১৫ বছর পর চালু হচ্ছে সিলেটের সেই শিশু পার্ক

১৫ বছর পর চালু হচ্ছে সিলেটের সেই শিশু পার্ক

সিলেটে ১৫ বছর পর চালু হচ্ছে শেখ হাসিনা শিশু পার্ক। ছবি: নিউজবাংলা

সব কাজ শেষ হলেও এত দিন নামকরণ জটিলতায় আটকে যায় এই পার্কের উদ্বোধন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ‘এম সাইফুর রহমান শিশু পার্ক’, ‘সিলেট ন্যাচারাল পার্ক’, ‘দক্ষিণ সুরমা শিশু পার্ক’- এ রকম বিভিন্ন নামে পার্কটির নামকরণের উদ্যোগ নেয়া হয় বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক নামে নামকরণ করে পার্কটি চালু হচ্ছে।

নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৫ বছর আগে। এরপর নামকরণ জটিলতা আর রাজনৈতিক মতভেদে আটকে যায় পার্কটির উদ্বোধন।

অবশেষে শনিবার চালু হতে যাচ্ছে সরকারি উদ্যোগে নির্মিত সিলেটের প্রথম এই শিশু পার্ক। নানা জটিলতা পেরিয়ে পার্কটির নামকরণ করা হয়েছে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’।

নগরের দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে নির্মিত এই পার্কটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। নির্ধারিত ফি দিয়ে পার্কে প্রবেশ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, শনিবার দুপুরের দিকে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই পার্কটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

সব কাজ শেষ হলেও এত দিন নামকরণ জটিলতায় আটকে যায় এই পার্কের উদ্বোধন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ‘এম সাইফুর রহমান শিশু পার্ক’, ‘সিলেট ন্যাচারাল পার্ক’, ‘দক্ষিণ সুরমা শিশু পার্ক’- এ রকম বিভিন্ন নামে পার্কটির নামকরণের উদ্যোগ নেয়া হয় বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক নামে নামকরণ করে পার্কটি চালু হচ্ছে।

১৫ বছর পর চালু হচ্ছে সিলেটের সেই শিশু পার্ক



এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণাকালে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্কে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প খাতে সবশেষ ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে করপোরেশন।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই শিশু পার্কের যাবতীয় কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। বিভিন্ন ধরনের রাইডও বসানো হয়েছে। কিন্তু সব কাজ শেষেও নামকরণ জটিলতায় চালু করা যায়নি পার্কটি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখায় নষ্ট হয়ে পড়ে রাইডগুলো। চুরি হয়ে যায় ট্রান্সমিটারসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি।

জানা যায়, ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের উদ্যোগে এই পার্ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সে সময় মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন স্থাপনসহ পার্কের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়। তখন পার্কটির নামকরণ এম সাইফুর রহমানের নামে করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতা ছাড়লে বন্ধ হয়ে যায় পার্কটির কাজ। অভিযোগ রয়েছে, সাইফুর রহমানের নাম থাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র এই পার্ক চালু করতে কোনো উদ্যোগ নেননি।

১৫ বছর পর চালু হচ্ছে সিলেটের সেই শিশু পার্ক



এরপর ২০১৩ সালে বিএনপিদলীয় নেতা ও সাইফুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এই পার্ক চালুর ব্যাপারে আবার উদ্যোগ নেন। ২০১৭ সালে পার্কে বিভিন্ন রাইড বসানোর কাজ শুরু হয়। চীন থেকে এনে বিভিন্ন আধুনিক রাইড বসানো, বিদ্যুৎসংযোগ চালুসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হয় তখন। তবে এরপর থেকেই দেখা দেয় নামকরণ জটিলতা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) একটি সূত্রে জানা যায়, সাইফুর রহমানের নামে পার্কটি নামকরণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠালে এতে রাজি হয়নি মন্ত্রণালয়। এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষ থেকে পার্কটি শেখ হাসিনার নামে নামকরণের দাবি জানানো হয়। এরপর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ‘সিলেট ন্যাচারাল পার্ক’, ‘দক্ষিণ সুরমা পার্ক’ নামে নামকরণের চেষ্টা চালানো হয়। এতে সফল না হওয়ায় আটকে যায় পার্ক চালুর উদ্যোগ। তবে শেষ পর্যন্ত ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ নামেই এই পার্কের নামকরণ করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালে পার্কে রাইড বসানোর কাজ শুরুর পর ৬ মাসের ভেতর পার্কটি চালু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল করপোরেশন। তবে রাইডগুলো বসানোর পর আরও ৪ বছর অতিক্রম হলেও শিশু পার্কটি চালু করতে পারেনি সিটি করপোরেশন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাঠাঁলগাছ থেকে শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কাঠাঁলগাছ থেকে শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

নীলফামারী থানার এসআই জহুরুল ইসলাম জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে খাওয়াদাওয়া শেষে বাড়ি থেকে মন্দিরে যাওয়ার কথা বলে বের হন সুধা রঞ্জন। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে কাঁঠালগাছের ডালে তাকে ঝুলন্ত দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

নীলফামারী সদরে এক শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের উত্তর ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাগান থেকে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত সুধা রঞ্জন রায়ের বাড়ি ওই এলাকাতেই।

লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য জগদীশ চন্দ্র রায় জানান, তিনি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করতেন। পাশাপাশি কৃষিকাজ করে তার সংসার চালাতেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে নীলফামারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে খাওয়াদাওয়া শেষে বাড়ি থেকে মন্দিরে যাওয়ার কথা বলে বের হন রঞ্জন।

মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে কাঁঠালগাছের ডালে তাকে ঝুলন্ত দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান এসআই।

শেয়ার করুন

উখিয়ায় ৬ রোহিঙ্গা হত্যা: গ্রেপ্তার আরও ৪

উখিয়ায় ৬ রোহিঙ্গা হত্যা: গ্রেপ্তার আরও ৪

উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা মসজিদ। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার থাইনখালীর ক্যাম্প-১৮-তে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা চালায় ৪০ থেকে ৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তাদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং উখিয়া থানা পুলিশ যৌথভাবে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারা করে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী সালাহউদ্দিন।

তিনি জানান, উখিয়া বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ছয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি শফিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গাজী সালাহউদ্দিন আরও জানান, মঙ্গলবার ভোরে ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ফরিদ হোসেন, জাহেদ হোসেন ও মো. হাশিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ নিয়ে এই মামলায় ১৪ রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, ছয় রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় ২৫ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ২৫০ জনকে আসামি করে শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলা করা হয়।

মামলা করেন নিহত মাদ্রাসাছাত্র আজিজুল হকের বাবা নুরুল ইসলাম। তিনি ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের বাসিন্দা।

মামলায় এরই মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুজিবর রহমান, ৮ নম্বর ক্যাম্পের দিলদার মাবুদ, মো. আয়ুব, ৯ নম্বর ক্যাম্পের মো. আমিন, আব্দুল মজিদ, ১৩ নম্বর ক্যাম্পের মো. আমিন, মো. ইউনুস, ১২ নম্বর ক্যাম্পের জাফর আলম, ১০ নম্বর ক্যাম্পের মো. জাহিদ ও মোহাম্মদ আমিন।

এদের মধ্যে আটজনকে ঘটনার পর এবং দুইজনকে ২১ অক্টোবর রাতে আটক করা হয়। পরে তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মদ সঞ্জুর মোরশেদ জানান, মামলায় আকিজ অলি নামের একজনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

কক্সবাজার ৮-এপিবিএনের কমান্ডিং অফিসার (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ শিহাব কায়সার খান জানান, হত্যায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার থাইনখালীর ক্যাম্প-১৮-তে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা চালায় ৪০ থেকে ৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তাদের গুলি ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।

গুলিতে নিহত নুর আলম হালিমের স্বজন ও ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি রাতে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক-ছাত্র ও স্থানীয় রোহিঙ্গারা মিলে তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় করেন। আমিও নিয়মিত তাহাজ্জুতে শরিক হই। তবে বৃহস্পতিবার আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় মসজিদে দেরিতে যাই।

‘কিন্তু আমি গিয়ে দেখি মাদ্রাসার ভেতরে সবাই ছোটাছুটি করছে। অনেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করছে। তাদের দেখে আমি দূরে সরে যাই। প্রায় আধা ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। এরপর সন্ত্রাসীরা চলে যায়।’

শেয়ার করুন

আলোকবালিতে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ

আলোকবালিতে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ

নরসিংদীর আলোকবালিতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই চেয়ার‍ম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

সদর উপজেলার আলোকবালিতে মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাওগাতুল ইসলাম।

তবে হতাহতের খবর এখনও জানাতে পারেননি তিনি।

এর আগে সোমবার বিকেলে নরসিংদীর রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ইউপি নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহতের খবর পাওয়া যায়।

যদিও পুলিশ জানায়, তারা গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো খবর পায়নি। দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। ইউপি নির্বাচন নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান আশরাফুল হক ও বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান মিয়ার ছেলে জাকির গ্রুপের মধ্যে সেই বিরোধ চাঙা হয়।

দুই পক্ষ সোমবার বিকেলে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, এলাকার আধিপত্য ও সামনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে একটু হট্টগোল হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

রিকশাচালক হত্যা মামলায় ২ ভাই কারাগারে

রিকশাচালক হত্যা মামলায় ২ ভাই কারাগারে

বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু হত্যার ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিচারক তাদের জামিন দেননি।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে রিকশাচালক ছকু মিয়া হত্যা মামলার দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মঙ্গলবার দুপুরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন দুই আসামি।

পরে আদালতের বিচারক আশিকুল খবির শুনানি শেষে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন মন্টু মিয়া ও রনজু মিয়া। তারা সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাদুল্লাপুর উপজেলার পূর্ব দামোদরপুর গ্রামের ছয় ভাই আলমগীর, আংগুর, রনজু, মনজু, সনজু ও মন্টু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাদনের কারবারে জড়িত ছিলেন।

তাদের সঙ্গে রিকশাচালক ছকু মিয়ার পারিবারিক ও দাদনের টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। ছকুর ছেলের সঙ্গে মন্টু মিয়ার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সেই বিরোধ আরও বাড়ে।

এ নিয়ে গত ১৫ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছকু মিয়াকে তারই বাড়িতে আটকে হাত-পা বেঁধে ফেলে ছয় ভাইসহ তাদের লোকজন। রাতভর ছকুর ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন।

এ ঘটনার পাঁচ দিন পর দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে ‘ছেলের প্রেমের খেসারত’ হিসেবে ছকু মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই টাকার জন্য ছকুর একমাত্র ঘরটিও ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন দাদন কারবারিরা।

এরপর তাকে ভিটেছাড়া করা হয়। পরে ছকু মিয়া আশ্রয় নেন গাজীপুরের শ্রীপুরে ছেলের বাসার। সেখানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জুন মৃত্যু হয় তার।

এ ঘটনায় থানায় মামলা না নিলে গত ১৬ জুন ছকু মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে (সাদুল্লাপুর) মামলা করেন। পরে আদালতের বিচারক শবনম মুস্তারী সাদুল্লাপুর থানাকে মামলা রেকর্ডভুক্ত করে ২৩ জুনের মধ্যে মরদেহ উত্তোলনসহ প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। মামলার পর মোজাম্মেলকেও বাড়িছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে।

গত ২১ জুন সাদুল্লাপুর থানার পুলিশ ও জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হোসেনের উপস্থিতে মরদেহ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু হত্যার ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিচারক তাদের জামিন দেয়নি।

আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সৈয়দ ছামছুল আলম হিরু, আহসানুল করিম লাছু, নিরাঞ্জন কুমার ঘোষ।

শেয়ার করুন

মাংস বিভ্রাট: বিচ্ছেদ ঘটানো তরুণ-তরুণীর ফের বিয়ে

মাংস বিভ্রাট: বিচ্ছেদ ঘটানো তরুণ-তরুণীর ফের বিয়ে

সবুজ আলী বলেন, ‘আসলে ২ বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। তারপর থেকে সুমির সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরও গভীর হয়। উভয় পরিবারের ভুল বোঝাবুঝির কারণে তো আমরা আলাদা হতে পারি না। সুমি আমার সঙ্গে অনেক ভালো আছে।’

চুয়াডাঙ্গায় মাংস বেশি খাওয়াকে কেন্দ্র করে বর ও কনে পক্ষের সংঘর্ষের জেরে বিয়ে বিচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টার মাথায় আবারও লুকিয়ে বিয়ে করেছেন সেই তরুণ-তরুণী।

ছেলের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সোনারদাড়ি গ্রামে সোমবার রাতে বিয়ে করেন তারা। বর্তমানে সেখানেই রয়েছেন ওই দম্পতি।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বর সবুজ আলী।

তিনি বলেন, ‘রোববার বিয়ে বাড়িতে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন আমার ও কনে সুমি আক্তারের পরিবারের লোকজন। এক পর্যায়ে আমার পক্ষের তিনজনকে মারধর করা হয়। পরে উভয় পক্ষ বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু সুরাহা না হওয়ায় বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। রাতে সুমি আমাকে ফোন করেন। এক পর্যায়ে আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পারি। সোমবার সকালে সুমি ঝিনাইদহ চলে আসলে রাতে আমরা বিয়ে করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে ২ বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। তারপর থেকে সুমির সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরও গভীর হয়। উভয় পরিবারের ভুল বোঝাবুঝির কারণে তো আমরা আলাদা হতে পারি না। সুমি আমার সঙ্গে অনেক ভালো আছে।’

বিয়ে বিচ্ছেদের কারণ জানতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে কনে বাড়ি চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার দশমী গ্রামে যান নিউজবাংলার প্রতিবেদক। সেখানে কথা হয় কনের বাবা নজরুল ইসলামের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘আসলে বিয়ের দিন বর পক্ষ খুব খারাপ আচরণ করে আমাদের সঙ্গে। বিয়েতে দেয়া গায়ে হলুদের উপহার তারা ফেরত নিয়ে আসেন। এ ছাড়া খাবার নিয়েও প্রশ্ন তোলে বর পক্ষের লোকজন। একপর্যায়ে আমাদের সঙ্গে তাদের গণ্ডগল হয়।’

মাংস বিভ্রাট: বিচ্ছেদ ঘটানো তরুণ-তরুণীর ফের বিয়ে
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দশমী গ্রামের এই বাড়িটি সুমি আক্তারের

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর রাতেই উভয় পক্ষ বসে। কোনো সমাধান না হওয়ায় বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। পরে আমার মেয়ে আবারও সবুজের কাছে চলে যায়।’

এ বিষয়ে সবুজ আলীর ছোট মামা ফারুক হোসেন বলেন, ‘গায়ে হলুদের উপহার ফেরত দেয়াকে কেন্দ্র করে মূলত বাকবিতণ্ডা হয় কনে পক্ষের সঙ্গে। পরে তারা আমাদের মারধর করে। ঘটনার রাতেই বিয়ে বিচ্ছেদ হয়।’

তিনি জানান, সবুজ বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। বাবা মারা যাওয়ার পর ৫ বছর আগে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে সৌদি আরবে যায় সবুজ। সেখানে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে বিয়ে হয় তাদের।

শেয়ার করুন

মুহিবুল্লাহ হত্যা: দুই দিনের রিমান্ডে ৩ জন

মুহিবুল্লাহ হত্যা: দুই দিনের রিমান্ডে ৩ জন

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় তিনজনের দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার পরিদর্শক গাজী সালাউদ্দিন জানান, আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবদেন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় তিনজনকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

জেলা আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হেলাল উদ্দিন মঙ্গলবার দুপুরে তাদের রিমান্ডে পাঠান।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার পরিদর্শক গাজী সালাউদ্দিন।

যাদেরকে পুলিশ রিমান্ড পেয়েছে তারা হলেন, কুতুপালং ক্যাম্প-১-এর ডি-৮ ব্লকের মোহাম্মদ রশিদ প্রকাশ মুরশিদ আমিন, একই ক্যাম্পের বি ব্লকের মোহাম্মদ আনাছ ও নুর মোহাম্মদ।

তিনি জানান, আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবদেন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ২৩ অক্টোবর ভোরে মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে আজিজুল মুহিবুল্লাহ হত্যায় সরাসরি অংশ নেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-১ ইস্ট-ওয়েস্ট (ডি-ব্লকে) নিজ অফিসে অবস্থান করছিলেন মুহিবুল্লাহ। এ সময় বন্দুকধারীরা গুলি করে তাকে হত‌্যা করে। এখন পর্যন্ত এ হত্যা মামলায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তার মধ্যে মোহাম্মদ ইলিয়াছ নামে একজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

শেয়ার করুন

যৌতুক না পেয়ে নির্যাতন: চিকিৎসক গ্রেপ্তার

যৌতুক না পেয়ে নির্যাতন: চিকিৎসক গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

ওসি জানান, ইমানা ইসমাত আরা নামে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় এনামুল হকের। পরে তাকে বিয়ে করেন তিনি। ইমানা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের পরে ইমানা যৌতুকের অভিযোগে এনামুলের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা করেন।

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসক এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

রাজধানী থেকে ২৪ অক্টোবর দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশের কাছে তাকে দেয়া হয়। পুলিশ এনামুলকে শিশু ও নারী নির্যাতন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

বিষয়টি মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিনুল হক।

চিকিৎসক এনামুল হক মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন।

ওসি জানান, ইমানা ইসমাত আরা নামে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় এনামুল হকের। পরে তাকে বিয়ে করেন তিনি। ইমানা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের পরে ইমানা যৌতুকের অভিযোগে এনামুলের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘র‌্যাব-৯ গ্রেপ্তার করে তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে, আমরা এনামুলকে কারাগারে পাঠাই।’

মৌলভীবাজার-২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শুনেছি এনামুল হক গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত আমার কাছে অফিসিয়াল কোনো কাগজপত্র আসেনি।’

তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে এক সপ্তাহের ছুটিতে আছেন এনামুল।

মামলায় এনামুলের ভাইকে আসামি করা হলেও তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি।

শেয়ার করুন