১০০ সেলুনে লাইব্রেরি

১০০ সেলুনে লাইব্রেরি

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নে একটি ‘সেলুন লাইব্রেরি’। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে সারা দেশে ১০০টি সেলুন লাইব্রেরি চালু করা হয়েছে। উদ্যোগটি আপাত দৃষ্টিতে ক্ষুদ্র মনে হলেও এর কার্যকারিতা ফলপ্রসূ ও সুবিশাল।’

সারা দেশের ১০০টি সেলুনে পরীক্ষামূলকভাবে লাইব্রেরি চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

রাজধানীর গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরে বৃহস্পতিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘পড়ি বঙ্গবন্ধুর বই, সোনার মানুষ হই’ শীর্ষক এক ধারাবাহিক পাঠ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, ‘আমরা যখন কোনো সেলুনে যাই, তখন অবসর সময়ে আমরা হাতের নাগালে বই, পত্রিকা, প্রভৃতি যা কিছু পাই, তা পড়ার চেষ্টা করি। এতে করে করে আমাদের সময়টি যেমন সুন্দর কাটে, তেমনি আমরা জ্ঞানের আলোয় সমৃদ্ধ হই।

‘সে বিষয়টি বিবেচনা করে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে সারা দেশে ১০০টি সেলুন লাইব্রেরি চালু করা হয়েছে। উদ্যোগটি আপাত দৃষ্টিতে ক্ষুদ্র মনে হলেও এর কার্যকারিতা ফলপ্রসূ ও সুবিশাল।’

কে এম খালিদ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যখনই সময় পেতেন, তখনই বই পড়তেন। এমনকি কারাগারে অন্তরীণের দিনগুলোতে তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিল বই। বইয়ের সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক গড়তে হবে। নতুন টাকার গন্ধ যেমন আমাদের আকর্ষণ করে, তেমনি নতুন বইয়ের গন্ধও আমাদের আকৃষ্ট করে।’

আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় দেশের লাইব্রেরিগুলো ডিজিটাল করা হবে বলেও জানান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। বলেন, লাইব্রেরি ডিজিটালাইজড করার একটি সমন্বিত প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে, যেটি বাস্তবায়িত হলে লাইব্রেরি হতে তথ্য সেবা গ্রহণ এবং প্রদানের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সূচিত হবে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের অধীন ৭১টি সরকারি গ্রন্থাগার, আর্কাইভস, জাতীয় গ্রন্থাগার, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং বিভিন্ন বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলো একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে ধারাবাহিক পাঠ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ১০০টি পাঠাগারের প্রত্যেককে ৩০০০ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণাও দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী।

সারা দেশের ১০০টি বেসরকারি গ্রন্থাগারের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী-পাঠক বঙ্গবন্ধুর রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পাঠ করে লিখিতভাবে পাঠোত্তর প্রতিক্রিয়া এবং অভিমত প্রকাশ করার মাধ্যমে ধারাবাহিক এ পাঠ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন।

আরও পড়ুন:
ঐতিহাসিক পাঠাগারে আছে কেবল সাইনবোর্ড

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায়ের অপেক্ষা

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায়ের অপেক্ষা

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ফাইল ছবি

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আলোচিত এই মামলার রায় পড়ে শোনাবেন। এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায়ের তারিখ থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পেছানো হয়।

চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় হবে আজ।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আলোচিত এই মামলার রায় পড়ে শোনাবেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায়ের তারিখ থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পেছানো হয়।

মামলায় আসামিরা খালাশ পাবেন বলে দাবি তাদের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম অনির। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, মামলার শুনানিতে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে মামলার ঘটনা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া, জেরার সময় সাক্ষীরা তাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেননি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের দাবি, আসামিদের অপরাধ প্রমাণে তারা সক্ষম হয়েছেন। তাই তাদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ৫ অক্টোবর এ রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেছিলেন আদালত। বিচারক ছুটিতে থাকার কারণে সেদিন আর রায় হয়নি।

গত ২৪ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলার অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

গত বছরের ১৩ আগস্ট একই আদালত ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। মামলা তদন্ত করে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ।

আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারাগারে, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান এবং একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা জামিনে আছেন।

এ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ঐতিহাসিক পাঠাগারে আছে কেবল সাইনবোর্ড

শেয়ার করুন

সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া

সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া

ছবি: সংগৃহীত

জুলাইয়ে সেবা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সরকারি পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে। এ উপখাত থেকে এসেছে ১৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। ‘অন্যান্য ব্যবসায় সেবা’থেকে এসেছে ৮ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে আয় হয়েছে ৯ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

পণ্য রপ্তানির মতো সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া লেগেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সেবা রপ্তানি থেকে ৬৩ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময়হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৬৫ পয়সা) টাকার অংকে এই অর্থের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৪১১ কোটি টাকা।

এই রপ্তানি গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ১০ শতাংশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক মাসে সেবা খাত থেকে এত বিদেশি মুদ্রা দেশে আসেনি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পণ্য রপ্তানির তথ্য চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ করলেও সেবা খাতের এক মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে মঙ্গলবার।

ইপিবি অবশ্য বরাবরই সেবা খাতের রপ্তানির তথ্য পরে প্রকাশ করে থাকে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে মোট চার হাজার ৫৩৬ কোটি ৭২ লাখ (৪৫.৩৭ বিলিয়ন) আয় করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয় ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ।

সেবা খাত থেকে আসে ৬৬০ কোটি ৮৯ লাখ (৬.৬ বিলিয়ন) ডলার; বেড়েছিল ২৫ শতাংশের মতো।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সেবা খাত থেকে ৭৫০ কোটি (৭.৫ বিলিয়ন) ডলার বিদেশি মুদ্রা আয়ের লক্ষ্য ধরেছে সরকার।

এরমধ্যে প্রথম মাস জুলাইয়ে আয়ের লক্ষ্য ছিল ৫৭ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। আয় হয়েছে ৬৩ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত বছরের জুলাইয়ে আয় হয়েছিল ৪৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

এ হিসাবেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪০ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পণ্য রপ্তানির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেবা খাতের রপ্তানিতে। পণ্য রপ্তানি বাড়লে সেবা খাতের রপ্তানি বাড়বে-এটাই স্বাভাবিক। কেননা, এক খাত অন্য খাতের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্কিত এবং নির্ভরশীল।’

আগামী দিনগুলোতেও পণ্য রপ্তানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেবা খাতের রপ্তানি বাড়বে বলে আশার কথা শোনান ফারুক হাসান।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই মাসে সেবা খাতের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৬২ কোটি ২৭ লাখ ডলারই এসেছে সরাসরি সেবা খাত থেকে। অর্থাৎ মোট রপ্তানির ৯৮ দশমিক ৫৬ শতাংশই এসেছে সরাসরি সেবা খাত থেকে।

বাকিটা দেশের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কেনা পণ্য ও সেবা এবং মার্চেন্টিংয়ের অধীনে পণ্য বিক্রির আয়।

কোনো অনাবাসীর কাছ থেকে পণ্য কিনে একই পণ্য কোনো অনাবাসীর কাছে বিক্রি করাকে মার্চেন্টিং বলে। এই প্রক্রিয়ায় মোট বিক্রি থেকে মোট ক্রয় বাদ দিয়ে নিট মার্চেন্টিং রপ্তানি আয় হিসাব করা হয়।

দেশের স্থল, সমুদ্র বা বিমান বন্দরে বিদেশি পরিবহনগুলো সেসব পণ্য ও সেবা- যেমন জ্বালানি তেল ও মেরামত সেবা- কিনে থাকে সেগুলোকে সেবা খাতের আওতায় ধরা হয়েছে।

জুলাই মাসে সেবা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সরকারি পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে। এ উপখাত থেকে এসেছে ১৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার।

অন্য উপখাতগুলোর মধ্যে ‘অন্যান্য ব্যবসায় সেবা’থেকে এসেছে ৮ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে আয় হয়েছে ৯ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

বিভিন্ন ধরনের পরিবহন সেবা (সমুদ্র, বিমান, রেল এবং সড়ক) থেকে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় হয়েছে।

আর্থিক সেবা খাত থেকে ৭৮ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং ভ্রমণ সেবা উপখাত থেকে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদেশে বিভিন্ন সেবা বিক্রি করে ৬১৩ কোটি ১৯ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাত থেকে ৬৩৫ কোটি ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এসেছিল ৪৩৪ কোটি ডলার।

সেবা রপ্তানি আয় দেশে আনা আরও সহজ হয়েছে

সেবা রপ্তানি ও ফ্রিল্যান্সারদের আয় দেশে আনা আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সেবা রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের সঙ্গে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। আবার অন্য দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট গেটওয়েতে অনানুষ্ঠানিক হিসাব (নোশনাল অ্যাকাউন্ট) খোলার সুযোগ পাবেন।

গত সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্ম কিংবা বিদেশি পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পাওয়া আয় প্রথমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের ‘নস্ট্রো’হিসাবে জমা হবে। এরপর ব্যাংক সেবা প্রদানকারী গ্রাহকের হিসাবে তা জমা করবে। গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি স্থানীয় ডিজিটাল ওয়ালেটেও অর্থ জমা করা যাবে।

গ্রাহক চাইলে প্রযোজ্য অংশ ইআরকিউ হিসাবে জমা করতে পারবেন। সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কর পরিশোধের বিধান মেনে চলতে হবে। আর সেবা রপ্তানির চার মাসের মধ্যে আয় দেশে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্ম বা পেমেন্ট গেটওয়েতে খোলা হিসাবের অর্থ আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কিছু শর্ত পরিপালন করতে হবে। বিশেষ করে সেবা প্রদানকারীর আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের সঙ্গে পরিচালিত মার্চেন্ট হিসাব পরিচালনা এবং বিদেশস্থ লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে তার নোশনাল হিসাব সম্পর্কে তথ্য নিতে হবে।

সেবা কার্যক্রম বিষয়ে তথ্য সংগ্রহসহ ঘোষণাপত্র নিতে হবে। সেবার বিপরীতে পাওয়া আয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন কিংবা অনানুষ্ঠানিক হিসাবে জমার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তা দেশে আনার বিষয়ে গ্রাহক থেকে অঙ্গীকার নামা নিতে হবে।

ক্ষুদ্র পরিসরে সেবা খাতের আয় প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালে এডি ব্যাংকগুলোকে বিদেশস্থ ওপিজিএসপির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ দেয়। এখন তা আরও সহজ করা হলো।

আরও পড়ুন:
ঐতিহাসিক পাঠাগারে আছে কেবল সাইনবোর্ড

শেয়ার করুন

চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ছিল তারা

চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ছিল তারা

বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ট্রেনে পাথর ছোড়ার সময় আকাশ রহমান, রিফাত ইসলাম ও মো. হাসান নামের তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করে রেলওয়ে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল হক বলেন, ‘কমলাপুর থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিমানবন্দর রেলস্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার তিনজন চলন্ত ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। আটকের পরে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।’

রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর ছোড়ার সময় থেকে তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আকাশ রহমান, রিফাত ইসলাম ও মো. হাসান- এই তিনজনের বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।

বুধবার সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ঢাকার কমলাপুর থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর ছোড়ার সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল হক এ ঘটনা নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কমলাপুর থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিমানবন্দর রেলস্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার তিনজন চলন্ত ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। আটকের পরে মামলা দিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।’

গত ৬ অক্টোবর কুমিল্লার আদর্শ সদরে চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তের ছোড়া পাথরে শিশুসহ তিন যাত্রী আহত হন।

ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী আন্ত নগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর বানাশুয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন।

ট্রেনে পাথর ছোড়া রোধে প্রচার

চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়া রোধে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করে রেল বিভাগ।

‘পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধ করুন, নিরাপদ ট্রেন ভ্রমণ নিশ্চিত করুন’- এ স্লোগানে গত ৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে সপ্তাহব্যাপী এই কার্যক্রম।

দেশের অন্য জেলার মতো এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে।

আরও পড়ুন:
ঐতিহাসিক পাঠাগারে আছে কেবল সাইনবোর্ড

শেয়ার করুন

কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের মসজিদ। ফাইল ছবি

দারোগাবাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ইয়াছিন নূরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো বুঝতে পারিনি কেউ এখান থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে গিয়ে এমন কাজ করবে। আগামীতে আমরা সতর্ক থাকব। মসজিদের বারান্দার আর কোরআন শরিফ রাখব না।’

কুমিল্লার একটি মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ এনে পাশের পূজামণ্ডপে রাখার ঘটনা ধরা পড়ার পর ওই মাজারের কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতে তারা আর মসজিদের বারান্দায় অরক্ষিত অবস্থায় কোরআন শরিফ রাখবে না।

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখল কারা

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার জানা যায়, নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখেছিলেন ইকবাল হোসেন নামের স্থানীয় এক যুবক। সহিংসতার আগের রাতে তিনি কোরআনটি নিয়েছিলেন মণ্ডপের পাশের শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের মসজিদের বারান্দা থেকে।

কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রওনা হন মণ্ডপের দিকে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া ছবি

ইকবাল রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে কোরআন শরিফটি হাতে নিয়ে মণ্ডপের দিকে রওনা হন। এরপর মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ফিরে আসেন। এসব দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায়।

আরও পড়ুন: মণ্ডপে কোরআন রাখায় প্রধান সন্দেহভাজন যুবক ইকবাল

নানুয়ার দিঘির পাশেই শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারটির অবস্থান। মণ্ডপ থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট। দারোগাবাড়ী মাজার নামে কুমিল্লাবাসীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি রয়েছে মাজারটির। এর মসজিদের বারান্দায় তিলাওয়াতের জন্য রাখা থাকে বেশ কয়েকটি কোরআন শরিফ। রাত-দিন যেকোনো সময় যে কেউ এখানে এসে তিলাওয়াত করতে পারেন।

কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন

ইকবালের বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে দারোগাবাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ইয়াছিন নূরীকে ফোন করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিনি।’

আরও পড়ুন: পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল

মসজিদের বারান্দায় পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই মাজারে এসে কোরআন শরিফ দিয়ে যান। এসব কোরআন শরিফে মসজিদের ভেতরের সেলফ পূর্ণ হয়ে গেছে। তাই কিছু কোরআন শরিফ বারান্দায় রাখা হয়েছিল। তাছাড়া, বারান্দায় রাখলে যেকোনো সময় যে কারও জন্য তিলাওয়াতেরও সুবিধা হয়।

‘আমরা তো বুঝতে পারিনি কেউ এখান থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে গিয়ে এমন কাজ করবে। আগামীতে আমরা সতর্ক থাকব। মসজিদের বারান্দার আর কোরআন শরিফ রাখব না।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত ইকবালের সহযোগী অন্তত চারজন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইকবাল গ্রেপ্তার হলেই এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:
ঐতিহাসিক পাঠাগারে আছে কেবল সাইনবোর্ড

শেয়ার করুন

গণতদন্ত কমিটি গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের

গণতদন্ত কমিটি গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের

নাগরিক সমাবেশে দেশের বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, বামপন্থি রাজনৈতিক দলের নেতারা ও তাদের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। ছবি: নিউজবাংলা

অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘যদি রাষ্ট্র ধর্মকে ইসলাম করেন আবার যদি এখানে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেন তাহলে দুটো একসঙ্গে কখনোই যাবে না। যতদিন পর্যন্ত এটি পরিবর্তন না করা হবে ততদিন পর্যন্ত এদেশের সংখ্যালঘুরা এদেশে নিজেদের নিরাপদ মনে করবেন না।’ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

কুমিল্লা, নোয়াখালী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা তদন্তে ‘গণতদন্ত কমিটি’ গঠনের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ।

বুধবার বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে দেশের বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, বামপন্থি রাজনৈতিক দলের নেতারা ও তাদের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে তাকে সরিয়ে দেয়ার দাবিও জানিয়েছে নাগরিক সমাজ।

‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন করে সুশীল সমাজের সংগঠন নাগরিক সমাজ।

বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

ইমরান এইচ বলেন, ‘শুধু এই হামলা নয়, আগের কোনো সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার হয়নি, বরং হামলাকারীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। দেশে যত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে সরকারকে সবগুলোর বিচার করতে হবে। প্রয়োজনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্যে যেমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার করা হয়েছিল, সাম্প্রদায়িক হামলার বিচারেও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘জনবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সামগ্রিকভাবে এই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

পূজার নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বের অবহেলা রয়েছে বলে অভিযোগ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। যেসব জায়গায় হামলা হয়েছে, সেইসব স্থানে দায়িত্বরত ডিসি- এসপিরা যারা আগে হতেই আভাস পেয়েছে এমন কিছু হতে যাচ্ছে, এই কর্মকর্তাদের অনতিবিলম্বে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দিয়ে তাদেরকে আইনি হেফাজতে আনা হোক৷’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘বাংলাদেশের শাসক শ্রেণি আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। যেদিন ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছে, সেদিন হতে মুক্তিযুদ্ধের ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতি আর থাকল না। আপনি যদি রাষ্ট্র ধর্মকে ইসলাম করেন আবার যদি এখানে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেন তাহলে দুটো একসঙ্গে কখনোই যাবে না। যতদিন পর্যন্ত এটি পরিবর্তন না করা হবে ততদিন পর্যন্ত এদেশের সংখ্যালঘুরা এদেশে নিজেদের নিরাপদ মনে করবেন না।’

সমাবেশে থেকে ঘোষণা পত্র পাঠ করেন সাবেক ছাত্রনেতা বাকি বিল্লাহ। এসময় তিনি আটটি দাবি জানান। দাবিগুলো হলো

১. সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত এবং মদদদাতাদের গ্রেফতার করে বিচার করা।

২. অব্যাহত সাম্প্রদায়িক হামলার দায় সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে গ্রহণ করাসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অপসারণ করা।

৩. সভা-সমাবেশ এবং ইউটিউব-ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া।

৪. বহুধারার শিক্ষাপদ্ধতি বাতিল করে মাতৃভাষায় এক ধারার বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা।

৫. দেশের প্রতিটি স্কুলে শিল্পকলাবিষয়ক একাধিক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করাসহ পাঠ্যপস্তকের সাম্প্রদায়িকীকরণ রহিত করার পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা।

৬. রামু, নাসিরনগর, সাতক্ষীরা, অভয়নগর, শাল্লাসহ পূর্বের সব সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার করাসহ সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা তদন্তে ‘গণতদন্ত কমিটি’ গঠন করে তার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা।

৭. সব দলকে ধর্মকে রাজনীতি ও ক্ষমতার হাতিয়ার করা থেকে বিরত থাকা।

৮. সংবিধান সংশোধন করে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ বাতিল করে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ পুনঃস্থাপন করার পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।

সমাবেশ শেষে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি এলিফ্যান্ট রোড, সাইন্সল্যাব, নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।

আরও পড়ুন:
ঐতিহাসিক পাঠাগারে আছে কেবল সাইনবোর্ড

শেয়ার করুন

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে আর অর্থায়ন নয়: এডিবি

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে আর অর্থায়ন নয়: এডিবি

ছবি: সংগৃহীত

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুতের ভূমিকা মুখ্য। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন নীতি জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। এডিবির নতুন জ্বালানি নীতি আমাদের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোকে (ডিএমসি) নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী মূল্যে ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি পেতে সহায়তা করবে।’

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে নতুন করে অর্থায়ন করবে না এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি।

ফিলিপাইনের ম্যানিলায় সংস্থটির সদরদপ্তরে বুধবার এক বোর্ড সভায় নতুন জ্বালানি নীতি অনুমোদন পায়।

এতে বলা হয়েছে, আর কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন করবে না এডিবি। গুরুত্ব দেয়া হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কার্বন নিঃসরণ কমানোকে। পাশাপাশি বিশ্বের সবার জন্য কম খরচে জ্বালানি নিশ্চিতে কাজ করবে এডিবি।

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে গভীর সংকটের মুখে বিশ্ব। এ কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

‘অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুতের ভূমিকা মুখ্য। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন নীতি জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। এডিবির নতুন জ্বালানি নীতি আমাদের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোকে (ডিএমসি) নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী মূল্যে ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি দিতে সহায়তা করবে।’

এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এডিবি অর্থায়ন করেনি। নতুন নীতিমালার কারণে ভবিষ্যতে অর্থায়ন করার তো প্রশ্নই উঠে না।’

২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর (ডিএমসি) জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এডিবি। গত ১৩ অক্টোবর এই ঘোষণাটি আসে। তার এক সপ্তাহের মাথায় নতুন জ্বালানি নীতি অনুমোদন পেল।

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ‘এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে জলবায়ুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে হয় জয় নয়তো পরাজয় ঘটবে। জলবায়ু পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় জলবায়ু ইস্যুতে অনেকেই অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে জলবায়ু ইস্যুতে অর্থায়ন ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
ঐতিহাসিক পাঠাগারে আছে কেবল সাইনবোর্ড

শেয়ার করুন

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল।

ঢাকার সাভারে মধ্যরাতে বৃদ্ধ বাবাকে ঠান্ডা মাথায় ছেলে খুন করেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। যদিও হত্যার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এসব জানায় র‍্যাব-৪।

এতে বলা হয়, আশুলিয়ার জিরানী কোণাপাড়ায় মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ছেলে আফাজ উদ্দিনের বটির আঘাতে নিজ বাড়িতে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি খুন হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানায় আফাজ মানসিক ভারসাম্যহীন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আফাজকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ। মামলাটির ছায়া তদন্তে নামে র‍্যাব।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের মিসকিন শাহ রহমত উল্লাহ মাজার থেকে তাকে বুধবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা বটি, লুঙ্গি ও একটি বিছানার চাদর উদ্ধার করা হয়।

তবে র‍্যাবের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নিহত নূর মোহাম্মদের পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিউজবাংলাকে নূর মোহাম্মদের মেয়ে হোসনে আরা বলেন, ‘ জন্ম থেকেই আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ। বাবা ওর দেখভাল করতো, তার সঙ্গেই রাতে ঘুমাতো।’

আফাজের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘ আমার স্বামীর মানসিক সমস্যার কারণে আড়াই বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে আলাদা ঘরে থাকি। মাঝেমধ্যে আমার শ্বশুর ওর সঙ্গে ঘুমাতো।’

স্বপন মিয়া নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আফাজ একেক সময় একেক রকম আচরণ করতো। কখনও ভালো আবার কখনও খারাপ।’

র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফাজ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ড তা এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
ঐতিহাসিক পাঠাগারে আছে কেবল সাইনবোর্ড

শেয়ার করুন