হাইওয়ে থানায় ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

হাইওয়ে থানায় ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার ভিডিও থেকে নেয়া ছবি। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলার কাজল সরকার বলেন, ‘একটা সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় যাই। সেখানে আমি ও আমির হামজা ছবির কাজ করতেছিলাম। সেই সময় হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে নিজেদের থানার লোক বলে পরিচয় দিয়ে আমাদের মারতে শুরু করে। শার্টের কলারে ধরে থানার ভিতরে নিয়ে যায়।’

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর জেলা প্রতিনিধি কাজল সরকার ও ডেইলি অবজারভার পত্রিকার প্রতিনিধি আমির হামজা।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার পাশে একটি গ্যারেজের ছবি তোলার সময় রোববার দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকদের থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও নিউজবাংলার হাতে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে ওই সাংবাদিকদের দুইজন লোক টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, একজন লাঠি দিয়ে মারধর করছেন।

নিউজবাংলার কাজল সরকার বলেন, ‘একটা সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় যাই। সেখানে আমি ও আমির হামজা ছবির কাজ করতেছিলাম। সেই সময় হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে নিজেদের থানার লোক বলে পরিচয় দিয়ে আমাদের মারতে শুরু করে। শার্টের কলারে ধরে থানার ভিতরে নিয়ে যায়।

‘থানার ভিতর নিয়ে যাওয়ার পরও তারা আমাদের মারার জন্য হামলা চালায়। তখন কয়েকজন কনস্টেবল এসে আমাদের উদ্ধার করেন।’

এ বিষয়ে জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম মুরাদ আলিকে এই প্রতিবেদক ফোন করলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি যেহেতু হাইওয়ে থানায় ঘটেছে। আপনি হাইওয়ে থানার এসপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই।’

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলামকেও ফোন করা হয় মন্তব্যের জন্য। তিনি বলেন, ‘আগে বিষয়টা জানবেন তারপর মন্তব্য করবেন। গ্যারেজটি থানার না, সেটি পাবলিক গ্যারেজ। তাদের (সাংবাদিকদের) সমস্যা হয়েছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে, পুলিশের না। আমি মাত্র থানায় আসছি, আপনিও পারলে থানায় আসেন।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাম্প্রদায়িক সংঘাত: লক্ষ্মীপুরে গণঅনশন

সাম্প্রদায়িক সংঘাত: লক্ষ্মীপুরে গণঅনশন

হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ভাংচুরের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে লক্ষ্মীপুরে গণঅনশন ও অবস্থান কর্মসূচি। ছবি: নিউজবাংলা

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি রতন লাল ভৌমিক বলেন, ‘বারবার হামলার শিকার হতে হচ্ছি। কুমিল্লার ঘটনায় কোনো মুসলিম বা হিন্দু ধর্মের মানুষ এ কাজ করেনি। করতে পারেনা। এটি করেছে একটি গোষ্ঠী। ওই গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, পূজামণ্ডপ, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবিতে লক্ষ্মীপুরে গণঅনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সকাল ৬টা থেকে এই গণঅনশন এবং অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়; চলবে বেলা ১২টা পর্যন্ত।

কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

এতে বক্তব্য রাখেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি রতন লাল ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেবনাথ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু শংকর মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক বাবু স্বপন নাথ, জহর লাল, বাবু শিপন মজুমদারসহ আরও অনেকে।

বাবু শংকর মজুমদার বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ও রামগতিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে মন্দিরে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। এ দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে। এদেশে সন্ত্রাসী চলবে না। এসব হামলা ও ভাঙচুর করে কখনও সফল হওয়া যাবেনা।’

বক্তাদের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিন্তু কোনো ঘটনার বিচার হয়নি।

রতন লাল ভৌমিক বলেন, ‘বারবার হামলার শিকার হতে হচ্ছি। কুমিল্লার ঘটনায় কোনো মুসলিম বা হিন্দু ধর্মের মানুষ এ কাজ করেনি। করতে পারেনা। এটি করেছে একটি গোষ্ঠী। ওই গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

এসব হামলার ঘটনার সুষ্ঠ বিচার না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা।

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ‘হোতা’ গ্রেপ্তার

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ‘হোতা’ গ্রেপ্তার

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ। ছবি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার মামলায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় এখনও জানানো হয়নি।

গ্রেপ্তার আসামিকে মুহিবুল্লাহ হত্যার হোতা বলে জানিয়েছেন ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক নাইমুল হক।

শনিবার ১০টার দিকে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।

শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

২৯ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে তার নিজ কার্যালয়ে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গারা জানান, লম্বাশিয়া ক্যাম্প ওয়ান ওয়েস্টে বাসার সামনে প্রতিদিনের অফিস করছিলেন মুহিবুল্লাহ। ওই সময় একদল লোক এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়।

পরে অন্যরা দ্রুত উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মুহিবুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরের দিন মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিব উল্লাহ অজ্ঞাতনামা ২৫ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় মামলা করেন।

মুহিবুল্লাহ হত্যায় জড়িত সন্দেহে ক্যাম্পে দায়িত্বরত এপিবিএন পাঁচজন ও উখিয়া থানা পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শেয়ার করুন

মেঘনায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

মেঘনায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজ শিশু ইমাম গাজীর মরদেহ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ছবি: নিউজবাংলা

কবির হোসেন জানান, শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের ফায়ার স্টেশনের ডুবুরিদল মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান করে। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার অভিযান শেষ করা হয়। পরে শনিবার আবার অভিযান চালিয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মেঘনা নদীতে নিখোঁজ শিশু ইমাম গাজীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরিদল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেঘনা নদীর জিয়াকান্দি এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার কবির হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের ফায়ার স্টেশনের ডুবুরিদল মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান করে। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার অভিযান শেষ করা হয়। পরে শনিবার সকাল ৬টা থেকে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল আবার অভিযান চালিয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

সকাল ৯টার দিকে মরদেহটি তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা।

৮ বছর বয়সী ইমাম গাজী জিয়াকান্দি এলাকার ফখরুদ্দিন গাজীর ছেলে; স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির আল নাসিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ দাফনের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।’

শুক্রবার দুপুরে মায়ের সঙ্গে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে ইমাম গাজী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিখোঁজ হয়।

স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিলে শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের দুটি ইউনিটের ডুবুরিদল মেঘনা নদীতে অভিযান চালায়।

শেয়ার করুন

চুল কর্তন: ফারহানার শাস্তি চেয়ে ফের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

চুল কর্তন: ফারহানার শাস্তি চেয়ে ফের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীদের চুল কাটায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকার অফিসে শুক্রবার বিকেলে সিন্ডিকেট বৈঠক হয়। টানা তিন ঘণ্টা বৈঠকের পরও ফারহানার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সিন্ডিকেট। বিষয়টি জানার পর অনশন কর্মসূচি ও লাগাতার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেয়া শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট বৈঠক মুলতবি করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে নেমেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকার অফিসে শুক্রবার বিকেলে সিন্ডিকেট বৈঠক হয়। টানা তিন ঘণ্টা বৈঠকের পরও ফারহানার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সিন্ডিকেট।

বিষয়টি জানার পর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কান্দাপাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের সামনে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীরা জরুরি বৈঠক করে ফের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন। তারা অনশন কর্মসূচি ও লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীরা দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে শাহজাদপুরের কান্দাপাড়ার প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন এবং বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেন।

এতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

চুল কর্তন: ফারহানার শাস্তি চেয়ে ফের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রবীন্দ্র উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা অফিসে সিন্ডকেট বৈঠক ডাকেন ভিসি। বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারীদের পক্ষে শিক্ষার্থী শামীম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবারের সিন্ডিকেট বৈঠকে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত আশা করেছিলাম, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে আমাদের পরীক্ষার হলে ফিরে যেতে বলে। আমরা তাদের এ আদেশ গ্রহণ না করে শিক্ষিকা ফারহানার স্থায়ী বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত আবারও আন্দোলন শুরু করেছি।’

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ এবং রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী জানান, শুক্রবার সিন্ডিকেট সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কিছু মতভেদের কারণে পরবর্তী সময়ে আবার বৈঠক হবে। এখন আবার ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করেছে।

চুল কর্তন: ফারহানার শাস্তি চেয়ে ফের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন দরজায় কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের সামনের অংশের বেশ খানিকটা কেটে দেন তিনি। এভাবে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ওই শিক্ষক।

ওই ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শিক্ষক ফারহানার শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়। মীমাংসা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফারহানা ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের গালাগালি করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে নাজমুল হাসান তুহিন নামের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে গালাগালি করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের হুমকি দেন।

ওই ঘটনার পর ‘অপমান সইতে না পেরে’ তুহিন রাতে দ্বারিয়াপুরের শাহ মখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে দরজা আটকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের শাস্তির দাবিতে দফায় দফায় আন্দোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

শেয়ার করুন

পঞ্চগড়ের মোটা বালু, অব্যবস্থাপনায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

পঞ্চগড়ের মোটা বালু, অব্যবস্থাপনায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

পঞ্চগড়ের নদ-নদীতে উজান থেকে আসা নুড়ি পাথর, সিলিকা ও মোটা দানার বালুর চাহিদা রয়েছে সারা দেশে। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চগড় জেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক এই সম্পদের ক্ষেত্র। করতোয়া, মহানন্দা, ডাহুক, চাওয়াই, করুম, ভেরসাসহ অন্যান্য নদীর বিশাল এলাকা থেকে তোলা হচ্ছে মোটা ও সিলিকা বালু। এসব বালু বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক, বহুতল ভবনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক নদ-নদী। এসব নদ-নদীতে উজান থেকে আসে মূল্যবান নুড়ি পাথর, সিলিকা ও মোটা দানার বালু।

গুণগত মানের কারণে পঞ্চগড়ের সিলিকা ও মোটা দানার বালুর চাহিদা এখন দেশজুড়ে। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি বালু সংরক্ষণ ও বিপণনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে।

পঞ্চগড় জেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক এই সম্পদের ক্ষেত্র। করতোয়া, মহানন্দা, ডাহুক, চাওয়াই, করুম, ভেরসাসহ অন্যান্য নদীর বিশাল এলাকা থেকে তোলা হচ্ছে মোটা ও সিলিকা বালু। এসব বালু বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক, বহুতল ভবনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে ভজনপুর-তেঁতুলিয়া বাংলাবান্ধা এলাকা পর্যন্ত করতোয়াসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পাড়ে প্রায় হাজারখানেক স্থান থেকে বালু তোলা হয়। সারা বছর এসব স্থান থেকে দিন-রাত চলে বালু উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন এসব বালু শত শত ট্রাকে ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী, চাঁপাই, পাবনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, খুলনাসহ পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়।

পঞ্চগড়ের মোটা বালু, অব্যবস্থাপনায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

নদী থেকে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বালু ব্যবসায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত দুই লাখের বেশি মানুষ। একজন বালুশ্রমিক সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আয় করেন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।

পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, জেলার ভূগর্ভস্থ নুড়ি পাথর এবং বিভিন্ন নদ-নদীর সিলিকা ও মোটা দানার বালু উত্তোলন, বিপণন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো নীতিমালা নেই। এতে কিছু মানুষ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে ইজারা দিয়ে লাভবান হচ্ছে।

এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর পরিবেশ বিপর্যয় করে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এসব সম্পদ আহরণ করায় জেলার জীববৈচিত্র্যে নানা প্রভাব পড়ছে।

পঞ্চগড় জেলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ সদস্য আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, ‘পঞ্চগড় জেলায় ভূগর্ভস্থ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের সুষ্ঠু কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে জমি যার, খনি তার এই নীতিতেই চলছে। পরিকল্পিতভাবে এসব সম্পদের ব্যবহার করতে না পারলে ভবিষ্যতে পরিণতি খারাপ হবে।’

অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের বলেন, ‘নদীকেন্দ্রিক এই জনপদের বালু, পাথরসহ অন্যান্য সম্পদ সংরক্ষণ, বিপণন যেভাবে চলছে, তাতে সম্ভাবনার জায়গাগুলো অতি দ্রুতই বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

পঞ্চগড়ের মোটা বালু, অব্যবস্থাপনায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে অতিরিক্ত লোড নিয়ে বালু-পাথর পরিবহন করায় গ্রামীণ জনপদের রাস্তাঘাট ভেঙে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। আর লাভবান হচ্ছে একটি মহল। জাতীয় স্বার্থে সরকারের এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।’

তবে বালু ব্যবসায়ীদের দাবি, সব খরচ বাদ দিয়ে তাদের খুব বেশি লাভ থাকে না।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বটতলীর বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বাবলু জানান, ১০ চাকার একটি ট্রাকে মান অনুযায়ী ৮ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকার বালু বিক্রি হয়। এ ক্ষেত্রে ইজারাদারকে দিতে হয় ৮০০ টাকা।

নিজের নৌকার খরচসহ শ্রমিকদের আনুষাঙ্গিক উপকরণ সরবরাহ করতে হয়। ট্রাকপ্রতি বালু শ্রমিকদের দিতে হয় পাঁচ হাজার টাকা। সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ট্যাক্স।

ইজারাদার আব্দুর রহমান জানান, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবছর বালুমহালের ডাক বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ব্যবসায় তেমন লাভ আর হয় না। তবে এলাকার শ্রমিকরা খেয়ে-পরে জীবন চালাতে পারছেন।

জেলা পাথর-বালু ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আবু সালেক বলেন, ‘জেলার ১৫টি বালুমহাল থেকে চলতি বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্থানীয় অর্থ বাণিজ্যে এই শিল্প ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। সঠিক নীতিমালা অনুসরণ করে এই সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে পারলে অর্থ বাণিজ্যে এই জেলা স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।’

পঞ্চগড় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট জানান, এখানকার বালুর গুণগত মান উন্নত। দেশে চাহিদা রয়েছে প্রচুর। সঠিক ব্যবস্থাপনায় সুষ্ঠু বিপণনে সরকার কাজ করছে। দেশের কংক্রিট শিল্পে বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নে এই বালুর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

পঞ্চগড় সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এই জেলার মোটা দানার বালু দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে চলে যাচ্ছে। সরবরাহ ও বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হতে পারলে সরকার লাভবান হবে।

শেয়ার করুন

এক কিলোমিটার সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি

এক কিলোমিটার সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মানিকগঞ্জ পৌরসভার বেউথা-আন্দারমানিক সড়কটিতে চলাচলে লাখো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

যোগাযোগ সহজ হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে জেলার হরিরামপুর, ঘিওর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। বাস, ট্রাক, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট-বড় হাজারো যানবাহন চলে এই সড়কে। তবে সংস্কারের অভাবে পিচঢালাই উঠে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় শত শত গর্ত তৈরি হয়েছে।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার বেউথা-আন্দারমানিক সড়কটি সংস্কার করা হয়নি দীর্ঘদিন। এতে সড়কের পিচ উঠে পরিণত হয়েছে মেঠো রাস্তায়। গ্রীষ্মে এ সড়কে থাকে ধুলা, আর বর্ষায় কাদা। মাত্র এক কিলোমিটার সড়কটির এমন অবস্থায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে লাখো মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, জেলা শহরের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের সহজ মাধ্যম এই সড়ক। তবে সড়কটির বেহাল অবস্থায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, যোগাযোগ সহজ হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে জেলার হরিরামপুর, ঘিওর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। বাস, ট্রাক, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট-বড় হাজারো যানবাহন চলে এই সড়কে।

এক কিলোমিটার সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি

তবে সংস্কারের অভাবে পিচঢালাই উঠে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় শত শত গর্ত তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় লুৎফর রহমান লাভলু জানান, ‘গরমের দিনে নাক-মুখ ঢাইকা কোনোমতে চলা যায়, কিন্তু বৃষ্টির দিনে চলাচল করা যায় না। রাস্তায় বাইর হইলে গাড়ির চাকার কাদা-পানিতে জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। এভাবে চলাচল করা যায় আপনেই বলেন?’

আন্দারমানিক এলাকার টুটুল মিয়া জানান, ‘দীর্ঘদিন ধইরা রাস্তার মেরামত করা হই না। বেশি খারাপ হইলে মাঝেমধ্যে ইট আর সুরকি ফালায়। বৃষ্টি নামলেই রাস্তায় অ্যাক্সিডেন্ট হয়।

‘হয় গর্তে পড়ে যায়, না হয় কাদায় পিছলাইয়া যায়। মাঝেমধ্যে দেখি অটোবাইক উল্টাইয়া রইছে। বৃষ্টির দিনে রাস্তায় কম বের হই। মাইনসের বাড়ির ওপর দিয়া যাওয়া-আসা করি।’

ট্রাকচালক আবু কাদের জানান, ‘ভাইজান সারা রাস্তা ভালোই আসি। যখনই এই রাস্তায় ঢুকি মেজাজ খারাপ হইয়া যায়। খারাপের তো একটা ধরন আছে। এই রাস্তা এতই খারাপ যে, এর চাইতে খেতও ভালো। আল্লায় জানে এইখানে প্রশাসন আছে কি না।’

এক কিলোমিটার সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি

অটোরিকশাচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘অটো এমনেই ঝুঁকি। তার মধ্যে ভাঙাচোরা আর কাদার রাস্তা। মাঝেমধ্যেই গাড়ি নিয়া পইরা যাই। যাত্রীদের হাত-পা ছুইলা যায়। জামা-কাপড় নষ্ট হইয়া যায়। অনেক সময় যাত্রীরাও রাগারাগি করে। কী করুম, গাড়ি তো চালাইতে হইব।’

যাত্রী আমেনা, বিলকিস, নাজমাসহ বেশ কয়েকজন জানান, এই রাস্তায় যাতায়াত করলে শরীরের হাড় পর্যন্ত ব্যথা হয়ে যায়। বাড়িতে গিয়ে অনেকের ওষুধ খাওয়া লাগে। তা ছাড়া পড়ে গিয়ে মাঝেমধ্যেই আহত হতে হয়।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু মো. নাহিদ বলেন, ‘রাস্তার দুই পাশের পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে। এতে মানুষের কষ্ট হয়। নতুন একটা প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছে। আশা করি, প্রজেক্টটা পাস হলে রাস্তাও সোজা হবে এবং মানুষের ভোগান্তিও কমবে।

শেয়ার করুন

বিস্ফোরণে আহত কিশোর পাথর শ্রমিক

বিস্ফোরণে  আহত কিশোর পাথর শ্রমিক

বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে আহত রনি। ছবি: নিউজবাংলা

হরবলা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থলবন্দরের পাথর কোয়ারিতে ছোট ডিভাইসের মতো কিছু একটা পেয়ে কৌতূহলবশত হাতে নেয় রনি। পরে বন্দরের কাছেই ভাড়ায় নেয়া ঘরে যায় সে। একপর্যায়ে ডিভাইসে লাগানো দুটি কেব্‌ল একসঙ্গে লাগানোর চেষ্টা করলে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় রনি।  

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দরে বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে এক কিশোর পাথর শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছে। পুলিশ বলছে, পাথরভাঙা বোমার বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরের নাম রনি। সে নালিতাবাড়ীর উত্তর কাপাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

রনির নানি পাথর শ্রমিক হরবলা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থলবন্দরের পাথর কোয়ারিতে ছোট ডিভাইসের মতো কিছু একটি পেয়ে কৌতূহলবশত হাতে নেয় সে। পরে বন্দরের কাছেই ভাড়ায় নেয়া ঘরে যায় রনি। একপর্যায়ে ডিভাইসে লাগানো দুটি কেব্‌ল একসঙ্গে লাগানোর চেষ্টা করলে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় সে।

এমন অবস্থায় হরবলা তাকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

তিনি জানান, পরে রনির পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত ৯টার দিকে তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রনিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহাম্মেদ বাদল বলেন, ‘আমাদের লোক ঘটনাস্থলে গেছে। এখনও আসেনি। ধারণা করা হচ্ছে, পাথরভাঙা বোমায়ই এ ঘটনা ঘটতে পারে। এটি পরীক্ষা ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

শেয়ার করুন