নোয়াখালীতে প্রাথমিকেই ঝরে পড়ল ৪২ হাজার শিক্ষার্থী

নোয়াখালীতে প্রাথমিকেই ঝরে পড়ল ৪২ হাজার শিক্ষার্থী

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নোয়াখালীতে শুধু প্রাথমিকেই ৪২ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ খুলে দিলে ৮০ শতাংশ উপস্থিতি হবে বলে আশা করছি। বাকি ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়া বলা যাবে না। তাদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত না হোক, অনিয়মিত হলেও বিদ্যালয়ে আসে। আমাদের চলতি বছরের জরিপে ঝরে পড়ার হার ৫ শতাংশ রেকর্ড হয়েছে।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলেছে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মুখরিত হতে শুরু করেছে স্কুলগুলো। তবে জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন মিলিয়ে অন্তত ৪২ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার তথ্য দিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস।

নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯ উপজেলায় ১ হাজার ২৫৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৯০৪ শিক্ষার্থী রয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৬২ থেকে ৭৩ শতাংশের ওপর ওঠেনি।

জেলা শিক্ষা অফিস ২০২০ সালের ১৬ মার্চের আগেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার পর্যালোচনা করেছে। তখন বিদ্যালয়গুলোতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ১৮ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ থেকে কমে গড়ে ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। সে ক্ষেত্রে অনুপস্থিত আছে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী।

জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, ২০২১ সালের জরিপে জেলায় ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যার সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ হাজার ৪৫ জন।

২০১৮ সালেও এপিএসসির জরিপে দেখা গেছে, সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।

নোয়াখালীতেও সে হার ছিল বেশি, যা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় কমে ৫ শতাংশে নিয়ে আসতে পেরেছেন।

সরকারি হিসাবে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ৫ শতাংশ হলেও ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিতিতে প্রকৃত ঝরে পড়ার হার আরও বেশি হবে বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।

জেলা সদরের চর উরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ১২ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিতির হার গড়ে ৬৯ শতাংশ। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার পঞ্চম শ্রেণির ৬৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৪১ জন। এতে উপস্থিতির হার ৬৩ শতাংশ।

চর উরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা ইমাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হচ্ছে। তাদের বিদ্যালয়মুখী করতে আমরা সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছি।’

এ সময়ে অবশ্য কিন্ডারগার্টেন থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সদর উপজেলার পূর্ব চর উরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশ। ২৮২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ দিনে গড়ে উপস্থিত ছিল ২০৭ জন। ওই বিদ্যালয়েও বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন থেকে ৬ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।

সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নাজিহা বিনতে আনোয়ার বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিদ্যালয় মনিটর করছি। যে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে, তাদের সঙ্গে শিক্ষকরা যোগাযোগ করছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনার চেষ্টা করছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ধরে রাখতে তাদের চকলেট, বেলুন, ফুল ও বিভিন্ন খেলনাসামগ্রী উপহার দিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎফুল্ল রাখা হচ্ছে।’

গত বৃহস্পতিবার হাতিয়া উপজেলায় ২২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ হাজার ৮০৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৪ হাজার ৮৪১ জন। ওই উপজেলায় উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশ।

হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল হান্নান পাটোয়ারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনতে হোম ভিজিট ও মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছি। আশা করছি, আগের মতো শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখরিত হবে বিদ্যালয়।’

চাটখিল উপজেলা শিক্ষা অফিসার এ টি এম এহসানুল হক চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলার ১১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ৫ দিনে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ছিল গড়ে ৬০ শতাংশ। শতভাগ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে আসছি।’

সরকারি জরিপে জেলায় ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার রেকর্ড করলে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত গড়ে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। যার সংখ্যা ৩৩ হাজারের বেশি।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন নোয়াখালী উত্তর এবং দক্ষিণ শাখা জানায়, জেলায় ৫৪৩টি কিন্ডারগার্টেনের প্রতিটিতে গড়ে ১২০ জন করে ৬৫ হাজার ১৬০ শিক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে করোনার প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ৫৪টি কিন্ডারগার্টেন। করোনায় আর্থিক সংকট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়েছে।

কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় ভর্তি হলেও জেলায় চলমান ৪৮৯ কিন্ডারগার্টেন থেকে প্রায় ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে, যার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ হাজার ৪১ জন।

এ ছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া ৫৪টি কিন্ডারগার্টেনে গড়ে ৬ হাজার ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেও এখনো ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ঝরে পড়ার তালিকায় রয়েছে। যার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪৪ জন।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন নোয়াখালী দক্ষিণ শাখার সভাপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘করোনা মহামারিতে শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারা, বাড়িভাড়া মেটাতে না পারা, অর্থ সংকটে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দেয়াসহ বেশ কিছু কারণে সদর উপজেলায় ১১৯টি কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে ১১টি বন্ধের খবর পেয়েছি।’

অনেকেই শিশুশ্রমে যুক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন নোয়াখালী উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক জানান, বেগমগঞ্জ উপজেলায় ১১৭টি কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে ১২টি বন্ধ হয়ে গেছে। সোনাইমুড়ির ৫টি, কোম্পানীগঞ্জের একটি এবং সেনবাগে ১০টি কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে যায়।

উত্তর শাখার সহসভাপতি খায়রুল বাশার কবিরহাট উপজেলায় ৬টি কিন্ডারগার্টেন বন্ধের তথ্য জানান।

চাটখিল উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মো. সোহেল জানান, উপজেলার ৬৮ কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে ১০টি বন্ধ হয়েছে করোনায়।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন নোয়াখালী দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘জেলায় ৫৪টি কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে। বাকিগুলো খোলা থাকলেও উপস্থিতির হার ৫০ শতাংশের নিচে। অনুপস্থিতির ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। ৩৮ শতাংশের মধ্যে কিছু অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে।’

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘সদরে ১৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২-১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। বাকিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্কুলে ফেরাতে কাজ করছেন শিক্ষকরা।’

শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ঝরে পড়ার জরিপ করব ডিসেম্বরের শেষে। এখনও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া হিসাবে ধরতে পারছি না।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮ মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে পাঁচ দিনে শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। করোনার আগে ২০২০ সালের ১৬ মার্চ বিদ্যালয়ে ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, যার এখন অন্তত ১৫ শতাংশ কম।’

তার প্রত্যাশা, এই উপস্থিতি কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়বে।

শিক্ষার্থী উপস্থিতির হারের হিসাবকে ঝরে পড়া বলা যায় কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ খুলে দিলে ৮০ শতাংশ উপস্থিতি হবে বলে আশা করছি। বাকি ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়া বলা যাবে না। তাদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত না হোক, অনিয়মিত হলেও বিদ্যালয়ে আসে। আমাদের চলতি বছরের জরিপে ঝরে পড়ার হার ৫ শতাংশ রেকর্ড হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
‘স্কুলে এসেই করোনার প্রমাণ নেই’
স্কুল-কলেজে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ
প্রাথমিকের ছাত্রীর করোনার পর আরেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ
নতুন শিক্ষা কাঠামো: চ্যালেঞ্জ শিক্ষকদের ওপরেই
তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস বাড়ছে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

করোনা মহামারিতে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশু শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছে কারখানার কাজে। ফাইল ছবি

আলোচনায় করোনাকালে বাল্যবিয়ের শিকার কন্যাশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে নানাধরণের সুপারিশমালা উঠে এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রণোদনা সুবিধা বাড়ানো, শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট শতকরা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা, সার্বক্ষণিক মনিটরিং, বিয়ের পরেও ছাত্রীর জন্য উপবৃত্তি চালু রাখা ও অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর নির্ধারণ করা।

করোনাকালে ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে খুব দ্রুত সম্মিলিতভাবে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সোমবার নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় করোনাকালে বাল্যবিয়ের শিকার কন্যাশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে নানা ধরনের সুপারিশমালা উঠে এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রণোদনা সুবিধা বাড়ানো, শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট শতকরা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা, সার্বক্ষণিক মনিটরিং, বিয়ের পরেও ছাত্রীর জন্য উপবৃত্তি চালু রাখা, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর নির্ধারণ করা, সোশ্যাল সেফটি নেট প্রোগ্রামে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত এবং সর্বোপরি তথ্য-উপাত্তগত ব্যবধানে নিরসন।

অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফম, বাংলাদেশ এর আহ্বায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ সিপিডি’র ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য স্বাগত বক্তব্যে বলেন, স্কুলের পরিচালনা পর্ষদকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং সেই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সকল সেক্টরের মধ্যে একটা সমন্বয় ঘটাতে হবে।

বিশেষ বক্তা হিসেবে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশিদা কে চৌধুরী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ মাসে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে ভর্তি হয়েছে এবং সরকার জানে যে কতজন শিশু ভর্তি হয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য সরকার আমাদের জানায়নি। এছাড়া কতজন ছাত্রছাত্রী অ্যাসাইমেন্ট গ্রহণ করেছে ও জমা দিয়েছে, সে সম্পর্কিত কোন তথ্যও আমরা পাইনি। এই সমস্যা সমাধানে সঠিক তথ্য উপাত্ত সবচেয়ে প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে করোনা মহামারির সময়ে বাল্যবিয়ের শিকার নীলফামারির মেয়ে আদুরী এবং ঝুঁকিপূণ শিশু শ্রমে নিয়োজিত কিশোর তাইজুল ইসলাম তাদের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানায়।

ওয়েবিনারটি পরিচালনা করেন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, সিপিডি তৌফিকুল ইসলাম খান। ওয়েবিনারে সরকার গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এবং মাঠ পর্যায় থেকে সরাসরি কর্ম অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নাজমা শেখ, মাউশি পরিচালক মো. বেলাল হোসাইন, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচীর সাবেক পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. নান্নু মোল্লা।

আরও পড়ুন:
‘স্কুলে এসেই করোনার প্রমাণ নেই’
স্কুল-কলেজে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ
প্রাথমিকের ছাত্রীর করোনার পর আরেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ
নতুন শিক্ষা কাঠামো: চ্যালেঞ্জ শিক্ষকদের ওপরেই
তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস বাড়ছে

শেয়ার করুন

জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন

জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন

সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমি যখন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি তখন করোনার জরুরি অবস্থা চলছিল। সরকার থেকেও টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দেয়া হলো। তারপর সব সহকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে টিকার জন্য কাজ করেছি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসেই শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমে উদ্বোধন করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী এখনও এনআইডি পাননি, তারা এখান থেকেই নিবন্ধন করে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

সোমবার থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এই কার্যক্রম চলবে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি যখন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি তখন করোনার জরুরি অবস্থা চলছিল। সরকার থেকেও টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দেয়া হলো। তারপর সব সহকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে টিকার জন্য কাজ করেছি।’

উপাচার্য বলেন, ‘টিকা দেয়ার জন্য এনআইডির প্রয়োজন। আমাদের অনেক শিক্ষার্থীরই এনআইডি নেই। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরপরই তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে টিকাদান কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। টিকার রেজিস্ট্রেশনে এনআইডির প্রয়োজন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচন করে এনআইডি নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়।

আরও পড়ুন:
‘স্কুলে এসেই করোনার প্রমাণ নেই’
স্কুল-কলেজে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ
প্রাথমিকের ছাত্রীর করোনার পর আরেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ
নতুন শিক্ষা কাঠামো: চ্যালেঞ্জ শিক্ষকদের ওপরেই
তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস বাড়ছে

শেয়ার করুন

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

গত বছর জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা ও সিআরআই চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন। ফাইল ছবি

সমাজকে বদলে দিতে তরুণদের নেয়া নানা উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ২০১৪ সাল থেকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে ইয়াং বাংলা, যা সিআরআই এর একটি প্রতিষ্ঠান। এবার পঞ্চমবারের মতো দেয়া হবে এ পুরস্কার। জমা পড়া আবেদনগুলো যাচাই বাছাই হবে ৩১ অক্টোবরের পর।

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদনের সময়সীমা আরও ৭ দিন বাড়িয়েছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। বর্ধিত সময়সীমা অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই পুরস্কারের জন্য আবেদন করা যাবে।

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের উদ্যোক্তা সিআরআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সমাজকে বদলে দিতে তরুণদের নেয়া নানা উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ২০১৪ সাল থেকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে ইয়াং বাংলা, যা সিআরআই এর একটি প্রতিষ্ঠান। এবার পঞ্চমবারের মতো দেয়া হবে এ পুরস্কার।

বিজ্ঞপ্তিতে সিআরআই জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া অনলাইনে নিবন্ধন চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। ইয়াং বাংলার ওয়েবসাইটে (http://jbya.youngbangla.org) এ পুরস্কারের জন্য আবেদনের করা যাবে। জমা পড়া আবেদনগুলো যাচাই বাছাই হবে ৩১ অক্টোবরের পর।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বছর থেকে উন্নয়ন কর্মসূচি ও প্রকল্প, জননীতিতে গবেষণা ও উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা ও সৃজনশীলতা এই চার নীতিতে আজীবন সম্মাননা দেয়া হবে।

এ ছাড়া নেতৃত্বগুণ, সেবার মানসিকতা ও উদ্যোগ এবং গবেষণার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাত্তোর দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদেরও আজীবন সম্মাননা দেয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ ও গোষ্ঠী ভিত্তিক উন্নয়নে দুইটি বিভাগে দেয়া হবে ১০টি পুরস্কার।

১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের সংগঠন বা সংগঠকেরা এখানে আবেদন করতে পারবেন। যে সংগঠন দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, হিজরা, দলিত ও অনগ্রসর সমাজকে নিয়ে কাজ করে এবং নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন, পিছিয়ে পড়া মানুষের ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন, অতি দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রেখেছে তারা ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের’ জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এ ছাড়া যেসব যুব সংগঠন তাদের কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে কোন গোষ্ঠী বা এলাকার উন্নতির জন্য কাজ করছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট’ এর অধীনে তারাও আবেদন করতে পারবেন।

এবার ছয়টি বিষয়ে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে এগুলো হচ্ছে মাদকবিরোধী সচেতনতা অভিযান, পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যক্রম, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জরুরী প্রতিক্রিয়া, স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা, শিক্ষা, সামাজিক -সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। এ বছর থেকে যুক্ত হচ্ছে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, হিজরা, দলিত ও অনগ্রসর সমাজকে নিয়ে কাজ করার বিষয়টি।

গত বছর জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশ তার প্রতিষ্ঠাকালীন ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি থেকে সরে যেতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন, আমরা সবাই বাঙালি।’

গত বছর ১৭ নভেম্বর ইয়াং বাংলা আয়োজিত ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর রিচার্স অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তরুণ সংগঠকদের উদ্দেশ্যে জয় বলেন, ‘প্রতিবার আপনাদের দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই।’

আরও পড়ুন:
‘স্কুলে এসেই করোনার প্রমাণ নেই’
স্কুল-কলেজে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ
প্রাথমিকের ছাত্রীর করোনার পর আরেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ
নতুন শিক্ষা কাঠামো: চ্যালেঞ্জ শিক্ষকদের ওপরেই
তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস বাড়ছে

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে

শিক্ষার্থীদের চুল কাটায় অভিযুক্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। ফাইল ছবি

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সুন্দর প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিটির সদস্যরা সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। তার (ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ সোমবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সুন্দর প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিটির সদস্যরা সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। তার (ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি। তারা প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিয়েছে। আমাদের কিছু নিয়ম-কানুন বাকি আছে, এটা শেষ হলে আমরা সিন্ডিকেটের সভা ডাকব। আশা করছি, ৮-১০ দিনের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

তদন্ত কমিটি কী তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে, এমন প্রশ্নে আব্দুল লতিফ বলেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ।’

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির এক সদস্যও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সদস্য বলেন, ‘তদন্ত কমিটি ৩৪ জন শিক্ষার্থীর বক্তব্য নিয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী ৫ জন শিক্ষক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের একজন সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। সবার বক্তব্যেই ফারহানার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছি। এখন বিষয়টি সিন্ডিকেট দেখবে।’

ফারহানা ইয়াসমিনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ২২ অক্টোবর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা অফিসে সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়েছিল। এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় সভা।

বিষয়টি জানার পর রোববার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কান্দাপাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের সামনে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীরা জরুরি বৈঠক করে ফের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন। তারা অনশন কর্মসূচি ও লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীরা দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে শাহজাদপুরের কান্দাপাড়ার প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন এবং বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেন।

এতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

এর আগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন দরজায় কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের সামনের অংশের বেশ খানিকটা কেটে দেন তিনি। এভাবে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ওই শিক্ষক।

ওই ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফারহানা ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের গালাগালি করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে নাজমুল হাসান তুহিন নামের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে গালাগালি করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের হুমকি দেন।

ওই ঘটনার পর ‘অপমান সইতে না পেরে’ তুহিন রাতে দ্বারিয়াপুরের শাহ মুখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে দরজা আটকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন তার বিভাগের চেয়ারম্যান পদ, সহকারী প্রক্টর পদ ও প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন।

ঘটনার তদন্তে পরে রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন:
‘স্কুলে এসেই করোনার প্রমাণ নেই’
স্কুল-কলেজে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ
প্রাথমিকের ছাত্রীর করোনার পর আরেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ
নতুন শিক্ষা কাঠামো: চ্যালেঞ্জ শিক্ষকদের ওপরেই
তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস বাড়ছে

শেয়ার করুন

গুচ্ছভর্তি: জবির মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা দিলেন তিন শিক্ষার্থী

গুচ্ছভর্তি: জবির মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা দিলেন তিন শিক্ষার্থী

বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ৪ জন শিক্ষার্থী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বিশেষ অনুমতি চেয়ে আবেদন জানায়। তবে পরীক্ষা দিন উপস্থিত ছিলেন ৩ জন।

প্রথমবারের মতো দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পদ্ধতিতে দ্বিতীয় ধাপের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে বিশেষভাবে সক্ষম তিন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকায় তাদের আবেদনে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেয়া হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ৪ জন শিক্ষার্থী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বিশেষ অনুমতি চেয়ে আবেদন জানায়। তবে পরীক্ষা দিন উপস্থিত ছিলেন ৩ জন।

এদের মধ্যে একজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে। একজন ছেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, দুইজন মেয়ের মধ্যে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও আরেকজন গর্ভবতী।

মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা দেয়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী সেলিম ভূঞার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেই শ্রুতিলেখকের ব্যবস্থা করা হয়ে।

নিউজবাংলাকে সেলিম ভূঞা বলেন, ‘আমার শ্রুতিলেখকের প্রয়োজন ছিল। কর্তৃপক্ষ আমাকে সে ব্যবস্থা করে দিয়েছে। পরীক্ষা ভালো হয়েছে, একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাব বলে আশাবাদী।’

মেডিক্যাল সেন্টারে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা দেয়া আরেক শিক্ষার্থী তাবাচ্ছুম তাবিয়া। গর্ভবতী এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার প্রেগন্যান্সির একদম শেষ পর্যায়ে পরীক্ষার তারিখ পড়েছে। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে পরীক্ষা দেয়া সম্ভব নয়। এ ব্যবস্থা করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।’

এ ছাড়া ইসরাত জাহান অনিমা নামের আরেক শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী বলেন, ‘আমার শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এতোটা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে পরীক্ষা দেয়া সম্ভব নয়। সেজন্য আবেদন জানিয়েছিলাম, আমাকে এখানে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের আবেদনে আমরা সাড়া দিয়েছি। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য শ্রুতি লেখক দিয়েছি। তার পছন্দমতো আমরা কাউকে দেইনি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এসএসসির উপরে নয়, এমন শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছে। তাকে সম্পূর্ণ আলাদা রুমে দেয়া হয়েছে।’

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি কমিটি ২০২০-২০২১-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবাইকে সমানভাবে সুযোগ দিতে চাই। যেহেতু তারা জাতীয় পরীক্ষার মাধ্যমে পাশ করে এসেছে, তারা যোগ্য প্রার্থী। তারা প্রতিবন্ধী, তাদেরকেও তো আমাদের সুযোগ দিতে হবে। সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করার দরকার আমরা করেছি।’

দেশের ২২টি কেন্দ্রে একযোগে ‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানবিক বিভাগের এই ইউনিটে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৭ হাজার ১১৭ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কেন্দ্র জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ হাজার ৭৯৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেন। ৭ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয় পরীক্ষায়।

আরও পড়ুন:
‘স্কুলে এসেই করোনার প্রমাণ নেই’
স্কুল-কলেজে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ
প্রাথমিকের ছাত্রীর করোনার পর আরেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ
নতুন শিক্ষা কাঠামো: চ্যালেঞ্জ শিক্ষকদের ওপরেই
তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস বাড়ছে

শেয়ার করুন

এসএসসির প্রবেশপত্র বিতরণ ৩ নভেম্বর

এসএসসির প্রবেশপত্র বিতরণ ৩ নভেম্বর

অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হবে ৩ নভেম্বর। কেন্দ্র সচিব নিজে অথবা তার প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষককে (স্বাক্ষর সত্যায়িতসহ) কেন্দ্রের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র অফিস চলাকালীন নিতে হবে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হবে ৩ নভেম্বর। পরে ৪ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রবেশপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করা যাবে।

রোববার ঢাকা শিক্ষা বোডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলামের সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হবে ৩ নভেম্বর। কেন্দ্র সচিব নিজে অথবা তার প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষককে (স্বাক্ষর সত্যায়িতসহ) কেন্দ্রের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র অফিস চলাকালীন নিতে হবে।

আরও বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই শিক্ষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশপত্র নিতে পারবেন না। তিনি নিজ কেন্দ্রাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র ৩ নভেম্বর বিতরণ করবেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান প্রবেশপত্র যাচাই করে কোনো ক্রটি বা সমস্যা সংশোধন করার জন্য ৪ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) এর কাছে ছক অনুযায়ী আবেদনপত্র জমা দিয়ে সংশোধন করতে পারবেন।

পরীক্ষার কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা দায়ী থাকবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর। তা চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুধু নৈর্বাচনিক বিষয়ে।

অন্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে। এবার চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না।

নির্ধারিত সূচিতে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ৩০ মিনিট এবং বেলা ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা হবে।

কবে কোন পরীক্ষা

১৪ নভেম্বর পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ও হিসাববিজ্ঞান এবং ১৬ নভেম্বর রসায়ন (তত্ত্বীয়), ১৮ নভেম্বর শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া (তত্ত্বীয়), ২১ নভেম্বর ভূগোল ও পরিবেশ ও ফিন্যান্স ও ব্যাকিং, ২২ নভেম্বর উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়) ও জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) এবং ২৩ নভেম্বর পৌরনীতি ও নাগরিকতা, অর্থনীতি ও ব্যবসায় উদ্যোগ পরীক্ষা হবে।

যত নম্বরে পরীক্ষা

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর বিভাজন প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এসএসসি ও এইচএসসির বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীরা প্রতি বিষয়ে ৩২ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে রচনামূলক ২০ নম্বর ও এমসিকিউতে (নৈর্ব্যক্তিকে) থাকবে ১২ নম্বর। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিষয়গুলোয় শিক্ষার্থীরা ৪৫ নম্বরের পরীক্ষা দেবে। এর মধ্যে ৩০ নম্বর রচনামূলক ও ১৫ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রচনামূলক ও নৈর্ব্যক্তিকের নম্বরকে ১০০ নম্বরে রূপান্তর করে প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারণ করা হবে।

এসএসসির নম্বর বিভাজন

বিজ্ঞান: ঢাকা বোর্ড প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার নম্বর বিভাজনে বলা হয়েছে, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষার রচনামূলক অংশে শিক্ষার্থীদের ৩২ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। এর মধ্যে রচনামূলক ২০ আর নৈর্ব্যক্তিক অংশে ১২ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে পরীক্ষার্থীদের।

বিজ্ঞান বিভাগের রচনামূলক অংশে ৮টি প্রশ্ন থাকলেও যেকোনো দু’টির উত্তর দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। ১০ করে ২০ নম্বর। নৈর্ব্যক্তিক অংশে ২৫টি প্রশ্নের মধ্যে ১২টির উত্তর দিতে হবে। এখানে নম্বর ১২। মোট ৩২ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষা বোর্ড বলছে, বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের ২০ নম্বরকে ৫০ ও নৈর্ব্যক্তিকের ১২ নম্বরকে ২৫ নম্বরে রূপান্তর করে মোট প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারণ করা হবে।

মানবিক ও ব্যবসায়:এসএসসির মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৪৫ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। রচনামূলকে ৩০ নম্বর ও নৈর্ব্যক্তিকে ১৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে রচনামূলক অংশে ১১টি প্রশ্ন থাকলেও উত্তর দিতে হবে যেকোনো ৩টির। প্রতিটির মান ১০। নৈর্ব্যক্তিকে ৩০টি প্রশ্ন থাকলেও উত্তর দিতে হবে ১৫টির। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ১ নম্বর করে মোট ১৫।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৩০ নম্বরকে ৭০ ও নৈর্ব্যক্তিকের ১৫ নম্বরকে ৩০ নম্বরে রূপান্তর করে শিক্ষার্থীদের মোট নম্বর নির্ধারণ করবে বোর্ড। প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষা ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে হবে। রচনামূলক ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ও নৈর্ব্যক্তিকে সময় ১৫ মিনিট।

আরও পড়ুন:
‘স্কুলে এসেই করোনার প্রমাণ নেই’
স্কুল-কলেজে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ
প্রাথমিকের ছাত্রীর করোনার পর আরেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ
নতুন শিক্ষা কাঠামো: চ্যালেঞ্জ শিক্ষকদের ওপরেই
তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস বাড়ছে

শেয়ার করুন

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কুবিতে অনুপস্থিত ১১৪ জন

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কুবিতে অনুপস্থিত ১১৪ জন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কড়া নিরাপত্তার আওতায় সব বিধি সম্পন্ন করে এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছি।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক বিভাগ) গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা।

এক ঘণ্টার এই পরীক্ষা রোববার দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ১টায়। এই কেন্দ্রে ২ হাজার ৫০৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৩৯১ জন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১৪। উপস্থিতির হার প্রায় ৯৬ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৭ এবং ২২ মিনিট পর দুইজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের সঠিক সময়ে হলে পৌঁছে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের জয় বাংলা বাইক সার্ভিস।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক থেকেই বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন, রোভার, বিএনসিসি সার্বিক সহায়তা করেছে।

পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী উম্মে হানি বলেন, ‘পরীক্ষা দিতে এসে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পেরেছি এবং সকলেই সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করেছে।’

মো. মোস্তফা নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘পরীক্ষা দিতে আসার পর কোনো প্রতিবন্ধকতা আসেনি। সবকিছু ঠিক ছিল।’

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কড়া নিরাপত্তার আওতায় সব বিধি সম্পন্ন করে এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছি।’

‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীম বলেন, “সবার সার্বিক সহযোগিতায় আমরা ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে শেষ করতে পেরেছি।”

দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথম গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

আরও পড়ুন:
‘স্কুলে এসেই করোনার প্রমাণ নেই’
স্কুল-কলেজে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশ
প্রাথমিকের ছাত্রীর করোনার পর আরেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ
নতুন শিক্ষা কাঠামো: চ্যালেঞ্জ শিক্ষকদের ওপরেই
তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস বাড়ছে

শেয়ার করুন