দুঃসময় বয়ে এনেছে সরকার: ফখরুল

দুঃসময় বয়ে এনেছে সরকার: ফখরুল

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘একটি মুক্ত সমাজ, দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম। আওয়ামীলীগ আমাদের সেই আশা আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা এর আগেও বাকশাল গঠন করেছিল এবং এখনও গণতন্ত্রের মুখোশ পরে বিভিন্ন আঙ্গিকে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে আমাদের সমস্ত অধিকারগুলোকে কেড়ে নিয়েছে।’

বর্তমান সরকার পুরো জাতির জন্য ভয়াবহ দুঃসময় বয়ে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, ৫০ বছরে বাংলাদেশের সব অর্জন এই সরকারের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ভয়াবহ দুঃসময় অতিক্রম করছি। আজকে একটি সরকার জবরদখল করে বসে আছে। যারা আমাদের ৫০ বছরের সকল অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দুঃসময় শুধু সংবাদমাধ্যমের নয়, এই দুঃসময় শুধু বিএনপির নয়। এই দুঃসময় পুরো জাতির জন্য।

‘একটি মুক্ত সমাজ, দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম। আওয়ামীলীগ আমাদের সেই আশা আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা এর আগেও বাকশাল গঠন করেছিল এবং এখনও গণতন্ত্রের মুখোশ পরে বিভিন্ন আঙ্গিকে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে আমাদের সব অধিকারগু কেড়ে নিয়েছে।’

দেশে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব জানান, দেশ এখন রাজনীতিবিদরা পরিচালনা করছে না। একজন রাজনীতিবিদকে (শেখ হাসিনা) সিকিউরিটি হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে দিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী সব কাজ করিয়ে নিচ্ছে। তারা রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংসদে জনগণের কোনো প্রতিনিধিত্ব নাই। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় ১৫৪ জনকে নির্বাচিত করেছে। ২০১৮ সালে তারা আগের রাতেই ভোট ডাকাতি করেছে। আপনারা জানেন এই আওয়ামী লীগই ৭২-৭৫ এ চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া সব সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছিল।

‘সংবাদমাধ্যমকে পুরোপুরি দলীয়করণ করা হয়েছিলেন। আমি ধন্যবাদ জানাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যিনি স্বৈরাচার এরশাদের হাত থেকে একটি গণতন্ত্র ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল। আমাদের বাক ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন।’

দেশে এখন কোনো নির্বাচন ব্যবস্থা নেই বলে মন্তব্য বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতার। বলেন, ‘আপনারা জানেন ২০১২ সালে বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সেটাকে লুফে নিয়ে বাস্তবায়ন করেছে। যার ফলে আজকে নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।’

‘নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আজকে আবার শোনা যাচ্ছে নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। কেউ বলছে এটার জন্য একটি আইন করা দরকার, কিন্তু আইনটা করবে কে? সংসদে তো আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যকিছু নেই। যারা এদেশে গণতন্ত্রকে হরণ করে এদেশের মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে তারাই আজকে এই আইনটি করবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে মুক্ত গণতন্ত্র ও মুক্ত গণমাধ্যম কখনও একসঙ্গে যায় না। ফ্যাসিবাদ মানেই হলো ভয়ভীতি, ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষের অধিকারগুলোকে কেড়ে নেয়া। গুম, খুন ও নির্যাতনের মাধ্যমে অস্ত্রের মুখে টিকে থাকা। আর এসব কৌশলই আওয়ামী লীগ বেছে নিয়েছে।

সভায় অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমও। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সালে আমরা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছিলাম। এই সরকার সেই গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, বর্তামান সভাপতি ইলিয়াস খানসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
বৈঠকের আলোকে কর্মসূচি দেবে বিএনপি
তিন বিভাগের ৮৬ নেতাকে নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
৩ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বসছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা
ভোট: এবার ৫ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি
জামিন পেলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাম্প্রদায়িক হামলা: নিজের কর্মীদের দোষ খুঁজে পাননি নুর

সাম্প্রদায়িক হামলা: নিজের কর্মীদের দোষ খুঁজে পাননি নুর

রোববার যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। ছবি: নিউজবাংলা

নুর বলেন, ‘চট্টগ্রামের ঘটনায় আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা খোঁজ নিয়ে ওই ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাইনি। পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে টাকা দাবি করেছে।’

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলায় নিজের সংগঠনের নেতাকর্মীদের দোষ খুঁজে না পাওয়ার দাবি করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সিটিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে বিচারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের ঘটনায় আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা খোঁজ নিয়ে ওই ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাইনি। পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে টাকা দাবি করেছে।’

রোববার রাজধানীর নয়া পল্টনে যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, ‘১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়ার দিঘী পাড়ের পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননা এবং পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সরকার ও প্রশাসন এড়াতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে জেএমসেন হল পূজামণ্ডপে হামলা চেষ্টার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত না করে ছয় মাস ধরে কারাগারে থাকা তিন বিএনপি কর্মীকে মামলার আসামি করা হয়েছে। ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের আট নেতাকর্মীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। পরে মামলায় জড়িয়ে থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে জবানবন্দি আদায় করেছে পুলিশ।’

নুর বলেন, ‘আমরা এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কেউ জেএমসেন হল পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টায় জড়িত থাকলে সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ওই কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট শিরিন সুলতানা, প্রকৌশলী খোয়াই চিং মংচাক, মো. নিজাম উদ্দীন, ফাতেমা তাসনিম, আরিফুল ইসলাম তায়েফ এবং প্রাপ্ত বড়ুয়া।

আরও পড়ুন:
বৈঠকের আলোকে কর্মসূচি দেবে বিএনপি
তিন বিভাগের ৮৬ নেতাকে নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
৩ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বসছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা
ভোট: এবার ৫ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি
জামিন পেলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ

শেয়ার করুন

ফখরুলের শব্দ বিস্ফোরণ গোস্‌সা থেকে: কাদের

ফখরুলের শব্দ বিস্ফোরণ গোস্‌সা থেকে: কাদের

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব গোস্‌সা করে ফেলেছেন। তিনি ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু শব্দমালার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। আমি বলব, ধীরে, ফখরুল সাহেব, ধীরে। রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গোস্‌সা থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু শব্দমালার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীতে নিজ বাসভবনে রোববার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব গোস্‌সা করে ফেলেছেন। তিনি ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু শব্দমালার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। আমি বলব, ধীরে, ফখরুল সাহেব, ধীরে। রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’

‘অদৃশ্য শক্তি দেশ চালাচ্ছে’ বিএনপির এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কাদের বলেন, ‘এ শক্তি নাকি বিএনপির ওপর খবরদারি করছে। আসলে শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতি বিএনপির সুবিধাবাদী রাজনীতির ওপর অমানিশার ছায়া ফেলেছে। অগণতান্ত্রিক পন্থায় তাদের ক্ষমতা দখলের দিবাস্বপ্ন ভেস্তে যাচ্ছে। তাই তো বিএনপির দৃষ্টিসীমা এখন কুয়াশাচ্ছন্ন।’

সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো চিত্র বিএনপি দেখতে পায় না জানিয়ে কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের মেরুদণ্ড শক্ত। কারণ সরকারের সঙ্গে জনগণ রয়েছে, কোনো দৃশ্যমান বা অদৃশ্য শক্তির কাছে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাথা নত করেন না।’

বিএনপির রাজনীতি অদৃশ্য সুতার টানে চলছে বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার কোনো দলের ওপর খবরদারি করে না; বরং সরকার পরিচালনাকে পবিত্র দায়িত্ব মনে করে। বিএনপি নেতারা মন্তব্য করেছেন, দেশে নাকি আতঙ্ক ও নির্মম রাজনৈতিক পরিস্থিতি চলছে।’

বিএনপির অতীত তুলে ধরে দলটির সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল, হাওয়া ভবন তৈরি করেছিল, জনগণের অর্থ পাচার করে বিদেশে অর্থের পাহাড় গড়েছিল, পাচারকৃত অর্থে বিদেশে আয়েশি জীবনযাপন করেছে এবং করছে, তাদের কী বলব? আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন।’

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতা নীতির কারণে বর্ণচোরা, সুবিধাবাদী রাজনীতিক ও ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আতঙ্কে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

দলীয় পরিচয় যা-ই হোক, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনিয়মকারীর কোনো ছাড় নেই বলে আবারও জানান তিনি।

দেশের মানুষ নির্ভয়ে এবং স্থিতিশীল পরিবেশে নিজ নিজ কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিচ্ছে মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কারণে বর্ণচোরা, সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ এবং জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনকারীরা আতঙ্কে আছে। ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আতঙ্কে রয়েছে; আতঙ্কে আছে আগুন-সন্ত্রাসীরা।’

তিনি বলেন, ‘দলীয় পরিচয় যা-ই হোক, শেখ হাসিনার কাছে অনিয়মকারীর কোনো প্রশ্রয় নেই। সেটা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন।’

আরও পড়ুন:
বৈঠকের আলোকে কর্মসূচি দেবে বিএনপি
তিন বিভাগের ৮৬ নেতাকে নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
৩ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বসছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা
ভোট: এবার ৫ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি
জামিন পেলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের আরও ২৫৭ প্রার্থী চূড়ান্ত

ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের আরও ২৫৭ প্রার্থী চূড়ান্ত

দশম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে সারা দেশে এক হাজার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১০টি পৌরসভায় ভোট হবে ২৮ নভেম্বর। ২ নভেম্বর এসব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মনোনয়নপত্র দাখিল হবে। বাছাইয়ের তারিখ ঠিক করা হয়েছে ৪ নভেম্বর। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে সময় থাকবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত।

ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২৫৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়তে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ।

শনিবার বিকেলে গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের মুলতবি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

এতে বলা হয়েছে, প্রার্থী চূড়ান্ত করার মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইলের মধুপুর, কালিহাতী, নাগরপুর উপজেলার ২৩টি, কিশোরগঞ্জ সদর, নিকলী ও কুলিয়ারচর উপজেলার ২৩টি, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ১০টি, মুন্সীগঞ্জের সদর ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন পরিষদ।

এ ছাড়া ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ও কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ উপজেলার ১১টি, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সাতটি, নরসিংদীর সদর ও রায়পুরা উপজেলার ২২টি, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আটটি, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ।

প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার মধ্যে আরও রয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন উপজেলার ১৫টি, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ১৬টি, ময়মনসিংহের জামালপুরের মেলান্দহ ও ইসলামপুর পৌরসভার ১৫টি, শেরপুরের নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন পরিষদ।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ত্রিশাল উপজেলার ২৬টি এবং নেত্রকোণার দুর্গাপুর, পূর্বধলা, কলমাকান্দা উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী দিয়েছে দলটি।

দশম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে সারা দেশে এক হাজার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে ও ১০টি পৌরসভায় ভোট হবে ২৮ নভেম্বর।

১৪ অক্টোবর নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশনের ৮৭তম বৈঠকে ভোটের তারিখ ঠিক করা হয়।

২ নভেম্বর এসব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মনোনয়ন দাখিল হবে। বাছাইয়ের তারিখ ঠিক করা হয়েছে ৪ নভেম্বর। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে সময় থাকবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত।

প্রথম ধাপে ৩৬৯টি ইউপিতে ভোট নিচ্ছে ইসি। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮টি ইউপিতে আগামী ১১ নভেম্বর ভোট হবে।

দেশে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে চার হাজার ইউপিতে নির্বাচন হবে। বাকিগুলো মামলা জটিলতার কারণে নির্বাচন আটকে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
বৈঠকের আলোকে কর্মসূচি দেবে বিএনপি
তিন বিভাগের ৮৬ নেতাকে নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
৩ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বসছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা
ভোট: এবার ৫ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি
জামিন পেলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ

শেয়ার করুন

‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘোলাটের অপচেষ্টা রুখতে হবে’

‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘোলাটের অপচেষ্টা রুখতে হবে’

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ইসলামী ইউনাইটেড পার্টির নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন বলেন, ‘সম্প্রতি কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনা মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কারণ। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায় এতে বিব্রত। মূর্তির পায়ে কোরআন রাখার মতো জঘন্য একটি কাজ কোনো সুস্থ মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়।’

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনা নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলা করার অপচেষ্টা রুখে দেয়াসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়।

এ সময় ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন বলেন, ‘সম্প্রতি কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনা মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কারণ। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায় এতে বিব্রত। মূর্তির পায়ে কোরআন রাখার মতো জঘন্য একটি কাজ কোনো সুস্থ মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ভারসাম্যহীন করার অপচেষ্টা।’

মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা মন্দিরে পবিত্র কোরআন অবমাননা করেছে, হিন্দুদের পূজামণ্ডপে আক্রমণ করেছে ও মূর্তি ভেঙেছে, এদের সবাইকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সব সম্প্রদায়ের ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির অন্য দাবিগুলো হচ্ছে

১. সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে।

২. অনতিবিলম্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ও এর সঙ্গে জড়িত বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী এবং এদের দোসরদের গ্রেপ্তারের আওতায় আনতে হবে।

৩. কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো পক্ষের, যেকোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিতে হবে।

৪. ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত চক্র যে গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের প্রত্যেককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় এনে যথাযোগ্য শাস্তি প্রদান করতে হবে।

৫. বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কোনো সম্প্রদায় অপর সম্প্রদায়ের ধর্ম এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানলে দলমত-নির্বিশেষে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

৬. দেশের জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। তারা যেন দেশের বাইরে থেকে করা ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দেয়।

৭. মসজিদে-মন্দিরে এবং সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে ধর্মীয় গুরুদের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার গুরুত্ব, ফজিলত এবং অপর ধর্মের অনুসারীদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মো. ওমর ফারুক, পার্টির অন্যান্য নেতা কাজী মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, হাফেজ কারী মাওলানা আব্দুল মান্নান এবং মাওলানা মো. তাহেরুল ইসলামসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
বৈঠকের আলোকে কর্মসূচি দেবে বিএনপি
তিন বিভাগের ৮৬ নেতাকে নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
৩ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বসছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা
ভোট: এবার ৫ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি
জামিন পেলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ

শেয়ার করুন

‘দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত করছে সরকার’

‘দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত করছে সরকার’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মানববন্ধনে বিএনপির মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ। ছবি: নিউজবাংলা

খন্দকার মোশাররফের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগের সমর্থক। তাই তাদেরকে সুযোগ দেয়ার জন্য সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে সরকার উৎসাহিত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার এর লাগাম টেনে না ধরে বরং এই দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির পেছনে যারা জড়িত তাদেরকে উৎসাহিত করছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত চাল, ডাল থেকে শুরু করে খাদ্যদ্রব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি বলেন, বিগত করোনার কারণে এদেশে গরিবের সংখ্যা বেড়েছে। আগে যেখানে শতকরা ২০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল করোনার কারণে আরও ২০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে এসেছে। মধ্যবিত্তরা নিম্ন মধ্যবিত্তে পরিণত হয়েছে। আজকে আয় কমে গেছে, কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে গেছে। এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে আজকে বহু মানুষ অনাহারে থাকে।

খন্দকার মোশাররফের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগের সমর্থক। তাই তাদেরকে সুযোগ দেয়ার জন্য সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে এই সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসে আছে। আপনারা জানেন গত নির্বাচনে ৩০ তারিখের ভোট আগের রাতে ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। তাই এদেশের জনগণের জন্য এই সরকারের কোনো দায় নেই।

বিএনপির নীতি নির্ধারক পর্যায়ের এই নেতার জানান, আওয়ামী লীগ ৭৫-এ বাকশাল করে গণতন্ত্র হত্যা করেছে। এই আওয়ামী লীগ গত তিনটি নির্বাচনের ভোট ডাকাতি করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবে না।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এই সরকারকে হটানোর জন্য বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির নেতৃত্বে জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। আজকে আমাদের শপথ নিতে হবে জনগণের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য সৃষ্টি করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশনায়ক তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের নেতৃত্ব বিএনপিকেই দিতে হবে। তাই বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল ও অঙ্গসংগঠনকে অতি দ্রুত সংঘটিত হয়ে নিজেদের ঐক্যকে দৃঢ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে হটাতে হবে। তখন এদেশের জনগণ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ সকল সমস্যার সমাধান পাবে। তাই এই সরকারের অতি দ্রুত বিদায় প্রয়োজন।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, আজিজুল বারী হেলাল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
বৈঠকের আলোকে কর্মসূচি দেবে বিএনপি
তিন বিভাগের ৮৬ নেতাকে নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
৩ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বসছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা
ভোট: এবার ৫ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি
জামিন পেলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ

শেয়ার করুন

আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

আ.লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

সিলেটে শাহজালালের মাজার জিয়ারতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এ জন্যই নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার, নির্দলীয় সরকার, তার অধীনে নতুন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব। সে জন্যই আমরা আন্দোলন করছি।’

আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে রোববার সকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।’

সুনামগঞ্জে একটি শোকসভায় অংশ নিতে রোববার সিলেটে যান মির্জা ফখরুল। সুনামগঞ্জ যাওয়ার আগে সিলেটে হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারত করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে তো নির্বাচনের কোনো পরিস্থিতি, পরিবেশ নেই। এখানে অনির্বাচিত সরকার, অবৈধ সরকার, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা নির্বাচন নির্বাচন খেলা করে গত দুটি টার্ম জোর করে ক্ষমতায় আছে। আমরা তখনই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব, যখন নির্বাচনের সত্যিকার পরিবেশ তৈরি হবে।

‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এ জন্যই নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার, নির্দলীয় সরকার, তার অধীনে নতুন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব। সে জন্যই আমরা আন্দোলন করছি।’

দেশে সরকারের মদদে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হচ্ছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এই সরকারের আমলে দেশে কোনো ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয়। সরকারই দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।’

বিমানযোগে সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেটে পৌঁছান মির্জা ফখরুল।

আরও পড়ুন:
বৈঠকের আলোকে কর্মসূচি দেবে বিএনপি
তিন বিভাগের ৮৬ নেতাকে নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
৩ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বসছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা
ভোট: এবার ৫ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি
জামিন পেলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ

শেয়ার করুন

জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা

জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা

জাতীয় পার্টির আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ৩১ বছর ধরে বিরোধী দলে। পার্টির জন্য এতদিন ধরে যারা কাজ করছেন তারা পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী। তাদের নিয়ে দলের চেয়ারম্যান আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনে আমরা প্রার্থী দেব। আমরা এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চাই।'

জাতীয় সংসদের আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবে ভোটে যেতে চায় না জাতীয় পার্টি। এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

রাজধানীতে শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

দলীয়ভাবে ‘উপজেলা দিবস’ পালন করতে জাতীয় পার্টি রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শনিবার আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ৩১ বছর ধরে বিরোধী দলে। পার্টির জন্য এতদিন ধরে যারা কাজ করছেন তারা পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী। তাদের নিয়ে দলের চেয়ারম্যান আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন।

‘জাতীয় পার্টি এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায়, এ জন্য রূপরেখা তৈরি করতে হবে। আগামী নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে হবে।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই। সবখানে দুর্নীতি, নির্যাতন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লোকেরা জোর করছেন। অনেকে টাকা দিয়ে নৌকা প্রতীক নিচ্ছেন। কারণ তারা জানেন, নৌকা পেলেই বিজয়ী।’

চুন্নু আরও বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ নতুন চাকরিপ্রত্যাশী। কয়েক কোটি বেকার নিয়েও সরকারের মাথাব্যথা নেই। এসব বেকারের জন্য রূপরেখা তৈরি করলে আমাদের আর জোটগতভাবে নির্বাচনে যেতে হবে না। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনে আমরা প্রার্থী দেব। আমরা এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চাই।’

পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘প্রশাসনিক বাধার কারণে উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। তারা মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে পারছে না। যেভাবে উপজেলা পদ্ধতি করা হয়েছিল, এখন আর সেভাবে চলছে না উপজেলা পরিষদ।’

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দলকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের নতুন কর্মী তৈরি করতে হবে।’

জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি বর্তমানে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকলেও বিগত কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে অংশ নেয় তারা। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিপরিষদেও ছিলেন জাতীয় পার্টির কয়েকজন।

আরও পড়ুন:
বৈঠকের আলোকে কর্মসূচি দেবে বিএনপি
তিন বিভাগের ৮৬ নেতাকে নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
৩ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বসছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা
ভোট: এবার ৫ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি
জামিন পেলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ

শেয়ার করুন