এটিএম বুথে লুট: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার

এটিএম বুথে লুট: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার

এসপি বলেন, ‘এটিএম বুথ লুটের ঘটনা খুব বিরল। এ ধরনের ঘটনা আমাদের বিস্মিত করেছে। এমন ডাকাতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে।’

সিলেটের ওসমানীনগরের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) এটিএম বুথে লুটের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পাড়িয়া গ্রাম থেকে বুধবার সন্ধ্যায় সাফি উদ্দিন জাহির নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

নিজ কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

তিনি জানান, এটিএম বুথ লুটের সঙ্গে জাহির সরাসরি জড়িত এবং এ ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। তার কাছ থেকে একটি পালসার মোটরসাইকেল এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি শাবল জব্দ করা হয়েছে।

এসপি বলেন, ‘এটিএম বুথ লুটের ঘটনা খুব বিরল। এ ধরনের ঘটনা আমাদের বিস্মিত করেছে। এমন ডাকাতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে।’

ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর পশ্চিম বাজারের ইউসিবিএলের এটিএম বুথে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে। চার মুখোশধারী বুথে ঢুকে নিরপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে।

বুথের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ডাকাতদের মধ্যে তিনজনের মাথায় লাল কাপড় বাঁধা ছিল, একজনের মাথায় ছিল টুপি।


ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তারে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিটের কাছে সহযোগিতা চায়।

তদন্তের পর ঢাকা থেকে নূর মোহাম্মদ নামের এক দর্জিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জের হাওর এলাকা থেকে ডাকাতির ঘটনায় শামীম আহম্মেদ ও তার সহযোগী আব্দুল হালিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছেন যে তারা ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘সিআইডি’ দেখে লুটের এ পরিকল্পনা করেন।

হারুন অর রশীদ বলেন, এই ডাকাতদলের প্রধান শামীম আহম্মেদ। ওমানপ্রবাসী শামীম কয়েক বছর আগে দেশে ফেরেন। দেশে এসে তেমন কোনো কাজকর্ম করতেন না। প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন শামীম নিয়মিত ভারতের মেগা সিরিয়াল সিআইডি দেখতেন। সেখান থেকেই বুথ লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘সিসি ক্যামেরায় কালো রঙের স্প্রে করা, মুখে কাপড় প্যাঁচিয়ে শাবল দিয়ে বুথ ভাঙা- সবই ভারতের সিরিয়াল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তারা।’

তিনি জানান, লুটের ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকি টাকা দিয়ে আসামিরা জুয়া খেলেছে।

আরও পড়ুন:
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে
ঈদ ছুটি: বুথে টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পীরগঞ্জ হামলার মাস্টারমাইন্ড কে?

পীরগঞ্জ হামলার মাস্টারমাইন্ড কে?

পীরগঞ্জের করিমপুরে হিন্দুপল্লিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে ব্রিজের কাছে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু হলেও পরে একে একে সব বাড়িতে তাণ্ডব চলে। তবে কার নেতৃত্বে এই তাণ্ডব শুরু হয়, সেটি বোঝা যায়নি।  

পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু গ্রামে সাম্প্রদায়িক হামলার মূল পরিকল্পনায় কারা ছিলেন, সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গজ দূরেই পাশের বটতলা মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলামকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হামলার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। বাড়িতেও কেউ নেই।

প্রতিবেশীরা বলছেন, হামলার পর থেকেই রবিউলের বাড়ির সব সদস্য গা ঢাকা দিয়েছেন।

দুই বছর ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করছিলেন রবিউল। তাকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্থানীয়রা জানান, রোববার মাগরিবের নামাজের পর ঘটনাস্থলের দক্ষিণ পাড়ায় ফেসবুকে ধর্ম অবমাননায় অভিযুক্ত পরিতোষের বাড়িতে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানরা।

এ সময় মসজিদের মুয়াজ্জিন রাশেদসহ অনেকেই মসজিদের পাশে বটতলা বাজারে ছিলেন। রাশেদও সেদিন থেকে পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার শুরু ফেসবুক থেকে

মেহেদী হাসান নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘ঘটনার দিন রোববার সকালে একটি পেজে কমেন্ট করে পরিতোষ সরকার। এটি নজরে আসে খেজমতপুর বউবাজার এলাকার উজ্জ্বল হাসানের।

‘উজ্জ্বল ও পরিতোষ পূর্বপরিচিত। পরিতোষকে গালি দিয়ে ওই কমেন্ট ডিলিট করতে বলে উজ্জ্বল। এ নিয়ে ফোনে এবং কমেন্ট বক্সে দুজনের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় কমেন্ট ডিলিট করবে না বলে জানায় পরিতোষ।’

তিনি বলেন, “ঘটনার পর উজ্জ্বল বলে, ‘সমস্যা নাই, স্ক্রিনশট রেখে দিছি। বাড়ি গেলে তোরে খেলা দেখাব। মুসলমানরা খেপে গেলে তোর ধর্ম উঠে যাবে। বাড়ি গেলে বটের হাটে সবচেয়ে বড় গাছে তোকে বেঁধে রাখব।’

উজ্জ্বল হাসানের মা রোজিনা খাতুন দাবি করেন, ঘটনার আগের দিন শনিবার দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চাকরিতে যোগ দেন উজ্জ্বল। সেখানে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেন তিনি। সেখান থেকে ফেসবুকে এসব দেখে শেয়ার দেন উজ্জ্বল।

স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে পরিতোষের ওই কমেন্ট উজ্জ্বল হাসান তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার দেন। সেখান থেকে মুহূর্তেই শত শত শেয়ার হতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়ায়।

করিমপুর হাজিপাড়ার মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ফেসবুকে পরিতোষের ছবি নিয়া বিকাল থাকি উত্তেজনা। সন্ধ্যার পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। এ সময় আশপাশের কিছু ছেলে পরিতোষের বাড়ি ভাঙচুর করতে চায়। তবে এলাকাবাসী বাধা দেয়।’

তিনি বলেন, ‘এ সময় চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলামকে খবর দেয়া হয়। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকেও খবর দেয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ, বিজিবি ও ইউএনও আসেন। তারা উত্তেজিত জনতার সঙ্গে কথা বলেন। এমন করতে করতে রাত সাড়ে ৮টা পার হয়। প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিতোষকে গ্রেপ্তারের কথা বলে। মানুষজন শান্ত হয়।’

কীভাবে হামলা হলো হিন্দুপল্লিতে

স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামনাথপুরের করিমপুর দক্ষিণ পাড়ায় (হাজিপাড়া) পরিতোষের বাড়িতে ছিল প্রশাসনের লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ উত্তর পাড়ার হিন্দুপল্লির দিকে আগুন দেখা যায়।

তারা জানান, বটতলা মসজিদের পাশে ব্রিজের কাছেই রুহিনী চন্দ্র দাসের বাড়িতে গিয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে ভাঙচুর করা হয়। এরপর ভাঙচুর করা হয় ভবেশ চন্দ্র দাসের বাড়িতে। অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে অংশ নেয় শত শত হামলাকারী।

পীরগঞ্জ হামলার মাস্টারমাইন্ড কে?
সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন বটের হাট জামে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে ব্রিজের কাছে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু হলেও পরে একে একে সব বাড়িতে তাণ্ডব চলে। তবে কার নেতৃত্বে এই তাণ্ডব শুরু হয়, সেটি বোঝা যায়নি।

রুহিনী চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার বাড়িতে যখন ভাঙচুর করে তখন পালায়ে যাই। রাস্তাত দেখি শোঠা পীরের ওই দিক থেকেও লোক আসতেছে।’

করিমপুর দক্ষিণ পাড়ায় (হাজিপাড়া) যেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নিয়েছিল, সেখান থেকে ঘটনাস্থল উত্তর পাড়ার মধ্যে রয়েছে বিশাল ধানক্ষেত। এর দূরত্ব ২৫০ মিটার। পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে আসতে সময় লাগবে অন্তত ৫ মিনিট।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, হিন্দুপল্লিতে আগুন দেয়ার পর দূর থেকেই রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিকেল থেকেই আসতে থাকে মোটরসাইকেল

রামনাথপুরে ঢোকার মুখে পীরগঞ্জের খেজমতপুরের ঘেগার তলে মুদি ব্যবসা করেন ফিরোজ কবির।

তিনি বলেন, ‘রোববার বিকাল হতে না হতে অনেক মোটরসাইকেল যাওয়া শুরু করে। আমরা বলি এত গাড়ি যায় কই। সন্ধ্যার পর আরও বেশি যাওয়া শুরু করে। আমি তো এই মোড়ে ব্যবসা করি। তিন গ্রামের মানষোক চিনি। তবে যারা গেছে তাদের চিনি নাই। যারা গেছে তারা আমাদের গ্রামের লোক নয়।’

বড় মজিদপুর দক্ষিণ পাড়ার মুদি দোকানি মাহবুব রহমান বলেন, ‘এত মোটরসাইকেল সেই দিন কুটি থাকি আইচচে বলতে পারি না। লোকগুলেক আগে দেকিও নাই। কেম্বা অপরিচিত লাগছিল।’

বটতলা বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, ওই দিন হাটের দিন হওয়ায় শত শত মানুষ ব্রিজের কাছে বটতলা বাজারে অবস্থান নেন।

তারা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় এসেছিলেন। অনেকেই দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখছিল।

হামলা ঠেকাতে পারেননি ইউপি চেয়ারম্যানও

রামনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অসহায় ভাই। অনেক চেষ্টা করেছি যেন কোনো সমস্যা না হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পারিনি।’

রিমান্ডে ৩৭ জন

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলার তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলায় ৩৭ আসামিকে বৃহস্পতিবার তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বাহিনীটির একটি সূত্র জানিয়েছে, রিমান্ডে থাকা অনেকেই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন:
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে
ঈদ ছুটি: বুথে টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

শেয়ার করুন

কোরআন রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল

কোরআন রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল

কুমিল্লা পুলিশ লাইনে ইকবাল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

কুমিল্লা শহরে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইকবাল ওই মণ্ডপে কোরআন রাখার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা। 

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন ইকবাল হোসেন।

কুমিল্লা শহরে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইকবাল কোরআন রাখার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।

তিনি জানান, মণ্ডপে কোরআন রাখার পর হনুমানের মূর্তি থেকে গদা সরিয়ে নেয়ার কথাও পুলিশের কাছে বলেছেন ইকবাল। তবে কার নির্দেশে এই কাজ করেছেন, তা এখনও ইকবাল জানাননি।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর থেকেই ইকবাল অসংলগ্ন আচরণ করছেন।

কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশ লাইনে নেয়ার পর থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট।

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইকবালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখান থেকে তাকে শুক্রবার দুপুরে নেয়া হয় কুমিল্লা পুলিশ লাইনে।


কুমিল্লা জেলা পুলিশের ডিআইও মনির আহমেদ জানান, বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ইকবালের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।


পরে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টার দিকে এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান মণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসে মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা যুবকের নাম ইকবাল হোসেন। ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

কোরআন রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল
মণ্ডপে কোরআন রাখায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবালের ফাইল ছবি (বাঁয়ে), কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে (ডানে)

ইকবালের সহযোগী সন্দেহে ইকরামসহ অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কুমিল্লা নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদও রয়েছেন। এই মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়ে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইকবাল গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত এবং আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে
ঈদ ছুটি: বুথে টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

শেয়ার করুন

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়

কুমিল্লার মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার ইকবালকে শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কক্সবাজারের এসপি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার ভোরে তাকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল। দুপুর ১২টায় বহরটি পৌঁছে জেলা পুলিশ লাইনে। সেখানেই রাখা হয়েছে ইকবালকে।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় গ্রেপ্তার ইকবাল হোসেনকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা নেয়া হয়েছে।

ইকবালকে বহনকারী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মাইক্রোবাসটি শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে প্রবেশ করে। ইকবালকে এখন সেখানেই রাখা হয়েছে।

জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ইকবালকে পুলিশ লাইনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট জিজ্ঞাসাবাদ করবে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইকবালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কক্সবাজারের এসপি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার ভোরে তাকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল। সহকারী পুলিশ সুপার সোহান ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন।

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়
ইকবালকে নিয়ে এই গাড়িবহর কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় পৌঁছায় শুক্রবার দুপুর ১২টায়

ইকবালকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই অভিযানটি কক্সবাজার জেলা পুলিশের নয়, কুমিল্লা জেলা পুলিশের। আমরা তাদের সাহায্য করেছি।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল কী জানিয়েছেন তা বলেননি পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, ইকবালের বিষয়ে বিস্তারিত সব তথ্যই কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানাবে।

ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ইকবালই কুমিল্লার ইকবাল।’

কক্সবাজারের গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকা ইকবালের ছবি সংগ্রহ করে কুমিল্লায় তার মা আমেনা বেগমকে দেখিয়েছেন নিউজবাংলার কুমিল্লা প্রতিবেদক।

আমেনা বেগমও নিশ্চিত করেন, ছবিটি তার ছেলে ইকবাল হোসেনের।

কুমিল্লা জোলা পুলিশের ডিআইও মনির আহমেদ জানান, বিকালে সংবাদ সম্মেলনে ইকবালের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়
কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর চলে ভাঙচুর

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

পরে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টার দিকে এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান মণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়
মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার পর হনুমানের গদা হাতে হেঁটে যাওয়া ইকবাল

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসে মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা যুবকের নাম ইকবাল হোসেন। ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মণ্ডপে কোরআন রাখায় যে চক্রটি জড়িত, ইকবাল তাদের একজন। তিনি কোরআন রাখার পর ভোরে আরেক অভিযুক্ত ইকরাম হোসেন (৩০) ঘটনাস্থল থেকে ৯৯৯-এ কল করেন।

ইকবালের সহযোগী সন্দেহে ইকরামসহ অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কুমিল্লা নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদও রয়েছেন। এই মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়ে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল।

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়
প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রওনা হন মণ্ডপের দিকে

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের যে অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়, সেখানে শুরুতে প্রবেশে ব্যর্থ হয়েছিলেন প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন। এরপর তিনি গিয়েছিলেন ওই মণ্ডপ থেকে কিছুটা দূরে দিগম্বরীতলার গুপ্ত জগন্নাথ মন্দিরে।

মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কুমিল্লায়
এই মন্দিরের তালা ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল

আরও পড়ুন: কোরআন রাখতে আরেকটি মন্দিরেও গিয়েছিলেন ইকবাল


মন্দিরটির গেটের তালা লাঠি দিয়ে ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল। এরপর আবার ফিরে আসেন নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে। এ সময় পূজাসংশ্লিষ্টদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি কোরআন শরিফটি হনুমানের ওপর রাখেন। মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর কোরআন রেখে হনুমানের গদা হাতে ফিরে আসেন ইকবাল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইকবাল গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত এবং আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে
ঈদ ছুটি: বুথে টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

শেয়ার করুন

কুমিল্লার সহিংসতায় আহত দিলীপের মৃত্যু

কুমিল্লার সহিংসতায় আহত দিলীপের মৃত্যু

নিহত দিলীপ দাস। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘কুমিল্লার সহিংসতায় আহত দিলীপ দাসকে ১৩ তারিখ রাত দেড়টার দিকে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ তারিখে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।’

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার জেরে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় আহত দিলীপ দাসের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া।

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার সহিংসতায় আহত দিলীপ দাসকে ১৩ তারিখ রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন তিনি।

‘পরে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ তারিখে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’

দিলীপের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে রাখা রয়েছে বলেও জানান বাচ্চু মিয়া।

নিহতের ভাই অর্জুন কুমার দাশ জানান, ১৩ তারিখ মনোহরপুর রাজেশ্বরী মন্দিরে পূজার জন্য যান দিলীপ। তখনই সেখানে হামলা হয়। মণ্ডপ লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। ইটের টুকরা গিয়ে লাগে দিলীপের মাথায়।

স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়।

কুমিল্লা মহানগর পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত দাস টিটু বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। তার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। এ সহিংসতায় কুমিল্লার ১৭ পূজামণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন।’

কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর হোসেন বলেন, ‘আহত দিলীপ দাসের মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত বলা হবে।’

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আরও পড়ুন:
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে
ঈদ ছুটি: বুথে টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে

কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে

মণ্ডপে কোরআন রাখায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবালের ফাইল ছবি (বাঁয়ে), কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে (ডানে)। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল কী জানিয়েছেন তা বলেননি কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ইকবালের বিষয়ে বিস্তারিত সব তথ্যই কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানাবে। ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ইকবালই কুমিল্লার ইকবাল।’

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনকে কক্সবাজার থেকে নেয়া হচ্ছে কুমিল্লায়।

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কক্সবাজারের এসপি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার ভোরে তাকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় পুলিশের একটি দল।

পুলিশ বহরের নেতৃত্বে আছেন কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহান।

ইকবালকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই অভিযানটি কক্সবাজার জেলা পুলিশের নয়, কুমিল্লা জেলা পুলিশের। আমরা তাদের সাহায্য করেছি।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল কী জানিয়েছেন তা বলেননি পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, ইকবালের বিষয়ে বিস্তারিত সব তথ্যই কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানাবে।

ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ইকবালই কুমিল্লার ইকবাল।’

কক্সবাজারের গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকা ইকবালের ছবি সংগ্রহ করে কুমিল্লায় তার মা আমেনা বেগমকে দেখিয়েছেন নিউজবাংলার কুমিল্লা প্রতিবেদক।

আমেনা বেগমও নিশ্চিত করেন, ছবিটি তার ছেলে ইকবাল হোসেনের।

কুমিল্লা জোলা পুলিশের ডিআইও মনির আহমেদ জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টর দিকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছে যাবে ইকবালকে বহনকারী পুলিশের বহরটি। বিকালে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর চলে ভাঙচুর

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

পরে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টার দিকে এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান মণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।

কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার পর হনুমানের গদা হাতে হেঁটে যাওয়া ইকবাল

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসে মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা যুবকের নাম ইকবাল হোসেন। ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মণ্ডপে কোরআন রাখায় যে চক্রটি জড়িত, ইকবাল তাদের একজন। তিনি কোরআন রাখার পর ভোরে আরেক অভিযুক্ত ইকরাম হোসেন (৩০) ঘটনাস্থল থেকে ৯৯৯-এ কল করেন।

ইকবালের সহযোগী সন্দেহে ইকরামসহ অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কুমিল্লা নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদও রয়েছেন। এই মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়ে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল।

কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রওনা হন মণ্ডপের দিকে

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের যে অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়, সেখানে শুরুতে প্রবেশে ব্যর্থ হয়েছিলেন প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন। এরপর তিনি গিয়েছিলেন ওই মণ্ডপ থেকে কিছুটা দূরে দিগম্বরীতলার গুপ্ত জগন্নাথ মন্দিরে।

কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
এই মন্দিরের তালা ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল

আরও পড়ুন: কোরআন রাখতে আরেকটি মন্দিরেও গিয়েছিলেন ইকবাল


মন্দিরটির গেটের তালা লাঠি দিয়ে ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল। এরপর আবার ফিরে আসেন নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে। এ সময় পূজাসংশ্লিষ্টদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি কোরআন শরিফটি হনুমানের ওপর রাখেন। মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর কোরআন রেখে হনুমানের গদা হাতে ফিরে আসেন ইকবাল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইকবাল গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত এবং আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে
ঈদ ছুটি: বুথে টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

শেয়ার করুন

কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীকে হত্যা: ২ ‘হত্যাকারী’ শনাক্ত

কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীকে হত্যা: ২ ‘হত্যাকারী’ শনাক্ত

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম রাহাত। ফাইল ছবি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা হত্যাকারী দুজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম রাহাতকে ক্যাম্পাসের ভেতর ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে হত্যাকারীদের পরিচয় নিশ্চিতের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন ছাত্রলীগ নেতা বলে জানা গেছে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা হত্যাকারী দুজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি জানিয়ে ওসি বলেন, ‘লাশ এখনও ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হবে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।’

ওসি হত্যায় সন্দেহভাজন দুজনের নাম প্রকাশ না করলেও প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের একজনের নাম সামসুদ্দোহা সাদী ও অপরজনের নাম তানভীর আহমদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে চাচাতো ভাই রাফিকে নিয়ে কলেজে যান রাহাত। কলেজ ক্যাম্পাস থেকে তারা যখন বের হয়ে আসছিলেন তখন সিলভার রঙের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন সাদী ও তানভীর।

কলেজ ফটকের ২০-২৫ গজ ভেতরে রাহাতকে দেখতে পেয়ে মোটরসাইকেল থামান তারা। এরপর নেমেই রাহাতের উরুতে ছুরিকাঘাত করেন সাদী। সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাহাত। আর ছুরিকাঘাতের পরই মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় সাদী ও তানভীর।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশের একাধিক সূত্র।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত সামসুদ্দোহা সাদী কলেজের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের দায়ে তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সাদী ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। তিনি সিলেট ছাত্রলীগের কাশ্মীর বলয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র। তার বাড়ি দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানা এলাকার সিলাম পশ্চিমপাড়া গ্রামে। অপর অভিযুক্ত তানভীরও একই এলাকার বাসিন্দা।

আর নিহত রাহাতের বাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরাতন তেতলি এলাকায়।

এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা কলেজের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম জানান, কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কলেজে তিন দিন পাঠদান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষা চলবে।

আরও পড়ুন:
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে
ঈদ ছুটি: বুথে টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

শেয়ার করুন

কলেজছাত্র হত্যার অভিযোগে ৪ যুবক আটক

কলেজছাত্র হত্যার অভিযোগে ৪ যুবক আটক

ছুরিকাঘাতে নিহত কলেজছাত্র মো. আকাশ। ছবি: নিউজবাংলা

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মো. আকাশ হত্যার অভিযোগ পেয়ে বুধবার রাতে পুলিশ অভিযানে নামে। এরপর রাত ৩টার দিকে চার যুবককে আটক করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে এক কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

সদর উপজেলার উজানিসার গ্রাম থেকে বুধবার রাত ৩টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

আটক চার যুবক হলেন উজানিসার গ্রামের শেখ রিফাত হোসেন, মো. রিয়াজ, শেখ মোফাজ্জল ও মো. হাবিবুল্লাহ।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম এই আটকের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মো. আকাশ হত্যার অভিযোগ পেয়ে বুধবার রাতে পুলিশ অভিযানে নামে। এরপর রাত ৩টার দিকে চার যুবককে আটক করা হয়।

১৮ বছর বয়সী আকাশ চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুলতানপুর গ্রামে সুলতান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় আকাশকে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন তার চার বন্ধু।

আহতরা হলেন মো. ফায়েজ, মো. আরমান, মো. রাকিব ও মো. মাসুম।

মাসুম জানান, সুলতানপুর গ্রামের দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে ওই এলাকার শেখ রিফাত বসে গাঁজা খান। এ নিয়ে আকাশের সঙ্গে বুধবার সকালে তার তর্কাতর্কি হয়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করলে তারা সরে যান।

এরপর বিকেলে সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যান তিনি ও আকাশসহ এলাকার কয়েকজন বন্ধু। ছুরি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সন্ধ্যায় সেখানে তাদের ওপর হামলা চালান রিফাত ও তার সহযোগীরা।

স্থানীয় লোকজন আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ছুরিকাহত আকাশকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:
‘ভারতীয় সিরিয়াল দেখে’ এটিএম বুথে লুট
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে ‘লুটপাটের’ নেপথ্যে কী
এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে
ঈদ ছুটি: বুথে টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

শেয়ার করুন