ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-যুবদল সংঘর্ষ, আহত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-যুবদল সংঘর্ষ, আহত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-যুবদল সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ককে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর ভূইয়া জানান, যুবদলের পদধারীরা একটি মিছিল বের করে। পুলিশ বাধা দিয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আনন্দ মিছিলের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে যুবদল। এতে তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

উপজেলা সদরের অনন্তপুর এলাকায় সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর ভূইয়া বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অনন্তপুর পৌর যুবদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়ায় প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় একটি আনন্দ মিছিল বের করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুল হক ভূইয়া।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-যুবদল সংঘর্ষ, আহত ১৫

সদরের আদ্রা অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে বের করা মিছিলটি কিছু দূর যেতেই পুলিশ বাধা দেয়। তখন পুলিশের সঙ্গে যুবদল নেতাকর্মীরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়ায়।

এ সময় যুবদল নেতাকর্মীদের ছোড়া ইট-পাটকেলে তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

আহত তিন সাংবাদিক হলেন এটিএন নিউজের পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরো প্রধান পীযূষ কান্তি আচার্য, সময় টিভির চিত্র সাংবাদিক জুয়েলুর রহমান ও মোহনা টিভির কসবা প্রতিনিধি হারুনুর রশীদ ঢালী।

ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল হক ইমুকে আটক করেছে পুলিশ।

কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর ভূইয়া জানান, যুবদলের পদধারীরা একটি মিছিল বের করে। পুলিশ বাধা দিয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

কসবা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুল হক ভূইয়া বলেন, ‘নতুন কমিটি হওয়ার পর আমরা কসবা-আখাউড়া বিএনপির কর্নধার কবির আহম্মেদ ভূইয়ার নির্দেশনা ও পরামর্শে নেতাকর্মীদের নিয়ে আনন্দ মিছিল বের করি। পুলিশ বিনা কারণে আমাদের শান্তিপূূর্ণ মিছিলে বাধা দিয়েছে। সে সময় পুলিশের হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে পাঁচ থেকে সাত নেতাকর্মীকে আটকও করেছে।

আরও পড়ুন:
জামাই-শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সংঘর্ষে আহত ৩০
বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১
চবিতে হলের রুম দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২
যুবলীগের সংঘর্ষে আহত ১৫
বিয়েবাড়িতে ছবি তোলা নিয়ে ৩ দিন সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সেতুর আশ্বাসেই পার ৫০ বছর

সেতুর আশ্বাসেই পার ৫০ বছর

শেরপুরে শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী নদীতে সেতু না থাকায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি। ছবি: নিউজবাংলা

খারামোরার নুরুল আমীন বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে শুরু কইরে হাজার হাজার মানুষ আমরা কত যে কষ্ট করতাছি, কেউ আমাগো কষ্ট দেহে না। আমরা নদীতে পানি বাড়লে বাজার সদাই করবার পাই না। না খাইয়া থাহা নাগে।’

শেরপুরে শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচ গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে সোমেশ্বরী নদী। স্বাধীনতার পর থেকেই এ নদীতে একটি সেতু নির্মাণে দাবি জানিয়ে আসছেন এসব গ্রামের লোকজন। এত বছর ধরে আশ্বাসই পেয়ে আসছেন তারা। সেতুর দেখা আর মেলেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভারত থেকে বয়ে আসা সোমেশ্বরী উপজেলার গারো পাহাড়ের খারামোরা, রাঙাজান ও কোচপাড়াসহ পাঁচ গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করেছে। এর উত্তর প্রান্তে রয়েছে ভারতের সীমানা।

সেতুর আশ্বাসেই পার ৫০ বছর

বেশিরভাগ সময় এ নদীতে থাকে হাঁটুপানি। তবে একটু বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢলে নদী কানায় কানায় ভরে যায়।

গ্রামবাসীরা জানান, পাঁচ গ্রামে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ থাকেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে নদী পার হতে তাদের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা। তবে পানি বাড়লে স্রোতের কারণে তা ব্যবহার করা যায় না।

ওই সময় গ্রাম থেকে বের হতে পারেন না কেউ। দিনের পর দিন শিক্ষার্থীরা স্কুলেও যেতে পারে না। এমনটি সীমান্তে টহল দিতে পারেন না বিজিবির সদস্যরা।

সেতুর আশ্বাসেই পার ৫০ বছর

ওই সময় খাবারের সংকটেও পড়ে গ্রামবাসী। আবার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সময় মতো চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। বিনা চিকিৎসায় অনেকের মৃত্যুও হয়েছে।

৯৫ বছরের আইজুর রহমান ১৯৬৫ সালে ভারতের আসাম থেকে বাংলাদেশে এসে বসতি গড়েন শ্রীবরদীর খারামুরা গ্রামে। আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৯৬৫ সালে এইহানে আইছি। এর থাইকে কষ্ট করতাছি। এই নদীর ওফর এডা ব্রিজ অইলে আমাগো খুব বালা অইতো।

সেতুর আশ্বাসেই পার ৫০ বছর

আমরা অনেক কষ্ট কইরা নদী পার অই। যেদিন পানি বেশি থাহে, ওইদিন আর বাড়িতে যাবার পাই না। নদীর এপারেই কষ্ট কইরা থাহন নাগে। কত মানুষ আইল আমাগো ব্রিজ কইরা দিবে। ভোটও দিলাম, কিন্তু ব্রিজ আর অইল না। আপনেগর কাছে অনুরোধ আমাগো ব্রিজটা কইরা দেন। শেষ বয়সে অইলেও ব্রিজটা দেইখা যাবার পামু।’

খারামোরার নুরুল আমীন বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে শুরু কইরে হাজার হাজার মানুষ আমরা কত যে কষ্ট করতাছি, কেউ আমাগো কষ্ট দেহে না। আমরা নদীতে পানি বাড়লে বাজার সদাই করবার পাই না। না খাইয়া থাহা নাগে।

সেতুর আশ্বাসেই পার ৫০ বছর

‘আর কেউ যদি অসুখ হয় তালে তার জন্য ওষুদ পাওয়া যায় না। ওষুদ বেগরে মানুষ মারাই যাব, তাও পার অবার কোনো ব্যবস্থা থাহে না।’

কোচপাড়ার স্কুলছাত্র নাসিদ জানান, ‘প্রায় প্রায় নদীর পানি বাড়ে, তখন আমরা স্কুলে আসতে পারি না। দিনের পর দিন আমাদের স্কুল কামাই করতে হয়। আবার ভয়ে ভয়ে নদী পার হয়ে স্কুলে, বাজার-ঘাটে যাই।’

তাওয়াকুচার অছিরা বেগম জানান, ‘আমি আমার মেয়েডারে নদী ওপারে বিয়া দিছি। তারেও আপদে বিপদে দেখবার পাই না। আমরা অনেক কষ্ট করে আছি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্রিজ চাই।’

সেতুর আশ্বাসেই পার ৫০ বছর

এ বিষয়ে কথা বলতে শ্রীবরদী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বরাবরের মতোই তিনি আশ্বাস দেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে নকশা ও মাটি পরীক্ষার কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলেই শুরু হবে নির্মাণ কাজ।’

আরও পড়ুন:
জামাই-শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সংঘর্ষে আহত ৩০
বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১
চবিতে হলের রুম দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২
যুবলীগের সংঘর্ষে আহত ১৫
বিয়েবাড়িতে ছবি তোলা নিয়ে ৩ দিন সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখলের কাজ চলছে। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘বাজারটা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। অনেকেই দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করেছেন। আমি জমি দখল করছি না। আমি প্রাচীরের কাজ করছি।’

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে পৌর শহরের চৌরাস্তা হাটের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকি না থাকায় কোনো বাধা ছাড়াই জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও ভবন নির্মাণ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জমিটি দখলমুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনার কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজ চলছে অবাধে ও প্রকাশ্যেই।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

পৌরসভা দপ্তরে সূত্রে জানা যায়, বাজারটি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পৌরসভা থেকে বার্ষিক ইজারায় দেয়া হয়। এরপর থেকে আর ইজারা দেয়া হয়নি। ভূমি অফিসের লোকজনের সহায়তায় সেখানে রাতারাতি অবৈধভাবে আধাপাকা বাড়ি, পাকা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন এলাকার প্রভাবশালীরা।

হাটের জায়গায় ব্যক্তি মালিকানায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় পরে কর্তৃপক্ষ তা বাজার হিসেবে ইজারা দিতে চাইলেও প্রভাবশালী দখলদারদের ভয়ে কেউ লিজ নিতে রাজি হয়নি।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪-৮৫ এবং ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে দুটি মিস কেসের মাধ্যমে চৌরাস্তা হাটের সম্পত্তি পেরিফেরিভুক্ত করে ভূমি অফিস।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

বাজারের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য ২০০৯ সালে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ওই বছরই ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাস্তবায়নে পীরগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলেও সে সময় কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সেই সুযোগে শহরের প্রাণকেন্দ্র রঘুনাথপুর মৌজায় (ঢাকাইয়াপট্টি) পেরিফেরিভুক্ত চৌরাস্তা হাটের উত্তর পূর্বাংশে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনার কাজ শুরু করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি ইমদাদুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব।

শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি হাটের জমি দখল করতে ইমদাদুল হক সীমানা প্রাচীর তুলছেন। আর বিপ্লব ওই জমিতে বানাচ্ছেন বহুতল ভবন।

বিষয়টি নজর আসলে দখল ঠেকাতে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিমকে নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহাবুবুর রহমান।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

ডিসি নিউজবাংলাকে জানান, নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে জানিয়েছেন।

অথচ গত ১৪ অক্টোবর দেখা যায় নির্মাণকাজ চলছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ডিসির নিদের্শনা পর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ না করে দখলদারদের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে চলে যান। সরকারি জমি দখলদারদের পাইয়ে দেয়ার পেছনে খোদ ইউএনও রেজাউল করিম কাজ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও রেজাউল বলেন, অভিযোগ ঠিক নয়। কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। আবার কাজ চালু হওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আবারও নির্মাণকাজ বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘বাজারটা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। অনেকেই দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করেছেন। আমি জমি দখল করছি না। আমি প্রাচীরের কাজ করছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব বলেন, ‘আমি এখানে বিশ বছর ধরে আধাপাকা বাড়ি করে আছি। এখন ভেঙে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছি। হাটের পেরিফেরি থেকে জায়গাটা অবমুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।’

পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকরামুল হক বলেন, ‘পেরিফেরিভুক্ত জমিতে ঘর নির্মাণের অনুমতি পৌরসভা দিতে পারে না। কাজ বন্ধ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জামাই-শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সংঘর্ষে আহত ৩০
বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১
চবিতে হলের রুম দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২
যুবলীগের সংঘর্ষে আহত ১৫
বিয়েবাড়িতে ছবি তোলা নিয়ে ৩ দিন সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের রহস্য উন্মোচন

ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের রহস্য উন্মোচন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের মামলায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। ঠবি: নিউজবাংলা

আসামি ফিরোজের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, তার সঙ্গে নিহত ফকিরের লিজ নেয়া ৯ একর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ফকিরের সঙ্গে কয়েকবার কথাকাটাকাটিও হয়েছে ফিরোজের। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরোজ, এখলাস ও মান্নান মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ছেলে হত্যার মামলাটি নিয়ে পিবিআইয়ের কাছে যাওয়ার কথা শুনে ভয়ে এজহার মিয়াকেও খুন করেন আসামিরা।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ঘটনার প্রায় এক বছর পর দায়িত্ব পেয়ে পিবিআই মাত্র ২০ দিনে এই জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচন করে। এ মামলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামাল আব্বাস বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার।

জোড়া খুনের মামলায় গ্রেপ্তার তিন জন হলেন মো. ফিরোজ, মো. সালাহ উদ্দিন ওরফে মন্নান ও মো. এখলাস। তারা ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

এর মধ্যে মো. ফিরোজ বুধবার চট্টগ্রাম অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুই জনকে তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

এর আগে মঙ্গলবার খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি থেকে মন্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী ভুজপুরের সুয়াবিল থেকে ফিরোজ এবং কাঞ্চননগর থেকে এখলাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামাল আব্বাস নিউজবাংলাকে জানান, ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে দুইদ্যা খাল থেকে ফকির আহমেদের গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পরের দিন ফটিকছড়ি থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা এজহার মিয়া।

খুনের নয় মাসেও পুলিশ কাউকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে না পাড়ায় মামলাটির তদন্তের বিষয়ে পিবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেন এজহার মিয়া। আসামিরা বিষয়টি জানতে পারেন।

পিবিআই জানায়, সংস্থাটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেলে আর রক্ষা নেই, এই চিন্তা করে এজহার মিয়াকেও খুন করার সিদ্ধান্ত নেন ফকির আহমেদকে খুনের মামলার আসামিরা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২১ সালের ২৪ জুন কাঞ্চননগর ইউনিয়নের খামার বাড়ির কাছাকাছি লাঙ্গল মেরামতের সময় এজহার মিয়াকেও খুন করেন আসামিরা। পরদিন দক্ষিণ কাঞ্চননগরের গরজইজ্ঞা থেকে এজাহার মিয়ার গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ২৬ জুন নিহতের স্ত্রী নাছিমা বেগম ফটিকছড়ি থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও বাবা-ছেলে হত্যার কোনো কূল কিনারা খুঁজে না পাওয়ায় মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়া হয়।

পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক কামাল আব্বাস বলেন, ‘মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর ওই এলাকার সোর্সকে কাজে লাগিয়ে খুনের সঙ্গে এজহারের মেয়ের জামাই এখলাসেরও জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হই। এরপর লিজ নেয়া ৯ একর জমি নিয়ে মান্নান নামের এক জনের সঙ্গে নিহত ফকিরের বিরোধের তথ্য পাই। পরবর্তীতে মান্নানের কাছে থেকে হত্যার পরিকল্পনাকারী ফিরোজের তথ্য পাই।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফকির আহমেদকে খুনের কথা স্বীকার করে ফিরোজ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

ফিরোজের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে পিবিআই জানতে পারে তার সঙ্গে নিহত ফকিরের লিজ নেয়া ৯ একর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ফকিরের সঙ্গে কয়েকবার কথাকাটাকাটিও হয়েছে ফিরোজের। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরোজ, এখলাস ও মান্নান মিলে ফকিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ছেলে হত্যার মামলাটি নিয়ে এজহার মিয়া পিবিআইয়ের দারস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় আসামিরা ভয় পেয়ে যান। তাই এজহার মিয়াকেও খুন করেন তারা।

আরও পড়ুন:
জামাই-শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সংঘর্ষে আহত ৩০
বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১
চবিতে হলের রুম দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২
যুবলীগের সংঘর্ষে আহত ১৫
বিয়েবাড়িতে ছবি তোলা নিয়ে ৩ দিন সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

নিহত কিশোরে স্বজনদের আহাজারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

নিহত মো. আকাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের চিনাইর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বয়স ১৮, বাড়ি উত্তরপাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তার চার বন্ধুও।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আহত হয়েছে তার চার বন্ধু।

আহতদের অভিযোগ, এলাকায় গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মো. আকাশ সদরের চিনাইর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বয়স ১৮, বাড়ি উত্তরপাড়া এলাকায়।

আহতরা হলো ১৬ বছরের মো. ফায়েজ, ২০ বছরের মো. আরমান, ১৪ বছরের মো. রাকিব ও ১৭ বছরের মো. মাসুম।

মাসুম জানান, সুলতানপুর গ্রামের দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে একই এলাকার শেখ কামরুলের ছেলে শেখ রিফাত বসে গাঁজা খায়। এ নিয়ে আকাশের সঙ্গে বুধবার সকালে তার তর্কাতর্কি হয়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করলে তারা সরে যায়।

মাসুম বলেন, বিকেলে সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যান তিনি ও আকাশসহ এলাকার কয়েকজন বন্ধু। খেলা শেষে সন্ধ্যায় তাদের ওপর ছুরি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় রিফাত ও তার সহযোগীরা।

ছুরির আঘাতে আকাশ গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আকাশকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, আকাশের মাথা ও বুকে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। আহতদের সেখানে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সদর থানার ওসি এমরানুল জানান, ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
জামাই-শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সংঘর্ষে আহত ৩০
বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১
চবিতে হলের রুম দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২
যুবলীগের সংঘর্ষে আহত ১৫
বিয়েবাড়িতে ছবি তোলা নিয়ে ৩ দিন সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

নালায় পড়ে মৃত্যু: সেবা সংস্থাগুলোকে আইনি নোটিশ

নালায় পড়ে মৃত্যু: সেবা সংস্থাগুলোকে আইনি নোটিশ

ফাইল ছবি

ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বুধবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নালা বা ড্রেন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সেটার দায় সিডিএ এড়াতে পারে না। সিটি করপোরেশন ও সিডিএ দুর্ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা জানাতে হবে।’

চট্টগ্রামে মুরাদপুরে সবজি বিক্রেতা সালেহ আহমেদ ও আগ্রাবাদে শিক্ষার্থী সেহেরিন মাহবুব সাদিয়ার মৃত্যু হয়েছে দাবি করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) প্রধান নির্বাহীসহ ১৩ জনকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে। এতে সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) পক্ষে মঙ্গলবার ব্যারিস্টার আবদুল হালিম ও আইনজীবী ইশরাত হাসান এই নোটিশ পাঠান।

সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকাই চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে নগরবাসীর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

যাদের নোটিশ দেয়া হয় তারা হলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, সিডিএ চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের ডেপুটি ডাইরেক্টর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর, সিডিএ সচিব, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এবং ডবলমুরিং থানার ওসি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বুধবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নালা বা ড্রেন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সেটার দায় সিডিএ এড়াতে পারে না। সিটি করপোরেশন ও সিডিএ দুর্ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানাতে হবে।

‘দুর্ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, হলে তার অগ্রগতি প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে জানাতে হবে ডবলমুরিং থানার ওসি ও সিএমপি কমিশনারকে।’

নোটিশে বলা হয়, সালেহ আহমেদ ও সাদিয়ার মৃত্যু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই হয়েছে। নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ে দিতে ব্যর্থ হলে বা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দিলে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে এক কোটি টাকা করে চাওয়া হবে।

ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ নিবে তার রিপোর্ট প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুরে নালায় পড়ে নিঁখোজ হন সালেহ আহমেদ। গতকাল পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে আগ্রাবাদে নালায় পড়ে মারা যান সাদিয়া। এ দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী কে, সে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। যদিও চসিক ও সিডিএ কেউ দায় স্বীকার করেনি। বরং একে অন্যকে দোষারোপ করে দুই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা।

সালেহ আহমেদ ও সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ব্যারিস্টার আবদুল হালিম ও আইনজীবী ইশরাত হাসানের দেয়া নোটিশেও দায় এড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

চসিক বলছে, দুদিকে ফুটপাত করলেও খালের মুখটি অরক্ষিত রেখেছে সিডিএ। তাই এর দায় সিডিএয়ের। আবার সিডিএ বলছে, খালের মালিকানা চসিকের। তাই খালের মুখে সুরক্ষা নিশ্চিতের দায়িত্বও তাদের।

নালা ও খালে পড়ে একের পর এক মৃত্যুতে নগরবাসী ক্ষুব্ধ উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, দায় এড়ানোর প্রবণতা প্রমাণ করে যে, সেবা সংস্থার মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে নগরবাসীর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জামাই-শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সংঘর্ষে আহত ৩০
বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১
চবিতে হলের রুম দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২
যুবলীগের সংঘর্ষে আহত ১৫
বিয়েবাড়িতে ছবি তোলা নিয়ে ৩ দিন সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০

নোয়াখালীর একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াখালীর এসপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনায় একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলাম বুধবার বেলা ৩টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের মো. ইলিয়াস, একলাশপুর ইউনিয়নের মিজানুর রহমান, গনিপুরের নুরনবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নোয়াখালীর এসপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জামাই-শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সংঘর্ষে আহত ৩০
বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১
চবিতে হলের রুম দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২
যুবলীগের সংঘর্ষে আহত ১৫
বিয়েবাড়িতে ছবি তোলা নিয়ে ৩ দিন সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল।

ঢাকার সাভারে মধ্যরাতে বৃদ্ধ বাবাকে ঠান্ডা মাথায় ছেলে খুন করেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। যদিও হত্যার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এসব জানায় র‍্যাব-৪।

এতে বলা হয়, আশুলিয়ার জিরানী কোণাপাড়ায় মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ছেলে আফাজ উদ্দিনের বটির আঘাতে নিজ বাড়িতে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি খুন হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানায় আফাজ মানসিক ভারসাম্যহীন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আফাজকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ। মামলাটির ছায়া তদন্তে নামে র‍্যাব।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের মিসকিন শাহ রহমত উল্লাহ মাজার থেকে তাকে বুধবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা বটি, লুঙ্গি ও একটি বিছানার চাদর উদ্ধার করা হয়।

তবে র‍্যাবের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নিহত নূর মোহাম্মদের পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিউজবাংলাকে নূর মোহাম্মদের মেয়ে হোসনে আরা বলেন, ‘ জন্ম থেকেই আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ। বাবা ওর দেখভাল করতো, তার সঙ্গেই রাতে ঘুমাতো।’

আফাজের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘ আমার স্বামীর মানসিক সমস্যার কারণে আড়াই বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে আলাদা ঘরে থাকি। মাঝেমধ্যে আমার শ্বশুর ওর সঙ্গে ঘুমাতো।’

স্বপন মিয়া নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আফাজ একেক সময় একেক রকম আচরণ করতো। কখনও ভালো আবার কখনও খারাপ।’

র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফাজ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ড তা এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
জামাই-শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সংঘর্ষে আহত ৩০
বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১
চবিতে হলের রুম দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২
যুবলীগের সংঘর্ষে আহত ১৫
বিয়েবাড়িতে ছবি তোলা নিয়ে ৩ দিন সংঘর্ষ

শেয়ার করুন