আবারও মাঠে সেই ডেসটিনি

আবারও মাঠে সেই ডেসটিনি

ডেসটিনি কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেছে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। এক দশক নিষ্ক্রিয় থেকে আবারও কার্যক্রম শুরু করেছে আলোচিত এই সমবায় প্রতিষ্ঠান। তবে পুরোনো বিনিয়োগকারীদের অর্থ কীভাবে ফেরত দেয়া হবে, সে বিষয়ে সবাই নীরব।

আর্থিক খাতের আঁতকে ওঠা প্রতিষ্ঠানের নাম ডেসটিনি। প্রলোভন দেখিয়ে লুট করা হয়েছে গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকা। অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানের অনেক শীর্ষ কর্তাই এখন জেলে। তবে প্রায় ১০ বছর পর আবার মাঠে নেমেছে বিতর্কিত সমবায় প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি।

দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থেকে আবারও আলোচনায় ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদনে গঠন করা হয়েছে নতুন কমিটি। পুরোনো কমিটিতে যারা ছিলেন, তারা এখন নতুন কমিটিতে নেই। বলা হচ্ছে, যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাই নতুন কমিটিতে তাদের স্থান হয়নি।

সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ম নিবন্ধক মোহাম্মদ হাফিজুল হায়দার চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, সমবায় থেকে নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে ডেসটিনি। তিনি বলেন, ডেসটিনি কো-অপারেটিভে কোনো সমস্যা হয়নি। যে ১২ জন নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ জন্য তারা আবার নিবন্ধন নিয়ে কাজ পরিচালনা করতে পারবে।

ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সহসভাপতি জাকির হোসেন জানান, সরকারের সকল নিয়মনীতি মেনে আবারও ব্যবসা করতে চায় ডেসটিনি। এ ক্ষেত্রে কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকদের দায়দেনা পরিশোধ করা হবে। তিনি জানান, এমএলএম ব্যবসা করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে এই আইনটি যুগোপযোগী করতে হবে।

সমবায় বিশেষজ্ঞ এমদাদ হোসেন মালেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এমএলএম কোম্পানি লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ডেসটিনি আবার কোন ফর্মে নিবন্ধন করে ব্যবসা করবে? আগে যে কয়েক হাজার কোটি টাকা গ্রাহকের পকেট থেকে বের করে নিয়েছে, তারা তো এখনও টাকা ফেরত পায়নি।’

কমিটি অনুমোদন দিয়েছে সমবায় অধিদপ্তর

গত ২৮ জুন ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নতুন কমিটির অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমবায় অধিদপ্তর। ১২ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল এম হারুন অর রশিদ (অব.)। সহসভাপতি হয়েছেন মো. জাকির হোসেন, আর সম্পাদক হয়েছেন আজম আলী।

আবারও মাঠে সেই ডেসটিনি

নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৭ মে সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪-এর ২৬(২) বিধি অনুসারে সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়। ১২টি পদের বিপরীতে ২৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে ‍পরে ১৩ জন তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ফলে সীমিত ব্যবস্থাপনা কমিটির ১২টি পদে ১২ জন প্রার্থীই থাকেন। একই পদের বিপরীতে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সবাই।

নির্বাচনে সভাপতি, সহসভাপতি, সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ পদে একজন করে এবং ব্যবস্থাপনা কমিটি সদস্য হিসেবে ৭ জনসহ মোট ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

কার্যক্রম শুরু করেছে ডেসটিনি

দীর্ঘদিন পর আবার অনুমোদন পেয়ে নড়চেড়ে বসেছে ডেসটিনি। এতদিন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় তৈরি হয় স্থবিরতা। ডেসটিনির মালিকানাধীন সব সম্পদ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে হলেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কাকরাইল মোড়ে আলিস টাওয়ারের কয়েকটি ফ্লোরে সীমিত পরিসরে কাজ শুরু করা হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব পাওয়া সকলেই প্রতিদিন ওই অফিসে বসছেন। অফিস চালু হওয়ার খবরে বিনিয়োগকারী অংশীদাররাও আসতে শুরু করেছেন।

আবারও মাঠে সেই ডেসটিনি

রাজধানীর কাকরাইলের মাহতাব প্লাজায় ডেসটিনির যে তিনটি অফিস ছিল, সেই অফিসগুলো এখন বন্ধ। এতদিন চালু থাকলেও কয়েক দিন আগে পুলিশ অফিস গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। কো-অপারেটিভের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি অফিস নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে।

জানা গেছে, ডেসটিনির যেসব সম্পত্তি এখন পুলিশের জিম্মায়, সেগুলো এই কমিটির নিয়ন্ত্রণে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মাল্টিপারপাসের নামে থাকা সম্পত্তি নিতে চায় কমিটি।

গ্রাহকের হা-হুতাশ

কেউ দিয়েছে হাজার, কেউ লাখ লাখ টাকা। কোটি টাকাও দিয়েছে অনেক পরিবার। ১০ বছর আগের দেয়া সেই টাকার জন্য আক্ষেপ এখনও স্পষ্ট। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ বা অপ্রকাশ্যে চাহিদা তুলে ধরছেন। কিন্তু কোথায় গেলে মিলবে টাকা, তা কেউ জানে না।

ডেসটিনির অফিসে অফিসে এখনও খোঁজ নেন গ্রাহকরা। কবে চালু হবে, বিনিয়োগকৃত টাকার কোনো হদিস কি মিলেবে? কিন্তু কোনো সদুত্তর নেই। সমবায় অধিদপ্তর থেকে নতুন কমিটি করে দেবার পর আলিস টাওয়ারে গ্রাহকদের ভিড় বাড়ছে।

ডেসটিনি কো-অপারেটিভে অনিয়ম

সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক অমিয় কুমার চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ডেসটিনি কো-অপারেটিভে ১ হাজার ৪৪৮ কোটি ৭৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫২ টাকার অনিয়ম খুঁজে পায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধকের অনুমোদন না নিয়ে সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ, অনুমোদনহীনভাবে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে ঋণ বিতরণ ও সেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনা, সম্পদের মূল্য বেশি দেখানো, বাজেটবহির্ভূত এবং অনুমোদনহীন বিভিন্ন ব্যয়ের মাধ্যমে এসব অনিয়ম করা হয়।

বিশ্লেষক মন্তব্য

সমবায় বিশ্লেষক এমদাদ হোসেন মালেক বলেন, ‘পুরোনো বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কি বর্তমান কমিটি দেখবে নাকি নতুন করে কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সেটি স্পষ্ট নয়। তারা যদি নতুন করে রেজিস্ট্রেশন নেয়, তাহলে আগের বিনিয়োগকারীরা অর্থ কি ফেরত পাবেন? যদি ফেরত পান, কী উপায়ে পাবেন? এগুলো স্পষ্ট না করে ব্যবসা কাজ শুরু করলে জনমনে সন্দেহের জায়গা তৈরি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ডেসটিনির পরে ইউনি পে টু ইউ এসেও একই কাজ করেছে। প্রায় হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে তারা। এ ছাড়া যুবক নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠানও কয়েক হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। যুবকের সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা দেয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা কেউ এখনও করেনি।

তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা বলে নতুন আইনের আওতায় না নিয়ে এসে কোনোভাবেই এসব ব্যবসাকে অনুমোদন করা উচিত নয়। আগে নিয়ন্ত্রণমূলক জায়গায় নিয়ে তারপর অনুমতি নিতে হবে। না হলে ডেসটিনি আবার নতুন আঙ্গিকে এসে গ্রাহক ঠকাবে।

আরও পড়ুন:
কারাগারে থেকে জুম মিটিং: আদালতের নজরে আনবে দুদক
বন্দি থেকে জুম মিটিং: ডেসটিনির এমডি রফিকুল ফের কারাগারে
কারাগারে ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং: ৪ কারারক্ষী বরখাস্ত
বন্দি ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং, প্রধান কারারক্ষীসহ প্রত্যাহার ৮

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফ্লাইটে ফিরলেন বিমানের পাইলটরা

ফ্লাইটে ফিরলেন বিমানের পাইলটরা

বাপা সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটা একটা মোটামুটি কনক্লুশনে আমরা আসতে পেরেছি। এ কারণে আমাদের ফ্লাইটগুলো, আমাদের সবারই ৭৫ ঘণ্টা ফ্লাইং আওয়ার হয়ে গেছে। মাসের কোটা আমরা ফিলআপ করেছি, তারপরেও আমরা ফ্লাইটগুলো করে দেব। অর্থাৎ চুক্তির বাহিরে যে ফ্লাইটগুলো সেগুলো আমরা চালাব আজ থেকে। শনিবারের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি।’

করোনার সময় পাইলটদের বেতন কাটার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাইলটরা চুক্তির অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করেছেন।

বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। সেখানে পরিচালকরাও ছিলেন। সবার সঙ্গে বাপার নির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়েছে। সেখানে সর্বসম্মত ভাবে সকলেই একমত হয়েছেন, আমাদের যে ওভারসিজ অ্যালায়েন্স যেটা আমাদের বেতনের অংশ, এটি আগামী শনিবারের বোর্ড মিটিংয়ে তোলা হবে। সেখানে এটি সমন্বয় করে দেয়া হবে বলে আমাদের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

‘এটা একটা মোটামুটি কনক্লুশনে আমরা আসতে পেরেছি। এ কারণে আমাদের ফ্লাইটগুলো, আমাদের সবারই ৭৫ ঘণ্টা ফ্লাইং আওয়ার হয়ে গেছে। মাসের কোটা আমরা ফিলআপ করেছি, তারপরেও আমরা ফ্লাইটগুলো করে দেব। অর্থাৎ চুক্তির বাহিরে যে ফ্লাইটগুলো সেগুলো আমরা চালাব আজ থেকে। শনিবারের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি।’

গত বছর দেশে করোনাভাইরাসের মহামারি শুরুর পর ব্যয় সংকোচন করতে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্দিষ্ট হারে পাইলটদেরও বেতন কাটছিল বিমান কর্তৃপক্ষ।

সে জন্য এর আগে, গত জুলাইয়ে একবার চুক্তির বাহিরে ফ্লাইট চালাতে অস্বীকৃতি জানায় পাইলটরা। তবে সে সময় বিমান কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তারা।

গত তিন মাসেও কর্তৃপক্ষ বেতন কাটার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসায় সোমবার থেকে আবারও চুক্তির অতিরিক্ত ফ্লাইট চালানো বন্ধ করে দেয় বিমানের পাইলটরা। এতে মধ্যপ্রাচ্যগামী অন্তত দুটি ফ্লাইটের সিডিউল ওলট-পালট করতে হয় বিমান কর্তৃপক্ষকে। ভোগান্তিতে পড়েন ফ্লাইট দুটির শতাধিক যাত্রী।

বেতন কাটা নিয়ে বিমানের আদেশে বলা হয়, বিমানে কর্মরত ‘কর্মকর্তা’ এবং যেসব ককপিট ক্রুর চাকরির বয়স শূন্য থেকে পাঁচ বছর, জুলাই মাসে তাদের কোনো বেতন কাটা হবে না। তবে যেসব ককপিট ক্রুর চাকরির বয়স পাঁচ থেকে দশ বছর, জুলাই মাসে তাদের বেতন থেকে ৫ শতাংশ এবং যারা দশ বছরের বেশি সময় ধরে চাকরি করছেন, তাদের ২৫ শতাংশ কাটা হবে। এ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন পাইলটরা।

বিমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাইলটদের মধ্যে যাদের চাকরির বয়স পাঁচ বছরের মধ্যে স্বাভাবিক সময়ে তাদের বেতন ২ লাখ ৬ হাজার ৮৪ টাকা। যাদের চাকরির বয়স ৫ থেকে ১০ বছর, তারা ওভারসিজ ভাতা হিসেবে অতিরিক্ত পান ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এতে তাদের বেতন হয় ৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

যাদের চাকরির বয়স ১০ থেকে ২০ বছর, তাদের বেতন ওভারসিজ ভাতাসহ ১০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আর যাদের চাকরির বয়স এর চেয়ে বেশি, তারা পান ১২ লাখ ১ হাজার টাকা।

এ ছাড়া চুক্তির অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করলে তাদের আলাদা করে দেয়া হয় প্রোডাক্টিভিটি অ্যালাওয়েন্স।

আগে পাইলটদের নির্দিষ্ট হারে যে ওভারসিজ ভাতা দেয়া হতো, সেটি করোনায় আয় কমে যাওয়ায় পরিবর্তন করে বর্তমানে ফ্লাইং ঘণ্টা হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বোর্ড।

বর্তমানে বিমানে সব মিলিয়ে ১৫৭ জন পাইলট কর্মরত রয়েছেন। বাপার সঙ্গে বিমানের যে চুক্তি, সেটি অনুযায়ী একজন পাইলটের দৈনিক সর্বোচ্চ ১৩ ঘণ্টা কাজ করার কথা। সপ্তাহে একজন পাইলট কাজ করবেন সর্বোচ্চ ৭৫ ঘণ্টা। এর বাইরেও তিনি সপ্তাহে দুদিন ছুটি পাবেন।

আরও পড়ুন:
কারাগারে থেকে জুম মিটিং: আদালতের নজরে আনবে দুদক
বন্দি থেকে জুম মিটিং: ডেসটিনির এমডি রফিকুল ফের কারাগারে
কারাগারে ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং: ৪ কারারক্ষী বরখাস্ত
বন্দি ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং, প্রধান কারারক্ষীসহ প্রত্যাহার ৮

শেয়ার করুন

টাকা ফেরত পাবে গ্রাহক, তবে সময় চায় ইভ্যালির নতুন বোর্ড

টাকা ফেরত পাবে গ্রাহক, তবে সময় চায় ইভ্যালির নতুন বোর্ড

‘আমরা চেষ্টা করছি এই প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে বাঁচানো যায়। আমরা অনেক খোঁজখবর পেয়েছি। অনেক ইনফরমেশন পেয়েছি। অনেক কর্মকর্তার নাম পেয়েছি। সবাইকে আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়া ও আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়েই নিজেদের কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় উচ্চ আদালতের করে দেয়া অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের প্রধান আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইভ্যালির কার্যালয়ে মঙ্গলবার প্রথম সভা করেছে এই পরিচালনা বোর্ড। এর মধ্য দিয়ে কার্যালয়ের দখল বুঝে নিয়েছেন বলেও নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি এই প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে বাঁচানো যায়। আমরা অনেক খোঁজখবর পেয়েছি। অনেক ইনফরমেশন পেয়েছি। অনেক কর্মকর্তার নাম পেয়েছি। সবাইকে আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে থাকার সময় মো. রাসেলের বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণের পাশাপাশি অর্থ পাচারের অভিযোগও পেয়েছেন বর্তমান পরিচালনা বোর্ড।

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমরা এই খবরও পেয়েছি যে রাসেল বারবার বিদেশে গিয়েছেন। বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। সেই টাকাগুলোর খবর করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। সোজা কথা কাউকে ছাড়ব না।’

বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আগের কর্ণধার রাসেলের সঙ্গে বর্তমান বোর্ড যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে বলে খবর এসেছে। এতে ভীষণ চটেছেন বোর্ড প্রধান।

বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি, রাসেলের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের কোনো প্রশ্নই আসতে পারে না। বরং উল্টো রাসেলের শ্যালিকাসহ আর কারা আছে তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা আমরা করছি। তারা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন আমরা সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গ্রাহকরা কত পান না পান, সেগুলো তো আমার হিসাব করতে হবে। এদের কত সম্পদ আছে, সেটা হিসাব করতে হবে। এগুলো অডিট করার পর এসব বিষয় আসবে। এর জন্য অনেক সময় লাগবে।’

‘গ্রাহকের অর্থ যতটা সম্ভব ফেরত দেয়া যায়’ সেই চেষ্টাটা থাকবেও বলেও জানান ইভ্যালি পরিচালনায় অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের প্রধান এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

‘আতঙ্কিত হবেন না’

বৈঠকের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি নি‌য়ে আতঙ্কিত বা হতাশ না হয়ে আস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় হাইকোর্টের করে দেয়া বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে মঙ্গলবার এক স্ট্যাটাসে তিনি এ পরামর্শ দেন।

তবে স্ট্যাটাসের কোথাও সরাসরি ‘ইভ্যালি’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।

তিনি লিখেছেন, ‘যা কিছু দেখবেন শুনবেন জানবেন, আতঙ্কিত বা হতাশ হবেন না। আস্থা বা বিশ্বাস রাখুন, অপেক্ষা করুন। কষ্ট যা হবে, আমার হবে। হয়তো তিন গুণ কষ্ট বেড়ে যাবে, এই যা।’

আগামীতে যা হবে সেখানেও কোনো প্রকার অনিয়ম হবে না বলে আশ্বস্ত করে মাহবুব কবীর মিলন লিখেছেন, ‘যা হবে বিন্দু পরিমাণ বিচ্যুতি বা অনিয়ম বা ম্যানিপুলেশন থাকবে না। সময় দিন। অপেক্ষা করুন।’

ইভ্যালির বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগ ছিল অনেক দিন ধরে। এসবের মাঝে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এরপর গুলশান থানায় করা অর্থ আত্মসাৎ মামলায় তাদের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। এই মামলায় রিমান্ড শেষে ধানমন্ডি থানায় করা অর্থ আত্মসাতের অপর এক মামলায় রাসেলকে ফের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আসামি দুজনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
কারাগারে থেকে জুম মিটিং: আদালতের নজরে আনবে দুদক
বন্দি থেকে জুম মিটিং: ডেসটিনির এমডি রফিকুল ফের কারাগারে
কারাগারে ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং: ৪ কারারক্ষী বরখাস্ত
বন্দি ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং, প্রধান কারারক্ষীসহ প্রত্যাহার ৮

শেয়ার করুন

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

আয়কর মেলাতেও অনলাইনে জমা দেয়া যাবে রিটার্ন। ফাইল ছবি

আবু হেনা বলেন, ‘অনলাইন রিটার্ন দাখিল সুবিধার্থে প্রতিটি কর অঞ্চলে দুটি করে ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক থাকবে। এই ডেস্ক থেকে করদাতাদের রিটার্ন ফরম পূরণসহ আয়করসংক্রান্ত যাবতীয় সেবা দেয়া হবে।’

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার পদ্ধতি আবার চালু করা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রত্যেক কর অঞ্চলে যে করমেলা হবে সেখানে করদাতারা প্রচলিত প্রথার পাশাপাশি অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবন মিলনায়তনে মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন ১০ অক্টোবর থেকে চালু করা হলেও এ দিন তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

আবু হেনা বলেন, ‘অনলাইন রিটার্ন দাখিল সুবিধার্থে প্রতিটি কর অঞ্চলে দুটি করে ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক থাকবে। এই ডেস্ক থেকে করদাতাদের রিটার্ন ফরম পূরণসহ আয়করসংক্রান্ত যাবতীয় সেবা দেয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ। গত এক বছরে আরও ১৭ লাখ নতুন টিআইএন শনাক্ত হয়েছে।’

আরও বেশি লোকজনকে করের আওতায় আনতে ‘ডোর টু ডোর’ কার্যক্রম চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ জন্য এনফোর্সমেন্টের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।’

করোনার কারণে এবার জাতীয়ভাবে আয়কর মেলা হচ্ছে না। তবে করদাতাদের সেবা অব্যাহত রাখতে মেলা আয়োজনের পরিবর্তে দেশের সব কর অঞ্চলে বিগত বছরের ন্যায় এবারও মেলার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম

১ নভেম্বর শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আয়কর মেলা।

আরও আসছে…

আরও পড়ুন:
কারাগারে থেকে জুম মিটিং: আদালতের নজরে আনবে দুদক
বন্দি থেকে জুম মিটিং: ডেসটিনির এমডি রফিকুল ফের কারাগারে
কারাগারে ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং: ৪ কারারক্ষী বরখাস্ত
বন্দি ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং, প্রধান কারারক্ষীসহ প্রত্যাহার ৮

শেয়ার করুন

বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থানটা বিবেচনা করলে, যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন তারা শুধু বাংলাদেশ পাবেন না, আমি বলব দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও একটা সুযোগ থাকবে এই বাজারগুলো ধরার এবং রপ্তানি করার। প্রাচ্য পাশ্চাত্যের একটা যোগাযোগের ব্রিজ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ভবিষ্যতে, যা আমাদের দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটতে সহায়তা করবে।’

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের যোগাযোগের সেতু হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার হবে বলেও মনে করেন তিনি।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থানটা বিবেচনা করলে, যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন তারা শুধু বাংলাদেশ পাবেন না, আমি বলব দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও একটা সুযোগ থাকবে এই বাজারগুলো ধরার এবং রপ্তানি করার। প্রাচ্য পাশ্চাত্যের একটা যোগাযোগের ব্রিজ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ভবিষ্যতে, যা আমাদের দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটতে সহায়তা করবে।’

সপ্তাহব্যাপী এই সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে বিশ্বের ৩৮টি দেশের ৫৫২টি প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দেশীয় ২৮১টি এবং বিদেশি ২৭১টি। ১ নভেম্বর পর্যন্ত এই সম্মেলনের ফাঁকে ৪৫০টি বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) বৈঠকের কথা রয়েছে।

এই সামিটে অবকাঠামো, আইটি, চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং, প্লাস্টিক পণ্য, এফএমসিজি (ফার্স্ট মুভিং কনজিউমার গুডস) এবং পাট ও টেক্সটাইল পণ্য প্রদর্শিত হবে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিসিসিআই।

এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের নব নব দ্বার উন্মোচিত হবে। রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হবে।’

রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নতুন নতুন কী পণ্য আমরা উৎপাদন করতে পারি এবং রপ্তানি করতে পারি সেটাও গবেষণা করে বের করতে হবে। সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। কোন কোন দেশে কী কী পণ্যের চাহিদা রয়েছে সেটা অনুধাবন করে সেই পণ্য আমরা বাংলাদেশে উৎপাদন করতে পারি কি না সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটা দেশ আমরা ইচ্ছে করলে পারি, সবকিছু করতে পারি। এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে। জাতির পিতা বলে গেছেন।’

বেসরকারি খাতের প্রসারে আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি খাতেও যদি উদ্যোক্তা না হয়, শিল্পের প্রসার না ঘটায় ব্যবসা বাণিজ্য কখনও শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারে না।’

ঘনবসতির বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার জানিয়ে শিল্পের নামে যাতে কৃষি জমি নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, ‘ঘনবসতি পূর্ণ দেশ আমাদের। দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে, বৃদ্ধি করতে হবে। তার জন্য, যে সমস্ত জমি কৃষির জন্য ব্যবহার হবে সেগুলো যেন নষ্ট না হয়, আবার শিল্পের ক্ষেত্রে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা করে দেয়া, যেন আমাদের পরিবেশ নষ্ট না হয়। কাজেই পরিবেশ বান্ধব শিল্প উন্নয়নের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আমার দেশজুড়ে করে দিচ্ছি। কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।’

এর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ও দেশে বাজার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়াতে ও দ্রুত বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে পিপিপি অর্থাৎ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ এই পদ্ধতি আমরা গ্রহণ করেছি। এর আওতায় আমরা প্রায় ৭৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আমাদের বিনিয়োগ হচ্ছে।’

দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন, রপ্তানির পরিমাণ ও গতিশীলতা বাড়াতে বন্ড ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পের ন্যায় অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদনমুখী কার্যক্রমও কাস্টমস বন্ডেড ব্যবস্থার অধীনে আসতে পারে, সেজন্য আমরা বন্ড ব্যবস্থাপনাকে অটোমেশনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি, যা চলমান রয়েছে। যার টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

‘আমরা আশা করি এটি বাস্তবায়িত হলে সকল প্রকার রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানিতে গতিশীলতা আসবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, তাই সবকিছু ডিজিটাল পদ্ধতিতে হোক, আধুনিক পদ্ধতিতে হোক, প্রযুক্তি সম্পন্ন হোক সেটাই আমরা চাই।’

আরও পড়ুন:
কারাগারে থেকে জুম মিটিং: আদালতের নজরে আনবে দুদক
বন্দি থেকে জুম মিটিং: ডেসটিনির এমডি রফিকুল ফের কারাগারে
কারাগারে ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং: ৪ কারারক্ষী বরখাস্ত
বন্দি ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং, প্রধান কারারক্ষীসহ প্রত্যাহার ৮

শেয়ার করুন

বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন কৌশল চায় বিডা

বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন কৌশল চায় বিডা

বিডার কনফারেন্স হলে ‘পোস্ট কোভিড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন স্ট্র্যাটেজি’ শিরোনামে সেমিনারে আলোচকরা। ছবি: সংগৃহীত

বিডা’র নির্বাহী চেয়াম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোভিড পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর বিনিয়োগ চিত্র অনেক বদলে গেছে। তাই সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এই সময় দেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমাদের নতুন কৌশল নিতে হবে। সেগুলো বাস্তবায়নও করতে হবে।’

বিনিয়োগ চিত্র অনেকটা বদলে গেছে করোনা মহামারিরতে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন কৌশল প্রণয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

রাজধানীতে বিডার কনফারেন্স হলে সোমবার ‘পোস্ট কোভিড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন স্ট্র্যাটেজি’ শিরোনামে এক সেমিনার হয়।

এতে প্রধান অতিথি বিডা’র নির্বাহী চেয়াম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোভিডের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে লকডাউনের সময়ে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের (ওএসএস) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের পাশে ছিল বিডা। সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে গেছে। এ সময়ে নতুন নতুন সেবা যোগ হয়েছে, যেন বিনোয়গকারীদের অসুবিধা না হয়।

‘কোভিড পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর বিনিয়োগ চিত্র অনেক বদলে গেছে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এই সময় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমাদের নতুন কৌশল নিতে হবে। সেগুলো বাস্তবায়নও করতে হবে।’

বিডা’র নির্বাহী সদস্য মোহসিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন ও জাইকার ঢাকা প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া। সেমিনারের বিডার মহাপরিচালক মো. শাহ্‌ মাহবুব, পরিচালক মো. মুজিব-উল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে কারিগরি সহায়তা দেয়া জাইকার প্রজেক্ট লিডার তানাকা করোনা পরবর্তী বিনিয়োগ প্রচারের নানা কৌশল তুলে ধরেন। বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও বিনিয়োগে করোনার প্রভাব ও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ৪২ শতাংশ অবনমন হয়েছিল। তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ দ্রুত বাড়বে। তাই আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেগুলো চিহ্নিত করে এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে।’

জাইকার প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান ইস্যুগুলোকে আরও সহজ করার তাগিদ দেন।

আরও পড়ুন:
কারাগারে থেকে জুম মিটিং: আদালতের নজরে আনবে দুদক
বন্দি থেকে জুম মিটিং: ডেসটিনির এমডি রফিকুল ফের কারাগারে
কারাগারে ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং: ৪ কারারক্ষী বরখাস্ত
বন্দি ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং, প্রধান কারারক্ষীসহ প্রত্যাহার ৮

শেয়ার করুন

পর্যটনে প্রণোদনা ঋণ, আবেদন যেভাবে

পর্যটনে প্রণোদনা ঋণ, আবেদন যেভাবে

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে গড়ে ওঠা দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট। ছবি: নিউজবাংলা

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য ১ নভেম্বর থেকে আবেদন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আবেদন করা যাবে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।  

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন শিল্প। এ শিল্পে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ১ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে পর্যটন খাতে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দিতে ৪ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের এক বছর মেয়াদি ঋণ দেয়া হবে।

ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ তহবিল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাকি ৫০ শতাংশ অর্থ ব্যাংক তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে।

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য ১ নভেম্বর থেকে আবেদন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আবেদন করা যাবে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘ঋণ সুবিধা ভোগকারী পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে (হোটেল, মোটেল, থিম পার্ক) বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিতে বিদ্যমান ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা বাবদ মঞ্জুর করা বা প্রদত্ত সীমার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এবং এরূপ ক্ষতিগ্রস্ত যে সব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ব্যাংক হতে ঋণ সুবিধা ভোগ করছে না সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগ্রহী ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা বাবদ সম্ভাব্য ঋণ প্রাপ্যতার সীমার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করা যাবে।’

পুনঃঅর্থায়নের জন্য ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩১ অক্টোবর সময়ের মধ্যে অফ-সাইট সুপারভিশন বরাবর আবেদন করতে হবে।

ইচ্ছুক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় চাওয়া হয়েছে মর্মে প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রত্যয়ন পত্র দাখিল করতে হবে।

প্রতিটি গ্রাহকের (পুরাতন/নতুন) ঋণ সীমা (বিদ্যমান ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধার অথবা প্রাপ্যতার পরিমাণের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ) নির্ধারণ সংক্রান্ত হিসাবায়ন নির্ধারিত ছকে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক সংরক্ষণ করতে হবে।

শর্তসাপেক্ষে এককালীন বা কিস্তিতে ঋণ নেয়া যাবে না।

বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে এককালীন অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্র

যে তারিখ বা মাস হতে কর্মচারীদের বেতন বকেয়া আছে তার অব্যবহিত পূর্বের ৩ মাসের বেতনের গড় পরিমাণকে ভিত্তি ধরে হিসাব সম্পন্ন করতে হবে।

কর্মরত-কর্মচারীদের প্রকৃত সংখ্যা অনুসারে পরিশোধযোগ্য বেতনের পরিমাণ হিসাব করতে হবে।

প্রতি মাসের জন্য হিসাবায়িত বেতনের পরিমাণ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় নির্ধারিত পরিমাণ (সর্বোচ্চ ৩০%) পর্যন্ত এককালীন বিতরণ করা যাবে। বিতরণকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহ তালিকা অনুসারে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব আকলন করতে হবে। অর্থ প্রেরণের প্রমাণপত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সংরক্ষণ করবে।

এসব প্রমাণপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক প্রদর্শন করতে হবে বা নির্দেশিত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।

গ্রাহক ঋণ গ্রহণের এক বছরের মধ্যে যে কোনো সময় সম্পূর্ণ বা আংশিক আসল পরিশোধ করলে পরিশোধিত অর্থ ফেরত প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

কিস্তিতে অর্থ বরাদ্দ যেভাবে

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে ব্যাংক প্রকৃত চাহিদার পরিমাণ হিসাবায়নপূর্বক ঋণ বিতরণ করবে এবং বিতরণ করা অর্থের সদ্ব্যবহার যাচাই করে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য আবেদন করবে।

প্রণোদনা প্যাকেজের সময়ের আওতায় প্রতি মাসের বেতন দেয়ার ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহক ঋণ গ্রহণের তারিখ হতে এক বছর সময় পাবেন।

ঋণের মোট সুদের হার হবে ৮ শতাংশ। এর মধ্যে উদ্যোক্তাকে দিতে হবে ৪ শতাংশ। সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে ৪ শতাংশ। প্রণোদনার আওতায় উদ্যোক্তারা এক বছর এ ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

আবেদনে লাগবে যেসব দলিলা

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বিতরণ করা ঋণের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা চাওয়া হয়েছে মর্মে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্তৃক স্বাক্ষর করা প্রত্যয়ন পত্র প্রয়োজন হবে।

গ্রাহকের (পুরাতন/নতুন) অনুকূলে ঋণের সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত হিসাবায়ন ছক।

ঋণ প্রদানের মঞ্জুরিপত্র।

গ্রাহকের ঋণ বা বিনিয়োগ হিসাব বিবরণী।

প্রাপ্যতা অনুযায়ী সম্পূর্ণ আসলসহ সম্ভাব্য সুদের পরিমাণ।

এ সংক্রান্ত তথ্য প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগে জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
কারাগারে থেকে জুম মিটিং: আদালতের নজরে আনবে দুদক
বন্দি থেকে জুম মিটিং: ডেসটিনির এমডি রফিকুল ফের কারাগারে
কারাগারে ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং: ৪ কারারক্ষী বরখাস্ত
বন্দি ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং, প্রধান কারারক্ষীসহ প্রত্যাহার ৮

শেয়ার করুন

এনসিসি ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, ৩ জনের নামে পরোয়ানা

এনসিসি ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, ৩ জনের নামে পরোয়ানা

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৩ টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালতে রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে মামলা করে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখা।

এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখার ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান সোমবার দুপুরে এ আদেশ দেন।

যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা দেয়া হয়েছে তারা হলেন হারুনুর রশিদ, আনজুমান আরা বেগম ও হাসনাইন হারুন।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৩ টাকার ঋণখেলাপি মামলায় গত ১৭ অক্টোবর রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখা।

‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৩ টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালতে রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে মামলা করে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখা।

চট্টগ্রামের এইচআর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ। তার গ্রুপের অধীনে প্রায় ১৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ একটি।

আরও পড়ুন:
কারাগারে থেকে জুম মিটিং: আদালতের নজরে আনবে দুদক
বন্দি থেকে জুম মিটিং: ডেসটিনির এমডি রফিকুল ফের কারাগারে
কারাগারে ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং: ৪ কারারক্ষী বরখাস্ত
বন্দি ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং, প্রধান কারারক্ষীসহ প্রত্যাহার ৮

শেয়ার করুন