ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল

ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল

এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর তারিক আফজাল

এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর তারিক আফজাল বলেন, ‘অনেক সময় ব্যাংকাররা ইন্টারফেয়ারেন্সের কারণে তাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারেন না। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও অনুশাসন ব্যাংকার এবং গ্রাহক উভয়ের জন্য প্রয়োজন। ব্যাংকের মালিকদের জন্যও এটা প্রয়োজন। কারণ, তারা দেশের জনগণের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। কিন্তু সেটা যদি ব্যক্তিস্বার্থে উপনীত হয়, তবে সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।’

ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা বলে মনে করেন দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর তারিক আফজাল।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় ব্যাংকাররা ইন্টারফেয়ারেন্সের কারণে তাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারেন না। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও অনুশাসন ব্যাংকার এবং গ্রাহক উভয়ের জন্য প্রয়োজন। ব্যাংকের মালিকদের জন্যও এটা প্রয়োজন। কারণ, তারা দেশের জনগণের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। কিন্তু সেটা যদি ব্যক্তিস্বার্থে উপনীত হয়, তবে সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সুতরাং এটাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। সবকিছুর পাশে দেশ, মানুষ, সমাজের কথা চিন্তা করতে হবে।’

ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং কমিশন গঠন ‘খুবই জরুরি’ বলেও মন্তব্য করেন তারিক আফজাল।

করোনার ধাক্কার পর বিশ্ব অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও গভীর সংকটে পড়ে গত বছরের শুরুর দিকে। সেই ধাক্কা সামলে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে সোয়া লাখ কোটি টাকার ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। বর্তমানে সেই প্রণোদনার অঙ্ক বেড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে।

এই প্রণোদনা ঋণের পুরোটাই বিতরণ করছে ব্যাংকগুলো। গত বছর প্রণোদনা ছাড়া ঋণ বিতরণ খুব একটা ছিল না। তবে এখন মহামারির ধকল কমতে শুরু করেছে। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমতির দিকে। ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতি। সব খাতেই এখন পুরোদমে উৎপাদন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে। ঋণ বিতরণও বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘কেমন চলছে ব্যাংক খাত’ শিরোনামে নিউজবাংলা ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্বে দেশের ব্যাংকিং খাতের হালচাল নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) তারিক আফজাল।

করোনা মহামারির মধ্যেও জরুরি সেবার আওতায় নিরলস সেবা দিয়ে গেছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। সেই ব্যাংক খাতের অবস্থা এখন কেমন?

ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে সব শ্রেণির মানুষ জড়িত। করোনার সময়ে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকলকারখানা বন্ধ ছিল। মহামারির ক্ষতি কাটাতে সরকার বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছিল বলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিছুটা সচল ছিল।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সচল অবস্থা এবং ব্যাংক খাতের মাধ্যমে সরকারের প্রণোদনার অর্থের সঠিক প্রয়োগ ব্যবসাকে সচল এবং দেশের অর্থনীতিকেও সচল রেখেছে।

বাংলাদেশে কোভিডসংক্রান্ত অর্থনৈতিক যে নীতিমালা করা হয়, সেগুলো ছিল পজিটিভ। সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ এবং সেটার সঠিক প্রয়োগের ফলে অর্থনীতির কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অগ্রগামী রেখেছে।

আমাদের আমদানি-রপ্তানি অগ্রসর ছিল। বর্তমান সরকারের উন্নয়নকাজও থেমে থাকেনি। পদ্মা সেতু সেটার বড় উদাহরণ।

দেশে কয়েক বছর ধরে মন্দ ঋণের প্রভাব রয়েছে। সেই মন্দ ঋণের প্রভাব কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাংকিং খাতের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। করোনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক প্রণোদনার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের কিছু সুবিধা দিয়েছে। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ছাড় দেয়া হয়েছে। চলতি বছরেও কিছু নতুন নির্দেশনা দিয়েছে।

করোনায় ব্যাংকের গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে যে সুবিধা দেয়া হয়েছিল, সে কিস্তিগুলোর আংশিক শোধ করার পরেও ব্যাংকগুলো মোটামুটিভাবে বেশ ভালো মুনাফা করেছে। তবে করোনার কারণে বিভিন্ন ব্যাংকের অগ্রগতির যে পরিকল্পনা ছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। কিন্তু ব্যাংক কর্মীদের বেতন-বোনাস দেয়াসহ সার্বিক দিক মোকাবিলা করতে আমরা সক্ষম হয়েছি আমরা।

অন্যান্য সময় ব্যাংক যেভাবে চলছে, তার সঙ্গে যদি মহামারির এ সময় ব্যাংক খাতের অবস্থা তুলনা করি, সেটা নিয়মমাফিক হবে না।

অন্য ব্যাংকের মতো এবি ব্যাংকও ব্যতিক্রম নয়। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঠিক নীতিমালা মেনে আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি। আমাদের কিছু ঘাটতি ছিল সেগুলো পূরণ করেছি।

প্রণোদনা প্যাকেজ বিষয়ে অনেক অভিযোগ আছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বণ্টন করছে ব্যাংক। কিন্তু বলা হচ্ছে, বড় বড় ব্যবসায়ীকেই প্রণোদনার অর্থ দেয়া হচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে দেখেছি, প্রণোদনার ঋণ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করার কারণে ১৬টি ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শোকজ করেছে।

এবি ব্যাংক প্রণোদনার ঋণ সঠিকভাবে বিতরণের চেষ্টা করেছে। বড় শিল্পের পাশাপাশি ছোট শিল্পে প্রায় ৮০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। এ শিল্পের প্রসার অর্থনীতির মন্দাভাব ও মন্দঋণ দুটোই প্রতিহত করবে। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গ্রাহক তৈরি করে যদি তাদের মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ দিতে পারি, তাহলে ঝুঁকির সম্ভাবনা কম থাকে।

বিভিন্ন ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৯৮ শতাংশ ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা ঋণের টাকা ফেরত দেয়। ব্যাংক খাতে এসব গ্রাহক তৈরি করা হলে মন্দ ঋণের মাত্রা অনেক কমে যাবে। কারণ মন্দ ঋণ বৃহৎ শিল্পে পুঞ্জিভূত।

প্রণোদনার ঋণ হয়তো অনেক ব্যাংক সঠিকভাবে বিতরণ করতে পারেনি। আবার অনেক ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে কিছু জটিলতা আছে। এখানে গ্রাহকের অভাব আছে।

ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে একটি ব্যাংক ঋণগ্রহীতার আনুষঙ্গিক বিষয় পরিপালন করেই ঋণ দেয়, কিন্তু গ্রাহকের অভাব থাকলে লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ না-ও হতে পারে। ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের কম ঋণ দেয়া হলে সেটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

ব্যাংকে গ্রাহক পাওয়া, আনুষঙ্গিক বিষয় পরিপালন, গ্রাহকের সামর্থ্য, ব্যাংকের আন্তরিকতা সবকিছু বিবেচনা করতে হবে। না হলে ঋণ না দেয়ায় শুধু ব্যাংকের ওপর দায় দেয়া হলে সেটা অন্যায় হবে।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। দেশের ব্যাংক খাতের এখন অন্যতম প্রধান সমস্যাও এটি। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদৌ কি আদায় করা সম্ভব? এ সংস্কৃতি থেকে বের হতে কী করা দরকার বলে আপনি মনে করেন।

২০১৮ সালের অক্টোবের আমি এবি ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান করি। তখন থেকে মন্দ ঋণের মাত্রা ৫০ শতাংশ কমিয়েছি। সামনে এটা আরও কমে আসবে।

খেলাপি ঋণ থেকে বের হওয়ার দুটি সুযোগ আছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রসার এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর থেকে কঠোরতর হতে হবে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের থেকে ঋণ আদায় করা গেলে খেলাপি সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা দরকার। আমানতকারীদের যে অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত থাকে, তার প্রতি ব্যাংক থেকে শুরু করে সরকারেরও দায়বদ্ধতা আছে।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে আলোচিত বিষয় আমানতের সুদহার। অর্থাৎ আমানতের সুদহার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ কিছু কিছু ব্যাংক আমানতে ২ থেকে আড়াই শতাংশ সুদ দিচ্ছে। আমানতে মূল্যস্ফীতির কম সুদ না দেয়ার এই নির্দেশনা পরিপালনে ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ কী?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের আমানতকারী রয়েছেন। সবার প্রতি ব্যাংকের কর্তব্য আছে। ব্যাংক শুধু ঋণ দিয়ে সুদ গ্রহণ করবে সেটা নয়।

আমানতকারীদের নিম্নমানে সুদ দেয়া আইনের পরিপন্থি। কারণ, প্রত্যেকে কিছু আশায় ব্যাংকে সঞ্চয় করে থাকে। কিন্তু সেই আমানতে টাকায় যদি কোনো আশানুরূপ রোজগার না হয়, তবে সেটা আমানতকারীদের প্রতি অন্যায়। ব্যাংক আমানতকারীকে নিম্ন সুদ দিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় অর্থ বিনিয়োগ করছেন নিজেদের মুনাফার জন্য। এতে আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে ভারসাম্য থাকছে না। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন জরুরি।

ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে একাধিবার ‘ব্যাংক কমিশন’ গঠনের আলোচনা হয়েছে, ‘কমিশন’ গঠনের প্রয়োজন আছে বলে কি মনে করেন? কেন করেন?

সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যান্য কর্মকর্তার কাছে বলতে চাই, আমাদের ব্যাংক খাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কমিশন গঠন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বর্তমানে ৬০টি ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একার পক্ষে এগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা সহজ নয়। একটি ডেডিকেটেড ব্যাংকিং কমিশন যদি গঠন করা যায়, তাহলে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

ব্যাংক খাতে ইন্টারফেয়ারেন্স (হস্তক্ষেপ) একটা সমস্যা। অনেক সময় ব্যাংকাররা এটির কারণে তাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারেন না। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও অনুশাসন ব্যাংকার এবং গ্রাহক উভয়ের জন্য প্রয়োজন। ব্যাংকের মালিকদের জন্যও এটা প্রয়োজন। কারণ, তারা দেশের জনগণের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। কিন্তু সেটা যদি ব্যক্তিস্বার্থে উপনীত হয়, তবে সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সুতরাং এটাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। সবকিছুর পাশে দেশ, মানুষ, সমাজের কথা চিন্তা করতে হবে।

বর্তমান সরকার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটাকে সঠিকভাবে সহযোগিতা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সরকারের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুশাসন জরুরি। অনুশাসন যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, বাংলাদেশকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

আরও পড়ুন:
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া, সংকটে আমদানি

অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া, সংকটে আমদানি

বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে জাহাজ-জট এবং খালি কন্টেইনারের ঘাটতির কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) বাড়িয়েছে শিপিং লাইনগুলো। এতে আমদানি-রপ্তানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে।

বিদেশ থেকে পণ্য আনতে জাহাজ মিলছে না। ফলে বিভিন্ন দেশে আটকা পড়ে আছে আমদানি পণ্য। এতে ব্যাংক লোনের সুদসহ আমদানি খরচ বাড়ছে।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গত এক মাসে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি। এতে হুমকিতে পড়েছে পণ্য আমদানি। এর প্রভাব পড়ছে উৎপাদনসহ নানা খাতে।

জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা তোলা বন্ধ আছে অ্যামোনিয়ার অভাবে। জাহাজের অভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কেনা এই গ্যাস আনতে পারছে না খনি কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস বা এলএনজি আমদানিতে বড় ধরনের ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে সরকারকে। যে এলএনজি কেনা হয়েছে, তা পরিবহনের জাহাজ মিলছে এক থেকে দেড় মাসের মাথায়।

কয়লা পরিবহনেও একই ধরনের ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে জ্বালানি বিভাগকে। কয়লাবাহী জাহাজগুলোর বহর গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া বা ইন্দোনেশিয়া থেকে চীনের দিকে যাতায়াত করছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, তেল, গ্যাস, কয়লার মতো জ্বালানি পরিবহনকারী সমুদ্রগামী জাহাজগুলো বিশেষভাবে তৈরি। করোনার ঢেউ নিয়ন্ত্রণের পর জ্বালানী মজুত ও ব্যবহারে চীনের আগ্রাসী ভূমিকার ফলে অন্য দেশগুলো বিপদে পড়েছে। জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো এখন চীনের পণ্য পরিবহনেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে অন্যান্য খাতেও। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, গত এক মাসে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে পাঁচ গুণ।

তিনি বলেন, ‘সেপ্টেম্বর মাসে আমরা রাশিয়া থেকে ২ লাখ টন গম সরকারিভাবে ক্রয় করি। তখন টন প্রতি দর ছিল ২৫০ ডলার। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা আরও ২ লাখ টন গম আনার সিদ্ধান্ত জানাই। কিন্তু তখন জাহাজ মিলছিল না। দুই সপ্তাহ পর যখন জাহাজ মিলল, তখন দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে টন প্রতি ৩৬৬ ডলার।

‘আমরা তখন ইউক্রেনে যোগাযোগ করি। তারা কিছুটা কম দরে আমাদের গম দিতে রাজি হলেও শর্ত হিসেবে নিজেদের জাহাজে করে তা পরিবহনের কথা বলে। কিন্তু আমরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি।’

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের চিত্রও একই। কেবল ট্যাংকার, বাল্ক জাহাজই নয়, কন্টেইনার জাহাজের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাড়া নির্ধারণ করে ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। বিভিন্ন খাতে তাদের খরচ বেড়েছে। জ্বালানি তেলসহ নানা খরচ বাড়ায় গত কয়েক মাসে ভাড়া বেড়েছে চার থেকে ছয় গুণ।’

তিনি বলেন, ‘বাল্ক ও ট্যাংকারের ক্ষেত্রে যে সংকট, তার পেছনে রয়েছে চীন। তারা খাদ্যপণ্য, কেমিক্যাল ও জ্বালানি ভেসেলগুলোকে ব্যস্ত রেখেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানি করে মজুদ গড়ে তোলার কথা শোনা যাচ্ছে দেশটির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশে কেমিক্যাল ও পণ্য রপ্তানি বাড়াতেও তারা আগ্রাসী।

‘প্যানডেমিক নিয়ন্ত্রণে আসার পর অনেক দেশে রপ্তানি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কন্টেইনারের ক্ষেত্রে। এখন সব কন্টেইনার ইউরোপ-আমেরিকামুখী। ফলে কলম্বো ও সিঙ্গাপুর থেকে কন্টেইনার ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কেউ তো খালি কন্টেইনার আনবে না।’

এদিকে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাল্ক জাহাজের ভাড়া বেড়েছে সার্বিকভাবে চার গুণ। ফলে দেশে চাল, সার, গম, পাথর, কেমিক্যাল, অ্যাশ আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে নানা ক্ষেত্রে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে জাহাজ-জট এবং খালি কন্টেইনারের ঘাটতির কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) বাড়িয়েছে শিপিং লাইনগুলো। এতে আমদানি-রপ্তানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শ্রীলঙ্কার কলম্বোসহ কয়েকটি বন্দরে জাহাজ ও কন্টেইনারের তীব্র জট তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী আমদানি-রপ্তানির কন্টেইনার সংকট দেখা দিয়েছে। যার কারণে ফ্রেইট চার্জ বাড়িয়ে দিয়েছে শিপিং লাইনগুলো।

ফিডার জাহাজ অপারেটররা চট্টগ্রাম থেকে কলম্বো, সিঙ্গাপুরসহ আশপাশের বন্দরে পণ্য বোঝাই প্রতিটি কন্টেইনার পরিবহনে ফ্রেইট চার্জ ৭০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি খালি কন্টেইনার পরিবহনে চার্জ বাড়ানো হয়েছে ৪০ ডলার পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

তরুণদের জন্য ক্রেডিট কার্ড আনল ব্র্যাক-মাস্টারকার্ড

তরুণদের জন্য ক্রেডিট কার্ড আনল ব্র্যাক-মাস্টারকার্ড

তরুণদের জন্য ক্রেডিটকার্ড এনেছে ব্র্যাক-মাস্টারকার্ড। ছবি: নিউজবাংলা

‘মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল টাইটেনিয়াম ক্রেডিট কার্ড’ ব্যবহার করে গ্লোরিয়া জিন্স, নর্থ-এন্ড কফি, ক্রিমসন কাপ, কুপার্স ও ডোমিনোজ পিৎজায় মাসে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা খরচে ১ হাজার রিওয়ার্ড পয়েন্ট জেতা যাবে।

ব্র্যাক ব্যাংক ও মাস্টারকার্ড দেশের তরুণদের জন্য ‘মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল টাইটেনিয়াম ক্রেডিট কার্ড’ চালু করেছে।

দেশের মিলেনিয়াল (২০০০ সাল ও তার পরে জন্মগ্রহণ করা) প্রজন্ম ও কর্মজীবী তরুণদের চাহিদায় এ কার্ড চালু করা হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরগুলোতে দেশের ‘ডিজিটাল-ফার্স্ট’ প্রজন্মের মধ্যে ব্যয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাস্টারকার্ড ও ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন এই কার্ড ব্যক্তি বিশেষের চাহিদামাফিক আর্থিক সমাধান দেবে।

এই কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ওয়েলকাম প্যাক’ হিসেবে থাকছে ই-কমার্স পোর্টাল, পোশাকের দোকান, বিউটি সেলুন ও কফি শপগুলোতে কেনাকাটার বিপরীতে ক্যাশব্যাক, ভাউচার, মূল্যছাড়সহ নানা পুরস্কার ও সুবিধা।

পাশাপাশি আছে দেশের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি অংশীদার আউটলেটে মুদি পণ্য ও অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটায় বোনাস পয়েন্ট রিওয়ার্ড, হোটেলে অবস্থানকালে (বোগো বা বাই-ওয়ান-গেট-ওয়ান) সুবিধা, ডাইনিং ও বিভিন্ন লাইফস্টাইল অফার।

এ ছাড়া আরও থাকবে বিমানবন্দর লাউঞ্জে বছরে দুটি কমপ্লিমেন্টারি ভিজিট ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে ৫ হাজার মার্কিন ডলার এনডোর্স করার বিপরীতে ৫০০ বোনাস পয়েন্ট।

এই কার্ড ব্যবহার করে মিলেনিয়ালরা সুদ ছাড়া খুচরা পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।

‘মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল টাইটেনিয়াম ক্রেডিট কার্ড’ ব্যবহার করে গ্লোরিয়া জিন্স, নর্থ-এন্ড কফি, ক্রিমসন কাপ, কুপার্স ও ডোমিনোজ পিৎজায় মাসে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা খরচে ১ হাজার রিওয়ার্ড পয়েন্ট জেতা যাবে।

সপ্তাহ শেষে নির্ধারিত মুদি পণ্যের দোকানে কেনাকাটায় মাসিক ভিত্তিতে দ্বিগুণ বোনাস রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং নির্দিষ্ট অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাকসহ বছরজুড়ে আরও সুবিধা থাকবে বলে জানানো হয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘মাস্টারকার্ডের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রথম বাংলাদেশের মিলেনিয়াল প্রজন্মের জন্য ক্রেডিট কার্ড চালুর ঘোষণা দিতে পেরেছি। আমরা বিশ্বাস করি, তরুণ প্রজন্মকে দেশের অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করা ও তাদের ক্ষমতায়নের জন্য এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এতে তারা নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনা ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবেন।’

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের প্রধান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘দেশের মোট জনসংখ্যার বড় এক অংশ মিলেনিয়াল প্রজন্মের। তাই ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রজন্মকে ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত করে তোলার সম্ভাবনা আছে। প্রযুক্তিভিত্তিক অত্যাধুনিক লেনদেন সেবাদাতা কোম্পানি হিসেবে মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল প্রজন্মের গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ ও বিরামহীন লেনদেন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।’

নেমেসিস ব্যান্ড দলের ভোকালিস্ট জোহাদ রেজা চৌধুরী ও অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিন মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল ক্রেডিট কার্ডের প্রচারণা করবেন।

আরও পড়ুন:
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

স্থায়ী ভবন পাচ্ছে এনজিও ফাউন্ডেশন

স্থায়ী ভবন পাচ্ছে এনজিও ফাউন্ডেশন

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী জানান, এনজিও ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর আয়বিধায়ক তহবিল হিসেবে ১৬২ কোটি টাকা সরকারি অনুদান পেয়েছে। সেখান থেকে মুনাফা নিয়ে সহযোগী সংস্থাকে ১৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ফাউন্ডেশন। তারপরও আয়বিধায়ক তহবিলের স্থিতি ২৭০ কোটি টাকা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থায়ী ভবন পাচ্ছে এনজিও ফাউন্ডেশন। নিজস্ব ভবনে ফাউন্ডেশনের দারিদ্র্য বিমোচন কাজে গতিশীলতা বাড়বে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

এনজিও ফাউন্ডেশনের নির্মিতব্য ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে রোববার। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার, ফাউন্ডেশনের পর্ষদ সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘জাতির পিতা দারিদ্র্যমুক্ত ও শোষণমুক্ত একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার অর্থনৈতিক দর্শন অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক দশক দেশে গড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

‘করোনার আঘাতে গত বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এমন সময়ে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচটি সহনশীল অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এনজিও ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর আয়বিধায়ক তহবিল হিসেবে ১৬২ কোটি টাকা সরকারি অনুদান পেয়েছে। সেখান থেকে মুনাফা নিয়ে সহযোগী সংস্থাকে ১৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ফাউন্ডেশন। তারপরও আয়বিধায়ক তহবিলে স্থিতি ২৭০ কোটি টাকা।

‘এনজিও ফাউন্ডেশন দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এনজিওর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া, অসহায়, অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দারিদ্র্য বিমোচনে তারা কাজ করছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার গ্রামে। ১ হাজার ১২০টি এনজিও হতদরিদ্র মানুষের সেবা করে যাচ্ছে ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে। নিজস্ব ভবন পেলে তাদের কাজে আরও গতিশীলতা আসবে বলে মনে করি।’

মাটির নীচে দোতলা বেজমেন্টসহ ১২ তলা ভবন নির্মানে ৩৮ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

চাঙা অর্থনীতি, রাজস্ব আদায়ে জোয়ার 

চাঙা অর্থনীতি, রাজস্ব আদায়ে জোয়ার 

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বা রাজস্ব আহরণে সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। এ সময়ে মোট রাজস্ব আহরণ হয় ৫৮ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা।

করোনার প্রভাবে সৃষ্ট গভীর খাদ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে দেশের রাজস্ব খাত। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায় বেড়েছে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ গুণ।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, করোনার প্রভাব কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি যে চাঙা হচ্ছে, এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রাজস্ব আদায়ে। এটি দেশের জন্য সুসংবাদ বলে মনে করেন তারা।

রোববার প্রকাশিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বা রাজস্ব আহরণে সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

এ সময়ে মোট রাজস্ব আহরণ হয় ৫৮ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা।

অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আদায়ের এই চিত্র সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে রেকর্ড তৈরি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ২১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম থেকে রাজস্ব আয়ে গতিশীলতা লক্ষ করা যাচ্ছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে গতি আরও বেড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি-রপ্তানিতে গতি এসেছে। চাঙা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে রাজস্ব আহরণে।

দেশে করোনা সংক্রমণ হওয়ার পর সবকিছু বন্ধ থাকায় গত বছরের এপ্রিল-মে রাজস্ব আদায় হয়নি বললেই চলে। জুন মাসেও তেমন রাজস্ব আদায় হয়নি।

গত বছরের জুলাই মাস থেকে রাজস্ব আদায় স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আর চলতি অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে করোনার আগের সময়ের ধারায় ফিরে আসে এনবিআর।

করোনার প্রথম ধাপে ২০১৯-২০ অর্থবছর রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক বা নেতিবাচক ছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী আর কখনোই এমনটি দেখা যায়নি। সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রাজস্ব খাত ক্রমাগত উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে আমদানি খাত। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ হারে আদায় বেড়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, করোনা পরিস্থিতি উন্নতির ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা চাঙা হওয়ায় আমদানির চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে আমদানি শুল্ক বাড়ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজোরে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও আমদানি শুল্ক বাড়ে। কারণ, তখন বেশি দামের ওপর ভিত্তি করে পণ্যের শুল্কায়ন করা হয়।

এনবিআরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আহরণ হয় ১৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ১৫ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। গত অর্থবছর একই সময়ে এটি ছিল মাত্র ১ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ভ্যাট আদায় হয়েছে ২১ হাজার ৯২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে একই সময় আদায় হয় ১৮ হাজার ১১২ কোটি টাকা।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার পর গত আগস্ট মাসে বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হয়। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা হয়। যে কারণে ভ্যাট আহরণ বেড়েছে।

অভ্যন্তরীণ আয়ের অন্যতম উৎস আয়কর বা প্রত্যক্ষ কর খাত অন্য দুটি অপেক্ষা কিছুটা পিছিয়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আয়কর আদায় বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ হারে, যেখানে গত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয় ২ শতাংশের কিছু বেশি।

এ সময়ে আয়কর আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছর এ সময়ে আদায় ছিল ১৫ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এনবিআর বলছে, অর্থবছরে শুরুতে উন্নয়ন কাজের গতি মন্থর থাকায় আয়কর আদায় কম হয়। শুষ্ক মৌসুমে এডিপির কাজের গতি বাড়ে। ফলে আয়কর আদায়ও বাড়বে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এনবিআরের তিনটি উৎস– আমদানি, ভ্যাট ও আয়কর আদায়ে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল সিঙ্গেল ডিজিট।

তবে আদায় পরিস্থিতি ভালো হলেও তিন মাসে রাজস্ব আদায় পিছিয়ে আছে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায়। ঘাটতি ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বাজেটের মোট অর্থের ৮৬ শতাংশ জোগান দেয় এনবিআর।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্বের পরিমাণ ধরা হয় মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তবে এই লক্ষ্যমাত্রাকে অতি উচ্চাভিলাষী বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

গত অর্থবছরে ২ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ধারায় ফিরছে। রেমিট্যান্স কিছুটা কমলেও রপ্তানি বাড়ছে। সবকিছু মিলিয়ে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরছে। এসব কারণে রাজস্ব আদায় বাড়ছে।’

আরও পড়ুন:
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

সোনালী জুট মিলস ফের চালু

সোনালী জুট মিলস ফের চালু

খুলনা নগরীর মিরেরডাঙ্গার সোনালী জুট মিলস আবার চালু করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মিল সূত্র জানায়, আর্থিক সংকট, পাটের দাম বৃদ্ধিসহ নানা জটিলতায় মালিকপক্ষ মিলটি বন্ধ করে দেয়। পরে বেসরকারি পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন, মিলের অ্যাডহক কমিটি এবং খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালক মিজানুর রহমান এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন।

খুলনা নগরীর সোনালী জুট মিলস আবার চালু করা হয়েছে। ১১ মাস বন্ধ থাকার পর শনিবার মিলটি আংশিক চালু করা হয়।

নগরীর মিরেরডাঙ্গা শিল্প এলাকায় ব্যক্তিমালিকানার মিলটি গেল বছরের ২৮ নভেম্বর বন্ধ করা হয়েছিল।

মিল সূত্র জানায়, আর্থিক সংকট, পাটের দাম বৃদ্ধিসহ নানা জটিলতায় মালিকপক্ষ মিলটি বন্ধ করে দেয়। পরে বেসরকারি পাট, সুতা , বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন, মিলের অ্যাডহক কমিটি এবং খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালক মিজানুর রহমান এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন।

মেসার্স জামান ট্রেডিং লিজ হিসেবে মিলটি চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করলে শনিবার থেকে এটা পুনরায় চালু হয়।

রোববার সকাল ১০টার দিকে বেসরকারি পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন জরুরি মতবিনিময় সভা হয়। সোনালী জুট মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি শেখ আমজাদ হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ তারেকের পরিচালনায় সভা হয়।

বক্তব্য দেন বেসরকারি পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও মহসেন জুট মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল খান, সংগঠনের সহসভাপতি ও আফিল জুট মিলস মজদুর ইউনিয়নের নেতা কাবিল হোসেন ও নিজামউদ্দিন, মহসেন জুট মিলসের শ্রমিকনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আসহাফ উদ্দীন, মাহাতাব উদ্দীনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও পিপিই পার্কে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও পিপিই পার্কে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এবং বেক্সিমকো পিপিই পার্ক পরিদর্শন করেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন।

বেক্সিমকো পিপিই পার্কে উচ্চমানের পিপিই উৎপাদন ও পরীক্ষার জন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এই বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী অত্যাধুনিক কারখানা স্থাপনের জন্য বেক্সিমকোকে ধন্যবাদ জানান এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চমানের পিপিই উপকরণ প্রাপ্যতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো গ্রুপের দুটি পার্ক পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন।

রোববার সকালে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এবং বেক্সিমকো পিপিই পার্ক পরিদর্শন করেছেন বলে প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের স্ত্রী মিসেস তেরেসা আলবর, হাইকমিশনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রধান ডেরেক গ্রিফিথস এবং শাসন ও রাজনৈতিক দলের প্রধান টম বার্জ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল সোয়া ১০টার দিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে পৌঁছান। বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান এবং গ্রুপের পরিচালক ও বেক্সিমকো টেক্সটাইল, অ্যাপারেলস ও পিপিই ডিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ নাভেদ হোসেন গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান।

হাইকমিশনার বেক্সিমকো পিপিই পার্কের অভ্যন্তরে আধুনিক পিপিই উৎপাদন ও সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন্টারটেক ল্যাব পরিদর্শন করেন। এ সময় বেক্সিমকো পিপিই টিম স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য হাসপাতাল গ্রেড গাউন, কভারঅল, সার্জিক্যাল মাস্ক, রেসপিরেটর এবং নন-উভেন কাপড় তৈরির অত্যাধুনিক উৎপাদন সুবিধা তুলে ধরেন।

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও পিপিই পার্কে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

বেক্সিমকো পিপিই পার্কে উচ্চমানের পিপিই উৎপাদন ও পরীক্ষার জন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এই বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী অত্যাধুনিক কারখানা স্থাপনের জন্য বেক্সিমকোকে ধন্যবাদ জানান এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চমানের পিপিই উপকরণ প্রাপ্যতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেক্সিমকো পিপিই পার্ক পরিদর্শন শেষে ব্রিটিশ হাইকমিশনার তার সঙ্গীদের নিয়ে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেকসই ওয়াশিং প্ল্যান্ট এবং বেক্সিমকো সিরামিক প্লান্ট ও অত্যাধুনিক উৎপাদন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন:
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তিতে বাণিজ্যমন্ত্রী

পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তিতে বাণিজ্যমন্ত্রী

পেঁয়াজ নিয়ে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রয়েছেন জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘পেঁয়াজ উৎপাদনে আমাদের ঘাটতি আছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে আমদানি করে ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে। সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’

সংকটকালে ফলন পাওয়া যায় এমন জাতের পেঁয়াজ উদ্ভাবনে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

দেশে গত কয়েক বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়লেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও আমদানি করি, এটা থেকে বের হতে সংরক্ষণে জোর দিতে হবে।’

আগামী তিন বছরের মধ্যেই পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পন্ন হবে বলেও প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

‘বাংলাদেশের ৫০ বছর: কৃষির রূপান্তর ও অর্জন’ শীর্ষক কৃষি সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় দৈনিক বণিক বার্তা এবং বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

পেঁয়াজ নিয়ে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রয়েছেন জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘পেঁয়াজের জ্বালায় আমি অস্থির হয়ে পড়েছি। পরিসংখ্যানের একটা ঝামেলা আছে। আমাদের প্রয়োজন ২৪-২৫ লাখ টন পেঁয়াজ। উৎপাদনও হয় ২৫-২৬ লাখ টন। তাহলে আমদানি কেন? এমন প্রশ্ন আসে। সে ক্ষেত্রে বক্তব্য হচ্ছে, প্রায় ২০ শতাংশ পেঁয়াজ আমাদের নষ্ট হয়। সংরক্ষণ করা যায় না।

‘পেঁয়াজ উৎপাদনে আমাদের ঘাটতি আছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে আমদানি করে ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে। সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘সারা বছর উৎপাদনের জন্য পেঁয়াজের নতুন জাত উদ্ভাবন, উৎপাদিত পেঁয়াজ যাতে নষ্ট না হয় এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়, এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘দেশে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দেয়, এই সময়ের জন্য নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন বলে জেনেছি। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে আর সংকট থাকবে না। আর তিন-চার বছর হয়তো লাগবে।’

দেশে কৃষির অগ্রগতি তুলে ধরে টিপু মুনশি বলেন, ‘কৃষিক্ষেত্রে আমরা অনেক এগিয়েছি। সরকারের আন্তরিক সহযোগিতায় আধুনিকায়নে সমর্থ হওয়ার কারণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। যা আমাদের উৎসাহিত করেছে। এতে আমরা বেশ সফলও হয়েছি।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাণিসম্পদে আমরা এখন স্বয়ংসম্পন্ন। একসময় দেশের কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো, আজ চাহিদার বেশি পশু আমরা উৎপাদন করছি।

‘এখন বাংলাদেশ মাংস রপ্তানির চেষ্টা করছে। মৎস্য চাষে পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়। দেশে মৎস্য চাষে বিপ্লব ঘটেছে। বাংলাদেশ প্রতিবছর মাছ রপ্তানি করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার প্রতিটি সেক্টরে স্বয়ংসম্পন্ন হতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।’

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, কৃষি সেক্টরে বাণিজ্যিকীকরণে অনেক এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ, ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। খাদ্য উৎপাদন অনেক বেড়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে সফল হয়েছি আমরা। অনেক দেশের তুলনায় এখনও আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তবে এখনও কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ আছে।’

তিনি বলেন, ‘উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন জাত আবিষ্কারের মাধ্যমে আমাদের অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি করেছে।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ লাইভস্টক রিসার্স ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. সৈয়দ আরিফ আজাদ, লাল তীর লাইভস্টকের চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা এবং আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু লুৎফে ফজলে রহিম খানসহ অন্যরা।

আরও পড়ুন:
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন