যুবলীগ নেতা তাপস হত্যা: মেয়রসহ ৩৬ আসামি বহাল

যুবলীগ নেতা তাপস হত্যা: মেয়রসহ ৩৬ আসামি বহাল

পটুয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত। ছবি:সংগৃহীত

বাদীপক্ষের আইনজীবী কমল দত্ত জানান, রোববার শুনানি শেষে আদালত চার্জশিটভুক্ত ৩৬ আসামির নামেই মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেয়। বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে যেসব আসামি জামিনে আছেন, তাদের জামিন বহাল থাকবে। আর যেসব আসামি আদালতে অনুপস্থিত বা অনুপস্থিত থেকে সময়ের আবেদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর বাউফলে যুবলীগ নেতা তাপস হত্যা মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলসহ ৩৬ আসামির নাম বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বাদীর নারাজি পিটিশনের শুনানি শেষে রোববার পটুয়াখালীর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আল আমিন এজাহারভুক্ত সব আসামির নাম অন্তর্ভুক্ত করে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের শুনানিতে অংশ নেয়া অ্যাডভোকেট কমল দত্ত জানান, যুবলীগ নেতা তাপস হত্যা মামলার তদন্ত করে ২৮ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মতিন খান ২০ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন।

মামলার বাদী পঙ্কজ দাস ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি পিটিশন দেন।

রোববার শুনানি শেষে আদালত চার্জশিটভুক্ত ৩৬ আসামির নামেই মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন।

কমল দত্ত আরও জানান, শুনানির পর বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে যেসব আসামি জামিনে আছেন, তাদের জামিন বহাল থাকবে। আর যেসব আসামি আদালতে অনুপস্থিত বা অনুপস্থিত থেকে সময়ের আবেদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। তবে অনুপস্থিত আসামিরা যদি হাইকোর্টে আবেদন করে থাকেন, আর যদি সে আবেদন পেন্ডিং থাকে, সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে সমন ইস্যু হবে না।

তিনি বলেন, ‘মামলার আসামি বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল আজ নারাজি শুনানিতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করেছেন। তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন কি না, তা যাচাই করে দেখতে হবে।’

এ ব্যাপারে মেয়র জিয়াউলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মামলার বাদী পঙ্কজ দাস জানান, ২০২০ সালের ২৪ মে বাউফল থানার সামনে তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা তাপস ছুরিকাহত হন। রাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাপস মারা যান।

পরদিন বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলসহ ৩৬ জনকে আসামি করে বাউফল থানায় মামলা করেন তাপসের ভাই পঙ্কজ দাস।

পঙ্কজ দাস বলেন, ‘আজ আদালতের নির্দেশ শুনে ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে ন্যায়বিচার পাব।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী মুজাহিদ জাহিদ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খাগড়াছড়িতে মন্দিরের পাশে আগুন, পুড়েছে ৬ দোকান

খাগড়াছড়িতে মন্দিরের পাশে আগুন, পুড়েছে ৬ দোকান

খাগড়াছড়ি সদরের শিব মন্দির এলাকায় আগুনে ছয়টি দোকান পুড়ে গেছে

ক্ষতিগ্রস্ত এক দোকানমালিক জ্যোতির্ময় চাকমা বলেন, ‘আমার দোকানে ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল ও বিভিন্ন মালপত্র ছিল। সব মিলিয়ে এর আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ টাকার বেশি। আমি রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যাই। ভোরে আমাকে একজন কল করে আগুন লাগার ঘটনা বলে। আমি আসার আগেই সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।’

খাগড়াছড়ি সদরের শিব মন্দির এলাকায় আগুনে ছয়টি দোকান পুড়ে গেছে।

ফায়াস সার্ভিস বুধবার ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের ওই এলাকায় আসে। ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইন্সপেক্টর রাজেশ বড়ুয়া।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে আগুন লাগে।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, দিপায়ন ত্রিপুরা নামের এক ব্যক্তি মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিলে তারা ভোরে ওই এলাকায় আসেন। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দূরত্ব ১২ কিলোমিটার হওয়ায় পৌঁছাতে তাদের সময় লাগে।

আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানায়নি ফায়ার সার্ভিস। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো যাবে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি বলেও জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার শুরুতে খাগড়াছড়ি ওয়াপদা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তাকে কল দেয়া হয়। তিনি ফায়ার সার্ভিসের নম্বর পাঠান। কয়েকবার সেই নম্বরে কল দিলে কেউ রিসিভ করে না। এর কিছুক্ষণ পরেই ভোরে ঘটনাস্থলে আসে ফায়ার সার্ভিস।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তরুণ কুমার ভট্টাচার্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লাগতে পারে। তবে আগুনের হাত থেকে শিব মন্দিরটি রক্ষা পেয়েছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানমালিকরা হলেন জ্যোতির্ময় চাকমা, রাঙ্গামনি চাকমা, অমর ধন চাকমা, রামচন্দ্র চাকমা, কৃষ্ণরাম চাকমা, পদ্ম কুমার চাকমা।

দোকানগুলোর মধ্যে ছিল চালের দোকান, মুদি দোকান, কসমেটিকের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

জ্যোতির্ময় চাকমা বলেন, ‘আমার দোকানে ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল ও বিভিন্ন মালপত্র ছিল। সব মিলিয়ে এর আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ টাকার বেশি। আমি রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যাই। ভোরে আমাকে একজন কল করে আগুন লাগার ঘটনা বলে। আমি আসার আগেই সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।’

আরেক দোকানমালিক অমর ধন চাকমা বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে দেরি করেছে। তারা আসার আগেই আমাদের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকার উৎস ছিল দোকানটি।’

এ বিষয়ে ৫ নম্বর ভাইবোন ইউপি চেয়ারম্যান পরিমল ত্রিপুরা বলেন, ‘ঘটনার ব্যাপারে শুনেছি। এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন

ছুটির দিনে পাটুরিয়ায় গাড়ির চাপ

ছুটির দিনে পাটুরিয়ায় গাড়ির চাপ

সরকারি ছুটির দিনে গাড়ির চাপ বেড়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায়। ছবি: নিউজবাংলা

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এমনিতেই পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ থাকে। তার মধ্যে সরকারি ছুটির দিনে একটু চাপ বেশি হয়। যানবাহনের চাপ বেশি হলেও সমস্যা নাই, কারণ ১৮টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। আশা করছি, বিকেলের আগে ঘাটের চাপ কমে যাবে।’

সরকারি ছুটির দিনে গাড়ির চাপ বেড়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায়। নদী পারাপারের জন্য দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ পথে চলাচলকারীরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা যায়, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ২০টি ফেরির মধ্যে ১৮টি ফেরি সচল রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুটি ফেরি আছে মেরামতে।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয় সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় বুধবার ভোর থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। পাটুরিয়া ঘাটে ১০০ বাস, দুই শতাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি ও তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এমনিতেই পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ থাকে। তার মধ্যে সরকারি ছুটির দিনে একটু চাপ বেশি হয়। যানবাহনের চাপ বেশি হলেও সমস্যা নাই, কারণ ১৮টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। আশা করছি, বিকেলের আগে ঘাটের চাপ কমে যাবে।’

পরিবহনের চাপ কমলে সিরিয়াল অনুযায়ী ট্রাকগুলো পার করা হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

গাড়িচাপায় ২ শ্রমিক নিহত

গাড়িচাপায় ২ শ্রমিক নিহত

গাড়ি চাপায় দুই শ্রমিক নিহত ও আহত তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, অটো রাইস মিলে কাজ করতে বুধবার রাতে দিনাজপুর থেকে হায়দার আলীসহ ৫ শ্রমিক আশুগঞ্জে আসেন। ভোরে হেঁটে রাইস মিলে যাওয়ার পথে সোনারামপুর এলাকায় একটি গাড়ি তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে হায়দার ও অপর এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে গাড়িচাপায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন জন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ সোনারাম এলাকায় বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি দিনাজপুর সদর উপজেলার মাঝিপাড়া এলাকার হায়দার আলী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, অটো রাইস মিলে কাজ করতে বুধবার রাতে দিনাজপুর থেকে হায়দার আলীসহ ৫ শ্রমিক আশুগঞ্জে আসেন। ভোরে হেঁটে রাইস মিলে যাওয়ার পথে সোনারামপুর এলাকায় একটি গাড়ি তাদের চাপা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলে হায়দার ও অপর এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

পুলিশ দুই শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের এখানেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

খাটিহাতা হাইওয়ে থানার উপ পরিদর্শক রাফিউল করিম বলেন, নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। অপরজনের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কোন পরিবহনের গাড়ি তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হতে পারে।

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে সহিংসতা: গ্রেপ্তার আরও ১১

পীরগঞ্জে সহিংসতা: গ্রেপ্তার আরও ১১

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হলো ৫৩ জনকে।

মঙ্গলবার রাতে পীরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেশ চন্দ্র।

তিনি বলেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা এজাহারভুক্ত আসামি। তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে তোলা হবে।

এর আগে পীরগঞ্জের ঘটনায় ৪২ জনকে আটক করা হয়। পরে দুটি আলাদা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে দুটি মামলা করেন পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন। এর মধ্যে একটি মামলা হয়েছে হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায়। এতে ৪১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করা হয়েছে।

আরেকটি মামলা একজনকে আসামি করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

ছাতক থানার সেই ওসি বদলি

ছাতক থানার সেই ওসি বদলি

সদ্য বদলি হওয়া সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওসি নাজিম উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামক ফেসবুকভিত্তিক একটি পেজে লাইভে আসেন। সেই ভিডিও ছড়ালে ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

সুনামগঞ্জের ছাতক থানার সেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফেসবুক লাইভে আসার অভিযোগ উঠেছিল।

ছাতক থানার ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম শেখ নাজিম উদ্দিন। তাকে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, ওসি নাজিমের আসামিকে ফেসবুক লাইভে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি দায়িত্বে অবহেলার সমান। তাই তাকে ছাতক থানা থেকে বদলি করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনসে আনা হয়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওসি নাজিম উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামক ফেসবুকভিত্তিক একটি পেজে লাইভে আসেন। সেই ভিডিও ছড়ালে ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আসামি আবু সুফিয়ান সোহাগকে গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান ও থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ওসি নাজিম। ভিডিওটি ভাইরাল হলে ১ ঘণ্টা পর সেটি পেজ থেকে ডিলেট করা হয়।

ওই সময় ওসি নাজিম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এগুলো করিনি। আসামি যখন আমাদের বিবরণ বলেছিল প্রমাণের জন্য তা ভিডিও করা হয়। কিন্তু এ ভিডিও লাইভে কীভাবে গেল সেটা আমি জানি না। আমি এসব কিছু করিনি।’

এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

শেয়ার করুন

‘জুয়ার টাকা বাঁটোয়ারা’ নিয়ে যুবক খুন

‘জুয়ার টাকা বাঁটোয়ারা’ নিয়ে যুবক খুন

নিহতের বোন সুফিয়া আক্তার জানান, সুরুজ আলী প্রতি রাতেই জুয়া খেলতেন। মঙ্গলবার রাতেও জুয়া খেলতে দুর্লভপুর চৌমুহনীতে যান তিনি। খেলার সময় টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে অন্য জুয়াড়িদের সঙ্গে সুরুজের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সুরুজকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

হবিগঞ্জে জুয়া খেলার টাকা ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে এক যুবককে খুনের অভিযোগ উঠেছে।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ৩টার দিকে সুরুজ আলী মারা যান। এর আগে শহরের দুর্লভপুর গ্রামে বুধবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ আহমেদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ৩৫ বছর বয়সী সুরুজ আলীর বাড়ি দুর্লভপুর গ্রামে।

নিহতের বোন সুফিয়া আক্তার জানান, সুরুজ আলী প্রতি রাতেই জুয়া খেলতেন। মঙ্গলবার রাতেও জুয়া খেলতে দুর্লভপুর চৌমুহনীতে যান তিনি। খেলার সময় টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে অন্য জুয়াড়িদের সঙ্গে সুরুজের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সুরুজকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই শরীফ আহমেদ জানান, মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, জুয়ার টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে সুরুজকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। এ ঘটনায় মামলা হবে।

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুপাড়ায় এখনও আতঙ্ক, বিনিদ্র রাত

পীরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুপাড়ায় এখনও আতঙ্ক, বিনিদ্র রাত

পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে হামলার পর আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কনক মালা বলেন, ‘ছোট ছোয়া (ছেলে) সুজন কয়, মা ওমরা কি ফির আইসপে (আসবে)। মুই কইচোং (বলেছি), না বাবা আর আইসপের নয়। তুই ঘুম যা। ঘুম পড়ে না ভয়োতে (ভয়ে)...।’

যেই আইত (রাত) হইল অমনি ভয় ধরিল, খালি ভয় নাগে (লাগে), শরীল (শরীর) দলদল করি কাঁপে। মনে হয় ওমরা (ওরা) ফির আসিল। ওই চিন্তায় ঘুম হয় নাই। ঘুমোতে চটকি চটকি (চমকে চমকে) উটি। ছৈল গুল্যা ঘুম পাড়ে নাই।’

কথাগুলো বলছিলেন, পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের রুহিনী চন্দ্র দাস।

ওই এলাকার বাসিন্দা কনক মালা বলেন, ‘ঘুমোতে মনে হয় বাড়িত আগুন ধরি দেইল। সোউগ (সব) নিয়ে গেইল। ভাঙি (ভেঙে) ফেলাইল। খালি এ্যাইলা (এগুলো) দেকি। ঘুমবার পাড়ি নাই। সারা আইত (রাত) বসি আচিনোং (ছিলাম)। ছোয়াগুলেক (বাচ্চাদের) কই তোমরা ঘুমেন হামরা (আমরা) জাগি আচি, ওমরাও ঘুমেয় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছোট ছোয়া (ছেলে) সুজন কয়, মা ওমরা কি ফির আইসপে (আসবে)। মুই কইচোং (বলেছি), না বাবা আর আইসপের নয়। তুই ঘুম যা। ঘুম পড়ে না ভয়োতে (ভয়ে)...।’

উপেন চন্দ্র দাস বলেন, ‘হামলা করি তো সোউগ নষ্ট করি ফেলাইচে, পুড়ি ফেলাইচে। কাল থাকি চুলেত আগুন ধরাই নাই। এখানে সরকার থাকি পাক-সাক (রান্না-বান্না) করোছে (করছে) ওইলা খাওচি (খাচ্ছি)। খাবার তো ভিতরোত (ভেতরে) ঢোকে না। খালি চিন্তা হয়, সোগ শ্যাষ হইল এ্যালা চলমো কেমন করি। বউ বাচ্চাক কেমন করি চলামো।

রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রামনাথ পুরের উত্তর পাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।

এতে ৬০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীদের দেয়া আগুনে পুড়ে যায় ধান, চাল, আসবাব, ঘরে থাকা জামাকাপড়সহ প্রয়োজনীয় সবকিছু। এ সময় বাড়ি-ঘর ছেড়ে ধানক্ষেত, বাঁশঝাড়ে আশ্রয় নেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

বর্তমানে তারা পুলিশের অস্থায়ী তাবুতে রাত কাটাচ্ছেন। তবে হমলার সেই দৃশ্য তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ভয়, ক্ষোভ আর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পল্লীতে নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা। তাদের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে খাবার, কাপড় এবং ঘর নির্মাণের জন্য টিন ও নগদ আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

রংপুর পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, এ ঘটনায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৪২ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন।

শেয়ার করুন