গ্যাস সংকট কাটাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চিন্তা

গ্যাস সংকট কাটাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চিন্তা

প্রতীকী ছবি

সিলেট অঞ্চলের ক্ষেত্রগুলোতে খনন করা হচ্ছে নতুন নতুন কূপ। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্ষেত্র ও কূপগুলোয় আরও গভীরে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।

দেশে চলমান গ্যাস সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে উৎপাদন ব্যবস্থা। র‌্যাশনিং করা হচ্ছে সিএনজি স্টেশনগুলোতে। আমদানি করা এলএনজিতে মিটছে না চাহিদা।

এ অবস্থায় দেশের প্রচলিত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন বাড়াতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে সিলেট অঞ্চলের ক্ষেত্রগুলোতে খনন করা হচ্ছে নতুন নতুন কূপ। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্ষেত্র ও কূপগুলোয় আরও গভীরে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ কাজে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে কাজে লাগাতে চায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলো শেষ হলে দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়বে। এতে সংকট কিছুটা হলেও কমবে। তবে যতক্ষণ তা না হচ্ছে, ততক্ষণ ব্যাকআপ হিসেবে থাকবে এলএনজি আমদানি ও তার ব্যবহার।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা করতে যা যা করা দরকার, সরকার সেটা করছে। আগামীতে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সংহত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ এর যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, সেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই নিরাপত্তার জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। আশা করি, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সব ধরনের সংকট দূর করা সম্ভব হবে।’

তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মাদ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশে গ্যাস উত্তোলনে সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করতে চায়। এজন্য বাপেক্সও নিজেকে প্রস্তুত করেছে। সরকারও আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমরা সহযোগিতা পাচ্ছি।’

জ্বালানি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, সরকার তার নিয়মিত গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বাড়াতে চাইছে। এরই অংশ হিসেবে চলমান কূপের পাশাপাশি ওয়ার্কওভার (নতুন ও গভীর) কূপ খনন করা হচ্ছে।

এর বেশির ভাগই সিলেট বিভাগে। বাপেক্সের নতুন তিনটি কূপ থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়বে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। এ ছাড়া, আরও কয়েকটি কূপ খননের কাজ চলমান আছে। এই সব প্রকল্প শেষ হলে দেশে ক্রমশ বাড়তে থাকা গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে খরচ ধরা হয়েছে ১৬৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

এর আওতায় সিলেটের জৈন্তাপুর, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ গ্যাস ক্ষেত্রে তিনটি নতুন কূপ খনন বা ওয়ার্কওভার করা হচ্ছে। এগুলো হলো সিলেট গ্যাস ক্ষেত্র, কৈলাসটিলা গ্যাস ক্ষেত্র ও বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্র।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে রূপকল্প-২ এর আওতায় এই নতুন গ্যাসকূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটা বাস্তবায়ন করছে সরকারি কোম্পানি বাপেক্স।

সূত্র জানায়, এর মধ্যে সিলেট গ্যাস ক্ষেত্রের ৮ নম্বর কূপের খননকাজ শেষ হবে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে। কৈলাসটিলা গ্যাস ক্ষেত্রের ৭ নম্বর কূপের খনন শেষ হবে ২০২২ সালের এপ্রিলে ও বিয়ানীবাজার-১ কূপের খনন শেষ হবে আগামী বছরের মাঝামাঝি বা জুন নাগাদ।

বাপেক্স সূত্র বলছে, নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই তাদের প্রকল্প শেষ হবে। ফলে গ্যাসের যে সংকট চলমান আছে, তা অনেকাংশে কমে আসবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, এরই মধ্যে ওয়ার্কওভার অপারেশনের কাজ এবং বাপেক্সের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। শেষ হয়েছে দরপত্র ও মালামাল সংগ্রহের কাজ। এখন চলছে দরপত্র মূল্যায়ন, যা প্রায় শেষ পর্যায়ে। শেষ হয়েছে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগের কাজও। পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরে। বর্তমানে সিলেট-৮ নম্বর কূপের (জৈন্তাপুর এলাকায়) রিগ ফাউন্ডেশন মডিফিকেশন কাজ চলমান আছে। এই কূপের লোকেশেন শ্রীকাইল-৪ কূপ খনন শেষে বিজয়-১৮ রিগ মবিলাইজেশন শুরু হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, গ্যাস সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় রূপকল্প-২ খনন প্রকল্পের আওতায় জকিগঞ্জ-১ অনুসন্ধান কূপ খনন এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি খননের কাজ শুরু হয়। খননের সময়সীমা ঠিক করা হয়েছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এর আগেই এই কূপটির সফল খনন শেষ করে বাপেক্স। এতে ব্যয় হয় ৮৭ কোটি ২২ লাখ টাকা।

এদিকে এরই মধ্যে জকিগঞ্জ-১ কূপে ২ হাজার ৯৮১ মিটার খনন সম্পন্ন করে ৪টি জোনে ডিএসটি সম্পন্ন করেছে বাপেক্স। কূপটির ২ হাজার ৮৭০ মিটার গভীরে ৬৮ বিসিএফ বা বিলিয়ন ঘনফুট বাণিজ্যিক গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ আগস্ট জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসে জকিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রকে দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।

বর্তমানে জকিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় জকিগঞ্জ-১ কূপের বিজয়-১২ রিগ ডাউন করে মেইন্যানটেনেন্সের কাজ চলমান আছে এবং এই কাজ শেষে সালদা নদী-২ ওয়ার্কওভারের উদ্দেশ্যে মবিলাইজেশন শুরু হবে।

অন্যদিকে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলায় অবস্থিত ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রেটির দুইটি কূপ খননের কাজ চলমান আছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এই কূপ খননে বাপেক্সের নিজস্ব অর্থায়নে ফেঞ্চুগঞ্জ-৩ কূপ এবং ফেঞ্চুগঞ্জ-৪ কূপ ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চলছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রে বিজয়-১০ রিগের মাধ্যমে ফেঞ্চুগঞ্জ-৪ কূপ ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করা হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১০-১২ এমএমসিএফ হারে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।

বর্তমানে একই রিগ ফেঞ্চুগঞ্জ-৩ কূপ ওয়ার্ক ওয়ার্কওভারের লক্ষ্যে মবিলাইজেশন সম্পন্ন করে ওয়ার্কওভার কাজ শুরু করা হয়েছে।

এছাড়া সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)-এর হরিপুর স্ট্রাকচারে সরকারি অর্থায়নে ডিসেম্বর ২০১৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ মেয়াদকালে ১৭১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেট-৯ নম্বর কূপ খনন হচ্ছে।

এরই মধ্যে সিলেট-৯ নম্বর কূপটির খনন শেষে গ্যাস গ্যাদারিং পাইপলাইন নির্মাণ করে চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে দিনে ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জালালাবাদ গ্যাস সরবরাহ এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

গ্যাস সংকট কাটাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চিন্তা
সম্প্রতি সিলেটের হরিপুর গ্যাস ক্ষেত্রে চারটি স্তরে গ্যাসের অবস্থান চিহ্নিত করেছে বাপেক্স

আরও যা ভাবা হচ্ছে

দেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলা ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে আরও কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে বন্ধ হয়ে যাওয়া খনি ও কূপগুলোর আরও গভীরে অনুসন্ধান। একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে দেশের হাইপ্রেশার জোনগুলোতে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কূপ খনন করা। এইসব কাজে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও কার্যকর করে তোলা হবে।

গ্যাস সংকটের কারণ

বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৪৩০ কোটি ঘনফুট। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পেট্রোবাংলা মোট সরবরাহ করে ৩১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে ২৪২ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি ছিল ১২০ কোটি ঘনফুট।

গত দশকের প্রথম দিকে সরকারের নানা কার্যক্রমে দেশের দৈনিক গ্যাস উৎপাদন বেড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছিল। বর্তমানে তা কমে ২৪০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে।

কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন

বর্তমানে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে দিনে ২৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস মিলছে। জ্বালানি বিভাগের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর গ্যাসের দৈনিক উৎপাদন ২৩০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসতে পারে।

নতুন বড় কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে ২০২২-২৩ সালে দেশের ক্ষেত্রগুলো থেকে দিনে গ্যাস উৎপাদন ১৮ দশমিক ৪ কোটি ঘনফুট কমতে পারে। ২০২৩-২৪ সালে দৈনিক উৎপাদন ৪৩ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট কমে যেতে পারে। এ সময় শেভরনের অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন বন্ধ হতে পারে। বিকল্প হিসেবে সরকার এলএনজির আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের দিকে এলএনজি থেকে আমদানি করে দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস চাহিদা মেটানো হবে বলে সরকারের ধারণা।

দেশে গ্যাসের যত ব্যবহার

সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ এবং বাংলাদেশ তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে পাওয়া তথ্যমতে, প্রতি বছর দেশে গ্যাস ব্যবহার হয় গড়ে ১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) বা ১০০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) থেকে ১ দশমিক ১ টিসিএফ। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪৩ দশমিক ২৮ শতাংশ, শিল্প কারখানায় ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ, বাসাবাড়িতে ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ, শিল্পকারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রে (ক্যাপটিভ পাওয়ার) ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ, সার উৎপাদনে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ, সিএনজি স্টেশনে ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ, বাণিজ্যিক দশমিক ৭৬ শতাংশ ও চা-বাগানে দশমিক ১০ শতাংশ ব্যবহার হয়।

এ মুহূর্তে গ্যাসের অভাবে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। প্রতি ইউনিট গ্যাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ গড়ে ৩ টাকা, কয়লায় সাড়ে ৮ টাকা, তেলে (ফার্নেস) ১৪ টাকা ও তেলে (ডিজেল) ২৪ টাকা। সে কারণে বিদ্যুৎ বিভাগ লোকসান কমানোর জন্য গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়।

গ্যাস সংকট কাটাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চিন্তা
গ্যাস সংকটের কারণে মাঝেমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে জ্বলে না গ্যাসের চুলা

দরকার গভীর ও নতুন এলাকায় খনন

বাংলাদেশে যেসব স্থানে গ্যাস পাওয়া গেছে, তা গড়ে ৫ হাজার মিটার গভীরতায়। বিজিএফসিএলের পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রেও এই স্তর থেকে গ্যাস মিলেছে। এই স্তরের আরও নিচে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন ডিপ ড্রিলিং বা মাটির আরও গভীরে খনন।

বাংলাদেশের সরকারি সংস্থা বাপেক্সসহ বিদেশি যেসব কোম্পানি রয়েছে, তাদের রিগগুলো গড়ে ৫ হাজার মিটার খনন করার ক্ষমতা রয়েছে। ৭ হাজার মিটারের বেশি গভীরতায় খনন করতে হলে নতুন রিগ কিনতে হবে বাপেক্সের জন্য। এ ছাড়া রিগ ভাড়া করে ও ঠিকাদার দিয়েও বেশি গভীরতায় খনন করা গেলে গ্যাসের নতুন মজুদের সন্ধান মিলবে বলে অনেকে মনে করেন।

দেশে একমাত্র ভোলায় দুটি গ্যাসক্ষেত্র ছাড়া আবিষ্কৃত সব ক্ষেত্রের ভূ-কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য হলো ‘অ্যান্টি ক্লেইন স্ট্রাকচার। ভোলায় আবিষ্কৃত দুটি ক্ষেত্র নতুন বৈশিষ্ট্যের স্ট্র্যাটিগ্রাফিক ভূ-কাঠামোর।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভোলা, বরিশাল হয়ে খুলনা এমনকি রাজশাহী পর্যন্ত এই স্ট্র্যাটিগ্রাফিক স্ট্রাকচারে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। পাবনার মোবারকপুর স্ট্র্যাটিগ্রাফিক স্ট্রাকচারে দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে।

ভোলা ও পাবনার মোবারকপুর হলো বেঙ্গল বেসিনভুক্ত এলাকা। এসব এলাকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকায় মিলছে গ্যাস। অথচ এসব স্থানে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কূপ খননের দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি নেই সরকারের।

ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ওএনজিসিও একই ধরনের ভূকাঠামোয় গ্যাস ও তেল পেয়েছে। এটি মোবারকপুর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্ট্র্যাটিগ্রাফিক স্ট্রাকচারে ইছাপুরে। এই ভূকাঠামো গোটা উত্তরবঙ্গে রয়েছে। সেখানেও গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে যে পরিমাণ কূপ নতুন নতুন এলাকায় খনন করা দরকার, পেট্রোবাংলা তা করছে না।

প্রস্তুত বাপেক্স

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড বা বাপেক্স। অনেক সময় প্রতিষ্ঠানটি বেশির ভাগ ক্ষেত্র আবিষ্কার করেও উত্তোলন ও ব্যবস্থাপনার সুযোগ পায় না। এক অজানা কারণে বাপেক্সের আবিষ্কৃত ক্ষেগুলোয় কূপ খনন, উত্তোলন ও ব্যবস্থাপনার কাজ দেয়া হয় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোতে। প্রশ্ন আছে বাপেক্সের সক্ষমতারও।

তবে বাপেক্সের এমডি মোহাম্মদ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, বাপেক্স এখন ৫ হাজার মিটারের বেশি ৭ হাজার মিটার সক্ষমতার রিগ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারও এ জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া বাপেক্স সব ধরনের বিশেষজ্ঞ নিয়োগের কাজ শেষ করেছে।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা অভিজ্ঞ কর্মীদের নিয়োগ দিয়েছে বাপেক্স। একই সঙ্গে অবসরে চলে যাওয়া অভিজ্ঞ বাপেক্স কর্মীদেরও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে ধরে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার চায়, বাপেক্সকে শক্তিশালী করে দেশের গ্যাস সংকট মোকাবেলা করতে। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। এ জন্য সরকারেরও সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
সিএনজি স্টেশন বিকেল ৫টা-রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার আদেশ
ঢাকার কোন এলাকায় গ্যাস থাকছে না রোববার
ভোগান্তির ১৩ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ
গ্যাস নিয়ে গার্ডেন টাওয়ারের ‘জালিয়াতি’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের মসজিদ। ফাইল ছবি

দারোগাবাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ইয়াছিন নূরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো বুঝতে পারিনি কেউ এখান থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে এমন কাজ করবে। আগামী দিনে আমরা সতর্ক থাকব। মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন শরিফ রাখব না।’

কুমিল্লার একটি মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ এনে পাশের পূজামণ্ডপে রাখার ঘটনা ধরা পড়ার পর ওই মাজারের কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতে তারা আর মসজিদের বারান্দায় অরক্ষিত অবস্থায় কোরআন শরিফ রাখবে না।

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখল কারা

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার জানা যায়, নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখেছিলেন ইকবাল হোসেন নামের স্থানীয় এক যুবক। সহিংসতার আগের রাতে তিনি কোরআনটি নিয়েছিলেন মণ্ডপের পাশের শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের মসজিদের বারান্দা থেকে।

কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রওনা হন মণ্ডপের দিকে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া ছবি

ইকবাল রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে কোরআন শরিফটি হাতে নিয়ে মণ্ডপের দিকে রওনা হন। এরপর মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ফিরে আসেন। এসব দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায়।

আরও পড়ুন: মণ্ডপে কোরআন রাখায় প্রধান সন্দেহভাজন যুবক ইকবাল

নানুয়ার দিঘির পাশেই শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারটির অবস্থান। মণ্ডপ থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট। দারোগাবাড়ী মাজার নামে কুমিল্লাবাসীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি রয়েছে মাজারটির। এই মসজিদের বারান্দায় তিলাওয়াতের জন্য রাখা থাকে বেশ কয়েকটি কোরআন শরিফ। রাত-দিন যেকোনো সময় যে কেউ এখানে এসে তিলাওয়াত করতে পারেন।

কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন

ইকবালের বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে দারোগাবাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ইয়াছিন নূরীকে ফোন করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিনি।’

আরও পড়ুন: পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল

মসজিদের বারান্দায় পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই মাজারে এসে কোরআন শরিফ দিয়ে যান। এসব কোরআন শরিফে মসজিদের ভেতরের সেলফ পূর্ণ হয়ে গেছে। তাই কিছু কোরআন শরিফ বারান্দায় রাখা হয়েছিল। তাছাড়া বারান্দায় রাখলে যেকোনো সময় যে কারও জন্য তিলাওয়াতেরও সুবিধা হয়।

‘আমরা তো বুঝতে পারিনি কেউ এখান থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে গিয়ে এমন কাজ করবে। আগামী দিনে আমরা সতর্ক থাকব। মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন শরিফ রাখব না।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত ইকবালের সহযোগী অন্তত চারজন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইকবাল গ্রেপ্তার হলেই এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:
সিএনজি স্টেশন বিকেল ৫টা-রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার আদেশ
ঢাকার কোন এলাকায় গ্যাস থাকছে না রোববার
ভোগান্তির ১৩ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ
গ্যাস নিয়ে গার্ডেন টাওয়ারের ‘জালিয়াতি’

শেয়ার করুন

জনসংখ্যা ১৭ কোটি, জন্মনিবন্ধন সাড়ে ১৮ কোটি

জনসংখ্যা ১৭ কোটি, জন্মনিবন্ধন সাড়ে ১৮ কোটি

পরিকল্পিত অর্থনীতির জন্য সঠিক জনসংখ্যা হিসাব অপরিহার্য। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

নিবন্ধকের কার্যালয় বলছে, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কার্যক্রমের দুর্বলতা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। এ ছাড়া দ্বৈত নিবন্ধন, মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন বাতিল না করাসহ বিভিন্ন কারণে হিসাবে গড়মিল হয়।

দেশে এ পর্যন্ত জন্মনিবন্ধন হয়েছে সাড়ে ১৮ কোটির বেশি। আবার সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটির কম। এ হিসাবে দেশে জনসংখ্যার চেয়ে জন্মনিবন্ধনকারীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিকল্পিত অর্থনীতির জন্য সঠিক পরিসংখ্যান অপরিহার্য। সঠিক, সময়োপযোগী এবং মানসম্মত পরিসংখ্যান দেশের পরিকল্পনা প্রণয়ন, উন্নয়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বড় ভূমিকা রাখে।

জনশুমারি, কৃষিশুমারি, অর্থনৈতিক শুমারিসহ নানা জরিপে উঠে আসে বিভিন্ন পরিসংখ্যান। হালনাগাদ পরিসংখ্যানের জন্য সরকারের অন্যতম ভরসার জায়গা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এসডিজির ২৩১টি সূচকের মধ্যে ১০৫টির উপাত্তেই ভরসা বিবিএস।

এ পরিস্থিতিতে বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস।

বিবিএসের ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্টাটিস্টিকস ২০২০’-এর তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের সর্বশেষ হিসাবে দেশে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯১ লাখ ১ হাজার।

এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন’ বলছে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট জন্মনিবন্ধনের সংখ্যা ১৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০। আর মৃত্যুনিবন্ধনের সংখ্যা মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার।

কেন এ পার্থক্য

নিবন্ধকের কার্যালয় বলছে, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কার্যক্রমের দুর্বলতা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। এ ছাড়া দ্বৈত নিবন্ধন, মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন বাতিল না করাসহ বিভিন্ন কারণে হিসাবে গড়মিল হয়। সংকট সমাধানে নতুন সফটওয়্যারে পুরোনো তথ্য স্থানান্তর হচ্ছে। এতে আবার অনেকেরই পূর্বের নিবন্ধন তথ্য হারিয়ে যাচ্ছে।

সাধারণত জন্মনিবন্ধনের সংখ্যা থেকে মৃত্যুনিবন্ধনের সংখ্যা বাদ দিলে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা বের হওয়ার কথা। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই তথ্যের দুর্বলতায় এখন প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে না।

বর্তমানে জরুরি ১৮টি সেবা পেতে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। দেশে ২০১০ সালে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন শুরু হয়। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন আইন অনুযায়ী জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করার বাধ্যবাধকতা আছে, কিন্তু এ হার খুবই কম।

দুর্বল সফটওয়্যার, দক্ষ লোকবলের অভাবসহ নানা সংকটে একই ব্যক্তির একাধিকবার নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি হয়। এসব বিষয়ে অসংগতি দূর করতে পুনরায় অনলাইনে জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাদের নিবন্ধন অনলাইনে হয়নি, তাদের আবারও নিবন্ধন করতে হচ্ছে।

রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় বলছে, বর্তমানে দেশ ও দেশের বাইরে মিলিয়ে ৫ হাজারের বেশি জায়গা থেকে জন্মনিবন্ধন করা হচ্ছে। এর মধ্যে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের পাশাপাশি বিদেশের বাংলাদেশি মিশনও রয়েছে।

এসব সংস্থার মধ্যে এতদিন কোনো সমন্বয় ছিল না। এক স্থানের তথ্য অন্য স্থানে যাচাই করার উপায় ছিল না। এ জন্য অনেক দ্বৈত নিবন্ধন রয়ে গেছে। কোনো সমস্যায় পড়লে বা কোনো তথ্য সংশোধন করতে হলেও অনেকে ঝামেলা এড়াতে নতুন করে নিবন্ধন করেছেন। আবার অনেক সময় অপারেটর নিজেও ঝামেলায় না গিয়ে গ্রাহককে নতুন করে নিবন্ধন করিয়ে দিয়েছেন। অনেকে জানেন না তাদের নামে কতটি নিবন্ধন রয়েছে।

অপর দিকে মৃত্যুনিবন্ধনের ক্ষেত্রে মানুষের কোনো আগ্রহ নেই। একান্ত প্রয়োজন না হলে সবাই তা এড়িয়ে যায়। একমাত্র ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারসংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়লেই কারও ওয়ারিশানরা মৃত্যুনিবন্ধন করিয়ে নিচ্ছেন। যেসব জায়গা থেকে নিবন্ধন করা হয় সেসব স্থান থেকেই এগুলোর দ্বৈততা পরিহার করতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে সেগুলো যাচাইয়ের তেমন সুযোগ নেই। কেবল কেউ নতুন করে নিবন্ধন করতে গেলেই তার ক্ষেত্রে দ্বৈততা যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে।

‘রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন’-এর ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. ওসমান ভূইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকের একাধিক জন্ম নিবন্ধনও রয়েছে। এমনকি তিনটাও আছে কারও কারও। এতে প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে নিবন্ধন বেশি দেখাতে পারে।

‘তবে নতুন অনলাইন নিবন্ধন চালুর পর থেকে দ্বৈত নিবন্ধনের সুযোগ নেই বললেই চলে। একই ধরনের তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে চাইলে সার্ভারে আগের নিবন্ধনের তথ্য ভেসে উঠছে।

‘জন্মনিবন্ধনের জন্য অনেক জায়গায় আটকে যেতে হচ্ছে। কিন্তু মৃত্যুনিবন্ধনের জন্য তা হচ্ছে না। এ জন্য মৃত্যুনিবন্ধন একেবারেই কম হচ্ছে। তাই সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘দ্বৈত নিবন্ধন যাচাইয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। যেসব প্রান্ত থেকে নিবন্ধন করা হয়, সেসব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া একাধিক নিবন্ধনের তথ্য খুঁজে বের করার পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে। পরে যেকোনো একটি রেখে অন্যগুলো বাতিল করা হবে।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. এম নুরুল ইসলাম নিউজবাংলা বলেন, ‘পরিসংখ্যান বা তথ্যের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিবিএস। সঠিক পরিসংখ্যান অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে দক্ষ পরিকল্পনাসহ নানা পদক্ষেপের জন্য একান্ত অপরিহার্য।

‘আমাদের কিছু ক্ষেত্রে তথ্যের অভাব রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে কিছুটা পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কারণ একেক সংস্থার হিসাবের ধরন একেক রকম। তবে আগের চেয়ে আমাদের পরিসংখ্যান আরও উন্নত হয়েছে। আর জনসংখ্যার প্রকৃত তথ্য জানার একমাত্র উপায় জনশুমারি, কিন্তু এটি প্রতি দশ বছর পরপর করা হয়। অন্যান্য সময় এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রাক্কলন করা হয়। এ জন্য তথ্যের কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে পরিসংখ্যান যত সঠিক হবে, পরিকল্পনা তত ফলপ্রসূ হবে।’

আরও পড়ুন:
সিএনজি স্টেশন বিকেল ৫টা-রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার আদেশ
ঢাকার কোন এলাকায় গ্যাস থাকছে না রোববার
ভোগান্তির ১৩ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ
গ্যাস নিয়ে গার্ডেন টাওয়ারের ‘জালিয়াতি’

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীরা ইউনিক আইডি পাবে কবে?

শিক্ষার্থীরা ইউনিক আইডি পাবে কবে?

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ইউনিক আইডি। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) রূপান্তরিত হবে।

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি ‘ইউনিক আইডি’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে। কিন্তু করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা এবং কিছু আইনি জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়ে এ কার্যক্রম।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির কার্যক্রম। তাদের আশা, আগামী বছরের শুরুতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে ইউনিক আইডি।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে ডাটা এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে আগামী মাসে। প্রথম ধাপে পাইলটিং হিসেবে ৮০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করা হবে। সেটি সফল হলে ধাপে ধাপে সব শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনা হবে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক পর্যায়ের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. শামসুল আলম বলেন, ‘ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি প্রদানের কার্যক্রম করোনা পরিস্থিতি ও কিছু আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। এখন সব ধরনের সমস্যার সমাধান হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরের শুরুতেই পর্যায়ক্রমে ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি তুলে দেয়া সম্ভব হবে।’

ইউনিক আইডি তৈরি কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগির শুরু হবে ডাটা এন্ট্রির কাজ। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হতে থাকবে ইউনিক আইডি। তখন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখতে পাবে, তাদের কত শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি তৈরি হলো। এরপর আমরা পর্যায়ক্রমে ইউনিক আইডি ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করব।’

জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করতে পারছে না, এ ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে শামসুল আলম বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন আছে, তাদের অভিভাবকদের শুধু এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) থাকলেই হবে। তবে যেসব শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন নেই, তাদের অভিভাবকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধন দুটিই লাগবে। আইনগত কারণে এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া সম্ভব নয়।’

প্রাথমিকের ডাটা এন্ট্রি শুরু আগামী মাসে

প্রাথমিকের ২ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি তৈরির কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ জন্য ডাটা এন্ট্রির সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাস থেকে ডাটা এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে।

জানতে চাইলে প্রাথমিকের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল আলম প্রধান বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে আগামী মাস থেকে সফটওয়্যারে ডাটা এন্ট্রি শুরু হবে। এ জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। এরপর পাইলটিং হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানের ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করা হবে। এরপর সেটি সফল হলে পুরোদমে শুরু হবে কাজ।’

কবে নাগাদ পাইলটিং শুরু হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে সময় বলা সম্ভব নয়। আশা করছি, আগামী মাসে ডাটা এন্ট্রি শুরু হলে খুব শিগগির পাইলটিং শুরু হবে।’

ইউনিক আইডি কেন?

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ইউনিক আইডি। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) রূপান্তরিত হবে।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইজ)। আর প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

কেন শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলেই সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের আওতায় তার জন্মনিবন্ধন হয়। আর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া সবার জন্য আছে জাতীয় পরিচয়পত্র। কিন্তু যারা প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী, অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮-এর নিচে তারা এই সিস্টেমের বাইরে। এ জন্য তাদের সিস্টেমের মধ্যে আনতেই ইউনিক আইডি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

ফরমে যেসব তথ্য দিতে হয়

স্ট্যাবলিশমেন্ট অফ ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা চার পৃষ্ঠার ফরমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ফরমে শিক্ষার্থীর নাম, জন্মনিবন্ধন নম্বর, জন্মস্থান, জেন্ডার, জাতীয়তা, ধর্ম, অধ্যয়নরত শ্রেণি, রোল নম্বর, বৈবাহিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতা (ডিজঅ্যাবিলিটি), রক্তের গ্রুপ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কি না, মা-বাবার নামসহ বেশ কিছু তথ্যের ঘর রয়েছে।

বৈবাহিক অবস্থার অপশন হিসেবে অবিবাহিত, বিবাহিত, বিধবা, বিপত্নীক ছাড়াও স্বামী-স্ত্রী পৃথক বসবাস, তালাকপ্রাপ্ত, বিবাহবিচ্ছেদের ঘরও রয়েছে ফরমে।

আরও পড়ুন:
সিএনজি স্টেশন বিকেল ৫টা-রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার আদেশ
ঢাকার কোন এলাকায় গ্যাস থাকছে না রোববার
ভোগান্তির ১৩ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ
গ্যাস নিয়ে গার্ডেন টাওয়ারের ‘জালিয়াতি’

শেয়ার করুন

গ্রামের নারীরা শহরমুখী কেন

গ্রামের নারীরা শহরমুখী কেন

গ্রামের নারীদের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা বেড়েই চলছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্রামীণ নারীদের শহরমুখী হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এর মধ্যে নারীর কাজের মূল্যায়ন না করাটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা।

মোহাম্মদপুর কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের ৫ নম্বর রোডের মুখে শীতকালীন পিঠা বিক্রি করেন রেজিয়া সুলতানা। বিকেল ৫টা থেকে বিক্রি শুরু হয়ে চলে রাত ১১টা; আবার কখনও তার থেকেও বেশি। হাউজিংয়ের সবাই রেজিয়ার কাছ থেকে পিঠা নেন। প্রতিদিনে তার বিক্রি বেশ ভালোই।

বগুড়ার তারাকান্দির মেয়ে রেজিয়া। স্বামী শহরে রিকশা চালাতেন। তিনি গ্রামে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন। কৃষিকাজে দেবরকে সহযোগিতা করতেন। মাস ছয় হলো তিনি স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় চলে এসেছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গেরামে ধরেন, ভোর রাইত্তে ধইরা মাঝ রাইত পর্যন্ত কাম করতাম। এত জনের রান্ধা-বান্ধা, হাঁস-মুরগি। আবার মাঠের কাম। এত কিছু কইরাও অশান্তির শেষ আছিল না। জামাই যাইত মাসখানেক পরে পরে।

‘আমগোর গেরামের তানিয়া ঢাকায় থাকে। হের কথা হুইনা ঢাকাত আইছি জোর কইরা। এইহানে আমি অনেক বাসায় কাম করি। এই যে পিঠা বেচি। আল্লাহর রহমতে রাকিবের আব্বার থিকা বেশি আয় আমার মাসে। আমার টেকা এখন শ্বশুরবাড়িতেও যায়। এহন বুঝি যে নিজের একটা দাম আছে।'

রেজিয়া সুলতানার মতো এমন অনেক গ্রামীণ নারী শহরের দিকে ঝুঁকছেন। দিন দিন এর পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এই গ্রামীণ নারীদের শহরমুখী হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এর মধ্যে নারীর কাজের মূল্যায়ন না করাটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা।

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী; আর তার ৮৬ শতাংশের বাস গ্রামে। গবেষণায় দেখা যায়, গ্রামীণ নারীরা দিনের মোট সময়ের ৫৩ শতাংশ ব্যয় করে কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প ক্ষেত্রে, যেখানে পুরুষরা ব্যয় করে ৪৭ শতাংশ সময়।

‘গ্রামীণ জীবনযাত্রায় স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচার অভিযান’-এর ২০১২ সালের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের মোট নারী শ্রমশক্তির পরিমাণ ১ কোটি ৬২ লাখ। এর মধ্যে ৭৭ শতাংশ গ্রামীণ নারী। এর ৬৮ শতাংশ কৃষি, পোলট্রি, বনায়ন ও মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার (বিআইডিএস) গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রামীণ ৪১ শতাংশ নারী আলু চাষের সঙ্গে জড়িত। ৪৮ শতাংশ জড়িত মাছ চাষের সঙ্গে।

কৃষি খাতেই নারীর অংশগ্রহণ এখনও বেশি। বীজ সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ফসল উৎপাদন, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিপণন পর্যন্ত বিভিন্ন কাজেই নারী অংশগ্রহণ করছে।

তারপরও তাদের এই অংশগ্রহণকে ‘পারিবারিক সহযোগিতা’ হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যথাযথ মূল্যায়নের অভাবে গ্রামীণ নারীরা শহরমুখী হচ্ছে। কৃষিতে নারীরা অধিক হারে অংশগ্রহণ করলেও কৃষক হিসেবে পরিবারে তাদের মূল্যায়ন করা হয় না এবং সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয় না। তাদের অংশগ্রহণকে ধরা হয় পারিবারিক সহযোগিতা হিসেবে। কৃষি থেকে পারিবারিক আয়ে নারীদের ভাগ থাকে না। কৃষিতে নারীর কাজ হচ্ছে অবৈতনিক, কারণ এটিকে পারিবারিক শ্রম গণ্য করা হয়।’

নারীর শহরমুখী হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি আরও বলেন, ‘কৃষিঋণসহ সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা নারী কৃষকরা পান না। তা ছাড়া ভূমিতে নারীর সম-অধিকার নেই। বাজারে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও নারীরা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। তাদের জন্য বাজারে আলাদাভাবে কোনো জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখলে তাদের পণ্য বাজারজাতের সুবিধা বাড়বে। তাদের এখনও নিজেদের পণ্য বিক্রির জন্য স্বামীর নামে দোকান বরাদ্দ করতে হচ্ছে।

‘গ্রামীণ অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিতে হলে তাদের জন্য একদিকে দরকার উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। তাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হলে তারা শহরমুখী না হয়েই নিজ নিজ গ্রামেই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিজেরাই গড়ে তুলবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ফাতেমা রৌসন জাহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গ্রামীণ নারীদের শহরমুখী হওয়াটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। গ্রামে নারীদের হাড়ভাঙা শ্রমকে শুধু পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ফেলে রাখা হয়। এটা আসলে নারীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে অনেক বড় একটা বাধা। যেকোনো শ্রমকে মূল্যায়ন করা উচিত। তা ছাড়া কাজের সেই সুযোগ বা জায়গা সেটিও নারীর জন্য স্পেসিফাইড না। আরও নানা কারণ রয়েছে, তবে এই যে অবমূল্যায়ন করার যে ব্যাপারটা, সেটাই আসলে মুখ্য কারণ নারীদের শহরমুখী হওয়ার।

আজ বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য: ‘সবার জন্য ভালো খাদ্য চাষ করেন গ্রামীণ নারী’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও উন্নয়ন সংস্থা।

পরিবার ও সমাজে গ্রামীণ নারীর অবস্থানের মূল্যায়ন করার লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভায় ১৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এর আগে ১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের চতুর্থ নারী সম্মেলনে ১৫ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৯৭ সাল থেকে জেনেভাভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উইমেনস ওয়ার্ল্ড সামিট ফাউন্ডেশন দিবসটি পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পালন করে।

আরও পড়ুন:
সিএনজি স্টেশন বিকেল ৫টা-রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার আদেশ
ঢাকার কোন এলাকায় গ্যাস থাকছে না রোববার
ভোগান্তির ১৩ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ
গ্যাস নিয়ে গার্ডেন টাওয়ারের ‘জালিয়াতি’

শেয়ার করুন

মুসা বিন শমসেরের সম্পদ ‘কেবল পৈতৃক ভিটা’

মুসা বিন শমসেরের সম্পদ ‘কেবল পৈতৃক ভিটা’

সম্প্রতি ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুসা বিন শমসের। ছবি: নিউজবাংলা

দুদকের কাছে মুসা যেসব সম্পদের তালিকা দিয়েছিলেন, তার কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেবল ফরিদপুরে তার বাবার করা বাড়িতে তার অংশ পাওয়া গেছে। তিনি বনানী ও গুলশানের যে বাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন, তার একটি ভাড়া করা, আরেকটি স্ত্রীর। সুইস ব্যাংকে কথিত অর্থের খোঁজ করার চেষ্টা করে এমন কোনো তথ্য পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফরিদপুরে পৈতৃক ভিটা ছাড়া আলোচিত চরিত্র মুসা বিন শমসেরের কোনো সম্পদের খোঁজ পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন। ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণা ও হয়রানির’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

দুদকের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে আমাদের তদন্ত চলছে। শিগগিরই তদন্ত শেষ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দুদকের এই অনুসন্ধান আর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদের বক্তব্য একই ধরনের।

যুগ্ম সচিব পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার কাদের মাঝির সঙ্গে সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে গত ১২ অক্টোবর মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিবির যুগ্ম কমিশনারের বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তিনি সেদিন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে উনি (মুসা) অন্তঃসারশূন্য। একটা ভুয়া লোক মনে হয়েছে। ওনার কিচ্ছু নাই। তার একটা বাড়ি রয়েছে গুলশানে। সেটাও স্ত্রীর নামে। বাংলাদেশে তার নামে আর কিছু পাই নাই। তবে উনি মুখরোচক গল্প বলেন।’

মুসা বিন শমসের গত কয়েক দশক ধরেই বাংলাদেশে আলোচিত চরিত্র। বাংলাদেশে কারও সম্পদ নিয়ে প্রচার করার প্রবণতা না থাকলেও ব্যতিক্রম মুসা। তিনি বরাবর তার বিপুল পরিমাণ টাকার গল্প বলে বেড়ান।

তার দাবি, তিনি আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ী, সুইস ব্যাংকে তার বিপুল পরিমাণ টাকা আছে। দেশেও বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার একরের বেশি জমি আছে।

ডিবিতে গিয়েও দাবি করেন, সুইস ব্যাংকে তার ৮২ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা আনতে পারলে তিনি পুলিশকে দেবেন ৫০০ কোটি টাকা। দুদককে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে বিল্ডিং করে দেবেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করে দেবেন।

তবে দুদক যখন তার সম্পদের হিসাব চেয়েছে, তখন তিনি দাবির পক্ষে কোনো নথিপত্র দিতে পারেননি।

দুদকের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ‘মুসা বিন শমসের অসৎ উদ্দেশ্যে দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ঢাকার সাভার ও গাজীপুরে ১ হাজার ২০০ বিঘা জমি এবং সুইস ব্যাংকের ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের) থাকার কথা বলেছেন। সেই সম্পদ অর্জনের উৎসের সমর্থনে কোনো রেকর্ডপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হন তিনি।’

অর্থাৎ দুদক ডিবির কাছে সম্পদের পরিমাণ নিয়ে দুই ধরনের তথ্য দিয়েছেন মুসা। দুদকের জমা দেয়া হিসাবের তুলনায় সুইস ব্যাংকে প্রায় সাত গুণ টাকা থাকার দাবি করেছেন ডিবির কাছে।

সুইস ব্যাংকে আদৌ কোনো টাকা আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন বড় হয়েছে।

দুদকের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডে ৮৮টি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো ব্যাংকে তার টাকা জমা আছে, তার কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। দুদক টিম তদন্তের স্বার্থে বারবার চিঠি দিচ্ছে। চিঠির জবাব পাওয়া গেলেও টাকা জমা বা জব্দ থাকার তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে না।’

তবে গাজীপুর ও সাভারের জমির তথ্য অসত্য, এ বিষয়ে নিশ্চিত তিনি। বলেন, ‘ঢাকা ও গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ডপত্র তল্লাশি করেও মুসা বিন শমসের ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা চৌধুরীর কোনো প্রকার জমি ক্রয়-বিক্রয় করার তথ্য পাওয়া যায়নি।’

মুসা বিন শমসেরের সম্পদ ‘কেবল পৈতৃক ভিটা’

পৈতৃক ভিটা ফরিদপুরে

মুসার নামে একমাত্র যে স্থাপনাটি দুদক পেয়েছে, সেটি ফরিদপুরে। তবে সেই সম্পদ তিনি নিজে করেননি। ব্রিটিশ আমলে কৃষি দপ্তরে কাজ করা বাবা শমসের আলী মোল্লা যে বাড়ি করেছিলেন, সেখানে ভাগ আছে মুসার।

ফরিদপুরে মুসার জন্ম ১৯৫০ সালের ১৫ অক্টোবর। চার ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

মুসার কথিত সম্পদের হিসাব খুঁজে বের করতে দুদকের পাশাপাশি কাজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউও)। দুটি সংস্থাই জানায়, তারা দেশে মুসার কোনো ব্যাংক হিসাবই খুঁজে পায়নি।

বিএফআইইউএর প্রতিবেদনে বলা হয়, মেসার্স ডেটকো লিমিটেড নামে জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মুসা বিন শমসের। এর অংশীদারত্বে আরও কয়েকজন রয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠানের নামে ঢাকায় দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছেও চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠির উত্তরে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সেখানে মুসার নামে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। ফলে ওই ব্যক্তির নামে কোনো সম্পদও নেই।

দুদক জানায়, ইউটিউবে গুলশান প্যালেস নামে ঢাকার যে বাড়িটি দেখান, তার মালিক আসলে মুসার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা চৌধুরী।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময়ে জনশক্তি রপ্তানিতে আলোচনায় থাকলেও এখন ডেটকো নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানেই পরিণত হয়েছে।

বনানীতে যে বাড়িতে এই প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে, সেটিও ভাড়া করা।

যেভাবে আলোচনায় মুসা

১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী টনি ব্লেয়ারের নির্বাচনি প্রচারের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে দেশে প্রথম আলোচনায় আসেন মুসা বিন শমসের। তিনি জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা করলেও সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাকে অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে তুলে ধরে।

২০১০ সালে সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মুসার ৭ বিলিয়ন ডলার জব্দ করেছে বলে আরেক দফায় ঝড় তোলে পশ্চিমা গণমাধ্যম। অনিয়মিত লেনদেনের কারণে তার অর্থ জব্দ করা হয় বলে সে সময় গণমাধ্যমে দাবি করেন তিনি।

আয়ারল্যান্ডে একটি দুর্গ কিনে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর বানানোর প্রস্তাব দিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন মুসা।

তিনি প্রচার করে বেড়ান, সাউথ আফ্রিকার বিশ্বনন্দিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ বইটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন মুসা বিন শমসেরকে।

এর পরই ২০১১ সালের এপ্রিলে একবার তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুদক, কিন্তু সেই অনুসন্ধান-প্রক্রিয়া বেশি দূর আগায়নি।

২০১৪ সালে বিজনেস এশিয়া ম্যাগাজিন মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশি অস্ত্র ব্যবসায়ীর ৭ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে সুইস ব্যাংকে।

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে মুসা বিন শমসেরের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদিন শিবলীকে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয় কমিশন।

মুসা বিন শমসেরের সম্পদ ‘কেবল পৈতৃক ভিটা’

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে ‘দেহরক্ষী নাটক’

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক দফা গোপনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মুসাকে।

২০১৫ সালের ১৯ মে তাকে আবার সম্পদ বিবরণী জমা দিতে নোটিশ দেয় দুদক। ৭ জুন আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পদ বিবরণী জমা দেন তিনি।

এরপর ১৮ ডিসেম্বর মুসা বিন শমসের আলোচনায় আসেন দুদকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়ে। চার নারী নিরাপত্তাকর্মীসহ ৪০ জনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর বহর নিয়ে সেদিন তিনি দুদকের ফটকে গাড়ি থেকে নামেন।

সে মুহূর্তে তার ডান হাতে শুভ্র আলোর দ্যুতি, হীরকখচিত বিশ্বখ্যাত রোলেক্স ব্র্যান্ডের অতি দামি ঘড়ি। হিরা বসানো চশমা, কলম ও জুতা পরা ছিল।

তবে পরে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে, এরা কেউ তার দেহরক্ষী ছিল না। তার জনশক্তি রপ্তানির কোম্পানির সাধারণ কর্মী তারা।

২০১৬ জানুয়ারি আবার তাকে দুদকে তলব করা হয় এবং ২৮ জানুয়ারি তাকে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

২০১৭ সালের ৭ মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মুসার বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির তিনটি অপরাধের প্রমাণ পাওয়ায় তিনটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

‘স্বাধীনতাবিরোধী পরিচয়’ও সামনে

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক এম এ হাসানের ‘পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী’ বইয়ে ১৯৭১ সালে সে সময়ের তরুণ মুসা বিন শমসেরকে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ওই গ্রন্থের তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুসা ছিলেন পাকিস্তানি সেনা অফিসারদের ঘনিষ্ঠজন আর মুক্তিকামী বাঙালির আতঙ্ক।

তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একাত্তরের ২৫ মার্চ আমি বঙ্গবন্ধুর বাসায় ছিলাম। পরদিন তিনি আমাদের যার যার এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন। আমি নদী পার হয়ে হেঁটে ফরিদপুর যাই। ২২ এপ্রিল পাকিস্তানি আর্মির হাতে ধরা পড়ি। আমি তাদের হাতে বন্দি ছিলাম। একাত্তর সালের ৯ ডিসেম্বর অর্ধমৃত অবস্থায় মুক্তি পাই।’

দুদকে জমা দেয়া সম্পদের হিসাব

২০১৫ সালের ৭ জুন দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন মুসা বিন শমসের। তার জমা দেয়া হিসাব অনুযায়ী সুইস ব্যাংকে ১২ বিলিয়ন ডলার জমা রয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি।

এ ছাড়া সুইস ব্যাংকের ভল্টে ৯০ মিলিয়ন ডলার দামের (বাংলাদেশি প্রায় সাড়ে সাত শ কোটি টাকা) অলংকার জমা থাকার দাবি করেছেন মুসা।

সে সময় দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সুইস ব্যাংকে জব্দ অর্থ অবমুক্ত হলে এসব অর্থ পদ্মা সেতু নির্মাণসহ মানবকল্যাণে ব্যয় করবেন তিনি।

সেদিন দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে মুসা দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে তার কোনো অর্থই সুইস ব্যাংকে জমা হয়নি। ৪২ বছর বিদেশে বৈধভাবে ব্যবসার মাধ্যমেই তিনি ১২ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছেন, যা সুইস ব্যাংকে তার নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, মিসর, সিরিয়া, পাকিস্তানসহ অনেক দেশের সরকারি প্রতিরক্ষা ক্রয়সংক্রান্ত পাওনা পরিশোধের অর্থ ওই সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সুইস ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।

দুদকে জমা দেয়া হিসাব বিবরণীতে মুসা দুদককে জানান, ঢাকার সাভার ও গাজীপুরে তার ১ হাজার ২০০ বিঘা জমি আছে। দেশে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ। এর মধ্যে গুলশান ও বনানীতে বাড়ির তথ্য দেন।

পরে দুদকের প্রতিবেদনে সবকিছু ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ধনকুবের’ মুসার জালিয়াতি গাড়ি নিবন্ধনেও

যুক্তরাজ্য থেকে আনা একটি গাড়ি জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধন করে বিক্রির অপরাধে মুসা বিন শমসেরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

সংস্থাটির পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর করা মামলায় ২ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৩৩ টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়।

এতে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আইয়ুব আনসারী, ফারিদ নাবীর, মুসা বিন শমসের, তার শ্যালক ফারুক উজ জামান ও মেসার্স অটো ডিফাইনের মালিক ওয়াহিদুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন দুদকের সহকারী পরিচালক সিরাজুল হক।

আরও পড়ুন:
সিএনজি স্টেশন বিকেল ৫টা-রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার আদেশ
ঢাকার কোন এলাকায় গ্যাস থাকছে না রোববার
ভোগান্তির ১৩ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ
গ্যাস নিয়ে গার্ডেন টাওয়ারের ‘জালিয়াতি’

শেয়ার করুন

আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা

আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা

স্বর্ণপ্রভার চিঠি (বাঁয়ে) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষক ও নাট্যকার আফসার আহমদ।

বিয়ের বিষয়টি ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানান স্বর্ণপ্রভা। একই সঙ্গে সন্তানের ভরণপোষণ ও খোরপোশের দাবিতে ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি তিনি পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। গত ৯ অক্টোবর আফসার আহমদের মৃত্যুর পরপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয় তিনি স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। স্বর্ণপ্রভার দাবি, এই শোকবার্তা তার সন্তানের পিতৃপরিচয়কে আরও সংকটে ফেলেছে। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষক অধ্যাপক আফসার আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা ফারজানা নাজ স্বর্ণপ্রভা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলছেন, জীবিত অবস্থায় আফসার আহমদ তার সন্তানের ভরণ-পোষণ দেননি। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে আদালতে। এমন অবস্থায় আফসার আহমদের মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া শোকবার্তায়ও দ্বিতীয় সন্তানের উল্লেখ নেই। ফলে সন্তানের পিতৃপরিচয়হীনতার শঙ্কা বেড়েছে।

স্বর্ণপ্রভার কাছ থেকে পাওয়া ‘বিয়ের নথিপত্রে’ দেখা গেছে, ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর তাকে বিয়ে করেন আফসার আহমদ। নিকাহনামার ২১ নম্বর ঘরে আফসার আহমদ তার আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে লিখেছেন ‘স্ত্রী নাই’। এই বিয়ের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বর্ণপ্রভাকে তালাকনামা পাঠান আফসার। এর মাত্র তিন দিন আগে ২২ সেপ্টেম্বর স্বর্ণপ্রভা একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্বর্ণপ্রভার অভিযোগ, এই সন্তান জন্মানোর আগে একবার গর্ভপাতে বাধ্য করেছিলেন আফসার আহমদ।

আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
আফসার আহমদ ও স্বর্ণপ্রভার বিয়ের নথি

বিয়ের বিষয়টি ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানান স্বর্ণপ্রভা। একই সঙ্গে সন্তানের ভরণপোষণ ও খোরপোশের দাবিতে ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি তিনি পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। মামলাটি এখনও চলমান।

এরই মধ্যে গত ৯ অক্টোবর মারা যান আফসার আহমদ। তার মৃত্যুর পরপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়, আফসার আহমদ স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। স্বর্ণপ্রভার দাবি, এই শোকবার্তা তার সন্তানের পিতৃপরিচয়কে আরও সংকটে ফেলেছে।

বিষয়টি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন স্বর্ণপ্রভা। তবে এর কোনো জবাব এখনও পাননি।

সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার অভিযোগ স্বর্ণপ্রভার

স্বর্ণপ্রভা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি যখন কনসিভ করি, তখন তার (আফসার আহমদ) একটি ভিন্ন রূপ দেখি। আমি লুকিয়ে ছিলাম অনেক দিন। তখন আমি প্রেগন্যান্ট ছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘বাচ্চা হওয়ার পর আমি একটা ভালো ডাক্তার দেখাতে পারিনি। বাচ্চা হয়েছে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখে। আমিই তাকে ডিভোর্স লেটার পাঠাতাম, কিন্তু সিজার হওয়ার কারণে আমার তখন সেই অবস্থা ছিল না। তবে সে জানতে পেরেছিল যে আমার বাচ্চা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ সে আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠায়।’

ডিভোর্স নিয়ে স্বর্ণপ্রভার কোনো আক্ষেপ না থাকলেও সন্তানের পিতৃপরিচয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি অনড়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সহকারী অধ্যাপক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি একটা ভুল করেছি ভুল মানুষকে বিশ্বাস করে। তবে আমি আমার মতো থাকতে চেয়েছিলাম। আমার বাচ্চার বয়স যখন আড়াই মাস, তখনও আমি লুকিয়েই ছিলাম। তবে সে (আফসার আহমদ) মানুষকে বলছে, তার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়নি, বাচ্চা হয়নি। বাচ্চা তার না। যখন আমি দেখলাম সামাজিকভাবে আমার অবস্থানটা এ রকম তখন আমি আর কী করব!

‘যখন আমি দেখলাম আমার বাচ্চার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন আমি কীভাবে ঠিক থাকব! সে সবাইকে বাচ্চার সামাজিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কথা বলেছে। এটা যে কত বড় অপমানের বিষয়। আর যত ভুলত্রুটি যা হয়েছে তা তো বাবা-মায়ের, এর জন্য বাচ্চা তো দায়ী নয়। এটা তখন তার আইডেন্টিটি ক্রাইসিস তৈরি করল।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে যাওয়ার কথা জানিয়ে স্বর্ণপ্রভা বলেন, ‘আমি বাচ্চা হওয়ার আগেই উপাচার্য মহোদয়ের কাছে গিয়েছি। তখন আমি কনসিভ করেছিলাম। তাকে মৌখিকভাবে হুমকির বিষয়গুলো জানাই। একবার দেখা করে বলেছি, এরপর ফোনে অনেকবার কথা হয়েছে।

‘তখন আমার প্রেগন্যান্সির চার মাস। তখন তিনি খুব সহানুভূতিশীল ছিলেন। দুই ঘণ্টার বেশি আমার কথা শুনলেন। তিনি আফসার আহমদকে ডেকে আবার সংসার করার কথা বলেছিলেন। এটাও বলেছিলেন, তুমি চাইলে সংসার করো, আমি জোর করে হলেও আফসারকে রাজি করাব। তবে আমি রাজি হইনি। ডিভোর্স হলেও আমার বাচ্চার সঙ্গে যেন কোনো অন্যায় না হয়, সেটি তাকে বলেছিলাম।’

স্বর্ণপ্রভা বলেন, ‘বাচ্চা হওয়ার পর যখন সে (আফসার আহমদ) তার সামাজিক পরিচয় হুমকির মুখে ফেলে দেয়, তখন আমি উদ্বেগে পড়ে যাই। তখন আমি লিখিত অভিযোগ নিয়ে উপাচার্য মহোদয়ের কাছে গিয়েছিলাম। আমার বাচ্চার আইডেন্টিটি লাভের আর কী পথ থাকতে পারে! আমি তো পারিবারিক সহিংসতার শিকার।’

আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
আফসার ও স্বর্ণপ্রভার সন্তানের জন্মনিবন্ধন সনদ

স্বর্ণপ্রভা বলেন, ‘আমার অভিযোগ ছিল সে আমার সঙ্গে এভাবে সম্পর্কে জড়িয়েছে, আমাকে বিয়ে করেছে, আমার একটা বাচ্চা হয়েছে। এর আগে অ্যাবরশন করিয়েছে। এখন বাচ্চা হওয়ার পর আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে, বাচ্চাকে অস্বীকার করছে। সে যে অন্যায় করেছে, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে সে এই অন্যায় করতে পারে না।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগটিকে গুরুত্ব দেয়নি বলে দাবি স্বর্ণপ্রভার। তিনি বলেন, ‘তখন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় আমার সঙ্গে নাটক করা শুরু করে। তারা বলে, একটা ই-মেইল এসেছে, তবে সেটা কে পাঠিয়েছে তারা নিশ্চিত নয়। আমি তাদের আবার নিশ্চিত করলাম। তারা সেটি যৌন নিপীড়ন সেলে পাঠিয়ে আমাকে কল করেছে, তবে অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়নি। এরপর আরেকবার চিঠি দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’

স্বর্ণপ্রভা বলেন, ‘২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে বাচ্চার ভরণপোষণ ও খোরপোশ দাবি করে আমি মামলা করি। তবে এখন পর্যন্ত মামলাটা যেভাবে দাখিল করেছিলাম সেভাবেই আছে।’

সন্তানকে নিয়ে যত দুশ্চিন্তা স্বর্ণপ্রভার

আফসার আহমদের মৃত্যুর পরের পরিস্থিতি নিয়েও উৎকণ্ঠিত স্বর্ণপ্রভা। তিনি বলেন, ‘আমি যখন তার মৃত্যুসংবাদ শুনি, তখন আমি শকড। মৃত ব্যক্তির কোনো অপরাধ থাকে না। আমি সেখানেই থাকতে চেয়েছি। তবে আমার ওই সময়টা তো ভুল না।’

স্বর্ণপ্রভা বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সেটা আমি দেখেছি। বিভিন্ন মিডিয়ায় সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাতে ছাপা নিউজগুলো দেখেছি। সবাই লিখেছে তার (আফসার আহমদ) এক মেয়ে। যখন আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ের শোকবার্তা দেখলাম, তখন শকড হয়েছি। কীভাবে তিনি একটা মেয়ের কথা উল্লেখ করে পারেন!

‘আমি উপাচার্য মহোদয়কে ফোন করেছি। ওনার সঙ্গে আমার ৩৩ মিনিট কথা হয়েছে। আমি ওনাকে বলেছিলাম আপনি সব জানেন। আপনি জানেন তার একটা ছেলে আছে। উপাচার্য তখন আমাকে বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে শুনেছি। এটা তো প্রতিষ্ঠিত না। আফসার তো স্বীকার করেনি।’

স্বর্ণপ্রভা বলেন, ‘আমি উপাচার্যকে বলেছি যে, আপনি সমস্ত ঘটনা জানেন। তাহলে মৃত্যুর এক দিনের মাথায় কেন এমন বলেছেন? তার জবাবে উপাচার্য আমাকে বলেছেন, এটা তো আমার স্বীকার বা অস্বীকার করার ব্যাপার না। তিনি (আফসার আহমদ) তো স্বীকার করে যাননি।’

উপাচার্যের এমন অবস্থানে নিজের সন্তানের বঞ্চনার শঙ্কা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ স্বর্ণপ্রভার।

আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
আফসার আহমদের মৃত্যুর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের শোকবার্তা নিয়ে স্বর্ণপ্রভার পাঠানো চিঠি

বিষয়টি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলামের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। শনিবার বিকেলে দুই দফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। এরপর তিনি খুদে বার্তায় মিটিংয়ে থাকার কথা জানিয়ে প্রশ্নের বিষয়বস্তু মেসেজের মাধ্যমে পাঠাতে বলেন। নিউজবাংলা প্রতিবেদক এরপর খুদে বার্তায় বিষয়বস্তু জানানোর পর তিনি কোনো সাড়া দেননি, পরে ফোন করা হলেও ধরেননি।

আইন কী বলছে?

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথমত ওনার (স্বর্ণপ্রভা) ডিভোর্সের তারিখ দেখতে হবে, বাচ্চার জন্মতারিখ দেখতে হবে। এ দুটি বিবেচনায় নিলে সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা অনুযায়ী বিষয়টি চূড়ান্তভাবে বলা যায়, আফসার আহমদের সঙ্গে বিবাহিত থাকা অবস্থায় উনি গর্ভধারণ করেছেন। এমনকি ডিভোর্সের ১৮০ দিনের মধ্যেও যদি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলেও এই সন্তানের পিতার স্বীকৃতি নিয়ে ভিন্নমত করার সুযোগ নেই। আইনিভাবে শিশুটির পিতৃপরিচয় নিঃসন্দেহে আছে।’

‘আইন অনুযায়ী উনিই (আফসার আহমদ) এই সন্তানের পিতা। উনি মারা যাওয়ার পর যদি অন্য ঘরে সন্তানাদি থাকে, তাদের মতো সমান হারেই এই সন্তানও রেখে যাওয়া সম্পত্তির ভাগ পাবে। আর অন্য ঘরে সন্তান না থাকলে তার পুরো সম্পত্তিই এই ছেলে পাবে।’

এই আইনজীবী বলেন, ‘পাশাপাশি এই সন্তানকে এতদিন ভরণপোষণ দেয়া না হলে তার সমপরিমাণ সম্পত্তি আদালতের আদেশের মাধ্যমে পিতার সম্পত্তি থেকে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। সম্পত্তি না দিলে নতুন সাকসেশনের মামলা দেয়া যাবে। সেই মামলার ভিত্তিতে আদালত সম্পত্তির ভাগ নির্ধারণ করবে।’

আরও পড়ুন:
সিএনজি স্টেশন বিকেল ৫টা-রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার আদেশ
ঢাকার কোন এলাকায় গ্যাস থাকছে না রোববার
ভোগান্তির ১৩ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ
গ্যাস নিয়ে গার্ডেন টাওয়ারের ‘জালিয়াতি’

শেয়ার করুন

ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি হলেও নেমেছে অবস্থান

ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি হলেও নেমেছে অবস্থান

ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ ২০১২ সালে ২৮.৬ স্কোর নিয়ে হলুদ ক্যাটাগরিতে ছিল। জিএইচআই-এর সূচকে এই হলুদ রংয়ের ক্যাটাগরি ‘সিরিয়াস’ বা বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশ ২০০০ সাল থেকে এই ‘সিরিয়াস’ ক্যাটাগরিতে থাকলেও দেশটি এখন আকাশি রংয়ের ‘মডারেট’ ক্যাটাগরিতে জায়গা করে নিয়েছে। ২০০০ সালের চেয়ে স্কোরে ১৪.৯ পয়েন্ট এগিয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে (জিএইচআই) বাংলাদেশের স্কোরের বেশ উন্নতি হলেও সামগ্রিকভাবে তালিকায় গত বছরের চেয়ে এক ধাপ পিছিয়েছে। এ তালিকায় এবার বাংলাদেশ নেপালের সঙ্গে যৌথভাবে ৭৬তম স্থানে রয়েছে। এই সূচকে পাশের দেশ ভারত পিছিয়েছে ৭ ধাপ। এতে ১১৬ দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১০১তম। গত বছর দেশটি ৯৪তম অবস্থানে ছিল।

ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ ২০১২ সালে ২৮.৬ স্কোর নিয়ে হলুদ ক্যাটাগরিতে ছিল। জিএইচআই-এর সূচকে এই হলুদ রংয়ের ক্যাটাগরি ‘সিরিয়াস’ বা বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশ ২০০০ সাল থেকে এই ‘সিরিয়াস’ ক্যাটাগরিতে থাকলেও দেশটি এখন আকাশি রংয়ের ‘মডারেট’ ক্যাটাগরিতে জায়গা করে নিয়েছে। ২০০০ সালের চেয়ে স্কোরে ১৪.৯ পয়েন্ট এগিয়েছে বাংলাদেশ।

এই তালিকায় স্কোরের দিক থেকে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দেশগুলোকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা লাল তালিকায় রাখা হয়। আর তালিকায় ভালো অবস্থায় থাকা দেশগুলো ঝুঁকির দিক থেকে কম পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে সবুজ রংয়ের ক্যাটাগরিতে।

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ গত কয়েক বছর থেকেই এগোচ্ছে। ২০১৯ সালে একবারে ১৩ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ ৮৮তম স্থানে উঠে আসে। পরের বছর এ অবস্থান হয় ৭৫তম স্থানে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২০.৪, এবার সেটির আরও উন্নতি হয়ে স্কোর পয়েন্ট হয়েছে ১৯.১। তবে এবার স্কোরের দিক থেকে বাংলাদেশের উন্নতি হলেও তালিকায় নতুন করে ৯টি দেশ যুক্ত হওয়ায় সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান এক ধাপ নেমে হয়েছে ৭৬।

২০২০ সালে বিশ্ব ক্ষুধা সূচক তৈরি হয়েছিল ১০৭টি দেশকে নিয়ে। আর চলতি বছর ১১৬ দেশ নিয়ে তৈরি হয়েছে এ সূচক।

তালিকায় গত বছর ভারতের স্থান ছিল ৯৪তম, এবার দেশটির অবস্থান ১০১তম। তালিকায় ক্যাটাগরি বিবেচনায় দেশটি আছে হলুদ রংয়ের ‘সিরিয়াস’ বা বিপদজনক অংশে।

ভারতের অবস্থান বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমার এমনকি পাকিস্তানেরও নিচে।

সূচকে মিয়ানমার রয়েছে ৭১তম স্থানে, আর পাকিস্তানের অবস্থান ৯২তম।

২০০০ সালে ভারতের সূচক পয়েন্ট ছিল ৩৮ দশমিক ৮। তারপর ২০১২ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তা ২৭ দশমিক ৫ থেকে ২৮ দশমিক ৮ পয়েন্টের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।

আইরিশ সাহায্য সংস্থা কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং জার্মান সংগঠন ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফ-এর যৌথভাবে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

চীন, ব্রাজিল এবং কুয়েতসহ ১৮টি দেশ পাঁচটির কম জিএইচআই স্কোর নিয়ে ইনডেক্সের শীর্ষস্থানে রয়েছে।

বিশ্ব ক্ষুধার সূচক তৈরি করা হয় মূলত চারটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যার মধ্যে অপুষ্টি একটি অন্যতম নির্ধারক মাপকাঠি।

পাশাপাশি যে দিকগুলো রয়েছে, তা হলো পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের উচ্চতার তুলনায় কম ওজন, উচ্চতা কী রকম ও শিশু মৃত্যুর হার।

জিএইচআই অনুমান বলছে, সারা বিশ্ব এবং বিশেষ করে ৪৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা কমিয়ে আনতে ব্যর্থ হবে। খাদ্য সুরক্ষা একাধিক ক্ষেত্র ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
সিএনজি স্টেশন বিকেল ৫টা-রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার আদেশ
ঢাকার কোন এলাকায় গ্যাস থাকছে না রোববার
ভোগান্তির ১৩ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ
গ্যাস নিয়ে গার্ডেন টাওয়ারের ‘জালিয়াতি’

শেয়ার করুন