২৬ মের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, আরও কমল শনাক্তের হার

২৬ মের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, আরও কমল শনাক্তের হার

গত একদিনে শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই নিয়ে টানা ছয় দিন করোনা শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে ধরা পড়ল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে বিবেচনা করা হয়।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম। এই সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৯৮০ জনের দেহে। কমেছে শনাক্তের হারও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে রোববার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩৫১ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৪১৪ জনের।

একদিনে এর আগে সবচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছিল গত ২৬ মে। সেদিন ১৭ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২২ হাজার ২২১টি। শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই নিয়ে টানা ছয় দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে ধরা পড়ল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে বিবেচনা করা হয়।

গত মঙ্গলবার শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, আর বুধবার ছিল ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বৃহস্পতিবার ছিল ৪ দশমিক ৬১ এবং শক্রবার ছিল ৪ দশমিক ৫৬।

করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। সেই বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর মার্চে দেখা দেয় দ্বিতীয় ঢেউ। পরে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণের পথে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা।

চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়। এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর থেকে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ৭ জন, নারী ১৪ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এছাড়া ত্রিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৭, ষাটোর্ধ্ব ৭ ও সত্তরোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৪, খুলনায় ১, রাজশাহী ২, সিলেটে ৩ ও ময়মনসিংহে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৩১২ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ১১ হাজার ৪৭৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু
বগুড়ায় স্কুলছাত্রের করোনা
করোনা পরীক্ষার ফল জানতে লাগছে ১৪ দিন
এবার নড়াইলে শিক্ষক-ছাত্রের করোনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১৭৯ জন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১৭৯ জন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ফাইল ছবি

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৪৯৮ জন। এর মধ্যে শুরুর ছয় মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১৭৯ রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৪৯৮ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে রোববার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫৪ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৫ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৪৯৮ জন। এর মধ্যে শুরুর ছয় মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন।

জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। সে মাসে রোগী শনাক্ত হয় ২ হাজার ২৮৬ জন; মৃত্যু হয় ১২ জনের। আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন। সে মাসে মারা যায় ৩৪ জন।

সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন, মৃত্যু হয় ২৩ জনের।

চলতি মাসে ৪ হাজার ৩০১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৮ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২১ হাজার ৫৭১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৮৪০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৬টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬৮০ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু
বগুড়ায় স্কুলছাত্রের করোনা
করোনা পরীক্ষার ফল জানতে লাগছে ১৪ দিন
এবার নড়াইলে শিক্ষক-ছাত্রের করোনা

শেয়ার করুন

করোনায় আরও ৯ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৫

করোনায় আরও ৯ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৫

প্রতীকী ছবি

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩২টি ল্যাবে করোনার ১৮ হাজার ৪৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ৩৩ দিনে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৮২৩ জনে।

গত এক দিনে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ২৭৫ জনের দেহে। এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯২ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩২টি ল্যাবে করোনার ১৮ হাজার ৪৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ৩৩ দিনে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সেই দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ধরা হয়। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসছে। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থেকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় সরকার।

সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক দিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩ ও নারী ৬ জন। এর মধ্যে এক শিশু রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২ ও ষাটোর্ধ্ব ৪ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর চট্টগ্রামে ২ ও সিলেটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩৮৬ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৩২৭ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু
বগুড়ায় স্কুলছাত্রের করোনা
করোনা পরীক্ষার ফল জানতে লাগছে ১৪ দিন
এবার নড়াইলে শিক্ষক-ছাত্রের করোনা

শেয়ার করুন

এক হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন যিনি

এক হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন যিনি

ডা. কামরুল ইসলাম জানালেন, তার প্রতিষ্ঠিত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালটি মূলত গরিব মানুষের সেবা দেয়ার জন্য। ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘গত এক বছরে করোনার মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে ১৪৯টি। এর মধ্যে মাত্র সাতটি কিডনি কাজ করেনি। সে অনুযায়ী সফলতার হার অনেক ভালো। প্রতিস্থাপনের পর মাত্র ৪ শতাংশ কিডনি বিকল হয়েছে, সফলতা ৯৬ শতাংশ।’

এক হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনের মাইলফলক ছুঁয়েছেন অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম ও তার প্রতিষ্ঠান শ্যামলীর সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতাল। গরিব রোগীদের কমমূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন ডা. কামরুল ইসলাম।

করোনাকালেও বন্ধ ছিল না কিডনি প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম। অতিমারির দেড় বছরে তিন শতাধিক কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে চারটি করে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে এ হাসপাতালে।

নিউজবাংলা কথা বলেছে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের সঙ্গে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। তার বাবা আমিনুল ইসলাম স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হন।

নিউজবাংলা: কিডনি প্রতিস্থাপনে খরচ কেমন?

ডা. কামরুল ইসলাম: ২ লাখ ১০ হাজার টাকার প্যাকেজ মূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে। এই সেবায় ১৫ দিনের এ প্যাকেজের মধ্যে আছে দুজনের অস্ত্রোপচার খরচ (রোগী ও ডোনার), বেড ভাড়া এবং ওষুধ খরচ। এর চেয়ে কম খরচে দেশের বেসরকারি হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। আমাদের পাশের দেশেও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য খরচ ১৫ লাখ টাকার বেশি। তবে উন্নত বিশ্বের মতোই সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও ১২ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এমন কাজ করা হচ্ছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বাবার সম্মানে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য আমি স্বল্প পারিশ্রমিক নেই। প্রতিস্থাপনের আগে ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হলে এই হাসপাতালে ব্যবস্থা রয়েছে। সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে আছে ২২ বেডের ডায়ালাইসিস ইউনিট। মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা আছে। আইসিইউ বেডের খরচ ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা।

নিউজবাংলা: কিডনি প্রতিস্থাপনে আপনাদের সাফল্যের হার কেমন?

ডা. কামরুল ইসলাম: চিকিৎসাসেবায় ১৪ বছরের মধ্যে ১ হাজার ২টি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। গত এক বছরে করোনার মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে ১৪৯টি। এর মধ্যে মাত্র সাতটি কিডনি কাজ করেনি। সে অনুযায়ী সফলতার হার অনেক ভালো। প্রতিস্থাপনের পর মাত্র ৪ শতাংশ কিডনি বিকল হয়েছে, সফলতা ৯৬ শতাংশ। এ ছাড়া কিডনি প্রতিস্থাপনের পর করোনা আক্রান্ত হয়ে দুজন মারা গেছেন। কিডনি প্রতিস্থাপনের দুই দিন পর হার্ট অ্যাটাক হয়ে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। কিডনি প্রতিস্থাপনের পর অনেক বেশি সাবধান হতে হয়। রোগীর এ সময় বাইরের খাবার না খাওয়া ভালো।

প্রতিস্থাপনের পর রোগীর প্রতিনিয়ত ওষুধ খাওয়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধ খাওয়ানো যদি এদিক-সেদিক হয়, তাহলে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। তবে আমরা দেখেছি প্রতিস্থাপনের পর অনেক সময় অর্থনৈতিক কারণে রোগীরা ঠিকমতো ওষুধ খান না। এমন সমস্যা বেশি দেখা দেয় নারী রোগীর ক্ষেত্রে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদেশি ওষুধ সময়মতো দেশে পৌঁছেনি, এতে কিডনি রোগীর সমস্যা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ওষুধ না পাওয়ায় ভালো কিডনি অনেক সময় নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

এক হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন যিনি
পরিবারের সঙ্গে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম

নিউজবাংলা: করোনার মধ্যে কীভাবে ৩০০ কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হলো?

ডা. কামরুল ইসলাম: করোনার মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন সাহসী সিদ্ধান্তের কারণে সম্ভব হয়েছে। দেশে যখন প্রথম করোনা মহামারি দেখা দিল, তখন সবাই ঝুঁকির মধ্যে ছিল। কীভাবে এই সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়, এ বিষয়ে তেমন কারও জানা ছিল না। রোগী ও চিকিৎসক সবাই আতঙ্কে ছিলেন। যে কারণে অনেক চিকিৎসক চেম্বার করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

করোনার মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়তো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তবে রোগীদের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে দেশে যখন প্রথম লকডাউন শুরু হলো, সেদিন বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কী করব। করোনার মধ্যে আমি ডায়ালাইসিস বন্ধ রাখতে পারব না। ডায়ালাইসিসের কাজে সংশ্লিষ্ট যে স্বাস্থ্যকর্মী, তাদের কাছে জানতে চাইলাম কী করতে চান। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেছিলেন, যদি সুরক্ষা উপকরণ থাকে, আমাদের দায়িত্ব পালন করতে কোনো আপত্তি নেই।

তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ‍কিডনি প্রতিস্থাপন চলমান থাকবে। কারণ কিডনি প্রতিস্থাপন এক মাস পিছিয়ে গেলে ৫০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হবে। সে কারণে আমাদের ১২ সদস্যের টিমের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে করোনার মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। এভাবে ৩০০ কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

নিউজবাংলা: গরিব রোগীদের বিশেষ কী ছাড় দেয়া হয়?

ডা. কামরুল ইসলাম: সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালটি মূলত গরিব মানুষের সেবা দেয়ার জন্য। আমার হাসপাতালগুলো কিন্তু এভারকেয়ার, স্কয়ার, ল্যাবএইডের মতো না। আমার লক্ষ্য, আমি এখানে চিকিৎসাসেবা ভালো দিব, কিন্তু হাসপাতালের পরিবেশ এত ভালো দিতে পারব না। দেশীয় সব উপকরণ দিয়েই আমার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। ভালো চিকিৎসা দেয়া প্রধান লক্ষ্য, দ্বিতীয় লক্ষ্য খরচ কম নেয়া। আমাদের হাসপাতালে ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় কিডনি প্রতিস্থাপন করা যায়, সেটি অন্যান্য দেশে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকায় করতে হয়। তারা যে ওষুধ ব্যবহার করে, যে সুতা ব্যবহার করে, এমনকি তারা যে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে, আমরাও তা-ই ব্যবহার করি। আমাদের ফলাফল ও তাদের ফলাফল একই। আমাদের লক্ষ্য গরিব ও অসহায় রোগীদের অল্প খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন। আমরা তা করে যাচ্ছি। এটাই আমাদের সাফল্য।

এক হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন যিনি
সহকর্মীদের সঙ্গে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম

নিউজবাংলা: রোগীদের ফলোআপ পরীক্ষা বিনা মূল্যে?

ডা. কামরুল ইসলাম: এ পর্যন্ত যে ১ হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, সব রোগীর ফলোআপ পরীক্ষা বিনা মূল্যে করা হয়েছে। প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী আসেন ফলোআপ পরীক্ষার জন্য। তাদের সবার ফলোআপ বিনা মূল্যে করানো হয়। রোগীপ্রতি পরীক্ষার খরচ আসে ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা। এমনকি রিপোর্ট দেখতে কোনো ফি নেয়া হয় না। এই ফলোআপের কারণে রোগীর কিডনি অনেক দিন সুস্থ থাকে। যদি ফলোআপ পরীক্ষার জন্য টাকা নেয়া হতো, তাহলে রোগীদের বড় একটি অংশ প্রতিস্থাপনের পর ফলোআপ পরীক্ষা করতে আসত না। তাতে অনেকেরই কিডনি নষ্ট হওয়ার শঙ্কা থাকত।

আগামী দিনে কিডনিদাতাদের মধ্যে কিডনি রোগ দেখা দিলে তাদেরও ফ্রি চিকিৎসা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া যারা কিডনিদাতা তাদের এক বছরের কিডনি ফলোআপ পরীক্ষা ফ্রি করা হবে। এমনকি তাদের যদি কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়, সেটিও ফ্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউজবাংলা: দেশে প্রতিবছর ৪০ হাজার মানুষের কিডনি পুরোপুরি অকেজো হচ্ছে। এমন উদ্বেগজনক হার কমাতে করণীয় কী?

ডা. কামরুল ইসলাম: দেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে তিন প্রধান রোগ রয়েছে: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ইউরিন সমস্যার। এ ছাড়া অনেক কারণে কিডনি রোগ দেখা দিতে পারে। বাচ্চাদের জন্মগত ত্রুটি রয়েছে। বাইরের পচা-বাসি খাবার খেলেও এই রোগ দেখা দিতে পারে। কিডনি রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু
বগুড়ায় স্কুলছাত্রের করোনা
করোনা পরীক্ষার ফল জানতে লাগছে ১৪ দিন
এবার নড়াইলে শিক্ষক-ছাত্রের করোনা

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু: হাসপাতালে ভর্তি আরও ১৮৯

ডেঙ্গু: হাসপাতালে ভর্তি আরও ১৮৯

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১২২ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৩১৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৮৬ জন।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫৫ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৩১৯ জন। এর মধ্যে শুরুর ছয় মাস ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন।

এ বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৬ জন। মারা যায় ১২ জন।

আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন। মারা যায় ৩৪ জন।

সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন। ওই মাসে মশাবাহিত রোগটিতে প্রাণ হারায় ২৩ জন।

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১২২ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৭ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২২ হাজার ৩১৯ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ২১ হাজার ৩৯৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮৩৮ জন।

তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৬টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬৬৯ ডেঙ্গু রোগী। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু
বগুড়ায় স্কুলছাত্রের করোনা
করোনা পরীক্ষার ফল জানতে লাগছে ১৪ দিন
এবার নড়াইলে শিক্ষক-ছাত্রের করোনা

শেয়ার করুন

করোনায় ৯ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৮

করোনায় ৯ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৮

দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৭ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৪ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ২৭৮ জনের দেহে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শনিবার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৭ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৪ জনের।

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩২টি ল্যাবে করোনার ১৫ হাজার ৪২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্তের হার ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ৩২ দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী কোনো দেশের করোনা সংক্রমণ হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সেই দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে বিবেচনা করা হয়।

সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ করোনা দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এসেছে অনেক আগে। তবে সরকারের লক্ষ্য সংক্রমণ হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থেকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় সরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত একদিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৬ জন, নারী ৩ জন। এর মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। বাকিদের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব ১, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১ ও ষাটোর্ধ্ব ৬ জন।

বিভাগ অনুযায়ী ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনাতে ২ জন করে মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে মারা গেছে। এদের মধ্যে একজন বাড়িতে বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৯৪ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৪১ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু
বগুড়ায় স্কুলছাত্রের করোনা
করোনা পরীক্ষার ফল জানতে লাগছে ১৪ দিন
এবার নড়াইলে শিক্ষক-ছাত্রের করোনা

শেয়ার করুন

টাকা ব্যয় করতে পারে না স্বাস্থ্য খাত

টাকা ব্যয় করতে পারে না স্বাস্থ্য খাত

স্বাস্থ্য খাতে এবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে খরচ হয়েছে মাত্র ৩০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ শতকরা হারে মোট বরাদ্দের ২.৩৩ শতাংশ খরচ হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। সে অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের চেয়ে বরাদ্দও বাড়িয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য খাত সে অনুযায়ী ব্যয় করতে পারছে না।

করোনার মধ্যে পর পর দুই বছর স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নের এ চিত্র দেখা গেছে। ব্যয়ের দিক থেকে স্বাস্থ্য খাত দৈন্যদশা থেকে কিছুতেই বের হতে পারছে না।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন (আইএমইডি) বিভাগের সবশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার স্বাস্থ্যসেবা খাতে মাত্র ২.৩৩ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে ৬.১৮ শতাংশ।

সব মিলিয়ে আলোচ্য অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে গড়ে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৪ শতাংশের সামান্য বেশি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেছেন, বর্ষা, দরপত্রে বিলম্বসহ নানা কারণে অর্থবছরের শুরুতে কাজের ধীরগতি থাকে। শীত মৌসুমে বাস্তবায়নে গতি আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যের বেশির ভাগ প্রকল্প বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট। বিদেশি প্রকল্পে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হয়। ফলে অর্থ যথাসময়ে খরচ করা যায় না।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে এডিপিতে মোট ৬০টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৬টি। বাকি ১৪টি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের।

আইএমইডির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এডিপিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রথম তিন মাসে খরচ হয়েছে মাত্র ৩০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ শতকরা হারে মোট বরাদ্দের ২.৩৩ শতাংশ খরচ হয়েছে।

অন্যদিকে বর্তমান অর্থবছরে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। তিন মাসে তারা ব্যয় করেছে ৬.১৮ শতাংশ বা ১৫৮ কোটি টাকা।

ফলে সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৬১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা শতকরা হারে ৪.২৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবায়নের হার ছিল গড়ে সাড়ে ৪ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ ৩২ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে করোনার টিকা কেনায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শুধু বরাদ্দ বাড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতের নাজুক অবস্থার পরিবর্তন হবে না। ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থহীন ব্যয়ের অভিযোগগুলোরও সমাধান করতে হবে। এ খাতকে ঢেলে সাজাতে দীর্ঘ মেয়াদে একটি রোডম্যাপ বা পথ নকশা করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাজেটে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়, সেটাও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় না। আবার বরাদ্দের বেশির ভাগ টাকা চলে যায় ভৌত অবকাঠামো, বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে।

‘প্রকৃতপক্ষে রোগীর সেবার জন্য বরাদ্দ খুবই কম। তবে এটাও ঠিক শুধু বরাদ্দ বাড়ালে হবে না। সেই সঙ্গে এ খাতে দুর্নীতি-অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল সংস্কার করতে হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এডিপিতে মোট বরাদ্দের ৮৪ শতাংশ অর্থ খরচ হয় সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১৫টি মন্ত্রণালয়ে। যার মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অন্যতম।

বাস্তবায়নের চিত্র

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট এডিপির আকার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম তিন মাসে খরচ হয়েছে ১৯ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, যা শতকরা হারে ৮.২৬ শতাংশ।

গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ৮.০৬ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের শুধু সেপ্টেম্বরে টাকা খরচ হয়েছে ১০ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, যা শতকরা হারে ৪.৪ শতাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডিএসের সাবেক ঊর্ধ্বতন গবেষণা পরিচালক, বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘বাংলাদেশে এডিপি বাস্তবায়নের দুর্বল দিক হচ্ছে অর্থবছরে প্রথম দিকে খুব কমই টাকা ব্যয় হয়। শেষ দিকে ব্যয়ের চাপ বেশি থাকায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকে। এই সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু
বগুড়ায় স্কুলছাত্রের করোনা
করোনা পরীক্ষার ফল জানতে লাগছে ১৪ দিন
এবার নড়াইলে শিক্ষক-ছাত্রের করোনা

শেয়ার করুন

হাসপাতালে ফুসফুস পৌঁছে দিচ্ছে ড্রোন

হাসপাতালে ফুসফুস পৌঁছে দিচ্ছে ড্রোন

ফুসফুস নিয়ে টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের ছাদে অবতরণের পর ইউনিদার বায়োইলেকট্রনিকের ড্রোন। ছবি: ইউরো নিউজ

ড্রোন দিয়ে ফুসফুস পরিবহনের সফল এই ফ্লাইটটি পরিচালনায় স্বাস্থ্য ও বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়েছিল। অনুমতি পেতে প্রায় অর্ধশতবার পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক সংশোধন আনতে হয়েছে। যেমন ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহরে ড্রোনটি যেন বেতার তরঙ্গ প্রতিরোধক হয়, তা নিশ্চিত করতে হয়েছে।

রাতের অন্ধকারে টরন্টো শহরে এক হাসপাতালের ছাদ থেকে উড়ে গেল একটি ড্রোন। কানাডার ব্যস্ত ও বৃহত্তম মহানগরীর সড়কে গাড়িঘোড়ার শব্দে ছোট্ট উড়োযানটির আরও ছোট যান্ত্রিক পাখার শব্দ আলাদা করে ধরতে পারেনি পথচলতি মানুষ।

ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোট্ট ড্রোনটি বহন করছিল অমূল্য এক সম্পদ মানুষের ফুসফুস, যা প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় কোনো মৃত্যুপথযাত্রী।

প্রথম ফ্লাইটেই আকাশছোঁয়া ভবন, যানজট আর দোকানপাটে মানুষের ভিড় পেছনে ফেলে দ্রুততম সময়ে ফুসফুস গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে ড্রোনটি।

মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রতিস্থাপনযোগ্য ফুসফুস আনা-নেয়া বা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ড্রোনের ব্যবহার নজিরবিহীন, যা করে দেখিয়েছে কানাডা।

এ কাজে ব্যবহৃত ড্রোনটির ওজন মাত্র সাড়ে ১৫ কেজি বা ৩৪ পাউন্ড। কার্বন ফাইবারে তৈরি বিদ্যুৎ-চালিত ড্রোনটি তৈরি করেছে কিউবেকভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিদার বায়োইলেকট্রনিকস।

শহরের পশ্চিমে অবস্থিত টরন্টো ওয়েস্টার্ন হাসপাতাল থেকে টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের ছাদে ফুসফুস পৌঁছে দিয়েছে ড্রোনটি। ১০ মিনিটের কম সময়ে অতিক্রম করেছে পৌনে এক মাইল দূরত্ব।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মাসের শেষ সপ্তাহে। ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয় হলেও পুরো পথে সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলেছিলেন একদল প্রকৌশলী ও চিকিৎসক।

ড্রোনকেন্দ্রিক এ প্রকল্পে কারিগরি একটি দলের সঙ্গে দুই বছর ধরে কাজ করছেন চিকিৎসক শাফ কেশবজি। তিনি বলেন, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় প্রমাণ করছি আমরা। টরন্টোর মতো ব্যস্ত শহরের মাঝ দিয়ে নিরাপত্তা বজায় রেখেই ড্রোন চালিয়ে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন সম্ভব।’

ইউনিদার বায়োইলেকট্রনিকের ড্রোনবিষয়ক প্রকৌশলী মিখাইল কার্ডিনাল জানান, ড্রোনটি একটি হিমায়িত কালো বাক্স বহন করেছে। ওই বাক্সটি ‘অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নির্ধারিত তাপমাত্রা ধরে রাখতে সক্ষম’, যেন প্রত্যঙ্গটি মানবদেহের বাইরেও ‘কার্যকর থাকে এবং অন্য দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়’।

ফুসফুসবাহী ড্রোনটির অবতরণের সময় টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের ছাদে অপেক্ষা করছিলেন অস্ত্রোপচারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সদস্যরা। তারা ড্রোনের ভেতর থেকে প্যাকেটে সংরক্ষিত ফুসফুসটি বের করেন এবং অপেক্ষারত রোগীর দেহে সেটি প্রতিস্থাপন করেন।

প্রাণঘাতী রোগ পালমোনারি ফিব্রোসিসে আক্রান্ত ৬৩ বছর বয়সী এক রোগীর দেহে ফুসফুসটি প্রতিস্থাপন করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে সুস্থ আছেন ওই রোগী।

ড্রোন দিয়ে ফুসফুস পরিবহনের সফল এই ফ্লাইটটি পরিচালনায় স্বাস্থ্য ও বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়েছিল।

অনুমতি পেতে প্রায় অর্ধশতবার পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক সংশোধন আনতে হয়েছে। যেমন ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহরে ড্রোনটি যেন বেতার তরঙ্গ প্রতিরোধক হয়, তা নিশ্চিত করতে হয়েছে।

যদি তাও কোনোভাবে চূড়ান্ত ফ্লাইটটি ব্যর্থ হতো, তাও যেন ফুসফুসটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, সেটি নিশ্চিতেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। সে জন্য ড্রোনে একটি ব্যালিস্টিক প্যারাশুট যুক্ত করা ছিল। ড্রোনটি মাঝপথে বিকল হলে সেটিকে ও ফুসফুসটিকে ধীরগতিতে এবং নিরাপদে গন্তব্যে অবতরণে সাহায্য করতো প্যারাশুটটি।

ড্রোন দিয়ে মানবদেহে প্রতিস্থাপনযোগ্য ফুসফুস পরিবহনের ঘটনা বিশ্বে এটাই প্রথম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি।

তবে ২০১৯ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যেও এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় ড্রোন দিয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য কিডনি হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল।

সাধারণত বিমানবন্দর হয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ স্থানান্তর করা হয়, বিশেষ করে যখন এক শহর থেকে অন্য শহরে নেয়া হয় সেটি। বিমানবন্দর থেকে বিশেষ যানবাহনের মাধ্যমে সেটিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়।

এ ক্ষেত্রে দুটি হাসপাতাল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থানান্তরে সরাসরি ড্রোন ব্যবহার করলে সময় বাঁচে এবং যানজট এড়ানো সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু
বগুড়ায় স্কুলছাত্রের করোনা
করোনা পরীক্ষার ফল জানতে লাগছে ১৪ দিন
এবার নড়াইলে শিক্ষক-ছাত্রের করোনা

শেয়ার করুন