিষয়টি উল্লেখ ছিল।’

কোন প্রক্রিয়ায় চলতি বছরের পিইসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আশা করছি, এ অবস্থা থাকলে স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে।’

মহাপরিচালক আরও বলেন, যদি করোনার সংক্রমণ বেড়ে যায় তাহলে পরীক্ষা না নিয়ে বিকল্প মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফলাফল দেবে।

একই সুরে কথা বললেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে এম রুহুল আমীন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি) পরীক্ষার পরির্বতে স্ব-স্ব মাদ্রাসায় বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছিল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এবং শ্রেণিকক্ষে শিখন-শেখানো কার্যক্রম বিবেচনাক্রমে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা যেতে পারে।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছিলেন, ‘শুরু থেকে আমরা পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে ছিলাম, কিন্তু অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির পিইসি-ইইসি পরীক্ষা নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’

গত ২৮ সেপ্টেম্বর গত বছরের মতো চলতি বছরও অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও মাদ্রাসার জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা হবে না বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেছিলেন, ‘মনে হয় না জেএসসি নেয়ার সুযোগ পাব। সামনেই এসএসসি-এইচএসসি আছে। তবে আমাদের শ্রেণি সমাপনীটা সব ক্লাসে হবে। সেটা অষ্টম শ্রেণিরও হবে।’

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে। পরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি) পরীক্ষাও চালু করা হয়। প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী এসব পরীক্ষায় অংশ নেয়।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

শুধু চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম, নবম শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি: মানবণ্টন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির সব প্রস্তুতি রয়েছে: দীপু মনি
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্নপত্র তৈরি
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

সংঘর্ষে জড়ানোয় ১২ ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার চবির

সংঘর্ষে জড়ানোয় ১২ ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার চবির

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, গত কয়েকদিনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য যাছাই বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ হেলথ, রেসিডেন্স, অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় ১২ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করার অভিযোগে দুই জনকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় গ্রুপের ১২ নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ, রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় রোববার রাতে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে নিউজবাংলাকে জানান প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

সভায় উভয় গ্রুপ থেকে দুই জনকে ১ বছর করে এবং ১০ জনকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুর নেতৃত্বাধীন ‘সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের ৬ জনকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নেতৃত্বাধীন ‘সিএফসি’ গ্রুপের ৬ জন কর্মী রয়েছেন।

’সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের বহিষ্কৃতরা হলেন, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মো. নাঈম, একই শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের সাইফুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের আশরাফুল আলম নায়েম, একই শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের আকিব জাভেদ, ইতিহাস বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের জুনায়েদ হোসেন জয় ও অর্থনীতি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ফরহাদ।

এদের মধ্যে আশরাফুল আলম নায়েমকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

‘সিএফসি’ গ্রুপের বহিষ্কৃতরা হলেন, আইন বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মির্জা খবির সাদাফ, একই বিভাগের ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের খালেদ মাসুদ, লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের অহিদুজামান সরকার, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের আরিফুল ইসলাম, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের তানজিল হোসেন ও আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের তৌহিদ ইসলাম।

তাদের মধ্যে সাদাফকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, গত কয়েকদিনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য যাছাই বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ হেলথ, রেসিডেন্স, অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় ১২ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করার অভিযোগে দুই জনকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বহিষ্কারের মেয়াদ রোববার থেকেই কার্যকর হবে৷ এ সময় বৃহষ্কৃতরা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলে অবস্থান করতে পারবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিহাব আরমান মানিক নামে ‘সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের এক কর্মীকে মারধর করেন ‘সিএফসি’ গ্রুপের কর্মীরা। এ নিয়ে সেদিন রাতেই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

তারা জানান, মারধরের ওই ঘটনার জেরে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে সিএফসির কনিষ্ঠ কর্মীরা শাহ আমানত হলে ঢুকতে গেলে সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করেন। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সিক্সটি নাইন গ্রুপের তিনজন এবং সিএফসি গ্রুপের একজন আহত হন।

ওই ঘটনার জেরেই রোববার বিকেলে ফের সংঘর্ষে জড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এই দুই গ্রুপ। এতে দুইজন আহত হন।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি: মানবণ্টন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির সব প্রস্তুতি রয়েছে: দীপু মনি
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্নপত্র তৈরি
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় হল পরিদর্শন করেন উপাচার্য অধ্যাপক এম কামরুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা

এক ঘণ্টার এই ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১টায়। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারে দেখা যায় বৈচিত্র্য।

কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই একসঙ্গে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিন আজ।

রোববার দেশজুড়ে ২৬টি কেন্দ্রে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। এই ইউনিটে আবেদন করেছিলেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ শিক্ষার্থী।

এক ঘণ্টার এই ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১টায়। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারে দেখা যায় বৈচিত্র্য।

ব‌রিশালে অনুপ‌স্থিত ২২৪ পরীক্ষার্থী

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হলেও এদিন অনুপস্থিত ছিলেন ২২৪ পরীক্ষার্থী।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটে ৩ হাজার ৪৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ২৩৪ জন। উপস্থিতির হার ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি গুচ্ছে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একটি পরীক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক কষ্ট লাঘব হবে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি।’

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটে উপস্থিতির হার ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ

সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীতে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একটি গুচ্ছে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব আরও ত্বরান্বিত হবে।’

দিনাজপুরে উপস্থিতির হার ৯৮ শতাংশ

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল ৯৮ শতাংশ।

হাবিপ্রবি কেন্দ্রের পরীক্ষায় অংশ নেন ৭ হাজার ২৫ শিক্ষার্থী।

পরীক্ষা শুরুর পর বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম কামরুজ্জামান।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আজ একটি ইতিহাস রচিত হলো। গুচ্ছ পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের পরীক্ষায় উপস্থিতির হার অনেক বেশি, ৯৮ শতাংশের মতো। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা দিয়েছেন।

এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

কুবিতে অনুপস্থিত ১১১ জন

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) কেন্দ্রে প্রথম দিন স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও অনুপস্থিত ছিলেন ১১১ পরীক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ হাজার ৫০৫ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা থাকলেও পরীক্ষা দিয়েছেন ২ হাজার ৩৯৪ জন। উপস্থিতির হার প্রায় ৯৬ শতাংশ।

পরীক্ষা শেষে সাকিব আল হাসান নামের এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষা আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। হলে কোনো সমস্যা হয়নি। স্যাররা যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন।’

ফারহানা হোসেন সাথী নামের আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্ন কিছুটা কঠিন হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষা দিতে কোনো সমস্যা হয় নাই। মূল গেট থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন, রোভার, বিএনসিসি, ছাত্রলীগের কাছ থেকে কক্ষ খুঁজে পেতে সহযোগিতা পেয়েছি।’

আব্দুস সাত্তার নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়ে ভালোই হয়েছে। বাড়ির কাছেই পরীক্ষা দিতে পেরেছে ছেলেমেয়েরা। আমাদের ভোগান্তি অনেকখানি কমেছে, পাশাপাশি আর্থিক দিকটাও সাশ্রয় হয়েছে। আমরা চাই সামনেও যেন এ ধারা অব্যাহত থাকে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র নন্দী বলেন, “সবার সার্বিক সহযোগিতায় আমরা ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে পেরেছি। সামনেও এ রকম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।”

গুচ্ছ পদ্ধতিতে বি ও সি ইউনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেবে ৪ হাজার ৫২১ পরীক্ষার্থী।

কুষ্টিয়ায় পরীক্ষার্থী উপস্থিত ৯৮ শতাংশ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শেষ হয়েছে ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপরেজিস্ট্রার সাহেদ হাসান নিউজবাংলাকে জানান, পরীক্ষা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি ভবনের ১১৪টি কক্ষে। ৭ হাজার ৮৫ পরীক্ষার্থীর ৯৮ ভাগই উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রে।

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৮ শতাংশ পরীক্ষার্থীই উপস্থিত ছিলেন

তিনি আরও জানান, কোনো পরীক্ষার্থীকেই মাস্ক ছাড়া কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরীক্ষা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ক্যাম্পাসে টহল দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দিতে ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ফটকে হেল্প ডেস্ক বসানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ নভেম্বর ‘ডি’ ইউনিটে ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষা হবে। দেশের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ অনুষদ না থাকায় স্বতন্ত্রভাবে পরীক্ষা হবে।”

ময়মনসিংহে পরীক্ষা দিয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা

ময়মনসিংহে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায় খুশি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

পরীক্ষার সময় বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান।

পরীক্ষা দিতে আসা নেত্রকোণা সদরের জান্নাতুল ফেরদৌস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নেত্রকোণা সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেছি। ভর্তিযুদ্ধে টিকে থাকতে গত কয়েক মাস ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করেছি। এই কেন্দ্রে (বাকৃবি) পরীক্ষা হওয়ায় বাসা থেকে ভোরে রওনা হয়েছি। টাকা ও পরিশ্রম দুটোই কম লেগেছে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায়।’

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার এক অভিভাবক নূর জাহিদ বলেন, ‘কেন্দ্র পর্যন্ত আসতে যানজটসহ কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। বিভাগীয় শহরের এই কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিশ্চিন্তে আসতে পেরেছি। প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অপেক্ষায় থাকা সব অভিভাবকই স্বাস্থ্যবিধি মেনেছেন।’

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান

নূর জাহিদের মেয়ে সালমা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষা খুব কঠিন কিংবা খুব সহজও হয়নি। তবে আমার পরীক্ষা ভালো হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হলে পরীক্ষা দিতে পেরেছি।’

কিশোরগঞ্জ থেকে আসা তৌফিকুর রহমান ও মজিবুর রহমান নামে দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষা শেষে নিউজবাংলাকে জানান, অন্য বিষয়ের চেয়ে গণিত প্রশ্ন কঠিন হয়েছে। কিছু উত্তর ভুল হলেও ভর্তিযুদ্ধে টিকবেন বলে আশাবাদী তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ হাজার ৫৩৯ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও পরীক্ষা দেন ১০ হাজার ৮০১ জন। উপস্থিতির হার ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনও প্রশ্ন ফাঁসের নজির নেই। আজকেও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রের সব কক্ষে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা দিয়েছে।’

বশেমুরবিপ্রবিতে উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬ হাজার ৯১২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ৮৯২ জন। উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২৪ অক্টোবর ‘বি’ ইউনিট এবং ১ নভেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথম গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন বরিশালের তন্ময় তপু, দিনাজপুরের কুরবান আলী, কুষ্টিয়ার জাহিদুজ্জামান, ময়মনসিংহের কামরুজ্জামান মিন্টু এবং গোপালগঞ্জের মোজাম্মেল হোসেন মুন্না

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি: মানবণ্টন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির সব প্রস্তুতি রয়েছে: দীপু মনি
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্নপত্র তৈরি
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা

শেয়ার করুন

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ সাড়ে ১৮ হাজার

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ সাড়ে ১৮ হাজার

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

চূড়ান্ত ফলে ১৮ হাজার ৫৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে স্কুল-২ পর্যায়ে ৯৯৬ জন। স্কুল পর্যায়ে ১৪ হাজার ৪৬ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ৩ হাজার ৫০৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। রোববার সন্ধ্যায় এ ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রার্থীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানিয়ে দেয়া হবে। এ ছাড়া প্রার্থীরা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে (www.ntrca.gov.bd) রাত ১০টার পর থেকে ফল দেখতে পারবেন।

এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের ভাইভা শেষ হয়েছে। গত বছরের ১১ নভেম্বর ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

চূড়ান্ত ফলে ১৮ হাজার ৫৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে স্কুল-২ পর্যায়ে ৯৯৬ জন। স্কুল পর্যায়ে ১৪ হাজার ৪৬ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ৩ হাজার ৫০৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

লিখিত পরীক্ষায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ জন অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ২২ হাজার ৩৯৮ প্রার্থী। এতে স্কুল-২ পর্যায়ে ১ হাজার ২০৩ জন, স্কুল পর্যায়ে ১৭ হাজার ১৪০ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ৪ হাজার ৫৫ জনসহ ২২ হাজার ৩৯৮ জন উত্তীর্ণ হয়।

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় ২০১৯ সালের ২৩ মে। পরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয় ওই বছরের ৩০ আগস্ট, ফল প্রকাশ করা হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। লিখিত পরীক্ষা হয় ১৫ ও ১৬ নভেম্বর।

আরও পড়ুন:
এসএসসি-এইচএসসি: মানবণ্টন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির সব প্রস্তুতি রয়েছে: দীপু মনি
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট যেভাবে
এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্নপত্র তৈরি
এসএসসি-এইচএসসিতে তিন বিষয়ে পরীক্ষা

শেয়ার করুন