শ্বশুরবাড়ি নয়, স্কুলে যাবে মেয়েটি

শ্বশুরবাড়ি নয়, স্কুলে যাবে মেয়েটি

চুয়াডাঙ্গার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের এক কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

চুয়াডাঙ্গা থানার ওসি মহসীন জানান, গাড়াবাড়িয়া গ্রামের নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল আলমডাঙ্গার এক যুবকের। শনিবার সকাল থেকেই মেয়ের বাড়িতে চলছিল বিয়ের আয়োজন। দুপুরে সব আয়োজন শেষে অপেক্ষা ছিল শুধু বর আসার। সেই সময়ই সেখানে পৌঁছান তারা।

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের পদক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী।

সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ওই কিশোরীর বাড়িতে শনিবার বিয়ের আয়োজন চলছিল। বেলা আড়াইটার দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সেখানে যায় পুলিশ।

পরে শ্বশুরবাড়ির পরিবর্তে তাকে ফের স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ। মেয়েটির লেখাপড়ার দায়িত্বও নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।

চুয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানান, গাড়াবাড়িয়া গ্রামের নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল আলমডাঙ্গার এক যুবকের। শনিবার সকাল থেকেই মেয়ের বাড়িতে চলছিল বিয়ের আয়োজন। দুপুরে সব আয়োজন শেষে অপেক্ষা ছিল শুধু বর আসার। সেই সময়ই সেখানে পৌঁছান তারা।

ওসি বলেন, ‘বাল্যবিবাহের বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুলের শিক্ষকসহ দুপুরে আমরা বিয়ে বাড়িতে হাজির হই। মেয়ের অভিভাবককে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে বলা হয়।

‘তিনি আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে মেয়ের পড়ালেখার খরচ চালাতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। পরে আমরা মেয়েটির পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবেই মেয়েটির দুই বছরের স্কুল ফি, পরীক্ষার ফিসহ বিদ্যালয়ের সব খরচ পরিশোধও করে দেয়া হয়। তার যাবতীয় শিক্ষা উপকরণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

পুলিশ যাওয়ার তথ্য পেয়ে বর আর আসেননি জানিয়ে ওসি বলেন, মূলত আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে মেয়েটিকে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার।

পুলিশের সঙ্গে ওই কিশোরীর বাড়িতে যান সীমান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. মেহেজাবিন, স্থানীয় ইউপি সদস্য জিন্নু আলী, মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট মানি খন্দকার।

আরও পড়ুন:
ইউএনও ঠেকালেন বাল্যবিবাহ
লাখাইয়ে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
আজমিরীগঞ্জে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
এক স্কুলের ৫০ ছাত্রীর বিয়ে: তদন্ত প্রতিবেদন শুক্রবার
বাল্যবিবাহ ঠেকালেন ইউএনও 

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যশোর শিক্ষা বোর্ডে আরও আড়াই কোটি টাকার জালিয়াতি

যশোর শিক্ষা বোর্ডে আরও আড়াই কোটি টাকার জালিয়াতি

নতুন জালিয়াতির বিষয়ে বলা হয়েছে, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন সচিব থাকার সময় এসব জালিয়াতি করেছেন। ২০১৭ সাল থেকে শিক্ষা বোর্ডের মোট পাঁচ কোটি টাকা চেক জালিয়াতি করে তুলে নেয়া হয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেক জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে একই পরিমাণ অর্থের আরও জালিয়াতি ধরা পড়েছে।

৯টি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও ২ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার ৮৭৮ টাকা তুলে নেয়ার প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দুদকে নতুন অভিযোগও দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ৮ অক্টোবর চেকের মুরি বইয়ের (গ্রাহকের কাছে থাকা চেকের অংশ) সঙ্গে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট মেলানোর সময় ১০ হাজার ৩৬ টাকার বিপরীতে মোট ৯টি চেকে জালিয়াতি করে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা তোলার ঘটনা ধরা পড়ে।

ওই ঘটনায় ১৮ অক্টোবর দুদক পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করে।

মামলার আসামিরা হলেন, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন, সচিব অধ্যাপক এএম এইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম, যশোর রাজারহাটের ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটী জামরুলতলার শাহী লাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলম।

নতুন জালিয়াতির বিষয়ে বলা হয়েছে, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন সচিব থাকার সময় এসব জালিয়াতি করেছেন। ২০১৭ সাল থেকে শিক্ষা বোর্ডের মোট পাঁচ কোটি টাকা চেক জালিয়াতি করে তুলে নেয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট বিজনেস আইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আয়কর বাবদ ১২ হাজার ২৭৬ টাকা তুলে নেয়া হয়। একই সালের ৪ অক্টোবর শহরের জামে মসজিদ লেনের নূর এন্টারপ্রাইজের নামে ৫৯ হাজার ৩৫ টাকা তোলা হয়।

২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেসের নামে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা এবং নিহার প্রিন্টিং প্রেসের নামে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে ৯টি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও ২ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার ৮৭৮ টাকা তুলেছেন হিসাব সহকারী আবদুস সালাম।

এ ছাড়া সেকশন অফিসার আবুল কালাম আজাদের নামে ৯৪ হাজার ৩১৬ টাকা এবং আবদুস সালামের নিজ নামে ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা তোলা হয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকার চেক জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। দুদকে ২১ অক্টোবর আরও একটি অভিযোগ জমা দিয়েছি।

‘বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন বোর্ডের সচিব থাকাবস্থায় প্রথম জালিয়াতি হয়েছে। আবদুস সালাম তখন হিসাব শাখার দায়িত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক যশোরের শরিফুল ইসলাম বাবু এসব জালিয়াতি করেছেন বলে আমরা জেনেছি। দুদক বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’

দুদকের যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, ‘আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছি। এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে।’

আরও পড়ুন:
ইউএনও ঠেকালেন বাল্যবিবাহ
লাখাইয়ে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
আজমিরীগঞ্জে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
এক স্কুলের ৫০ ছাত্রীর বিয়ে: তদন্ত প্রতিবেদন শুক্রবার
বাল্যবিবাহ ঠেকালেন ইউএনও 

শেয়ার করুন

লঞ্চের কেবিনে নারীর মরদেহ, বাবুর্চি আটক 

লঞ্চের কেবিনে নারীর মরদেহ, বাবুর্চি আটক 

পটুয়াখালীতে লঞ্চের কেবিন থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, লঞ্চ কর্তৃপক্ষের উচিত প্রথম শ্রেণির কেবিনের মতো স্টাফ কেবিনে ওঠা যাত্রীদেরও পরিচয়পত্র লিপিবদ্ধ করা। যদি তা করা হতো, তাহলে সহজেই ওই নারীর পরিচয় পাওয়া যেত।

পটুয়াখালীতে লঞ্চের কেবিন থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এমভি সম্রাট লঞ্চের স্টাফ কেবিনের তালা ভেঙে শনিবার সকাল ৮টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

লঞ্চের বাবুর্চি সোহেল মিয়ার বরাত দিয়ে তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সদরঘাট থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে লঞ্চটি। এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই নারী এবং তার সঙ্গে থাকা আরেকজন পুরুষ রুমটি (স্টাফ কেবিন) ১ হাজার ৩০০ টাকায় ভাড়া নেন।

রাত ১২টার পর লঞ্চের নিচের ক্যানটিন বন্ধ করে সোহেল সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে সব যাত্রী নামার পর তিনি রুমের সামনে গিয়ে দেখেন তালা দেয়া। অথচ লঞ্চ থেকে নামার আগে কেবিন বয়দের কাছে চাবি দেয়ার নিয়ম রয়েছে।

নিয়ম না মানার বিষয়টি সোহেল ঘাটের সাবেক ইজারাদার ফারুক মিয়াকে জানান। এ সময় তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তালা ভেঙে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার সঙ্গী পলাতক। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লঞ্চের বাবুর্চি সোহেল মিয়াকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তার আঙুলের ছাপ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লঞ্চ কর্তৃপক্ষের উচিত প্রথম শ্রেণির কেবিনের মতো স্টাফ কেবিনে ওঠা যাত্রীদেরও পরিচয়পত্র লিপিবদ্ধ করা। যদি তা করা হতো, তাহলে সহজেই ওই নারীর পরিচয় পাওয়া যেত।

আরও পড়ুন:
ইউএনও ঠেকালেন বাল্যবিবাহ
লাখাইয়ে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
আজমিরীগঞ্জে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
এক স্কুলের ৫০ ছাত্রীর বিয়ে: তদন্ত প্রতিবেদন শুক্রবার
বাল্যবিবাহ ঠেকালেন ইউএনও 

শেয়ার করুন

দক্ষিণ সুরমায় কলেজছাত্র খুন: ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দক্ষিণ সুরমায় কলেজছাত্র খুন: ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের ফটকের সামনে বৃহস্পতিবার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় আরিফুল ইসলাম রাহাতকে। ছবি: নিউজবাংলা

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘রাহাতের চাচা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে সাতজনকে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে আরিফুল ইসলাম রাহাত খুনের ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

নিহতের চাচা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শুক্রবার রাত দুইটার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় এই মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার।

মামলার তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘রাহাতের চাচা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং বাকি সাতজনকে অজ্ঞাত হিসেবে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে।’

তবে আসামিদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি ওসি।

বাদীপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানা এলাকার সিলাম পশ্চিম পাড়ার সামসুদ্দোহা সাদীকে। অপর দুই আসামি হলেন একই এলাকার তানভীর আহমদ ও দক্ষিণ সুরমার তেতলি ইউনিয়নের মো. সানী।

তাদের মধ্যে সাদী ছাত্রলীগ কর্মী। তিনি সিলেট ছাত্রলীগের কাশ্মীর গ্রুপের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। দক্ষিণ সুরমা কলেজের ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। কলেজে পড়ার সময় একবার তাকে বহিষ্কারও করা হয়। বাকি দুজনও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের ফটকের সামনে বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় আরিফুল ইসলাম রাহাতকে।

ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহাত দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরাতন তেতলি এলাকার সুরমান আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সেদিন একটি পালসার মোটরসাইকেলে করে দুই তরুণ এসে পেছন থেকে রাহাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে রাহাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তবে কী কারণে তাকে খুন করা হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:
ইউএনও ঠেকালেন বাল্যবিবাহ
লাখাইয়ে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
আজমিরীগঞ্জে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
এক স্কুলের ৫০ ছাত্রীর বিয়ে: তদন্ত প্রতিবেদন শুক্রবার
বাল্যবিবাহ ঠেকালেন ইউএনও 

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা দিতে মুহিবুল্লাহ হত্যা: পুলিশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা দিতে মুহিবুল্লাহ হত্যা: পুলিশ

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ। ছবি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

এসপি নাঈমুল হক বলেন, মুহিবুল্লার হত্যার দুই দিন আগে মরগজ পাহাড়ে কিলিং মিশনের জন্য বৈঠক করে দুর্বৃত্তরা। সেখান থেকে ৫ জনকে অস্ত্রসহ মোট ১৯ জনকে মিশন শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই মুহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (এপিবিএন) এসপি নাইমুল হক।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় অংশ নেন ১৯ জন। এর মধ্যে পাঁচজন ছিলেন অস্ত্রধারী। গ্রেপ্তার আজিজুল হক কিলিং মিশনে অংশ নেন সরাসরি।

উখিয়া ১৪ এপিবিএনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এসব কথা বলেন তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা দিতে মুহিবুল্লাহ হত্যা: পুলিশ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুলের স্বীকারোক্তির কথা জানিয়ে এসপি নাঈমুল হক বলেন, মুহিবুল্লার হত্যার দুই দিন আগে মরগজ পাহাড়ে কিলিং মিশনের জন্য বৈঠক করে দুর্বৃত্তরা। সেখান থেকে ৫ জনকে অস্ত্রসহ মোট ১৯ জনকে মিশন শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এসপি আরও জানান, পূর্ব পরিকল্পিত এ হত্যা মাত্র দুই মিনিটে শেষ হয়। আজিজুলকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মো. রসিদ, মো. আনাস ও নূর মুহাম্মদ।

২৯ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে তার নিজ কার্যালয়ে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গারা জানান, লম্বাশিয়া ক্যাম্প ওয়ান ওয়েস্টে বাসার সামনে প্রতিদিনের অফিস করছিলেন মুহিবুল্লাহ। ওই সময় একদল লোক এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়।

পরে অন্যরা দ্রুত উদ্ধার করে পাশের এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মুহিবুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:
ইউএনও ঠেকালেন বাল্যবিবাহ
লাখাইয়ে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
আজমিরীগঞ্জে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
এক স্কুলের ৫০ ছাত্রীর বিয়ে: তদন্ত প্রতিবেদন শুক্রবার
বাল্যবিবাহ ঠেকালেন ইউএনও 

শেয়ার করুন

ধর্ম অবমাননার মামলায় ইকবাল রিমান্ডে

ধর্ম অবমাননার মামলায় ইকবাল রিমান্ডে

কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবালকে সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবালসহ চারজনকে সাতের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। বাকিরা হলেন, মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার তথ্য ৯৯৯-এ কল করে জানানো ইকরাম হোসেন এবং নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদ। এই মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়ে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবালসহ চারজনকে সাত দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক বেগম মিথিলা জাহান নিপা দুপুর দেড়টার দিকে এ আদেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ।

রিমান্ডে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন, মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার তথ্য ৯৯৯-এ কল করে জানানো ইকরাম হোসেন এবং নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদ। এই মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়ে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল।

এর আগে কড়া নিরাপত্তায় দুপুর ১২টার দিকে ইকবাল হোসেন, হুমায়ুন আহমেদ, ফয়সাল আহমেদ ও ইকরাম হোসেনকে আদালতে নেয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহমেদ বলেন, আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল, শুনানি শেষে বিচারক সাত দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মণ্ডপ এলাকার সহিংসতার সময়ও ইকবাল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার পেছনে আর কে আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখল কারা

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

পরে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টার দিকে এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান মণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসে মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা যুবকের নাম ইকবাল হোসেন। ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। ইকবালকে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: তিন বন্ধুর কৌশলে ধরা কুমিল্লার ইকবাল

ইকবালের কক্সবাজার যাওয়ার প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহমেদ শনিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সহিংসতার পর ইকবাল প্রথমে কুমিল্লা থেকে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম পৌঁছান। সেখান থেকে বিভিন্ন বাহনে করে কক্সবাজারে যান।’

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের যে অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়, সেখানে শুরুতে প্রবেশে ব্যর্থ হয়েছিলেন প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন। এরপর তিনি গিয়েছিলেন ওই মণ্ডপ থেকে কিছুটা দূরে দিগম্বরীতলার গুপ্ত জগন্নাথ মন্দিরে।

মন্দিরটির গেটের তালা লাঠি দিয়ে ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল। এরপর আবার ফিরে আসেন নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে। এ সময় পূজাসংশ্লিষ্টদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি কোরআন শরিফটি হনুমানের ওপর রাখেন। মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর কোরআন রেখে হনুমানের গদা হাতে ফিরে আসেন ইকবাল।

আরও পড়ুন:
ইউএনও ঠেকালেন বাল্যবিবাহ
লাখাইয়ে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
আজমিরীগঞ্জে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
এক স্কুলের ৫০ ছাত্রীর বিয়ে: তদন্ত প্রতিবেদন শুক্রবার
বাল্যবিবাহ ঠেকালেন ইউএনও 

শেয়ার করুন

রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে মামা-ভাগ্নের মৃত্যু

রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে মামা-ভাগ্নের মৃত্যু

টাঙ্গাইলে রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. ইদ্রিস জানান, দেওজান গ্রামের মৃত ফজলুল হকের বাড়িতে নির্মাণাধীন পানির রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে ওই দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

টাঙ্গাইলে রিজার্ভ ট্যাংকে পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

জেলার দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের দেওজান গ্রামে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদরের খাগজানা গ্রামের মো. এলাহী ও অপরজন পাথরাইল ইউনিয়নের নরুন্দা গ্রামের মো. মাসুদ। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. ইদ্রিস।

তিনি জানান, দেওজান গ্রামের মৃত ফজলুল হকের বাড়িতে নির্মাণাধীন পানির রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে ওই দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরওয়ার হোসেন জানান, ট্যাংক থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। অক্সিজেন স্বল্পতায় তাদের মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ইউএনও ঠেকালেন বাল্যবিবাহ
লাখাইয়ে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
আজমিরীগঞ্জে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
এক স্কুলের ৫০ ছাত্রীর বিয়ে: তদন্ত প্রতিবেদন শুক্রবার
বাল্যবিবাহ ঠেকালেন ইউএনও 

শেয়ার করুন

৬ দিন পর পুষ্প রানীর চুলায় হাঁড়ি চড়ালেন মন্ত্রী

৬ দিন পর পুষ্প রানীর চুলায় হাঁড়ি চড়ালেন মন্ত্রী

পীরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত পুষ্প রানী নামে একজনের বাড়িতে গিয়ে তার চুলায় রান্নার হাড়ি তুলে দেন ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

পুষ্প রানী বলেন, ‘এত দিন তো মন্দিরের ওটে (ওখানে) পাকশাক (রান্না) হইছে, ওটে খাইচি। কাল আইতোত (রাতে) ওটে খাইচি। আইজ সবাই বাড়ি বাড়ি রান্না করোচি।’ 

সাম্প্রদায়িক হামলায় ৬ দিন পর চুলায় রান্না চড়িয়েছেন রংপুরের পীরগঞ্জের করিমপুরে হিন্দুপল্লির মানুষ।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পীরগঞ্জে হিন্দুপল্লি পরিদর্শনে যান ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন তিনি। পরে পুষ্প রানী নামের একজনের বাড়িতে গিয়ে তার চুলায় রান্নার হাঁড়ি তুলে দেন।

পুষ্প রানী বলেন, ‘এত দিন তো মন্দিরের ওটে (ওখানে) পাকশাক (রান্না) হইছে, ওটে খাইচি। কাল আইতোত (রাতে) ওটে খাইচি। আইজ সবাই বাড়ি বাড়ি রান্না করোচি।’

ভট্টু চন্দ্র বলেন, ‘শুকুরবার সন্ধের আগে মাইকিন (মাইকিং) করে বলচে, বাড়ি বাড়ি পাক করতে। আজ আমরা পাক করছি।’

মহাদেব চন্দ্র বলেন, ‘সংসার করি খাইতে যা কিছু নাগে সমস্ত কিচু দিচে। পাক করতে সমস্যা কী। টিওনও (ইউএনও) স্যার কইচে সোগ (সব) তো দিচি, পাক করি খাও। এলা সমস্যা নাই, তাই আইজ পাক করতে কইচি বাড়ি ওয়ালাক (স্ত্রী)।’

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত কুসুম বালা বলেন, ‘আইজ একনা শান্তি নাগচে। বাড়িত চুলা জ্বালাইচি। সবাই মিলি খামো। এত দিন তো ওত্তি খাচি, ভয় নাগটিল এলা ভয়টয় নাগে না।’

মন্ত্রীর সঙ্গে জেলা প্রশাসক আসিব আহসানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ৬১ পরিবারকে ১০১ বান্ডেল ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নগদ অর্থের পাশাপাশি দেয়া হয়েছে খাবার, দুটি কম্বল ও শাড়ি-লুঙ্গি।

ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

কীভাবে হামলা হলো হিন্দুপল্লিতে

স্থানীয়রা জানান, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামনাথপুরের করিমপুর দক্ষিণপাড়ায় (হাজিপাড়া) পরিতোষের বাড়িতে ছিল প্রশাসনের লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ উত্তরপাড়ার হিন্দুপল্লির দিকে আগুন দেখা যায়।

তারা জানান, বটতলা মসজিদের পাশে ব্রিজের কাছেই রুহিনী চন্দ্র দাসের বাড়িতে গিয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে ভাঙচুর করা হয়। এরপর ভাঙচুর করা হয় ভবেশ চন্দ্র দাসের বাড়িতে। অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে অংশ নেয় শত শত হামলাকারী।

পীরগঞ্জ হামলার মাস্টারমাইন্ড কে?

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে ব্রিজের কাছে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু হলেও পরে একে একে সব বাড়িতে তাণ্ডব চলে। তবে কার নেতৃত্বে এই তাণ্ডব শুরু হয়, সেটি বোঝা যায়নি।

রুহিনী চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার বাড়িতে যখন ভাঙচুর করে তখন পালায়ে যাই। রাস্তাত দেখি শোঠা পীরের ওই দিক থেকেও লোক আসতেছে।’

করিমপুর দক্ষিণপাড়ায় (হাজিপাড়া) যেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নিয়েছিল, সেখান থেকে ঘটনাস্থল উত্তরপাড়ার মধ্যে রয়েছে বিশাল ধানক্ষেত। এর দূরত্ব ২৫০ মিটার। পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে আসতে সময় লাগবে অন্তত ৫ মিনিট।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, হিন্দুপল্লিতে আগুন দেয়ার পর দূর থেকেই রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিকেল থেকেই আসতে থাকে মোটরসাইকেল

রামনাথপুরে ঢোকার মুখে পীরগঞ্জের খেজমতপুরের ঘেগার তলে মুদি ব্যবসা করেন ফিরোজ কবির।

তিনি বলেন, ‘রোববার বিকেল হতে না হতে অনেক মোটরসাইকেল যাওয়া শুরু করে। আমরা বলি এত গাড়ি যায় কই। সন্ধ্যার পর আরও বেশি যাওয়া শুরু করে। আমি তো এই মোড়ে ব্যবসা করি। তিন গ্রামের মানষোক চিনি। তবে যারা গেছে তাদের চিনি নাই। যারা গেছে তারা আমাদের গ্রামের লোক নয়।’

বড় মজিদপুর দক্ষিণপাড়ার মুদি দোকানি মাহবুব রহমান বলেন, ‘এত মোটরসাইকেল সেই দিন কুটি থাকি আইচচে বলতে পারি না। লোকগুলোক আগে দেকিও নাই। কেম্বা অপরিচিত লাগছিল।’

বটতলা বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, ওই দিন হাটের দিন হওয়ায় শত শত মানুষ ব্রিজের কাছে বটতলা বাজারে অবস্থান নেন।

তারা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় এসেছিলেন। অনেকেই দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখছিল।

হামলা ঠেকাতে পারেননি ইউপি চেয়ারম্যানও

রামনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অসহায় ভাই। অনেক চেষ্টা করেছি যেন কোনো সমস্যা না হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পারিনি।’

রিমান্ডে ৩৭ জন

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলার তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলায় ৩৭ আসামিকে বৃহস্পতিবার তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বাহিনীটির একটি সূত্র জানিয়েছে, রিমান্ডে থাকা অনেকেই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন:
ইউএনও ঠেকালেন বাল্যবিবাহ
লাখাইয়ে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
আজমিরীগঞ্জে বাল্যবিবাহ ঠেকাল প্রশাসন
এক স্কুলের ৫০ ছাত্রীর বিয়ে: তদন্ত প্রতিবেদন শুক্রবার
বাল্যবিবাহ ঠেকালেন ইউএনও 

শেয়ার করুন