রোহিঙ্গা ফেরাতে রেডক্রসকে সক্রিয় হতে বলল বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ফেরাতে রেডক্রসকে সক্রিয় হতে বলল বাংলাদেশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও রেডক্রসের সভাপতি পিটার মাউরা। ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য কাজ করতে হবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে আইসিআরসিকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে, যেন সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রসকে (আইসিআরসি) আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন রোববার নিউ ইয়র্কে রেডক্রসের সভাপতি পিটার মাউরার সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নিউ ইয়র্কের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য সঠিক উপায় বের করতে হবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে আইসিআরসিকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। যেন সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

‘রোহিঙ্গারা যেন মর্যাদার সঙ্গে স্বদেশে ফিরে যেতে পারে, আইসিআরসিকে সে জন্য একটি টেকসই উপায়ে কাজ করতে হবে।’

আইসিআরসির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা স্বীকার মিয়ানমারের দুই সেনার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

উত্থানে ফিরল পুঁজিবাজার, নেতৃত্বে বেক্সিমকো গ্রুপ

উত্থানে ফিরল পুঁজিবাজার, নেতৃত্বে বেক্সিমকো গ্রুপ

টানা সাত কর্মদিবস পতনের পর উত্থানে অস্বস্তি কিছুটা হলেও কাটলেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি পুঁজিবাজারে। ফাইল ছবি

উঠানামা করতে করতে বেলা ১টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত সূচক ৭ হাজার পয়েন্টের নিচেই থাকে। শেষ এক ঘণ্টা ৬ মিনিটে টানা বাড়ে বাজার। এই উত্থানে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো গ্রুপ। বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদর এক দিনে যত বাড়া সম্ভব, ততটাই বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ২০.২৭ পয়েন্ট। একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার দর বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৫.৬৯ পয়েন্ট।

টানা সাত কর্মদিবস পতনের পর অবশেষে উত্থান হলো পুঁজিবাজারে। তবে যত সংখ্যক শেয়ারের দর বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি শেয়ারের দরপতনের কারণে অস্বস্তি রয়ে গেছে।

এই উত্থানের পুরোটাই অবশ্য হয়েছে লেনদেনের শেষ এক ঘণ্টায়। তার আগ পর্যন্ত উঠানামা করতে করতে এক পর্যায়ে সূচক ৭ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যাওয়ার পর আতঙ্ক আরও চেপে বসেছিল।

শেষ বেলায় বেক্সিমকো গ্রুপের উত্থানের পাশাপাশি দর হারিয়ে ফেলা ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো ও আরও বেশ কিছু কোম্পানি কিছুটা দাম ফিরে পাওয়াও গত ১০ অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো সূচব বাড়ল পুঁজিবাজারে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধন এক মাস পর টানা পতনে পরিণত হয় গত ১০ অক্টোবর। দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো টানা সাত কর্মদিবস বাজার পড়ে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

সেদিন সন্ধ্যায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কার্যালয়ে পুঁজিবাজারের নানা অংশীজনের মধ্যে বৈঠক বসে। বাজারে তারল্য বাড়ানোসহ নানা বিষয়ে কথা হয়। পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় গঠিত তহবিল আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর বিষয়ে জানান বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

এই পতনের পেছনে একটি গুজব কাজ করেছিল। ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল যে, বিএসইসি চেয়ারম্যান পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। তবে এর কোনো ভিত্তি নেই বলে জানান শাসমুদ্দিন।

সেদিন বিএসইসি কার্যালয়ে বৈঠকের পরদিন ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটিতে বুধবার বন্ধ ছিল পুঁজিবাজারের লেনদেন।

সপ্তাহের শেষ দিন বাজার উত্থানে ফিরবে-এমন আশাবাদের মধ্যে লেনদেনের শুরুতে ১০ মিনিটেই সূচক বেড়ে যায় ৭৪ পয়েন্ট। তবে তাতে অস্বস্তি কাটেনি।

এর কারণ, বাজার সংশোধনের সোয়া এক মাসে প্রায় প্রতিদিনই সূচক বেড়ে গিয়ে পড়ে কমেছে। আর সেই বিষয়টি আবার ঘটতে থাকে। বেলা ১০টা ৩৭ মিনিটে সূচক আগের দিনের চেয়ে আরও ৩৬ পয়েন্ট পড়ে যায়। গত ২ সেপ্টেম্বরের পর প্রথম তা সাত হাজারের নিচে নামে।

এরপর উঠানামা করতে করতে বেলা ১টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত সূচক ৭ হাজার পয়েন্টের নিচেই থাকে। শেষ এক ঘণ্টা ৬ মিনিটে টানা বাড়ে বাজার।

এই উত্থানে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো গ্রুপ। বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদর এক দিনে যত বাড়া সম্ভব, ততটাই বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ২০.২৭ পয়েন্ট। একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার দর বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৫.৬৯ পয়েন্ট।

দাম বেড়েছে একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি শাইনপুকুর সিরামিকের। তবে এর পরিশোধিত মূলধন বেশি নয় বলে সূচকে এর প্রভাব খুব একটা বেশি নয়। গ্রুপের আরেক কোম্পানি আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ারদর অবশ্য ১০ পয়সা কমেছে।

আরও আসছে…

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা স্বীকার মিয়ানমারের দুই সেনার

শেয়ার করুন

বিভাগ পাচ্ছে কুমিল্লা, নাম মেঘনা

বিভাগ পাচ্ছে কুমিল্লা, নাম মেঘনা

প্রধানমন্ত্রীর কাছে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবি রাখেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি কুমিল্লা নামে দেব না। কারণ, তোমার ওই কুমিল্লা নামের সঙ্গে মুশতাকের নাম জড়িত। সেজন্য আমি দেব না। ওই কুমিল্লা নাম নিলেই তো মুশতাকের কথা মনে উঠে।’

বৃহত্তর ফরিদপুর ও বৃহত্তর কুমিল্লাকে নিয়ে দেশে আরও দুটি বিভাগ করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিভাগ দুটি কোনো জেলার নামে হবে না; হবে দেশের প্রধান দুটি নদী পদ্মা-মেঘনার নামে।

এর যুক্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধের ‘তোমার আমার ঠিকানা/পদ্মা, মেঘনা যমুনা’ স্লোগানের আদলে নদীর নামে হবে এই বিভাগ দুটির নাম। সেক্ষেত্রে ফরিদপুর বিভাগের নাম হবে ‘পদ্মা’ আর ‘মেঘনা’ হবে কুমিল্লা বিভাগের নাম।”

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সরকার প্রধান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণার দাবি রাখেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তার দাবির সঙ্গে সহমত জানান অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলার সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরাও।

তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভাগের ব্যাপারে আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি দুটি বিভাগ বানাব দুটি নদীর নামে। একটা পদ্মা, একটা মেঘনা। এই দুই নামে দুইটা বিভাগ করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রীর কথা শেষ না হতেই বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, ‘আপা, কুমিল্লা নামে করেন।’

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই কু নাম দেব না আমি। কুমিল্লা দেব না আমি।’

সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে আবারও অনুরোধ জানাতে থাকেন বাহার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কুমিল্লা নামে দেব না। কারণ তোমার ওই কুমিল্লা নামের সঙ্গে মুশতাকের নাম জড়িত। সেজন্য আমি দেব না। ওই কুমিল্লা নাম নিলেই তো মুশতাকের কথা মনে উঠে।’

এবার বাহার বলেন, ‘কোনো কুলাঙ্গারের নামে দেশের পরিচয় হয় না আপা। বাংলাদেশের পরিচয় বঙ্গবন্ধুর ওপর, মুনায়েম খানের ওপর না। বঙ্গবন্ধুকেই চেনে সারা বিশ্ব। বাংলাদেশ চিনত না। বলত, শেখ মুজিবের দেশ।’

এ অবস্থায় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা বাহারকে থামিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সরকার প্রধান বলেন, ‘তাহলে তুমি বলো, কুমিল্লা নাম হবে কেন? চাঁদপুর বলে আমার নাম হবে, নোয়াখালী বলবে আমাদের নাম…নোয়াখালী সব থেকে পুরনো একটা… কুমিল্লা তো ত্রিপুরার একটা ভগ্নাংশ।’

তারপরও বিরোধিতা করতেই থাকেন বাহাউদ্দিন বাহার।

এবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ফরিদপুর বিভাগ করব পদ্মা নামে।’

বাহার বলেন, ‘ফরিদপুর বিভাগ কী হবে জানি না, কিন্তু আমাদেরটা আমাদের নামে দেন।’

তবে কুমিল্লা আওয়ামী লীগ নেতারা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আমি ফরিদপুর বিভাগ করব পদ্মা নামে। ফরিদপুর নামও দিচ্ছি না। কুমিল্লা বিভাগ হবে মেঘনা নামে। কারণ, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা/ তোমার আমার ঠিকানা’ এই স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ করেছে, বিজয় অর্জন করেছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ (কুমিল্লা) নামে অন্য জেলাগুলো আসতে চায় না।’

বাহারের বাড়াবাড়ির কারণে একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আচ্ছা তুমি সবার কাছ থেকে লিখিত নিয়ে আস। তোমাকে দায়িত্ব দিলাম, সবার কাছ থেকে মানিয়ে নিয়ে আস, যাও।’

বাহার বলেন, ‘আপা, আপনি দিলেই মানবে। আপনি মুখ দিয়ে বললেই হয়ে যাবে, আপা।’

আরও কিছুক্ষণ ধরে কুমিল্লা নামেই বিভাগ করতে অনুনয় চালিয়ে যান সংসদ সদস্য বাহার।

শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি বিভাগ চাও, আমি মেঘনা নামেই করে দিতে পারি।’

বক্তব্য শেষ করার আগ মুহূর্তেও ‘মেঘনা’ নামে কুমিল্লা বিভাগের নামকরণের প্রস্তাবটা সবাইকে গ্রহণ করার আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী পদ্মা ও মেঘনা নামে দুটি বিভাগ ঘোষণা হলে দেশে মোট বিভাগ হবে ১০টি। দেশের সবশেষ বিভাগ হয় ময়মনসিংহ, ২০১৫ সালে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা স্বীকার মিয়ানমারের দুই সেনার

শেয়ার করুন

বাউলদের ধাওয়ায় নদীতে ঝাপ, যুবকের মরদেহ উদ্ধার

বাউলদের ধাওয়ায় নদীতে ঝাপ, যুবকের মরদেহ উদ্ধার

কুষ্টিয়ার কালীগঙ্গা নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, ১৯ অক্টোবর রাতে কালীগঙ্গা নদী সংলগ্ন মাঠে বাউল-সধকদের আসর চলাকালে সেখানে চাঁদা নিতে যান তারিফ। এ সময় তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বাউল-সাধুরা তাকে ধাওয়া করে। তখন গায়ের গেঞ্জি খুলে নদীতে ঝাপ দেন তারিফ।

কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় লালনের আখড়াবাড়ি সংলগ্ন কালীগঙ্গা নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ৩৪ বছর বয়সী তারিফের বাড়ি শহরের মিলপাড়া এলাকায়।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, লালনের তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে আখড়াবাড়িতে ভিড় জমান বাউল-সাধুরা। ১৯ অক্টোবর রাতে কালীগঙ্গা নদী সংলগ্ন মাঠে বাউল-সধকদের আসর চলাকালে সেখানে চাঁদা নিতে যান তারিফ।

এ সময় তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বাউল-সাধুরা তাকে ধাওয়া করে। তখন গায়ের গেঞ্জি খুলে নদীতে ঝাপ দেন তারিফ। পরে বাউলরা তারিফের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের গেঞ্জি দেখিয়ে ঘটনা জানিয়ে আসেন।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে নদীতে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হবে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা স্বীকার মিয়ানমারের দুই সেনার

শেয়ার করুন

সশরীরে ক্লাস শুরু রাবিতেও

সশরীরে ক্লাস শুরু রাবিতেও

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘করোনার পরে আমরা সবাই যে আবার এক হতে পারব এটা ভাবিনি। আমাদের রবীন্দ্র ভবন আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আবার উল্লাস ফিরেছে ১২৩ নম্বর ক্লাসে।’

ক্লাসে ক্লাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষকরাও প্রস্তুত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিক থেকে ক্লাসে আসতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর হলসমূহ খুলে দেয়া হয়।

ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও অনুষদগুলো। এদিকে দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফেরার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

কথা হয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সারওয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যতটুকু সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা ক্লাসে অংশ নিয়েছি। প্রায় দুবছর পর ক্লাসে এসেছি আজ। ক্লাসের সকল বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। বেশ ভালোই লাগছে দিনটি।’

সশরীরে ক্লাস শুরু রাবিতেও

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সুমন হাসান বলেন, ‘করোনাপরবর্তী ক্লাস আমাদের জন্য একটা ঐতিহাসিক মাইলফলক। অনেক দিন পর আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হলো। মনে হচ্ছে আগের দিনগুলোতে ফিরে এসেছি।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘করোনার পরে আমরা সবাই যে আবার এক হতে পারব এটা ভাবিনি। আমাদের রবীন্দ্র ভবন আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আবার উল্লাস ফিরেছে ১২৩ নম্বর ক্লাসে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্লাস উপলক্ষে সকল বিভাগের কক্ষগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। এই অনুষদের প্রায় সব বিভাগে আজ সশরীরে ক্লাস চলছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও অনেক।’

বিশ্বিবদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক আজিজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে সকাল ১০টায় প্রায় সব বিভাগে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে কিছু বিভাগে পরীক্ষার তারিখ থাকায় তাদের পরীক্ষা চলছে। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলেও জানান তিনি

করোনায় গত বছরের ১৭ মার্চ বন্ধ হয়ে যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। করোনার সংক্রমণ কমে আসলে এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় ২১ অক্টোবর সশরীরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা স্বীকার মিয়ানমারের দুই সেনার

শেয়ার করুন

খালে মিলল নারীর মরদেহ

খালে মিলল নারীর মরদেহ

স্থানীয় বাসিন্দা কলিম উল্লাহ মিসবাহ বলেন, ‘বুধবার থেকে খাটখালী বাজারে ওই বৃদ্ধাকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। সে সারা দিন বাজারের আশপাশে ঘুরেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাজারের পাশের জলকদর খালে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়।’

চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের খাটখালী বাজারের পাশে জলকদর খাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা কলিম উল্লাহ মিসবাহ বলেন, ‘বুধবার থেকে খাটখালী বাজারে ওই বৃদ্ধাকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। সে সারা দিন বাজারের আশপাশে ঘুরেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাজারের পাশের জলকদর খালে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়।’

এ বিষয়ে গণ্ডামারা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার গায়ে আঘাতের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা স্বীকার মিয়ানমারের দুই সেনার

শেয়ার করুন

অবসরে যাচ্ছেন ডিএমপি কমিশনার

অবসরে যাচ্ছেন ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। ফাইল ছবি

সরকারি বিধি অনুযায়ী, বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হতে যাওয়ায় শফিকুল ইসলামকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অবসরে যাচ্ছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হতে যাওয়ায় তাকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আগামী ২৯ অক্টোবর ৫৯ বছর পূর্ণ হবে শফিকুলের।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত বৃহস্পতিবারের প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত শফিকুলকে এক বছরের অবসর ও অবসরোত্তর ছুটি দেয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার হওয়ার আগে শফিকুল ইসলাম সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি ১৯৮৯ সালে অষ্টম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পুলিশে যোগ দেন।

চাকরি জীবনে শফিকুল পুলিশ সুপার হিসেবে নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পেশাদারত্ব ও দক্ষতার জন্য তিনি একাধিকবার বিপিএম পদক পান।

শফিকুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা স্বীকার মিয়ানমারের দুই সেনার

শেয়ার করুন

কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো যারা তাকে পাঠিয়েছিল তারা তাকে লুকিয়ে রাখতে পারে। আমরা মূল হোতাকে চিহ্নিত করেছি।’

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূল হোতা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বলেছেন, এর ফলে তার অবস্থানও জানা যাচ্ছে না।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মূল হোতার নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘হয়তো যারা তাকে পাঠিয়েছিল তারা তাকে লুকিয়ে রাখতে পারে। আমরা মূল হোতাকে চিহ্নিত করেছি।’

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ের পূজামণ্ডপে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

দুর্গাপূজার সময় এবং পরে দেশের কয়েকটি জেলায় যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দেখা গেছে সেগুলোকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কারও মধ্যে কোনো আতঙ্ক নেই। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে, নিয়ন্ত্রণে আছে।’

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার জানা যায়, নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখেছিলেন ইকবাল হোসেন নামের স্থানীয় এক যুবক। সহিংসতার আগের রাতে তিনি কোরআনটি নিয়েছিলেন মণ্ডপের পাশের শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের মসজিদের বারান্দা থেকে।

ইকবাল রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে কোরআন শরিফটি হাতে নিয়ে মণ্ডপের দিকে রওনা হন। এরপর মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ফিরে আসেন। এসব দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায়।

নানুয়ার দিঘির পাশেই শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারটির অবস্থান। মণ্ডপ থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট। দারোগাবাড়ী মাজার নামে কুমিল্লাবাসীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি রয়েছে মাজারটির। এই মসজিদের বারান্দায় তিলাওয়াতের জন্য রাখা থাকে বেশ কয়েকটি কোরআন শরিফ। রাত-দিন যেকোনো সময় যে কেউ এখানে এসে তিলাওয়াত করতে পারেন।

ইকবালের বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে দারোগাবাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ইয়াছিন নূরীকে ফোন করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিনি।’

মণ্ডপে সহিংসতার আগের রাতে তিনি কোরআন শরিফটি হাতে নিয়ে মণ্ডপের দিকে রওনা হন। এরপর মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ফিরে আসেন ইকবাল। এসব দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায়।

প্রধান অভিযুক্ত ইকবালের সহযোগী হিসেবে অন্তত চারজন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, ইকবাল গ্রেপ্তার হলেই এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা স্বীকার মিয়ানমারের দুই সেনার

শেয়ার করুন