শেখ হাসিনার জন্মদিনে যুবলীগের বৃক্ষরোপণ

শেখ হাসিনার জন্মদিনে যুবলীগের বৃক্ষরোপণ

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভাটারায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। ছবি: ফেসবুক

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের যে হুমকি সারা বিশ্বে, সে বিষয়ে সজাগ থেকে সেটা প্রতিরোধ করার জন্য আমরা এই ভূমিকা রাখতে চাই, যাতে নতুন প্রজন্ম একটা সুষ্ঠু পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের উদ্যোগে ভাটারায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এক বিবৃতিতে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের যে হুমকি সারা বিশ্বে, সে বিষয়ে সজাগ থেকে সেটা প্রতিরোধ করার জন্য আমরা এই ভূমিকা রাখতে চাই, যাতে নতুন প্রজন্ম একটা সুষ্ঠু পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।’

যুব সমাজকে গাছের সঠিক পরিচর্যা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের যুবসমাজ এই কর্মসূচির দ্বারা অনুপ্রাণিত হবে। শুধু গাছ লাগালেই চলবে না, গাছের সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘বিএনপি-জামাত চক্র ক্ষমতায় আসার জন্য দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সততাই শক্তি, মানবতায় মুক্তি- রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার এই মন্ত্রকে ধারণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের নেতারা বিএনপি-জামাতের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব জাকির হোসেন বাবুল সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি জোদ্দার, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শামসুল আলম অনিক, উপ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকতসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
ঝালকাঠিতে অর্ধশতাব্দী পর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আশা
৩০ নভেম্বরের মধ্যে নীলফামারী যুবলীগের সম্মেলন
নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা মঙ্গলবার
পদ না পাওয়ার বিরোধে যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টা
যুবলীগে নেতৃত্ব দিতে তৃণমূলে কাজ করতে হবে: বদি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফরিদপুরের চর-ঝাউকান্দা ইউপি নির্বাচন স্থগিত

ফরিদপুরের চর-ঝাউকান্দা ইউপি নির্বাচন স্থগিত

নির্বাচন স্থগিতের পর সীমানা ও ওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের আগেই নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত।

সীমানা নির্ধারণে জটিলতা থাকায় ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চর-ঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে সীমানা ও ওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের আগেই নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের পর সোমবার বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

সীমানা নির্ধারণে জটিলতার অভিযোগ তুলে চর-ঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন মৃধা রিট করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু, তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার গালিব আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।

আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম বলেন, ‘চর-ঝাউকান্দা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটি ওয়ার্ড গত বন্যায় পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সে কারণে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন বিদ্যমান ওয়ার্ড এবং ভোটার এলাকার সীমানা নির্ধারণ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

‘যার ফলে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার এলাকা পুনর্গঠনের জন্য সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। সে সীমানা নির্ধারণের কাজে কর্মকর্তারা গত ১৮ আগস্ট নতুন করে একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়নি। সে মতে কোনো গেজেটও প্রকাশিত হয়নি।’

নতুন করে ওয়ার্ড পুনর্গঠন ও ভোটার এলাকা নির্ধারণের আগে এ ধরনের নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা আইনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
ঝালকাঠিতে অর্ধশতাব্দী পর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আশা
৩০ নভেম্বরের মধ্যে নীলফামারী যুবলীগের সম্মেলন
নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা মঙ্গলবার
পদ না পাওয়ার বিরোধে যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টা
যুবলীগে নেতৃত্ব দিতে তৃণমূলে কাজ করতে হবে: বদি

শেয়ার করুন

জামায়াত নিষিদ্ধ হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন ইনুর

জামায়াত নিষিদ্ধ হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন ইনুর

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাসদ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় ক্ষমতাসীন ১৪ দলের নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

ইনু বলেন, ‘জামায়াত দেশে বারবার সশস্ত্র ও জঙ্গিবাদী আক্রমণ চালিয়েছে। এরপরেও জামায়াতকে কেন এখনও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না? জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

তিনি বলেছেন, ‘জামায়াত দেশে বারবার সশস্ত্র ও জঙ্গিবাদী আক্রমণ চালিয়েছে। এরপরেও জামায়াতকে কেন এখনও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না? জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাসদ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস: রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইনু বলেন, ‘এ লড়াইটা আমাদের কারও একার লড়াই না। এটা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই।’

১৪ দলের আরেক শরিক তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘সরকারের এত শক্তি থাকতে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা যাচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্ন তো আসতেই পারে।’

সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেটের একজন হিন্দু ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে। এটার জন্য তো দেশের স্বাধীনতা আসেনি। আমি প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি সরকারের কাছে, উত্তর তো সরকারের কাছেই।’

নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘শেখ হাসিনাই পারেন আমাদের ৭২-এর সংবিধানে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। নাহলে আর কোনো দিন তা হবে না। একমাত্র আওয়ামী লীগ চাইলেই এটা সম্ভব, না হলে সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সুফি মতবাদের যারা আলেম-ওলামা আছেন, তাদের সরকারের কাছে অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি নেয়ার সময় রাত ৮-৯টা পর্যন্ত লিখে দেয়া হয়। হেফাজতের কাউকে কিংবা জামায়াতের যে আলেমরা আছেন, তাদের তো এ অনুমতি নিতে হয় না। সারা রাত তারা মাহফিল করতে পারেন।’

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, সাম্প্রদায়িক হামলার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দর্শনে আক্রমণ করে জনগণের মধ্যে বিভক্তি নিয়ে আসতে চাইছে।’

৭২-এর সংবিধানের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করে সাম্প্রদায়িক দর্শন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা দরকার বলে মত দেন তিনি।

আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। এ ছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

আরও পড়ুন:
ঝালকাঠিতে অর্ধশতাব্দী পর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আশা
৩০ নভেম্বরের মধ্যে নীলফামারী যুবলীগের সম্মেলন
নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা মঙ্গলবার
পদ না পাওয়ার বিরোধে যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টা
যুবলীগে নেতৃত্ব দিতে তৃণমূলে কাজ করতে হবে: বদি

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন: ফখরুল

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন: ফখরুল

বিএনপির চেয়ারপারসন কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

মির্জা ফখরুল বলেন বলেন, ‘ম্যাডাম বিপদমুক্ত। যতগুলো পুরনো ডিজিজ তার আছে, এ জন্য তার মাল্টি অ্যাডভান্স সেন্টারে চিকিৎসা প্রয়োজন। আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে এই ব্যবস্থা নেই। এটা আমরা বারবার বলে আসছি।’

বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার বিষয়ে তার মেডিক্যাল বোর্ড পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দলটির চেয়ারপারসন কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম বিপদমুক্ত। যতগুলো পুরনো ডিজিজ তার আছে, এ জন্য তার মাল্টি অ্যাডভান্স সেন্টারে চিকিৎসা প্রয়োজন। আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে এই ব্যবস্থা নেই। এটা আমরা বারবার বলে আসছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তার মুক্তিতে আইনগত বাধা আছে বলে মনে করি না। কেন তিনি জামিন পাবেন না? জামিন তার প্রাপ্য, এটা অধিকার, দয়া নয়। জামিন পাওয়াটা তার অধিকার। অবিলম্বে তার বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার দরকার।’

এর আগে সোমবার সকালে বেগম জিয়ার চিকিৎসা-কার্যক্রমে যুক্ত একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক ‘প্যারামিটারগুলো’ ওঠা-নামা করছে। এ বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন। সোমবার মেডিক্যাল বোর্ড তার সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।

গত মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিকালে শারীরিক অবস্থার ফলোআপ করাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরদিন থেকে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) থেকে ব্যবস্থাপত্র দিতে শুরু করেছেন চিকিৎসকেরা।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দলের সদস্য ডা. আল মামুন, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ঝালকাঠিতে অর্ধশতাব্দী পর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আশা
৩০ নভেম্বরের মধ্যে নীলফামারী যুবলীগের সম্মেলন
নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা মঙ্গলবার
পদ না পাওয়ার বিরোধে যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টা
যুবলীগে নেতৃত্ব দিতে তৃণমূলে কাজ করতে হবে: বদি

শেয়ার করুন

বায়োপসি হয়েছে খালেদার

বায়োপসি হয়েছে খালেদার

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বায়োপসি হয়েছে খালেদা জিয়ার। ফাইল ছবি

রোগ শনাক্তের অংশ হিসেবে দেহের কোনো অংশ থেকে টিস্যু নেয়াকে বায়োপসি বলা হয়। এ প্রক্রিয়ায় সুচের সাহয্যে ছোট্ট নমুনা টিস্যু সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। শরীরে সন্দেহজনক কোনো পিণ্ড বা টিউমারে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিতে বায়োপসি করা হয়ে থাকে।

রাজধানী এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বায়োপসি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক দলের সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার বিকেলে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ের প্রেস উইং সূত্র জানিয়েছিল, সোমবার দুপুরে খালেদা জিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট্ট একটি অপারেশন হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসকরা দেখলেন, উনার একটা বায়োপসি করা দরকার। ছোট একটা লাম্প (পিণ্ড) আছে এক জায়গায়। যেহেতু লাম্প আছে, তার নেচার অফ ভিউ জানার জন্য লাম্পে বায়োপসি করা হয়েছে।

‘অপারেশনের পরে বেগম জিয়া সুস্থ আছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। এখন তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তিনি সব ধরনের বিপদমুক্ত।’

বায়োপসির পর ফল পেতে কেমন সময় লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদ বলেন, ‘এটা ৭২ ঘণ্টাও লাগতে পারে। এ ধরনের অপারেশনের পর কখনো কখনো ১৫ থেকে ২১ দিনও সময় লাগে। আমেরিকার মতো জায়গায়ও এমন হয়। ফলে আজকেই বলা যাবে না নেচার অফ অরিজিন কী।’

ডা. জাহিদ বলেন, ‘বায়োপসি করার পরিপ্রেক্ষিতে রেজাল্ট পেতে সময় লাগে। উনি সুস্থ আছেন।’

এ চিকিৎসক বলেন, ‘অপারেশনের পর বেগম জিয়ার ভাইটাল প্যারামিটারগুলো স্ট্যাবল (স্থিতিশীল) আছে। এখন তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। বায়োপসি ডায়াগনস্টিক পার্ট। পরের চিকিৎসা কী হবে, সেটা ঠিক হবে পরে।’

দেশের বাইরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, ‘ডেডিকেটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসার প্রয়োজন আছে। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং দেশের বাইরে চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। সবাই যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন।’

এক সাংবাদিক লাম্পটা কোন জায়গায় জানতে চাইলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ডা. জাহিদ।

তিনি বলেন, ‘আপনি এ রকমভাবে কথা বলেন কেন? আমি বলেছি একটা ছোট লাম্প আছে। সেটার জন্য বায়োপসি করতে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে। আর কিছু না।’

ওই সময় পাশে থাকা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে শান্ত করে দিয়ে মাইক নিয়ে বলেন, ‘আপনারা মোরালিটির জায়গাটা দেখেন; এথিকসটা দেখেন। সে ব্যাপারে সহযোগিতা করে আমাদের পাশে থাকেন।

‘আমরা বলেছি কতটুক কী হয়েছে। একটা পেশেন্টের প্রাইভেসি থাকে। কোথায় কী হয়েছে, সেটা বলা যায় না।’

বায়োপসি কী

রোগ শনাক্তের অংশ হিসেবে দেহের কোনো অংশ থেকে টিস্যু নেয়াকে বায়োপসি বলা হয়। এ প্রক্রিয়ায় সুচের সাহয্যে ছোট্ট নমুনা টিস্যু সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। শরীরে সন্দেহজনক কোনো পিণ্ড বা টিউমারে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিতে বায়োপসি করা হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালট্যান্ট উম্মে নাজমিন ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মূলত ক্যানসার রোগ নির্ণয় করার জন্য বায়োপসি করা হয়। এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে মানবদেহের কোষ সংগ্রহ করা হয়। তাই এই পরীক্ষা দিয়ে কোনো কোনো টিউমার ক্যানসারের জন্য দায়ী না হলেও সেগুলো সম্পর্কে জানা যায়।

‘টিবি (যক্ষ্মা) নির্ণয় করতেও বায়োপসির প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া রক্তনালিতে তৈরি টিউমার শনাক্ত করতেও বায়োপসি করা হয়।’

কোন ধরনের জটিলতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া অনেক বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে।

তারা জানান, নতুন করে খালেদার কিডনি সমস্যা বেড়েছে; রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতিও রয়েছে। এর মধ্যে আবার থেমে থেমে জ্বর আসায় একাধিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়।

জ্বর আসায় গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে টানা ৫৪ দিন একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন: ফখরুল

বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার বিষয়ে তার মেডিক্যাল বোর্ড পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলটির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ কথা জানান।

ফখরুল বলেন, ‘ম্যাডাম বিপদমুক্ত। যতগুলো পুরোনো ডিজিজ তার আছে, এ জন্য তার মাল্টি অ্যাডভান্স সেন্টারে চিকিৎসা প্রয়োজন। আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে এ ব্যবস্থা নেই। এটা আমরা বারবার বলে আসছি।’

আরও পড়ুন:
ঝালকাঠিতে অর্ধশতাব্দী পর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আশা
৩০ নভেম্বরের মধ্যে নীলফামারী যুবলীগের সম্মেলন
নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা মঙ্গলবার
পদ না পাওয়ার বিরোধে যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টা
যুবলীগে নেতৃত্ব দিতে তৃণমূলে কাজ করতে হবে: বদি

শেয়ার করুন

খালেদার বিরুদ্ধে দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩ নভেম্বর

খালেদার বিরুদ্ধে দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩ নভেম্বর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে মামলা দুটির অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ঠিক করা ছিল। তবে এদিন অসুস্থ থাকায় আদালতে আসতে পারেননি খালেদা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির তারিখ পিছিয়ে ৩ নভেম্বর ঠিক করেছে আদালত।

মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভুয়া জন্মদিন পালন এবং যুদ্ধাপরাধীদের মদত দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ওই দুটি মামলা হয়েছিল।

সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে মামলা দুটির অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ঠিক করা ছিল। তবে এদিন অসুস্থ থাকায় আদালতে আসতে পারেননি খালেদা।

এজন্য তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতে সময় আবেদন করেন। আদালত সেটি অনুমোদন করে অভিযোগ গঠন শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করেন।

২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালের ১৯ ও ২২ আগস্ট দুই জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ম্যাট্রিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর।

এতে বলা হয়, ১৯৯১ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন লেখা হয়েছিল ১৯৪৫ সাল ১৯ আগস্ট। খালেদার বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট। সর্বশেষ ২০০১ সালের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী বিএনপির এই চেয়ারপারসনের জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট।

মামলায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন মাধ্যমে তার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য তিনি ওইদিন জন্মদিন পালন করেন।

২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী ‘স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি’ ঘটানোর অভিযোগে আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
ঝালকাঠিতে অর্ধশতাব্দী পর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আশা
৩০ নভেম্বরের মধ্যে নীলফামারী যুবলীগের সম্মেলন
নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা মঙ্গলবার
পদ না পাওয়ার বিরোধে যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টা
যুবলীগে নেতৃত্ব দিতে তৃণমূলে কাজ করতে হবে: বদি

শেয়ার করুন

‘সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বিকল্প নেই’

‘সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বিকল্প নেই’

প্রেস ক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনা সভায় জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘এখনও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের উসকানি থেমে নেই। সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য গড়বার পাঁয়তারা করছে দেশের জামায়াত, বিএনপি ও তাদের সাগরেদ মৌলবাদী তাঁবেদার অপশক্তি। তাদের বিষদাঁত ভেঙে দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের আলপথ রচনায় আমাদের সঞ্জীবিত হতে হবে।’

ধর্ম বনাম রাষ্ট্র বলে লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসকে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস: রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

নানক বলেন, ‘এখনও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের উসকানি থেমে নেই। সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য গড়ার পাঁয়তারা করছে দেশের জামায়াত-বিএনপি ও তাদের সাগরেদ মৌলবাদী তাঁবেদার অপশক্তি। তাদের বিষদাঁত ভেঙে দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের আলপথ রচনায় আমাদের সঞ্জীবিত হতে হবে। ধর্ম বনাম রাষ্ট্র বলে লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসকে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আজ যে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, ধর্মীয় সহাবস্থানকে নষ্ট করছে, তাদের সমূলে উৎপাটন জরুরি হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় বিষয়ে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা আমাদের মতো অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক ঘটনা। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনার পরপরই অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেই সহিংসতাকারীরা চিহ্নিত হচ্ছে এবং তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

‘সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বিকল্প নেই। সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ হতে হবে বাংলার মুজিব আদর্শের উত্তরাধিকারদের দ্বারা, তাহলে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যে জাতি-ধর্ম-বর্ণ সম্মিলিতভাবে বেঁচে থাকার প্রয়াস সফল ও সার্থক হয়ে উঠবে।’

আলোচনায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা কেউ করিয়েছে। এটা কেউ করেনি। যারা করিয়েছে, তারা মতলববাজ লোক। তাকে আমি কোনোমতেই অপ্রকৃতিস্থ বলতে চাই না। কারণ অপ্রকৃতিস্থ বললে এদের অপরাধকে হালকা করে দেয়া হয়।’

১৪ দলীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘করোনার সময় রাজনৈতিক তৎপরতা একটু কম হয়েছিল। সুস্থ্ রাজনীতি স্তিমিত হলে তার সুযোগ নেয় অশুভ শক্তি।

তিনি বলেন, ‘এগুলো সাধারণ মানুষের ব্যাপার নয়। এগুলো দানবদের কাজ। যেমন রংপুরে তারা যেটা করেছে এটা বিকৃত উল্লাস। যারা এগুলো করেছে তারা আসলে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়।’

আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, জাসদের নেত্রী শিরিন আক্তারসহ ১৪ দলের নেতারা।

আরও পড়ুন:
ঝালকাঠিতে অর্ধশতাব্দী পর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আশা
৩০ নভেম্বরের মধ্যে নীলফামারী যুবলীগের সম্মেলন
নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা মঙ্গলবার
পদ না পাওয়ার বিরোধে যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টা
যুবলীগে নেতৃত্ব দিতে তৃণমূলে কাজ করতে হবে: বদি

শেয়ার করুন

আ. লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তারাপুরে বিক্ষোভ

আ. লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তারাপুরে বিক্ষোভ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আউলিয়া বলেন, ‘রাজাকারের ছেলের হাতে দলীয় নৌকা প্রতীক কীভাবে গেল? কারা এখানে মদদ দিলেন? সব খতিয়ে দেখা দরকার। সাইফুলরা ৮ ভাইয়ের মধ্যে ৬ জনেই জামায়াতের কর্মী-সমর্থক।’ তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আ. লীগের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাকে বিতর্কিত উল্লেখ করে প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।

ইউনিয়ন পরিষদের পাশে সোমবার দুপুরে চৈতন্যবাজারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

যারা বিক্ষোভ করেছেন তাদের অভিযোগ, প্রার্থী সাইফুল ইসলামের বাবা আজিজুল হক মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল দাবি করেছেন, তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করতেই অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি পক্ষ।

মানববন্ধনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুল হক বলেন, তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাইফুলকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। এমনকি তিনি দলের কর্মী-সমর্থকও ছিলেন না। সম্প্রতি তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসরে এসেছেন।

৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মৌলভী আজিজুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিস কমিটির চেয়ারম্যান (থানা) ছিলেন। তখন তিনি স্থানীয় ইমামগঞ্জ সিনিয়র মাদ্রাসায় প্রিন্সিপাল ছিলেন। আমি দশম শ্রেণিতে পড়তাম।

‘আজিজল হক ছিলেন পিস কমিটির সদস্য। তারা পাক বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত করে তথ্য সরবরাহ কাজে নিয়োজিত ছিল।’

এ নিয়ে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আউলিয়া বলেন, ‘রাজাকারের ছেলের হাতে দলীয় নৌকা প্রতীক কীভাবে গেল? কারা এখানে মদদ দিলেন? সব খতিয়ে দেখা দরকার। সাইফুলরা ৮ ভাইয়ের মধ্যে ৬ জনেই জামায়াতের কর্মী-সমর্থক। তাদের মধ্যে মৌলভী তারা মিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য।’

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আজমুল হোসেন পলাশ বলেন, ‘তিনবারের ইউপি চেয়ারম্যান ও তারাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ খোকাকে দলীয় নেতাকর্মীরা সমর্থন দিয়েছিলেন। সারা জীবন তিনি দলের সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন। দলীয় প্রতীক তিনিই পাওয়ার যোগ্য।’

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহালম মিয়া, শিক্ষক নাজমুল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা রিপন মিয়া ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন মিয়াসহ আরও অনেকে।

মানববন্ধনে সাইফুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান বক্তারা।

অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৯৮০ সালে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পদকের দায়িত্বে ছিলাম। সরকারি চাকরি হওয়ায় সেখানে যোগদান করি। গত বছরে অবসরে এসে আমি পুনরায় ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যোগ দেই।নেত্রী আমাকে যোগ্য প্রার্থী বিবেচনা করে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি এ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।’

তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ জামায়াত কিংবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা আওয়ামী পরিবারের সদস্য। একটি মহল আমাদের জামায়াত শিবির বানানোর পাঁয়তারা করছেন। এ ছাড়া আমার বাবা কোনো শান্তি কমিটির সদস্য কিংবা মুক্তিবাহিনীর বিপক্ষে ছিলেন না।’

আরও পড়ুন:
ঝালকাঠিতে অর্ধশতাব্দী পর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আশা
৩০ নভেম্বরের মধ্যে নীলফামারী যুবলীগের সম্মেলন
নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা মঙ্গলবার
পদ না পাওয়ার বিরোধে যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টা
যুবলীগে নেতৃত্ব দিতে তৃণমূলে কাজ করতে হবে: বদি

শেয়ার করুন