ঝুমনের মুক্তি কবে

ঝুমনের মুক্তি কবে

সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাস। ফাইল ছবি

আইনজীবীদের বরাত দিয়ে ঝুমনের ভাই নুপুর দাস বলেন, ‘আদালতের জামিন আদেশের সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছালে ঝুমন মুক্তি পাবে। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববারের দিকে সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছাতে পারে।’

ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের বিতর্কিত নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে গ্রেপ্তার ঝুমন দাস আপন জামিন পেলেও কারাগার থেকে এখনও মুক্ত হননি।

সুনামগঞ্জের শাল্লার এই যুবক এখনও আছেন জেলা কারাগারে।

ঝুমনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের জামিন আদেশ কারাগারে না পৌঁছানোয় তার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে অপেক্ষা বাড়ছে ঝুমনের পরিবারের।

আইনজীবীদের ধারণা, রোববার ঝুমনের জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছাতে পারে।

শর্তসাপেক্ষে বৃহস্পতিবার এক বছরের জন্য ঝুমনকে জামিন দেয় হাইকোর্ট।

আইনজীবীদের বরাত দিয়ে ঝুমনের ভাই নুপুর দাস বলেন, ‘আদালতের জামিন আদেশের সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছালে ঝুমন মুক্তি পাবে। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববারের দিকে সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছাতে পারে। ফলে রোববারের আগে তার মুক্তি মিলছে না।’

সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শরীফুল আলম শুক্রবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঝুমন দাসের জামিনের খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে শুনেছি। তবে এখনও কোনো আদেশ পাইনি।

‘হাইকোর্টের জামিন আদেশ প্রথমে সুনামগঞ্জের নিম্ন আদালতে এসে পৌঁছবে। সেখান থেকে বেইল অর্ডার আসলে আমরা তার মুক্তির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

জেলা আদালতে ঝুমনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেবাংশু শেখর দাশ।

তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের জামিনের কাগজপত্র সুনামগঞ্জে আসার পর আমরা সংশ্লিষ্ট আদালতে জামিননামা দাখিলের আবেদন করব। আদালতের আদেশের কপি কারাগারে গেলেই তিনি মুক্তি পাবেন।’

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার ঝুমনের জামিনের আদেশ দেয়।

ঝুমনকে এক বছরের জন্য জামিন দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে শর্ত দেয়া হয়েছে। শর্তে আরও আছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি যেতে পারবেন না সুনামগঞ্জের বাইরেও।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, নাহিদ সুলাতানা যুথি ও মো. আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘শানে রিসালাত সম্মেলন’ নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। এতে হেফাজতের তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বক্তব্য দেন।

এই সমাবেশের পরদিন ১৬ মার্চ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের ঝুমন দাস। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনেন।

মামুনুলের সমালোচনাকে ইসলামের সমালোচনা বলে এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন তার অনুসারীরা। এতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা ১৬ মার্চ রাতে ঝুমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পরদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সকালে কয়েক হাজার লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করে হামলা চালায় নোয়াগাঁও গ্রামে। তারা ভাঙচুর ও লুটপাট করে ঝুমন দাসের বাড়িসহ হাওরপাড়ের হিন্দু গ্রামটির প্রায় ৯০টি বাড়ি, মন্দির। ঝুমনের স্ত্রী সুইটিকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

এরপর ২২ মার্চ ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম।

শাল্লায় হামলার ঘটনায় শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম, স্থানীয় হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল ও ঝুমন দাসের মা নিভা রানী তিনটি মামলা করেন। তিন মামলায় প্রায় ৩ হাজার আসামি। পুলিশ নানা সময়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তারা সবাই এখন জামিনে।

শুধু জামিন পাচ্ছিলেন না ঝুমন দাস। বিচারিক আদালতে পাঁচ দফা চার জামিন আবেদন নাকচ করেন বিচারক। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছিল।

এর মধ্যে জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন ঝুমন দাস, পেলেন জামিন।

ঝুমনের স্ত্রী সুইটি রানী দাস বলেন, ‘তার জামিনের খবরে আমরা খুশি। এখন তিনি কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসবেন, এটাই চাই।’

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের
হাইকোর্টে জামিন পেলেন ঝুমন দাস
ঝুমন দাসের অপরাধ কী
ঝুমনকে মুক্তি না দিলে আন্দোলন, ঘোষণা ছাত্রলীগ নেতাদের
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

উখিয়ায় ৬ রোহিঙ্গা হত্যা: গ্রেপ্তার আরও ৪

উখিয়ায় ৬ রোহিঙ্গা হত্যা: গ্রেপ্তার আরও ৪

উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা মসজিদ। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার থাইনখালীর ক্যাম্প-১৮-তে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা চালায় ৪০ থেকে ৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তাদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং উখিয়া থানা পুলিশ যৌথভাবে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারা করে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী সালাহউদ্দিন।

তিনি জানান, উখিয়া বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ছয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি শফিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গাজী সালাহউদ্দিন আরও জানান, মঙ্গলবার ভোরে ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ফরিদ হোসেন, জাহেদ হোসেন ও মো. হাশিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ নিয়ে এই মামলায় ১৪ রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, ছয় রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় ২৫ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ২৫০ জনকে আসামি করে শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলা করা হয়।

মামলা করেন নিহত মাদ্রাসাছাত্র আজিজুল হকের বাবা নুরুল ইসলাম। তিনি ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের বাসিন্দা।

মামলায় এরই মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুজিবর রহমান, ৮ নম্বর ক্যাম্পের দিলদার মাবুদ, মো. আয়ুব, ৯ নম্বর ক্যাম্পের মো. আমিন, আব্দুল মজিদ, ১৩ নম্বর ক্যাম্পের মো. আমিন, মো. ইউনুস, ১২ নম্বর ক্যাম্পের জাফর আলম, ১০ নম্বর ক্যাম্পের মো. জাহিদ ও মোহাম্মদ আমিন।

এদের মধ্যে আটজনকে ঘটনার পর এবং দুইজনকে ২১ অক্টোবর রাতে আটক করা হয়। পরে তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মদ সঞ্জুর মোরশেদ জানান, মামলায় আকিজ অলি নামের একজনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

কক্সবাজার ৮-এপিবিএনের কমান্ডিং অফিসার (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ শিহাব কায়সার খান জানান, হত্যায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার থাইনখালীর ক্যাম্প-১৮-তে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা চালায় ৪০ থেকে ৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তাদের গুলি ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।

গুলিতে নিহত নুর আলম হালিমের স্বজন ও ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি রাতে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক-ছাত্র ও স্থানীয় রোহিঙ্গারা মিলে তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় করেন। আমিও নিয়মিত তাহাজ্জুতে শরিক হই। তবে বৃহস্পতিবার আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় মসজিদে দেরিতে যাই।

‘কিন্তু আমি গিয়ে দেখি মাদ্রাসার ভেতরে সবাই ছোটাছুটি করছে। অনেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করছে। তাদের দেখে আমি দূরে সরে যাই। প্রায় আধা ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। এরপর সন্ত্রাসীরা চলে যায়।’

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের
হাইকোর্টে জামিন পেলেন ঝুমন দাস
ঝুমন দাসের অপরাধ কী
ঝুমনকে মুক্তি না দিলে আন্দোলন, ঘোষণা ছাত্রলীগ নেতাদের
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

কারমাইকেলে না পড়েও ছাত্রলীগ কমিটিতে সৈকত

কারমাইকেলে না পড়েও ছাত্রলীগ কমিটিতে সৈকত

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অভিযুক্ত সৈকত মণ্ডল রংপুর কারমাইকেল কলেজের ছাত্রলীগ নেতা। সহিংসতার পর তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

পরে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এখন বলা হচ্ছে, কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগের কমিটিতে পদ পেতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন সৈকত মণ্ডল। রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ হোসেন নিউজবাংলার কাছে স্বীকার করেছেন, সৈকত রংপুর সরকারি কলেজের ছাত্র। তিনি সংগঠনে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলেও দাবি করেছেন আসিফ।

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু অধ্যুষিত একটি গ্রামে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ‘হোতা’ হিসেবে রংপুরের কারমাইকেল কলেজের সদ্য সাবেক যে ছাত্রলীগ নেতার নাম এসেছে, তিনি ওই কলেজের ছাত্রই ছিলেন না।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অভিযুক্ত সৈকত মণ্ডল কারমাইকেল কলেজে সংগঠনটির দর্শন বিভাগের কমিটির ১ নম্বর সহসভাপতির দায়িত্বে থাকলেও তিনি আসলে রংপুর সরকারি কলেজের ছাত্র।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এখন বলা হচ্ছে, কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগের কমিটিতে পদ পেতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন সৈকত মণ্ডল।

রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ হোসেন নিউজবাংলার কাছে স্বীকার করেছেন, সৈকত রংপুর সরকারি কলেজের ছাত্র। তিনি সংগঠনে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলেও দাবি করেছেন আসিফ।

কারমাইকেলে না পড়েও ছাত্রলীগ কমিটিতে সৈকত
সৈকতকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ দাবি করে রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সৈকত দর্শন বিভাগের যে কমিটিতে ছিলেন, সেটি ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট অনুমোদন দেন কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার ও সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ। এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পেয়েছে নিউজবাংলা।

কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজারের দাবি, সৈকত নিয়মিত কারমাইকেল কলেজে আসতেন এবং ক্লাস করতেন। তাই দর্শন বিভাগের কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন।

তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখে যায়, সৈকত রংপুর সরকারি কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের দর্শন বিভাগের ছাত্র। তার রোল নম্বর-৯১০২৪০৯ ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর-১৫২১৭১১২৩৯২। কলেজ কোড-৩২০৭। ২০১৯ সালের চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি জিপিএ ৩ দশমিক ১ শূন্য পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করে নিউজবাংলাকে বলেন, কারমাইকেল কলেজে সৈকতের সরব উপস্থিতি ছিল। যেকোনো কাজে সবার আগে উপস্থিত থাকতেন তিনি। তার দাপটে অন্যরা ছিলেন কোণঠাসা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর চূড়ান্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রে এক কলেজের শিক্ষার্থীদের সিট সাধারণত অন্য কলেজে পড়ে। এই হিসেবে রংপুর সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীদের সিট পড়ে থাকে কারমাইকেল কলেজে।

২০১৭ সালে স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় কারমাইকেল কলেজের তৃতীয় ভবনের ২০৮ নম্বর কক্ষে রংপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেন সৈকত। তখন প্রথমবারের মতো কারমাইকেল কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তার কাছে সৈকতের প্রকৃত পরিচয় ধরা পড়ে। তবে ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় বিষয়টি সবাই চেপে যান।

কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বশিরুল হাসান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনি (সৈকত) এখানকার ছাত্র না। কখনও ক্লাসে দেখিনি। তবে তিনি এখানে খুব ঘোরাঘুরি করতেন। তার রেজাল্ট শিটে দেখেছি তিনি রংপুর সরকারি কলেজের ছাত্র।’

রপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুপল্লিতে গত ১৭ অক্টোবরের হামলার পর র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন সৈকত মণ্ডল। এরপর সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সৈকত মণ্ডলই এ ঘটনার হোতা। টঙ্গী থেকে শুক্রবার রাতে সৈকত ও তার সহযোগী রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অরাজকতা তৈরি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের লক্ষ্যে হামলা-অগ্নিসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং মাইকিং করে হামলাকারীদের জড়ো করেন বলে জানিয়েছেন। সৈকত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণকে উত্তেজিত করে তোলেন। এ ছাড়া তিনি ওই হামলা ও অগ্নিসংযোগে অংশ নিতে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করেন।’

গ্রেপ্তার হওয়ার পর সৈকত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৈকতের বাবা রাশেদুল ইসলাম রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় না থাকলেও দাদা আবুল হোসেন মণ্ডল রামনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং তার চাচা রেজাউল করিম রামনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ইউনিটের সভাপতি।

রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি শফিউর রহমান স্বাধীন ও শেখ আসিফ হোসেনের সই করা একটি বিজ্ঞপ্তি পেয়েছে নিউজবাংলা। এতেও উল্লেখ করা হয়, সৈকত মণ্ডল রংপুর সরকারি কলেজের ছাত্র।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘একটি কুচক্রী মহল উক্ত ব্যক্তিকে (সৈকত) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে গুজব ও অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে। মূলত সে তার ছাত্রত্ব পরিচয় গোপন রেখে ছাত্রলীগ কারমাইকেল কলেজ শাখার আওতাভুক্ত দর্শন বিভাগ শাখার সহসভাপতি পদে কৌশলে অনুপ্রবেশ করে। কারমাইকেল কলেজ শাখার তৎকালীন সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক অনেক আগেই তথ্য গোপন ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে।

‘বিভিন্ন রকম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সংগঠনে অনুপ্রবেশ করে ষড়যন্ত্র করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। এমন অনুপ্রবেশকারী অপরাধীর দায় সংগঠনের হতে পারে না।’

কারমাইকেলে না পড়েও ছাত্রলীগ কমিটিতে সৈকত
সৈকতকে কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে

রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ হোসেন বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রেসরিলিজ আমরা দিয়েছি। সৈকত কারমাইকেলে কলেজের ছাত্র নন। তিনি কৌশলে ভুল তথ্য দিয়ে প্রবেশ করেছেন। তিনি অনুপ্রবেশকারী। কলেজ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা কমিটির বিলুপ্ত করেছি। সৈকত রংপুর সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের ছাত্র, কিন্তু রংপুর কলেজ ছাত্রলীগে তার কোনো নাম নেই।’

কারমাইকেলে না পড়েও ছাত্রলীগ কমিটিতে সৈকত
সৈকতকে নিয়ে বিতর্কের পর বিলুপ্ত করা হয়েছে কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি

কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের (সদ্য বিলুপ্ত) সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সৈকতকে ১৮ অক্টোবর সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

কীভাবে সৈকত পদ পেল, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সে (সৈকত) তো নিয়মিত কলেজে ক্লাস করেছিল। কলেজেই থাকত। তাই সে কমিটিতে স্থান পেয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের
হাইকোর্টে জামিন পেলেন ঝুমন দাস
ঝুমন দাসের অপরাধ কী
ঝুমনকে মুক্তি না দিলে আন্দোলন, ঘোষণা ছাত্রলীগ নেতাদের
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

মুহিবুল্লাহ হত্যা: দুই দিনের রিমান্ডে ৩ জন

মুহিবুল্লাহ হত্যা: দুই দিনের রিমান্ডে ৩ জন

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় তিনজনের দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার পরিদর্শক গাজী সালাউদ্দিন জানান, আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবদেন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় তিনজনকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

জেলা আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হেলাল উদ্দিন মঙ্গলবার দুপুরে তাদের রিমান্ডে পাঠান।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার পরিদর্শক গাজী সালাউদ্দিন।

যাদেরকে পুলিশ রিমান্ড পেয়েছে তারা হলেন, কুতুপালং ক্যাম্প-১-এর ডি-৮ ব্লকের মোহাম্মদ রশিদ প্রকাশ মুরশিদ আমিন, একই ক্যাম্পের বি ব্লকের মোহাম্মদ আনাছ ও নুর মোহাম্মদ।

তিনি জানান, আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবদেন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ২৩ অক্টোবর ভোরে মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে আজিজুল মুহিবুল্লাহ হত্যায় সরাসরি অংশ নেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-১ ইস্ট-ওয়েস্ট (ডি-ব্লকে) নিজ অফিসে অবস্থান করছিলেন মুহিবুল্লাহ। এ সময় বন্দুকধারীরা গুলি করে তাকে হত‌্যা করে। এখন পর্যন্ত এ হত্যা মামলায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তার মধ্যে মোহাম্মদ ইলিয়াছ নামে একজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের
হাইকোর্টে জামিন পেলেন ঝুমন দাস
ঝুমন দাসের অপরাধ কী
ঝুমনকে মুক্তি না দিলে আন্দোলন, ঘোষণা ছাত্রলীগ নেতাদের
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

‘পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয় মিলিকে’

‘পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয় মিলিকে’

ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় একটি গলিতে মিলি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায়। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মিলি চক্রবর্তীর মৃত্যুর কারণ আমাদের কাছে এখন স্পষ্ট। ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার আগেও আমরা নিশ্চিত ছিলাম এটা হত্যাকাণ্ড।’

ঠাকুরগাঁওয়ের সেই গৃহবধূ মিলিকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে।

মিলির মরদেহ উদ্ধারের প্রায় চার মাস পর জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মঙ্গলবার দুপুরে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বাটা শোরুমের পাশের গলি থেকে গত ৮ জুলাই সকালে পাওয়া যায় মিলি চক্রবর্তী শান্তনা নামের ওই নারীর মরদেহ।

মিলি শহরের তাঁতীপাড়ার সমীর কুমার রায়ের স্ত্রী। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে মরদেহের গায়ে পোড়া দাগ থাকায় ১০ জুলাই ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নির্মল কুমার রায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি পরে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয় মিলির ছেলে অর্ক রায় রাহুল ও বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম সোহাগকে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিলি চক্রবর্তীর মৃত্যুর কারণ আমাদের কাছে এখন স্পষ্ট। মিলির ভিসেরা রিপোর্ট আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। সেই অনুযায়ী আমরা মামলার তদন্ত আরও বেগবান করব।

‘ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার আগেও আমরা নিশ্চিত ছিলাম এটা হত্যাকাণ্ড। সে কারণেই পুলিশ তখন একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। মামলার তদন্তে জড়িত সন্দেহে আমরা দুজনকে গ্রেপ্তারও করেছি।’

তবে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের
হাইকোর্টে জামিন পেলেন ঝুমন দাস
ঝুমন দাসের অপরাধ কী
ঝুমনকে মুক্তি না দিলে আন্দোলন, ঘোষণা ছাত্রলীগ নেতাদের
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে সহিংসতা: গ্রেপ্তার আরও ৩

পীরগঞ্জে সহিংসতা: গ্রেপ্তার আরও ৩

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর উত্তরপাড়া হিন্দুপল্লিতে রোববার রাতে হামলা,ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, নতুন গ্রেপ্তার তিনজন হলেন আশিকুর রহমান, মো. পলাশ ও মো. শাফিকুর। পীরগঞ্জের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের একজনের কাছে পাওয়া যায় লুট করা একটি ঝাকি জাল।

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু পাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের একজনের কাছ থেকে হিন্দু বাড়ি থেকে লুট করা একটি জাল জব্দ করা হয়েছে।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেস চন্দ্র নিউজবাংলাকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নতুন গ্রেপ্তার তিনজন হলেন আশিকুর রহমান, মো. পলাশ ও মো. শাফিকুর। তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাতের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পীরগঞ্জের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের একজনের কাছে পাওয়া যায় লুট করা একটি ঝাকি জাল।

পীরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫০ জনকে রিমান্ডে পাওয়া গেছে। সহিংসতায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। সে জন্য গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।

ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে গত ১৭ অক্টোবর রাতে পীরগঞ্জের রামনাথপুর উত্তরপাড়া হিন্দুপল্লিতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় হিন্দুদের বাড়িঘর; দেয়া হয় আগুন। লুটপাতও করা হয় এসব বাড়িতে।

এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং একটি অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে।

এর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ‘প্রধান অভিযুক্ত’ সদ্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈকত মণ্ডল ও তার সহযোগী বটেরহাট মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলামকে আসামি করা হয়।

সৈকত মণ্ডলের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ্ত শাহীন রোববার জানান, র‍্যাবের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় সৈকতকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি স্বেচ্ছায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সুদীপ্ত শাহীন জানান, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলামকে আদালতে তোলা হলে তিনিও স্বেচ্ছায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আদালতকে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের
হাইকোর্টে জামিন পেলেন ঝুমন দাস
ঝুমন দাসের অপরাধ কী
ঝুমনকে মুক্তি না দিলে আন্দোলন, ঘোষণা ছাত্রলীগ নেতাদের
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: সেই মাদ্রাসাশিক্ষক জামিনে মুক্ত

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: সেই মাদ্রাসাশিক্ষক জামিনে মুক্ত

জামিনে মুক্ত হওয়া মাদ্রাসাশিক্ষক মঞ্জুরুল কবির। ছবি: নিউজবাংলা

মাদ্রাসাশিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরের আইনজীবী কামাল উদ্দিন জানান, মামলার বাদীর আপত্তি না থাকায় আদালত মঞ্জুরুলের জামিন আবেদন গ্রহণ করে। বিকেলে কারামুক্ত হন তিনি।

লক্ষ্মীপুরে আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার সেই শিক্ষক জামিন পেয়েছেন।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম সোমবার দুপুরে জামিন আবেদন গ্রহণ করেন। বিকেলে কারামুক্ত হন তিনি।

মাদ্রাসাশিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরের আইনজীবী কামাল উদ্দিন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার বাদীর আপত্তি না থাকায় আদালত মঞ্জুরুলের জামিন আবেদন গ্রহণ করেছে। বিকেলে তিনি জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর মঞ্জুরুলকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে উপস্থিত করে জামিন আবেদন করা হয়। বিচারক তারেক আজিজ আবেদন গ্রহণ না করে কারাগারে পাঠান।

মঞ্জুরুল কাজিরদিঘীরপাড় আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও বামনী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির।

এর আগে নাশকতার একাধিক মামলায় জেল খেটেছেন এই শিক্ষক। এসব কারণে আগেও তাকে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার এএইচএম কামরুজ্জামান।

গত ৬ অক্টোবর ক্লাস চলার সময় মাদ্রাসার দশম শ্রেণির সাত শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন মঞ্জুরুল। ৯ তারিখ চুল কাটার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

ওইদিন রাতে এক শিক্ষার্থীর মা মঞ্জুরুলকে আসামি করে রায়পুর থানায় মামলা করেন। এর আগেই তাকে আটক করে পুলিশ। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠান।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের
হাইকোর্টে জামিন পেলেন ঝুমন দাস
ঝুমন দাসের অপরাধ কী
ঝুমনকে মুক্তি না দিলে আন্দোলন, ঘোষণা ছাত্রলীগ নেতাদের
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহবুবা রায়না। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, ১৮ অক্টোবর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য চিঠি পাঠান। তবে তার আবেদনপত্রে নানা ভুলত্রুটি ছিল বলে পুনরায় তাকে আবেদন করতে বলা হয়। পরদিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুনরায় আবেদন করেন রায়না।

কিশোরগঞ্জে পাঁচ বছর ধরে স্কুলে না পড়িয়েও বেতনভাতা তোলা সেই শিক্ষিক মেহবুবা রায়নার অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করেছে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক সোমবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া মেহবুবা রায়না করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

সুব্রত কুমার বণিক নিউজবাংলাকে জানান, স্কুলে না গিয়ে মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে গত ১৭ অক্টোবর রায়নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

তিনি আরও জানান, ১৮ অক্টোবর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি চিঠি দেন। তবে তার আবেদনপত্রে নানা ভুলত্রুটি ছিল বলে পুনরায় তাকে আবেদন করতে বলা হয়। পরদিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুনরায় আবেদন করেন রায়না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার জানান, পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে চাকরি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন রায়না। সরকারি বিধি অনুযায়ী ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বর মাসের মূল বেতনের অর্ধেক টাকা জমা দিয়েছেন তিনি।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর করিমগঞ্জ উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি আমলে নেন।

রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ডাকযোগে মেহবুবা রায়নার চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র হাতে পান তিনি। আবেদনপত্রে তার চাকরিতে যোগদানসহ কোনো তারিখের উল্লেখ ছিল না। চাকরি থেকে কবে তিনি অব্যাহতি নিতে চান সে বিষয়টিও উল্লেখ করেননি তিনি।

এ কর্মকর্তা আরও জানান, অব্যাহতির আবেদনের ক্ষেত্রে হাজির হয়ে সই করে আবেদন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও ওই শিক্ষক ডাকযোগে আবেদন করেছেন।

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

তা ছাড়া অব্যাহতির বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা সহকারী কর্মকর্তাকেও অবগত করেননি তিনি। পরে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি আমলে নিয়ে সোমবার রায়নার অব্যাহতিপত্রে সই করেন রফিকুল ইসলাম তালুকদার।

অব্যাহতি দেয়ার তারিখ ১৮ অক্টোবর ধরে ওই দিন থেকেই পদটি শূন্য ধরা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

এরপরপই ফেসবুকে কিশোরগঞ্জ জেলাভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয় সমালোচনা। এই অনিয়মের জন্য জেলা এবং উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়ী করে মন্তব্য করেন অনেকে।

রায়না ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যে স্নাতক শেষ করে এখন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন। তিনি ২০১৬ সালে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০১৪-২০১৫ সেশনে।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ২০১৬ সালে রায়না স্কুলে যোগ দিয়ে তিন মাস নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন। এরপর স্কুলে যাননি টানা তিন বছর। ২০২০ সালের মার্চে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে ছয় মাস মাঝেমধ্যে আসতেন। করোনা শুরু হলে অন্য শিক্ষকরা স্কুলে এলেও তিনি আসেননি এক দিনের জন্যও।

স্কুলটির একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমরা সারা বছর পরিশ্রম করে যে বেতন পাই, রায়না তার কিছুই না করেও একই বেতন পাচ্ছেন।

‘রায়না সরকারি চাকরি করে কর্মস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার বিষয়টি গোপন করেছেন, আবার অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েও চাকরির ব্যাপারটা গোপন করেছেন। তিনি একসঙ্গে দুটি অপরাধ করেছেন।’

রায়নার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার তথ্য সেখানে উল্লেখ করেছেন। তিনি ময়মনসিংহে বসবাস করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ছবি নিয়মিত আপডেটও করেন।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রায়নার নামও বলতে পারেনি। কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘হেই ম্যাডাম পহেলা কয়েক দিন ইস্কুলে আইছে, পরে আর আইছে না। হের লাইগ্যে হেই ম্যাডামের নামটা মনে নাই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মেহবুবা রায়না বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়। পরে তাকে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়।’

তিনি জানান, রায়না চাকরিতে যোগ দেয়ার পর তিনি বিভিন্ন মেয়াদে শুধু মেডিক্যাল ছুটি কাটিয়েছেন ২১৩ দিন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার পর ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তার কৈফিয়ত তলব করা হয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়।

এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি তদন্ত করেন৷ তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি জানান, রায়না ওয়ার্কশিট বিতরণ ও মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগসংক্রান্ত কোনো কাজেও অংশগ্রহণ করেননি৷ তাকে প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জানালেও তিনি গুরুত্ব দেননি।

পরে রায়নার বেতন বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন মফিজুল ইসলাম। আর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মেহবুবা রায়নাকে শোকজ করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এর জবাব দেন রায়না। কিন্তু জবাব সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় রায়নার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ফাইলটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে রায়নার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। পরে মেসেজ দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তার হোয়াটস অ্যাপ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার বার্তা পাঠানোর পর তিনি নিউজবাংলার প্রতিবেদককে ব্লক করে দেন।

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের
হাইকোর্টে জামিন পেলেন ঝুমন দাস
ঝুমন দাসের অপরাধ কী
ঝুমনকে মুক্তি না দিলে আন্দোলন, ঘোষণা ছাত্রলীগ নেতাদের
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন