ভারতে আরও ইলিশ রপ্তানির অনুমতি

ভারতে আরও ইলিশ রপ্তানির অনুমতি

দুই দফায় মোট ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে গত সোমবার ২ হাজার ৮০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়া হয়।

প্রথম দফা অনুমোদনের মাত্র চার দিনের মাথায় আরও ৬৩ প্রতিষ্ঠানকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয় দফায় অনুমতি মিলেছে ২ হাজার ৫২০ টন ইলিশ রপ্তানির। অনুমোদিত রপ্তানিকারকদের প্রত্যেকে ৪০ টন করে ইলিশ রপ্তানি করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দ্বিতীয় দফায় ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, অনুমতির মেয়াদ কার্যকর থাকবে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। এর ফলে দুই দফায় মোট ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে গত সোমবার ২ হাজার ৮০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়া হয়।

তবে ইলিশ রপ্তানির ক্ষেত্রে আগের মতোই ছয়টি শর্ত রপ্তানিকারকদের মেনে চলতে হবে। শর্তগুলো হচ্ছে, বিদ্যমান রপ্তানি নীতি ২০১৮-২১ এর বিধিবিধান মানতে হবে; শুল্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রপ্তানি করা ইলিশের কায়িক পরীক্ষা করাতে হবে; প্রতিটি চালান (কনসাইনমেন্ট) শেষে রপ্তানিসংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিল করতে হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে; অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ইলিশ রপ্তানি করা যাবে না, অনুমতির মেয়াদ কার্যকর থাকবে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত; অনুমতি কোনোভাবে হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং অনুমোদিত রপ্তানিকারক ছাড়া ঠিকায় (সাব-কন্ট্রাক্ট) রপ্তানি করা যাবে না।

দেশের বাজারে ইলিশের জোগান কম থাকার কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ইলিশ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এরপর গত ৯ বছরে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।

বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮৬ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে মেঘনা ও পদ্মায় বর্ষাশেষে ধরা পড়া ইলিশ খুবই সুস্বাদু বলে মনে করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশের কদর বেশি।

বাংলাদেশে পোনা ইলিশ বা জাটকা ধরার ওপর বিধিনিষেধ আরোপসহ নানান উদ্যোগের কারণে গত দেড় দশকে ইলিশের উৎপাদন অনেক বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের ইলিশে খুশির জোয়ার পশ্চিমবঙ্গে
রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের
মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
ইলিশ শিকার বন্ধ ২২ দিন
ইলিশের প্রথম চালান যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সুবিধাবঞ্চিতদের উন্নয়নে ব্র্যাক পাচ্ছে ৫ কোটি ডলার

সুবিধাবঞ্চিতদের উন্নয়নে ব্র্যাক পাচ্ছে ৫ কোটি ডলার

কোনও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি ঋণ দেয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। এখন থেকে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে ব্র্যাক ও এফএমও।

ক্ষুদ্র অর্থায়নের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিতদের উন্নয়নে নেদারল্যান্ডের বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ব্যাংক এফএমও থেকে ৫ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা পাচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

কোনও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি ঋণ দেয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। এখন থেকে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে ব্র্যাক ও এফএমও।

মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঋণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে ব্র্যাক।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউয়েন ও ফার্স্ট সেক্রেটারি বাস ব্লাউ, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার তুষার ভৌমিক, ব্র্যাকের কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মৌটুসী কবীর, মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রামের চিফ অপারেটিং অফিসার সাহেদ শামস আজাদ, আরএসএ ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান কে মাহমুদ সাত্তারসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এফএমও-র পক্ষে ভার্চুয়ালি অংশ নেন চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার হুইব-জ্যান ডি রুইজটার, ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন্স বিভাগের পরিচালক মারনিক্স মন্সফোর্ট, সিনিয়র পোর্টফোলিও অ্যানালিস্ট অ্যাডিনা গিলার্দিয়া।

নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউয়েন বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়নে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কাজ করেছে এবং এই যাত্রায় ব্র্যাক দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যেখাতে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে চমৎকার অবদান রেখেছে। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সবচেয়ে দীর্ঘ। এই অংশিদারিত্ব ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করবে। লক্ষাধিক মানুষ দারিদ্রতা থেকে বেরিয়ে আসবে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের ইলিশে খুশির জোয়ার পশ্চিমবঙ্গে
রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের
মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
ইলিশ শিকার বন্ধ ২২ দিন
ইলিশের প্রথম চালান যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি

সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সময় লাগবে না। তিনি দেশ ও জনগনের ভাগ্য উন্নয়নে রাজনীতি করেন। আর রাজনীতিকে যারা ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে নেয়, তারা ভয়াবহ। এতে রাজনীতি থাকে না, ব্যবসাও হয় না।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানা খুলে দেয়ায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। কিন্তু সে সিদ্ধান্তের সুফল পাচ্ছে দেশ। রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে তৈরী পোশাক খাত। সরকারের সঠিক সিদ্ধান্তে করোনাতে সচল ছিল অর্থনীতি। যার ফলে শিল্প বাণিজ্যসহ সার্বিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ।

রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার এক সভায় এসব বিষয় তুলে ধরেন আলোচকরা।

আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজন করেছিল ‘করোনাকালীন শিল্প ও বাণিজ্য উন্নয়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা।

সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মহামারিতে সচল অর্থনীতি
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সময় লাগবে না। তিনি দেশ ও জনগনের ভাগ্য উন্নয়নে রাজনীতি করেন। আর রাজনীতিকে যারা ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে নেয়, তারা ভয়াবহ। এতে রাজনীতি থাকে না, ব্যবসাও হয় না।

‘করোনাকালে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া পদক্ষেপ ও কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে। শুধু বর্তমান নিয়ে নয়, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ায় কাজ করছেন তিনি।’

কাদের বলেন, ‘দেশে উন্নয়নকাজ চলছে, তাতে মানুষের সাময়িক সমস্যা হলেও ফলাফল হবে জনবান্ধব। আগামী বর্ষার আগেই জনদুর্ভোগ শেষ হবে। সীমান্তসহ দেশব্যাপী যোগাযোগ খাতের যুগান্তকারী উন্নয়ন হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দীন আহমদের সভাপত্বিতে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এছাড়াও এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচকরা বলেন, ‘করোনার মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থবির না হয়, সে জন্য ঘোষণা করা হয় প্রণোদনা প্যাকেজ। খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

‘সব শিল্পমালিক, ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিপর্যায়ে নিজ নিজ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সবসময় সহায়তা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘করোনায় শত সমালোচনার পরেও পোশাক শিল্পের পাশে ছিলেন শেখ হাসিনা। যার ফলে এই শিল্প আজ রের্কড গড়তে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপের কারণে এ শিল্পে মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে। কারণ, একবার বাজার হারালে সেটা ফিরে পাওয়া কঠিন ছিল।’

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘করোনায় সব দেশে যখন হিমশিম অবস্থা, তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখতে দূরদর্শী মতামত দিয়েছেন। অল্প সময়ে জনগণের আস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন। ব্যবসা খাতে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হলেও প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে নতুন জীবনীশক্তি তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী, মালিক, শ্রমিক সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে জীবন-জীবিকার চাকা আবার ঘুরতে শুরু করেছে।’

শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘মানুষের জীবন-জীবিকায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়আয় প্রধানমন্ত্রী তিন বছর মেয়াদি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতা বাড়ানো, বাজারে ব্যাপক টাকার সরবরাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষিতে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন গবেষণায় তিনি বিনিয়োগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে আমরা সহজেই মহামারি মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।’

মো. জসিম উদ্দিন বলেন,‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় করোনাতে কোনো কার্যক্রম থেমে থাকেনি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে জুম মিটিং করে সমস্যা সমাধান করা গেছে। আমাদের এগিয়ে যেতে এখন বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। ১০০ অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগ পলিসি করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের ইলিশে খুশির জোয়ার পশ্চিমবঙ্গে
রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের
মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
ইলিশ শিকার বন্ধ ২২ দিন
ইলিশের প্রথম চালান যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

ইউরোপের বাণিজ্য সুবিধায় সমস্যা হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

ইউরোপের বাণিজ্য সুবিধায় সমস্যা হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

টিপু মুনশি

টিপু মুনশি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সকল বিধি-বিধান মেনেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে এবং সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ তথা এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বুধবার বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ইনভেষ্টমেন্ট সামিট-২০২১ এর ‘ইকোনমিক টাই অফ বাংলাদেশ অ্যান্ড ইউরোপ: নিউ রেগুলেটরি রিজুম’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য দেন।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। বর্তমানে দেশের ৯৭ ভাগ রপ্তানি পণ্যের উপর ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন ‘এভ্রিথিং বাট আর্মস স্কিম’ (ইবিএ)-এর আওতায় জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু উত্তরণের পর বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে। সেক্ষেত্রে ইইউ-এর দেয়া বাণিজ্য সুবিধা বহাল রাখার বিষয়ে জোর সংশয় তৈরি হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ইনভেষ্টমেন্ট সামিট-২০২১ এর ভার্চুয়াল সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘ইইউ থেকে বাণিজ্য সুবিধা পেতে কোনো সমস্যা হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা অব্যাহত রেখেছে সরকার, যাতে বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সকল বিধি-বিধান মেনেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে এবং সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ইইউ সহ দাতাদেশগুলোর চাওয়া অনুযায়ী, বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করে সময়োপযোগী করেছে। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করেছে। কর্মবান্ধব পরিবেশও সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকরা এখন গ্রিন ফ্যাক্টরিতে কাজ করছে। বিশ্বের সেরা ও সর্বোচ্চ গ্রিন ফ্যাক্টরির তালিকায়ও রয়েছে বাংলাদেশের নাম। এতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। এ প্রচেষ্টা প্রতিনিয়ত অব্যাহত রয়েছে। যা বাংলাদেশকে ইইউসহ অন্যান্য দেশ থেকে বাণিজ্য সুবিধা পেতে সহায়তা করবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাাংলাদেশ রপ্তানি বাণিজ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি গ্রাজুয়েশন করে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। এই গ্রাজুয়েশনের পরও তিন বছর অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ডিউটি ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে ইতিমধ্যে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যা বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী বাণিজ্যকে মসৃণ করবে।’

টিপু মুনশি দাবি করেন, অনেক অর্জন হলেও দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে অসত্য তথ্য সরবরাহ ও অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তবে এক্ষেত্রে বেসরকারি ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।’

দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল এবং বাণিজ্যের প্রকৃত চিত্র দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং চেম্বারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। বিষয়ের উপর বক্তব্য রাখেন বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রুবানা হক, গ্রামীণ ফোন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ইয়াসিন আজমান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাছের ইজাজ বিজয়, ইউনিলিভার বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার এবং ইয়ন গ্রুপ অফ ইন্ডাষ্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন ইউডি দৌলা।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের ইলিশে খুশির জোয়ার পশ্চিমবঙ্গে
রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের
মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
ইলিশ শিকার বন্ধ ২২ দিন
ইলিশের প্রথম চালান যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

শিক্ষার খরচ আরও ৬ মাস পাঠানো যাবে অনলাইনে

শিক্ষার খরচ আরও ৬ মাস পাঠানো যাবে অনলাইনে

আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার টিউশন ফি পাঠাতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

অনলাইনে বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ পরিশোধের সময় আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার টিউশন ফি পাঠাতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে এখনো অনেক দেশের সরকার ভ্রমণ বন্ধ রাখায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অনেকেই অনলাইনে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার জন্য আরও দুই সেমিস্টার বা সেশনের ফি বিদেশে পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রায় অনলাইনে বিদেশে পড়ালেখার ফি পরিশোধের সময় ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হলো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আমাদের অবহিত করেছিলেন যে, বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া অনেক ছাত্র করোনার কারণে বিদেশে যেতে পারছেন না। ফলে তারা দেশে থেকে অনলাইনের মাধ্যমে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আরও দুটি সেমিস্টার বা সেশনের ব্যয়নির্বাহের সুবিধা প্রদান পাঠ-কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে বিবেচনা করে-এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর গত বছরের আগস্ট মাসে দুটি সেমিস্টার বা সেশনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠানোর অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, যা চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ ছিল। এরপর আরও দুটি সেমিস্টার বা সেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ফি বাবদ অর্থ গত ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠানোর সুযোগ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের ইলিশে খুশির জোয়ার পশ্চিমবঙ্গে
রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের
মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
ইলিশ শিকার বন্ধ ২২ দিন
ইলিশের প্রথম চালান যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ১৭০০ কোটি টাকা

কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ১৭০০ কোটি টাকা

বিশ্বব্যাংক বলেছে, এই প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ক্ষুদ্র যুব উদ্যোক্তাকে সহায়তা দেয়া হবে। কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এদের কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, যাতে সবাই আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেন। এসব সেবা দিতে ৩২ জেলায় কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাঁচ বছর গ্রেস সময়সীমাসহ ৩০ বছরে বাংলাদেশ সরকারকে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্বল্প আয়ের শহরের যুব উদ্যোক্তা ও বিদেশফেরত শ্রমিকদের সহায়তায় ২০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে ওয়াশিংটনভিত্তিক বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের বোর্ডসভায় গত মার্চে এই ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের পর বুধবার ঢাকায় চুক্তি সই হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে সংশ্লিষ্ট সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি মার্সি টেম্বন ঋণচুক্তিতে সই করেন।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে এই ঋণ পাবে মূলত করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত যুবসমাজ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও বিদেশফেরত ব্যক্তিরা।

বিশ্বব্যাংকের এ ঋণ আসবে ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সডমেন্ট অফ ইনফরমাল সেক্টর ইম্পলয়মেন্ট’ প্রকল্পের আওতায়। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের যুব সম্প্রদায় এবং বিদেশফেরত অভিবাসী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, করোনা সংকটে দেশের অর্থনীতি পিছিয়ে পড়ে। যা কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে চাকরি হারিয়ে বিদেশ থেকেও অনেকে দেশে ফিরে আসেন। সেই অবস্থা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই কর্মসংস্থান তৈরিতে এ ঋণ দেয়া হচ্ছে।

ঋণের ২০ কোটি ডলারের মধ্যে ১৫ কোটি ডলার বিতরণ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতাধীন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন। ৫ কোটি ডলার খরচ করবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।

পিকেএসএফের ঋণ সহায়তা পাবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শহরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের স্বল্পশিক্ষিত যুব সম্প্রদায় ও তরুণ উদ্যোক্তারা। সফলভাবে শ্রমবাজারে ঢুকতে পিকেএসএফ তাদের সঠিক তথ্য ও প্রশিক্ষণ দেবে। যুবকরা অনানুষ্ঠানিক শিক্ষানবিশ হিসেবে ‘অন দ্য জব ট্রেইনিং’-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জন, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্রঋণের সুযোগ পাবে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বিদেশফেরত শ্রমিকদের নিয়ে দুই ধরনের কাজ করবে। একদিকে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি জন্য তাদের ভেতর থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি এবং বিভিন্ন সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে স্থানীয় শ্রমবাজারে ঢুকতে সহায়তা করবে। আবার নির্দিষ্ট দক্ষতা বাড়িয়ে বিদেশের শ্রমবাজারে ফের অন্তর্ভুক্তিতে সহায়তা করা হবে।

পাঁচ বছর গ্রেস সময়সীমাসহ ৩০ বছরে বাংলাদেশ সরকারকে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে পাঁচ বছর শুধু ঋণের মূল টাকা পরিশোধ করতে হবে। তারপর থেকে সুদ ও আসল দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, এই প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ক্ষুদ্র যুব উদ্যোক্তাকে সহায়তা দেয়া হবে। কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এদের কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, যাতে সবাই আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেন। এসব সেবা দিতে ৩২ জেলায় কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, করোনার প্রাদুর্ভাবে বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। এই প্রকল্পের আওতায় তাদেরও সহায়তা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের ইলিশে খুশির জোয়ার পশ্চিমবঙ্গে
রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের
মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
ইলিশ শিকার বন্ধ ২২ দিন
ইলিশের প্রথম চালান যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

ধনকুবেরদের জন্য পৃথক করনীতির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ধনকুবেরদের জন্য পৃথক করনীতির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সাম্প্রতিক ছবি

পরিকল্পনা গৃহীত হলে ২০২২ অর্থবছরে কার্যকর হতে পারে নতুন এ করনীতি। এটি প্রভাব ফেলবে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তির অধিকারী প্রায় ৭০০ করদাতার ওপর। টানা তিন বছর বার্ষিক আয় ১০ কোটি ডলার যাদের, তাদের ওপরেও প্রযোজ্য হবে এ নীতি। বাইডেন প্রশাসের এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।

নিজেদের সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত অপ্রত্যাশিত বেশি লাভের জন্য আলাদাভাবে কর দিতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবেরদের। দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে এমনই একই করনীতি প্রকাশ করা হয়েছে।

এ কর নীতিমালার আওতায় প্রাপ্ত অর্থ সমাজকল্যাণ, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে খরচ করা হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সিনেটে করনীতিবিষয়ক শীর্ষ ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও সিনেট ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান রন ওয়াইডেন বুধবার এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন।

পরিকল্পনাধীন নীতিটিকে আমেরিকানরা বলছে ‘বিলিয়নিয়ার্স ট্যাক্স’। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ন্যূনতম করপোরেট ট্যাক্স ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

গৃহীত হলে ২০২২ অর্থবছরে কার্যকর হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ করনীতি। এটি প্রভাব ফেলবে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তির অধিকারী প্রায় ৭০০ করদাতার ওপর। টানা তিন বছর বার্ষিক আয় ১০ কোটি ডলার যাদের, তাদের ওপরেও প্রযোজ্য হবে এ নীতি।

ওয়াইডেন ও ডেমোক্রেটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ অন্য আইনপ্রণেতারা বলছেন, এ নীতিমালা কার্যকর হলে বড় ও ধনী প্রতিষ্ঠানগুলোর করফাঁকি দেয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থানও হবে।

বাইডেনের ‘বিল্ড ব্যাক বেটার’ পরিকল্পনার খরচ দেড় থেকে দুই ট্রিলিয়ন ডলার।

সম্প্রতি ন্যূনতম করপোরেট ট্যাক্স নির্ধারণের নীতি গ্রহণে সম্মত হয়েছে ১৩৬টি দেশ। আন্তর্জাতিক করনীতির ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে যেসব বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কম বা একেবারেই কর দেয় না, তাদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আনতে নেয়া হয় এ সিদ্ধান্ত।

বাইডেন প্রশাসের এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বিদ্যুৎচালিত গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী তিনি। চলতি মাসে মাস্কের সম্পত্তির মূল্য ২৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

বাইডেন সরকারকে ব্যাঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে মাস্ক লিখেছেন, ‘অন্যদের পয়সা ফুরিয়ে ফেলবে তারা। তারপর আপনার পেছনে দৌড়াতে শুরু করবে।’

তবে সব ধনকুবের এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন না। সমর্থন জানিয়েছেন বিনিয়োগকারী ও উদারপন্থি কর্মী জর্জ সরোস।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের ইলিশে খুশির জোয়ার পশ্চিমবঙ্গে
রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের
মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
ইলিশ শিকার বন্ধ ২২ দিন
ইলিশের প্রথম চালান যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

ই-কমার্স আইন থেকে সরে আসছে সরকার?

ই-কমার্স আইন থেকে সরে আসছে সরকার?

বিভিন্ন গ্রুপের বিরূপ মনোভাবের কারণে আগের দৃঢ় অবস্থান থেকে পিছু হটেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর পরিবর্তে ডিজিটাল ই-কমার্স পরিচালনায় দেশে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালায় কিছু সংযোজন-বিয়োজনের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনতে নতুন আইন তৈরির উদ্যোগ থেকে সরে আসছে সরকার। সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত আইন প্রণয়নের বিষয়ে খোদ সরকারের নীতিনির্ধারণী স্তরেই সিদ্ধান্তহীনতা দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া খাতসংশ্লিষ্টদেরও আছে ঘোর বিরোধিতা। আইন করার পক্ষে নন ব্যবসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইনজীবীরাও। বিভিন্ন গ্রুপের বিরূপ মনোভাবের কারণে আগের দৃঢ় অবস্থান থেকে পিছু হটেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর পরিবর্তে ডিজিটাল ই-কমার্স পরিচালনায় দেশে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালায় কিছু সংযোজন-বিয়োজনের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট ২০১৩, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, প্রতিযোগিতা কমিশন আইন ২০১২ এবং কোম্পানি নিবন্ধন আইন (সংশোধন) ২০২০-সহ খাত সম্পৃক্ত আরও কিছু আইন।

একইভাবে ডিজিটাল ই-কমার্স পরিচালনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের বিষয়েও টানাপোড়েন চলছে। কর্তৃপক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও এখন বিষয়টি খুব একটা এগোচ্ছে না। এর পরিবর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান ডিজিটাল কমার্স সেল, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রতিযোগিতা কমিশনকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর ই-কমার্স খাতে প্রতারণা রোধ ও খাতটিকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্র, আইন, তথ্য ও বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈঠকে ডিজিটাল ই-কমার্স আইন তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ জানান, সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠু পরিচালনায় একটি আলাদা নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বা রেগুলেটরি বডি গঠন করা হবে। ভবিষ্যৎ প্রতারণা বন্ধে এবং প্রতারণা সংঘটিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিজিটাল ই-কমার্স অ্যাক্ট নামে একটি স্বতন্ত্র আইন করা হবে।

পরে সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ১৬ সদস্যের একটি আইন প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। একই দিনে গঠন করা হয় কারিগরি কমিটি। এ ছাড়া পৃথকভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানেও আরেকটি কমিটি গঠিত হয়।

ইতিমধ্যে সব কটি কমিটির একটি করে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইন প্রণয়ন কমিটি আবার তাদের প্রথম বৈঠকে আইনি দিক পর্যালোচনার জন্য ৯ সদস্যের সাবকমিটিও গঠন করে। তাদের এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে পৃথক কোনো আইন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের দরকার আছে কি না, এসব কমিটি এখন যার যার অবস্থান থেকে খতিয়ে দেখছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছিল আইন করা হবে যদি আইনের প্রয়োজন হয়। পুরোনো আইন দিয়ে যদি চলে, তাহলে তো আর নতুন আইনের দরকার নেই। আমরা চেক করে দেখছি, যদি পুরোনো আইনের সঙ্গে কোনো কিছু যোগ করতে হয়, সেটি করা যাবে। এই হলো কথা।’

টিপু মুনশি আরও বলেন, ‘আইন করার জন্য তো আইন নয়। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আইন করব। এখন পুরোনো আইনের ভেরিফিকেশন চলছে। সব রকম কাজ চলছে। যদি মনে হয় এ আইনের সঙ্গে আরও কিছু বিধিনিষেধ দিয়ে যোগ দিলে হবে, তাহলে তো সেটি করাই ভালো।’

ডিজিটাল কমার্স প্রধান ও আইন প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি অনুবিভাগ) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইনি দিকটি দেখার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি হয়েছে। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আরও একটি বড় কমিটি গঠন করেছে। কমিটিগুলো এখন কাজ করছে। যাদের জন্য আইন হবে, তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এখনও তো ফাইনাল হয়নি। এসব আলোচনা ও মতামতের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আমরা আগামী ১২ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দেব। সেখান থেকেই করণীয়-সংক্রান্ত মূল নির্দেশনা আমাদের কাছে আসবে।’

সফিকুজ্জামান বলেন, ‘এখন যদি আমাদের বিভিন্ন অংশীজন বলেন, পুরোনো আইন দিয়েই ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা যাবে, তাহলে তো নতুন আইনের দরকার নেই। তবে কোনো কিছুই এখনও ফাইনাল নয়। ১২ নভেম্বরের পর সব জানা যাবে।’

নতুন আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ‌‘না’

গত সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তিন মন্ত্রী (বাণিজ্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি) এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের উপস্থিতিতে ই-কমার্সের সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক হয়।

ওই বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, ‘ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আইনের পক্ষপাতী নন তিনি। বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও বিধিমালাতেই খাতটিতে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ই-কমার্স একটি সম্ভাবনাময় খাত। একে কোনো আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ দিয়ে বাধা যাবে না। দেশে কোনো ইনোভেটিভ বা ক্রিয়েটিভ অথবা ডিজিটাল ইকোনমি গড়ে তুলতে গেলে প্রথমেই আইন নয়। প্রথমেই রেগুলেশন নয়, প্রথমেই বাধা নয়।’

পলক আরও দাবি করেন, ‘প্রথমে হবে কৌশলপত্র। তারপর একটি নীতিমালা, তারপর আইন। তবেই দেশটা একটি ডিজিটাল বেইজড ইকোনমির দিকে আগাবে।’

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা এবং এ-বিষয়ক বিশেষজ্ঞরাও নতুন আইন ও কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন। তারা দাবি করেন, দেশে প্রচলিত বিভিন্ন আইনেই ই-কমার্স খাতে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা যায়। তাই ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আলাদা কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। এখন সরকারের উচিত প্রচলিত আইন বাস্তবায়নে নজর দেয়ার পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত দায়িত্বশীল বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মপরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া।

এ বিষয়ে দেশে ব্যবসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম বলেন, ‘যখন সংকট হয়, তখন কাউকে না কাউকে দোষ দেয়া হয়। সঙ্গে বলা হয় আইন নেই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা নেই। তখন সরকার সেদিকেই নজর দেয়। আমার বক্তব্য হচ্ছে, আইন করে যদি প্রয়োগ করা না যায়, তাহলে সে আইন দিয়ে কী হবে?’

বলেন বলেন, ‘আমার বক্তব্য স্পষ্ট। প্রচলিত আইনেই ই-কমার্স খাতে সৃষ্ট ঘটনার সমাধান রয়েছে। নতুন আইনের দরকার নেই।’

এ বিষয়ে চালডাল ডটকমের সিইও ওয়াসিম আলিম বলেন, ‘আলাদা আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলে ই-কমার্স খাতের ভবিষ্যৎ আরও কঠিন হয়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও এ খাত পরিচালনায় আলাদা কোনো সংস্থা নেই।’

বিডি জবসের সিইও ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘ই-কমার্সে শৃঙ্খলা আনতে হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে জবাবদিহি করা এখন সময়ের দাবি। প্রয়োজনে তাদের শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু দেশে নতুন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাই না।’

শপআপের চিফ অফ স্টাফ জিয়াউল হক বলেন, ‘ই-কমার্সকে যদি নজরদারি করা হয়, তাহলে নতুন আইনের প্রয়োজন হবে না।’

ইলেকট্রনিক কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘ই-কমার্স খাতে সৃষ্ট ঘটনায় দায়িত্বশীল বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কিংবা প্রতিযোগিতা কমিশন- এদের সবারই কিছু না কিছু দায় আছে। কারণ এদের প্রত্যেকের মধ্যেই সমন্বয়হীনতা রয়েছে। দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো সৃষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে যার যার কার্যকর রেসপন্স দেখালে নতুন কিছুরই আর প্রয়োজন হয় না।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের ইলিশে খুশির জোয়ার পশ্চিমবঙ্গে
রপ্তানির খবরে দাম বাড়ল ইলিশের
মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
ইলিশ শিকার বন্ধ ২২ দিন
ইলিশের প্রথম চালান যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন