ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

করোনায় বিধ্বস্ত দেশের পর্যটন খাত আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

করোনার বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছেন পর্যটকরা। দেশের পর্যটন এলাকাগুলোয় উপচে পড়া ভিড়। পর্যটক ফেরায় এই খাতসংশ্লিষ্টদের মুখে হাসিও ফিরেছে। যে খাত পথে বসার উপক্রম হয়েছিল, সেই খাত নিয়ে আবারও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন সংশ্লিষ্টরা।

করোনাভাইরাসের কারণে গভীর সংকটে পড়েছিল দেশের পর্যটনশিল্প। প্রায় দেড় বছরের দীর্ঘ অচলাবস্থায় মুখ থুবড়ে পড়ে সম্ভাবনাময় এই খাত। মানুষের আয় কমে যাওয়া, প্রণোদনা নিয়ে জটিলতাসহ নানা কারণে এই খাতের পুনর্জাগরণ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন উদ্যোক্তারা।

তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটনশিল্প। সরকারি প্রণোদনা কিংবা বড় বড় বিনিয়োগ নয়, বরং সাধারণ পর্যটকরাই চাঙা করে তুলছেন এই খাত। করোনার বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পরই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছেন পর্যটকরা। দেশের পর্যটন এলাকাগুলোয় উপচে পড়া ভিড়।

পর্যটকদের কাছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গা চট্টগ্রাম ও সিলেট। এই দুই বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সারা বছরই পর্যটক সমাগম লেগে থাকে। তবে করোনার বিধিনিষেধ ওঠার পর পর্যটকদের ঢল আরও বেড়েছে। ঘরবন্দি থেকে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষ দীর্ঘদিন পর মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পেয়েছেন।

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

কক্সবাজারের সমুদ্র, বান্দরবানের পাহাড়, সুনামগঞ্জের হাওর কিংবা সিলেটের টিলা ও জলাবন– সবখানেই এখন পর্যটকদের ভিড়। ছুটির দিনগুলোতে এসব জায়গায় জট লেগে যায়।

পর্যটক ফেরায় এই খাতসংশ্লিষ্টদের মুখে হাসিও ফিরেছে। টাঙ্গুয়ার নৌকাচালক, জাফলংয়ের ফটোগ্রাফার, বিছনাকান্দির প্রসাধনসামগ্রী বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় রিসোর্টের উদ্যোক্তারাও এখন দুর্দিন কাটিয়ে উঠছেন। তবে সব জায়গাতেই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। উপেক্ষিত থাকছে পরিবেশের সুরক্ষা।

অবাধে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেয়ে পর্যটকরা মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। বেশির ভাগই পরছেন না মাস্ক। আবার বন-হাওর-নদী-সমুদ্রে দল বেঁধে হইহুল্লোড় করে, শব্দযন্ত্র ব্যবহার করে গান বাজিয়ে আর ময়লা-আবর্জনা ফেলে পর্যটকরা নষ্ট করছেন পরিবেশ। ফলে করোনাকালীন পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পরিবেশের উন্নতি হলেও বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর তা আবার হুমকিতে পড়েছে।

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

এসব প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলো আবার পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। তবে সবাইকেই পরিবেশের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। প্রশাসনের তরফ থেকেও এ ব্যাপারে কঠোর নজরদারি থাকবে।

চট্টগ্রাম

গত আগস্টে পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার পর থেকেই চট্টগ্রামে ক্রমান্বয়ে বাড়তে শুরু করেছে পর্যটক সমাগম। তাতে চাঙা হয়ে উঠেছে পর্যটন ব্যবসা। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে খাতসংশ্লিষ্টদের মাঝেও।

মূলত সেপ্টেম্বর মাস থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে শুরু হয় পর্যটন মৌসুম, চলে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরই মধ্যে পাহাড়ি তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রায় সব পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসুদের সমাগম বাড়তে শুরু করেছে।

রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি, পলওয়েল পার্ক, সুবলং ঝরনা, খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহা, বান্দরবানের নীলাচল, নীলগিরি, কক্সবাজারের সৈকত, হিমছড়ি, রামু, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ফয়’স লেকসহ অন্যান্য পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা।

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

ঢাকা থেকে বান্দরবানে বেড়াতে আসা কনক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লকডাউনে একপ্রকার ঘরবন্দি ছিলাম। এর মধ্যে করোনাতেও আক্রান্ত হয়েছি। জীবনটা বিষণ্ন হয়ে উঠছিল। তাই পাহাড় দেখতে এলাম। বিশাল পাহাড় মানসিকতা পরিবর্তন করে দেয়।’

দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থেকে অবসাদে ভুগছিলেন সেলিম উদ্দিন। ঘুরতে এসেছেন রাঙ্গামাটির সাজেকে।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘করোনায় বাসাবাড়িতে বন্দি থেকে মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছি। সেই অবসাদ কাটাতে সাজেক এলাম। সাজেকের প্রেমে আমরা মুগ্ধ।’

খাগড়াছড়িতে বেড়াতে আসা খুলনার বাসিন্দা সুমন মজুমদার বলেন, ‘দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। সেই ছুটিতে পাহাড়ে এসে ঘুরে বেড়ালাম। ঝরনার জলধারায় শরীর জুড়ালাম। মনটা শান্তিতে ভরে গেল।’

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

কক্সবাজারে সৈকতে বেড়াতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুলতান আহমদ বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে বছরে কয়েকবার সমুদ্র দেখতে আসি। করোনার কারণে সেটি হয়ে উঠছিল না। অনেক দিন পর সুযোগ পেয়ে সৈকতে চলে এলাম।’

এদিকে পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু হোটেল-মোটেল মালিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

রাঙ্গামাটির হোটেল প্রিন্সের স্বত্বাধিকারী নেছার উদ্দিন বলেন, ‘করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে আমরা চেষ্টা করছি। মোটামুটি পর্যটকদের রাঙ্গামাটিতে সমাগম বাড়ছে। আশা করছি, শীত বাড়লে পর্যটক আরও বাড়বে।’

পর্যটক সমাগমে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে বান্দরবানের হোটেল লেক সিটির স্বত্বাধিকারী জাফর আহমদ বলেন, ‘বান্দরবানে প্রতিদিনই কমবেশি পর্যটক আসেন। তবে শুক্র-শনিবারে এ সংখ্যা বেড়ে যায়। যেভাবে পর্যটকরা আসছেন, আমরা সন্তুষ্ট।’

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

এদিকে চট্টগ্রামে দূরদূরান্ত থেকে পর্যটক তেমন না এলেও স্থানীয় বিনোদনপ্রেমীরা পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন প্রতিনিয়ত। নগরের ফয়’স লেক, পতেঙ্গায় প্রতিদিন বিনোদনপ্রেমীদের ভিড় লেগে থাকছে।

পতেঙ্গা এলাকার ব্যবসায়ী আল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লকডাউনে সৈকত বন্ধ ছিল। এখন চালু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন পিকনিক বাস আসছে। আমরা এখন ভালো আছি।’

ফয়’স লেক কনকর্ডের ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘লকডাউনের সময় কর্মীদের বেতন দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। তবু আমরা টিকে আছি। এখন লোকসমাগম বেড়েছে। এভাবে চললে আমরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারব।’

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

তবে করোনার ক্ষতি দ্রুত পোষানো সম্ভব নয় জানিয়ে কক্সবাজারের ‘হোটেল লেক ভিউ’-এর স্বত্বাধিকারী রায়হান উদ্দিন বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেটি পোষানো সম্ভব নয়। তবে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর আবার পর্যটন খাত চাঙা হয়ে উঠেছে। আসছে শীত মৌসুমে আশা করি ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে।’

কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির নেতা এস এম কিবরিয়া বলেন, কক্সবাজারে এখন সব হোটেলে পর্যটকরা উঠছেন। অনেকেই অগ্রিম বুকিং মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বলা যায়, করোনার ধাক্কা সামলে কক্সবাজার মোটামুটি চাঙা হয়ে উঠেছে।

সিলেট

চট্টগ্রামের মতো সিলেটেও সারা বছর পর্যটক সমাগম থাকে। তবে এখানে পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি আসেন বর্ষায়।

এখানকার হাওর, ঝরনা, পাথুরে নদী আর জলার বন বর্ষাকালেই দেখা দেয় সবচেয়ে মনমুগ্ধকর রূপে। বর্ষায় সিলেট অঞ্চলের চা-বাগানগুলো হয়ে ওঠে আরও সজীব। তবে এবার বর্ষার প্রায় পুরোটা কেটেছে ঘরবন্দি হয়ে করোনার বিধিনিষেধে।

বর্ষা শেষ হলেও সিলেটে এখনও অব্যাহত আছে বৃষ্টি। ফলে এখনও জলে টইটুম্বুর হাওর আর নদী, পাহাড়ের গায়ের ঝরনাগুলোও এখনও দৃশ্যমান। পাথুরে নদীতেও সাঁতার কাটা যায় অনায়াসে। ফলে পর্যটকরাও এই সময়ে ভিড় করছেন সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে।

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

এখন পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি ভিড় করছেন সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে। এ ছাড়া সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর ও নগরের চা-বাগানগুলোতে প্রতিদিনই পর্যটকদের সমাগম হচ্ছে।

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান, বড়লেখার মাধবকুণ্ড, কমলগঞ্জের হামহাম জলপ্রপাত, হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানেও বিধিনিষেধ ওঠার পর থেকে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষত শ্রীমঙ্গলে পর্যটক সমাগম হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ছুটির দিনগুলো ছাড়াও অন্যান্য দিনেও এই উপজেলার হোটেল-রিসোর্টে কক্ষ খালি মিলছে না।

নগরের আম্বরখানা এলাকার ব্রিটানিয়া হোটেল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের কর্মকর্তা কাওসার চৌধুরী বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ প্রায় তিন মাস হোটেল বন্ধ রাখা হয়েছিল। বড় অঙ্কের ক্ষতি গুনতে হয়েছে। এখন পুরোদমে চালু রয়েছে। অতিথিরাও আসছেন। এখন ছুটির দিনগুলোতে হোটেলে কক্ষ খালি থাকে না।’

গত শুক্রবার সকালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ও বিকেলে রাতারগুল গিয়ে দেখা যায়, দুই জায়গায়ই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পাহাড় থেকে নেমে আসা বিছনাকান্দির পাথুরে নদীতে গা ভেজাচ্ছে নানা বয়সী মানুষ। আবার রাতারগুলে গিয়ে দেখা যায়, নৌকায় চড়ে এই জলার বন ঘুরে দেখছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা।

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বিছনাকান্দিতে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অমিত রায়হান বলেন, ‘অনেক দিন ধরে ঘরে আটকে থেকে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। এখন পর্যটনকেন্দ্র খোলায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেয়েছি। তাই সুযোগ পেয়েই ছুটে এসেছি।’

সিলেটের রাতারগুলের নৌকাচালক সামছু মিয়া। সাহের বাজার থেকে নৌকায় করে পর্যটকদের রাতারগুল জলার বন ঘুরিয়ে আনেন তিনি।

সামছু মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন পর আবার পর্যটকরা এখানে আসা শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন বেকার থাকার পর আবার কাজ শুরু করেছি।’

ছুটির দিনগুলোতে রাতারগুলে দেড় থেকে দুই হাজার পর্যটক সমাগম হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ রকম দিনে আমি প্রতিদিন ৩-৪ হাজার টাকা রোজগার করতে পারি। তবে টাকার বেশির ভাগ অংশই ঘাটের ইজারাদারকে দিয়ে দিতে হয়।’

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের শাহজালাল (রহ.) মাজার ও লাক্কাতুরা চা-বাগানেও পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। এসব এলাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় পর্যটকদের।

লাক্কাতুরায় বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের টাকার বিনিময়ে ছবি তুলে দেন সুয়েব আহমদ। তিনি বলেন, গত চার মাস এখানে কেউ আসেনি। ফলে কোনো আয়ও হয়নি। এখন মাসখানেক ধরে মানুষজন আসছে।

তার আক্ষেপ, সবার হাতে স্মার্টফোন থাকায় এখন লোকজন আগের মতো ছবি তোলাতে চায় না।

পর্যটক সমাগম বাড়ায় প্রায় দেড় বছর পর ব্যবসা চাঙা হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হিমাচল রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী সাজু আহমদ।

তিনি বলেন, ‘যে ক্ষতি হয়েছে তা সহজে পুষিয়ে নেয়ার নয়। তবে এখন প্রচুর লোকজন ঘুরতে আসছেন। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পারলেও পর্যটকদের কারণে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছি।’

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

তবে পর্যটক সমাগম বাড়ার পেছনে ভিন্ন এক যুক্তি দিয়েছেন সিলেট চেম্বার অফ কমার্সের সহসভাপতি ও হোটেল নির্ভানা ইন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিন আহমদ। তিনি বলেন, ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় এখন দেশের ভেতরেই ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে অনেককে।

তার দাবি, আগে পর্যটকরা সিলেটে এসে থাকতেন না। সিলেট হয়ে ভারতের মেঘালয়ে চলে যেতেন। এখন ভারতে পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় তারা যেতে পারছেন না। ফলে দেশের ভেতরেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা।

দুই সপ্তাহ ধরে জাফলংয়ে পর্যটক সমাগম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং সাব-জোনের পরিদর্শক মো. রতন শেখ। তিনি বলেন, ‘জাফলংয়ে এখন প্রচুর পর্যটকরা আসছেন। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আমরা সহযোগিতা করছি।’

সিলেট বিভাগে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই পর্যটকনির্ভর। করোনার সময়ে একেবারে অতিথিশূন্য হয়ে পড়েছিল এসব হোটেল-রিসোর্ট। তবে এখন আবার অতিথিরা আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেটের সভাপতি সুমাত নুরী জুয়েল।

তবে ব্যবসা এখনও আগের অবস্থানে ফেরেনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের আয় কমে গেছে। ফলে এখন যারা বেড়াতে আসছেন, তারা কম খরচে থাকতে চাচ্ছেন। এতে করে একটু ভালো মানের হোটেলগুলোতে অতিথি কম আসছেন। তাদের বিভিন্ন ছাড় দিয়ে অতিথি আকর্ষণ করতে হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
পর্যটন মহাপরিকল্পনা হবে কবে?
বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল
সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং
করতোয়া তীরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
পর্যটনের হোটেল বুকিং অনলাইনে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: সেই মাদ্রাসাশিক্ষক জামিনে মুক্ত

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: সেই মাদ্রাসাশিক্ষক জামিনে মুক্ত

জামিনে মুক্ত হওয়া মাদ্রাসাশিক্ষক মঞ্জুরুল কবির। ছবি: নিউজবাংলা

মাদ্রাসাশিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরের আইনজীবী কামাল উদ্দিন জানান, মামলার বাদীর আপত্তি না থাকায় আদালত মঞ্জুরুলের জামিন আবেদন গ্রহণ করে। বিকেলে কারামুক্ত হন তিনি।

লক্ষ্মীপুরে আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার সেই শিক্ষক জামিন পেয়েছেন।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম সোমবার দুপুরে জামিন আবেদন গ্রহণ করেন। বিকেলে কারামুক্ত হন তিনি।

মাদ্রাসাশিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরের আইনজীবী কামাল উদ্দিন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার বাদীর আপত্তি না থাকায় আদালত মঞ্জুরুলের জামিন আবেদন গ্রহণ করেছে। বিকেলে তিনি জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর মঞ্জুরুলকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে উপস্থিত করে জামিন আবেদন করা হয়। বিচারক তারেক আজিজ আবেদন গ্রহণ না করে কারাগারে পাঠান।

মঞ্জুরুল কাজিরদিঘীরপাড় আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও বামনী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির।

এর আগে নাশকতার একাধিক মামলায় জেল খেটেছেন এই শিক্ষক। এসব কারণে আগেও তাকে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার এএইচএম কামরুজ্জামান।

গত ৬ অক্টোবর ক্লাস চলার সময় মাদ্রাসার দশম শ্রেণির সাত শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন মঞ্জুরুল। ৯ তারিখ চুল কাটার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

ওইদিন রাতে এক শিক্ষার্থীর মা মঞ্জুরুলকে আসামি করে রায়পুর থানায় মামলা করেন। এর আগেই তাকে আটক করে পুলিশ। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠান।

আরও পড়ুন:
পর্যটন মহাপরিকল্পনা হবে কবে?
বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল
সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং
করতোয়া তীরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
পর্যটনের হোটেল বুকিং অনলাইনে

শেয়ার করুন

পুলিশে চাকরির আশ্বাসে টাকা লেনদেন, আটক ১

পুলিশে চাকরির আশ্বাসে টাকা লেনদেন, আটক ১

ঘুষ বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে আটক মোহাম্মদ হাসান। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কে এম শামসুদ্দিন বলেন, ‘সোমবার বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগের বাছাই প্রক্রিয়া চলছিল। তা ঘিরে ১ নম্বর গেটের কাছে ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হচ্ছিল। গোয়েন্দা পুলিশ এ সময় টাকাসহ হাতেনাতে আটক করে হাসান নামের এক ব্যক্তিকে। আর যিনি টাকা দিয়েছিলেন ভিড়ের মধ্যে তিনি পালিয়ে যান।’

নওগাঁয় কনস্টেবল পদে নিয়োগের আশ্বাসে টাকা লেনদেনের সময় প্রতারকচক্রের এক সদস্য আটক হয়েছেন। জব্দ হয়েছে লেনদেনের ৫০ হাজার টাকা।

পুলিশ লাইন্সের সামনে সোমবার বেলা ৩টার দিকে তাকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সদস্যরা।

আটক ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ হাসান। ৪৮ বছরের হাসানের বাড়ি পত্নীতলা উপজেলার গগণপুর পূর্ব পাড়ায়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কে এম শামসুদ্দিন এসব নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগের বাছাই প্রক্রিয়া চলছিল। তা ঘিরে ১ নম্বর গেটের কাছে ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হচ্ছিল। গোয়েন্দা পুলিশ এ সময় টাকাসহ হাতেনাতে আটক করে হাসান নামের এক ব্যক্তিকে। আর যিনি টাকা দিয়েছিলেন ভিড়ের মধ্যে তিনি পালিয়ে যান।’

কে এম শামসুদ্দিন আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাসে অভিযোগ স্বীকার করেছেন হাসান। এই চক্রে জড়িত আরও কয়েকজনের তথ্যও পাওয়া গেছে তার কাছ থেকে। সেগুলো তদন্ত হচ্ছে।’

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘ডিবি পুলিশের হাতে আটক হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
পর্যটন মহাপরিকল্পনা হবে কবে?
বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল
সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং
করতোয়া তীরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
পর্যটনের হোটেল বুকিং অনলাইনে

শেয়ার করুন

ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪

ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪

নরসিংদীতে ডিবি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে ছিনতাই করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার বাদী এরশাদ আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘ডিবি পরিচয়ে আমাকে বাস থেকে নামিয়ে আমার আইফোন ও নগদ টাকা ছিনতাই করে। এ ঘটনার পর আমি ২০ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা করি।’

নরসিংদীতে ডিবি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে ছিনতাই করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে এ তথ্য জানানো হয়। তার আগে রোববার রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে নরসিংদী সদরের শীলমান্দি এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তি সদর মডেল থানায় মামলা করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, নরসিংদীর চিনিশপুর এলাকার মো. রানা, ভেলানগর এলাকার কামরুল ইসলাম, বানিয়াছল এলাকার রাতুল মিয়া ও ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার চিনিশপুরের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন।

মামলার বাদী এরশাদ আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘ডিবি পরিচয়ে আমাকে বাস থেকে নামিয়ে আমার আইফোন ও নগদ টাকা ছিনতাই করে। এ ঘটনার পর আমি ২০ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা করি।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকার এরশাদ আলী কক্সবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে মিনিবাসে করে রওনা দেন। বাসটি সদর উপজেলার দক্ষিণ শিলমান্দি এলাকায় পৌঁছালে গ্রেপ্তার চার ব্যক্তি ডিবি পরিচয়ে মিনিবাস থেকে এরশাদ আলীকে নামায়।

এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সব ছিনিয়ে নেয়। গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটির তদন্তভার পেয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়।

পরে অভিযান চালিয়ে ভেলানগর এলাকা থেকে অভিযুক্ত মো. রানা, মাধবদী থানাধীন শান্তির বাজার হতে কামরুল ইসলাম, সদরের কান্দাপাড়া এলাকা থেকে রাতুল মিয়া ও শিবপুরের কারারচর এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইনামুল হক সাগর জানান, ছিনতাই হওয়া ফোন, নগদ টাকা ও এটিএম কার্ড থেকে তোলা টাকা জব্দ করা হয়েছে। আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর সোমবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পর্যটন মহাপরিকল্পনা হবে কবে?
বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল
সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং
করতোয়া তীরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
পর্যটনের হোটেল বুকিং অনলাইনে

শেয়ার করুন

ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, ২ কারখানা মালিকের জরিমানা

ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, ২ কারখানা মালিকের জরিমানা

রংপুরে ভেজাল ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রম্যমাণ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

রংপুর নগরীর ‘দি মৌভাষা ইসলামিয়া ঔষধ ফ্যাক্টরি’ এবং কাউনিয়া উপজেলার ‘বি সান্ত ল্যাবরেটরিজ’ ইউনানী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালায় পুলিশ। মালিকদের জরিমানা করে দুই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রংপুর মহানগরী ও কাউনিয়ার হারাগাছ এলাকায় দুটি ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল ওষুধ জব্দ করেছে পুলিশ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মালিকদের জরিমানা করে ওই দুই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।

সোমবার দুপুরে নগরীর ‘দি মৌভাষা ইসলামিয়া ঔষধ ফ্যাক্টরি’ এবং কাউনিয়া উপজেলার ‘বি সান্ত ল্যাবরেটরিজ’ ইউনানী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়।

রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড মিডিয়া) সাজ্জাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের বাহার কাছনা এলাকায় ‘বি সান্ত ল্যাবরেটরিজ' ইউনানী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়। ফ্যাক্টরিতে কেমিস্ট না থাকা, অনুমোদন ছাড়া ওষুধ তৈরিসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ফ্যাক্টরির মালিক রাশেদুল আনাম প্রামানিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

ত্রুটি সংশোধন না করা পর্যন্ত ফ্যাক্টরির সব কার্যক্রম ও উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অন্যদিকে, নগরীর নিউ শালবন এলাকায় ‘দি মৌভাষা ইসলামিয়া ঔষধ ফ্যাক্টরি’তে অভিযান চালানো হয়।

সেখানেও অনুমোদন ছাড়া ওষুধ উৎপাদন, কেমিস্ট না থাকা, ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালের গায়ে মেয়াদ ও ব্যবহার বিধি না থাকা এবং বোতলের গায়ে লাগানো লেভেল ও টোকেন সঠিক না থাকাসহ নানাবিধ অনিয়ম পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ফ্যাক্টরির মালিক এমদাদুল ইসলামকে সাত হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।

সব অনিয়ম দূর না করা পর্যন্ত কারখানার কার্যক্রম ও উৎপাদন বন্ধ রাখার আদেশ দেয়া হয়েছে।

দুই ওষুধ কারখানা থেকে ১৫ লাখ টাকার ভেজাল ওষুধ জব্দ করেছে পুলিশ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাশপিয়া তাসরিন।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর রংপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।

রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড মিডিয়া) সাজ্জাদ হোসেন জানান, রংপুর মহানগরীতে সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নকল ও অননুমোদিত ওষুধ নির্মূলে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন:
পর্যটন মহাপরিকল্পনা হবে কবে?
বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল
সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং
করতোয়া তীরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
পর্যটনের হোটেল বুকিং অনলাইনে

শেয়ার করুন

শেষ মুহূর্তে ৫ জেলের জরিমানা

শেষ মুহূর্তে ৫ জেলের জরিমানা

নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে ইলিশ ধরায় বরগুনা সদরে পাঁচ জেলেকে জরিমানা ও ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

বরগুনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা না মেনে বিষখালী নদীতে ইলিশ ধরায় পাঁচ জেলেকে ১৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জব্দ করা আনুমানিক আট লাখ টাকা মূল্যের কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।’

নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে ইলিশ ধরায় বরগুনা সদরে পাঁচ জেলেকে জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন।

এ সময় জব্দ করা ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল পোড়ানো হয়।

সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ফুলঝুরি বাজারের কাছে বিষখালী নদীতে সোমবার বিকেলে বরগুনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা না মেনে বিষখালী নদীতে ইলিশ ধরায় পাঁচ জেলেকে ১৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জব্দ করা আনুমানিক আট লাখ টাকা মূল্যের কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।’

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দেয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে সোমবার রাতে। চলতি মাসের ৪ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ শিকার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ সময় সারা দেশে ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুত ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
পর্যটন মহাপরিকল্পনা হবে কবে?
বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল
সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং
করতোয়া তীরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
পর্যটনের হোটেল বুকিং অনলাইনে

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম না থাকলেও তিন বছরে ১৭২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবাই নিয়োগ পেয়েছেন এডহক ভিত্তিতে। অভিযোগ আছে, সরকারের নির্দেশনার পরোয়া না করে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বেশির ভাগ নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

দেশের চতুর্থ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০১৮ সালে কার্যক্রম শুরু হয় সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের। প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ক্যাম্পাসের জন্য দক্ষিণ সুরমায় ১০০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। ফলে শুরু হয়নি শিক্ষা কার্যক্রমও।

তেমন কোনো কার্যক্রম না থাকলেও তিন বছরে ১৭২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ফেলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবাই নিয়োগ পেয়েছেন এডহক ভিত্তিতে। অভিযোগ আছে, সরকারের নির্দেশনার পরোয়া না করে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বেশির ভাগ নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকের যোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় শ্রেণির এক কর্মকর্তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এডহক ভিত্তিতে এ ধরনের নিয়োগকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মকর্তারা।

ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এডহক ভিত্তিতে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে তিন দফা চিঠিও দেয়া হয়েছে। ফলে এডহক নিয়োগের এখতিয়ার কারও নেই। কেউ যদি দিয়ে থাকেন সেটা সম্পূর্ণ অবৈধ।’

অবশ্য ২০১৮ সালে পাস হওয়া সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনে রয়েছে, ‘উপাচার্য সিন্ডিকেটের পুর্বানুমোদনক্রমে কোনো শূন্য পদে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে অনধিক (৬ মাসের) জন্য কিছু পদে নিয়োগ করিতে পারিবেন। এবং প্রয়োজনে উক্তরূপ নিয়োগের মেয়াদ ৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করিতে পারবেন। ...শর্ত থাকে যে, বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে নিয়োগ নিয়মিত করা না হলে উক্ত মেয়াদ শেষে নিয়োগ বাতিল করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।’

এ আইনে সিন্ডিকেটের পুর্বানুমোদনক্রমে ও সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে নিয়োগের কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০


তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কোনো পুর্বানুমোদন নেয়া হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেট বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে সোমবার দুপুর ২টায়। এ ছাড়া গত তিন বছর ধরে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কাউকেই স্থায়ী করা হয়নি।

এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের কথা স্বীকার করে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এডহক ভিত্তিতে শ’খানেক লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বেশির ভাগই কর্মচারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন। যথাযথ নিয়ম মেনেই তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরীকে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। এর আগে তিনি ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ।

ডা. মোর্শেদ অধ্যক্ষ থাকার সময়ে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন আব্দুস সবুর। দ্বিতীয় শ্রেণির এই কর্মকর্তাকে প্রথম শ্রেণির ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অর্থ) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া একজনের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ১.৬০, যা তৃতীয় শ্রেণির সমমর্যাদার। নিয়োগবিধি অনুসারে, কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্ত কাউকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়া যায় না।

কেবল এই দুজনই নয়, সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অনেকের নিয়োগের ক্ষেত্রেই গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতা শিথিল করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অনেককে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের যোগ্যতার উল্লেখের নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে নিয়োগের পাশাপাশি উপাচার্যের কয়েক স্বজনকেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

স্বজনদের নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুজন স্বজন নিয়োগ পেয়েছেন। তবে তারা যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ পেয়েছেন। বাকিদেরও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।’

শিক্ষার্থী নেই, জনবল অফুরন্ত

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ১০ হাজার। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা আছেন ২৬৪ জন। অন্যদিকে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আছেন ১৪৯ জন।

অথচ সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী না থাকলেও ইতোমধ্যে সেখানে শ’খানেক কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালক পদে এক জন, উপ পরিচালক পদে এক জন, সহকারি পরিচালক পদে ছয় জন, সেকশন অফিসার পদে ৯ জন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেয়েছেন ৫২ জন। এছাড়া কর্মচারী পদেও শ’খানেক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এত জনবল থাকা সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজই এখনও শুরু হয়নি। ভবন নির্মাণের জন্য ডিপিপি পাঠানো করা হলেও তা এখনও অনুমোদন পায়নি। ভবন নির্মাণ ও শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর চেয়ে জনবল নিয়োগেই গত তিন বছর ধরে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে নগরীর চৌহাট্টায় উপাচার্যের কার্যালয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই ছোট্ট কার্যালয়ে এতো বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বসার জায়গাও নেই। প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্রার পদটি শূন্য রয়েছে।

তবে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. নঈমুল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষাকার্যক্রম শুরু না হলেও আমাদের আওতাধীন মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কেই দেখভাল করতে হয়। এজন্য অনেক লোকবলের প্রয়োজন হয়।

‘আট জন ডিনের প্রত্যেকের জন্য পাঁচ জন স্টাফ প্রয়োজন। এসব জরুরি প্রয়োজন মেটাতেই যথাযথ নিয়ম মেনে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

এডহক ভিত্তিতে নিয়োগে সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য। নতুনদের জন্য নয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে উপাচার্য জরুরি প্রয়োজনে নিয়োগ দিতে পারেন।’

রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় আমাদের এখানে অনেক রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তদবির রয়েছে। এগুলো এড়ানো যায় না। তবে এই তদবিরের মধ্যে যাদের যোগ্যতা রয়েছে এবং আমাদের চাহিদা পুরণ করতে পেরেছেন তাদেরকেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

এ পর্যন্ত কতজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৩৫/১৩৬ জনের মতো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কিছুসংখ্যককে গত জানুয়ারিতে স্থায়ী করা হয়। বাকিদের চাকরিও স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া চলছে।’

সিন্ডিকেটের পুর্বানুমোদন ছাড়া কীভাবে চাকরি স্থায়ী করা হলো, এমন প্রশ্ন করতেই তিনি ‘উপাচার্য মহোদয় আমাকে কল দিয়েছেন’ বলে ফোন রেখে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সদস্য সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান।

সিন্ডিকেটের বৈঠকের আগে এত জনবল নিয়োগ পাওয়ার প্রসঙ্গে রোববার তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সোমবার সিন্ডিকেটের বৈঠক আছে। ব্যস্ততার কারণে বৈঠকের আলোচ্যসূচিও এখন পর্যন্ত আমি দেখতে পারিনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিলে ফান্ড বন্ধ

‘স্ট্র্যাটিজিক প্ল্যান ফর হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: ২০১৮-৩০’ বাস্তবায়ন মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে ইউজিসি পর্যায়ে গঠিত কমিটির এক বৈঠক হয় গত জুনে। সেই বৈঠকে পাবলিক বিশ্বদ্যালয়গুলোতে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউজিসির কর্মকর্তারা। এডহক ও মাস্টার রোলে নিয়োগ দেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড বন্ধের বিষয়েও আলোচনা হয় সেখানে।

ওই বৈঠকে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এডহক ও মাস্টার রোলে নিয়োগ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যদি কেউ ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে তবে তার ফান্ড বন্ধ করে দেয়া হবে।’

সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এডহক ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক লোক এডহক ভিত্তিকে নিয়োগ হয় কী করে!’

তিনি বলেন, ‘এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে সবখানেই প্রশ্ন আছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এত লোকবল এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারে না। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন:
পর্যটন মহাপরিকল্পনা হবে কবে?
বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল
সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং
করতোয়া তীরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
পর্যটনের হোটেল বুকিং অনলাইনে

শেয়ার করুন

৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর কারাগারে

৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর কারাগারে

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি ক্রয়সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় আইমুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়ায় আত্মগোপন করেন। পরে পাবনার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। সেখানে থাকাকালে চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়েও করেন তিনি। 

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি ক্রয়সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার নয়াগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে ৮ বছর ধরে পলাতক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।

কারাগারে পাঠানো আইমুদ্দিন উপজেলার রুপসীপাড়া (ভেকসি) গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বরাত দিয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে আইমুদ্দিন তার প্রতিবেশী মোজাহার আলীর কাছে ৪২ শতক জমি বিক্রির জন্য চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী মোজাহার ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আইমুদ্দিনকে দেন। তবে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে মোজাহার দেখতে পান দলিলে ৪২ শতকের পরিবর্তে ৩৬ শতক লেখা।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে আইমুদ্দিন তার জমি ছেলে-মেয়ের নামে লিখে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। ওই বছর ১৮ মার্চ তার ছেলে আব্দুল আজিজ আদালতে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করেন।

ওসি আরও জানান, পুলিশের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন মোজাহার। জামিন পেয়ে নিখোঁজ আইমুদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি ক্রয়সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। বিচারক নিখোঁজ আইমুদ্দিনকে ২ বছরের সাজাও দেন।

আইমুদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন জানিয়ে ওসি আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়ায় আত্মগোপন করেন। পরে পাবনার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করেন।

সেখানে থাকাকালে চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়েও করেন তিনি।

সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করে দুপুরে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পর্যটন মহাপরিকল্পনা হবে কবে?
বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল
সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং
করতোয়া তীরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
পর্যটনের হোটেল বুকিং অনলাইনে

শেয়ার করুন