জটিল হচ্ছে গাজীপুর পরিস্থিতি, অবরোধে রেলেও বিচ্ছিন্ন ঢাকা

জটিল হচ্ছে গাজীপুর পরিস্থিতি, অবরোধে রেলেও বিচ্ছিন্ন ঢাকা

মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক অবরোধের পর এবার রেল লাইনে আগুন ধরিয়ে দেয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

সন্ধ্যার পর টঙ্গীতে আহসান উল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভারের নিচে রেলপথ অবরোধ করেন নেতা-কর্মীরা। এতে ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এবার রেলপথ অবরোধ করায় ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিয়ে নেতা-কর্মীরা যান চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় বৃহত্তর ময়মনসিংহের সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগও বন্ধ আছে। উত্তরের পথের যে যাত্রীরা এই পথ ধরে চলেন, তারাও যাওয়া-আসা করতে পারছেন না। এতে সড়কে দুই ধারে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে।

বেলা তিনটার দিকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা টঙ্গীর হোসেন মার্কেট, চেরাগ আলী, স্টেশন রোড, বোর্ড বাজারে অবরোধ করেন। তারা সড়কে শত শত টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান নিয়ে মেয়রের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

সন্ধ্যার পর টঙ্গীতে আহসান উল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভারের নিচে রেলপথ অবরোধ করেন নেতা-কর্মীরা। এতে ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

নেতা-কর্মীরা সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দাবি করে বলছেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে তারা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করবেন না।

যে ভিডিও নিয়ে এই পরিস্থিতি সেটি ছড়িয়ে পড়ার সময় মেয়র ছিলেন ভারতে। গত রাতে তিনি দেশে ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, যে ভিডিও ছড়িয়েছে, তার পুরোটাই বানোয়াট। ‘সত্যটা’ জানিয়ে তিনি বলেছেন, যারা এই ভিডিও ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

অনলাইনে যারা এখনও ভিডিওটি পোস্ট করে রেখেছেন, তাদের সেটি সরিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

মেয়রের দাবি, বঙ্গবন্ধুকে তিনি অন্তরে ধারণ করেন। তার অস্তিত্ব এবং ভালোবাসা হলেন তিনি।

গাজীপুরের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এই বানোয়াট ভিডিও ছড়ানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘যারা এই অন্যায় কাজ করছে আমি আইনের সহযোগিতা নিয়ে, যারা বিজ্ঞ আইনজীবী তাদের পরামর্শে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

ফেসবুকে যারা ভিডিওটি ছড়াচ্ছেন তাদেরকে সেটি ডিলিট করে দেয়ার পরামর্শও দেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় কয়েকশ নেতা-কর্মী নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু। এ সময় তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে আমরা রাজনীতি করি। সেই মহান নেতাকে নিয়ে সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের কুরুচিপূর্ণ ও আশালীন মন্তব্যে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার এই বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে অনতিবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।’

টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সরকার বাবু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত ৩০ লাখ শহীদকে নিয়ে অসম্মানজনক বক্তব্যের কারণে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তার স্বপদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। বঙ্গবন্ধু এবং দেশমাতৃকার প্রশ্নে এক বিন্দু ছাড় নয়।’

টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম মেয়র হওয়ার পর থেকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগকে কীভাবে ধ্বংস করা যায়, নেতা-কর্মীদের কীভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা যায় সেই অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতাকে নিয়ে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন। তাই আজকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমরা রাজপথে আন্দোলনে নেমেছি। অবিলম্বে তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাই।’

ভিডিওতে যা দেখা যায়, যা শোনা যায়

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়র জাহাঙ্গীরকে নীল রঙের জামা পরে চেয়ারে বসে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়রকে দেখা গেলে বাকি অংশে শুধু অডিও বক্তব্য শোনা যায়। কিছু কিছু অংশ ছিল অস্পষ্ট।

ভিডিওটি কে বা কারা কবে ধারণ করেছেন, সেটি জানা যায়নি। কারাই বা সেটি ফেসবুকে ছেড়েছে, সেটিও অজানা।

ভিডিওটির শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের প্রসঙ্গে টেনে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি রাসেল সাহেবকে এইখানে নিয়া ফালাইছি। আমি চাইছি রাসেল সাহেব ভুল করুক। আমি ইচ্ছা করেই চাইছি হেও মিছিলটাতে এটেন্ড করুক।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজমত উল্লাহ আমারে জীবনে মারার লাইগা লোক কন্টাক্ট করছে, সব করছে। এখন সে আমার কর্মী হইছে। ...আমারে জিগায় কী করছ? আমারে কয়দিন জিগাইছে কী করো, কেমনে সম্ভব? হেও সব জানে না! আমি তো খেলা জিতছি।’

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি মন্ত্রীরে নিয়া মাথা ঘামাই না। জাহিদ আহসান রাসেল আছে না? তারে নিয়া আমি এক মিনিটও চিন্তা করি না। খালি জাস্ট শুইনা রাখো, বিশ্বাস করার দরকার নাই। আমি চিন্তা করলাম সে তো মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠই। দরকারটা কী আমার এখানে, পরিবর্তনে কী হইব? এখানে পরিবর্তনের লাভ টা কার?’

গত তিন বছরেও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্যানেল মেয়র নির্বাচন করা হয়নি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও চলছে। এ বিষয়ে ভিডিওটিতে মেয়রকে বলতে শোনা যায়, ‘প্যানেল মেয়র দেই না। দিলে কী হইব? আমারে কি কাউন্সিলররা মেয়র বানাইছে? আমার কি মেয়রগিরি যাইবগা? যেমন আমি এখানে প্যানেল মেয়র করি নাই। রাসেল এমপি অনেকরে মেয়র বানাইয়া দিতেছে, অনেকরে কাউন্সিলর বানাইয়া দিতেছে। প্রধানমন্ত্রী আরেকজনরে ভারপ্রাপ্ত দিব?’

বাংলাদেশের দুটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তি তার নিকটাত্মীয় উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বাতাসটা আমার কাছে বইলা যায়।’

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এমনকি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার কথাও বলেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতের সাথে চলি না? বিএনপির সাথে চলি না? অন্য পার্টি আছে না সবার সাথেই তো কথা বলি। এই যে আমার সাথে ঘণ্টা তিনেক আগেও বাবুনগরী (হেফাজতের প্রয়াত আমির) প্রায় ৪৭ মিনিট কথা বলছে। সে আসতে চায়। আমি কথা বলছি না?

‘ধীরাশ্রম, ঝাঝর, চান্দরা আছে ৮/১০ বিঘা, দিঘিরচালা আছে ১৬ বিঘা, তেলিপাড়াও আছে। আমার এখানে সাড়ে তিন শ বিঘা জমি আছে। এই নির্বাচনের সময়েও দশ হাজার কোটি টাকা আনছি।’

আরও পড়ুন:
‘সত্যটা জানিয়ে’ আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জাহাঙ্গীরের
মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’, বেকায়দায় মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান: তথ্যমন্ত্রী

ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সাংবাদিকদের সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে শান্তি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সম্প্রীতি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সৌহার্দ্য। সেই মূল মর্মবাণী ধারণ করে যারা এই হানাহানি সৃষ্টি করতে চায়, যারা ফেতনা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’  

ধর্মের নামে ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় বুধবার সকালে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে জশনে জুলুসে ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপমহাদেশে ইসলামের প্রসার নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই ভারতীয় উপমহাদেশে কোনো যুদ্ধবিগ্রহের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। এই উপমহাদেশে আমাদের দেশে অলি-আউলিয়াদের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে, মানুষকে বুঝিয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে এনেছে এই জনপদে। তাদের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

‘যারা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা ফেতনা সৃষ্টিকারী। যারা ইসলামের কথা বলে হানাহানিতে লিপ্ত হয়, তারা ফেতনা সৃষ্টিকারী। যারা ইসলামের কথা বলে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ করে, তারাও ফেতনা সৃষ্টিকারী।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আপনাদের মাধ্যমে আহ্বান জানাব নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ না রেখে, নিজেদের মধ্যে ফেতনা সৃষ্টি না করে ইসলামের কথা বলে দেশে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করার অনুরোধ করছি।’

পৃথিবীতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নিজেদের ঐক্য-সংহতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অধিকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হয়, নিজেদের মধ্যে ঐক্য-সংহতির মাধ্যমে মিয়ানমারের মুসলমানরা আজকে যারা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে, তারা যেন পূর্ণ অধিকার নিয়ে আবার মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করা দরকার। পৃথিবীর অন্য জায়গায় যেখানে মুসলমাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করার জন্য আল্লাহর কাছে আজকে ফরিয়াদ করব।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে শান্তি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সম্প্রীতি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সৌহার্দ্য।

‘সেই মূল মর্মবাণী ধারণ করে যারা এই হানাহানি সৃষ্টি করতে চায়, যারা ফেতনা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম সমস্ত ব্যাপারে কত উদার, কত মানবিক এবং কত বাস্তবসম্মত, সেগুলো আমাদের আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা যেন পৃথিবীবাসীর কাছে তুলে ধরতে পারি। ইসলামের নাম নিয়ে যারা ইসলামকে ধ্বংস করতে চায় তারা প্রতিহত হবে।’

আরও পড়ুন:
‘সত্যটা জানিয়ে’ আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জাহাঙ্গীরের
মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’, বেকায়দায় মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনায় রিজভী

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনায় রিজভী

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দোয়া মাহফিলে রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা চালের দাম, লবনের দাম, পেঁয়াজের দাম, ডালের দাম বাড়াবেন আর তার সিন্ডিকেটদের পকেট ফুলবে। এর মধ্য দিয়ে তার ময়ুরসিংহাসন টিকে থাকবে এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার অভিপ্রায়। তার সিন্ডিকেটকে সুযোগ দিতে জনগণের দৃষ্টি চৌমুহনীতে, হাজীগঞ্জে, চট্টগ্রাম ও পীরগঞ্জে নিয়ে যাচ্ছেন মন্ত্রীরা।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে বিএনপির আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সয়াবিন তেল এক লাফে লিটারে ৭ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। ওবাদুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বাজার মনিটরিং করছেন।

‘এই মনিটরিং করতে গিয়েই চালের দাম, ডালের দাম হু হু করে বাড়ছে। এটিই হচ্ছে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অপকৌশল। রংপুর পুড়ছে চৌমহন ও হাজীগঞ্জ পুড়ছে। এর মধ্য দিয়েই তিনি তার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।’

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা মনে করেন আমি চালের দাম, লবনের দাম, পেয়াজের দাম, ডালের দাম বাড়াবো, আর আমার সিন্ডিকেটরা পকেট ফোলাবে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের ময়ুরের সিংহাসন টিকে থাকবে এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার অভিপ্রায়।

‘তার সিন্ডিকেটকে সুযোগ করে দিতে তিনি জনগণের দৃষ্টি চৌমুহনীতে, হাজীগঞ্জে, চট্টগ্রাম ও পীরগঞ্জে নিয়ে গেছেন। আর ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য মন্ত্রীদের উনি বলে রেখেছেন, তোমরা জনগণকে এগুলো নিয়ে ব্যস্ত রাখো। সেই কাজটা তারা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন।’

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লাবাসী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও বলছে তারা নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। বলেছিলাম। কিন্তু যথাসময়ে সাড়া না দিয়ে তারা অনেক দেরিতে এসেছে। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায়ও লেখালেখি হচ্ছে। অন্যদিকে একের পর এক বিএনপি’র নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। সাড়া দেশ পুড়ছে আর তিনি ভানুর মতো শুধু দেখছেন।িউনি ভাবছেন, আমার বাড়ি আমি দেখবো না। বাংলাদেশকে নিজের জমিদারিতে পরিণত করেছেন তিনি। আবার বলছেন, তিনি না দেখলে কে দেখবেন। একটা ভয়ঙ্কর মিথ্যার ওপর দিয়ে তারা বসবাস করছেন। অন্যকে বলেছেন মিথ্যেবাদী।

‘উনি যদি আসলেই নামাজ পড়তেন, রাসুল (সা.) এর কয়েকটি বাণী যদি আয়ত্ত্ব করতেন হৃদয় দিয়ে তাহলে তিনি আজকে নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট এর মত হতেন না। তিনি জালেম সরকারের প্রধান শাসক হতেন না। এটাতো উনি ধারণ করেননি। উনি ধারণ করেছেন, নির্বাচন আগে বোরকা পড়া, হাতে তজবি নেয়া, যার সবটাই ভণ্ডামি।’

রিজভী বলেন, ‘গুম-খুনের রাজনীতিতে, আজকে মিথ্যাচারের রাজনীতিতে আমরা প্রত্যেকে প্রশিক্ষিত হলে এ সরকার বেশি দিন টিকতে পারবে না। আদর্শের কাছে, ন্যায়ের কাছে, ইনসাফের কাছে, সুশাসনের কাছে, নীতির কাছে কখনোই জুলুমকারীরা টিকে থাকতে পারে না। টিকে থাকতে সরকার একটি গভীর নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে।’

ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা শাহ মোহাম্মাদ নেছারুল হকের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু ও চিকিৎসক রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
‘সত্যটা জানিয়ে’ আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জাহাঙ্গীরের
মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’, বেকায়দায় মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দায় বিএনপির: কাদের

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দায় বিএনপির: কাদের

বিএনপিকে ‘রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িক’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘তারা সংখ্যালঘুদের শত্রু মনে করে। তারা ভেবেছে, পূজামণ্ডপে হামলা করলে সরকারের ওপর হিন্দু সম্প্রদায়ের অনাস্থা বাড়বে। আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরাজমান বন্ধুত্ব নষ্ট হবে।’

শারদীয়া দুর্গাপূজায় দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ও পূজার পর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য বিএনপি ও তার মিত্রদের দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার নিজ বাসভবনে বুধবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্মকে যারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করে, তারাই পরিকল্পিতভাবে বিভাজন তৈরি করতে চায়।’

বিএনপি নেতারা ‘মিথ্যাচারকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক।

কাদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলায় নাকি সরকার জড়িত! আসলে ভিডিও ফুটেজে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে দেখে, তারা একচোখা দৈত্যের আচরণ শুরু করেছে।

বিএনপিকে ‘রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িক’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘তারা সংখ্যালঘুদের শত্রু মনে করে। তারা ভেবেছে, পূজামণ্ডপে হামলা করলে সরকারের ওপর হিন্দু সম্প্রদায়ের অনাস্থা বাড়বে। আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরাজমান বন্ধুত্ব নষ্ট হবে।

‘যারা নিজেরা এদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, মেনে নিতে পারেনা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি, তারাই জাতিকে বিভাজন করে দুর্বল করতে চায় এবং দেশের ইমেজ নষ্ট করতে চায়। আর এ বিভাজন রেখা তৈরি করতে চায় বিএনপি ও তার দোসররা।’

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘বিএনপির চরিত্র হচ্ছে, মুখে শেখ ফরিদ, বগলে ইট। তাদের কথায় পুষ্পবৃষ্টি হলেও অন্তর কদর্যে ভরা।

‘মসজিদগুলো মন্দির হয়ে যাবে, মসজিদে উলুধ্বনি হবে, এসব অপপ্রচার বিএনপি অতীতেও চালিয়েছে’ বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘এসব অপকর্ম ও নির্জলা মিথ্যার পেটেন্ট একমাত্র বিএনপির।’

২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের ওপর বিএনপির নির্মমতা একাত্তরকেও হার মানিয়েছিল বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এখনও তারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।’

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। দিনটি মুসলিম উম্মার জন্য পবিত্র এবং মহিমান্বিত জানিয়ে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার মহানবীর যে অমর বাণী সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

সেই সঙ্গে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান ওবায়দুল কাদের।

আরও পড়ুন:
‘সত্যটা জানিয়ে’ আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জাহাঙ্গীরের
মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’, বেকায়দায় মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলা কালীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি সদস্যের তালিকায় আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম। ছবি: নিউজবাংলা

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলায় তৃতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির এক সদস্য।

এটি বাতিলের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর আবেদন করেছেন তালিকায় থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা।

নেতা-কর্মী জানান, গত ১৭ অক্টোবর উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে সভা হয়।

এতে তৃণমূলের রায়ে ১৪ ভোট পেয়ে আফতারুজ্জামান বাবুল প্রথম হন। ১২ ভোট পেয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু দ্বিতীয় ও ৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন নুর ইসলাম মিয়া।

এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, ‘এর জন্য দায়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব। এটি কোনোভাবে মেনে নেয়ার মতো না।

‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরোক্ষ ইশারায় বিএনপির সক্রিয় সদস্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নে স্থান পেয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আমরা ওই তালিকা থেকে আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম বাদ দেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু বলেন, ‘বাবুল কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ১৪ নম্বর সদস্য। বিষয়টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে। তারা সেদিন বর্ধিত সভায় চুপ থেকে তাকে প্রার্থী বাছাইয়ে অংশ নায়ের সুযোগ করে দিয়েছে।

‘সেদিন হাউসের অনেককে ম্যানেজ করে বিতর্কিত ওই ব্যক্তি তৃণমূলর রায় তার পক্ষ নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর প্রতিবাদে আমি ওই তালিকা থেকে বাবুলর নাম কেটে পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নাম দেয়ার জন্য ১৮ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আফজালুল হক খোকা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বাবুল বিএনপির সদস্য হয়ে থাকলে তার নাম আওয়ামী লীগে কীভাবে এসেছে, সেটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আগের সভাপতি ও সম্পাদক ভালো জানেন।

‘আমরা এর জন্য দায়ী নই। বর্তমানে তার নাম ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে আছে। আর এ কারণেই তিনি দলীয় প্রার্থী হতে চেষ্টা চালিয়েছেন।’

আফতারুজ্জামান বাবুল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি জীবনে কোনো দিন বিএনপি করিনি। বিএনপির তালিকায় কীভাবে নাম গেল, সেটা আমার জানা নেই। ছাত্রলীগের মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ২০১৭ সালে আমি আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটির সদস্য হই। ২০১৮ সালে আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্ত হই।’

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর বলেন, ‘আফতারুজ্জামান বাবুলকে আমি আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবেই চিনি। তিনি ছাত্রলীগ করেছে। ২০০২ সালে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ছিল।’

আরও পড়ুন:
‘সত্যটা জানিয়ে’ আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জাহাঙ্গীরের
মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’, বেকায়দায় মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির শোভাযাত্রায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অশান্তি ঘটালেন আপনারা, আগুন দিলেন আপনারা, মারলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা এবং নিরীহ মানুষদের হত্যা করে আজকে শান্তি মিছিল বের করছেন। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এই আওয়ামী লীগ এটাই। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে।’

হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী শান্তি মিছিলকে ক্ষমতাসীন দলের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার’ উপায় হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে এবং বিভাজন সৃষ্টি করে তারা এটাকে পুঁজি করে সেটাকে আবার তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চাচ্ছে।

‘অশান্তি ঘটালেন আপনারা, আগুন দিলেন আপনারা, মারলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা এবং নিরীহ মানুষদের হত্যা করে আজকে শান্তি মিছিল বের করছেন। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এই আওয়ামী লীগ এটাই। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

এবারের পূজামণ্ডপে মানুষজনের কম উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘এই সাম্প্রদায়িক সমস্যা-সংকট সরকার তৈরি করেছে। এখানে দাদা (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়) আছেন, দাদার বাড়িতে পূজা হয়েছে, সেই বাড়িতে আমরা গিয়েছিলাম। এর আগের বছর যখন গিয়েছি, তখন দেখেছি কী উৎসব কী আনন্দ! সেখানে কাছাকাছি আরো কয়েকটা পূজামণ্ডপে পূজা হচ্ছে, লোকজন রাস্তায় বোঝাই হয়ে ছিল।

‘এবার গিয়ে দেখলাম দাদার বাড়িতে ওইভাবে লোক নেই। কারণ, মানুষ ভয় পেয়ে গেছে, সেভাবে লোক আসছে না। পূজা সেভাবে হচ্ছে না।

‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরেও আমি দেখেছি অনেক কম মানুষ। বনানীতে পূজামণ্ডপে গেছি। সেখানেও অনেক কম মানুষ। কেন? আমাদের অন্যতম ভাই, আমাদের পাড়া-প্রতিবেশী, আমাদের দেশের স্বাধীন নাগরিক তারা কোনো তাদের ধর্মের উৎসব পালন করতে পারবে না?’

সরকার হটানোর আহ্বান

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এ দেশের মানুষ অনেক বেশি কষ্ট পাবে। আমাদের অর্জনগুলো সব হারিয়ে যাবে। আমরা আরও বেশি নিচের দিকে নামতে থাকব। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সব সচেতন মানুষ যারা আছি তাদের এই দানবীয় সরকারকে সরাতে হবে।’

সরকার পতনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সাদা-কালো, বাম-ডান সবাইকে এক হয়ে এদের সরাতে হবে।

‘এদের সরিয়ে এখানে জনগণের একটা রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে, জনগণের একটা সরকার তৈরি করতে হবে, জনগণের একটা বাসভূমি তৈরি করতে হবে। তাহলেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবকে সবচেয়ে বেশি সম্মান প্রদর্শন করা হবে।’

দেশে গণতন্ত্র নেই অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র তারা নিজের হাতে শেষ করেছে ১৯৭৫ সালে এবং এবার ২০০৮ সাল থেকে শুরু করেছে।

‘বাংলাদেশের আত্মা হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক সমাজ, মুক্ত সমাজ। সেই আত্মাকে তারা ধ্বংস করছে পরিকল্পিতভাবে। তারা কথা বলতে দেয় না, লিখতে দেয় না।’

বিএনপির এই আয়োজন টেলিভিশনে বড়জোর দুই সেকেন্ড/তিন সেকেন্ড বা ১/২ মিনিট দেখানো যাবে, পত্রিকায় এক কলাম সংবাদ হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আমি বলি দোষ তাদের না। তাদের ম্যানজেমেন্ট, মালিক… যারা সবাই কোনো না কোনোভাবে সরকারের সঙ্গে জড়িত আছে। হয় ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনোভাবে অথবা সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। যদি কিছু লিখতে যায় সাংবাদিকের চাকরি চলে যায়, পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, পেশাজীবী নেতা গাজী আব্দুল হক, প্রকৌশলী মিয়া মুহাম্মদ কাইয়ুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও রাখেন।

আরও পড়ুন:
‘সত্যটা জানিয়ে’ আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জাহাঙ্গীরের
মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’, বেকায়দায় মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি: রিজভী

পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি: রিজভী

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মিসভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আপনারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে রাজি নন। ফায়দা লুটতে আপনারা খাল কেটে কুমির আনছেন, একসময় সেই কুমির সবকিছু গ্রাস করবে, এটা টের পাচ্ছেন না। এই কুমির সরকারকে খেয়ে ফেলতে পারে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে, নানাভাবে উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করছেন। যে আগুন নিয়ে খেলছেন, সেই আগুনে সরকার ছারখার হয়ে যাবে।’

পুলিশ সঠিক সময়ে না আসায় কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও রংপুরে সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সাম্প্রদায়িক সংঘাতের জন্য সরকার ও প্রশাসনকে দায়ী করে রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লার জনগণ ঘটনার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে বলেছিল, কিন্তু প্রশাসন সেটা করেনি। পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি বলেই সহিংস ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও রংপুরে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মঙ্গলবার মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল।

মিলাদ শেষে কর্মিসভায় রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা আওয়ামী লীগের সহ্য হয় না। তার প্রমাণ ২০১৮ সালে দিনের বেলা ভোট করতে তারা সাহস পায়নি। রাতের নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা ১০ মাস আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে। যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তিনি তাতে জড়িত ছিলেন না।

‘তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে শেষ করতে সরকার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। তাদের সেই নীলনকশা আমরা কেন বাস্তবায়ন করতে দেব? জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে পারবে না কেউ। সুতরাং আমরা একীভূত হতে পারলে স্বৈরশাসককে সরাতে পারব। শেখ হাসিনার ময়ূর সিংহাসন স্থির রাখা যাবে না, এটা আমাদের উল্টাতে হবে।’

সরকারের সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘আপনারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে রাজি নন। ফায়দা লুটতে আপনারা খাল কেটে কুমির আনছেন, একসময় সেই কুমির সবকিছু গ্রাস করবে, এটা টের পাচ্ছেন না। এই কুমির সরকারকে খেয়ে ফেলতে পারে।

‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে, নানাভাবে উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করছেন। যে আগুন নিয়ে খেলছেন, সেই আগুনে সরকার ছারখার হয়ে যাবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, মহানগর উত্তরের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন:
‘সত্যটা জানিয়ে’ আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জাহাঙ্গীরের
মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’, বেকায়দায় মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন

‘বাহাদুরি থামান’ শাজাহানকে শাহাবুদ্দিন

‘বাহাদুরি থামান’ শাজাহানকে শাহাবুদ্দিন

মাদারীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মঙ্গলবার বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা। ছবি: নিউজবাংলা

শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘এখন আর নৌকার বিরোধিতা করবেন না। আপনি নৌকা নিয়েই ৬ বার এমপি হয়েছেন। এখন আবার নৌকাবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন। বাহাদুরি থামান। আর বাহাদুরি করবেন না।’

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানকে বাহাদুরি থামাতে বলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘আপনি (শাজাহান খান) ২০১৮ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করে নিজের ভাইকে বিদ্রোহী প্রার্থী করেছিলেন। তখন তৃণমূল আওয়ামী লীগ শক্তিশালী ছিল না। কিন্তু শক্তিশালী।

‘এখন আর নৌকার বিরোধিতা করবেন না। আপনি নৌকা নিয়েই ৬ বার এমপি হয়েছেন। এখন আবার নৌকাবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন। বাহাদুরি থামান। আর বাহাদুরি করবেন না।’

শাজাহান খানকে উদ্দেশ করে সভাপতি শাহাবুদ্দিন আরও বলেন, ‘এখন নৌকা আপনার পরিবারের লোকজন আর আপনার দালালরা পাবে না। তাই নৌকার বিরোধিতা শুরু করেছেন। সময় আছে, সাবধান হয়ে যান। না হলে আওয়ামী লীগ আপনাকে ছাড়বে না।’

জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তৃতীয় দফা ইউপি নির্বাচন নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ চোকদার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজাদুর রহমান মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ। এ সময় সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি মাদারীপুরে একটি অনুষ্ঠানে শাজাহান খান নির্বাচনে শাহাবুদ্দিনকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ার পক্ষে বক্তব্য দেন। যা নিয়ে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন:
‘সত্যটা জানিয়ে’ আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জাহাঙ্গীরের
মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’, বেকায়দায় মেয়র জাহাঙ্গীর

শেয়ার করুন