‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’

‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’

রংপুরে মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই পিয়ারুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হারাগাছ থানা এলাকার বাহারকাছনা তেলিপাড়ায় মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন পুলিশের এএসআই পেয়ারুল। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

টাকার জন্য শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় থানা থেকে বন্ধু রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানার সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) পেয়ারুল ইসলামকে নিয়ে গিয়েছিলেন মুন্না। শ্বশুরবাড়ি রংপুরের বাহারকাছনা তেলিপাড়ায় যখন পৌঁছান তখন রাত ১১টা।

মূল সড়কের কাছেই বাড়িটি। সেখানে যাওয়ার রাস্তায় তখন মাদক সেবন করছিলেন পারভেজ রহমানসহ কয়েকজন। সেই দৃশ্য দেখে সেখানে দাঁড়িয়ে যান এএসআই পেয়ারুল; মুন্না যান শ্বশুরবাড়ি।

বাড়িতে না ঢুকে দরজা থেকেই স্ত্রী মনিকার কাছে টাকা চান মুন্না। এর একটু পরই তিনি পেয়ারুলের চিৎকার শোনেন, ‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’।

তখনই সবাই দৌড়ে এসে দেখেন পেয়ারুলকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

রংপুরে মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা পেয়ারুল ইসলাম নিহতের ঘটনার এমন বর্ণনা দিয়েছেন মুন্নার শাশুড়ি লাইলী বেগম। প্রত্যক্ষদর্শী এবং পেয়ারুলের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেন তিনি।

লাইলী বেগম বলেন, ‘পেয়ারুল আমার জামাই মুন্নার বন্ধু। নিয়মিত ওঠাবসা, যায়-আসে, খাইদাই করে। ওই দিন পেয়ারুল ছিল থানায়। মুন্না তখন বলছিল, টাকা লাগবে, আমি শ্বশুরবাড়ি যাব। পরে থানাত পেয়ারুলসুদ্ধে খাওয়া-দাওয়া করছে। পরে আমার জামাই আর পেয়ারুল একসাথে আসছে।

‘পেয়ারুল বাসায় না ঢুকি ওখানে (বাড়ির কাছে) কয়টা চ্যাংড়া (ছেলে) গাঞ্জা খাইতেছে ওখানে দাঁড়াইচে। ততক্ষণে আমার জামাই আমার কাছে আসছে, বাসায় ঢোকে নাই। ওই সময় ওই ছেলেটার (গ্রেপ্তার পারভেজ) সাথে কথা-কাটাকাটি হইচে।’

পেয়ারুলের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময় পেয়ারুল ওই ছেলেটাক কইছে, তুমি এখানে কী করো..। কেন বসি আছ, নেশা খাও কেন, এই নিয়ে কথা-কাটাকাটি হইচে। এরপর পেয়ারুল ধরছে আরকি ছেলেটাকে। মানে কোমরের বেল্ট ধরছে, ওকে চেক করবে যে তার কাছে আরও কিছু আছে নাকি।’

‘ছেলেটা কইছিল ছাড়ি দেন। পেয়ারুল যে ছাড়ি দেয় না, তখন পেয়ারুল চড়-থাপ্পড় মারছে আর কইছে এই বয়সে নেশাটেশা করো। বেয়াদব ছেলে, এইলে কথা কইছে।’

লাইলী বেগম আরও বলেন, ‘পেয়ারুল ভালো করি ধরছে তো...। এই সময় মোবাইল বের করার কথা কয়া ছেলেটা চাকু বের করে মারি দিচে। পালাবার চেষ্টা করছে তয় পারে নাই।

‘আমার জামাই তখন আমার বাড়ির সামনে দাঁড়ায়ে আছে। বেটিক ডাকে টাকা চাইতেছে... তখনই পেয়ারুল কইছে ‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’। অ্যাই (মুন্না) ফির দৌড়ি গেইচে। হামার বেটি ফির দৌড়ি যায়া দেখে পেয়ারুলের গাতও (শরীর) রক্ত, হামার জামাইয়ের গাতও রক্ত।

লাইলী বেগম জানান, পোশাকের কারণে তারা বুঝতে পারেননি পেয়ারুল কতটা আহত। পরে বাসায় নেয়ার পর পেয়ারুল গামছা দিয়ে তার পেটে ছুরিকাঘাতের স্থানটি বেঁধে নেন। এরপর পুলিশ আসার কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পুলিশ পেয়ারুলকে নিয়ে যাওয়ার পর তারা জানতে পারেন, তিনি মারা গেছেন।

ঘটনার একই বর্ণনা দেন তেলিপাড়া গ্রামের আলফাজ আলী। তিনি বলেন, ‘ওমরা (লাইলী) যা কইছে ওইলে ঘটনাই হয়।’

হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওকত আলী সরকার জানান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। পেয়ারুল সাদা পোশাকে সেই অভিযানেই ছিলেন। অভিযানে যাওয়ার আগে থানায় আবশ্যকীয় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।

রংপুর মেট্রোপলিটনের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন (অপরাধ) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি পুলিশের ওপর কোনো পরিকল্পিত আক্রমণ নয়। তাৎক্ষণিক একটা পরিস্থিতির কারণে সে (আসামি) হয়তো নিজেকে বাঁচানোর জন্য বা পুলিশের কাছ থেকে পালানোর জন্য কাজটা করেছে। যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে আমরা থ্রেট মনে করছি না।’

পুলিশের এই শীর্ষকর্তা আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় আমরা শোকাহত ঠিকই, কিন্তু আমাদের মনোবল ভেঙে যায়নি। কারণ বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত পেশাদার। আমরা সব সময় চ্যালেঞ্জিং কাজ করছি।’

এর আগে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হারাগাছ থানা এলাকার বাহারকাছনা তেলিপাড়ায় মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন পুলিশের এএসআই পেয়ারুল। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পেয়ারুল ২০১১ সালে পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে বাহিনীতে যোগ দেন। ২০১৮ সালে এএসআই হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানায় যোগ দেন। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায়।

আরও পড়ুন:
পরিবারের কাছে ফিরল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ
মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

নিহত কিশোরে স্বজনদের আহাজারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

নিহত মো. আকাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের চিনাইর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বয়স ১৮, বাড়ি উত্তরপাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তার চার বন্ধুও।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আহত হয়েছেন তার চার বন্ধু।

আহতদের অভিযোগ, এলাকায় গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মো. আকাশ সদরের চিনাইর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বয়স ১৮, বাড়ি উত্তরপাড়া এলাকায়।

আহতরা হলেন ১৬ বছরের মো. ফায়েজ, ২০ বছরের মো. আরমান, ১৪ বছরের মো. রাকিব ও ১৭ বছরের মো. মাসুম।

মাসুম জানান, সুলতানপুর গ্রামের দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে একই এলাকার শেখ কামরুলের ছেলে শেখ রিফাত বসে গাঁজা খায়। এ নিয়ে আকাশের সঙ্গে বুধবার সকালে তার তর্কাতর্কি হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি মিমাংসা করলে তারা সরে যায়।

মাসুম বলেন, বিকেলে সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যান তিনি ও আকাশসহ এলাকার কয়েকজন বন্ধু্। খেলা শেষে সন্ধ্যায় তাদের উপর ছুরি ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় রিফাত ও তার সহযোগীরা।

ছুরির আঘাতে আকাশ গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আকাশকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, আকাশের মাথা ও বুকে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। আহতদের সেখানে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সদর থানার ওসি এমরানুল জানান, ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
পরিবারের কাছে ফিরল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ
মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই

শেয়ার করুন

নালায় পড়ে মৃত্যু: সেবা সংস্থাগুলোকে আইনি নোটিশ

নালায় পড়ে মৃত্যু: সেবা সংস্থাগুলোকে আইনি নোটিশ

ফাইল ছবি

ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বুধবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নালা বা ড্রেন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সেটার দায় সিডিএ এড়াতে পারে না। সিটি করপোরেশন ও সিডিএ দুর্ঘটনারোধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা জানাতে হবে।’

চট্টগ্রামে মুরাদপুরে সবজি বিক্রেতা সালেহ আহমেদ ও আগ্রাবাদে শিক্ষার্থী সেহেরিন মাহবুব সাদিয়ার মৃত্যু হয়েছে দাবি করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) প্রধান নির্বাহীসহ ১৩ জনকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে। এতে সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) পক্ষে মঙ্গলবার ব্যারিস্টার আবদুল হালিম ও আইনজীবী ইশরাত হাসান এই নোটিশ পাঠান।

সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকাই চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে নগরবাসীর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

যাদেরকে নোটিশ দেয়া হয় তারা হলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, সিডিএ চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের ডেপুটি ডাইরেক্টর ও অ্যাসিসটেন্ট ডাইরেক্টর, সিডিএ সচিব, সিডিএয়ের প্রধান প্রকৌশলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এবং ডবলমুরিং থানার ওসি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বুধবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নালা বা ড্রেন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সেটার দায় সিডিএ এড়াতে পারে না। সিটি করপোরেশন ও সিডিএ দুর্ঘটনারোধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা জানাতে হবে।

‘দুর্ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কী না, হলে তার অগ্রগতি প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে জানাতে হবে ডবলমুরিং থানার ওসি ও সিএমপি কমিশনারকে।’

নোটিশে বলা হয়, সালেহ আহমেদ ও সাদিয়ার মৃত্যু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই হয়েছে। নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ে দিতে ব্যর্থ হলে বা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দিলে সুপ্রীম কোর্টের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে এক কোটি টাকা করে চাওয়া হবে।

ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ নিবে তার রিপোর্ট প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুরে নালায় পড়ে নিঁখোজ হন সালেহ আহমেদ। গতকাল পর্যন্ত তার খোঁজ মিলেনি। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে আগ্রাবাদে নালায় পড়ে মারা যান সাদিয়া। এ দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী কে সে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। যদিও চসিক ও সিডিএ কেউ দায় স্বীকার করেনি। বরং একে অপরকে দোষারোপ করে দুই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা।

সালেহ আহমেদ ও সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম ও আইনজীবী ইশরাত হাসানের দেয়া নোটিশেও দায় এড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

চসিক বলছে, দুদিকে ফুটপাত করলেও খালের মুখটি অরক্ষিত রেখেছে সিডিএ। তাই এর দায় সিডিএয়ের। আবার সিডিএ বলছে, খালের মালিকানা চসিকের। তাই খালের মুখে সুরক্ষা নিশ্চিতের দায়িত্বও তাদের।

নালা ও খালে পড়ে একের পর এক মৃত্যুতে নগরবাসী ক্ষুব্ধ উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, দায় এড়ানোর প্রবণতা প্রমাণ করে যে, সেবা সংস্থার মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে নগরবাসীর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পরিবারের কাছে ফিরল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ
মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই

শেয়ার করুন

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০

নোয়াখালীর একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াখালীর এসপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদেরকে চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনায় একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এছাড়া পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলাম বুধবার বেলা ৩টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিভিন্নস্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের মো. ইলিয়াস, একলাশপুর ইউনিয়নের মিজানুর রহমান, গনিপুরের নুরনবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নোয়াখালীর এসপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদেরকে চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পরিবারের কাছে ফিরল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ
মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই

শেয়ার করুন

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল।

ঢাকার সাভারে মধ্যরাতে বৃদ্ধ বাবাকে ঠান্ডা মাথায় ছেলে খুন করেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। যদিও হত্যার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এসব জানায় র‍্যাব-৪।

এতে বলা হয়, আশুলিয়ার জিরানী কোণাপাড়ায় মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ছেলে আফাজ উদ্দিনের বটির আঘাতে নিজ বাড়িতে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি খুন হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানায় আফাজ মানসিক ভারসাম্যহীন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আফাজকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ। মামলাটির ছায়া তদন্তে নামে র‍্যাব।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের মিসকিন শাহ রহমত উল্লাহ মাজার থেকে তাকে বুধবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা বটি, লুঙ্গি ও একটি বিছানার চাদর উদ্ধার করা হয়।

তবে র‍্যাবের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নিহত নূর মোহাম্মদের পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিউজবাংলাকে নূর মোহাম্মদের মেয়ে হোসনে আরা বলেন, ‘ জন্ম থেকেই আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ। বাবা ওর দেখভাল করতো, তার সঙ্গেই রাতে ঘুমাতো।’

আফাজের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘ আমার স্বামীর মানসিক সমস্যার কারণে আড়াই বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে আলাদা ঘরে থাকি। মাঝেমধ্যে আমার শ্বশুর ওর সঙ্গে ঘুমাতো।’

স্বপন মিয়া নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আফাজ একেক সময় একেক রকম আচরণ করতো। কখনও ভালো আবার কখনও খারাপ।’

র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফাজ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ড তা এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
পরিবারের কাছে ফিরল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ
মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই

শেয়ার করুন

ফেসবুক লাইভে থানায় ঢুকে আত্মহত্যার চেষ্টা সেই ছাত্রলীগ নেতার

ফেসবুক লাইভে থানায় ঢুকে আত্মহত্যার চেষ্টা সেই ছাত্রলীগ নেতার

ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক রাসেল ইকবাল। ছবি: নিউজবাংলা

রাসেল বলেন, ‘আজকে আমি বেঁচে থাকার কোনো কারণ দেখতেছি না। এই যে এইগুলো (হাতে ছোট একটি বোতল দেখিয়ে) আজকে থানার সামনে এগুলো খাব। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে পুলিশ প্রশাসন যারা আমার বাবাকে ধরে আনছে তারা...। আমার জীবনে আমার বাবাকে কখনও দেখি নাই কোনো মানুষের সঙ্গে অন্যায় করতে, খারাপ ব্যবহার করতে।’

বাঁশখালীতে সংঘর্ষে দুইজন নিহতের ঘটনায় আটক এক ব্যক্তিকে নির্দোষ দাবি করে থানায় ঢুকে ‘বিষ খেয়েছেন’ তার ছেলে।

এর আগে ফেসবুকে লাইভে এসে ওই যুবক অভিযোগ করেন, থানার ওসি, এসআই এবং স্থানীয় শুক্কুর নামের একজন তাকে ও তার বাবাকে সংঘর্ষের ঘটনায় ফাঁসিয়েছেন।

বাঁশখালী থানায় বুধবার বিকেল ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

ওই যুবক হলেন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক রাসেল ইকবাল। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

থানায় যাওয়ার আগে অটোরিকশায় বসে ফেসবুক লাইভে এসে রাসেল বলেন, '...আমার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নে, মুনছুরিয়া বাজার। এর আগেও তিনবার আমাকে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আমার বাবা নিরপরাধ একজন মানুষ। আমিও কোনো অপরাধ করিনি।

‘আমাদের এলাকায় আজকে দুইটা মারামারি হইছে, সেখানে একজন মানুষ নাকি মারা গেছে। ওই ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো প্রমাণ ছাড়া কালা শুক্কুর ডাকাত, পাগলা শাহ আলমের ছেলে মাহি ইসলাম আমাকে বিভিন্নভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করে মামলায়। আজকে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে আসছে এসআই হাবিব।’

শুক্কুরের পরামর্শে তার বাবাকে আটক করা হয়েছে দাবি করে রাসেল বলেন, ‘এসআই হাবিব সাহেবের উচিত ছিল ঘটনাস্থলে গিয়ে সব তথ্য প্রমাণ নেয়া, কে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল আর কে ছিল না। ওসি কামাল সাহেবের সঙ্গে কালা শুক্কুরের খুব ভালো সম্পর্ক। কালা শুক্কুর বলছে, সে জন্য আমার বাবাকে ধরে নিয়ে আসছে। এখন আমাকেও নাকি পুলিশ খুঁজতেছে। এখন আমি ছাত্রলীগের একজন কর্মী হয়ে আমার যদি এই অবস্থা হয়, আমার পরিবারের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ভালো থাকবে বলেন?’

শুক্কুর নামের ওই ব্যক্তি এর আগে তাকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘...আমার বন্ধুর সঙ্গে একটা মেয়ের সম্পর্ক ছিল, ওরা পালিয়ে বিয়ে করছে। ওই মামলায় কালা শুক্কুর আমাকে ফাঁসাই দিছে। তারপর আমার বন্ধু একজনের কাছে টাকা পাবে, আমি যখন রাজনীতি করি আমাকে ডাকছে, ওই ছেলেটাকেও ডাকছে। কথা বলতেছি, আমি নাকি তাকে অপহরণ করছি। ওসি সালাউদ্দিন হিরা ছিলেন, তারপর এসআই রফিক ছিলেন, পরিদর্শক শরীফ ছিলেন, ওনারা গিয়ে বাড়িতে আমার বাবাকে মারতেছে। আমার বাবার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিছে।’

এরপর তিনি থানায় গিয়ে আত্মহত্যা করবেন বলে জানান লাইভে।

রাসেল বলেন, ‘আজকে আমি বেঁচে থাকার কোনো কারণ দেখতেছি না। এই যে এইগুলো (হাতে ছোট একটি বোতল দেখিয়ে) আজকে থানার সামনে এগুলো খাব। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে পুলিশ প্রশাসন যারা আমার বাবাকে ধরে আনছে তারা...। আমার জীবনে আমার বাবাকে কখনও দেখি নাই কোনো মানুষের সঙ্গে অন্যায় করতে, খারাপ ব্যবহার করতে।’

এরপর লাইভেই তাকে থানায় ঢুকতে দেখা যায় ও কিছু লোকজনের হইচই শোনা যায়। এরপরই লাইভ শেষ হয়। এ বিষয়ে জানতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে তাদের তো আসলে আমি চিনি না কে কার বাবা। তা ছাড়া ওদের তো আমি আটক করিনি, আমি শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই ছিলাম। তাহলে তাদের আটক করে আনলাম কখন? আর শুক্কুর নামের যার কথা বলছেন, এই নামের কাউকে তো আমি চিনি না।’

বাঁশখালী পৌরসভার মনছুরিয়া বাজারে পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানো নিয়ে বুধবার দুপুরে দুই পরিবারের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। এই ঘটনায় আহত হন তিনজন।

নিহতরা হলেন ৩৪ বছর বয়সের আব্দুল খালেক ও সোলতান মাহমুদ টিপু। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক ঘটনার পরপরই নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তবে তাদের নাম আপাতত প্রকাশ করা হবে না।

রাসেলের আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়ে পরিদর্শক আজিজুল হক বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখতে গিয়েছি আমরা। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার নাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিকেল ৪টার দিকে বিষপান করা রাসেলকে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।’

জেলা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার রাতে নিউজবাংলাকে জানান, রাসেল শঙ্কামুক্ত।

আরও পড়ুন:
পরিবারের কাছে ফিরল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ
মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই

শেয়ার করুন

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, বৃষ্টির মাঝেই ফানুস উড়িয়ে উদযাপিত হয় প্রবারণা পূর্ণিমা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রবারণা উৎসবকে ঘিরে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহার আলোয় সজ্জিত করা হয়। বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, পিণ্ডদানসহ নানাবিধ দানের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা হয় মন্দিরে মন্দিরে।

সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ছায়ায় গুমোট পরিবেশে ধর্মীয় উৎসবে, সহিংসতার রাশ টেনে ধরেছে প্রাণের উচ্ছ্বাস। প্রকৃতিতে একই রূপ। বুধবার প্রবারণা পূর্ণিমার আকাশ ছিল মেঘাছন্ন। তবুও থেমে থাকেনি বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার। বিহারে বিহারে উড়েছে ফানুস।

প্রবারণার সকাল শুরু হয় বৌদ্ধ মন্দিরে ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, মঙ্গলসূত্র পাঠ, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশিল ও অষ্টাঙ্গ উপসথ শিল গ্রহণের মধ্য দিয়ে। এরপর মহাসংসদান, অতিথি আপ্যায়ন, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, আলোচনা সভা, প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা হয় মন্দিরে মন্দিরে।

বুধবার সারা দেশে একসঙ্গে উদযাপন হয়েছে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদে মিলাদুন্নবী, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজা আর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা।

রাজধানীর বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে বুধবার সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোর উৎসব শুরু হয়। তার আগে সেখানে পালন হয়েছে নানা ধর্মীয় আচার। মধ্য বাড্ডার বৌদ্ধ মন্দিরেও দিনভর ছিল নানা আয়োজন। সন্ধ্যায় আকাশে উড়েছে হরেক রকম ফানুস। যদিও দফায় দফায় বৃষ্টি প্রভাব ফেলেছে আয়োজনে।

প্রবারণার সবচেয়ে বড় আয়োজন ছিল রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে। সেখানে সুখ, শান্তি, মঙ্গলপ্রার্থনা ও পরস্পরকে ক্ষমা প্রদর্শন, পুণ্যার্থীদের ভক্তি-শ্রদ্ধা ও পূজার মধ্য দিয়ে মুখর হয়ে ওঠে বিহার।

রাজবন বিহার ছাড়াও সদর উপজেলার যমচুগ বনাশ্রম ভাবনাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শাখা বনবিহারে উৎসব হয়।

বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, পিণ্ডদানসহ নানা আয়োজন ছিল। প্রবারণা উৎসব ঘিরে পুরো রাজবন বিহার সজ্জিত হয় বর্ণিল আলোয় ।

অন্যদিকে প্রবারণার পরিসমাপ্তির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে পার্বত্য তিন জেলায় শুরু হবে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব।

তবে এ বছর রাজবন বিহারে 'বেইন বুনা' হবে না বলে জানিয়েছে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটি।

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

রাঙ্গামাটির আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী রাখেন বিশেষ বক্তব্য।

পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন ৬ নম্বর বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয়গিরি চাকমা।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী মণিস্বপন দেওয়ানসহ উপস্থিত ছিলেন অনেকে।

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

প্রবারণা অনুষ্ঠান বৌদ্ধদের অন্যতম একটি ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। এটি দিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাবাসের পরিসমাপ্তি, বর্ষাবাস ত্যাগ, প্রায়শ্চিত্তকে বোঝায়। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাস বর্ষাবাস শেষে তাদের অজান্তে ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে একে অন্যের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়।

এ ছাড়া প্রবারণাকে আত্ম-অন্বেষণ ও আত্মসমর্পণের তিথিও বলা যায়। আবার এই দিনে পূর্ণাঙ্গ অভিধর্ম দেশনা সমাপ্ত হওয়ায় এই দিনটি অভিধর্ম নামেও পরিচিত।

আরও পড়ুন:
পরিবারের কাছে ফিরল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ
মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই

শেয়ার করুন

দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: আ স ম আব্দুর রব

দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: আ স ম আব্দুর রব

কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। ছবি: নিউজবাংলা

জেএসডি সভাপতি বলেন, ‘ হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে। রংপুরের পীরগঞ্জে জেলে পাড়ায় বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় এসব সহিংসতা ক্ষমার অযোগ্য। জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।

কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে বুধবার দুপুরে এ আহ্বান জানান জেএসডি সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে, সংখ্যালঘুদের রক্ষায় জাতিসংঘ থেকেও বিবৃতি এসেছে। এমন বাংলাদেশের জন্য তো আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি।’

জেএসডি সভাপতি আরও বলেন, ‘হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে। রংপুরের পীরগঞ্জে জেলে পাড়ায় বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় এসব সহিংসতা ক্ষমার অযোগ্য। জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

কুমিল্লার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় নোয়াখালীর চৌমুহনীর ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ঘুরে দেখেন আ স ম আব্দুর রব।

এ সময় জেএসডির প্রেসিডিয়াম সদস্য তানিয়া রব, নোয়াখালী জেলা জেএসডির আহ্বায়ক মানিক পাটোয়ারীসহ জেলা ও উপজেলা জেএসডির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পরিবারের কাছে ফিরল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ
মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই

শেয়ার করুন