পেন্সিলের ভারসাম্য নিয়ে গিনেস বুকে মনিরুল  

পেন্সিলের ভারসাম্য নিয়ে গিনেস বুকে মনিরুল  

৩০ সেকেন্ডে ৫০টি পেনসিল ব্যালান্স করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমে গিনেস রেকর্ডের ওয়েবসাইটে আমি আবেদনের নিয়ম-কানুনগুলো পড়ি। এরপর সে অনুযায়ী, ভিডিও করে পাঠাই। খুব শিগগিরই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করব।

এক হাতের উপর সর্বোচ্চ সংখ্যক পেন্সিলের ভারসাম্য রক্ষা করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম। ৩০ সেকেন্ডে ৫০টি পেন্সিল ব্যালান্স করে এ কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুক কর্তৃপক্ষ শুক্রবার তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শনিবার সকালে নিউজবাংলাকে স্বীকৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন মনিরুল নিজেই। এ বছরের ৩ জুন এটি করেছিলেন মনিরুল।

মনিরুল জানান, ফেব্রুয়ারিতে ইউটিউবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বুক প্রতিযোগিতার এই ইভেন্টটি দেখতে পান তিনি। তিনি পারবেন মনে হওয়ায় ওই দিনই ৫০টি পেন্সিল কিনে আনেন অনুশীলনের জন্য।

প্রথম দিকে পারছিলেন না, তবে বাবা-মা আর বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় বারবার চেষ্টা করে সফল হয়েছেন বলে জানান তিনি।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমে গিনেস রেকর্ডের ওয়েবসাইটে আমি আবেদনের নিয়ম-কানুনগুলো পড়ি। এরপর সে অনুযায়ী, ভিডিও করে পাঠাই। খুব শিগগিরই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করব। আরও কয়েকটি ইভেন্টের জন্য আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।

‘বাংলাদেশের হয়ে এমন কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আগামীতে যেন দেশের জন্য আরও বড় কিছু করতে পারি সে জন্য সবার দোয়া চাই।’

পেন্সিলের ভারসাম্য নিয়ে গিনেস বুকে মনিরুল

মনিরুলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। বাবা জহিরুল ইসলাম ও মা খায়রুন নাহার। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়।

বাংলাদেশের হয়ে ১৫তম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী মনিরুল ইসলামের কৃতিত্বে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন।

অবশ্য এই ইভেন্টে আগের রেকর্ডটিও ছিল বাংলাদেশির। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী টাঙ্গাইলের সিয়াম রেজোয়ান খান ৩০ সেকেন্ডে ৪৪টি পেন্সিল ব্যালান্স করে রেকর্ডটি করেছিলেন।

আরও পড়ুন:
রানির মৃত্যুর দায় কার
বিশ্ব রেকর্ডের জন্য রানির অপেক্ষা আরও দেড় মাস
দড়ি লাফে জোড়া বিশ্বরেকর্ড ঠাকুরগাঁওয়ের রাসেলের
২০ ইঞ্চির রানিকে পাচ্ছেন কে
খর্ব গরুর বিশ্বরেকর্ড গড়বে ‘বাংলাদেশের রানি’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভাড়াটে খুনিদের কোনো ছাড় নেই: আপিল বিভাগ

ভাড়াটে খুনিদের কোনো ছাড় নেই: আপিল বিভাগ

২০০৭ সালে স্ত্রী তানিয়াকে নিয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যান জাহিদ। ৩০ জানুয়ারি সেখান থেকে ফেরার পথে রাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রাজপাড়া এলাকায় গাড়িটি স্বামী জাহিদের পাতানো ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে। ছিনতাইকারী সেজে ভাড়াটে খুনি মিজান, স্বামী জাহিদ ও গাড়িচালক শাহিন গাড়ির ভেতর তানিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।

হায়ার কিলারদের (ভাড়াটে খুনি) আমরা ছাড়ি না। এসব খুনিদের বিষয়ে আমাদের কোনো ছাড় নেই। দেশে ভাড়াটে খুনি পাওয়ার বিষয়টি বিপজ্জনক।

১৪ বছর আগে ভাড়াটে খুনি দিয়ে স্ত্রী হত্যার মামলার আসামি ভাড়াটে খুনি মিজানুর রহমানের আপিল শুনানির সময় মঙ্গলবার এমন মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

পরে আদালত আসামি মিজানুর রহমানের আপিল খারিজ করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।

আদালতে মিজানুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

আইনজীবী মুহাম্মদ আশরাফ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তাহমিনা শারমিন তানিয়া হত্যা মামলায় তার স্বামী জাহিদ হাসান জুয়েল, শাহিন আলম শাহিন ও মিজানুর রহমানকে বিচারিক আদালত ফাঁসির আদেশ দেয়। পরে সেটি হাইকোর্টও বহাল রাখেন।

‘এরপর আমরা মিজানুর রহমানের পক্ষে আপিল করলে আজকে সেটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এখন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে ক্লায়েন্ট চাইলে রিভিউ করব।’

এ মামলার আরেক আসামি নিহত তানিয়ার স্বামী জাহিদ হাসান জুয়েলের মৃত্যুদণ্ড ২০১৭ সালে বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এছাড়া গাড়ি চালক শাহিনের জেল আপিল শুনানির জন্য বুধবার আপিল বিভাগের তালিকায় আসবে।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২৭ জানুয়ারি স্ত্রী তানিয়াকে নিয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যান জাহিদ। ৩০ জানুয়ারি সেখান থেকে ফেরার পথে রাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রাজপাড়া এলাকায় গাড়িটি স্বামী জাহিদের পাতানো ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে।

এতে বলা হয়েছে, ছিনতাইকারী সেজে ভাড়াটে খুনি মিজান, স্বামী জাহিদ ও গাড়িচালক শাহিন গাড়ির ভেতর তানিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিতের ১০ মাসের শিশুসন্তানসহ তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায় আসামিরা।

মামলায় বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে তারা কাশেম নামের একজনের ভুয়া পরিচয়পত্র ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তানিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন ৩১ জানুয়ারি তানিয়ার ভাই রায়হান গফুর বাদী হয়ে জাহিদ ও কাশেমের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুইজনকে আসামি করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ এপ্রিল পুলিশ জাহিদ, শাহিন ও মিজানের নামে অভিযোগপত্র দেয়। এর মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার হয়ে ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দি দেয়।

মামলায় দীর্ঘ বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করে। আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২০১২ সালের ৮ জুলাই হাইকোর্টও তিনজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।

এরপর জাহিদ ও মিজানুর রহমান আপিল বিভাগের আবেদন করেন। আর শাহিনের জেল আপিল হয়।

এর মধ্যে স্ত্রী হত্যায় জড়িত থাকায় স্বামী জাহিদ হাসান জুয়েলের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ২০১৭ সালে রায় দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

মঙ্গলবারের রায়ে ভাড়াটে খুনি মিজানুর রহমানের ফাঁসি বহাল থাকল। এখন বাকি রইল গাড়িচালক শাহিন আলম শাহিনের রায়। তার জেল আপিল বুধবার শোনা হবে বলে জানিয়েছে আপিল বিভাগ।

আরও পড়ুন:
রানির মৃত্যুর দায় কার
বিশ্ব রেকর্ডের জন্য রানির অপেক্ষা আরও দেড় মাস
দড়ি লাফে জোড়া বিশ্বরেকর্ড ঠাকুরগাঁওয়ের রাসেলের
২০ ইঞ্চির রানিকে পাচ্ছেন কে
খর্ব গরুর বিশ্বরেকর্ড গড়বে ‘বাংলাদেশের রানি’

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটটি মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে ৯ অক্টোবর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জার্মানিতে পৌঁছান তিনি।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জার্মানি থেকে যুক্তরাজ্য হয়ে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটটি মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানাতে এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক মোজাম্মেল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার, সেনাবাহিনী প্রধান, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান, সহকারি বিমান বাহিনী প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স, পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা।

এর আগে ৯ অক্টোবর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জার্মানিতে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

১৪ অক্টোবর দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমিয়ারের সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন বেলেভিউ প্যালেসে সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জার্মানিসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

পরে জার্মানি থেকে যুক্তরাজ্য সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি। ২০ অক্টোবর লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের বিষয়েও খোঁজখবর নেন আবদুল হামিদ। হাসপাতালে দর্শনার্থী সংক্রান্ত বিধি নিষেধের কারণে সরাসরি উপস্থিত হতে না পারায় টেলিফোনে খোঁজখবর নেন তিনি।

ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমের মাধ্যমে আবদুল গাফফার চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছাও পাঠান রাষ্ট্রপতি। খোঁজখবর নেয়ায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান খ্যাতনামা এই সাংবাদিক।

আরও পড়ুন:
রানির মৃত্যুর দায় কার
বিশ্ব রেকর্ডের জন্য রানির অপেক্ষা আরও দেড় মাস
দড়ি লাফে জোড়া বিশ্বরেকর্ড ঠাকুরগাঁওয়ের রাসেলের
২০ ইঞ্চির রানিকে পাচ্ছেন কে
খর্ব গরুর বিশ্বরেকর্ড গড়বে ‘বাংলাদেশের রানি’

শেয়ার করুন

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প উত্তপ্ত মাদক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে’

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প উত্তপ্ত মাদক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে’

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দিন দিন বাড়ছে খুন খারাবি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পগুলোতে আরসার নামে কিছু যুবক ঘুরে বেড়ায়। আপনারা দেখেছেন মুহিবুল্লাহ দেশে ফিরে যেতে চেয়েছিল। তাকে হত্যা করা হলো। যারা হত্যা করেছে তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। এই যে হত্যা-দখল-আধিপত্য বিস্তার… এখানে কিন্তু মাদকের ব্যবসাও শুরু হয়ে গিয়েছে। এরা মাঝে মাঝে দুর্গম এলাকা দিয়ে বর্ডার পার হয়ে মাদক নিয়ে আসে। এগুলো মিলেমিশেই সেখানে একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার পেছনে বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্য ও মাদক ব্যবসাকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই রোহিঙ্গারা ভালো থাকুক, খুব শিগগিরই তারা নিজেদের দেশে ফিরে যাক। শুরুটা কোথায় আমরা সবাই জানি। আমরা কোনো কোনো জায়গায় এখনও সক্ষম হইনি বলেই এদের এখনও ফেরত পাঠাতে পারিনি। আমরা মনে করি যেকোনো সময় তারা ফেরত যাবে। এই যে এদের বলপূর্বক আমাদের দেশে ঢুকিয়ে দেয়া হলো, এটার পেছনেও তো অনেক কাহিনী আছে, আপনারা সবাই জানেন।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতার পেছনে রাখাইনে স্বশস্ত্র বিদ্রোহী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) নাম আসছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আরসাকে কোথা থেকে কে নিয়ন্ত্রণ করে এটা তো আমরা জানি। আমাদের ক্যাম্পগুলোতে আরসার নামে কিছু যুবক ঘুরে বেড়ায়। আপনারা দেখেছেন মুহিবুল্লাহ দেশে ফিরে যেতে চেয়েছিল। তাকে হত্যা করা হলো। যারা হত্যা করেছে তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। এই যে হত্যা-দখল-আধিপত্য বিস্তার… এখানে কিন্তু মাদকের ব্যবসাও শুরু হয়ে গিয়েছে। এরা মাঝে মাঝে দুর্গম এলাকা দিয়ে বর্ডার পার হয়ে মাদক নিয়ে আসে। এগুলো মিলেমিশেই সেখানে একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পের ভেতরের যে মুল সড়কগুলো রয়েছে সেগুলোতে যেতে পারবেন, কিন্তু ভেতরে ছোট ছোট পায়ে হাটার যে পথগুলো রয়েছে এগুলো আসলেই দুর্গম। এ ধরনের ঘটনাগুলো যখন ঘটে, নিরাপত্তা বাহিনীকে খবর না দিলে তারা চিহ্নিত করতে পারেন না। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই।

‘আরশা বা এ ধরনের যে দলগুলো রয়েছে বা যারা জোর করে এখানে পাঠিয়েছে তাদেরও নানা ইন্টারেস্ট এখানে থাকতে পারে। সব কিছুই আমরা অনুমান করছি। কেন এসব করছে তা নিয়ে কাজ করছি।’

নির্বাচন কমিশন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের দায়িত্বভার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এনআইডি আমাদের এখানে দেয়া হয়েছে। এনআইডির কিছু জটিলতা রয়েছে। আইনের কিছু জটিলতা রয়েছে। সেই আইনের জন্য আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে কিছু স্পষ্ট হতে চেয়েছি। অনেক ধারা উপধারা পরিবর্তন করতে হবে কি না, এজন্যই স্পষ্টিকরণের বিষয়টি চলে আসছে। তারা একটি মতামত দিলে আমরা পরবর্তী অ্যাকশনে যাব।’

আরও পড়ুন:
রানির মৃত্যুর দায় কার
বিশ্ব রেকর্ডের জন্য রানির অপেক্ষা আরও দেড় মাস
দড়ি লাফে জোড়া বিশ্বরেকর্ড ঠাকুরগাঁওয়ের রাসেলের
২০ ইঞ্চির রানিকে পাচ্ছেন কে
খর্ব গরুর বিশ্বরেকর্ড গড়বে ‘বাংলাদেশের রানি’

শেয়ার করুন

ফ্রি ফায়ারের পক্ষে লড়তে গারেনার আবেদন খারিজ

ফ্রি ফায়ারের পক্ষে লড়তে গারেনার আবেদন খারিজ

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়। এর ফলে গারেনা বাংলাদেশে ফ্রি ফায়ারের পক্ষে আইনি লড়াই করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

পাবজিসহ বিভিন্ন অনলাইন গেমস বন্ধের নির্দেশের পর ফ্রি ফায়ারের পক্ষে আইনি লড়াই করতে গেমসটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের গারেনা অনলাইন প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষভুক্তির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়। ফলে গারেনা বাংলাদেশে ফ্রি ফায়ারের পক্ষে আইনি লড়াই করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

আদালতে গারেনার পক্ষে ছিলেন জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী ও তানভীর কাদের। অন্যদিকে এসব গেমস বন্ধে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন মো. হুমায়ন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাওছার।

পরে হুমায়ন কবির পল্লব নিউজবাংলাকে বলেন, আদালত তাদের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে তারা আর ফ্রি ফায়ারের পক্ষে এ দেশে আইনি লড়াই করতে পারবে না।

দেশের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে থাকা পাবজি, ফ্রি ফায়ারসহ ক্ষতিকারক সব গেম অবিলম্বে বন্ধ করতে গত ১৬ আগস্ট নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

এরপর ২৫ আগস্ট এসব গেমস বন্ধের খবর আসে। এর মধ্যে এ বিষয়ে আইনি লড়াই করতে উচ্চ আদালতে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করে গেমসটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের গারেনা অনলাইন প্রাইভেট লিমিটেড।

গত ১০ অক্টোবর তাদের আবেদনের শুনানি শেষে আজ আদেশের জন্য ছিল। আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে গত ২৪ জুন রিট করা হয়।

রিটকারীদের দাবি, পাবজি ও ফ্রি ফায়ারের মতো গেমগুলোতে দেশের যুবসমাজ এবং শিশু-কিশোররা ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। যার ফলে সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি বিনষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়ে পড়ছে মেধাহীন। এসব গেম যেন যুবসমাজকে সহিংসতা প্রশিক্ষণ দেয়ার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে টিকটক, লাইকি অ্যাপগুলো ব্যবহার করে দেশের শিশু-কিশোর এবং যুবসমাজ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে এবং সারা দেশে কিশোর গ্যাং কালচার তৈরি হচ্ছে। টিকটক অনুসারীরা বিভিন্ন গোপনীয় জায়গায় পুল পার্টির নামে অনৈতিক বিনোদন ও যৌন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। এ ছাড়া সম্প্রতি নারী পাচারের ঘটনা এবং বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে অর্থ পাচারও টিকটক, লাইকি ও বিগো লাইভের মাধ্যমে চলছে, যেটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং দেশ ও জনস্বার্থ পরিপন্থি, শৃঙ্খলা পরিপন্থি, মূল্যবোধ পরিপন্থি।

আরও পড়ুন:
রানির মৃত্যুর দায় কার
বিশ্ব রেকর্ডের জন্য রানির অপেক্ষা আরও দেড় মাস
দড়ি লাফে জোড়া বিশ্বরেকর্ড ঠাকুরগাঁওয়ের রাসেলের
২০ ইঞ্চির রানিকে পাচ্ছেন কে
খর্ব গরুর বিশ্বরেকর্ড গড়বে ‘বাংলাদেশের রানি’

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ট্রিপল মার্ডার: সাজা পাল্টে ৮ আসামির যাবজ্জীবন

চট্টগ্রামে ট্রিপল মার্ডার: সাজা পাল্টে ৮ আসামির যাবজ্জীবন

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ জানান, চট্টগ্রাম হাটহাজারীতে ২০০৩ সালের ২৬ মে একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। যেখানে দিবালোকে তিনজনকে হত্যা করে আসামিরা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচারিক আদালত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এরপর মামলাটি হাইকোর্টে এলে সবাইকে খালাস দিয়ে দেয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।

বহুল আলোচিত চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২০০৩ সালে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে আপিল বিভাগ।

রায়ে বিচারিক আদলতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির সাজা পাল্টে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আট আসামির মধ্যে তিনজনের সাজা বহাল রেখেছে সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় দেয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আশরাফ উজ জামান খান, শিরিন আফরোজ।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ জানান, চট্টগ্রাম হাটাহাজারীতে ২০০৩ সালের ২৬ মে একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। যেখানে দিবালোকে তিনজনকে হত্যা করেন আসামিরা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচারিক আদালত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এরপর মামলাটি হাইকোর্টে এলে সবাইকে খালাস দিয়ে দেয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।

তিনি বলেন, ‘ওই আপিলে শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ আজকে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে। রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। আর বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া তিনজনের সাজা বহাল রেখেছে আদালত।’

মামলা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া এলাকায় ২০০৩ সালে দিবালোকে সন্ত্রাসীরা আবুল কাশেম, আবুল বশর ও বাদশা আলম নামে তিন সহোদরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই কাজী মফজল মাস্টার ওই সময় ২২ জনকে আসামি করে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন। এ মামলায় বিচার চলাকালীন ১ জন মারা গেলে আদালত বাকি ২১ জন থেকে পাঁচজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আটজনকে যাবজ্জীবন কারদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ২ বছর কারাদণ্ড দেয় চট্টগ্রাম আদালত। বাকি আটজনকে খালাস দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
রানির মৃত্যুর দায় কার
বিশ্ব রেকর্ডের জন্য রানির অপেক্ষা আরও দেড় মাস
দড়ি লাফে জোড়া বিশ্বরেকর্ড ঠাকুরগাঁওয়ের রাসেলের
২০ ইঞ্চির রানিকে পাচ্ছেন কে
খর্ব গরুর বিশ্বরেকর্ড গড়বে ‘বাংলাদেশের রানি’

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতের পরিচয় প্রকাশ শিগগির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতের পরিচয় প্রকাশ শিগগির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনায় শুরুতেই আপনাদের বলেছিলাম যে, কোরআন মন্দিরে রাখা কোনো হিন্দুর কর্ম না। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলাম, আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলেছিলাম। পরে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে। যে ছেলেটি এটা করেছে আমাদের পুলিশবাহিনী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আমরা যেটা মনে করছি কিছুদিনের মধ্যেই সেটা আপনাদের বলে দিতে পারব।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার পেছনে থাকাদের পরিচয় জানা গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বলেছেন, দ্রুতই তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনায় শুরুতেই আপনাদের বলেছিলাম যে, কোরআন মন্দিরে রাখা কোনো হিন্দুর কর্ম না। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলাম, আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলেছিলাম। পরে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে। যে ছেলেটি এটা করেছে আমাদের পুলিশবাহিনী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আমরা যেটা মনে করছি কিছুদিনের মধ্যেই সেটা আপনাদের বলে দিতে পারব।

‘নোয়াখালীতে কিন্তু তারা নাম বলে দিয়েছে, এখনই বলছি না। আপনারা এমন এমন নাম শুনবেন যা আপনাদেরও খুব পরিচিত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। রংপুরের যে ঘটনা সেখানেও নাম বলেছে, কাজেই সবগুলোই আমরা আপনাদের খুব শিগগিরই জানিয়ে দেব। কুমিল্লায় আরও জিজ্ঞাসাবাদের পরে সমস্ত কিছু জানিয়ে দেব।’

মন্ত্রী জানান, কুমিল্লার ঘটনায় এখন পর্যন্ত একটি মামলা হয়েছে। এতে ১৮ জন এজাহারভুক্ত আসামিসহ আটক হয়েছেন প্রায় ৬৪ জন।

দুর্গাপূজার সময় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

কুমিল্লার ওই ঘটনার জেরে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেট, রংপুরসহ কয়েকটি জেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। আহত হন অনেকে।

এর মধ্যে ১৭ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচারে শুরু থেকেই কড়া অবস্থানে সরকার। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলায় মামলা চালানো হয়েছে। জড়িত সন্দেহে অনেককে আটক করা হয়েছে।

কাদের নাম এসেছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো খোলাসা করে বলিনি বিএনপি না জামাত। আমি বলেছি, আমরা নাম পাচ্ছি। একটু ধৈর্য ধরেন যাতে সঠিকটা জানাতে পারি। আমরা আরও কনফার্ম হতে চাই।’

এ ঘটনাগুলোতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অনেকের সম্পৃক্ততার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমাদের হিসেবে, প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে ক্রিমিনাল কিন্তু ক্রিমিনাল। আমরা কোনো ক্রিমিনালকে ছাড় দেই না, জনপ্রতিনিধি হোক বা অনেক ইনফ্লুয়েনসিয়াল লোক হোক। আমরা যেখানেই সম্পৃক্ততা পেয়েছি ব্যবস্থা নিয়েছি।

‘আমরা কনফার্ম হয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যাদের নাম আসছে তারা যদি এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকে তাহলে তারা ছাড় পাবেন না। আইন অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
রানির মৃত্যুর দায় কার
বিশ্ব রেকর্ডের জন্য রানির অপেক্ষা আরও দেড় মাস
দড়ি লাফে জোড়া বিশ্বরেকর্ড ঠাকুরগাঁওয়ের রাসেলের
২০ ইঞ্চির রানিকে পাচ্ছেন কে
খর্ব গরুর বিশ্বরেকর্ড গড়বে ‘বাংলাদেশের রানি’

শেয়ার করুন

বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থানটা বিবেচনা করলে, যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন তারা শুধু বাংলাদেশ পাবেন না, আমি বলব দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও একটা সুযোগ থাকবে এই বাজারগুলো ধরার এবং রপ্তানি করার। প্রাচ্য পাশ্চাত্যের একটা যোগাযোগের ব্রিজ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ভবিষ্যতে, যা আমাদের দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটতে সহায়তা করবে।’

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের যোগাযোগের সেতু হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার হবে বলেও মনে করেন তিনি।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থানটা বিবেচনা করলে, যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন তারা শুধু বাংলাদেশ পাবেন না, আমি বলব দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও একটা সুযোগ থাকবে এই বাজারগুলো ধরার এবং রপ্তানি করার। প্রাচ্য পাশ্চাত্যের একটা যোগাযোগের ব্রিজ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ভবিষ্যতে, যা আমাদের দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটতে সহায়তা করবে।’

সপ্তাহব্যাপী এই সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে বিশ্বের ৩৮টি দেশের ৫৫২টি প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দেশীয় ২৮১টি এবং বিদেশি ২৭১টি। ১ নভেম্বর পর্যন্ত এই সম্মেলনের ফাঁকে ৪৫০টি বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) বৈঠকের কথা রয়েছে।

এই সামিটে অবকাঠামো, আইটি, চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং, প্লাস্টিক পণ্য, এফএমসিজি (ফার্স্ট মুভিং কনজিউমার গুডস) এবং পাট ও টেক্সটাইল পণ্য প্রদর্শিত হবে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিসিসিআই।

এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের নব নব দ্বার উন্মোচিত হবে। রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হবে।’

রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নতুন নতুন কী পণ্য আমরা উৎপাদন করতে পারি এবং রপ্তানি করতে পারি সেটাও গবেষণা করে বের করতে হবে। সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। কোন কোন দেশে কী কী পণ্যের চাহিদা রয়েছে সেটা অনুধাবন করে সেই পণ্য আমরা বাংলাদেশে উৎপাদন করতে পারি কি না সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটা দেশ আমরা ইচ্ছে করলে পারি, সবকিছু করতে পারি। এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে। জাতির পিতা বলে গেছেন।’

বেসরকারি খাতের প্রসারে আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি খাতেও যদি উদ্যোক্তা না হয়, শিল্পের প্রসার না ঘটায় ব্যবসা বাণিজ্য কখনও শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারে না।’

ঘনবসতির বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার জানিয়ে শিল্পের নামে যাতে কৃষি জমি নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, ‘ঘনবসতি পূর্ণ দেশ আমাদের। দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে, বৃদ্ধি করতে হবে। তার জন্য, যে সমস্ত জমি কৃষির জন্য ব্যবহার হবে সেগুলো যেন নষ্ট না হয়, আবার শিল্পের ক্ষেত্রে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা করে দেয়া, যেন আমাদের পরিবেশ নষ্ট না হয়। কাজেই পরিবেশ বান্ধব শিল্প উন্নয়নের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আমার দেশজুড়ে করে দিচ্ছি। কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।’

এর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ও দেশে বাজার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়াতে ও দ্রুত বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে পিপিপি অর্থাৎ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ এই পদ্ধতি আমরা গ্রহণ করেছি। এর আওতায় আমরা প্রায় ৭৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আমাদের বিনিয়োগ হচ্ছে।’

দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন, রপ্তানির পরিমাণ ও গতিশীলতা বাড়াতে বন্ড ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পের ন্যায় অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদনমুখী কার্যক্রমও কাস্টমস বন্ডেড ব্যবস্থার অধীনে আসতে পারে, সেজন্য আমরা বন্ড ব্যবস্থাপনাকে অটোমেশনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি, যা চলমান রয়েছে। যার টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

‘আমরা আশা করি এটি বাস্তবায়িত হলে সকল প্রকার রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানিতে গতিশীলতা আসবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, তাই সবকিছু ডিজিটাল পদ্ধতিতে হোক, আধুনিক পদ্ধতিতে হোক, প্রযুক্তি সম্পন্ন হোক সেটাই আমরা চাই।’

আরও পড়ুন:
রানির মৃত্যুর দায় কার
বিশ্ব রেকর্ডের জন্য রানির অপেক্ষা আরও দেড় মাস
দড়ি লাফে জোড়া বিশ্বরেকর্ড ঠাকুরগাঁওয়ের রাসেলের
২০ ইঞ্চির রানিকে পাচ্ছেন কে
খর্ব গরুর বিশ্বরেকর্ড গড়বে ‘বাংলাদেশের রানি’

শেয়ার করুন