ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এ সতর্কতা উপকূলে

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এ সতর্কতা উপকূলে

স্যাটেলাইট চিত্রে ঘূর্ণিঝড় ‘গোলাব’

অধিকাংশ ইলিশ ধরা ট্রলার এখনও তীরে ফিরতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মহিপুরের মৎস্য আড়ত কক্সবাজার ফিসের স্বত্বাধিকারী মনির হাওলাদার জানান, গদির বেশির ভাগ ট্রলার এখনও সাগরে রয়েছে।

উপকূলের দিকে এগিয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এর প্রভাবে উত্তাল বঙ্গোপসাগর। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় ওডিশার গোপালপুর ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের মাঝে কলিঙ্গপত্তনমের কাছে আঘাত আনতে পারে এ ঘূর্ণিঝড়।

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

জেলেরা জানিয়েছেন, গুলাবের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল। তবে উপকূলের স্থলভাগে এখনও কোনো প্রভাব পড়েনি। রোববার সকাল থেকে বরগুনাসহ উপকূলীয় এলাকায় মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি চলছে।

কলাপাড়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশির আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ পায়রা বন্দর থেকে রোববার সকাল ৬টায় ৫৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। পায়রা বন্দরে দূরবর্তী দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মাছধরা সব নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া সব ট্রলারকে তীরে ফিরতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রে কোনো ট্রলারকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।’

তবে অধিকাংশ ইলিশ ধরা ট্রলার এখনও তীরে ফিরতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মহিপুরের মৎস্য আড়ত কক্সবাজার ফিসের স্বত্বাধিকারী মনির হাওলাদার জানান, গদির বেশির ভাগ ট্রলার এখনও সাগরে রয়েছে।
বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, ‘গুলাব’-এর প্রভাব মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। যদিও আমাদের এদিকে এখনও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তবুও জেলেদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক করে সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে।’

এদিকে, বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এ পরিণত হয়েছে। এটি ক্রমেই শক্তি অর্জন করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘গুলাব’ এর কারণে বাড়ল সতর্কতা সংকেত
‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ
সাগরে ‘গুলাব’, আঘাত হানছে ভারতে
মোদির রিভিউ মিটিংয়ে থাকলেন না মমতা
৫০ বছরে ভারতে ১১৭টি ঘূর্ণিঝড়, প্রাণহানি ৪০ হাজার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চীন ও রাশিয়া চাইলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চীন ও রাশিয়া চাইলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের আন্তরিকতার অভাবে রোহিঙ্গা ও ফিলিস্তিন সমস্যা ঝুলে আছে। চীন ও রাশিয়া সদয় হলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে।’

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া আন্তরিক হলে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হতো বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেছেন, ‘জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের আন্তরিকতার অভাবে রোহিঙ্গা ও ফিলিস্তিন সমস্যা ঝুলে আছে। চীন ও রাশিয়া সদয় হলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে।’

রোববার বিকেলে জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের এখানে আসছে। জাতিসংঘের যা যা করার দরকার করছে। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের একজন যদি আপত্তি করে জাতিসংঘ সেখানে কিছুই করতে পারে না।

‘এর ফলে রোহিঙ্গা সমস্যা ও ফিলিস্তিন সমস্যা ঝুলে যাচ্ছে। জাতিসংঘের নিজের কোনো শক্তি নেই। তার শক্তি হচ্ছে সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে। এ কারণে আমরা ঝুলে আছি।’

মোমেন বলেন, ‘গুটিকয়েক দেশের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করে জাতিসংঘ। এটা হওয়া উচিত নয়। এমন একটা জাতিসংঘ দরকার, যেখানে কেবল পাঁচটি দেশ না, সব দেশের অধিকার প্রাধান্য পাবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করি, যারা রোহিঙ্গা ইস্যুকে ঝুলিয়ে রেখেছে আগামীতে তারা আরও সদয় হবেন। বিশেষ করে রাশিয়া এবং চীন। তারা সদয় হলে অবস্থার পরিবর্তন হবে। আমরা আশাবাদী, আমাদের এ সমস্যা দূর হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের ভূমিকা অপরিসীম। নানা অপূর্ণতার মধ্যে এটা বলতেই হবে জাতিসংঘের কারণেই এতদিনে আরও একটি বিশ্বযুদ্ধ বা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকিয়ে রাখা গেছে। এটাও সত্য যে জাতিসংঘ বাংলাদেশের আর বাংলাদেশ জাতিসংঘের জন্য আশীর্বাদ।’

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ শুরু হয় ১৯৭৮ সাল থেকে। তখন বাংলাদেশে আসা তিন লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে আড়াই লাখ মিয়ানমার পরে ফিরিয়ে নিয়েছিল। ১৯৯২ সালে আসে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৭ রোহিঙ্গা।

এর মধ্যে মিয়ানমার ফিরিয়ে নিয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে। ফলে প্রতিবারই কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে থেকে গেছে।

১৯৯২ সালের পর আরও বেশ কয়েকবার রোহিঙ্গারা এলেও তাদের ফিরিয়ে নেয়ার কোনো উদ্যোগ আর দেখা যায়নি। এরপর থেকে প্রত্যাবাসন বন্ধ হয়।

২০১২ সালের ৩ জুন মিয়ানমারে তাবলিগ জামাতের ওপর হামলা চালায় রাখাইনরা। সে সময় সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ মংডু থেকে আকিয়াব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

ওই পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে পালানো শুরু করে রোহিঙ্গারা। তাদের অনেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।

২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যের সীমান্তে পুলিশের ছাউনিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য হতাহত হন। তখন মিয়ানমার সরকার দাবি করে, এ হামলার সঙ্গে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা জড়িত।

পরের রাতে হঠাৎ মিয়ানমারের সেনারা সন্ত্রাসী দমনের নামে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ঘিরে ধরপাকড়, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট শুরু করে। ওই সময় ৭৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

সবশেষ ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৪টি সীমান্তচৌকিতে একযোগে হামলা হয়। আবারও শুরু হয় অপরাধী দমনের নামে অভিযান।

পরের দিন ২৫ আগস্ট থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। তাতে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় উখিয়া-টেকনাফে।

প্রায় ১৬ বছর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ থাকার পর ২০১৭ সালের নভেম্বরে একটি নতুন সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। এমওইউ অনুযায়ী, দুই মাসের মাথায় প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা রাখাইনে ফেরত যেতে পারেনি।

আরও পড়ুন:
‘গুলাব’ এর কারণে বাড়ল সতর্কতা সংকেত
‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ
সাগরে ‘গুলাব’, আঘাত হানছে ভারতে
মোদির রিভিউ মিটিংয়ে থাকলেন না মমতা
৫০ বছরে ভারতে ১১৭টি ঘূর্ণিঝড়, প্রাণহানি ৪০ হাজার

শেয়ার করুন

ঋণের টাকা পরিশোধে শিশু অপহরণ

ঋণের টাকা পরিশোধে শিশু অপহরণ

উদ্ধারের পর বাবা-মায়ের সঙ্গে তিন বছর ছয় মাস বয়সী শিশু আফিয়া। ছবি: সংগৃহীত

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ টানা দুই দিন অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে একটি বাসা থেকে অপহৃত শিশু আফিয়াকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী রানা আহমেদ বাকিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০০৯ সালে জমি বিক্রি ও ঋণের টাকা দিয়ে দুবাই যান রানা আহমেদ বাকি। সঠিক কাগজপত্র না থাকায় ২৩ দিন জেল খেটে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে আসার পর রিকশা চালিয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। শিশু আফিয়াকে অপহরণ করে মুক্তিপণের টাকা দিয়ে ঋণের ৩-৪ লাখ টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা করেন তিনি।

আফিয়া অপহরণের পর তার বাবা-মা প্রথমে থানায় গেলে থানা থেকে পাঠানো হয় র‌্যাব-৪ এ। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যারের একটি আভিযানিক দল টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে রোববার ভোর ৬টায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে একটি বাসা থেকে অপহৃত শিশু আফিয়াকে উদ্ধার করে।

এ সময় অপহরণকারী রানা আহমেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪।

রোববার বিকেলে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর ১টার সময় আশুলিয়া পল্লীবিদ্যুৎ, কবরস্থান রোড এলাকা থেকে তিন বছর ছয় মাস বয়সী শিশু আফিয়া অপহৃত হয়। ওই ঘটনার দিনই অপহরণকারী মোবাইল ফোনে শিশুটির বাবা-মার কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। টাকা না দিলে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল অপহরণকারীর অবস্থান শনাক্তে ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রথমে অপহরণকারীর নিজ জেলা পাবনা এবং শ্বশুড় বাড়ি নাটোরের বড়াই গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে তথ্য সংগ্রহ করে।

ঋণের টাকা পরিশোধে শিশু অপহরণ

অপহরণকারী রানা আহমেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪। ছবি: নিউজবাংলা

সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, অপহরণকারী সিরাজগঞ্জ জেলার শাহাজাদপুরে দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থান করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ টানা দুই দিন অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর ১০ নং কৈজুরি ইউপি ৭ নং ওয়ার্ডের বাঁধের স্লুইসগেট এলাকার একটি বাসা থেকে অপহৃত শিশু আফিয়াকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী রানা আহমেদ বাকিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, অপহরণকারী রানা আহমেদ বাকি ২ বছর ধরে আশুলিয়া পল্লীবিদ্যুৎ কবরস্থান রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। অপহরণকারী পেশায় একজন রিকশাচালক। সে বেশিরভাগ সময় রাত্রে রিকশা চালাত, দিনে বাসায় থাকত এবং মাঝে মাঝে স্থানীয় একটি কয়েল ফ্যাক্টরিতে কাজ করত বলে জানা যায়।

সে বাসা ভাড়া নেয়ার সময় সে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে তার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলায় এবং নানির বাড়ি ধামরাই থানায় বলে জানায়। সে নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা। তার বড় মেয়ের বয়স ৯ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স ১০ মাস। তার বাড়ি পাবনা ভাউডাঙ্গা গ্রামে।

কীভাবে অপহরণ হলো আফিয়া

র‌্যাব জানায়, ভিকটিম শিশুটির বাবা আবুল কালাম আজাদ ও মা সোনিয়া বেগম দুজনই গার্মেন্টসে চাকরি করার কারণে মেয়েকে দীর্ঘ দিনের পরিচিত আনোয়ারা নামের বৃদ্ধার বাসায় রেখে অফিসে যেতেন। এই বৃদ্ধা তাদের সম্পর্কে নানি হন। এই বৃদ্ধার পাশের রুমে অপহরণকারী রানা এক হাজার টাকা ভাড়ায় বসবাস করতেন।

সেই সুবাদে প্রায় সময়ই ভিকটিম শিশুটি তার কাছে যাতায়াত করত। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক অপহরণকারী রানা ভিকটিম শিশু আফিয়াকে মাঝে মাঝে চকলেট, চিপস্ ও খেলনা কিনে দিয়ে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং শিশু আফিয়া তাকে মামা বলে ডাকে।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য রানা শিশুটিকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। অপহরণকারী রানা আহমেদ ২০০৯ সালে জমি-জমা বিক্রি ও ঋণ করে দুবাই যায়। কিন্তু সঠিক কাগজপত্র না থাকায় ২৩ দিন জেল খেটে দেশে ফেরত আসেন। দেশে আসার পর থেকে সে রিকশা চালিয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না।

ঋণের ৩-৪ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য সে এই অপহরণের পরিকল্পনা করে বলে স্বীকার করেছেন। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক, শিশুটির বাবা-মা দুজনেই বাসায় না থাকায় শিশুটিকে অপহরণ করার উদ্দেশ্যে প্রথমে তাকে একটি চিপস্ কিনে দিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ থেকে রিকশা করে বলিভদ্র বাজারে যায়। সেখান থেকে শিশুটিকে গেঞ্জি ও সেন্ডেল কিনে দেয়। পরবর্তীতে বলিভদ্র থেকে বাসে করে চন্দ্রা যায়।

তিনি আরও বলেন, চন্দ্রা বাসষ্ট্যান্ড থেকে বাসে করে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর এলাকায় তার এক বন্ধু রবিউলের বাড়ীতে পৌঁছে। তার বন্ধুকে সে শিশুটি তার নিজের মেয়ে বলে পরিচয় দেয় এবং বন্ধুকে জানায় তার স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না বিধায় কিছুদিন থেকে চলে যাবে।

আরও পড়ুন:
‘গুলাব’ এর কারণে বাড়ল সতর্কতা সংকেত
‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ
সাগরে ‘গুলাব’, আঘাত হানছে ভারতে
মোদির রিভিউ মিটিংয়ে থাকলেন না মমতা
৫০ বছরে ভারতে ১১৭টি ঘূর্ণিঝড়, প্রাণহানি ৪০ হাজার

শেয়ার করুন

বীর নিবাস তৈরির মান বজায় রাখার নির্দেশ

বীর নিবাস তৈরির মান বজায় রাখার নির্দেশ

রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার বীর নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথমে ১৪ হাজার বীর নিবাস অনুমোদন হলেও পরে প্রধানমন্ত্রী ৩০ হাজার নির্মাণের অনুমোদন দেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শেখ হাসিনার আন্তরিক ভালোবাসার প্রতিফলন হচ্ছে বীর নিবাস।’

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার বীর নিবাস তৈরির ক্ষেত্রে যথাযথ মান বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন (বীর নিবাস) নির্মাণ প্রকল্প কার্যালয়ে রোববার এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার বীর নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে।

‘প্রথমে ১৪ হাজার বীর নিবাস অনুমোদন হলেও পরে প্রধানমন্ত্রী ৩০ হাজার নির্মাণের অনুমোদন দেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শেখ হাসিনার আন্তরিক ভালোবাসার প্রতিফলন হচ্ছে বীর নিবাস।’

মন্ত্রী জানান, প্রতিটি বীর নিবাস তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজী করতে উপজেলাভিত্তিক বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে বীর নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কমিটিতে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাড়ি বরাদ্দপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাকেও রাখা হয়েছে। যাতে তিনি তার বাড়ির কাজ বুঝে নিতে পারেন।’

বাড়ি নির্মাণের সময় ছবি এবং ভিডিওধারণ করতে, বরাদ্দপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী।

এ ছাড়া প্রকৃত অস্বচ্ছল এবং সঠিক তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা যাতে বীর নিবাস বরাদ্দ পান তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
‘গুলাব’ এর কারণে বাড়ল সতর্কতা সংকেত
‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ
সাগরে ‘গুলাব’, আঘাত হানছে ভারতে
মোদির রিভিউ মিটিংয়ে থাকলেন না মমতা
৫০ বছরে ভারতে ১১৭টি ঘূর্ণিঝড়, প্রাণহানি ৪০ হাজার

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক উসকানি: ইসলামি বক্তা বিপ্লবীর স্বীকারোক্তি

সাম্প্রদায়িক উসকানি: ইসলামি বক্তা বিপ্লবীর স্বীকারোক্তি

উসকানি দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর মাওলানা আব্দুর রহিম বিপ্লবী। ফাইল ছবি

গত ২১ অক্টোবর সকাল সোয়া সাতটার দিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চুনকুটিয়া পূর্বপাড়া (আমিনপাড়া) জামে মসজিদের সামনে থেকে আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ।

কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে প্রতিমার পায়ের কাছে কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় ঢাকার একটি ওয়াজ মাহফিলে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয়ার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ইসলামি বক্তা আব্দুর রহিম বিপ্লবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিন পল্টন থানায় দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আব্দুর রহিমকে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের উপপরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।

আব্দুর রহিম স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

গত ২১ অক্টোবর সকাল সোয়া সাতটার দিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চুনকুটিয়া পূর্বপাড়া (আমিনপাড়া) জামে মসজিদের সামনে থেকে আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে এসআই প্রদীপ কুমার দাস পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

আব্দুর রহমান বিপ্লবী ফেনীর পরশুরাম উপজেলার পশ্চিম সাহেব নগর এলাকার মৃত আব্দুল কালামের ছেলে। অভিযোগ আছে, গত ১৫ অক্টোবর জুমার নামাজ শেষে ঢাকার পশ্চিম দোলাইরপাড় এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন তিনি।

সিআইডি বলছে, তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, বাড়িঘরে হামলা হয়। পরে আব্দুর রহিম বিপ্লবীকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ওঠে।

আরও পড়ুন:
‘গুলাব’ এর কারণে বাড়ল সতর্কতা সংকেত
‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ
সাগরে ‘গুলাব’, আঘাত হানছে ভারতে
মোদির রিভিউ মিটিংয়ে থাকলেন না মমতা
৫০ বছরে ভারতে ১১৭টি ঘূর্ণিঝড়, প্রাণহানি ৪০ হাজার

শেয়ার করুন

পরীমনির রিমান্ডের ব্যাখ্যা: আরও এক সপ্তাহ সময় পেলেন দুই বিচারক

পরীমনির রিমান্ডের ব্যাখ্যা: আরও এক সপ্তাহ সময় পেলেন দুই বিচারক

মাদক মামলায় পরীমনিকে বিচারিক আদালতে নেয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি

মাদক মামলায় তিন দফায় রিমান্ডে নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন পরীমনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করে আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার শুনানির জন্য তারিখ ঠিক ছিল।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডে নেয়ার বিষয়ে দুই বিচারকের ব্যাখ্যার জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারিক আদালতের ওই দুই বিচারকের পক্ষে পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মবিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সময় দেয়।

আদালতের দুই বিচারক ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলামের পক্ষে সময় প্রার্থনা করেন আইনজীবী আব্দুল আলিম মিয়া জুয়েল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি মিজানুর রহমান। অন্যদিকে পরীমনির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও মুজিবর রহমান।

পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী এদিন বিচারকের ব্যাখ্যা দেয়ার তারিখ ঠিক করা ছিল। সকালে শুনানিতে আইনজীবী আব্দুল আলিম মিয়া জুয়েল ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য এক সপ্তাহ সময় চান।

নিউজবাংলাকে তিনি জানান, আদালত তাদের এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন।

এর আগেও একবার ব্যাখ্যা দেন দুই বিচারক। তখন তাদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হওয়ায় ফের ব্যাখ্যা দেয়ার সময় দেয়া হয়।

মাদক মামলায় তিন দফায় রিমান্ডে নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন পরীমনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করে আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার শুনানির জন্য তারিখ ঠিক ছিল।

৪ আগস্ট বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ আগস্ট তাকে আদালতে উপস্থিত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

১০ আগস্ট চার দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে তাকে আবার দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে ১৩ আগস্ট পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। এরপর আবার তাকে তৃতীয় দফায় একই মামলায় এক দিনের রিমান্ড দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
‘গুলাব’ এর কারণে বাড়ল সতর্কতা সংকেত
‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ
সাগরে ‘গুলাব’, আঘাত হানছে ভারতে
মোদির রিভিউ মিটিংয়ে থাকলেন না মমতা
৫০ বছরে ভারতে ১১৭টি ঘূর্ণিঝড়, প্রাণহানি ৪০ হাজার

শেয়ার করুন

মানুষ বেশি ভাত খায় বলে চালের ঘাটতি: কৃষিমন্ত্রী

মানুষ বেশি ভাত খায় বলে চালের ঘাটতি: কৃষিমন্ত্রী

‘বাংলাদেশের ৫০ বছর, কৃষি রূপান্তর অর্জন’ বিষয়ে সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।

‘আমরা অনেক বেশি চাল খাই, ভাত খাই। এজন্য চালের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমরা দিনে প্রায় ৪০০ গ্রাম চাল খাই অথচ পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষ ২০০ গ্রাম চালও খায় না।’

বাংলাদেশের মানুষ বেশি ভাত খায় বলে চালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। এ জন্য তিনি খাদ্যাভ্যাস পাল্টানোর তাগিদ দিয়েছেন।

মানুষকে ভাত কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেছেন, বিশ্বের মানুষ গড়ে যত চাল খায় বাংলাদেশের মানুষ খায় তার দ্বিগুণ।

রোববার রাজধানীতে এক কৃষি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই কথা বলেন। সম্মেলনের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের ৫০ বছর, কৃষি রূপান্তর অর্জন।’

বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম ও বণিক বার্তা যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ঘাটতির তথ্য পাওয়া যায় না। তবে প্রায়ই চালের দাম বেড়ে গেলে সরকার আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়।

সম্প্রতি চালের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। তবে গত দুই সপ্তাহে তা কিছুটা নিম্নমুখি। তার পরেও বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে সরু চালের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। এটি মূল্যস্ফীতির সার্বিক হারের চেয়ে বেশি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি চাল খাই, ভাত খাই। এজন্য চালের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমরা দিনে প্রায় ৪০০ গ্রাম চাল খাই অথচ পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষ ২০০ গ্রাম চালও খায় না।

‘খাদ্যের অভাব নেই দেশে। নেই খাদ্যের সংকট ও খাবারের জন্য হাহাকার। কিন্তু মানুষ অধিক ভাত খায় বলে চালের ওপর বেশি চাপ পড়ছে। এতে প্রায়শ সংকট দেখা দিচ্ছে। বাড়ছে দামও।’

ধানজাতীয় দানাদার খাদ্যে বাংলাদেশকে সফল বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। বলেন, খাদ্যেও দেশ অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ।

আগামী পাঁচ থেকে ছয় বছর পর দেশেই সারা বছর দেশে আম পাওয়া যাবে বলেও তথ্য দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কৃষিপণ্য রপ্তানিও করছি। তবে এই রপ্তানি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। সরকারের লক্ষ্য এখন খাদ্যে পরিপূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। এর পাশাপাশি পুষ্টিজাতীয় খাদ্য নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। তবে এরজন্য কৃষির বাণিজ্যিক রূপান্তর দরকার।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যার ব্যুরোর হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে চালের উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৪৮ লাখ টন। ২০২০ সালে উৎপাদন বেড়ে ৪ কোটি টন ছাড়িয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) গবেষণা তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মানুষের দৈনিক মাথাপিছু চাল খাওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৯৬ দশমিক ৬ গ্রাম। সংস্থাটির ২০১৬ সালের হিসাবে ছিল ৪২৬ গ্রাম।

আরও পড়ুন:
‘গুলাব’ এর কারণে বাড়ল সতর্কতা সংকেত
‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ
সাগরে ‘গুলাব’, আঘাত হানছে ভারতে
মোদির রিভিউ মিটিংয়ে থাকলেন না মমতা
৫০ বছরে ভারতে ১১৭টি ঘূর্ণিঝড়, প্রাণহানি ৪০ হাজার

শেয়ার করুন

আবরার হত্যায় ২৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড চাইল রাষ্ট্রপক্ষ

আবরার হত্যায় ২৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড চাইল রাষ্ট্রপক্ষ

বুয়েট ছাত্র আবরারকে পেটানোর পর সন্দেহভাজনরা ধরাধরি করে কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যান। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সে দৃশ্য। ফাইল ছবি

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। পরে পুলিশের চার্জশিটে আরও ছয়জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় ২৫ আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন মামলার চিফ প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল।

শুনানিতে কাজল বলেন, ‘এটা কোনো সামান্য বিষয় না। ঘটনার আগে আবরার গ্রামে চলে যায়। আসামিরা তার অপেক্ষায় থাকে। বলতে থাকে আসুক, আসুক। সে হলে আসে এবং তাকে ডেকে নিয়ে যায়। একটা হলে কোর্ট বসায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ আর মৃদু আক্রমণ করে। আস্তে আস্তে আক্রমণ জোরালো হয়। তার প্রতি কেন এত রাগ, এত রাগ কেন? শেষ পর্যন্ত পিটিয়েই তাকে মেরে ফেলল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই। জুলুম বা অবিচারের পক্ষে আমরা নই। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। কেউ নিরপরাধ থাকলে মাননীয় আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবেন। ছাত্র আবাসিক হলে যারা থাকেন তারা একে অপরের আপন হয়ে যায়। আবরার তাদেরই আপন একজন ছিল। কিন্তু সেই আপনজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলল আসামিরা।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘যারা অপরাধ করেছে তারা যেন শাস্তির আওতায় আসে। তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করি। আবরারের মা যেন বলতে পারেন, ন্যায়বিচার পেয়েছি। আবরারের স্বজনরা এখনও কাঁদছে।’

কাজল বলেন, ‘এই মামলার ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জন আদালতে এসে তাদের জবানবন্দিতে মারপিট করে আবরারকে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ৭৫ শতাংশের বেশি সাক্ষ্য আমরা আদালতে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। তাই প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।’

এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তবে তা শেষ হয়নি। সোমবার অবশিষ্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছে আদালত।

শুনানির সময় কারাগারে থাকা ২২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইঞা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান। গত বছর ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত।

মামলাটিতে ৬০ সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। গত ১৪ মার্চ এ মামলায় কারাগারে থাকা ২২ আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেনি। এরপর কয়েকজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যও দেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলায় কিছু ত্রুটি থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি পুনরায় চার্জ গঠনের আবেদন করে। ৮ সেপ্টেম্বর আদালত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় চার্জ গঠন করে। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ শুনানিতে ২২ আসামি আবারও নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

আরও পড়ুন:
‘গুলাব’ এর কারণে বাড়ল সতর্কতা সংকেত
‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ
সাগরে ‘গুলাব’, আঘাত হানছে ভারতে
মোদির রিভিউ মিটিংয়ে থাকলেন না মমতা
৫০ বছরে ভারতে ১১৭টি ঘূর্ণিঝড়, প্রাণহানি ৪০ হাজার

শেয়ার করুন