করোনা টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনপণ্য’ ঘোষণার দাবি প্রধানমন্ত্রীর

করোনা টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনপণ্য’ ঘোষণার দাবি প্রধানমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে ধারণ করা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে করোনা প্রতিরোধী টিকা কর্মসূচি পরিচালনার অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ টিকাকে বৈশ্বিক জনপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা দরকার। সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা রয়েছে এমন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের সুযোগ দেয়া উচিত।’

বিশ্বে সবার জন্য করোনা প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করতে কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনপণ্য’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে সক্ষমতা রয়েছে এমন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের সুযোগ দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসে বুধবার কোভিড-১৯ সংক্রান্ত ‘হোয়াইট হাউস কোভিড-১৯ সামিট: অ্যান্ডিং দ্য প্যানডেমিক অ্যান্ড বিল্ডিং ব্যাক বেটার হেলথ সিকিউরিটি টু প্রিপেয়ার ফর দ্য নেক্সট’ শীর্ষক শীর্ষ সম্মেলনে ধারণ করা বক্তব্যে বিশ্বনেতাদের প্রতি এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ভার্চুয়াল এ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে করোনা প্রতিরোধী টিকা কর্মসূচি পরিচালনার অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ টিকাকে বৈশ্বিক জনপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা দরকার। সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা রয়েছে এমন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের সুযোগ দেয়া উচিত।’

হোয়াইট হাউস আমন্ত্রিতদের জানিয়েছে, এ বছরের শেষের দিকে এবং ২০২২ সালের শুরুতে ফলো-আপ ইভেন্টগুলো অংশগ্রহণকারীদেরকে তাদের প্রতিশ্রুতির জন্য দায়বদ্ধ রাখার উদ্দেশে আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তার ধারণ করা বক্তব্যে বলেছেন, ‘করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়তে তিন পন্থা অবলম্বন করেছে বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘জীবন বাঁচাতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, মেডিক্যাল সরঞ্জাম, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

দেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় সহায়তা দেয়া এবং যত দ্রুত সম্ভব অর্থনৈতিক চাকা সচল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান।

আগামী দিনগুলোকে নিরাপদ করার জন্য তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেয়ার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

প্রথমত, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা বলয় কর্মসূচির ওপর জোর দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নীতির দিকে মনোনিবেশ করা।

দ্বিতীয়ত, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে যাতে টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হয়।

তৃতীয়ত, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং কার্বণ নিঃসরণ হার কমানোর দিকে দিকে মনোনিবেশ করা।

বক্তব্যে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপগুলোও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ১৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ বরাদ্দ দিয়েছি। দরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরাসহ ৪৪ লাখ সুবিধাভোগীদের মাঝে ১৬৬ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করা হয়েছে।’

১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি ডোজ করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া হয়েছে বলেও সম্মেলনে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘২০২২-এর আগস্ট মাসের মধ্যে মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ লোককে টিকার আওতায় আনা হবে। আর সেটা নিশ্চিত করার জন্য প্রতি মাসে ২ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

এসময়, কোভিড-১৯ মহামারি অবসানে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে জার্মান চ্যান্সলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো, আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
সহযোগিতা বাড়াতে রোডম্যাপ করছে বাংলাদেশ-কুয়েত
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইসলামী বক্তা বিপ্লবীর স্বীকারোক্তি

ইসলামী বক্তা বিপ্লবীর স্বীকারোক্তি

উসকানি দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর মাওলানা আব্দুর রহিম বিপ্লবী। ফাইল ছবি

গত ২১ অক্টোবর সকাল সোয়া সাতটার দিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চুনকুটিয়া পূর্বপাড়া (আমিনপাড়া) জামে মসজিদের সামনে থেকে আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ।

কুমিল্লার একটি পূজা মণ্ডপে প্রতিমার পায়ের কাছে কোরআন রাখার ঘটনায় ঢাকার একটি ওয়াজ মাহফিলে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয়ার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ইসলামী বক্তা আব্দুর রহিম বিপ্লবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার তিনি আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ দিন পল্টন থানায় দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আব্দুর রহিমকে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের উপ-পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।

আব্দুর রহিম স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

গত ২১ অক্টোবর সকাল সোয়া সাতটার দিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চুনকুটিয়া পূর্বপাড়া (আমিনপাড়া) জামে মসজিদের সামনে থেকে আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে এসআই প্রদীপ কুমার দাস পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

আব্দুর রহমান বিপ্লবী ফেনীর পরশুরাম উপজেলার পশ্চিম সাহেব নগর এলাকার মৃত আব্দুল কালামের ছেলে। অভিযোগ আছে, গত ১৫ অক্টোবর জুমার নামাজ শেষে ঢাকার পশ্চিম ধোলাইপাড় এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন তিনি।

সিআইডি বলছে, তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, বাড়ি-ঘরে হামলা হয়। পরে আব্দুর রহিম বিপ্লবীকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠে।

আরও পড়ুন:
সহযোগিতা বাড়াতে রোডম্যাপ করছে বাংলাদেশ-কুয়েত
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

শেয়ার করুন

পরীমনির রিমান্ডের ব্যাখ্যা: আরও এক সপ্তাহ সময় পেলেন দুই বিচারক

পরীমনির রিমান্ডের ব্যাখ্যা: আরও এক সপ্তাহ সময় পেলেন দুই বিচারক

মাদক মামলায় পরীমনিকে বিচারিক আদালতে নেয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি

মাদক মামলায় তিন দফায় রিমান্ডে নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন পরীমনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করে আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার শুনানির জন্য তারিখ ঠিক ছিল।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডে নেয়ার বিষয়ে দুই বিচারকের ব্যাখ্যার জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারিক আদালতের ওই দুই বিচারকের পক্ষে পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মবিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সময় দেয়।

আদালতের দুই বিচারক ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলামের পক্ষে সময় প্রার্থনা করেন আইনজীবী আব্দুল আলিম মিয়া জুয়েল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি মিজানুর রহমান। অন্যদিকে পরীমনির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও মুজিবর রহমান।

পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী এদিন বিচারকের ব্যাখ্যা দেয়ার তারিখ ঠিক করা ছিল। সকালে শুনানিতে আইনজীবী আব্দুল আলিম মিয়া জুয়েল ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য এক সপ্তাহ সময় চান।

নিউজবাংলাকে তিনি জানান, আদালত তাদের এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন।

এর আগেও একবার ব্যাখ্যা দেন দুই বিচারক। তখন তাদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হওয়ায় ফের ব্যাখ্যা দেয়ার সময় দেয়া হয়।

মাদক মামলায় তিন দফায় রিমান্ডে নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন পরীমনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করে আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার শুনানির জন্য তারিখ ঠিক ছিল।

৪ আগস্ট বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ আগস্ট তাকে আদালতে উপস্থিত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

১০ আগস্ট চার দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে তাকে আবার দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে ১৩ আগস্ট পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। এরপর আবার তাকে তৃতীয় দফায় একই মামলায় এক দিনের রিমান্ড দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
সহযোগিতা বাড়াতে রোডম্যাপ করছে বাংলাদেশ-কুয়েত
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

শেয়ার করুন

মানুষ বেশি ভাত খায় বলে চালের ঘাটতি: কৃষিমন্ত্রী

মানুষ বেশি ভাত খায় বলে চালের ঘাটতি: কৃষিমন্ত্রী

‘বাংলাদেশের ৫০ বছর, কৃষি রূপান্তর অর্জন’ বিষয়ে সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।

‘আমরা অনেক বেশি চাল খাই, ভাত খাই। এজন্য চালের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমরা দিনে প্রায় ৪০০ গ্রাম চাল খাই অথচ পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষ ২০০ গ্রাম চালও খায় না।’

বাংলাদেশের মানুষ বেশি ভাত খায় বলে চালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। এ জন্য তিনি খাদ্যাভ্যাস পাল্টানোর তাগিদ দিয়েছেন।

মানুষকে ভাত কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেছেন, বিশ্বের মানুষ গড়ে যত চাল খায় বাংলাদেশের মানুষ খায় তার দ্বিগুণ।

রোববার রাজধানীতে এক কৃষি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই কথা বলেন। সম্মেলনের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের ৫০ বছর, কৃষি রূপান্তর অর্জন।’

বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম ও বণিক বার্তা যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ঘাটতির তথ্য পাওয়া যায় না। তবে প্রায়ই চালের দাম বেড়ে গেলে সরকার আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়।

সম্প্রতি চালের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। তবে গত দুই সপ্তাহে তা কিছুটা নিম্নমুখি। তার পরেও বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে সরু চালের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। এটি মূল্যস্ফীতির সার্বিক হারের চেয়ে বেশি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি চাল খাই, ভাত খাই। এজন্য চালের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমরা দিনে প্রায় ৪০০ গ্রাম চাল খাই অথচ পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষ ২০০ গ্রাম চালও খায় না।

‘খাদ্যের অভাব নেই দেশে। নেই খাদ্যের সংকট ও খাবারের জন্য হাহাকার। কিন্তু মানুষ অধিক ভাত খায় বলে চালের ওপর বেশি চাপ পড়ছে। এতে প্রায়শ সংকট দেখা দিচ্ছে। বাড়ছে দামও।’

ধানজাতীয় দানাদার খাদ্যে বাংলাদেশকে সফল বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। বলেন, খাদ্যেও দেশ অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ।

আগামী পাঁচ থেকে ছয় বছর পর দেশেই সারা বছর দেশে আম পাওয়া যাবে বলেও তথ্য দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কৃষিপণ্য রপ্তানিও করছি। তবে এই রপ্তানি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। সরকারের লক্ষ্য এখন খাদ্যে পরিপূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। এর পাশাপাশি পুষ্টিজাতীয় খাদ্য নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। তবে এরজন্য কৃষির বাণিজ্যিক রূপান্তর দরকার।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যার ব্যুরোর হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে চালের উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৪৮ লাখ টন। ২০২০ সালে উৎপাদন বেড়ে ৪ কোটি টন ছাড়িয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) গবেষণা তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মানুষের দৈনিক মাথাপিছু চাল খাওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৯৬ দশমিক ৬ গ্রাম। সংস্থাটির ২০১৬ সালের হিসাবে ছিল ৪২৬ গ্রাম।

আরও পড়ুন:
সহযোগিতা বাড়াতে রোডম্যাপ করছে বাংলাদেশ-কুয়েত
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

শেয়ার করুন

আবরার হত্যায় ২৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড চাইল রাষ্ট্রপক্ষ

আবরার হত্যায় ২৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড চাইল রাষ্ট্রপক্ষ

বুয়েট ছাত্র আবরারকে পেটানোর পর সন্দেহভাজনরা ধরাধরি করে কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যান। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সে দৃশ্য। ফাইল ছবি

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। পরে পুলিশের চার্জশিটে আরও ছয়জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় ২৫ আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন মামলার চিফ প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল।

শুনানিতে কাজল বলেন, ‘এটা কোনো সামান্য বিষয় না। ঘটনার আগে আবরার গ্রামে চলে যায়। আসামিরা তার অপেক্ষায় থাকে। বলতে থাকে আসুক, আসুক। সে হলে আসে এবং তাকে ডেকে নিয়ে যায়। একটা হলে কোর্ট বসায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ আর মৃদু আক্রমণ করে। আস্তে আস্তে আক্রমণ জোরালো হয়। তার প্রতি কেন এত রাগ, এত রাগ কেন? শেষ পর্যন্ত পিটিয়েই তাকে মেরে ফেলল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই। জুলুম বা অবিচারের পক্ষে আমরা নই। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। কেউ নিরপরাধ থাকলে মাননীয় আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবেন। ছাত্র আবাসিক হলে যারা থাকেন তারা একে অপরের আপন হয়ে যায়। আবরার তাদেরই আপন একজন ছিল। কিন্তু সেই আপনজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলল আসামিরা।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘যারা অপরাধ করেছে তারা যেন শাস্তির আওতায় আসে। তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করি। আবরারের মা যেন বলতে পারেন, ন্যায়বিচার পেয়েছি। আবরারের স্বজনরা এখনও কাঁদছে।’

কাজল বলেন, ‘এই মামলার ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জন আদালতে এসে তাদের জবানবন্দিতে মারপিট করে আবরারকে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ৭৫ শতাংশের বেশি সাক্ষ্য আমরা আদালতে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। তাই প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।’

এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তবে তা শেষ হয়নি। সোমবার অবশিষ্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছে আদালত।

শুনানির সময় কারাগারে থাকা ২২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইঞা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান। গত বছর ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত।

মামলাটিতে ৬০ সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। গত ১৪ মার্চ এ মামলায় কারাগারে থাকা ২২ আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেনি। এরপর কয়েকজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যও দেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলায় কিছু ত্রুটি থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি পুনরায় চার্জ গঠনের আবেদন করে। ৮ সেপ্টেম্বর আদালত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় চার্জ গঠন করে। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ শুনানিতে ২২ আসামি আবারও নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

আরও পড়ুন:
সহযোগিতা বাড়াতে রোডম্যাপ করছে বাংলাদেশ-কুয়েত
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

শেয়ার করুন

ডলফিন হত্যাকারীর তথ্য দিলে পুরস্কার

ডলফিন হত্যাকারীর তথ্য দিলে পুরস্কার

শুধু কুয়াকাটা সৈকতে চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভেসে এসেছে ২১টি মৃত ডলফিন। ফাইল ছবি

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ‘ডলফিন সংরক্ষণে বর্তমান সরকার সচেষ্ট। এ কার্যক্রমকে সফল করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অনেকে ডলফিনের তেল সংগ্রহসহ বিভিন্ন কারণে ইচ্ছাকৃত ডলফিন হত্যা করে। যারা বন অধিদপ্তরকে ডলফিন হত্যাকারীদের তথ্য দেবেন তাদের পুরস্কার দেয়া হবে।’

ডলফিন হত্যাকারীর তথ্য দিলে পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়।

আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবস উপলক্ষে রোববার বন অধিদপ্তরের এক আলোচনা সভায় এ ঘোষণা দেন পরিবেশ মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ‘ডলফিন সংরক্ষণে বর্তমান সরকার সচেষ্ট। এ কার্যক্রমকে সফল করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অনেকে ডলফিনের তেল সংগ্রহসহ বিভিন্ন কারণে ইচ্ছাকৃত ডলফিন হত্যা করে।

‘যারা বন অধিদপ্তরকে ডলফিন হত্যাকারীদের তথ্য দেবেন তাদের পুরস্কার দেয়া হবে।’

বাংলাদেশে প্রধানত ১২ প্রজাতির ডলফিন দেখা যায়। এর মধ্যে দুটি মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। এই দুই প্রজাতি হল গাঙ্গেয় এবং ইরাবতী।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ডলফিনের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার, যা ছয় হাজারই রয়েছে সুন্দরবন এলাকায়।

প্রায়ই জেলেদের জালে আটকা পড়ে ডলফিন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর বাইরেও অনেকেই গোপনে ডলফিন শিকার করেন।

এক সময় ঢাকার বুড়িগঙ্গা, পদ্মাসহ বড় নদীগুলোতেও সচরাচর দেখা মিলতো গাঙ্গেয় ডলফিন বা শুশুক। নদী দূষণের কারণে এর মধ্যে টিকে আছে হাতে গোনা কয়েকটি।

এ সময় ডলফিন সংরক্ষণে সরকারের নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন বনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের ডলফিন সংরক্ষণের জন্য সাতটি ডলফিন কনজারভেশন দল গঠন করা হয়েছে, অন্যান্য এলাকায় ও এ ধরনের টিম গঠন করা হবে। জেলেসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

‘ডলফিন সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ যাবৎ সরকার দেশে নয়টি ডলফিন অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে, অন্যান্য এলাকাতেও এটি ঘোষণা করা হবে।’

বনমন্ত্রী বলেন, ‘ডলফিন অ্যাকশন প্ল্যান এবং ডলফিন এটলাস প্রস্তুত করা হয়েছে। হালদা নদীতে ডলফিনের সংখ্যা নির্ণয় এবং ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে ডলফিন হত্যার অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ লাক্খ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে।’

শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘দেশের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিবেদিত ব্যক্তিদের ডলফিন রক্ষায় নিজ নিজ স্থান থেকে একনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সকলের সমন্বিত প্রয়াসেই আমরা ডলফিন সংরক্ষণ কার্যক্রমে সফল হব।’

আরও পড়ুন:
সহযোগিতা বাড়াতে রোডম্যাপ করছে বাংলাদেশ-কুয়েত
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

শেয়ার করুন

ভারতে শত কোটি ডোজ টিকা: মোদিকে হাসিনার অভিনন্দন

ভারতে শত কোটি ডোজ টিকা: মোদিকে হাসিনার অভিনন্দন

ফাইল ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে রোববার পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারির এই ভয়াবহতার সময়ে দেশের জনগণের মধ্যে ১০০ কোটি ডোজ টিকা দিতে পারা একটি ‘উল্লেখযোগ্য অর্জন’।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শত কোটি ডোজ টিকা প্রয়োগের মাইলফলক ছুঁয়েছে ভারত। তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনা মহামারি থেকে এ অঞ্চলের মানুষকে বাঁচাতে এবং এই মহামারির বহুমুখী প্রতিকূল প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে রোববার পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারির এই ভয়াবহতার সময়ে দেশের জনগণের মধ্যে ১০০ কোটি ডোজ টিকা দিতে পারা একটি ‘উল্লেখযোগ্য অর্জন’।

এর মধ্য দিয়ে করোনা থেকে সুরক্ষা যেমন তৈরি হবে তেমনি ভারতে স্বাভাবিকতাও ফিরে আসবে বলে মনে করেন সরকারপ্রধান।

অভিনন্দন বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারও বাংলাদেশে একটি গণটিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করে ৬ কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ টিকার ‘গুরুত্বপূর্ণ উৎস’ হিসেবে ভারতকে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা রপ্তানি আবারও শুরু করায় ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তারা আশা, আগামীতে নিরবচ্ছিন্ন টিকা প্রাপ্তির পথ সুগম হলো।

আরও পড়ুন:
সহযোগিতা বাড়াতে রোডম্যাপ করছে বাংলাদেশ-কুয়েত
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

শেয়ার করুন

অপরাধী যে দলেরই হোক, বিচার হবে: আইনমন্ত্রী

অপরাধী যে দলেরই হোক, বিচার হবে: আইনমন্ত্রী

রংপুরের পীরগঞ্জে

আনিসুল হক বলেন, ‘ছাত্রলীগ বা অন্য লীগ বা অন্য দল এসব না। যারা অপরাধ করবে তাদের বিচার হবে। সে যেই দলেরই হোক, যে গোষ্ঠীরই হোক, যে জাতিরই হোক। অপরাধী অপরাধীই, তার বিচার হবে।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় অপরাধী ছাত্রলীগ হোক বা অন্য কোনো দলের হোক তার বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রোববার এক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ বা অন্য লীগ বা অন্য দল এসব না। যারা অপরাধ করবে তাদের বিচার হবে। সে যেই দলেরই হোক, যে গোষ্ঠীরই হোক, যে জাতিরই হোক। অপরাধী অপরাধীই, তার বিচার হবে।’

এবার দুর্গাপূজার মধ্যে এবং পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের বিচারে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে সরকার। আইনমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় করা মামলার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।

গত রোববার রাতে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

পীড়গঞ্জে তাণ্ডবের হোতা হিসেবে সৈকত মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সৈকত সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের রংপুরের কারমাইকেল কলেজের নেতা।

আইনমন্ত্রী জানালেন, অপরাধী যেই হোক তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবেই।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অবশ্যই অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিশ্বাস করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের মানুষকেও সে দীক্ষায় দীক্ষিত করেছেন বলে জনগণ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দিকে ঝোঁকে না। সে ক্ষেত্রে কেউ যদি ব্যক্তিস্বার্থে অন্যায় করে সেটাও অন্যায় এবং তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে সহকারী জজ ও সমপর্যায়ের বিচারকদের জন্য ৪২তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
সহযোগিতা বাড়াতে রোডম্যাপ করছে বাংলাদেশ-কুয়েত
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

শেয়ার করুন