আরও ৬ বিভাগে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র

আরও ৬ বিভাগে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র

বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন ঢাকা। ছবি: সংগৃহীত

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিগগির খুলনাসহ আরও ৬ বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপিত হবে। অন্যান্য জেলা এবং খুলনাতেও সিনেপ্লেক্সসহ তথ্য কমপ্লেক্স হবে।’

দেশের আরও ছয় বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপনের কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ।

খুলনায় শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিগগির খুলনাসহ আরও ৬ বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপিত হবে। অন্যান্য জেলা এবং খুলনাতেও সিনেপ্লেক্সসহ তথ্য কমপ্লেক্স হবে।

‘বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে দেশে যে চলচ্চিত্রশিল্পের যাত্রা, তাকে নতুন জীবন দিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া খুলনা নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি এ অঞ্চলের পত্রিকাগুলোর স্বার্থে আবার চালুর জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’

বাংলাদেশ টেলিভিশনের বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার কেন্দ্র রয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতেও সম্প্রচার কেন্দ্র করা হলে এর সংখ্যা হবে আটটি।

এ সময় রাজনৈতিক নানা ইস্যুতেও কথা বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে যারা জনগণের ভোট ও রায়ের ওপর নির্ভর করে, তাদের জন্য নির্বাচন বর্জন আত্মহনের মতো সিদ্ধান্ত, কিন্তু যারা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, তারা নির্বাচন বর্জন করতে পারে।

‘পত্রিকায় দেখলাম বিএনপি নাকি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে যায়নি, কিন্তু নির্বাচন হয়েছে এবং দেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ২০১৮ সালেও বিএনপি নির্বাচনে যাবে-যাবে না করে গাধার জল ঘোলা করে খাওয়ার মতো শেষে গেছে। তাই তাদের এ সিদ্ধান্তই থাকবে কিনা জানি না, কিন্তু বিএনপির জন্য এ সিদ্ধান্ত আত্মহননমূলক। অবশ্য বিএনপির সবসময় পেছনের দরজাটাই পছন্দ।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত। গত সাড়ে ১২ বছর ধরে তাদের রাজনীতিটা ছিল জনগণের বিপক্ষে।

‘জনগণের ওপর পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা, হরতাল-অবরোধের নামে জনগণকে বন্দী করে রাখা এসবের মধ্যেই বিএনপির রাজনীতিটা সীমাবদ্ধ ছিল। এ কারণে প্রতিনিয়ত তারা জনগণ থেকে দূরে সরে গেছে এবং এই প্রেক্ষাপটে তারা সিরিজ বৈঠক করেছে। তাদের উচিত জনগণের সঙ্গে বৈরিতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা।’

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন না: তথ্যমন্ত্রী
সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন
ত্যাগীদের মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ
তত্ত্বাবধায়কের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই: তথ্যমন্ত্রী
সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঋণের টাকা পরিশোধে শিশু অপহরণ

ঋণের টাকা পরিশোধে শিশু অপহরণ

অপহরণের আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে তিন বছর ছয় মাস বয়সী শিশু আফিয়া। ছবি: সংগৃহীত

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ টানা দুই দিন অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে একটি বাসা থেকে অপহৃত শিশু আফিয়াকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী রানা আহমেদ বাকিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০০৯ সালে জমি বিক্রি ও ঋণের টাকা দিয়ে দুবাই যান রানা আহমেদ বাকি। সঠিক কাগজপত্র না থাকায় ২৩ দিন জেল খেটে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে আসার পর রিকশা চালিয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। শিশু আফিয়াকে অপহরণ করে মুক্তিপণের টাকা দিয়ে ঋণের ৩-৪ লাখ টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা করেন তিনি।

আফিয়া অপহরণের পর তার বাবা-মা প্রথমে থানায় গেলে থানা থেকে পাঠানো হয় র‌্যাব-৪ এ। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যারের একটি আভিযানিক দল টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে রোববার ভোর ৬টায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে একটি বাসা থেকে অপহৃত শিশু আফিয়াকে উদ্ধার করে।

এ সময় অপহরণকারী রানা আহমেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪।

রোববার বিকেলে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর ১টার সময় আশুলিয়া পল্লীবিদ্যুৎ, কবরস্থান রোড এলাকা থেকে তিন বছর ছয় মাস বয়সী শিশু আফিয়া অপহৃত হয়। ওই ঘটনার দিনই অপহরণকারী মোবাইল ফোনে শিশুটির বাবা-মার কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। টাকা না দিলে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল অপহরণকারীর অবস্থান শনাক্তে ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রথমে অপহরণকারীর নিজ জেলা পাবনা এবং শ্বশুড় বাড়ি নাটোরের বড়াই গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে তথ্য সংগ্রহ করে।

ঋণের টাকা পরিশোধে শিশু অপহরণ

অপহরণকারী রানা আহমেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪। ছবি: নিউজবাংলা

সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, অপহরণকারী সিরাজগঞ্জ জেলার শাহাজাদপুরে দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থান করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ টানা দুই দিন অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর ১০ নং কৈজুরি ইউপি ৭ নং ওয়ার্ডের বাঁধের স্লুইসগেট এলাকার একটি বাসা থেকে অপহৃত শিশু আফিয়াকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী রানা আহমেদ বাকিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, অপহরণকারী রানা আহমেদ বাকি ২ বছর ধরে আশুলিয়া পল্লীবিদ্যুৎ কবরস্থান রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। অপহরণকারী পেশায় একজন রিকশাচালক। সে বেশিরভাগ সময় রাত্রে রিকশা চালাত, দিনে বাসায় থাকত এবং মাঝে মাঝে স্থানীয় একটি কয়েল ফ্যাক্টরিতে কাজ করত বলে জানা যায়।

সে বাসা ভাড়া নেয়ার সময় সে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে তার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলায় এবং নানির বাড়ি ধামরাই থানায় বলে জানায়। সে নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা। তার বড় মেয়ের বয়স ৯ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স ১০ মাস। তার বাড়ি পাবনা ভাউডাঙ্গা গ্রামে।

কীভাবে অপহরণ হলো আফিয়া

র‌্যাব জানায়, ভিকটিম শিশুটির বাবা আবুল কালাম আজাদ ও মা সোনিয়া বেগম দুজনই গার্মেন্টসে চাকরি করার কারণে মেয়েকে দীর্ঘ দিনের পরিচিত আনোয়ারা নামের বৃদ্ধার বাসায় রেখে অফিসে যেতেন। এই বৃদ্ধা তাদের সম্পর্কে নানি হন। এই বৃদ্ধার পাশের রুমে অপহরণকারী রানা এক হাজার টাকা ভাড়ায় বসবাস করতেন।

সেই সুবাদে প্রায় সময়ই ভিকটিম শিশুটি তার কাছে যাতায়াত করত। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক অপহরণকারী রানা ভিকটিম শিশু আফিয়াকে মাঝে মাঝে চকলেট, চিপস্ ও খেলনা কিনে দিয়ে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং শিশু আফিয়া তাকে মামা বলে ডাকে।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য রানা শিশুটিকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। অপহরণকারী রানা আহমেদ ২০০৯ সালে জমি-জমা বিক্রি ও ঋণ করে দুবাই যায়। কিন্তু সঠিক কাগজপত্র না থাকায় ২৩ দিন জেল খেটে দেশে ফেরত আসেন। দেশে আসার পর থেকে সে রিকশা চালিয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না।

ঋণের ৩-৪ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য সে এই অপহরণের পরিকল্পনা করে বলে স্বীকার করেছেন। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক, শিশুটির বাবা-মা দুজনেই বাসায় না থাকায় শিশুটিকে অপহরণ করার উদ্দেশ্যে প্রথমে তাকে একটি চিপস্ কিনে দিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ থেকে রিকশা করে বলিভদ্র বাজারে যায়। সেখান থেকে শিশুটিকে গেঞ্জি ও সেন্ডেল কিনে দেয়। পরবর্তীতে বলিভদ্র থেকে বাসে করে চন্দ্রা যায়।

তিনি আরও বলেন, চন্দ্রা বাসষ্ট্যান্ড থেকে বাসে করে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর এলাকায় তার এক বন্ধু রবিউলের বাড়ীতে পৌঁছে। তার বন্ধুকে সে শিশুটি তার নিজের মেয়ে বলে পরিচয় দেয় এবং বন্ধুকে জানায় তার স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না বিধায় কিছুদিন থেকে চলে যাবে।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন না: তথ্যমন্ত্রী
সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন
ত্যাগীদের মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ
তত্ত্বাবধায়কের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই: তথ্যমন্ত্রী
সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বীর নিবাস তৈরির মান বজায় রাখার নির্দেশ

বীর নিবাস তৈরির মান বজায় রাখার নির্দেশ

রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার বীর নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথমে ১৪ হাজার বীর নিবাস অনুমোদন হলেও পরে প্রধানমন্ত্রী ৩০ হাজার নির্মাণের অনুমোদন দেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শেখ হাসিনার আন্তরিক ভালোবাসার প্রতিফলন হচ্ছে বীর নিবাস।’

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার বীর নিবাস তৈরির ক্ষেত্রে যথাযথ মান বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন (বীর নিবাস) নির্মাণ প্রকল্প কার্যালয়ে রোববার এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার বীর নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে।

‘প্রথমে ১৪ হাজার বীর নিবাস অনুমোদন হলেও পরে প্রধানমন্ত্রী ৩০ হাজার নির্মাণের অনুমোদন দেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শেখ হাসিনার আন্তরিক ভালোবাসার প্রতিফলন হচ্ছে বীর নিবাস।’

মন্ত্রী জানান, প্রতিটি বীর নিবাস তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজী করতে উপজেলাভিত্তিক বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে বীর নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কমিটিতে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাড়ি বরাদ্দপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাকেও রাখা হয়েছে। যাতে তিনি তার বাড়ির কাজ বুঝে নিতে পারেন।’

বাড়ি নির্মাণের সময় ছবি এবং ভিডিওধারণ করতে, বরাদ্দপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী।

এ ছাড়া প্রকৃত অস্বচ্ছল এবং সঠিক তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা যাতে বীর নিবাস বরাদ্দ পান তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন না: তথ্যমন্ত্রী
সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন
ত্যাগীদের মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ
তত্ত্বাবধায়কের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই: তথ্যমন্ত্রী
সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক উসকানি: ইসলামি বক্তা বিপ্লবীর স্বীকারোক্তি

সাম্প্রদায়িক উসকানি: ইসলামি বক্তা বিপ্লবীর স্বীকারোক্তি

উসকানি দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর মাওলানা আব্দুর রহিম বিপ্লবী। ফাইল ছবি

গত ২১ অক্টোবর সকাল সোয়া সাতটার দিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চুনকুটিয়া পূর্বপাড়া (আমিনপাড়া) জামে মসজিদের সামনে থেকে আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ।

কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে প্রতিমার পায়ের কাছে কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় ঢাকার একটি ওয়াজ মাহফিলে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয়ার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ইসলামি বক্তা আব্দুর রহিম বিপ্লবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিন পল্টন থানায় দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আব্দুর রহিমকে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের উপপরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।

আব্দুর রহিম স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

গত ২১ অক্টোবর সকাল সোয়া সাতটার দিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চুনকুটিয়া পূর্বপাড়া (আমিনপাড়া) জামে মসজিদের সামনে থেকে আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে এসআই প্রদীপ কুমার দাস পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

আব্দুর রহমান বিপ্লবী ফেনীর পরশুরাম উপজেলার পশ্চিম সাহেব নগর এলাকার মৃত আব্দুল কালামের ছেলে। অভিযোগ আছে, গত ১৫ অক্টোবর জুমার নামাজ শেষে ঢাকার পশ্চিম দোলাইরপাড় এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন তিনি।

সিআইডি বলছে, তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, বাড়িঘরে হামলা হয়। পরে আব্দুর রহিম বিপ্লবীকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ওঠে।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন না: তথ্যমন্ত্রী
সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন
ত্যাগীদের মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ
তত্ত্বাবধায়কের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই: তথ্যমন্ত্রী
সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

পরীমনির রিমান্ডের ব্যাখ্যা: আরও এক সপ্তাহ সময় পেলেন দুই বিচারক

পরীমনির রিমান্ডের ব্যাখ্যা: আরও এক সপ্তাহ সময় পেলেন দুই বিচারক

মাদক মামলায় পরীমনিকে বিচারিক আদালতে নেয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি

মাদক মামলায় তিন দফায় রিমান্ডে নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন পরীমনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করে আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার শুনানির জন্য তারিখ ঠিক ছিল।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডে নেয়ার বিষয়ে দুই বিচারকের ব্যাখ্যার জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারিক আদালতের ওই দুই বিচারকের পক্ষে পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মবিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সময় দেয়।

আদালতের দুই বিচারক ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলামের পক্ষে সময় প্রার্থনা করেন আইনজীবী আব্দুল আলিম মিয়া জুয়েল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি মিজানুর রহমান। অন্যদিকে পরীমনির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও মুজিবর রহমান।

পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী এদিন বিচারকের ব্যাখ্যা দেয়ার তারিখ ঠিক করা ছিল। সকালে শুনানিতে আইনজীবী আব্দুল আলিম মিয়া জুয়েল ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য এক সপ্তাহ সময় চান।

নিউজবাংলাকে তিনি জানান, আদালত তাদের এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন।

এর আগেও একবার ব্যাখ্যা দেন দুই বিচারক। তখন তাদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হওয়ায় ফের ব্যাখ্যা দেয়ার সময় দেয়া হয়।

মাদক মামলায় তিন দফায় রিমান্ডে নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন পরীমনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করে আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার শুনানির জন্য তারিখ ঠিক ছিল।

৪ আগস্ট বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ আগস্ট তাকে আদালতে উপস্থিত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

১০ আগস্ট চার দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে তাকে আবার দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে ১৩ আগস্ট পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। এরপর আবার তাকে তৃতীয় দফায় একই মামলায় এক দিনের রিমান্ড দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন না: তথ্যমন্ত্রী
সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন
ত্যাগীদের মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ
তত্ত্বাবধায়কের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই: তথ্যমন্ত্রী
সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মানুষ বেশি ভাত খায় বলে চালের ঘাটতি: কৃষিমন্ত্রী

মানুষ বেশি ভাত খায় বলে চালের ঘাটতি: কৃষিমন্ত্রী

‘বাংলাদেশের ৫০ বছর, কৃষি রূপান্তর অর্জন’ বিষয়ে সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।

‘আমরা অনেক বেশি চাল খাই, ভাত খাই। এজন্য চালের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমরা দিনে প্রায় ৪০০ গ্রাম চাল খাই অথচ পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষ ২০০ গ্রাম চালও খায় না।’

বাংলাদেশের মানুষ বেশি ভাত খায় বলে চালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। এ জন্য তিনি খাদ্যাভ্যাস পাল্টানোর তাগিদ দিয়েছেন।

মানুষকে ভাত কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেছেন, বিশ্বের মানুষ গড়ে যত চাল খায় বাংলাদেশের মানুষ খায় তার দ্বিগুণ।

রোববার রাজধানীতে এক কৃষি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই কথা বলেন। সম্মেলনের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের ৫০ বছর, কৃষি রূপান্তর অর্জন।’

বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম ও বণিক বার্তা যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ঘাটতির তথ্য পাওয়া যায় না। তবে প্রায়ই চালের দাম বেড়ে গেলে সরকার আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়।

সম্প্রতি চালের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। তবে গত দুই সপ্তাহে তা কিছুটা নিম্নমুখি। তার পরেও বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে সরু চালের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। এটি মূল্যস্ফীতির সার্বিক হারের চেয়ে বেশি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি চাল খাই, ভাত খাই। এজন্য চালের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমরা দিনে প্রায় ৪০০ গ্রাম চাল খাই অথচ পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষ ২০০ গ্রাম চালও খায় না।

‘খাদ্যের অভাব নেই দেশে। নেই খাদ্যের সংকট ও খাবারের জন্য হাহাকার। কিন্তু মানুষ অধিক ভাত খায় বলে চালের ওপর বেশি চাপ পড়ছে। এতে প্রায়শ সংকট দেখা দিচ্ছে। বাড়ছে দামও।’

ধানজাতীয় দানাদার খাদ্যে বাংলাদেশকে সফল বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। বলেন, খাদ্যেও দেশ অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ।

আগামী পাঁচ থেকে ছয় বছর পর দেশেই সারা বছর দেশে আম পাওয়া যাবে বলেও তথ্য দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কৃষিপণ্য রপ্তানিও করছি। তবে এই রপ্তানি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। সরকারের লক্ষ্য এখন খাদ্যে পরিপূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। এর পাশাপাশি পুষ্টিজাতীয় খাদ্য নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। তবে এরজন্য কৃষির বাণিজ্যিক রূপান্তর দরকার।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যার ব্যুরোর হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে চালের উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৪৮ লাখ টন। ২০২০ সালে উৎপাদন বেড়ে ৪ কোটি টন ছাড়িয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) গবেষণা তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মানুষের দৈনিক মাথাপিছু চাল খাওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৯৬ দশমিক ৬ গ্রাম। সংস্থাটির ২০১৬ সালের হিসাবে ছিল ৪২৬ গ্রাম।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন না: তথ্যমন্ত্রী
সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন
ত্যাগীদের মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ
তত্ত্বাবধায়কের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই: তথ্যমন্ত্রী
সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

আবরার হত্যায় ২৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড চাইল রাষ্ট্রপক্ষ

আবরার হত্যায় ২৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড চাইল রাষ্ট্রপক্ষ

বুয়েট ছাত্র আবরারকে পেটানোর পর সন্দেহভাজনরা ধরাধরি করে কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যান। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সে দৃশ্য। ফাইল ছবি

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। পরে পুলিশের চার্জশিটে আরও ছয়জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় ২৫ আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন মামলার চিফ প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল।

শুনানিতে কাজল বলেন, ‘এটা কোনো সামান্য বিষয় না। ঘটনার আগে আবরার গ্রামে চলে যায়। আসামিরা তার অপেক্ষায় থাকে। বলতে থাকে আসুক, আসুক। সে হলে আসে এবং তাকে ডেকে নিয়ে যায়। একটা হলে কোর্ট বসায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ আর মৃদু আক্রমণ করে। আস্তে আস্তে আক্রমণ জোরালো হয়। তার প্রতি কেন এত রাগ, এত রাগ কেন? শেষ পর্যন্ত পিটিয়েই তাকে মেরে ফেলল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই। জুলুম বা অবিচারের পক্ষে আমরা নই। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। কেউ নিরপরাধ থাকলে মাননীয় আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবেন। ছাত্র আবাসিক হলে যারা থাকেন তারা একে অপরের আপন হয়ে যায়। আবরার তাদেরই আপন একজন ছিল। কিন্তু সেই আপনজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলল আসামিরা।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘যারা অপরাধ করেছে তারা যেন শাস্তির আওতায় আসে। তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করি। আবরারের মা যেন বলতে পারেন, ন্যায়বিচার পেয়েছি। আবরারের স্বজনরা এখনও কাঁদছে।’

কাজল বলেন, ‘এই মামলার ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জন আদালতে এসে তাদের জবানবন্দিতে মারপিট করে আবরারকে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ৭৫ শতাংশের বেশি সাক্ষ্য আমরা আদালতে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। তাই প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।’

এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তবে তা শেষ হয়নি। সোমবার অবশিষ্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছে আদালত।

শুনানির সময় কারাগারে থাকা ২২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইঞা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান। গত বছর ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত।

মামলাটিতে ৬০ সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। গত ১৪ মার্চ এ মামলায় কারাগারে থাকা ২২ আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেনি। এরপর কয়েকজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যও দেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলায় কিছু ত্রুটি থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি পুনরায় চার্জ গঠনের আবেদন করে। ৮ সেপ্টেম্বর আদালত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় চার্জ গঠন করে। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ শুনানিতে ২২ আসামি আবারও নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন না: তথ্যমন্ত্রী
সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন
ত্যাগীদের মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ
তত্ত্বাবধায়কের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই: তথ্যমন্ত্রী
সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ডলফিন হত্যাকারীর তথ্য দিলে পুরস্কার

ডলফিন হত্যাকারীর তথ্য দিলে পুরস্কার

শুধু কুয়াকাটা সৈকতে চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভেসে এসেছে ২১টি মৃত ডলফিন। ফাইল ছবি

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ‘ডলফিন সংরক্ষণে বর্তমান সরকার সচেষ্ট। এ কার্যক্রমকে সফল করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অনেকে ডলফিনের তেল সংগ্রহসহ বিভিন্ন কারণে ইচ্ছাকৃত ডলফিন হত্যা করে। যারা বন অধিদপ্তরকে ডলফিন হত্যাকারীদের তথ্য দেবেন তাদের পুরস্কার দেয়া হবে।’

ডলফিন হত্যাকারীর তথ্য দিলে পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়।

আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবস উপলক্ষে রোববার বন অধিদপ্তরের এক আলোচনা সভায় এ ঘোষণা দেন পরিবেশ মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ‘ডলফিন সংরক্ষণে বর্তমান সরকার সচেষ্ট। এ কার্যক্রমকে সফল করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অনেকে ডলফিনের তেল সংগ্রহসহ বিভিন্ন কারণে ইচ্ছাকৃত ডলফিন হত্যা করে।

‘যারা বন অধিদপ্তরকে ডলফিন হত্যাকারীদের তথ্য দেবেন তাদের পুরস্কার দেয়া হবে।’

বাংলাদেশে প্রধানত ১২ প্রজাতির ডলফিন দেখা যায়। এর মধ্যে দুটি মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। এই দুই প্রজাতি হল গাঙ্গেয় এবং ইরাবতী।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ডলফিনের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার, যা ছয় হাজারই রয়েছে সুন্দরবন এলাকায়।

প্রায়ই জেলেদের জালে আটকা পড়ে ডলফিন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর বাইরেও অনেকেই গোপনে ডলফিন শিকার করেন।

এক সময় ঢাকার বুড়িগঙ্গা, পদ্মাসহ বড় নদীগুলোতেও সচরাচর দেখা মিলতো গাঙ্গেয় ডলফিন বা শুশুক। নদী দূষণের কারণে এর মধ্যে টিকে আছে হাতে গোনা কয়েকটি।

এ সময় ডলফিন সংরক্ষণে সরকারের নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন বনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের ডলফিন সংরক্ষণের জন্য সাতটি ডলফিন কনজারভেশন দল গঠন করা হয়েছে, অন্যান্য এলাকায় ও এ ধরনের টিম গঠন করা হবে। জেলেসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

‘ডলফিন সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ যাবৎ সরকার দেশে নয়টি ডলফিন অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে, অন্যান্য এলাকাতেও এটি ঘোষণা করা হবে।’

বনমন্ত্রী বলেন, ‘ডলফিন অ্যাকশন প্ল্যান এবং ডলফিন এটলাস প্রস্তুত করা হয়েছে। হালদা নদীতে ডলফিনের সংখ্যা নির্ণয় এবং ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে ডলফিন হত্যার অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ লাক্খ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে।’

শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘দেশের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিবেদিত ব্যক্তিদের ডলফিন রক্ষায় নিজ নিজ স্থান থেকে একনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সকলের সমন্বিত প্রয়াসেই আমরা ডলফিন সংরক্ষণ কার্যক্রমে সফল হব।’

আরও পড়ুন:
সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন না: তথ্যমন্ত্রী
সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন
ত্যাগীদের মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ
তত্ত্বাবধায়কের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই: তথ্যমন্ত্রী
সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন