এটিএম বুথ লুট: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

এটিএম বুথ লুট: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

আদালতে তোলা হচ্ছে আসামিদের। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যাংকের এটিএম বুথ লুটের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লিপ্টন দেব জানান, আসামিদের আদালতে তুলে সাতদিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করা হয়। বিচারক পাঁচদিনে রিমান্ডে দিয়েছেন। ওসমানীনগরে ইউসিবিএল-এর এটিএম বুথে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ডাকাতির এই ঘটনা ঘটে। বুথে ঢুকে নিরপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা লুট করা হয়।

সিলেটের ওসমানীনগরে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) এটিএম বুথে লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

আসামিদের বৃহস্পতিবার দুপুরে জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে তাদের রিমান্ডে পাঠান বিচারক মাহবুবুল হক ভুঁইয়া।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিপ্টন দেব নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আসামিদের আদালতে তুলে সাতদিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করা হয়। বিচারক পাঁচদিনে রিমান্ডে দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন, শামীম আহম্মেদ, নূর মোহাম্মদ, আব্দুল হালিম ও সাফি উদ্দিন জাহির।

এর আগে সকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জাহিরকে।

তিনি জানান, এটিএম বুথ লুটের সঙ্গে জাহির সরাসরি জড়িত এবং এ ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী।

ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর পশ্চিম বাজারের ইউসিবিএল-এর এটিএম বুথে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ডাকাতির এই ঘটনা ঘটে। চার মুখোশধারী বুথে ঢুকে নিরপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে।

এটিএম বুথ লুট: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তারে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিটের কাছে সহযোগিতা চায়।

তদন্তের পর ঢাকা থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জের হাওর এলাকা থেকে শামীম ও তার সহযোগী হালিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছেন যে তারা ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘সিআইডি’ দেখে লুটের এ পরিকল্পনা করেন।

এটিএম বুথ লুট: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

হারুন অর রশীদ বলেন, এই ডাকাতদলের প্রধান শামীম আহম্মেদ। ওমান প্রবাসী শামীম কয়েক বছর আগে দেশে ফেরেন। দেশে এসে তেমন কোনো কাজ-কর্ম করতেন না। প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন শামীম নিয়মিত ভারতের মেগা সিরিয়াল সিআইডি দেখতেন। সেখান থেকেই বুথ লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি।

ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার বলেন, ‘সিসি ক্যামেরায় কালো রংয়ের স্প্রে করা, মুখে কাপড় পেচিয়ে শাবল দিয়ে বুথ ভাঙা সবই ভারতের সিরিয়াল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তারা।’

তিনি জানান, লুটের দশ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকি টাকা দিয়ে আসামিরা জুয়া খেলেছেন।

আরও পড়ুন:
এটিএম বুথে লুট: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহবুবা রায়না। ছবি: সংগৃহীত

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

কিশোরগঞ্জে পাঁচ বছর ধরে স্কুলে না পড়িয়েও বেতন ভাতা তোলা সেই বিতর্কিত শিক্ষিক মেহবুবা রায়নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পরদিনই ওই শিক্ষক চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক রোববার রায়নার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত তার অধীনেই হবে।

তিনি জানান, স্কুলে না গিয়ে মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুব্রত জানান, সোমবার মেহবুবা রায়না উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন।

করিমগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ (সোমবার) দুপুরে ডাকযোগে মেহবুবা রায়নার চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র পেয়েছি। তার আবেদন পত্রে নানা ভুল-ত্রুটি রয়েছে। সেখানে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। চাকরি থেকে কবে তিনি অব্যাহতি নিতে চান সে বিষয়েরও কোনো উল্লেখ নেই।’

এ কর্মকর্তা জানান, অব্যাহতির আবেদনের ক্ষেত্রে তার সামনে সাক্ষর করে আবেদন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রায়না ডাকযোগে আবেদন করেছেন।

তাছাড়া অব্যাহতির বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক সহকারী কর্মকর্তাকেও অবগত করেননি ওই শিক্ষক।

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে রায়নাকে পুনরায় চিঠি পাঠানো হবে।’

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

এরপরপই ফেসবুকে কিশোরগঞ্জ জেলাভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয় সমালোচনা। এই অনিয়মের জন্য জেলা এবং উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়ী করে মন্তব্য করেন অনেকে।

রায়না ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের ওপর স্নাতক শেষ করে এখন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন। তিনি ২০১৬ সালে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০১৪-২০১৫ সেশনে।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ২০১৬ সালে রায়না স্কুলে যোগ দিয়ে তিনমাস নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন। এরপর স্কুলে যাননি টানা তিন বছর। ২০২০ সালের মার্চে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে ছয় মাস মাঝেমধ্যে আসতেন। করোনা শুরু হলে অন্যান্য শিক্ষকরা স্কুলে এলেও তিনি আসেননি এক দিনের জন্যও।

স্কুলটির একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমরা সারা বছর পরিশ্রম করে যে বেতন পাই, রায়না তার কিছুই না করেও একই বেতন পাচ্ছেন।

‘রায়না সরকারি চাকরি করে কর্মস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার বিষয়টি গোপন করেছেন, আবার অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েও চাকরির ব্যাপারটা গোপন করেছেন। তিনি একসঙ্গে দুটি অপরাধ করেছেন।’

রায়নার ফেসবুক প্রোফাইল চেক করে দেখা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার তথ্য সেখানে উল্লেখ করেছেন। তিনি ময়মনসিংহে বসবাস করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ছবি নিয়মিত আপডেটও করেন।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রায়নার নামও বলতে পারেনি। কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘হেই ম্যাডাম পহেলা কয়েকদিন ইস্কুলে আইছে, পরে আর আইছে না। হের লাইগ্যে হেই ম্যাডামের নামটা মনে নাই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মেহবুবা রায়না বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়। পরে তাকে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়।’

তিনি জানান, রায়না চাকরিতে যোগ দেয়ার পর তিনি বিভিন্ন মেয়াদে শুধু মেডিক্যাল ছুটি কাটিয়েছেন ২১৩ দিন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার পর ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তার কৈফিয়ত তলব করা হয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়।

এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি তদন্ত করেন৷ তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি জানান, রায়না ওয়ার্কশিট বিতরণ ও মূল্যায়ন এবং অভিভাকদের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত কোনো কাজেও অংশগ্রহণ করেননি৷ তাকে প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জানালেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি।

পরে রায়নার বেতন বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন মফিজুল ইসলাম। আর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মেহবুবা রায়নাকে শোকজ করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এর জবাব দেন রায়না। কিন্তু জবাব সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় রায়নার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ফাইলটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে রায়নার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে মেসেজ দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তার হোয়াটস অ্যাপ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার বার্তা পাঠানোর পর তিনি নিউজবাংলার প্রতিবেদকে ব্লক করে দেন।

আরও পড়ুন:
এটিএম বুথে লুট: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে

শেয়ার করুন

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যের ৩ দিনের রিমান্ড

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যের ৩ দিনের রিমান্ড

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা দলের সদস্য শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য শামীম হোসেনের তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। মানিকগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আদালতের বিচারক শাকিল আহমদ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এ রায় দেন।

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য শামীম হোসেনের তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

মানিকগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আদালতের বিচারক শাকিল আহমদ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এ রায় দেন।

এর আগে দুপুরে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায় পুলিশের বিশেষ টিম এন্টি টেররিজম ইউনিট।

গ্রেপ্তার শামীম শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মানিকগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শামীম নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একজন সক্রিয় সদস্য। ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রামে উগ্রবাদী কন্টেন্ট প্রচার ও উগ্রবাদী বই দেয়া-নেয়া করতেন।

গোপন তথ্যের মাধ্যমে এন্টি টেররিজম ইউনিট শিমুলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় এন্টি টেররিজম ইউনিটের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়।

আরও পড়ুন:
এটিএম বুথে লুট: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে

শেয়ার করুন

বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা

বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ১২টি মণ্ডপে চলে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ। ছবি: নিউজবাংলা

বিজয়া দশমীর দিন বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের কথা থাকলেও নোয়াখালীর পুলিশের পক্ষ থেকে বেলা ১১টার মধ্যে বিসর্জন শেষ করতে বলা হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই এ অনুরোধ। তবে সবগুলো অস্থায়ী মণ্ডপের প্রতিমা বেলা ১১টার মধ্যে বিসর্জন দেয়া হলেও সন্ধ্যায় আক্রান্ত হয় চৌমুহনীর ১১টি মন্দির।

কুমিল্লা, চাঁদপুরের পর বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটে নোয়াখালীতে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবং শুক্রবার দুপুরে একই উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় ১১টি পূজামণ্ডপে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

হামলায় প্রাণ হারান প্রান্ত চন্দ্র দাশ নামে এক যুবক, আতঙ্কে হৃদরোগে মারা যান যতন সাহা নামে আরেকজন। লুটপাট করা হয় মন্দিরের আসবাব, স্বর্ণালংকার, ভাঙচুর করা হয় প্রতিমা।

হামলার শিকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অভিযোগ, প্রশাসনের অনুরোধে বিজয়া দশমীর দিন সকালেই অস্থায়ী সব মণ্ডপের দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছিল। এরপরেও হামলা হয় সন্ধ্যায়। এই সহিংসতা ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

হামলার ভয়াবহতা এখনও দৃশ্যমান

বেগমগঞ্জে সহিংসতা চলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ১২টি মণ্ডপেই ভয়াবহ হামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রথম হামলা চালানো হয় উপজেলার ছয়ানী বাজার এলাকার শ্রীশ্রী সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে। পুরো মন্দিরে অক্ষত বলে কিছুই নেই। মাটিতে পড়ে আছে গুঁড়িয়ে দেয়া প্রতিমা।

বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা

এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সবাই ব্যস্ত ছিলেন দেবীর আরাধনায়। মাগরিবের নামাজের পর হঠাৎ করে শুরু হয় হামলা। শতাধিক মানুষের একটি মিছিল থেকে রাস্তার পাশে হিন্দুদের বাড়িতে প্রথম হামলা হয়। হামলাকারীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে অন্ধকারের মধ্যে লুটপাট চালায়। এরপর হামলা হয় মণ্ডপে।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রথমেই হামলা হয় স্থানীয় শীল পরিবারের বাড়িতে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ৫০ হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার লুট হওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। ভাঙচুর করা হয়েছে ঘরের আসবাব ও প্রতিমা। এ সময় গুরুতর আহত সুমন চন্দ্র শীল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পরিবারের প্রবীণ সদস্য নিমাই চন্দ্র শীল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা কল্পনাও কইরতে পারি নাই এমন হামলা হইব। মণ্ডপে মাত্র দুইজন পুলিশ আছিলো। হেতারা হামলা দেখি দৌড়াই পলাই গেছে। আমার পোলারে পিডি দিয়া পুরা শরীর ফাডাই ফালাইছে। হেতে অহন হাসপাতালো আছে। ঘরের প্রতিমাও ভাঙ্গি শেষ করি হালাইছে।’

কারা হামলা করেছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেগ্গুইন ১৮-১৯ বছরিয়া পোলাহাইন, দুই একটার মাথায় টুপি ও গায়ে পাইঞ্জাবি আছিলো। হেতেরা কে আমরা চিনিনো। শুধু আংগর ধর্মরে লই গালাগালি কইরতে কইরতে ভাঙচুর কইচ্চে।’

বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা

পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজের পর হামলা হয় চৌমুহনী পৌর এলাকায় ১১টি মণ্ডপে। বাদ যায়নি নোয়াখালীর প্রধান ইসকন মন্দিরও। ওই হামলার পর শনিবার সকালে ইসকন মন্দিরের পুকুরেই পাওয়া যায় প্রান্ত চন্দ্র দাস নামে এক ভক্তের মরদেহ। মন্দিরের আর তিনজন ভক্তও গুরুতর আহত হয়েছেন।

মন্দিরের ফটক দিয়ে ঢুকলেই চোখে পড়ে ধ্বংসযজ্ঞ। অফিসকক্ষ, মন্দিরের বিপণিবিতান, বেকারি, খাবার হল, ভক্তদের আশ্রম, উপাসনালয় সবখানেই হামলার চিহ্ন। আগুন দেয়া হয়েছে ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল প্রভুপাদের ভাস্কর্যে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে দুটি রথ ও ভক্তদের মোটরসাইকেল।

ভক্তরা দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় হামলা হয়। ঘটনার তিন দিন পরও ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খাবারের পাত্র দেখা গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মন্দিরের উঠানে সহিংসতার শিকার হন এক ভক্ত। প্রথমে তার চুল কেটে দেয়া হয়, পরে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয়া এবং মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়। মন্দিরের উঠানে দেখা গেছে রক্তের দাগ, পাশেই পড়ে ছিল কেটে ফেলা চুলের টিকি।

মন্দিরের অধ্যক্ষ রসপ্রিয় দাস নিউজবাংলাকে আক্ষেপভরা কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনীতিতে নেই, আশপাশের সব ধর্মের ভাইদের নিয়ে মিলেমিশে থাকি, কারও সঙ্গে কোনো বিভেদ নেই। আমরা কোন দোষে এমন নৃশংস হামলার শিকার হলাম? আমাদের একটাই দাবি, প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত করে এর বিচার করুক।’

বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা

ইসকন মন্দিরের আশপাশের আরও ১০টি মন্দির ও মণ্ডপের চিত্রও একই রকম। ভাঙচুর-লুটপাট, অগ্নিসংযোগ চলেছে চৌমুহনীর রাধামাধব জিউর মন্দির, শ্রীশ্রী লোকনাথ মন্দির, শ্রীশ্রী শিব মন্দির, রাম ঠাকুর সেবাশ্রম মন্দির, শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দির, চৌমুহনী দুর্গা মন্দির, চৌমুহনী ত্রিশূল মন্দির, চৌরাস্তা মহাশ্মশান মন্দির, নব দুর্গা মন্দির ও মহামায়া মন্দিরে।

সহিংসতা পরিকল্পিত

বেগমগঞ্জে মন্দিরে হামলার পাশাপাশি চলেছে লুটপাট। প্রতিটি জায়গায় প্রতিমা ভাঙচুরের সময় লুট করা হয়েছে নগদ অর্থ ও প্রতিমা সাজানোর অলংকার। সব মন্দিরেই লোহার সিন্দুক ভাঙা দেখা গেছে।

মোবাইল ফোনে ধারণ করা বেশকিছু ভিডিওতে দেখা যায়, চৌমুহনী কলেজ রোড ধরে হাজারো মানুষ মিছিল নিয়ে মন্দিরগুলোর দিকে ছুটে যাচ্ছে। মিছিলে পাঞ্জাবি পরিহিতরা নেতৃত্ব দিলেও হামলা-লুটপাটে মূলত অংশ নিয়েছে শার্ট-প্যান্ট পরা কিশোর-যুবকেরা।

নোয়াখালী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিনয় কিশোর রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই হামলার পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই করা হয়েছে। কুমিল্লার ঘটনাকে পুঁজি করে আমাদের এখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতেই বিএনপি-জামায়াত-শিবির পরিকল্পনা করে হামলা করেছে।

‘তবে জামায়াত-বিএনপি-শিবিরের মাঝে আরও একটি পক্ষ ঢুকে গিয়েছিল লুটপাট করার জন্য। তারা শুধু টাকা আর স্বর্ণ চুরি করতেই হামলাকারীদের সঙ্গে মিশে গেছে। তারা হাতুড়ি, শাবল নিয়ে এসেছিল, যা দিয়ে বড় বড় লোহার সিন্দুক ভেঙেছে।’

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীনও দাবি করছেন, এই সহিংসতা ‘জামায়াত-শিবিরের কাজ’।

বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা

এই দাবির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর এই বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জে তাকে চাঁদে দেখার গুজব ছড়িয়ে একই কায়দায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর তাণ্ডব চালানো হয়েছিল। তাছাড়া এবারের হামলার অসংখ্য ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে বিএনপি-জামায়াতের চিহ্নিত কয়েকজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’

বেগমগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় মোট ১৮টি মামলায় হয়েছে। এসব মামলার এজাহারনামীয় আসামি ২৮৫ জন, আর অজ্ঞাতনামা আসামি প্রায় পাঁচ হাজার। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলাম সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে জানান, এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯০ জনকে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত কর্মীর সংখ্যা কত সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান সিকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসামিদের মধ্যে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছে। তদন্তাধীন বিষয়ে এ নিয়ে বিস্তারিত বলার সুযোগ নেই।’

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ তাদের এবং জামায়াতকে এই হামলার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এগুলো স্থানীয় আওয়ামী লীগের অপরাজনীতি ও কোন্দলের ফল। স্থানীয় মেয়র ও এমপির মাঝে দলীয় কোন্দল আছে। তাদের দুই পক্ষের ঝামেলার জন্য এমনটা হয়েছে। এখানে বিএনপি-জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

‘তাছাড়া দেশে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও দেশজুড়ে ভোগান্তি থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে আওয়ামী লীগই এই হামলা চালিয়েছে। দেশে কিছু হলেই তো সব দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে দেয় সরকার। তারা তো শুধু সুযোগ খোঁজে কখন বিএনপির নেতা-কর্মীদের মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করা যায়। এখন এই ইস্যু তৈরি করে আমাদের কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে।’

বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা

প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ব্যর্থ

বেগমগঞ্জের ছয়ানী ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলার পরপরই সতর্ক অবস্থান নেয়ার দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরদিন শুক্রবার বিজয়া দশমীতে বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের কথা থাকলেও নোয়াখালীর পুলিশের পক্ষ থেকে শুক্রবার বেলা ১১টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন শেষ করার অনুরোধ জানায় প্রতিটি মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই এ অনুরোধ করা হয়। সে অনুযায়ী, সব অস্থায়ী মণ্ডপের প্রতিমা শুক্রবার বেলা ১১টার মধ্যেই বিসর্জন হয়ে যায়। এই সময়ের পর যেসব স্থায়ী মণ্ডপ ও মন্দিরে প্রতিমা ছিল, সেগুলো বিসর্জনের কথা আগামী দুর্গা পূজার আগে।

হামলার শিকার মন্দিরসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব ধরনের নির্দেশনা মেনে চলার পরেও হামলার ঘটনায় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে সহিংসতা চললেও তা ঠেকাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এগিয়ে আসেনি।

বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা

নোয়াখালী হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিনয় কিশোর রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কুমিল্লা, চাঁদপুরের পর বেগমগঞ্জের ছয়ানীতে হামলার পর আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তাদের পরামর্শে আমরা বিকেলের পরিবর্তে সকালেই প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছি। এরপরেও যখন হামলা হলো তখন আমরা পুলিশ ও এমপি সাহেবকে টেলিফোন করে সহযোগিতা চেয়েছি। তারা আসছেন আসছেন করে তিন ঘণ্টা পার হলো। এর মধ্যে আমাদের মন্দিরগুলোতে তিন দফা হামলা লুটপাট হলো। যখন সব শেষ তখন পুলিশ এসেছে। এটা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বড় ধরনের ব্যর্থতা।’

এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নোয়াখালী ৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি। তবে হামলা প্রতিহত করতে না পারাকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে রাজি নন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন শাহীন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আসলে বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা ঘটে যাবে। আগের দিন ছয়ানীতে মন্দিরে হামলার পরই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, পরদিন সকালেই প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে, যেন জুমার নামাজের পর মুসল্লিরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ না পায়। সকালে ঠিকঠাক বিসর্জন হয়ে যাওয়ার পর আমরা সবাই মোটামুটি নিশ্চিত ছিলাম- আর কোনো অঘটন ঘটবে না। হঠাৎই শুনি হামলার ঘটনা। এটা আমাদের জন্য বড় একটা শিক্ষা হয়েছে।’

বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা

মন্দিরে হামলার সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের এগিয়ে না আসার অভিযোগ অস্বীকার করে শাহীন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা খবর পেয়েও আসেননি এ কথা ভুল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের যারাই কাছাকাছি ছিলেন ছুটে গিয়েছিলেন। এমনকি স্থানীয় এমপির ছেলে নিজে সেখানে ছুটে গিয়েছিল, কিন্তু তারা সংখ্যায় কম ছিল বলে উল্টো হামলার শিকার হয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।’

চৌমুহনীর প্রতিটি মন্দিরে দুইজন করে পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। হামলা শুরু হলে তারা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততার কথা বলে তিনি এড়িয়ে যান।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকালে প্রতিমা বিসর্জন হয়ে যাওয়ায় আর হামলা হতে পারে বলে আমাদের মনে হয়নি। তাছাড়া পুলিশে লোকবল সংকট রয়েছে।

‘হামলা শুরুর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, টিয়ার শেলও ছোড়া হয়েছে কয়েক রাউন্ড, কিন্তু ওইসব সামাল দিতে গুলি চালাতে হতো। তখন এতটাই টাফ সিচুয়েশন ছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় পুলিশও ছিল নিরুপায়।’

আরও পড়ুন:
এটিএম বুথে লুট: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে

শেয়ার করুন

সহিংসতা: কুমিল্লায় ৮ মামলায় ৩ কাউন্সিলরসহ ১০৫৫ আসামি

সহিংসতা: কুমিল্লায় ৮ মামলায় ৩ কাউন্সিলরসহ ১০৫৫ আসামি

কুমিল্লায় সহিংসতার ঘটনায় আসামি করা হয়েছে কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন (বাঁ থেকে), ইকরাম হোসেন বাবু ও কাজী গোলাম কিবরিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

যে কাউন্সিলরদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী গোলাম কিবরিয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোশাররফ হোসেন ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইকরাম হোসেন বাবু। জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই কাউন্সিলররা বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলার আসামি।

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগের জেরে সহিংসতার ঘটনায় ৮টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৩ কাউন্সিলরসহ ১০৫৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এসব মামলায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৪ জনকে।

যে কাউন্সিলরদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী গোলাম কিবরিয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোশাররফ হোসেন ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইকরাম হোসেন বাবু।

জানা গেছে, জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই কাউন্সিলররা। বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের ডিআইও-ওয়ান মনির আহমেদ এই তথ্যগুলো নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি, সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দি থানায় ৮টি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোতোয়ালিতে ৪০ এবং সদর দক্ষিণে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছি আসামিদের কারও কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আছে কি না। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

আরও পড়ুন:
এটিএম বুথে লুট: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে

শেয়ার করুন

ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় বাসচালক গ্রেপ্তার

ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় বাসচালক গ্রেপ্তার

স্যাপার এম.এ রহিম পরিবহনের চালক আনসার আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চালকের বরাত দিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির এলআইসির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া সৌখিন পরিবহনের একটি বাস ও স্যাপার এমএ রহিম পরিবহনের বাসের প্রতিযোগিতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

ময়মনসিংহের ত্রিশালে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় সাতজন নিহতের ঘটনায় বাসের চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নরসিংদীর মনোহরদি থেকে সোমবার সকালে স্যাপার এমএ রহিম পরিবহনের চালক আনসার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া সৌখিন পরিবহনের একটি বাস ও স্যাপার এমএ রহিম পরিবহনের বাসের প্রতিযোগিতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির এলআইসির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর এসব তথ্য জানিয়েছেন।

চালক আনসার আলীকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে মুক্তা ধর বলেন, গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ৪২ যাত্রী নিয়ে শেরপুরের ঝিনাইগাতী বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয় স্যাপার এমএ রহিম নামের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১১-০১৪৮)।

একই সময় ও স্থান থেকে সৌখিন পরিবহনের একটি বাস প্রায় ৫০ যাত্রী নিয়ে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় সম্পূর্ণ রাস্তায়ই চালকরা প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালাতে থাকেন। ত্রিশালের চেলেরঘাট এলাকায় পৌঁছালে প্রতিযোগিতার একপর্যায়ে স্যাপার এমএ রহিম বাসটি দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বিকল ড্রাম্প ট্রাকটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

আহত ১০-১২ জনকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যান। ঘটনার পরপরই চালক আনসার আলী পালিয়ে যান।

ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন, দুই শিশু, দুই নারী ও তিনজন পুরুষ। এর মধ্যে একই পরিবারের চারজন ছিলেন। তারা হলেন- আজমল মণ্ডল ফজু, তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম, তাদের পাঁচ বছরের ছেলে আমানুল্লাহ ও আট বছরের মেয়ে মারিয়া আক্তার আজমিনা। এ ছাড়া নজরুল ইসলাম, সিরাজ ও হেলেনা নামে তিনজন মারা যান।

এ ঘটনায় ত্রিশাল থানায় স্যাপার বাস ও ট্রাকের অজ্ঞাত চালকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ মামলার ছায়া তদন্ত করে আজ সকালে চালক আনসার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন:
এটিএম বুথে লুট: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে

শেয়ার করুন

প্রকল্প ছাড়াই তোলা ১৮ লাখ টাকা ফেরত দিলেন সেই চেয়ারম্যান

প্রকল্প ছাড়াই তোলা ১৮ লাখ টাকা ফেরত দিলেন সেই চেয়ারম্যান

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন।

কারণ দর্শানোর নোটিশের পর ৩ অক্টোবর ভ্যাট ও আয়করের ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯২৩ টাকা এবং ৬ অক্টোবর ভূমি হস্তান্তর কর বরাদ্দের তুলে নেওয়া সাড়ে ১৮ লাখ টাকা পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে প্রকল্প ছাড়াই ভূমি হস্তান্তর কর বরাদ্দের তুলে নেয়া সেই সাড়ে ১৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন ৩ নম্বর দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন।

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্পে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি হস্তান্তর কর (১ শতাংশ) বরাদ্দের ব‌্যাংক হিসাব নম্বরে এই টাকা জমা করেন চেয়ারম্যান। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভ্যাট ও আয়কর হিসেবে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকাও জমা করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে।

এ ছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের এই চেয়ারম‌্যান ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউপি সচিব নুরজামান মিয়া।

রোববার বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রোকসানা বেগম।

নিউজবাংলাকে ইউএনও বলেন, ‘শোকজের লিখিত জবাব গত বৃহস্পতিবার আমার দপ্তরে জমা পড়েছে। শোকজের জবাব গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা বেগমের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া উত্তোলন করা সাড়ে ১৮ লাখ টাকা ও আয়কর বাবদ আড়াই লাখ টাকা জমার কথা জানিয়েছেন তিনি।’

এর আগে ‘প্রকল্পের নেই খোঁজ, চেয়ারম্যানের ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন’-শিরোনামে ১০ অক্টোবর নিউজবাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ‌্যমে খবর প্রকাশের পর জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সরকারি বরাদ্দের টাকা গোপনে তুলে নেয়ার ওই ঘটনায় পরিষদের মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝেও ক্ষোভ দেখা দেয়।

প্রকল্প ছাড়াই টাকা তোলার ঘটনাটি ধরা পড়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে নথিপত্র যাচাইয়ে। এতে প্রকল্প ছাড়াই সাড়ে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ভ্যাট ও আয়কর হিসেবে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা জমা না দেয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

ওই ঘটনার পর চেয়ারম‌্যান সাজেদুলকে ২৯ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশে (শোকজ) এক সপ্তাহের মধ‌্যে লিখিত জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা বেগম।

সেই নোটিশের পর ৩ অক্টোবর ভ‌্যাট ও আয়করের ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯২৩ টাকা এবং ৬ অক্টোবর ভূমি হস্তান্তর কর বরাদ্দের তুলে নেওয়া সাড়ে ১৮ লাখ টাকা পরিষদের ব‌্যাংক হিসাবে জমা করা হয়।

ইউপি সচিব মো. নুরজামান মিয়া বলেন, ‘সোনালী ব‌্যাংক সাদুল্লাপুর শাখার হিসাব নম্বরে এসব টাকা জমার রশিদ এবং ট্রেজারি চালানের কপি ইউএনওসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’

তার দাবি, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় টিউবওয়েল, স্প্রে মেশিন বিতরণ ও কালভার্টসহ উন্নয়ন প্রকল্পের চলমান কাজগুলোও হচ্ছে ভূমি হস্তান্তর কর বরাদ্দের টাকায়। এ কারণে জমা দেয়ার পর ওই টাকা ফের তুলে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা বেগম জানান, চেয়ারম‌্যান স্বাধীনের লিখিত জবাব ইউএনওর মাধ‌্যমে পাঠানো হয়েছে। তার জবাব পর্যালোচনা করাসহ সরেজমিনে অভিযোগগুলো তদন্ত করেই পরবর্তী ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
এটিএম বুথে লুট: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে

শেয়ার করুন

নেথোয়াই মারমা হত্যায় পাহাড়ি আঞ্চলিক দল: এমপি দীপংকর

নেথোয়াই মারমা হত্যায় পাহাড়ি আঞ্চলিক দল: এমপি দীপংকর

গুলিতে নিহত চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী নেথোয়াই মারমা। ছবি: নিউজবাংলা

বিবৃতিতে দীপংকর বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিছুদিন বন্ধ ছিল। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা আবারও সহিংসতা শুরু করেছে।’

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হত্যায় পার্বত্য আঞ্চলিক দলগুলোকে দায়ী করেছেন জেলার সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার।

হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার বিকেলে গণমাধ্যমকে দেয়া বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে দীপংকর বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে আঞ্চলিক দলগুলো বেছে বেছে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। তারা নেথোয়াই মারমাকে হত্যা করেনি, হত্যা করেছে দেশের গণতন্ত্রকে। নেথোয়াইয়ের অপরাধ ছিল গণতান্ত্রিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছিলেন। এর আগে জুরাছড়ির অরবিন্দ চাকমা, বিলাইছড়ির সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যাসহ অনেক নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিছুদিন বন্ধ ছিল। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা আবারও সহিংসতা শুরু করেছে।’

কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নে শনিবার রাত ১টার দিকে একদল অস্ত্রধারী নেথোয়াই মারমার বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি ১১ নভেম্বরের চিৎমরম ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।

এই হত্যায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছেন কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী।

রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, ময়নাতদন্ত শেষে নেথোয়াইয়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনার জেরে ভোটের তারিখ পিছিয়ে ২৮ নভেম্বর করা হয়েছে বলে রোববার বিকেলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার।

আরও পড়ুন:
এটিএম বুথে লুট: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে

শেয়ার করুন