কিশোর অপরাধ দমনে র‍্যাবের ক্যাম্পেইন শুরু

কিশোর অপরাধ দমনে র‍্যাবের ক্যাম্পেইন শুরু

বৃহস্পতিবার বিজ্ঞাপনের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

টিভি বিজ্ঞাপন উদ্বোধন করার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, কোথায়, কী করছে, তাদের খবর রাখার ব্যাপারে বাবা-মায়ের ওপর জোর দেন।

‘সবার হোক একটাই পণ কিশোর অপরাধ করব দমন’ স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোর অপরাধ দমনে মাঠে নেমেছে র‌্যাব।

অভিযান চালানোর পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছেন র‌্যাব সদস্যরা।

মগবাজারের মধুবাগে বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কমপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার ওই বিজ্ঞাপনের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এর মধ্য দিয়েই কিশোর অপরাধ দমনে র‌্যাবের ক্যাম্পেইন শুরু হয়।

জানা যায়, ২০১৭ সালে উত্তরায় আদনান হত্যার পর থেকেই কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর থেকে কিশোর অপরাধ দমনে কাজ করছে র‌্যাব।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মার্চ থেকে এ বিষয়ে আরও কঠোর হয়েছে তারা। মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ২৩৪ জনকে আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে সূত্রটি।

শুধু মামলা বা গ্রেপ্তার নয়, পরিবারের সদস্যদের ডেকে বুঝিয়ে সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টাও করছেন তারা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশপ্রধান আইজিপি বেনজীর আহমেদ আইনের নানা জটিলতার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘অপরাধ দমনে আমাদের কিছু গ্যাপ আছে। এগুলো সমাধান করতে হবে।’

এ সময় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে পারিবারিক বন্ধন বাড়ানোর তাগিদ দেন আইজিপি।

কিশোরদের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন।

তিনি বলেন, ‘কিশোর অপরাধীদের যারা নিয়ন্ত্রণ করছে ও পেছন থেকে সাপোর্ট দিচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম বলেন, সন্তানদের বাবা-মায়ের অতি আদর, প্রশ্রয় দেয়া, সময় না দেয়ার বিষয়গুলো তাদের বিপথে ঠেলে দেয়।

সন্তানের বন্ধু হওয়া ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতে বাবা-মায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে র‌্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি র‌্যাবের অভিযানও অব্যাহত থাকবে।

আইজিপির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও কিশোরের বয়সসীমা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর সমাধান খোঁজার কথা বলেন। সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, কোথায়, কী করছে, তার খবর রাখার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আরও এক বছর ডিএমপি কমিশনার শফিকুল

আরও এক বছর ডিএমপি কমিশনার শফিকুল

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। ফাইল ছবি

২৯ অক্টোবর শফিকুলের বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হবে। এর পরদিন থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল তার।

অবসরে না পাঠিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে মোহা. শফিকুল ইসলামকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, সরকারের চাকরি আইন ২০১৮ অনুযায়ী বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহা. শফিকুল ইসলামকে তার অবসরোত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত করে ৩০ অক্টোবর বা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য ডিএমপি কমিশনার হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

২৯ অক্টোবর শফিকুলের বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হবে। এর পরদিন থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল তার।

ডিএমপি কমিশনার হওয়ার আগে শফিকুল ইসলাম সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি ১৯৮৯ সালে অষ্টম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন।

চাকরি জীবনে শফিকুল পুলিশ সুপার হিসেবে নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি), পুলিশ সদর প্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পেশাদারি ও দক্ষতার জন্য তিনি একাধিকবার বিপিএম পদক পান।

শফিকুল ইসলামের জন্ম চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায়। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান) পাস করেন তিনি।

শেয়ার করুন

বনভূমিবাসীদের নামে মামলা পুনর্বিবেচনার নির্দেশ

বনভূমিবাসীদের নামে মামলা পুনর্বিবেচনার নির্দেশ

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আপনারা জানেন মধুপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি রয়েছে। এসব এলাকায় যারা থাকেন তাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা মোকদ্দমা বছরের পর বছর ধরে চলছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন এসব মামলা রিভিউ করতে।’

মধুপুর, শেরপুর বা পার্বত্য এলাকায় বনভূমিতে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা পুনর্বিবেচনা করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতি হিসেবে গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভা শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন মধুপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি রয়েছে। এসব এলাকায় যারা থাকেন তাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা মোকদ্দমা বছরের পর বছর ধরে চলছে।

‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন এসব মামলা রিভিউ করতে। এগুলো রিভিউ করে যেগুলোর যৌক্তিকতা নেই সেগুলো তুলে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।’

বিস্তারিত আসছে......

শেয়ার করুন

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

ভারত থেকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসছে মাদকদ্রব্য। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভারতের নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর মহাপরিচালক পর্যায়ে সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সভা হয় বুধবার। সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত থেকে আসছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, ইনজেকশন ও হেরোইন।

প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে পাঁচ ধরনের মাদক। কোন মাদক কোন পথে আসছে, তা চিহ্নিত করার পর কারবারিরা পথ পরিবর্তন করছে। একেক ধরনের কারবারি একেক সীমান্ত ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভারতের নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর মহাপরিচালক পর্যায়ে সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সভায় বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

সভায় উপস্থিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তারা জানান, বুধবারের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত থেকে আসছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, ইনজেকশন ও হেরোইন।

কী আলোচনা হয়েছে সভায়

সভায় উভয় পক্ষই সমুদ্রপথকে ব্যবহার করে মাদক চোরাচালান এবং মাদক কারবারিদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন পথ সম্পর্কিত তথ্য বিনিময়, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক নীতিমালা ও বিধি-বিধান নিয়ে তথ্য বিনিময়, ফলপ্রসূ অপারেশনের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময়, মাদকবিষয়ক প্রাসঙ্গিক অপরাপর সম্যক তথ্য বিনিময় এবং যথাসময়ে তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

সভায় মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারতের উদ্যোগ বা কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মণ্ডল।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের ষষ্ঠ সভায় ভারতের সীমান্তে থাকা ফেনসিডিল কারখানার তালিকা দিয়েছিল বাংলাদেশ। তালিকা অনুযায়ী যেসব কারখানা পাওয়া গেছে, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে তারা।

কোন সীমান্ত দিয়ে আসে কোন মাদক

সভায় উপস্থিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন,

দেশে সবচেয়ে বেশি আসছে ফেনসিডিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের তিন দিকের সীমান্ত দিয়েই বাংলাদেশে ফেনসিডিল ঢুকছে।

তিনি জানান, ভারতের সীমান্ত এলাকায় কারখানা স্থাপন করে এ সিরাপ তৈরি করা হচ্ছে। ফেনসিডিল নামটি বেশি পরিচিত হওয়ায় নতুন নতুন নামে এটি তৈরি করে বাংলাদেশে ঢোকানো হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, অন্তত পাঁচটি নামে ফেনসিডিল দেশে আসছে। বোতলজাত অবস্থায় আসার পাশাপাশি বড় ড্রাম ও পলিথিনে করেও সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল আসে।

আগের চেয়ে ফেনসিডিলের ব্যবহার কমলেও সম্প্রতি এটি বেড়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

কোরেক্স, এসকাফ, এমকে ডিল (কোডিন ফসফেট), কোডোকফ নামের ফেনসিডিলজাতীয় এ মাদক আসে ভারত থেকে বাংলাদেশে।

সভায় আলোচনার বরাত দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গাঁজা পাচারের জন্য চোরাকারবারিরা নতুন নতুন পথ তৈরি করছে। বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে গাঁজা বেশি পাচার হয়ে দেশে প্রবেশ করছে।

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

তারা জানান, বাংলাদেশের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে হেরোইন পাচার বেড়েছে। উদ্ধার হওয়া হেরোইন চালান তা-ই নির্দেশ করে।

সভায় বাংলাদেশ জানায়, ইয়াবা পাচারে ভারতের রুটও ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ভারত হয়ে বাংলাদেশে ঢোকানো হয়। ভারতের ত্রিপুরা, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ব্যবহার হচ্ছে এ ক্ষেত্রে।

ভারতকে এ বিষয়ে আরও তৎপর হয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।

ভারত থেকে বিভিন্ন ইনজেকশন প্রবেশ করছে জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে।

দুই দেশের কারবারিরা মাদক কেনাবেচার জন্য ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহার করছে বলে সভায় আলোচনা হয়। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের জন্য হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সভায় বলা হয়, দেশে কোনো মাদক উৎপাদন না হলেও বাংলাদেশ এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। সমস্যা সমাধানে ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলেও সঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে না মিয়ানমারের। ভয়াবহ মাদক ইয়াবা আসছে মিয়ানমার থেকেই। নতুন করে যুক্ত হয়েছে আইস।

এ নিয়ে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে ভারত-বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চায় বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ভারত।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রধানের ভাষ্য

সভায় সার্বিক বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মণ্ডল বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে মাদক পাচারের নতুন নতুন রুট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের কিছু তথ্য দিয়েছি। তারাও কিছু তথ্য দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সীমান্ত থাকায় উভয় দেশ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব বহন করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য দুই দেশই ভূমিকা রাখবে।’

মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করে মাদক সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হতে হবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ মিলে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে। ভারতও এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার মাদক বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। নিলে এ হারে মাদক আসত না।’

মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারতের উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন

অ্যাপ ছাড়া রাইডশেয়ারে আইনি ব্যবস্থা

অ্যাপ ছাড়া রাইডশেয়ারে আইনি ব্যবস্থা

অ্যাপ ছাড়া রাইডশেয়ারিংয়ে ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বলে যাত্রী ও চালকদের সতর্ক করে দিয়েছে বিআরটিএ। ফাইল ছবি

নীতিমালা লঙ্ঘন করে চুক্তিভিত্তিক মোটরযান পরিচালনাসহ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোটরযান মালিক, চালক এবং যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে বিআরটিএ।

রাইডশেয়ারিংয়ে অ্যাপ ব্যবহার না করে চুক্তিভিত্তিক সেবা নিলে যাত্রী ও চালকসহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোটরযান মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

এতে বলা হয়, অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিং সেবায় ‘রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা, ২০১৭’ করেছে সরকার।

নীতিমালা অনুযায়ী, বিআরটিএ থেকে রাইডশেয়ারিং এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নিয়ে রাইডশেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে সেবা প্রদান ও গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট ভাড়া আদায়ের শর্ত রয়েছে।

সম্প্রতি কিছুসংখ্যক মোটরযান চালক নীতিমালা অমান্য করে চুক্তিভিত্তিক রাইডশেয়ারিং সেবা দিচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানতে পেরেছে বিআরটিএ। এটি রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা, ২০১৭-এর পরিপন্থি।

অ্যাপ ছাড়া চুক্তিতে রাইডশেয়ারিং সেবা না নিতে যাত্রীদের অনুরোধ করেছে বিআরটিএ।

নীতিমালা লঙ্ঘন করে চুক্তিভিত্তিক মোটরযান পরিচালনাসহ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোটরযানের মালিক, চালক এবং যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে বিআরটিএ।

অভিযোগ জানাতে একজন সহকারী পরিচালককেও দায়িত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা বলেছে, এ সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ সংস্থাটির রাইড শেয়ারিং শাখার সহকারী পরিচালককে (ইঞ্জিনিয়ারিং) জানাতে। একই সঙ্গে ০১৭১৪৫৫৬৫৭০ এবং ৫৫০৪০৭৪৫ নম্বরে ফোন করা যাবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

পাশাপাশি [email protected] ঠিকানায় ই-মেইলেও অভিযোগ জানানো যাবে।

শেয়ার করুন

ইংরেজিতে প্রকাশ পেল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

ইংরেজিতে প্রকাশ পেল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

‘ফাদার অফ দ্য ন্যাশন: সিলেক্টেড স্পিচেস অফ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ বইটি পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বের নামকরা অনলাইন বুকস্টোরগুলোতে। ছবি: সংগৃহীত

সংকলনটিতে থাকছে বঙ্গবন্ধুর ২৫টি ভাষণ। এতে স্থান পেয়েছে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংসদে ইংরেজি ভাষায় তার দুটি ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর বাকি ২৩টি ভাষণ ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কবি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন।

প্রথমবারের মতো ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্বাচিত ভাষণ সংকলন। এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ফাদার অফ দ্য ন্যাশন: সিলেক্টেড স্পিচেস অফ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’।

অস্ট্রেলিয়া থেকে বইটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা সংস্থা হে পাবলিশিং হাউসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বালবোয়া প্রেস।

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংকলনটিতে থাকছে বঙ্গবন্ধুর ২৫টি ভাষণ। এতে স্থান পেয়েছে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংসদে ইংরেজি ভাষায় তার দুটি ভাষণ।

বঙ্গবন্ধুর বাকি ২৩টি ভাষণ ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কবি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন।

বইয়ের শুরুতে জাতির পিতার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী রাখা হয়েছে। এটির মুখবন্ধ লিখেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে।

বইটির প্রচ্ছদ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এনজি অ্যালিয়া। আর ইংরেজি ভাষার সম্পাদনা করেছেন নিউজিল্যান্ডের পল মেহু।

বালবোয়া প্রেস, অ্যামাজন, বুকটোপিয়াসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন বুকস্টোরগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। বইটির ই-বুক, পেপারব্যাক ও হার্ডকাভারসহ তিনটি সংস্করণে পাচ্ছেন পাঠকরা।

শিগগিরই বাংলাদেশেও বইটি পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্বেষা প্রকাশনের মাধ্যমে বইটি দেশের বাজারে পরিবেশন করা হবে।

কুরিয়ার চার্জসহ দেশে বইটির পেপারব্যাক সংস্করণের দাম পড়বে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং হার্ডকাভার কিনলে দাম আসবে ৪ হাজার টাকা।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ৬ নভেম্বর বইটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। প্রকাশনা উৎসবে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহ্‌রিয়ার আলমের ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, লেখক ও বাঙালি কমিউনিটি নেতারাও উপস্থিত থাকবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংবিধানে যুক্ত করতে রিট

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংবিধানে যুক্ত করতে রিট

ছবি: সংগৃহীত

রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ স্বাধীনের পরে যে সংবিধান হয়েছে, তার কোথাও না কোথাও তো এটি উল্লেখ থাকবে। অথচ সংবিধানের কোথাও মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।’

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানে যুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে।

ছয় জন বীর মুক্তিযোদ্ধার করা গত মঙ্গলবারের রিটটি শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘রিটে সংবিধানের সঙ্গতিপূর্ণ স্থানে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি যুক্ত করার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সে মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।’

রিটে বিবাদী করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে।

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ স্বাধীনের পরে যে সংবিধান হয়েছে, তার কোথাও না কোথাও তো এটি উল্লেখ থাকবে। অথচ সংবিধানের কোথাও মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।’

তার মতে, বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্টভাবে সংবিধানে উল্লেখ না থাকায় ইতিহাস বিকৃতির সম্ভাবনা থাকে।

তিনি বলেন, ‘যাদের জীবনের ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে সংবিধানে তাদের স্বীকৃতি কেন থাকবে না। দেশটি যে একটি যুদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে সেটি সংবিধানে উল্লেখ থাকুক। সে কারণে আমরা রিটটি দায়ের করেছি।’

শেয়ার করুন

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করবে ঢাকা-ব্রাসেলস

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করবে ঢাকা-ব্রাসেলস

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মিসেস থিওডোরা জেনজিসের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশটিতে সফররত পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

এ বিষয়ে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রসচিব ও বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মিসেস থিওডোরা জেনজিসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে দেশটিতে সফরে থাকা পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের।

বাংলাদেশ ও বেলজিয়াম কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। সম্পর্কের এই মাইলফলক উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ও ব্রাসেলস।

এ উপলক্ষে ২০২২ সালে দেশ দুটির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক ও ব্যাবসায়িক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রসচিব ও বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মিসেস থিওডোরা জেনজিসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে দেশটিতে সফরে থাকা পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের।

বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্রাসেলস দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলজিয়ামের ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস ফরেন অ্যাফেয়ার্স, ফরেন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন অফ বেলজিয়ামের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে দুই পক্ষ করোনা পরিস্থিতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ এবং শিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা ও সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। কোভিড-১৯-এর রেড জোন তালিকা থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ারও অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রসচিব।

দুই পররাষ্ট্রসচিব বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে বিশেষ করে আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হন।

বাংলাদেশও বেলজিয়ামের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মিশন গ্রহণের জন্য তার প্রস্তুতির কথা জানায়। জবাবে বেলজিয়ামপক্ষ আরও ব্যাবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময় করতে তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট কোনো জাতীয় ইস্যু নয়, এটি একটি আঞ্চলিক সমস্যা এবং বেলজিয়াম রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।’

পররাষ্ট্রসচিব চতুর্থ বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক পরামর্শে দুই দিনের সফরে বেলজিয়ামে রয়েছেন।

শেয়ার করুন