নৌকার প্রচারে ‘পোলিং-প্রিসাইডিং’ কর্মকর্তারা

নৌকার প্রচারে ‘পোলিং-প্রিসাইডিং’ কর্মকর্তারা

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে নৌকার নির্বাচনি সভায় অতিথি হিসেবে ছিলেন জহর তরপদার। ছবি: নিউজবাংলা

সবশেষ শুক্রবার উত্তর বরুণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন দেব উপজেলার গন্ধব্যপুর এলাকায় নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে গণসংযোগ ও নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন। বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নৌকার নির্বাচনি সভায় অতিথি হিসেবে ছিলেন জহর তরপদার।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। জনসংযোগ, সভা, সমাবেশে প্রকাশ্যে নৌকার প্রার্থীর জন্য ভোট চাইছেন তারা।

এই শিক্ষকরাই ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। এ জন্য নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে তাদের ওপর বিধিনিষেধ আছে। তবে শ্রীমঙ্গলে শিক্ষকদের তা উপেক্ষা করে প্রচারে অংশ নেয়ায় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

এরই মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া নির্বাচনি প্রচারের নানা ছবি ও ভিডিওতে সরকারি বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষককে দেখা গেছে।

তাদের মধ্যে উল্লেখজনক হলেন শ্রীমঙ্গল শহরের চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহর তরপদার, উত্তর বরুণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন দেব ও রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অলক পাল।

সবশেষ শুক্রবার উত্তর বরুণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন দেব উপজেলার গন্ধব্যপুর এলাকায় নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে গণসংযোগ ও নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন। বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নৌকার নির্বাচনি সভায় অতিথি হিসেবে ছিলেন জহর তরপদার।

এ বিষয়ে কথা বলতে ওই তিন শিক্ষকের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ধরেননি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমন ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্য প্রার্থীরা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক।

প্রার্থী আফজল হক বলেন, ‘আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের কাছে বারবার দাবি জানাচ্ছি। আমরা লক্ষ করছি, শ্রীমঙ্গলের বেশ কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক প্রকাশ্যে নৌকার প্রার্থীর হয়ে ভোট চাইছেন।

‘গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করছেন, এরাই আবার নির্বাচনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। আমি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এটি সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হচ্ছে।’

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রেম সাগর হাজরা বলেন, ‘নির্বাচনে যেহেতু সরকারি চাকরিজীবীরা কারও পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারেন না, সেহেতু বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে দেখতে হবে। এভাবে সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তারা এক পক্ষের হয়ে প্রচার চালাতে পারেন না।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাফর আল সাদিক জানান, শুধু শিক্ষক নয়, নির্বাচনি প্রচারে রাষ্ট্রের কোনো সরকারি চাকরিজীবী অংশ নিতে পারবেন না। কোনো শিক্ষক যদি এমনটা করে থাকেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তপনজ্যোতি অসিম বলেন, ‘আমি একটু বাইরে আছি, তাই অভিযোগের কপি এখনও দেখিনি। ঘটনা সত্য হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রচারে অংশ নেয়া নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারে আ.লীগ
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার জাপা প্রার্থীর
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ
ফেনীতে আ. লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রাণ ফিরেছে মেঘনার মাছঘাটে

প্রাণ ফিরেছে মেঘনার মাছঘাটে

লক্ষ্মীপুরের মেঘনার মাছঘাটে ইলিশ বেচাকেনা জমেছে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলেরা জানালেন, এক কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে চার হাজার টাকায়। আর এক কেজির কম ওজনের এক হালি মাছ বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।

নিষেধাজ্ঞা শেষে ২২ দিন পর আবারও জমে উঠেছে লক্ষ্মীপুরের মেঘনার তীরের সব মাছঘাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনায় প্রাণ ফিরেছে আড়তে।

জেলেরা সোমবার মধ্যরাত থেকে মাছ ধরতে শুরু করেছেন মেঘনায়। তারা জানালেন, ইলিশ ভালো পরিমাণেই পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রায় সবগুলোতেই ডিম আছে।

সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট, কমলনগরের মতিরহাট, লূধুয়া ও নাছিরগঞ্জের মাছঘাটগুলোতে মঙ্গলবার সকালে দেখা গেছে, প্রতিটিতেই ব্যাপক ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম। জেলেরা ঘাটে ইলিশ নিয়ে আসা মাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

রামগতির চেয়ারম্যানঘাট, বড়খেরী, চরআলেকজান্ডার, বাংলাবাজার, জনতাবাজার, চরকালকিনি, সাজু মোল্লারহাট, আলতাফ মাস্টাররঘাটসহ জেলার ১৬ ঘাট থেকে এমন জমজমাট কেনাবেচার খবর পাওয়া গেছে।

মজুচৌধুরীরহাটের জেলে কালাম মাঝি, ইউনুছ মাঝি ও মো. সোহেল জানালেন, ইলিশ রক্ষায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে তারা ২২ দিন নদীতে নামেননি। ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে মাছ ধরা শুরু করেছেন।

তারা জানালেন, আগের তুলনায় জালে অনেক ইলিশ ধরা পড়ছে। দামও ভালো পাচ্ছেন। এক কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে চার হাজার টাকায়। আর এক কেজির কম ওজনের এক হালি মাছ বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।

তবে তাদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময়টা ঠিক হয়নি। এ সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে পারেনি। তাই প্রায় সব মাছে ডিম রয়ে গেছে।

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সারা দেশে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।

জেলা মৎস্য কর্মকতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে তারা অনেক খুশি। গত বছর শীতে প্রচুর মাছ পাওয়া গেছে। এবার মাছ আরও বেশি ধরা পড়বে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ২৫ হাজার টন।’

আরও পড়ুন:
প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারে আ.লীগ
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার জাপা প্রার্থীর
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ
ফেনীতে আ. লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

শেয়ার করুন

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তানের দায়িত্ব নিলেন বদি

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তানের দায়িত্ব নিলেন বদি

কক্সবাজারের সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদি মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর গর্ভে জন্ম নেয়া এক নবজাতকের দায়িত্ব নিয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

সম্প্রতি সাবেক সাংসদ বদিকে বাবা দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন ইসহাক নামে এক যুবক। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে বদি তা অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, উখিয়া টেকনাফে যত ছেলে মেয়ে তাকে বাবা বলে দাবি করবে সবাইকে তিনি ছেলে-মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন। 

নানা বিষয় নিয়ে আলোচিত-সমালোচিত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি এবার মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর গর্ভে জন্ম নেয়া এক নবজাতকের দায়িত্ব নিয়েছেন। এতে প্রশংসায় ভাসছেন বদি ও তার স্ত্রী শাহীনা আক্তার।

নবজাতক মেয়ে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে মরিয়ম জারা। সোমবার বিকেলে টেকনাফ পৌরসভায় শিশুটির জন্ম নিবন্ধন হয় বদি দম্পতির নামে। এরপর তা প্রকাশ করলে মুহূর্তেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা বলছেন, যে যা বলুক আজ থেকে শিশু মরিয়ম জারার পিতা সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি ও মা শাহীনা আক্তার। এ মহৎ কাজের জন্য হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এনিয়ে ফেসবুকে জয়নাল উদ্দিন জয় নামে এক যুবক লিখেছেন, ‘টেকনাফে পাগলির মেয়ে রাজকন্যা জারাকে আপন করে নিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য শাহিনা আক্তার ও উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদি।’

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তানের দায়িত্ব নিলেন বদি

মরিয়াম জারার নাম উখিয়া-টেকনাফবাসী সারা জীবন মনে রাখবে বলেও স্ট্যাটাসে লেখেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মেয়েকে দত্তক নিয়ে উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।’

এ বিষয়ে জানতে বদি দম্পতিকে মুঠোফোনে বার বার কল করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল জানান, মা ও মেয়ে সুস্থ আছেন। মঙ্গলবার তাদেরকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

এর আগে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শামলাপুরের শিলখালী এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী ঘুরাঘুরি করতো। এর মধ্যে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। ২৪ অক্টোবর রাতে তার প্রসব বেদনা উঠলে এলাকার চৌকিদার শহিদ উল্লাহ টেকনাফ থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সম্প্রতি সাবেক সাংসদ বদিকে বাবা দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন ইসহাক নামে এক যুবক। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে বদি তা অস্বীকার করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, উখিয়া টেকনাফে যত ছেলে মেয়ে তাকে বাবা দাবি করবে সবাইকে তিনি ছেলে মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন।

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মেয়ের দায়িত্ব নিয়ে সেই বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন, এমনই বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন:
প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারে আ.লীগ
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার জাপা প্রার্থীর
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ
ফেনীতে আ. লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

শেয়ার করুন

বামন্দী গ্রামের বাজার মাতাচ্ছে কালো আখ

বামন্দী গ্রামের বাজার মাতাচ্ছে কালো আখ

মেহেরপুরের গাংনীর বামন্দী গ্রামে চাষ হচ্ছে ফিলিপিনো ব্ল্যাক জাতের আখ। ছবি: নিউজবাংলা

সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করতে আমাদের খরচ হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। আর আখ বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। অন্য যে কোনো ফসলের চেয়ে আখ চাষ লাভজনক।’

মেহেরপুরে গাংনীর বামন্দী গ্রামের দুই বন্ধু সাইফুল ইসলাম ও ইউসুফ আলী। নিজ নিজ বাড়ির পাশের পৌনে দুই বিঘা জমিতে ফিলিপাইন ব্ল্যাক জাতের আখ চাষ করে গ্রামে তারা এখন সুপরিচিত। লোকজন নতুন জাতের আখ দেখতে প্রায়ই তাদের বাড়ি যায়।

সাইফুল ও ইউসুফ বামন্দী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তারা জানালেন, শখ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই আখের চাষ করেছেন। খরচের দ্বিগুন লাভ হয়েছে বলে তারা উচ্ছ্বসিত।

নিউজবাংলাকে সাইফুল ও ইউসুফ জানান, দেশে সাধারণত যে আখ হয়, তার থেকে ফিলিপাইন ব্ল্যাক জাতের আখ বেশ নরম ও মিষ্টি। একটি আখ থেকে ৭ থেকে ১০ টি বীজ পাওয়া যায়। এ কারণে কম খরচে এর উৎপাদনও বেশি করা যায়।

দুই বন্ধু জানান, ভ্রাম্যমাণ আখ বিক্রেতারা তাদের জমি থেকে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দামে এক একটি আখ কিনে নেয়। বাজারে ক্রেতাদের বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চাহিদা ও বাজার মুল্য ভালো থাকায় নতুন জাতের আখের বীজ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা আসেন এখানে। চারা রোপনের দশ মাস পর থেকে জমি থেকে এই আখ সংগ্রহ করা যায়।

‘এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করতে আমাদের খরচ হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। আর আখ বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। অন্য যে কোনো ফসলের চেয়ে আখ চাষ লাভজনক। এ কারণে অনেকে এই নতুন জাতের আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছে।’

বামন্দী গ্রামের বাজার মাতাচ্ছে কালো আখ

ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমি আর সাইফুল আমাদের আরেক শিক্ষক ভাইয়ের আখ চাষ দেখে ফিলিপাইন ব্লাক আখ চাষে আগ্রহী হই। ইউটিউব দেখে শিখে নিয়েছি। জমিতে আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে রসুন চাষ করি।

‘সব মিলিয়ে বিঘা প্রতি এক লাখ টাকা খরচ হয়। অথচ সাথী ফসল রসুন বেচে পেয়েছি পঞ্চাশ হাজার টাকা। সব ঠিকঠাক থাকলে প্রতি বিঘাতে তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তাই বলি শিক্ষিত বেকার যুবক ভাইয়েরা বসে না থেকে যে কোনো কৃষি কাজ বা খামার করা উচিত।’

আখ বিক্রেতা মো. শানারুল বলেন, ‘আমি প্রায় আট বছর গেন্ডারি আখ বাজার ঘাটে বেইচি বেড়াই। তবে এ বছর কালো খয়েরী কালারের ফিলিপাইন গেন্ডারি কাস্টমারে বেশি চাইছে। কারণ এটি খাইতে অনেক মিষ্টি ও খুব নরম।’

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই উপজেলায় নতুন একটি ফসল সম্প্রসারণ হতে যাচ্ছে, তা হলো ফিলিপাইন ব্লাক গেন্ডারি। তিন বছরের মতো হবে এ ফসলটি বাণিজ‍্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে।

‘যারা এই আখ চাষ করছেন, তারা আমাদের জানিয়েছেন বিঘা প্রতি খরচ হয় ৭৫ থেকে এক লাখ টাকা। আর ফিডব‍্যাক হিসেবে পাওয়া যায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মতো। বাজারেও চাহিদা বেশ ভালো। তাই এ উপজেলার জন‍্য এটি একটি অর্থকারী ফসল হয়ে উঠতে পারে।’

আরও পড়ুন:
প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারে আ.লীগ
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার জাপা প্রার্থীর
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ
ফেনীতে আ. লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

শেয়ার করুন

সরকারি স্কুলের ২ একর জমি ‘বেদখলে’

সরকারি স্কুলের ২ একর জমি ‘বেদখলে’

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এই জমি দখল করে কলাগাছ লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিউজবাংলাকে জানান, উপজেলার মাকড়াই মৌজায় অবস্থিত স্কুলটির ২ দশমিক ৩৮ একর জমি স্থানীয় আব্দুল হাকিম ও তার ছেলে আব্দুল মতিন দখল করে রেখেছেন। সেই জমিতে ১৭টি পরিবারকে টাকার বিনিময়ে থাকার অনুমতিও দিয়েছেন তারা। তবে আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, জমিটি লিজ নেয়া অনেক বছর ধরেই।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ দশমিক ৩৮ একর জমি ভুমিদস্যুদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন চেষ্টার পরও জমিটি উদ্ধার করতে পারেননি বলে জানান বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার কবিরাজ।

বিদ্যুৎ কুমার নিউজবাংলাকে জানান, উপজেলার মাকড়াই মৌজায় অবস্থিত স্কুলটির ২ দশমিক ৩৮ একর জমি স্থানীয় আব্দুল হাকিম ও তার ছেলে আব্দুল মতিন দখল করে রেখেছেন। সেই জমিতে ১৭টি পরিবারকে টাকার বিনিময়ে থাকার অনুমতিও দিয়েছেন তারা।

ওই শিক্ষক আরও জানান, জমিটির বর্তমান মূল্য আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা। বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় হয়েছেন হুমকির শিকার।

জমি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ কুমার।

ওই শিক্ষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা জমি উদ্ধারে গেলে নানা ধরনের হুমকি দেয় আব্দুল হাকিম ও আব্দুল মতিন। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি জমিটি উদ্ধারের ব্যাপারে।'

‘কয়েক দিন আগে পুলিশ গিয়ে তাদের জায়গা ছেড়ে দিতে বললে তারা ছেড়ে দেবে বলে জানায়। তবে তারা জায়গা ছেড়ে দেয় নাই।’

সরকারি স্কুলের ২ একর জমি ‘বেদখলে’

বিদ্যুৎ কুমার আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ১০০টি চারা রোপনের নির্দেশনা দেয়া হয় সরকার থেকে। সে অনুযায়ী বিদ্যালয়ের দখল করা জমির এক অংশে আমরা চারা রোপণ করতে গেলে তারা আমাদের বাধা দেয়।

‘জমিটি ছেড়ে দেয়ার জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর স্কুলের পক্ষ থেকে আব্দুল হাকিমসহ ১৯ জনকে চিঠি দেয়া হয়। চিঠি পাওয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর সকালে আব্দুল মতিন স্কুলে এসে আমিসহ অন্য শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে যায়। আমরা পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর বীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করি।’

প্রধান শিক্ষক জানান, অভিযোগ দেয়ার পর আব্দুল হাকিম ও তার ছেলে ওই জমিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের রোপণ করা চারার সঙ্গে কলাগাছ রোপণ করেন।

অন্যদিকে আব্দুল মতিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জমিটি পাকিস্তান আমলের পর থেকে আমার বাবা লিজ নিয়ে ভোগদখল করে আসছে। এখানে আরও অনেকেই লিজ নিয়ে ভোগদখল করছে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমাদের লিজের টাকা পরিশোধ আছে। সোনালী ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে স্কুলেরই একটি অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা করা হয়।

‘জমির যে অংশে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে, সে জমিতে কলা আবাদ করেছি। আবাদ শেষ হলে ওই অংশ আমরা ছেড়ে দেব।’

সরকারি স্কুলের ২ একর জমি ‘বেদখলে’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাকড়াই মৌজার জমিটি উদ্ধারের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। শিগগিরই জমিটি উদ্ধারে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন প্রধান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে জমিটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারে আ.লীগ
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার জাপা প্রার্থীর
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ
ফেনীতে আ. লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

শেয়ার করুন

পুকুরে বাবা, মা ও মেয়ের মরদেহ

পুকুরে বাবা, মা ও মেয়ের মরদেহ

খুলনায় পুকুর থেকে একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

কয়রা থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকালে পুকুরে হাবিবুল্লাহ, তার স্ত্রী বিউটি ও কন্যা টুনির মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

খুলনার কয়রায় একটি পুকুর থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের পাশে মাজেদের বাড়ির পুকুরে ভাসতে থাকা মরদেহগুলো মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উদ্ধার করা হয়।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) শাহাদাৎ হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে পুকুরে হাবিবুল্লাহ, তার স্ত্রী বিউটি ও কন্যা হাবিবা টুনির মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। থানা পুলিশ গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুস সামাদ বলেন, হাবিবুল্লাহ ছিলেন দিনমজুর। তার মেয়ে টুনি স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত।

তিনি আরও জানান, তিনজনেরই মুখে ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে রাতে তাদের হত্যা করে গুম করার জন্য মরদেহ পুকুরে ফেলা হয়।

আরও পড়ুন:
প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারে আ.লীগ
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার জাপা প্রার্থীর
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ
ফেনীতে আ. লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

শেয়ার করুন

৬ মাসের সাজা থেকে বাঁচতে ৫ বছর পলাতক

৬ মাসের সাজা থেকে বাঁচতে ৫ বছর পলাতক

সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাহাঙ্গীর আলম

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার সকালে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

চেক প্রতারণার দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কোর্টপাড়ার মৃত শেখ আহমদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীর খুলনার কনস্ট্রাকশন ম্যাটেরিয়ালের স্বত্বাধিকারী কামালের সঙ্গে ব্যবসা করতেন। ব্যবসার একপর্যায়ে কিছু টাকা আটকে ফেলেন তিনি। এ ঘটনায় ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করা হয়।

২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় জাহাঙ্গীরকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ ৭ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।

এ ছাড়া ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়। চলতি বছরের ২ মার্চ ওই মামলায় তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয় আদালত।

এরপর থেকেই জাহাঙ্গীর পলাতক ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার সকালে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানান, বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই দুটি মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় আরও ৭-৮টি মামলা বিচারাধীন।

আরও পড়ুন:
প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারে আ.লীগ
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার জাপা প্রার্থীর
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ
ফেনীতে আ. লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

শেয়ার করুন

স্কুলে যাওয়ার পথে দুই ছাত্রী নিখোঁজ

স্কুলে যাওয়ার পথে দুই ছাত্রী নিখোঁজ

পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। ছবি: নিউজবংলা

পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম রেজা জানান, ‘গত দুই দিন সুখি ও লামিয়া নামের দুই ছাত্রী স্কুলে আসেনি। বিষয়টি উদ্বেগজনক।’

বরগুনার পাথরঘাটায় স্কুলে যাওয়ার পথে দুই ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলো পাথরঘাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোশাররফ হোসেনের ১২ বছরের মেয়ে সুখি এবং আজাদ খানের একই বয়সের মেয়ে আয়শা আক্তার লামিয়া।

তারা পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় সোমবার রাত ৮টার দিকে পাথরঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দুই শিশুর অভিভাবকরা।

অভিভাবকরা জানান, শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য তারা বাড়ি থেকে বের হয়। পাথরঘাটা হল রোড দিয়ে দুজন স্কুলের দিকে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়ি না ফেরায় খুঁজতে বের হন তাদের অভিভাবকরা। স্কুলে গিয়ে জানা যায়, তারা স্কুলে যায়নি।

তবে স্থানীয় লোকজন তাদের একসঙ্গে স্কুলের দিকে যেতে দেখেছে।

সুখির খালা নুর জাহান জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি নম্বর থেকে তার মোবাইল ফোনে কল আসে। কলটি রিসিভ করলে নারী কণ্ঠে হ্যালো বলে লাইনটি কেটে মোবাইলটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম রেজা জানান, ‘গত দুই দিন সুখি ও লামিয়া নামের দুই ছাত্রী স্কুলে আসেনি। বিষয়টি উদ্বেগজনক।’

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, ‘ছাত্রীদের অভিভাবকরা সোমবার সন্ধ্যায় থানায় আলাদা দুটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।’

আরও পড়ুন:
প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারে আ.লীগ
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার জাপা প্রার্থীর
কুমিল্লা-৭ উপনির্বাচন: ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ
ফেনীতে আ. লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

শেয়ার করুন