নিখোঁজের ৪ দিন পর মিলল নারী ইউপি সদস্যের মরদেহ

নিখোঁজের ৪ দিন পর মিলল নারী ইউপি সদস্যের মরদেহ

বগুড়ার ধুনটে নিখোঁজের চার দিন পর রেশমা খাতুন নামের এক ইউপি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ওই ইউপি সদস্যের নাম রেশমা খাতুন। তিনি বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ফরিদুল ইসলামের স্ত্রী এবং ওই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য।

বগুড়ার ধুনটে নিখোঁজের চার দিন পর একটি ধানক্ষেত থেকে এক নারী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার কুড়িগাঁতী গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত ইউপি সদস্যের নাম রেশমা খাতুন। তিনি উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ফরিদুল ইসলামের স্ত্রী এবং ওই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা।

মথুরাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ সেলিম বলেন, ‘বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন ধানক্ষেতে কাজ করতে যান। ওই সময় তারা ক্ষেতে এক নারীর মরদেহ দেখতে পায়।’

পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করার পর ফরিদুল মরদেহটি তার স্ত্রী রেশমার বলে শনাক্ত করেন।

ফরিদুল জানায়, গত শনিবার রেশমা শেরপুর উপজেলায় ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি বাড়িতে ফেরেননি।

তবে স্ত্রীর নিখোঁজের বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেননি ফরিদুল।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু জানান, রেশমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। ধারণা কর হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বেশ কয়েকদিন হয়ে যাওয়ায় মরদেহে পচন ধরেছে।

এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে নিজ ঘরে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ
পল্টনে ২ মরদেহ উদ্ধার
বিষখালী নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার
দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন
ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছাতক থানার সেই ওসি বদলি

ছাতক থানার সেই ওসি বদলি

সদ্য বদলি হওয়া সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওসি নাজিম উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামক ফেসবুকভিত্তিক একটি পেইজে লাইভ আসেন। সেই ভিডিও ছড়ালে ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

সুনামগঞ্জের ছাতক থানার সেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফেসবুক লাইভে আসার অভিযোগ উঠেছিল।

ছাতক থানার ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম শেখ নাজিম উদ্দিন। তাকে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, ওসি নাজিমের আসামিকে ফেসবুক লাইভে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি দায়িত্বে অবহেলার সমান। তাই তাকে ছাতক থানা থেকে বদলি করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে আনা হয়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওসি নাজিম উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামক ফেসবুকভিত্তিক একটি পেইজে লাইভ আসেন। সেই ভিডিও ছড়ালে ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আসামি আবু সুফিয়ান সোহাগকে গবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান ও থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ওসি নাজিম। ভিডিওটি ভাইরাল হলে ১ ঘণ্টা পর সেটি পেইজ থেকে ডিলেট করা হয়।

ওই সময় ওসি নাজিম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এগুলো করিনি। আসামি যখন আমাদের বিবরণ বলেছিল প্রমাণের জন্য তা ভিডিও করা হয়। কিন্তু এ ভিডিও লাইভে কীভাবে গেল সেটা আমি জানি না। আমি এসব কিছু করিনি।’

এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে নিজ ঘরে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ
পল্টনে ২ মরদেহ উদ্ধার
বিষখালী নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার
দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন
ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

‘জুয়ার টাকা বাটোয়ারা’ নিয়ে যুবক খুন

‘জুয়ার টাকা বাটোয়ারা’ নিয়ে যুবক খুন

নিহতের বোন সুফিয়া আক্তার জানান, সুরুজ আলী প্রতিদিন রাতেই জুয়া খেলত। মঙ্গলবার রাতেও জুয়া খেলতে দুর্লভপুর চৌমুহনীতে যান তিনি। খেলার সময় টাকার ভাগবাটোরা নিয়ে অন্য জুয়াড়িদের সঙ্গে সুরুজের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সুরুজকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

হবিগঞ্জে জুয়া খেলার টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এক যুবককে খুনের অভিযোগ উঠেছে।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ৩টার দিকে সুরুজ আলী মারা যান। এর আগে শহরের দুর্লভপুর গ্রামে বুধবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ আহমেদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ৩৫ বছর বয়সী সুরুজ আলীর বাড়ি দুর্লভপুর গ্রামে।

নিহতের বোন সুফিয়া আক্তার জানান, সুরুজ আলী প্রতিদিন রাতেই জুয়া খেলত। মঙ্গলবার রাতেও জুয়া খেলতে দুর্লভপুর চৌমুহনীতে যান তিনি। খেলার সময় টাকার ভাগবাটোরা নিয়ে অন্য জুয়াড়িদের সঙ্গে সুরুজের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সুরুজকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই শরীফ আহমেদ জানান, মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, জুয়ার টাকার ভাগবাটোরা নিয়ে বিরোধের জেরে সুরুজকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। এ ঘটনায় মামলা হবে।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে নিজ ঘরে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ
পল্টনে ২ মরদেহ উদ্ধার
বিষখালী নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার
দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন
ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুপাড়ায় এখনও আতঙ্ক, বিনিদ্র রাত

পীরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুপাড়ায় এখনও আতঙ্ক, বিনিদ্র রাত

পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে হামলার পর আতংকে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কনক মালা বলেন, ‘ছোট ছোয়া (ছেলে) সুজন কয়, মা ওমরা কি ফির আইসপে (আসবে)। মুই কইচোং (বলেছি), না বাবা আর আইসপের নয়। তুই ঘুম যা। ঘুম পড়ে না ভয়োতে (ভয়ে)...।’

যেই আইত (রাত) হইল অমনি ভয় ধরিল, খালি ভয় নাগে (লাগে), শরীল (শরীর) দলদল করি কাঁপে। মনে হয় ওমরা (ওরা) ফির আসিল। ওই চিন্তায় ঘুম হয় নাই। ঘুমোতে চটকি চটকি (চমকে চমকে) উটি। ছৈল গুল্যা ঘুম পাড়ে নাই।’

কথাগুলো বলছিলেন, পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের রুহিনী চন্দ্র দাস।

ওই এলাকার বাসিন্দা কনক মালা বলেন, ‘ঘুমোতে মনে হয় বাড়িত আগুন ধরি দেইল। সোউগ (সব) নিয়ে গেইল। ভাঙি (ভেঙে) ফেলাইল। খালি এ্যাইলা (এগুলো) দেকি। ঘুমবার পাড়ি নাই। সারা আইত (রাত) বসি আচিনোং (ছিলাম)। ছোয়াগুলেক (বাচ্চাদের) কই তোমরা ঘুমেন হামরা (আমরা) জাগি আচি, ওমরাও ঘুমেয় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছোট ছোয়া (ছেলে) সুজন কয়, মা ওমরা কি ফির আইসপে (আসবে)। মুই কইচোং (বলেছি), না বাবা আর আইসপের নয়। তুই ঘুম যা। ঘুম পড়ে না ভয়োতে (ভয়ে)...।’

উপেন চন্দ্র দাস বলেন, ‘হামলা করি তো সোউগ নষ্ট করি ফেলাইচে, পুড়ি ফেলাইচে। কাল থাকি চুলেত আগুন ধরাই নাই। এখানে সরকার থাকি পাক-সাক (রান্না-বান্না) করোছে (করছে) ওইলা খাওচি (খাচ্ছি)। খাবার তো ভিতরোত (ভেতরে) ঢোকে না। খালি চিন্তা হয়, সোগ শ্যাষ হইল এ্যালা চলমো কেমন করি। বউ বাচ্চাক কেমন করি চলামো।

রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রামনাথ পুরের উত্তর পাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।

এতে ৬০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীদের দেয়া আগুনে পুড়ে যায় ধান, চাল, আসবাব, ঘরে থাকা জামাকাপড়সহ প্রয়োজনীয় সবকিছু। এ সময় বাড়ি-ঘর ছেড়ে ধানক্ষেত, বাঁশঝাড়ে আশ্রয় নেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

বর্তমানে তারা পুলিশের অস্থায়ী তাবুতে রাত কাটাচ্ছেন। তবে হমলার সেই দৃশ্য তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ভয়, ক্ষোভ আর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পল্লীতে নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা। তাদের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে খাবার, কাপড় এবং ঘর নির্মাণের জন্য টিন ও নগদ আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

রংপুর পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, এ ঘটনায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৪২ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে নিজ ঘরে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ
পল্টনে ২ মরদেহ উদ্ধার
বিষখালী নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার
দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন
ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

৩৫ বছরের হকারি জীবন গেল কাভার্ডভ্যানের চাপায়

৩৫ বছরের হকারি জীবন গেল কাভার্ডভ্যানের চাপায়

কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত হকারের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সাভার হাইওয়ে থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, কাভার্ডভ্যানটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকার সাভারে রাস্তা পারাপারের সময় কাভার্ডভ্যানের চাপায় পত্রিকার হকার নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

৬০ বছর বয়সী রুহুল আমিন ৩৫ বছর ধরে পত্রিকার হকার হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর থানায়।

আশুলিয়ার ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।

নিহতের সহকর্মী আশরাফুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করে আসছিলেন রুহুল আমিন। প্রতিদিনের মতো আজও ভোরে নিজ বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে নবীনগরে আসছিলেন পত্রিকা নিতে।

‘জয় রেস্তোরাঁর সামনে রাস্তা পারপারের সময় একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।’

ওই সময় স্থানীয় লোকজন কাভার্ডভ্যানটিকে জব্দ করে পুলিশে দেয়। গাড়িটির চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, কাভার্ডভ্যানটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে নিজ ঘরে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ
পল্টনে ২ মরদেহ উদ্ধার
বিষখালী নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার
দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন
ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট

ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট

তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

বেলা পৌনে ১১টার দিকে ভেঙে গেছে ব্যারেজের লালমনিরহাট অংশের একটি ফ্লাড বাইপাস বাঁধ। ওই এলাকায় পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল।

ভারতের ভয়াবহ বন্যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের তিস্তা নদীতে। এতে তিস্তা নদীবেষ্টিত জেলা নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ভেঙে গেছে তিস্তা ব্যারেজের লালমনিরহাট অংশের একটি বাঁধ। হুমকির মুখে অন্য বাঁধগুলোও।

বুধবার সকাল ৬টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা যায়। সকাল ৯টায় আরও ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ড রেড অ্যালার্ট (লাল সংকেত) জারি করে তিস্তার আশপাশের মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে ভেঙে গেছে ব্যারেজের লালমনিরহাট অংশের একটি ফ্লাড বাইপাস বাঁধ। ওই এলাকায় পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল।

হঠাৎ ভয়াবহ বন্যায় নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েও তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতে তিস্তা ব্যারেজ রক্ষায় উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত ফ্লাড ফিউজ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে বুড়িমারী, পাটগ্রাম, হাতিবান্ধার সঙ্গে নীলফামারী জেলার সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা ডালিয়া পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫১ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই পানি ১০৭ সেন্টিমিটার বেড়ে সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা সকাল ৯টায় আরও ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, এলাকার জিরো পয়েন্টে তিস্তার ডান তীর ও গ্রোয়েন বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রোয়েন বাঁধটির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ওই বাঁধটি ভেঙে গেলে ডান তীর বাঁধসহ এলাকার শত শত ঘরবাড়ি তিস্তার পানিতে ভেসে যাবে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, ‘পরিস্থিতি খুব খারাপ। এরই মধ্যে তিস্তাবাজার, তেলিরবাজার, দোলাপাড়া, চরখড়িবাড়ি এলাকা তলিয়ে গেছে। চরের ফসলের জমি সব পানির নিচে। ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদে সরে গেছে।’

খালিশাচাঁপানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘কার্তিক মাসের এমন হঠাৎ বন্যা এলাকাবাসীকে পথে বসিয়ে দিচ্ছে। এলাকার ছোটখাতা, বাইশপুকুর, সুপারীপাড়া গ্রাম এখন নদীতে পরিণত হয়েছে।’

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘ভেন্ডাবাড়ি ছাতুনামা ফরেস্টের চর এলাকার ওপর দিয়ে এখন তিস্তা নদীর পানি বয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়িতে গলা সমান পানি। এ ছাড়া নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ২২টি চরের ৫০ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।’

হঠাৎ তিস্তায় পানি বেড়ে বন্যা সৃষ্টি হওয়ায় চরাঞ্চলের সবজিসহ ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

চরাঞ্চলের রমজান আলী বলেন, ‘রাতে হঠাৎ তিস্তার পানি বেড়ে যাবে ভাবতে পারিনি। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, ভেবে পাচ্ছি না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন আগে কোনো রকম ঘোষণা দেয়নি যে বাড়ি থেকে সরে যেতে হবে। পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে আছি।’

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদ্দৌলা প্রিন্স বলেন, ‘উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেও পানি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। যেকোনো সময় তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড ফিউজ বিধ্বস্ত হতে পারে। আমরা তিস্তা অববাহিকায় লাল সংকেত দিয়ে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছি।’

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে নিজ ঘরে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ
পল্টনে ২ মরদেহ উদ্ধার
বিষখালী নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার
দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন
ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

পঞ্চগড়ে এবার দেরিতে বাজারে আসা শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চগড়ের কৃষকরা বলছেন, এ বছর জেলায় বৃষ্টি কম হওয়ায় শীতকালীন সবজির আবাদ ব্যাহত হয়েছে। আগাম সবজি উঠতে দেরি হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা থেকে সবজি আসছে, এ কারণে দাম বেশি।

পঞ্চগড় জেলায় এ বছর একটু দেরিতে বাজারে আসা শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। বাজারে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, শিমসহ নানা ধরনের শীতের সবজি পাওয়া গেলেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে তার বেশি দামে। কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়, ফুলকপি ১০০, বাঁধাকপি ৮০, গাজর ২০০, শসা ৬০ ও টমেটো ২০০ টাকা কেজি দরে।

কৃষকরা বলছেন, এ বছর জেলায় বৃষ্টি কম হওয়ায় শীতকালীন সবজির আবাদ ব্যাহত হয়েছে। আগাম সবজি উঠতে দেরি হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা থেকে সবজি আসছে, এ কারণে দাম বেশি।

এ ছাড়া বৃষ্টির অভাবে বাঁধাকপি, ব্রকলি, ফুলকপি ও শিমে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়ায় এসব ফসলের উৎপাদন কম হবার আশঙ্কা তাদের। সেটিও দামে প্রভাব ফেলছে।

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা, রতনিবাড়ী, বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মড়েয়া বড়শষি আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়া খাওয়া, সর্দারপাড়া, দেবীগজ্ঞ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ি, কালিগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শড়িয়ালজোত, বিল্লাভিটা ও শালবাহানহাট এলাকায় প্রচুর পরিমাণ সবজি চাষ হয়। এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রির পর চলে যায় রাজধানী ঢাকায়।

বোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজি চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর শীতের সবজি চাষ করে তার প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ থাকে। এ বছর তিনি শিম, ঝিঙ্গা, শসা, বরবটি, লাউ ও কচুর লতির আবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘চলতি বছর বৃষ্টি আশাতীতভাবে না হওয়ায় সবজির ফলন ভালো হয়নি। সবজি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় উৎপাদন কিছুটা হলেও কম হবে। আর প্রতি বছর আগাম সবজি বাজারজাত করতে পারলেও এ বছর একটু দেরি হবে।’

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

তবে সবজির চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলার ভাবরঙ্গি গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও বেগুনের আবাদ ভালো হয়েছে। তবে আগে বাজারজাত করতে না পারায় লাভ কিছুটা কম হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সবজি চাষে ব্যাঘাত হয়েছে। শেষ সময়ের বৃষ্টিপাতে চাষিরা তা পূরণ করার চেষ্টা করছেন।

বৃষ্টি কম হওয়ায় এবার আগাম সবজি সেভাবে বাজারে ওঠেনি। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সবজি সরবরাহ বাড়বে।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে নিজ ঘরে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ
পল্টনে ২ মরদেহ উদ্ধার
বিষখালী নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার
দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন
ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

অস্তিত্বসংকটে বনমানুষ

অস্তিত্বসংকটে বনমানুষ

বাংলাদেশের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে সারা দেশে ১৩৫টি গ্রুপে প্রায় ৪৬৮টি উল্লুক আছে। ছবি: সাবিত হাসান

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক হাবিবুন নাহার জানান, ১৯৮০ সালের একটি গবেষণার সূত্রে জানা গেছে, দেশে ৩ হাজার উল্লুক ছিল। এখন আছে ৪৬৮টি। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, মানুষের আগ্রাসনসহ নানা কারণে গত দুই দশকে উল্লুক প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

বিশ্বে বিপন্ন এবং বাংলাদেশে মহাবিপন্ন উল্লুক। এলাকাভেদে এটিকে বনমানুষও ডাকা হয়। বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রামে এদের বসবাস।

চলতি মাসের ৬ তারিখে ডাইভারসিটি জার্নালে প্রকাশিত বাংলাদেশের উল্লুকবিষয়ক একটি গবেষণায় বলা হয়েছে সারা দেশে ১৩৫টি গ্রুপে প্রায় ৪৬৮টি উল্লুক আছে। সবচেয়ে বেশি উল্লুক আছে মৌলভীবাজারের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনে।

বন বিভাগের অনুমতি ও সহায়তায় আমেরিকার ইউএস ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের অর্থায়নে এই গবেষণা হয়েছে। গবেষকরা দেশের মোট ২২টি বনে এই গবেষণা করেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাবিবুন নাহারের নেতৃত্বে হওয়া এই গবেষণায় জানা গেছে, গত দুই দশকে দেশে উল্লুক কমেছে ৯০ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইউসিএন) তালিকায় বিপন্ন প্রাণী হিসেবে লাল তালিকায় আছে উল্লুক। এর ইংরেজি নাম Western Hoolock Gibbon ও বৈজ্ঞানিক নাম Hoolock hoolock

গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনে প্রায় ১২২টি, পাথারিয়া সংরক্ষিত বনে প্রায় ৯১টি, লাউয়াছড়ায় ৪০টি, সাগরনাল বনে ২টি, হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে ৫টি এবং সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ৯টি উল্লুক পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে উল্লুকের সংখ্যা নির্ণয়, উল্লুকের বসবাসযোগ্য বনের অবস্থা ও সম্ভাব্য বনের তথ্য জানার উদ্দেশ্যে এই গবেষণা করা হয় ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

অধ্যাপক ড. হাবিবুন নাহার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের (UAEU) জীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবির বিন মুজাফফারের নেতৃত্বে এই গবেষণায় অংশ নেন বাংলাদেশের বন্য প্রাণী গবেষক হাসান আল রাজী চয়ন, তানভীর আহমেদ, সাবিত হাসান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিজ জারাদাত।

অস্তিত্বসংকটে বনমানুষ

গবেষক দলের সাবিত হাসান জানান, বাংলাদেশের সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার বন ছাড়াও ভারত (উত্তর-পূর্বাংশ), মিয়ানমার (পশ্চিমাংশ) এবং চীনে (দক্ষিণাংশে) উল্লুক দেখা যায়। নির্বিচারে বন ধ্বংসের কারণে উল্লুকের বাসস্থান, খাদ্যসংকট ও শিকার এদের সংখ্যা হ্রাসের প্রধান কারণ।

সাবিত আরও জানান, উল্লুকের খাবারের তালিকার বড় জায়গাজুড়ে রয়েছে ফল। তারা গাছের কচি পাতা, ফুল ও পোকামাকড় খেয়ে থাকে। গাছের ডালে ঝুলে ঝুলে চলতে পছন্দ করে। যেহেতু তাদের খাবারের বড় জায়গাজুড়েই রয়েছে নানান প্রজাতির ফল, সেহেতু তারা মনকালচার বা সমজাতীয় গাছের বনে থাকতে পারে না।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক প্রাকৃতিক বন কেটে একসময় সেগুন বাগান করা হয়েছে, যেসব বন থেকে উল্লুক হারিয়ে গিয়েছে। সরকারের উচিত এসব বনকে আবারও প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়া এবং যেসব জায়গায় এখনও উল্লুক টিকে আছে, সেসব জায়গাকে টিকিয়ে রাখা ও তদারকি করা।

‘এতে করে উল্লুকের সংখ্যা যেমন সারা দেশে বাড়বে, অন্য অনেক বন্য প্রাণীও সংরক্ষণের আওতায় আসবে।’

গবেষক দলের আরেক সদস্য বানর গবেষক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘যেসব বনে উল্লুক আছে তার বেশির ভাগেই চশমাপরা হনুমান ও লজ্জাবতী বানরসহ নানা বিপন্ন প্রাণীর বসবাস রয়েছে। আমাদের গবেষণা উল্লুক বসবাসকারী বনগুলোকে চিহ্নিত করেছে। সেসব বনে কী পরিমাণ উল্লুক টিকে থাকতে পারে সেটারও একটা স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে।

‘এখন ওই বনগুলোতে উল্লুক সংরক্ষণে সঠিক উদ্যোগ নেয়া হলে তা অন্য প্রাণীদের জন্যও আশীর্বাদ হবে। সে বিচারে সিলেট বিভাগের পাথারিয়া ও রাজকান্দি বনকে উল্লুক অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া জরুরি।’

এই গবেষণা প্রকল্পের ম্যানেজার ও গবেষক হাসান আল রাজি জানান, কিছু বনে উল্লুকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে ভালো থাকা আপাতদৃষ্টিতে ভালো মনে হলেও তা আসলে খুব বেশি খুশির খবর না। উল্লুক পাওয়া যায় এমন সব বনই আসলে ছোট ছোট দ্বীপের মতো, একটি অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন। এতে করে এক বনের উল্লুকের সঙ্গে অন্য বনের উল্লুকের কোনো রকম যোগাযোগ হয় না।

এ কারণে জিনগতভাবেও এক বনের উল্লুকেরা অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। জিন প্রবাহ না থাকায় টিকে থাকা উল্লুকদের মাঝে জিনগত বৈচিত্র্যতা কমে যাচ্ছে। এটি উল্লুকদের জন্য একসময় বড় ধরনের হুমকি হতে পারে।

হাসান জানান, জিনগত বৈচিত্র্যতা কম হলে যেকোনো ধরনের দুর্যোগে, যেমন রোগবালাই বা আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে, সব প্রাণীর একসঙ্গে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি বলেন, ‘এসব কারণে উল্লুকের জিনগত গবেষণা এখন সব থেকে জরুরি। সেই সঙ্গে আমাদের ভেবে দেখতে হবে কীভাবে এই বিচ্ছিন্ন উল্লুকের পপুলেশনের মাঝে একটা যোগাযোগ তৈরি করা যায়।’

গবেষক দলের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুন নাহার জানান, ১৯৮০ সালের একটি গবেষণার সূত্রে জানা গেছে, দেশে ৩ হাজার উল্লুক ছিল। এখন আছে ৪৬৮টি। একসময় সিলেট বিভাগের হাজারিখিলসহ কয়েকটি বনে উল্লুক থাকলেও এখন নেই। সবচেয়ে বেশি উল্লুক পাওয়া গেছে মৌলভীবাজারের রাজকান্দি এবং পাথারিয়া রিজার্ভ ফরেস্টে।

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, মানুষের আগ্রাসনসহ নানা কারণে উল্লুকগুলো হয় অন্যত্র চলে গেছে, নয়তো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়েছে। তবে নিশ্চিত করে সেটা বলা কঠিন। নিশ্চিত করতে হলে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। সবচেয়ে জরুরি এদের সংরক্ষণ, কারণ গত দুই দশকে এর সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।’

এই গবেষণা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘মৌলভীবাজারের পাথারিয়া ও রাজকান্দিতে এত উল্লুক পাওয়া ভালো খবর। উল্লুক অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন। আমার অফিস থেকে এর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করা হবে।

‘আমরা উল্লুকের বিষয়ে সচেতন। কিছু দিন আগে লাউয়াছড়ায় উল্লুক চলাচলের জন্য বিশেষ ধরনের সেতু তৈরি করা হয়েছে। তাই উল্লুক রক্ষায় কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে নিজ ঘরে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ
পল্টনে ২ মরদেহ উদ্ধার
বিষখালী নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার
দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন
ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন