শনিবারকে টার্গেট করে ডাকাতি

শনিবারকে টার্গেট করে ডাকাতি

ডাকাতির ঘটনায় দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনই পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য। তাদের কাছ থেকে দামি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ধরনের অস্ত্র তারা কোথায় পেয়েছেন, এর পেছনে ইন্ধনদাতা কারা, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

সিসিটিভি এড়িয়ে ডাকাতির পর দ্রুত পালিয়ে যেতে সপ্তাহের শনিবারকে বেছে নিয়েছিল একটি ডাকাত দল।

শনিবারকে টার্গেট করে এরই মধ্যে তারা বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনাও ঘটিয়েছে।

গত ২৮ আগস্ট মতিঝিলে ৬০ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনার ছায়া তদন্ত করতে মাঠে নামে গোয়েন্দা পুলিশ।

সূত্র ধরে বুধবার দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল ও ৫০টি গুলি জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জলিল মোল্লা, রিয়াজ ও দীপু। তারা সরাসরি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। জলিলের বিরুদ্ধে চারটি ডাকাতির মামলা এবং রিয়াজ ও দীপুর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, লুট করা টাকা দিয়ে তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। ডাকাতি করা টাকা দিয়ে তারা জমিই বেশি কিনতো।

তবে ডাকাতির জন্য তারা কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে, বিপুল পরিমাণ টাকা কীভাবে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে এসব বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনই পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য। তাদের কাছ থেকে দামি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্রটির দাম ১২ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে। এ ধরনের অস্ত্র তারা কোথায় পেয়েছে, এর পেছনে ইন্ধনদাতা কারা, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হবে। ডাকাতির ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাস কন্ডাক্টর থেকে মানবাধিকার সংস্থার প্রধান, অঢেল সম্পদ

বাস কন্ডাক্টর থেকে মানবাধিকার সংস্থার প্রধান, অঢেল সম্পদ

প্রতারণার অভিযোগে অস্ত্রসহ শাহীরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব বলছে, প্রতারণার অভিযোগ আড়াল করতে অফিসের ঠিকানা বদলান শাহীরুল। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের বদলে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বেনামী মানবাধিকার সংস্থা খুলে নিজেকে চেয়ারম্যান পরিচয় দিতেন। তিনি চাকরি দেয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত রাজধানীর সৌখিন পরিবহনে কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন শাহীরুল ইসলাম সিকদার। ২০০৩ সালে নিরাপত্তা কর্মী সরবরাহের কাজ শুরু করেন তিনি। চাকরি দেয়ার নামে করতেন প্রতারণা।

টাকা চাইতে আসলে পরিচয় দিতেন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। কোমরে ও টেবিলে রাখতেন বিদেশি অস্ত্র। অফিস ও বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে সেগুলো ব্যবহার করতেন প্রতারণার কাজে।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহীরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৪। গ্রেপ্তারের পর শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর শাহীরুলের দুই বাসায় অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান, একটি এয়ারগান, একটি এয়ার রাইফেল, ২৩৭ রাউন্ড গুলি, পাঁচটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি খালি খোসা, ২২টি কার্তুজ, চারটি ছুরি ও তিনটি ডামি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের চাকরির আবেদন ফরম, চুক্তিপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ব্যানার, প্যাড, স্ট্যাম্প, ল্যাপটপ, ডেক্সটপ, গোপন ক্যামেরা, পাসপোর্ট, ভিজিটিং কার্ড, আইডি কার্ড, নেইম প্লেট, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, পাসপোর্ট, মানি রিসিভ বই, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে র‍্যাব।

বাহিনীটি বলছে, রাজধানীতে শাহীরুলের বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট ও জমিসহ দৃশ্যমান প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার কথিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিসেস লিমিটেড, হোমল্যান্ড ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ, মানবাধিকার সংস্থা, শাহীরুল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, হোমল্যান্ড হাউজিং, হোমল্যান্ড বেভারেজ অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মাদারল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড, শাহীরুল ইসলাম বাংলাদেশ আউট সোর্সিং অ্যান্ড পাওয়ার সাপ্লাইয়ার্স অ্যাসোশিয়েশন।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, ‘শাহীরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী আমাদের কাছে অভিযোগ দেন। এদের অভিযোগের পর র‍্যাবের গোয়েন্দারা ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে আমরা জানতে পারি, শাহীরুল নিজেকে একটি কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান এবং ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেড’ নামের ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।’

‘তিনি চাকরি দেয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এসব অভিযোগে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় শাহীরুলের নিজের বাসা ও প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

যেভাবে শাহীরুলের উত্থান

র‍্যাব জানিয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক পাস শাহীরুল কর্মজীবন শুরু করেন গাড়ির ব্যবসা দিয়ে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সৌখিন পরিবহনে কন্ডাক্টারের কাজ করেছেন তিনি। এরপর শুরু করেন প্রতারণার ব্যবসা।

২০০৩ সালে নিরাপত্তা কর্মী সরবরাহ প্রতিষ্ঠান চালু করেন। এরপর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান করেন। অল্প সময়ে বিপুল টাকার লোভে ২০১৪ সালে রামপুরায় ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান খুলে শুরু করেন অর্থ আত্মসাৎ।

বাস কন্ডাক্টর থেকে মানবাধিকার সংস্থার প্রধান, অঢেল সম্পদ
শাহীরুলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দেশি-বিদেশি অস্ত্র। ছবি: নিউজবাংলা

বাহিনীটি বলছে, এরপর থেকে তিনি অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হতে শুরু করেন। প্রতারণার অভিযোগ আড়াল করতে অফিসের ঠিকানা বদলান শাহীরুল। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের বদলে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বেনামী মানবাধিকার সংস্থা খুলে নিজেকে চেয়ারম্যান পরিচয় দিতেন।

এছাড়া ক্ষমতা দেখানোর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে সেগুলো দেখাতেন। এছাড়া বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি।

প্রতারণার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার ও শিক্ষিত বহু নারী-পুরুষকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ড, ড্রাইভার, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী, বিক্রয় কর্মকর্তা, লাইনম্যান হিসেবে চাকরি দেয়ার নামে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন শাহীরুল।

শাহীরুলের প্রতারণার কৌশল

র‍্যাব জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতে চাকরির চটকদার বিজ্ঞাপন দিতেন শাহীরুল। দেশের শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীরা বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে আবেদন করলে কৌশলে তার পরিচালিত কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিতেন।

এজন্য চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ১৫-২৫ হাজার টাকা জামানত হিসেবে নিতেন শাহীরুল। এছাড়া সরকারি চাকরি দেয়ার কথা বলে পাঁচ-দশ লাখ টাকা নিতেন তিনি।

র‍্যাব জানিয়েছে, নিজেকে শুটিং ক্লাবের সদস্য বলে পরিচয় দিতেন শাহীরুল। চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, ইউনিফরম ও আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবেও টাকা নেয়া হতো। এভাবে নামেমাত্র নিয়োগ দিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

পরে ভুক্তভোগীরা শাহীরুলের অফিস বা বাসায় ঘোরাঘুরি করেও টাকা ফেরত পেত না। টাকা চাইলে অবৈধ অস্ত্র দেখিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখাতেন শাহীরুল। এছাড়া নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবেও পরিচয় দিতেন তিনি।

র‍্যাব বলছে, শাহীরুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অপরাধে ডিএমপির রামপুরা থানায় চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মামলা রয়েছে।

কী পরিমাণ সম্পদ শাহীরুলের রয়েছে এমন প্রশ্নে র‍্যাব কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘২০০৩ সাল থেকে তিনি প্রতারণায় জড়িত। সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় দুটি বাড়ি, দুটি ফ্ল্যাট, দুটি গাড়ি ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় তার নামে ২৪ কাঠা জমির তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার সম্পদ আমরা পেয়েছি। তবে ব্যাংক, ফিক্সড ডিপোজিট, স্বজনদের নামে কী পরিমাণ সম্পদ আছে, সেটি এখনও জানা যায়নি।’

অস্ত্রগুলো শাহীরুল কোথায় থেকে কিনেছেন বা সংগ্রহ করেছেন সেটি জানতে চাইলে র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, ‘উনি বলেছেন, সবগুলোর লাইসেন্স রয়েছে। তবে কোনোটারই লাইসেন্স দেখাতে পারেননি।’

শেয়ার করুন

কাজের খোঁজে ঢাকায় এসে খোয়ালেন সব

কাজের খোঁজে ঢাকায় এসে খোয়ালেন সব

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়া তিনজনকে শনিবার ভোররাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ব্রিজের ঢালে ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা তিন কাজপ্রত্যাশী। ধারালো অস্ত্র, স্ক্রু দিয়ে তাদের আঘাত করে দুই ছিনতাইকারী। শেষে তাদের কাছে থাকা তিনটি মোবাইল, তিন হাজারের মতো টাকাও নিয়ে যায় দুই দুর্বৃত্ত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ গুলজার, জিলানী ও মুজিবুর রহমান। কাজের খোঁজে তারা ঢাকায় আসেন শুক্রবার মধ্যরাতে।

রাত তিনটার দিকে গন্তব্যে যেতে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকা থেকে গাড়ি ঠিক করছিলেন, কিন্তু ভাড়া সাধ্যের বাইরে হওয়ায় হেঁটেই রওনা হন। তাতেও দেখা দেয় বিপত্তি।

ব্রিজের ঢালে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা তিন কাজপ্রত্যাশী। ধারালো অস্ত্র, স্ক্রু দিয়ে তাদের আঘাত করে দুই ছিনতাইকারী। শেষে তাদের কাছে থাকা তিনটি মোবাইল, তিন হাজারের মতো টাকাও নিয়ে যায় দুই দুর্বৃত্ত।

কোতোয়ালি থানার পুলিশ ভোররাতে ওই তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সকালে হাসপাতাল ছাড়েন তারা।

কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ বলেন, ‘বাবুবাজার বুড়িগঙ্গা ব্রিজের ঢালে ওরা চিৎকার করছিল। তখন আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি।’

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়।

শেয়ার করুন

কুমিল্লার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় ইসলামী আন্দোলন

কুমিল্লার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় ইসলামী আন্দোলন

কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার অভিযোগে ভেঙে ফেলা হয় দুর্গাপূজার প্রতিমা। ফাইল ছবি

চরমোনাই পীর বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা ও তার পরের ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি করতে হবে। এখানে কুমিল্লায় কোরআন অবমাননা, বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙা, রংপুরে বাড়িঘরে আগুন দেয়া এবং চাঁদপুরে বিক্ষোভে গুলি করা, সব ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে। সে কমিটির তদন্ত রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনসন্মুখে প্রকাশ করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।’

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা, তা নিয়ে হামলা ও সহিংসতার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

দলীয় কার্যালয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন তিনি। কুমিল্লার ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী আন্দোলন।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা ও তার পরের ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি করতে হবে। এখানে কুমিল্লায় কোরআন অবমাননা, বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙা, রংপুরে বাড়িঘরে আগুন দেয়া এবং চাঁদপুরে বিক্ষোভে গুলি করা, সব ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে। সে কমিটির তদন্ত রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনসন্মুখে প্রকাশ করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।’

তিনি দাবি করেন, তার দল জনসম্পৃক্ত শান্তিকামী সংগঠন। তারা আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর সমাধান করতে চান। পেশীশক্তি নির্ভর হঠকারী রাজনীতি তারা করেন না। তারা জনগণের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি যেসব দাবি করেন সেগুলো হলো, ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন করতে হবে। সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে কোনো ধরনের ধর্ম অবমাননার ঘটনা ঘটলে জনতা আর সহিংস হয়ে উঠবে না।

রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের অতি বাচাল প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। মানুষের আবেগ-অনুভূতির জায়গায় আঘাত করে মন্তব্য করার প্রবণতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তারই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অতি বাচাল তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

দেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফেরাতে বিরোধী দলগুলোর ওপরে দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে। আটক রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

শাসন ব্যবস্থায় জনতার মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে এবং সহনশীল, বহুদলীয়, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করে এবং তাদের নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে।

গণবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে গুলি করার মতো চরমপন্থা অবলম্বন করার প্রবণতা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি সরকারিভাবে নির্মাণ করে দিতে হবে। চাঁদপুরে পুলিশের গুলিতে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত সকল ব্যক্তি ও পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

দেশের একশ্রেণির মিডিয়া, রাজনৈতিক সংগঠন ও তথাকথিত সুশীল সমাজ এই ধরনেরর ঘটনায় যেভাবে ধর্মকে কেন্দ্র করে একচোখা বয়ান দাঁড় করায়, তা বন্ধ করতে হবে। বাঙালি জাতির ইতিহাস ও মনস্তত্ত্ব বিরোধী তাদের এই ধরনের বয়ান নির্মাণের পেছনে কোনো দুরভিসন্ধি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।

প্রতিবেশী দেশকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘একদিকে করোনার কারণে মানুষের আয় কমে যাওয়া, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের এই সীমাহীন বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা।

‘নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের প্রধান কাজগুলোর একটি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলে, সরকার এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি পণ্য উৎপাদন ও ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত সময়ে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম সরাতে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

আরও কর্মসূচি

আগামী ২৭ অক্টোবর দেশের চলমান সংকট ও তা থেকে উত্তরণের লক্ষে দেশের পীর-মাশায়েখ, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী ও সমাজকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে বলে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান

র‍্যাব কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘শাহীরুল নিজেকে মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনও নিজেকে সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় দিতেন। এসব পরিচয়ে আড়ালে প্রতারণা করতেন। বিশেষ করে রামপুরা এলাকায়। তাকে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

কথিত একটি মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে শাহীরুল ইসলাম সিকদার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এসময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে বাহিনীটি।

শনিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৪ এর অপারেশন অফিসার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল।

তিনি বলেন, ‘শাহীরুল নিজেকে মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনও নিজেকে সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় দিতেন।

‘এসব পরিচয়ে আড়ালে প্রতারণা করতেন। বিশেষ করে রামপুরা এলাকায়। তাকে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

র‍্যাব কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘শাহীরুলের প্রতারণার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে। বিকেল ৪টায় কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।’

শেয়ার করুন

যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের পাশে গাড়ির ধাক্কায় যুবক নিহত

যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের পাশে গাড়ির ধাক্কায় যুবক নিহত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শনিবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত যুবকের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। ছবি: বুলবুল চৌধুরী/নিউজবাংলা

পুলিশের ভাষ্য, গুরুতর আহত অবস্থায় শফিকুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ফুট ওভারব্রিজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় শফিকুল ইসলাম (২৬) নামের যুবক নিহত হয়েছেন।

শনিবার সকালের দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

শফিকুলের গ্রামের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলায়। তাকে কোন গাড়ি ধাক্কা দিয়েছে, তা জানা যায়নি।

পুলিশের ভাষ্য, গুরুতর আহত অবস্থায় শফিকুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে যাত্রাবাড়ী ফুট ওভারব্রিজের সামনে থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এসআই জানান, ওই যুবক রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। পরে রাস্তার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, গাড়িটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। যুবকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন

রায়েরবাগ থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

রায়েরবাগ থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

নিহতের স্বামী বলেন, ‘আমার একটি মোবাইলের দোকান রয়েছে। আমি দোকান থেকে এসে দেখি বাসার রুমের দরজা বন্ধ। পরে দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করলে দরজা না খোলায় দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখতে পাই ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে ঝুলে রয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে চিকিৎসক জানান আমার স্ত্রী আর নেই।’

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ গোবিন্দপুর এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরহেদ উদ্ধার করা হয়েছে।

খাদিজা আক্তার নামের ২১ বছর বয়সী ওই নারীর দুই মাসের একটি শিশুসন্তান রয়েছে।

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে খাদিজার স্বামী মাসুক মিয়া জানান, বাসায় এসে দরজা বন্ধ দেখতে পান তিনি। পরে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় খাদিজাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে খাদিজার।

স্বামী মাসুক বলেন, ‘আমার একটি মোবাইলের দোকান রয়েছে। আমি দোকান থেকে এসে দেখি বাসার রুমের দরজা বন্ধ। পরে দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করলে দরজা না খোলায় দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখতে পাই ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে ঝুলে রয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে চিকিৎসক জানান আমার স্ত্রী আর নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার দুই মাসের একটি সন্তান রয়েছে, কী কারণে সে গলায় ফাঁস দিল আমি বলতে পারছি না।’

মাসুক জানান, তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীগঞ্জে। আর তার স্ত্রীর বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। পরিবার নিয়ে থাকতেন যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগের গোবিন্দপুরে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক

ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক

বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। ছবি: সিমু নাসের

ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনের উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী তুহিন কান্তি দাস বলেন, ‘এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য দেশব্যাপী চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একাত্ম হয়ে সাংস্কৃতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো। মিছিল, বক্তৃতা, সভা ও সেমিনারের চেয়ে শিল্প অনেক শক্তিশালী প্রতিবাদের মাধ্যম৷ তাই আমরা এই মাধ্যমকেই বেছে নিয়েছি।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কনসার্টের আয়োজন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিমনা একদল শিক্ষার্থী।

বেলা ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে কনসার্ট শুরু হয়। রাত ১০টায় শেষ হয় এ কনসার্ট। ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

কনসার্টে শিরোনামহীন, মেঘদল, সহজিয়াসহ ১২টি ব্যান্ড দল গান পরিবেশন করে। গানের পাশাপাশি হয়েছে মূকাভিনয়, একক গান, নৃত্য ও থিমেটিক পারফরম্যান্স।

গানের দলগুলোর মধ্যে রয়েছে শিরোনামহীন, মেঘদল, সহজিয়া, শহরতলী, বাংলা ফাইভ, গানপোকা, কৃষ্ণপক্ষ, কাল, অবলিক, অসৃক, গানকবি ও বুনোফুল৷

এ ছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করেছেন জয় শাহরিয়ার, তুহিন কান্তি দাস, সাহস মোস্তাফিজ, লালন মাহমুদ, নাঈম মাহমুদ, প্রিয়াংকা পাণ্ডে, যশ নমুদার, তাবিব মাহমুদ, রানা, উদয়, অপু, উপায় ও অনিন্দ্য৷

উম্মে হাবিবা ও আবু ইবনে রাফি নৃত্য পরিবেশন করেছেন। মূকাভিনয় পরিবেশন করেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। এ ছাড়া কনসার্টে একটি সমবেত ‘থিমেটিক পারফরম্যান্স’ পরিবেশন করা হয়।

বিকেলের দিকে কনসার্ট শুরু হলেও সন্ধ্যার দিকে কনসার্ট জমজমাট হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এই কনসার্ট উপভোগ করেন।

ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনের উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী তুহিন কান্তি দাস বলেন, ‘এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য দেশব্যাপী চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একাত্ম হয়ে সাংস্কৃতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো। মিছিল, বক্তৃতা, সভা ও সেমিনারের চেয়ে শিল্প অনেক শক্তিশালী প্রতিবাদের মাধ্যম৷ তাই আমরা এই মাধ্যমকেই বেছে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবাদের ভাষা গান, নৃত্য ও কবিতা। আমরা এই কনসার্টের মাধ্যমে দেশবাসীকে সহিংসতা প্রতিহতের বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা চাই এ দেশের মানুষ হিন্দু-মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে সবাই বাংলাদেশি পরিচয়ে পরিচিত হোক। এটাই আজকের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।’

শেয়ার করুন